Tag: Delhi

  • মার্চেও কনকনে ঠান্ডা! ভাঙল ৬ বছরের রেকর্ড, বিপর্যস্ত জনজীবন

    মার্চেও কনকনে ঠান্ডা! ভাঙল ৬ বছরের রেকর্ড, বিপর্যস্ত জনজীবন

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় ফিরছে তুষার যুগ! টানা বৃষ্টির জেরে মার্চ মাসেই কনকনে ঠান্ডা পড়ল দিল্লি সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় (Delhi NCR Weather Update)। বিপর্যস্ত জনজীবন। গত দুই-তিন দিন ধরে দিল্লি-এনসিআর ও উত্তর ভারতে বৃষ্টি হওয়ায় গরম থেকে স্বস্তি মিলছে। মার্চ মাসে দিল্লিতে বৃষ্টিপাতের (Rain) পরিমাণ গত তিন বছরের রেকর্ড ভেঙেছে এবং তাপমাত্রা সাত ডিগ্রি কমেছে। এই অসময়ের বৃষ্টিকে অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন আবহাওয়াবিদরা।

    দিল্লিতে গত ৬ বছরের রেকর্ড ভাঙল

    পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও প্রাক-বর্ষার প্রভাবে গোটা দেশ জুড়ে বৃষ্টি দুর্যোগ শুরু হয়েছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ প্রতিটি জায়গায় কোথাও ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি হচ্ছে তো কোথাও আবার শিলাবৃষ্টির দাপট। গতকাল অর্থাৎ শুক্রবারও সকাল থেকেই দিল্লিতে আকাশ মেঘলা ও থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েই চলেছে সঙ্গে বইছে ঝোড়ো হাওয়া। যার ফলে সেখানকার তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং গত ৬ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। দিল্লির গুরুগ্রাম ও নয়ডার মত জায়গায় যেখানে মার্চে ব্যাপক গরম পরে সেখানে টানা বৃষ্টির জেরে চলমান গরম থেকে খানিক স্বস্তি মিলেছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছেছে ২১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১০ ডিগ্রি কম।

    ফিরছে তুষার যুগ

    আবহাওয়া দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী লাগাতার বৃষ্টিতে দিল্লি ও লাগোয়া এলাকায় তাপমাত্রা এখন ২৫-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে ঠেকেছে। অথচ মার্চের প্রথম সপ্তাহেই গরমে রীতিমতো নাজেহাল হতে হয়েছিল দিল্লিবাসীকে। তখন তাপমাত্রা ছিল ৩৫-৩৬ ডিগ্রি। আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনা তুষার যুগের প্রত্যাবর্তনের জল্পনা উস্কে দিচ্ছে পরিবেশবিদদের মনে। ইতিমধ্যেই মৌসম ভবন জানিয়েছে গত ৬ বছরের মধ্যে দিল্লিতে এটাই ছিল শীলততম মার্চ মাস। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, নরেলা, বাওয়ানা, বুরারি এবং রোহিনী-সহ রাজধানী বেশ কয়েকটি এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে আজও। তাই দিল্লি-এনসিআর এলাকায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    আরও পড়ুন: হাওড়া-শিয়ালদা লাইনে বাতিল ৪৭টি লোকাল, বহু ট্রেনের সময়ও বদলাল রেল

    অকাল বৃষ্টিতে ক্ষতি হচ্ছে কৃষিকাজের

    উত্তর থেকে দক্ষিণ – গোটা দেশেই বদলে যাচ্ছে আবহাওয়া। পশ্চিমী ঝঞ্ঝা আর প্রাক-বর্ষার প্রভাবে রাজস্থান, কর্ণাটক, কেরল প্রতিটি জেলাতেই প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। পূর্ব ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায় বজ্রবিদ্যুত্‍-সহ প্রবল ঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার বিকেল থেকেই কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। কোথাও আবার শিলাবৃষ্টি হয়েছে, ঝড়ের দাপট ভেঙে পড়েছে গাছ। এদিকে আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনার জন্য ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। ঘূর্ণাবর্ত এবং পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জেরে অকাল বৃষ্টিতে প্রচুর ক্ষতি হচ্ছে কৃষিকাজের। মরসুমি সবজি চাষের পাশাপাশি ফুল চাষেও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

