Tag: Dearness Allowance

  • DA ধর্মঘটে উত্তপ্ত খাদ্যভবন, কর্মীদের ঢুকতে বাধা, বিস্ফোরক ভাস্কর ঘোষ

    DA ধর্মঘটে উত্তপ্ত খাদ্যভবন, কর্মীদের ঢুকতে বাধা, বিস্ফোরক ভাস্কর ঘোষ

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) মাঝেই DA ইস্যু নিয়ে তৈরি হল মহাবিতর্ক। আজ, শুক্রবার ডিএ ধর্মঘটকে (DA Strike) কেন্দ্র উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজ্যের সরকারি দফতরগুলিতে, এমতাবস্থায় খাদ্যভবন যেন হয়ে উঠেছে ঝামেলার কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে তৃণমূল সমর্থনকারী সরকারি কর্মচারী, অন্যদিকে ডিএ আন্দোলনকারীদের স্লোগান পাল্টা স্লোগান চলছেই। ধর্মঘট ঘিরে দফায় দফায় বাড়ছে উত্তেজনা। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা নাকি কাজে আসা সরকারী কর্মীদের ঢুকতে বাধা দিচ্ছেন।

    উত্তপ্ত পরিস্থিতি খাদ্যভবনের সামনে

    পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রশাসনের বিরুদ্ধে আজ অর্থাৎ শুক্রবার ধর্মঘট ডেকেছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ-সহ একাধিক সরকারি কর্মচারী সংগঠন। তা ঘিরেই কার্যত ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় খাদ্যভবনের সামনে। সংগঠনের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষের নেতৃত্বে খাদ্যভবনের গেটে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ধর্মঘটীরা। যেসব গাড়ি আসছে তার কাছে এগিয়ে গিয়ে ধর্মঘটে শামিল হওয়ার আবেদন জানানো হচ্ছে। অন্যদিকে, কিছুটা দূরে তৃণমূলের সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তাঁরা চেষ্টা করছেন, যারা ধর্মঘট বিফল করে অফিস করতে চান তাঁদের পাশে থাকতে। উঠছে স্লোগানের রেষারেষি। একদিক থেকে উঠল ‘জয় বাংলা স্লোগান’, অন্যদিক বলে উঠল, ‘ওরা সব সরকারি দালাল’

    কী বলছেন আন্দোলনকারী ভাস্কর ঘোষ?

    সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ জানান, “আমরা আগেই জানিয়েছিলাম যে ধর্মঘটটা কর্মচারীদের স্বার্থে, রাজ্যটাকে বাঁচানোর স্বার্থে ডাকা হয়েছে। রাজ্যে যে প্রশাসনিক দুর্নীতি, শূন্যপদে নিয়োগ নেই…তাই আমরা আপনাদের বিবেকের কাছে আবেদন জানাচ্ছি যে এই ধর্মঘটে শামিল হয়ে রাজ্য সরকারকে অন্তত বলুন যে সে তার রাজধর্ম পালন করুক। এই আবেদনটুকু জানানোর সময় তাঁরা বলছেন যে, এটাও করা যাবে না। এটাকে যদি আটকানো বলেন তাহলে হাজার বার পথ আটকাব। পারলে ধর্মঘট করুক। আমাদের আবেদন থাকবে ধর্মঘট করার।”

    আরও পড়ুন: গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে করাচি, কোয়েটা, ইসলামাবাদ! পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি তালিবানের

    প্রসঙ্গত, সরকারি কর্মীদের ধর্মঘট বানচাল করতে রীতিমতো মরিয়া হয়ে উঠেছে রাজ্য প্রশাসন। গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার নবান্নের তরফে এই প্রসঙ্গে নোটিস জারি করা হয়েছিল। সেখানে প্রশাসনের তরফে সাফ জানানো হয়েছিল যে, ধর্মঘটের দিন প্রত্যেক সরকারি কর্মীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। ওইদিন কোনও কর্মী যদি অনুপস্থিত থাকেন তাহলে তাঁকে ‘ডাইস নন’ হিসাবে গণ্য করা হবে অর্থাৎ ওই দিনের বেতন কেটে দেওয়া হবে। আর সেই ভয়েই এদিন একাধিক কর্মীকে কাজে ফিরতে দেখা গিয়েছিল

  • DA নিয়ে সংঘাত চরমে! আন্দোলনের মাঝেই কর্মীদের কড়া নোটিস নবান্নর

    DA নিয়ে সংঘাত চরমে! আন্দোলনের মাঝেই কর্মীদের কড়া নোটিস নবান্নর

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) আবহে রাজ্য জুড়ে সমস্ত দলগুলির মধ্যে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আর এই অবস্থায় আজ ফের ডিএ ইস্যুতে ধর্মঘটের (DA Strike) ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। তবে এব্যাপারে কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। আন্দোলনের মাঝেই সরকারি কর্মীদের জন্য নোটিস দিল নবান্ন (Nabanna)। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ওই দিন রাজ্য সরকারের সমস্ত দফতর স্বাভাবিক নিয়মেই খোলা থাকবে, উল্টে কেউ যদি ধর্মঘটের জন্য ছুটি নেন তাহলে সেই দিনের বেতন কাটা হবে তাঁর।

    ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা মামলার রায় কার্যকর করার সময়সীমা বাড়ানোর জন্য নতুন করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। জানানো হয়েছিল, ডিএ বকেয়া পরিশোধ সংক্রান্ত নির্দেশ বাস্তবায়নে একাধিক প্রশাসনিক, প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। সেই কারণেই অন্তত ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ এবং প্রথম কিস্তির অর্থ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। স্বাভাবিকভাবে রাজ্যের জানানো আর্জিতে হতাশ সরকারি কর্মীরা। আর তারই প্রতিবাদে আজ, শুক্রবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। কিন্তু DA আন্দোলনের মাঝেই সরকারি কর্মীদের জন্য কড়া নোটিস দিল নবান্ন।

    নোটিসে কী জানিয়েছে প্রশাসন?

    পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, ধর্মঘটের দিন প্রত্যেক সরকারি কর্মীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। ওইদিন কোনও কর্মী যদি অনুপস্থিত থাকেন তাহলে তাঁকে ‘ডাইস নন’ হিসাবে গণ্য করা হবে অর্থাৎ ওই দিনের বেতন কেটে দেওয়া হবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে কর্মীদের ছাড় দেওয়া হবে। যদি কোনও কর্মী চিকিৎসাধীন কিংবা পরিবারের কেউ গুরুতর অসুস্থ, পরিবারে কারও মৃত্যু হলে, মাতৃত্বকালীন ছুটি বা আগে থেকে নেওয়া ছুটির ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে। তবে যদি কোনও কর্মী অনুমতি ছাড়াই ছুটি নেন, তবে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠাতে হবে। সেক্ষেত্রে সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে ছুটি মঞ্জুর করা হবে না।এমনকি নোটিসের জবাব যদি না দেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

    আরও পড়ুন: দুর্ভোগ কমবে শিয়ালদা-হাওড়া লাইনের যাত্রীদের, নশিপুর হল্ট স্টেশন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত রেলের

    প্রসঙ্গত, যে কোনও ধর্মঘটের ক্ষেত্রে বরাবর কড়া অবস্থান নিয়ে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শাসকদল বা প্রশাসনের বিরুদ্ধে কোনরকম ধর্মঘট ও আন্দোলন আপোস করতে চান না তিনি। তাই এবারেও কর্মীদের ধর্মঘট নিয়ে করা অবস্থান নিলেন। তবে নাছোড়বান্দা কর্মীদের সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, যে করেই হোক আন্দোলন করে ছাড়বে। এই প্রসঙ্গে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে ভাস্কর ঘোষ বলেন, “গোটা ভারত সুপ্রিম কোর্টে আইন মেনে চলে। তবে বাংলায় একজনের নির্দেশে আইন চলে। সেমিফাইনাল শেষ। এবার ১৩ মার্চ ফাইনাল খেলা হবে।”

  • DA, পেনশনে আসবে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন! অষ্টম পে কমিশনে আরও এক ধাপ এগোল সরকার

    DA, পেনশনে আসবে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন! অষ্টম পে কমিশনে আরও এক ধাপ এগোল সরকার

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বর্তমানে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় সরকারি কর্মচারীর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হল অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission)। দেশের ৫০.১৪ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং ৬৯ লক্ষেরও বেশি পেনশনভোগীর জন্য, এটি কেবল একটি সরকারি ঘোষণা নয়, বরং তাদের ভবিষ্যৎ, আর্থিক নিরাপত্তা এবং উন্নত জীবনযাত্রার মানের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এবার এই অষ্টম বেতন পে কমিশন নিয়েই আরও এক ধাপ এগোল কেন্দ্রীয় সরকার। নিশ্চয়ই ভাবছেন কী সেই পদক্ষেপ? তাহলে বিশদে জানতে চোখ রাখুন আজকের এই প্রতিবেদনটির ওপর।

    অষ্টম বেতন পে কমিশন নিয়ে বড় আপডেট

    অষ্টম বেতন কমিশন এখন সক্রিয়, এবং কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে পরামর্শ চাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই কমিশন বেতন, ভাতা এবং পেনশনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পরিবর্তনগুলি সরাসরি ৪৮ লক্ষ কর্মচারী এবং ৬৭ লক্ষ পেনশনভোগীদের উপর প্রভাব ফেলবে। কমিশন এই উদ্দেশ্যে একটি অনলাইন পোর্টাল খুলেছে, যেখানে আপনি ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত আপনার মতামত এবং পরামর্শ জমা দিতে পারবেন।

    অষ্টম বেতন কমিশন MyGov পোর্টালে ১৮টি প্রশ্নের একটি বিস্তারিত অনলাইন প্রশ্নপত্র প্রকাশ করেছে, যাতে ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ সালের মধ্যে জনসাধারণ এবং কর্মচারীদের কাছ থেকে পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। এই প্রশ্নগুলিতে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য ডক্টর আইক্রয়েড সূত্রের প্রাসঙ্গিকতা, ৩% বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির সাথে কর্মক্ষমতার সংযোগ স্থাপন, MACP স্কিমে ১০, ২০ এবং ৩০ বছরের ব্যবধান হ্রাস এবং মহিলা কর্মচারীদের জন্য শিশু যত্ন ছুটি (CCL) উন্নত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যবহারিক বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের নভেম্বরে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর থেকে, বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে কমিশন তার কাজ উল্লেখযোগ্যভাবে শুরু করেছে। কমিশন ২০২৭ সালের মে মাসের মধ্যে সরকারের কাছে তার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার লক্ষ্য রেখেছে। যে কারণে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সাথে বৈঠক এবং পরামর্শ অব্যাহত রয়েছে।

    বেতন কতটা বাড়তে পারে?

    যেকোনো বেতন কমিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফর্মুলা হল এর “ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর” (Fitment Factor)। এটি হল জাদুকরী সংখ্যা যা আপনার মূল বেতন এবং পরিণামে আপনার হাতে থাকা বেতন নির্ধারণ করে। বর্তমানে, কর্মচারী ইউনিয়নগুলি জোরালোভাবে দাবি করছে যে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর সপ্তম বেতন কমিশনের ২.৫৭ থেকে বাড়িয়ে কমপক্ষে ২.৮৬ বা অষ্টম বেতন কমিশনের ৩.১৫ করা হোক। সরকার যদি ২.৮৬ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর গ্রহণ করে, তবুও পরিবর্তনগুলি তাৎপর্যপূর্ণ এবং ইতিবাচক হবে। নিম্ন স্তরের কর্মচারীরা অর্থাৎ গ্রেড ১ থেকে ৫ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। তাদের ন্যূনতম মূল বেতন, বর্তমানে ১৮,০০০ টাকা, বেড়ে ৫১,৪৮০ টাকা হতে পারে।

    আরও পড়ুনঃ বাড়ছে ঋণের বোঝা, আর্থিক স্বাস্থ্যে বিহার-ইউপির পিছনে বাংলা! শেষ তিনে পশ্চিমবঙ্গ

    এদিকে, মধ্য স্তরের কর্মকর্তাদের (গ্রেড ৬ থেকে ৯), যাদের মূল বেতন বর্তমানে ৪৪,৯০০ টাকা, তাদের জন্য এটি ১.২৮ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। মূল বেতন বৃদ্ধির ফলে বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA) উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। উচ্চ স্তরের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ বেতন ২.৫০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩.৭৫ লক্ষ টাকা করে ৪.৫০ লক্ষ টাকা করার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সরকার শেষ অবধি কী সিদ্ধান্ত নেয় এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।

  • DA আন্দোলনে যেতে পারবেন না শিক্ষকরা! নোটিশ জারি মধ্যশিক্ষা পর্ষদের

    DA আন্দোলনে যেতে পারবেন না শিক্ষকরা! নোটিশ জারি মধ্যশিক্ষা পর্ষদের

    সহেলি মিত্র, কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ সত্ত্বেও বকেয়া ডিএ (Dearness allowance) দিতে ব্যর্থ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সেইসঙ্গে ডিএ দেওয়ার সময়সীমা যাতে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ সাল অবধি বৃদ্ধি করা হয় তার জন্য সরকারের তরফে এমএ, রিভিউ পিটিশন দাখিল করা হয়েছে শীর্ষ আদালতে। এহেন পরিস্থিতিতে আগামীকাল ১৩ মার্চ বৃহত্তর আন্দোলনে (DA Protest) সামিল হতে চলেছেন সরকারি কর্মীরা। এই আন্দোলনে থাকবেন শিক্ষকরাও। যদিও কিছু শিক্ষকের উদ্দেশ্যে এবার মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। আর এই নির্দেশিকাই এখন যত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

    বিশেষ নোটিশ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের

    যেহেতু এখন মাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা দেখা চলছে। তাই যে সকল শিক্ষক এই কাজ করছেন তাঁদের উদ্দেশ্যে পর্ষদের সাফ বার্তা, ধর্মঘট হলেও স্কুলে যেতে হবে শিক্ষকদের। সেইসঙ্গে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা দেখার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকেরা কোনও ভাবেই আগামী ১৩ মার্চ ‘লিভ অফ অ্যাবসেন্স অন ডিউটি’ নিতে পারবেন না। আর এই ঘটনায় একদিকে যেমন অবাক শিক্ষকরা তেমনই ক্ষুব্ধও বটে। ডিএ ইস্যু থেকে নজর ঘোরাতে সরকারের এটি নতুন চাল বলে দাবি করছেন অনেকে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হয়েছে বলে সরব হল একাধিক শিক্ষক সংগঠন। ধর্মঘট যাতে সফল না হয় তার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    কী বলছেন শিক্ষকরা?

    এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সব স্কুলের প্রধান পরীক্ষক, পরীক্ষক এবং স্ক্রুটিনির সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকদের। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নোটিশ প্রসঙ্গে বড় মন্তব্য করেছেন বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল। তিনি জানান, ‘সাধারণত মাধ্যমিকের খাতা দেখা, নম্বর জমা দেওয়া-সহ পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত রয়েছেন তাঁরা স্কুল থেকে ‘লিভ অফ অ্যাবসেন্স অন ডিউটি’ নিয়ে থাকেন। অর্থাৎ সেই দিন গুলি তাঁরা স্কুলে যান না। সরকার যে ভাবে শিক্ষক কর্মচারীদের বঞ্চিত করছে তাতে এই ধর্মঘটে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া যাবে বুঝতে পেরে পর্ষদ মাঠে নেমেছে। কিন্তু যতই ফতোয়া জারি করুক না কেন ধর্মঘট হচ্ছেই এবং তাতে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীরা ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করবেন এবং সরকারকে উপযুক্ত জবাব দেবেন।’ শিক্ষকদের বক্তব্য, ধর্মঘটে যোগ দেওয়ার অধিকার সরকার তো কেড়ে নিতে পারে না।

    আরও পড়ুনঃ কালো মেঘে ঢাকবে আকাশ, ঘূর্ণাবর্তের জেরে ৫ জেলায় দুর্যোগ! আজকের আবহাওয়া

    এক আন্দোলনকারী জানান, “যেহেতু সুপ্রিম কোর্ট ৬ মার্চ রাজ্য সরকারকে প্রথম কিস্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল, তাই ৬ মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর আমরা ১৩ মার্চ প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। আমাদের ন্যায্য অধিকার অর্জনের জন্য আমরা যতদূর যেতে হবে ততদূর যেতে প্রস্তুত।” তিনি আরও বলেন যে এই প্রতিবাদ আন্দোলনের পাশাপাশি, ফোরাম এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তাদের আইনি বিকল্পগুলিও প্রস্তুত রেখেছে। এখন দেখার বিষয় হলো, রাজ্য সরকার সরকারি কর্মচারীদের প্রস্তাবিত কর্মবিরতির ডাকে কীভাবে সাড়া দেয়।

     

  • DA নিয়ে এবার নয়া পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের, ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল কর্মীদের

    DA নিয়ে এবার নয়া পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের, ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল কর্মীদের

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বকেয়া ডিএ (DA) মামলায় খেলা যেন উল্টে গিয়েছে। সরকারি কর্মীদের পর এবার পাল্টা সক্রিয় হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া ডেডলাইনের মধ্যে সরকার কিছুতেই বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা (Dearness allowance) দিতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। এই সময়সীমা আগামী ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ অবধি বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। এই নিয়ে প্রথমে এম-এ পিটিশন, এবার রিভিউ পিটিশন দাখিল করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আর তা নিয়ে নতুন করে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন সাধারণ কর্মচারীরা।

    ডিএ মামলায় রাজ্যের পদক্ষেপে ফের খুব্ধ সরকারি কর্মীরা

    কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক তথা ডিএ মামলাকারী মলয় মুখোপাধ্যায় (Malay Mukherjee) সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। নিজের ফেসবুক পেজে গত ৬ মার্চ সরকারের এমএ পিটিশন এবং গত ৯ মার্চে রিভিউ পিটিশনের একটি স্ক্রিনশট তুলে ধরেন। সেইসঙ্গে সরকারকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেন। তিনি লেখেন, ‘DA মামলা রাজ্য সরকার দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে কি মনে করছেন?’ অর্থাৎ সরকারের ডিএ নিয়ে এরকম মনোভাব সরকারি কর্মী থেকে শুরু করে পেনশন প্রাপকদের মধ্যে কত ক্ষোভের সৃষ্টি করছে তা যেন নতুন করে ফুটে উঠেছে তাঁর কথায়।

    এই নিয়ে বহু মানুষের প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। একজন লিখেছেন, ‘এই মূহুর্তে রাজ্যের অর্থসচিব এবং মুখ্যসচিব কে তলব করে এই টালবাহানার নাটক বন্ধ করে ওনাদের বেতন ফ্রিজ করে দেওয়ার জন্য মাননীয় সর্বোচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা প্রয়োজন।’ অন্য একজন বেশ মজার ছলে লিখেছেন, ‘সুপ্রীম কোর্ট রাজ্য সরকারকে কী মনে করেছে সেটাও তো জানা দরকার! এত আবদার লোক নিজের বৌয়েরও রাখতে পারে না! অপর একজন লিখেছেন, ‘এতদিন বাদে বকেয়া DA দেওয়ার রায় দিলেন বিচারপতিরা কোনো সুদ ছাড়া, এইজন্য এত সাহস পাচ্ছে।’

    আরও পড়ুনঃ ৫২৪টি LPG সিলিন্ডার ভর্তি ট্রাক উধাও! গ্যাসের সংকটের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঝাঁসিতে

    সরকারের এহেন পিটিশন নিয়ে অন্য আরেকজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘করতেই পারে। যতটা সময় এই করে করে কাটানো যায় আর কি! কিন্তু ওপেন কোর্ট হিয়ারিং সবরিমালা কেসে হয়েছিল। কিন্তু সেই ভারডিক্টে কোনো স্টে নেই। আর ডেথ পেনাল্টি র ক্ষেত্রে ওপেন কোর্ট হিয়ারিং হয়। আর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই এর। সুতরাং সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তবুও উনি হাল ছাড়বেন না আর কি।’

    কী বলছে সরকার?