  • ভারতের সবথেকে সস্তার শহর কলকাতা, খরচ কত? দেখুন রিপোর্ট

    ভারতের সবথেকে সস্তার শহর কলকাতা, খরচ কত? দেখুন রিপোর্ট

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বরাবরই কলকাতাকে (Kolkata) সিটি অফ জয় বলা হয়ে থাকে। কিন্তু সকলের একটাই অভিযোগ রাজ্যে চাকরির বড্ড অভাব। এই শহরে অসংখ্য বেকার যুবক যুবতী রয়েছে যাঁরা এখনও একটি চাকরি পাওয়ার আশায় হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পরিস্থিতি এমনই যে বেঁচে বর্তে থাকার খরচ যোগান করতেই হিমশিম খাচ্ছে সকলে। তাই এই নিয়ে একটি সমীক্ষা করল Numbeo নামের এক বেসরকারি সংস্থা। গোটা বিশ্বের প্রতিটি শহরে এই সমীক্ষায় আনা হয়েছে, আর তাতেই উঠে আসল চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে দেশের মধ্যে একমাত্র কলকাতা নাকি সবচেয়ে সস্তা শহর (Cheapest City In India)।

    বিভিন্ন শহরের জীবনযাত্রার খরচ ভিন্ন

    Numbeo নামের সংস্থাটি চলতি মাসে একটি তথ্য দিয়ে জানিয়েছিল যে, দেশের প্রতি ব্যক্তির জীবনযাপনের জন্য বাড়ি ভাড়া বাদে মাসে প্রায় ২৭ হাজার ৩০০ টাকার প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে চার সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে এই খরচ বেড়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ৯৮ হাজার টাকায়। এই হিসাবে খাওয়াদাওয়া, বাকি খরচ বা পরিষেবা সংক্রান্ত খরচ, যাতায়াত এবং বিনোদন বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে। যদিও এই খরচের পরিমাণ কম বেশি হয়। কারণ মুম্বই-দিল্লি-বেঙ্গালুরুর মতো বড় মহানগরীতে জীবনযাত্রার খরচ তুলনামূলক ভাবে অনেকটাই বেশি। কারণ এখানে বাড়িভাড়া, যাতায়াতের খরচ বেশি। আবার চেন্নাইয়ের মতো মেট্রো শহরে খরচ তুলনামূলক কম।

    সবচেয়ে বেশি খরচ হয় মুম্বইতে

    সমীক্ষায় ভারতের শহরভিত্তিক জীবনযাত্রার খরচ ২০২৬ এর তালিকা অনুযায়ী প্রথমেই রয়েছে মুম্বইয়ের নাম। এখানে প্রতি মাসে ন্যূনতম খরচ ৩০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা। যার মধ্যে মাসিক খরচের সূচক ২৫.৮ এবং বাড়িভাড়ার সূচক ১৭.৫। এরপরেই তালিকায় রয়েছে দিল্লির নাম। সেখানে চারজন সদস্যের পরিবারের ন্যূনতম খরচ দেখানো হয়েছে ২২ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। এর মাসিক খরচের সূচক ২২.৫ এবং বাড়িভাড়ার সূচক ৭.১। তৃতীয় ধাপে রয়েছে, পুনে। সেখানে চার সদস্যের পরিবারের কস্ট অফ লিভিং ২৫ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা। এছাড়াও এই শহরে মাসিক খরচের সূচক ২২.৪ এবং বাড়িভাড়ার সূচক মাত্র ৬.৬।

    চেন্নাইয়ে বাড়িভাড়া অনেক কম

    তালিকায় চতুর্থ নম্বরে রয়েছে, বেঙ্গালুরু, সেখানে চার সদস্যের পরিবারের কস্ট অফ লিভিং ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। এছাড়াও মাসিক খরচের সূচক ২১.৫ এবং বাড়িভাড়ার সূচক মাত্র ৮.৫। পঞ্চমে রয়েছে, হায়দ্রাবাদ। সেখানে পরিবারের ন্যূনতম খরচ দেখানো হয়েছে ১২ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। এই শহরের মাসিক খরচের সূচক ২১.১ এবং বাড়িভাড়ার সূচক মাত্র ৫.৬। ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে চেন্নাই, এখানকার কস্ট অফ লিভিং ১৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার। চেন্নাইয়ের বাড়িভাড়া দেশের অন্যান্য শহরের তুলনায় অনেকটাই কম। বাড়িভাড়া সূচক মাত্র ৪.৪ এবং মাসিক খরচ ইনডেক্স ২০.০। আর সপ্তম স্থানে রয়েছে কলকাতা।

    আরও পড়ুন: ‘বিরোধী নেই, আমি নিজেই প্রতিদ্বন্দ্বী’ বিপক্ষকে পাত্তাই দিতে নারাজ ইন্দ্রনীল সেন