    এমনিতেই বকেয়া ডিএ মামলায় নতুন করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সুপ্রিম কোর্টে সরকার জানিয়েছে, এখনই রাজ্যের পক্ষে সকলের বকেয়া মেটানো সম্ভব নয়। যে কারণে আগামী ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ সাল অবধি সময় দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। এদিকে সরকারের এহেন মন্তব্যে ক্ষোভে ফুঁসছেন সরকারি কর্মী থেকে শুরু করে পেনশন প্রাপকরা। তাঁদের অপেক্ষা আরও কত দীর্ঘ হবে? আদৌ টাকাটা মিলবে তো? এই আশঙ্কায় ভুগছেন সকলে।

  • ক্যাবিনেটের বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত! DA বাড়ছে শীঘ্রই? জানুন আপডেট

    ক্যাবিনেটের বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত! DA বাড়ছে শীঘ্রই? জানুন আপডেট

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ ডিএ (Dearness allowance) কি বাড়ল নাকি আশাহত হতে হল সকল কর্মচারীকে? বর্তমানে কয়েক কোটি সরকারি কর্মী এবং পেনশন প্রাপকরা মহার্ঘ্য ভাতা এবং অষ্টম বেতন পে কমিশন (8th Pay Commission) লাগু হওয়ার অপেক্ষা করছেন। অপরদিকে গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সকলে আশা করেছিলেন যে সরকার DA বৃদ্ধি নিয়ে কোনও ঘোষণা করবে। ঘোষণা হল কি? চলুন জেনে নেবেন।

    DA নিয়ে কী বলছে কেন্দ্র?

    সকলে জানুয়ারি-জুন মাসের অর্ধ-বছরের জন্য মহার্ঘ্য ভাতা নিয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছেন। এমনিতে সাধারণত, কেন্দ্রীয় সরকার হোলির দিন বা তার আগে মহার্ঘ্য ভাতা ঘোষণা করে, রিপোর্ট অনুযায়ী, এবার এই নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করেনি সরকার! অনেক কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী আশা করেছিলেন যে মঙ্গলবার মোদী সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, কিন্তু তা হয়নি।

    আরও পড়ুনঃ হবে মাল্টিট্র্যাকিং, চতুর্থ লাইন! বাংলায় ফের একগুচ্ছ রেল প্রকল্পের ঘোষণা

    এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন (Salary Hike) ও পেনশন সম্পর্কিত গঠিত হতে যাওয়া অষ্টম বেতন কমিশনের সামনে কর্মচারী সংগঠনগুলি তাদের দাবিগুলি পেশ করতে শুরু করেছে। এই বিষয়ে, অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (AITUC) কমিশনের চেয়ারপারসন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের কাছে ১৮টি প্রশ্নের উত্তর সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ পাঠিয়েছে। এই পরামর্শগুলির মধ্যে রয়েছে কর্মচারীদের বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি, পুরাতন পেনশন প্রকল্প (OPS) পুনরুদ্ধার, আরও পদোন্নতি এবং ভাতা বৃদ্ধির মতো দাবি।

    কতটা ডিএ বাড়তে পারে?

    এখন প্রশ্ন উঠছে, সরকার যখনই ঘোষণা করুক, কতটা ডিএ বৃদ্ধি হবে? মুদ্রাস্ফীতির তথ্যের উপর ভিত্তি করে, জানুয়ারি-জুন ২০২৬ অর্ধ-বছরের জন্য মহার্ঘ ভাতা প্রায় ২% বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে, বর্তমান ৫৮% থেকে মূল বেতনের প্রায় ৬০% পর্যন্ত ডিএ বৃদ্ধি পেতে পারে। এই মহার্ঘ্য ভাতা এবং মহার্ঘ্য ত্রাণ সরকারি কর্মীদের ওপর আর্থিক বোঝা কমানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে।

     

  • অবশেষে বকেয়া DA দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার? ২০ মার্চের মধ্যে বিশেষ কাজ করার নির্দেশ নবান্নের

    অবশেষে বকেয়া DA দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার? ২০ মার্চের মধ্যে বিশেষ কাজ করার নির্দেশ নবান্নের

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ সামনেই রয়েছে বিধানসভা ভোট। এখনও অবধি বিধানসভা ভোটের নির্ঘন্ট প্রকাশ না পেলেও তোড়জোড় ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে বকেয়া ডিএ (Dearness allowance) ইস্যুতে সরকারের চাপ বাড়াচ্ছেন রাজ্যের সরকারি কর্মীরা। এই ক্ষোভ কবে প্রশমন হবে? উত্তর জানা নেই কারোর। এরই মধ্যে সরকারি কর্মীদের উদ্দেশ্যে নতুন নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন (Nabanna)। আগামী ২০ মার্চের মধ্য সরকারি কর্মীদের একটি বিশেষ কাজ করে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। চলুন বিশদে জেনে নেওয়া যাক।

    ২০ মার্চের মধ্যে এই কাজ করার নির্দেশ নবান্নের

    আপনিও কি জানতে ইচ্ছুক যে সরকার ২০ মার্চের মধ্যে কী কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে? তাহলে জানিয়ে রাখি, রাজ্য অর্থ দফতরের তরফে জারি করা নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব সরকারি কর্মচারীর সার্ভিস বুক (Service Book) ডিজিটাল বা ই-সার্ভিস বুক হিসেবে তৈরি করতে হবে। তাহলে কি বকেয়া DA নিয়ে তোড়জোড় শুরু করতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার? সুপ্রিম কোর্টে চলা পঞ্চম বেতন পে কমিশনের বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়ে এটা প্রথম পদক্ষেপ? এই নিয়ে সরকারের তরফে কিছু না জানানো হলেও, ইতিমধ্যে সরকারি কর্মীদের মধ্যে ফিসফাস শুরু হয়ে গিয়েছে।

    এমনিতেই বকেয়া ডিএ মামলায় নতুন করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সুপ্রিম কোর্টে শাসক দল জানিয়েছে, এখনই সরকারের পক্ষে সকলের বকেয়া মেটানো সম্ভব নয়। যে কারণে আগামী ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ সাল অবধি সময় দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। এদিকে সরকারের এহেন মন্তব্যে ক্ষোভে ফুঁসছেন সরকারি কর্মী থেকে শুরু করে পেনশন প্রাপকরা। তাঁদের অপেক্ষা আরও কত দীর্ঘ হবে? আদৌ টাকাটা মিলবে তো? এই আশঙ্কায় ভুগছেন সকলে।

    কী আছে বিজ্ঞপ্তিতে?

    অর্থ দফতরের তরফে প্রকাশিত নতুন আদেশনামা 835-F(eGov) এবং ২৮/০২/২০২৬ অনুযায়ী, আগামী ২০ মার্চের মধ্যে সমস্ত সরকারি কর্মীর ই-সার্ভিস বুক তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। প্রথমে সার্ভিস বুকের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বা কাস্টোডিয়ানরা মূল নথির পাতাগুলি স্ক্যান করে অনলাইনে আপলোড করবেন। এরপর কর্মচারীদের নিজেদের দায়িত্ব নিতে হবে। তাঁরা সেই স্ক্যান করা নথিগুলি দেখে অনলাইনে নিজেদের সমস্ত তথ্য সতর্কতার সঙ্গে এন্ট্রি করবেন।

  • ‘ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেব’ বকেয়া DA কাণ্ডে বড় ঘোষণা, ঘুরে যাবে খেলা? জল্পনা তুঙ্গে

    ‘ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেব’ বকেয়া DA কাণ্ডে বড় ঘোষণা, ঘুরে যাবে খেলা? জল্পনা তুঙ্গে

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আবহে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। SIR নিয়ে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তুলে ধরছেন একের পর এক অভিযোগ। আর এই অবস্থায় গর্জে উঠল সরকারি কর্মীরা। DA না দিয়ে যুবসাথীর টাকা ঘোষণা করায় কাটমানির প্রসঙ্গ তুললেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ। ভোটে মমতাকে (Mamata Banerjee) দেখে নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিলেন।

    কাটমানির প্রসঙ্গ তুললেন ভাস্কর

    কনফেডারেশন এবং সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ রাজ্য সরকারের যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করেন। গত ৭ মার্চ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে ঘোষণা করেছিলেন যে ১ এপ্রিল থেকে নয়, যুবসাথীর টাকা ৭ মার্চ থেকে দেওয়া হবে। আর সেই ঘোষণা নিয়ে বিরোধী পক্ষ থেকে উঠে আসে একাধিক কটাক্ষ। কীসের জন্য এই তাড়াহুড়ো তাই নিয়ে ওঠে প্রশ্ন, এবার সেই নিয়ে এক সাক্ষাৎকার পর্বে ভাস্কর ঘোষ কাটমানির প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, “ অনেকেই জানেন না যে রাজ্যের উচ্চপদস্থ আমলাকারীদের মধ্যে কতজনকে যুবসাথী দেওয়া হচ্ছে, এমনকি RTI করেও সেই তথ্য মিলবে না, কারণ এই সরকার যদি ৭০ লক্ষ বেকারদের মাসে ১৫০০ করে দেয় তাহলে রেকর্ডে এন্ট্রি হবে ১ কোটি উপোভোক্তাদের দেওয়া হচ্ছে। বাকি ৩০ লক্ষকে ভুতুড়ে সাজিয়ে টাকা পার্টি ফান্ডে ঢোকাবে। এইভাবেই চলবে কাটমানি।”

    DA নিয়ে খোঁচা সরকারকে

    গত শুক্রবার, সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (Dearness allowance) মামলার রায় কার্যকর করার সময়সীমা বাড়ানোর জন্য নতুন করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। জানানো হয়েছিল, ডিএ বকেয়া পরিশোধ সংক্রান্ত নির্দেশ বাস্তবায়নে একাধিক প্রশাসনিক, প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। সেই কারণেই অন্তত ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ এবং প্রথম কিস্তির অর্থ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। যদিও এখনও এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের তরফে কিছুই জানানো হয়নি। এই নিয়েও ভাস্কর ঘোষ বলেন, “এটি আসলে সুপ্রিম কোর্টকে বিভ্রান্ত করে সময় নষ্ট করা ছাড়া কিছুই নয়। তাঁরা নিজেরাই জানেন আজ নয়ত কাল DA মেটাতে হবে সকলকে। আমরাও আপনাকে ভোটের ময়দানে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেব। ”

    আরও পড়ুন: রাজ্যে জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার দিন ঘোষণা, দেখুন সূচি

    সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, “মমতা সরকারকে বুঝিয়ে দেব কর্মচারীদের প্রতি যদি এরূপ দৃষ্টিভঙ্গি তিনি চালিয়ে যান তাহলে মে মাসের পরে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নাম মমতা ব্যানার্জি হবে না। রাজ্যবাসী তখন বুঝবে সরকার আসলে সরকারি কর্মীরা চালায় কোন কালীঘাটের লোকজন এই সরকার চালায় না। ” প্রসঙ্গত, আগামী ১৩ মার্চ রাজ্য জুড়ে সরকারি অফিস অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সরকারি কর্মচারী সংগঠনের নেতারা। যদিও যে কোনও ধর্মঘটের ক্ষেত্রে বরাবর কড়া অবস্থান নিয়ে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার সেই সরকার আদৌ কর্মীদের সঙ্গে সংঘাতে যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

  • ‘আরও এক দফায় লড়াই, এবার জিতবেন …’ DA মামলা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী

    ‘আরও এক দফায় লড়াই, এবার জিতবেন …’ DA মামলা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বকেয়া ডিএ (Bengal DA Case) নিয়ে অপেক্ষা এবং লড়াই দীর্ঘ হয়েই চলেছে। আদৌ বকেয়া টাকা মিলবে তো? সেই প্রশ্ন সকলের। এমনিতে যেখানে ৩১ মার্চের মধ্যে রাজ্য সরকারকে ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত, সেখানে তা না করে উল্টে সরকার এখন এমএ পিটিশন দাখিল করে জানিয়েছে, এখনই তাঁদের পক্ষে ডিএ দেওয়া সম্ভব নয়। আগামী ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ সাল অবধি সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এরইসঙ্গে সকলের এখন প্রশ্ন, আর কবে তাহলে ডিএ মিলবে? আর কত অপেক্ষা করতে হবে? অবশেষে এই নিয়ে মুখ খুললেন বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikas Ranjan Bhattacharya)।

    ডিএ নিয়ে ফের লড়াই শুরু?

    এমনিতেই বকেয়া ডিএ নিয়ে বছরের পর বছর ধরে বিক্ষোভ, আন্দোলন করছেন বাংলার সরকারি কর্মীরা। এরপর মাঝে সুপ্রিম নির্দেশে স্বস্তি পেলেও এখন সেই স্বস্তি হতাশায় পরিণত হয়েছে সকলের। তার ওপর গোদের ওপর বিষফোঁড়ার সমান হয়েছে সরকারের নতুন এক তথ্য। সরকার সুপ্রিম কোর্টে যে তথ্য পেশ করেছে সেখানে শিক্ষক, শিক্ষা কর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা কর্মীদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে ডিএ দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভে ফুঁসছেন সকলে। জায়গায় জায়গায় বিশেষ করে শিক্ষকরা আগামী কয়েকদিনে আন্দোলনের ঘোষণা করেছে। প্রশ্ন উঠছে, সত্যিই কি তাঁরা বকেয়া ডিএ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন? মুখ খুললেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। বিশিষ্ট আইনজীবী জানালেন, ‘অনৈতিকভাবে যদি একটা সরকার চলে, তাঁদের রাজনৈতিক প্রশাসক যদি চূড়ান্ত অরাজনৈতিক হন, তাঁরাই শুধুমাত্র এরকম কৌশলের কথা ভাবতে পারেন।’ তিনি আরও জানান যে আরেক দফা লড়াইয়ে যেতে হবে। অপরদিকে বিশ্লেষক সনময় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন যে, ‘এই লড়াইটা আবারও লড়তে হবে, তবে এবার জিতবেন কর্মচারীরাই।’

    আরও পড়ুনঃ প্রতিমাসে অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ৭০০০ টাকা! মহিলাদের ক্ষমতায়নে বড় প্ল্যান LIC-র

    কী বলছেন বিশিষ্ট আইনজীবী?

    কর্মচারী ইউনিয়ন মামলা করলেও বিষয় ছিল রোপা রুলস অনুযায়ী ডিএ প্রাপ্য কিনা এবং তা প্রাপ্য হলে কীভাবে তা নির্ধারণ করা হবে। রোপা রুলস অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের যোগ্য সকলেই। কিন্তু এই সরকার সুনীতির পথে যাবেন না, এই সরকার সবসময় দুর্নীতির পথে মানুষকে নিয়ে যেতে পছন্দ করেন। বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ যারা রোপা রুলস অনুযায়ী আওতাভুক্ত তাঁরা ডিএ পাবেন। হয়তো যারা সরাসরি কর্মচারী নন তাঁদের আবার মামলার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে।’ অর্থাৎ ডিএ নিয়ে সকলকে আরও এক দফায় লড়াইয়ে সামিল হতে হবে।

     