    সবচেয়ে সস্তা শহর কলকাতা

    Numbeo নামের এক বেসরকারি সংস্থা সমীক্ষায় জানিয়েছে কলকাতায় চারজন সদস্যের পরিবারের ন্যূনতম খরচ দেখানো হয়েছে ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা। সেখানকার মাসিক খরচের সূচক ১৯.৩ এবং বাড়িভাড়ার সূচক মাত্র ৩.৮। অর্থাৎ সব দিক থেকেই অন্য শহরের তুলনায় কম খরচ শহর কলকাতায়। তাই কলকাতাকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ বেছে নেন। কলকাতা শহরে মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৫–৩০% মানুষই অভিবাসী। বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ইত্যাদি অনেক জায়গা থেকে মানুষ এখানে বসবাস করে।

  • দিল্লি-হাওড়া রুটে বড় কাজ করে ফেলল রেল, সুখবর কোটি কোটি যাত্রীর জন্য

    দিল্লি-হাওড়া রুটে বড় কাজ করে ফেলল রেল, সুখবর কোটি কোটি যাত্রীর জন্য

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ রেল যাত্রীদের ভ্রমণ সুরক্ষিত এবং সুন্দর করতে বদ্ধপরিকর রেল। সেজন্য একের পর এক কাজ করেই চলেছে। এহেন সেইসঙ্গে নিত্য নতুন ট্রেন, রেল লাইন, হাইস্পিড রেল করিডর, বুলেট ট্রেন ইত্যাদি যাত্রী স্বার্থে একের পর এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েই চলেছে রেল। এবারও রেল এক বিরাট মাইলফলক অর্জন করেছে। কবচ ৪.০ (Kavach 4.0) নিয়ে মিলেছে বিরাট সাফল্য।

    কবচ ৪.০ নিয়ে বিরাট মাইলফলক অর্জন রেলের

    সম্প্রতি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ঘোষণা করেছেন যে দেশীয়ভাবে তৈরি স্বয়ংক্রিয় ট্রেন সুরক্ষা ব্যবস্থা, “কবচ ৪.০”, দিল্লি-মুম্বাই এবং দিল্লি-হাওড়া সহ ১,৪৫২ কিলোমিটার ব্যস্ততম রুটে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণরূপে ভারতে তৈরি এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সার্টিফিকেশন, “SIL-4” প্রদান করা হয়েছে। কবচের প্রাথমিক কাজ হল ট্রেন দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা এবং কঠিন পরিস্থিতিতে লোকো পাইলটদের সহায়তা করা। রেল মন্ত্রকও একই তথ্য দিয়েছে।

    Kavach 4.0 কী, কীভাবে কাজ করে?

    কবচ এমন একটি প্রযুক্তি যা ক্রমাগত ট্রেনের গতি পর্যবেক্ষণ করে। যদি কোনও কারণে লোকো পাইলট ব্রেক লাগাতে ভুলে যান বা সিগন্যাল না দেখতে পান, তাহলে সিস্টেমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক কষে। এটি খারাপ আবহাওয়া বা ঘন কুয়াশার সময়ও নিরাপদ ট্রেন পরিচালনা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। কবচ ৪.০-এ বেশ কয়েকটি বড় আপগ্রেড রয়েছে, যেমন সঠিক লোকেশনের তথ্য, বড় ইয়ার্ডে আরও ভাল সিগন্যাল তথ্য এবং ইলেকট্রনিক ইন্টারলকিং সিস্টেমের সাথে সরাসরি ডেটা পাওয়া। এই বৈশিষ্ট্যগুলির কারণে, এখন দেশের রেলওয়ে নেটওয়ার্ক জুড়ে এটিকে বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা চলছে।

    আরও পড়ুনঃ বাড়ছে ঋণের বোঝা, আর্থিক স্বাস্থ্যে বিহার-ইউপির পিছনে বাংলা! শেষ তিনে পশ্চিমবঙ্গ

    রেলওয়ে কবচ বাস্তবায়নের জন্য ব্যাপক কাজ হাতে নিয়েছে। এখন পর্যন্ত ৮,৫৭০ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার কেবল স্থাপন করা হয়েছে এবং রেলপথের ধারে ১,১০০টি টেলিকম টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও, ৭৬৭টি স্টেশনে ডেটা সেন্টার তৈরি করা হয়েছে এবং ৬,৭৭৬ কিলোমিটার ট্র্যাকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে। রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন যে দিল্লি-মুম্বাই রুটের পালওয়াল-মথুরা-নাগদা, ভদোদরা-আহমেদাবাদ এবং ভদোদরা-ভিরার অংশের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দিল্লি-হাওড়া রুটের গয়া-সরমতনগর এবং বর্ধমান-হাওড়া অংশেও কবচ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    লক্ষাধিক কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে

    কবচ নিয়ে যাতে কারোর মধ্যে কোনও ধোঁয়াশা না থাকে তার জন্য চলছে ট্রেনিং প্রক্রিয়া। রেলওয়ে এখনও পর্যন্ত ৫৫,০০০ এরও বেশি টেকনিশিয়ান, অপারেটর এবং ইঞ্জিনিয়ারকে এই নতুন প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪৭,৫০০ লোকো পাইলট এবং সহকারী লোকো পাইলট রয়েছে। ট্র্যাকে কবচ স্থাপনের খরচ প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা, যেখানে একটি লোকোমোটিভে এটি স্থাপনের খরচ প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা।

     

  • বাচ্চার ভুলে মুসলিম মহিলার গায়ে লাগে রং! ক্ষোভে দিল্লির উত্তম নগরে পিটিয়ে খুন হিন্দু যুবককে

    বাচ্চার ভুলে মুসলিম মহিলার গায়ে লাগে রং! ক্ষোভে দিল্লির উত্তম নগরে পিটিয়ে খুন হিন্দু যুবককে

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দিল্লির (Delhi) উত্তমনগর এলাকায় হোলির (Holi Festival) দিন শুরু হওয়া সামান্য বিবাদ শেষ পর্যন্ত তরুণ কুমার নামের (Tarun Kumar) এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় পরিণত হয়। ২৬ বছর বয়সী তরুণ কুমারের হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে ওই এলাকায় এখনও পর্যন্ত উত্তেজনা বজায় রয়েছে। তদন্ত নেমে পুলিশ ইতিমধ্যে ৮ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে এবং এক নাবালককেও আটক করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার দিল্লির উত্তমনগর এলাকার জেজে কলোনিতে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠে, একটি হোলির বেলুন ঘিরে শুরু হয় বচসা। আর তা ধীরে ধীরে মারাত্মক সংঘর্ষে রূপ নেয়।

    কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত হয়?

    স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী খবর, এক হিন্দু পরিবারের ১১ বছর বয়সী একটি মেয়ে বাড়ির ছাদ থেকে হোলি খেলছিল। আর সেই সময় ছোড়া একটি জল ভর্তি বেলুন নীচ দিয়ে যাওয়া এক মুসলিম মহিলার গায়ে লাগে। মেয়েটির পরিবারের দাবি, সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা ক্ষমা চেয়েছিল। তবে এরপরও দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক বিতর্ক শুরু হয় এবং তা খুব দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়। অভিযোগ ওঠে, এরপর কয়েকজন মিলে ২৬ বছর বয়সী ওই তরুণ কুমারকে ঘিরে ধরে ক্রিকেট ব্যাট, লাঠি এবং পাথর দিয়েই মারধর শুরু করে। গুরুতর জখম অবস্থায় এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে বৃহস্পতিবার সকালেই তাঁর মৃত্যু হয়।

    এদিকে তাঁর মৃত্যুর পর শুক্রবার থেকে ওই এলাকায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এক হিন্দু রাজনৈতিক সংগঠনের সমর্থকেরাও বিক্ষোভে নামে। এমনকি বিক্ষোভের সময় একটি গাড়ি এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন লাগানোর অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি কয়েকটি গাড়ির কাঁচও ভাঙচুর করা হয়। উত্তমনগর মেট্রো স্টেশন, স্থানীয় থানা এবং কলোনি সংলগ্ন এলাকায় টানা দুই দিন ধরে বিক্ষোভ চলতে থাকে। আর বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করে এলাকার যানবাহনও বন্ধ করে দেয়। উত্তেজনার জেরে অনেক দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সেখানে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

    আরও পড়ুন: ভূমিহীন ক্ষেতমজুরদের অ্যাকাউন্টে কবে ঢুকবে টাকা? দিন ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    বুলডোজার অভিযানের দাবি ওই পরিবারের

    তরুণের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি তোলা হয়েছে। তরুণের কাকা রমেশ যিনি নিজেই এই ঘটনায় আহত হয়ে তাঁর আটটি সেলাই পড়েছে, তিনি জানিয়েছেন যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বুলডোজার অভিযান চালানো উচিত। এমনকি পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের এর আগেও একাধিকবার বিবাদ হয়েছে এবং হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে যে, দুই পরিবারই রাজস্থানের বাসিন্দা। আর বহু বছর ধরেই একে অপরকে চেনেন। পুলিশের দাবি, এই ঘটনা সম্পূর্ণ সম্প্রদায়িক নয়, বরং দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনা ফেলা, জল ব্যবহার বা পার্কিং নিয়ে বিবাদ চলছিল। সেখান থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।