  • ‘এবার সুপ্রিম কোর্ট দেখাবে অ্যাগ্রেসিভ মনোভাব’, DA মামলায় বড় আপডেট

    ‘এবার সুপ্রিম কোর্ট দেখাবে অ্যাগ্রেসিভ মনোভাব’, DA মামলায় বড় আপডেট

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ উপেক্ষা আর উপেক্ষা। এই বকেয়া ডিএ (Bengal Da Case) নিয়ে কবে টানাপোড়েন, উপেক্ষার পালা শেষ হবে? উত্তর খুঁজছেন সাধারণ সরকারি কর্মচারী থেকে শুরু করে পেনশন প্রাপকরা। এদিকে সরকার শিক্ষক, শিক্ষা কর্মী সহ অনেককে এই বকেয়া ডিএ-র আওতায় রাখেনি। সেই এমএ পিটিশন দাখিল করা হয়েছে আদালত। এহেন ঘটনায় ক্ষোভের মুখে পড়েছে কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ। ডিএ মামলাকারী এক ভিডিও বার্তায় এই বিষয়ে মুখ খুললেন। তিনি জানালেন, ‘রাজ্য সরকার ইমেইল মারফত সর্বোচ্চ আদালতে একটি MA পিটিশন দাখিল করে। পরবর্তীকালে সেটা আমাদের হাতে আসে। সকাল থেকেই যে খবরটি ভাইরাল হয়েছে সেটা অনুযায়ী সরকার নাকি শিক্ষা কর্মী, পঞ্চায়েত কর্মীদের ডিএ-র আওতায় রাখেনি। আমরাও দেখলাম। তবে একটা কথা মনে রাখবেন, এটি এমএ অ্যাপ্লিকেশন যেটি সরকারের তরফে সুপ্রিম কোর্টের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। সেক্ষেত্রে এখনও কিন্তু ফাইলিং হয়নি। সেটা গ্রাহ্য হবে কি হবে না সেটা পরে জানা যাবে।’

    ক্ষোভের মুখে পড়েছে কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ

    মলয়বাবু বলেন, ‘সরকার যে কর্মচারীদের সংখ্যা তুলে ধরেছে তা বিভেদ সৃষ্টি করার জন্যই করেছে বলে মনে হচ্ছে। সেইসঙ্গে কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজকেই দায়ী করেছে। আমরা আগেও বলেছি, খোদ রাজ্য সরকারি কর্মীদের মামলায় আমাদের আসতে হয় ট্রাইব্যুনাল দিয়ে। আমাদের মামলা রোপা মেনে হয়েছে। যারা বেতন, ডিএ, পেনশন পায় তাঁরাই এর আওতায় আসবেন। আজ যে বলছে শিক্ষক, শিক্ষা কর্মী, পুরসভা কর্মীদের DA দেওয়া হবে না, তাঁদেরই কিন্তু বকেয়া দিতে বেশি খরচ হবে। সরকারের খরচ হবে ১৮,৩৬৯,৩২ কোটি টাকা।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সব মিলিয়ে সরকারের খরচ হবে ৪২,০০০ কোটি টাকা। ২৫ শতাংশ যে দেওয়ার কথা ছিল অর্থাৎ সেখানে খরচ হত ১০,০০০ কোটি টাকা মতো। সেখানে সবাই ছিল। কর্মচারী সমাজ, শিক্ষক, শিক্ষা কর্মী, পঞ্চায়েত, ভোট কর্মী প্রমুখ। ১০ নম্বর পেজে কিন্তু সবটা লেখা আছে। তারপরেও কেন আমাদের যাতা বলছেন? বেশ কিছু শিক্ষক কর্মচারী সমাজ থেকেই আমাদের যা নয় তাই বলা হচ্ছে। এখানে তো আমরাই তুলে ধরেছিলাম।’ মলয় মুখোপাধ্যায় এও বলেছেন যে, ‘এবার সুপ্রিম কোর্ট দেখাবে অ্যাগ্রেসিভ মনোভাব।’

    আরও পড়ুনঃ ‘Updated Soon’ মেসেজে বিপাকে আবেদনকারীরা, যুবসাথীর স্ট্যাটাস চেক নিয়ে আপডেট সরকারের

    কী বলছেন কর্মীরা?

    সরকারের নতুন পিটিশন নিয়ে কেউ কেউ বলছেন, ‘আপনারা আগে থেকে সব জানতেন তবু এটা নিয়ে কোনোদিন কোনোদিন ব্যবস্থা নেননি ‘ অন্য আরেকজন লিখেছেন, এই সরকার কে আর এক দিনও ক্ষমতায় রাখা উচিৎ নয়,,, এরা divide and rule করতে চাইছে,,, প্রথম বার যখন 25% দেওয়ার কথা হয়েছিল তখন এই রাজ্য সরকার supreme court এ বলেছে যে আমাদের 10 লাখ কর্মচারীদের বেতন দিতে হয়, তাই এই পরিমাণ DA দিতে পারব না,,,, এখন চুপিসারে অন্য পিটিশন দাখিল করেছে,,,, সমস্ত রাজ্যবাসীদের এরা ভিখারী আর ভাতাজীবিতে পরিণত করতে চায়।’ অন্য আরেকজন লিখেছেন, ‘শ্রদ্ধেয় মলয় বাবু আজকে তো রিপোর্ট দেখে আমাদের তো মন ভেঙে যাচ্ছে আপনারা ডিএ পাবেন অথচ আমরা প্রাথমিক শিক্ষক বা শিক্ষক সমাজ এরা ডি এ পাব না। এটা বোধহয় আপনার আগে জানা ছিল। মাঝে এই নিয়ে একটু তর্কাতর্কি হচ্ছিল যাক দুঃখ করে লাভ নাই জীবনে বাঁচতে হলে অনেক কিছুই দেখ কে স্বীকার করতে হয়।’