Tag: Crude Oil

  • লিটারে ২ টাকা বাড়ল পেট্রোলের দাম! আজ থেকেই কার্যকর নয়া রেট

    লিটারে ২ টাকা বাড়ল পেট্রোলের দাম! আজ থেকেই কার্যকর নয়া রেট

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় চলা যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আবারও বিরাট ধাক্কা খেল ভারত। বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের মাঝেই লাগল ধাক্কা। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি পার হতেই দেশের বাজারে হাহাকার। জ্বালানির দাম দিনের পর দিন বাড়ছে। আর তেল বিপণন সংস্থাগুলি আজ থেকেই প্রিমিয়াম পেট্রোলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল (Petrol Price Hike)। কতটা বাড়ল এবার দাম?

    দেশজুড়ে বাড়ল পেট্রোলের দাম

    তেল বিপণন সংস্থাগুলির ঘোষণা অনুযায়ী, সাধারণ পেট্রোলের দাম এখনই বাড়ছে না। কিন্তু হ্যাঁ, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রিমিয়াম পেট্রোলের দাম বাড়ানো হয়েছে। আর এবার প্রতি লিটারে ২.০৯ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিপিসিএল-এর ‘স্পিড’, এইচপিসিএল-এর ‘পাওয়ার’ এবং আইওসিএল-এর ‘এক্সপি ৯৫’ এর মতো উন্নত মানের সব জ্বালানি। বিশেষ করে উন্নত ইঞ্জিন পারফরমেন্স এবং বেশি মাইলেজের জন্য ব্যবহার করা হয় এই জ্বালানি। তবে দাম বাড়ার কারনে বিলাসবহুল গাড়ি বা স্পোর্টস বাইক ব্যবহারকারীদের পকেটে যে আরও চাপ পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    এদিকে ইরান সহ পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে দিনের পর দিন সংঘাত বেড়েই চলেছে। যার ফলে বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ার কারণে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম এখন আকাশছোঁয়া। তার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলেও অপরিশোধিত তেলের দাম আপাতত ১০০ ডলারের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে।

    আরও পড়ুন: সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে ভারতীয় রুপি! এবার ১০০-র গন্ডি টপকানোর পালা?

    সাধারণ পেট্রোল-ডিজেলের দাম কি বাড়বে?

    বলাবাহুল্য, বর্তমানে কেবল প্রিমিয়াম বা ব্র্যান্ডেড জ্বালানির দাম বাড়ানো হলেও সাধারণ মানুষ বা ডিলারদের কপালে পড়ছে চিন্তার ভাঁজ। কারণ, বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যদি এই হারে বাড়তে থাকে, তাহলে খুব শীঘ্রই সাধারণ পেট্রোল বা ডিজেলের দামও বাড়ানো হতে পারে। আর তেমনটা হলে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকছে।

  • সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে ভারতীয় রুপি! এবার ১০০-র গন্ডি টপকানোর পালা?

    সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে ভারতীয় রুপি! এবার ১০০-র গন্ডি টপকানোর পালা?

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এবার কি তাহলে ১০০-র গণ্ডি টপকাবে ভারতীয় মুদ্রা (Indian Rupee)? ডলারের বিপরীতে সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছল রুপি। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের (Middle East War) কারণে আগেই আশঙ্খা করা গিয়েছিল যে দিনের পর দিন আরও তলানিতে ঠেকবে দেশের মুদ্রা। সেই আশঙ্কায় সত্যি হল। শুক্রবার মার্কিন ডলারের (United States Dollar) বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার দাম দাঁড়াল একেবারে সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তর ৯৩.২৪ টাকায়। অর্থাৎ, এবার এক ডলার কিনতে গেলেই খোয়াতে হবে এত টাকা। অন্যদিকে বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম। যার প্রভাব পড়ছে মুদ্রার উপরেই। তাহলে কী হবে দেশের অর্থনীতির?

    সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে ভারতীয় রুপি

    বলে দিই, গত ৪ মার্চ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে ৭০ পয়সা বেড়ে ৯২ এর গণ্ডি ছাপিয়ে গিয়েছিল ভারতীয় মুদ্রা। এই সময় ডলারের বিপরীতে দাম দাঁড়ায় ৯২.১৭ টাকা। আর তার পাঁচ দিনের মধ্যে আরও ধস নামে রুপিতে। তখন সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তর ৯২.৩০ টাকায় গিয়ে পৌঁছয়।। তবে এবার আরও পতন হয়ে একেবারে ৯৩ এর গণ্ডি টপকে গেল। আজ সকালে বাজার খুলতেই একেবারে রক্তক্ষরণ রুপিতে। এক ডলার কিনতে গেলেই এখন পড়েছে ৯৩.২৪ টাকা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যে হারে বাড়ছে তাতে সিংহভাগ চাপ পড়ছে মুদ্রার উপর। এই কারণেই গতকালের তুলনায় আরও ০.৪ শতাংশ তলানিতে রুপি।

    এক্ষেত্রে জানিয়ে রাখি, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি টপকেছে। যার ফলে তেল আমদানি করতেই মুদ্রার উপর চাপ পড়ছে। সেই কারণে ডলারের বিপরীতে দিনের পর দিন এই পতন। বেশ কিছু বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি ক্রুড অয়েলের দাম ১২০ ডলারে পৌঁছে যায়, তাহলে রুপি আরও তলানিতে ঠেকবে। এমনকি তা ৯৪ তে গিয়ে পৌঁছবে। আর আশঙ্কা করা হচ্ছে যে যুদ্ধ যদি এরকমভাবে চলতে থাকে, তাহলে ১০০-র গণ্ডি টপকাতে খুব বেশিদিন সময় লাগবে না। অন্যদিকে শেয়ার বাজারেও পড়ছে ভয়ংকর প্রভাব। কারণ, সেন্সেক্স ও নিফটি ৫০ অনেকটাই লসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

    আরও পড়ুন: ১১৩ বছরের রেকর্ড ব্রেক, প্রথম দিনেই ১০০ কোটির ক্লাব ছুঁল রণবীরের ‘ধুরন্ধর ২’

    বলাবাহুল্য, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার মধ্যে দিনের পর দিন সংঘাত বেড়েই চলেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর আমেরিকা এবং ইজরায়েলের উপর একের পর এক হামলা চালাচ্ছে তেহরান। যার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের যোগানে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এমনকি সম্প্রতি কাতারের রাস লাফানে মিসাইল অ্যাটাক করেছে ইরান। যার কারণে গ্যাস আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ। আর হরমুজ প্রণালীতে ভারতেরতেলবাহী জাহাজগুলি আটকে রয়েছে। এক কথায়, গোটা বিশ্ব এখন জ্বালানি সংকটে ভুগছে। সেই কারণেই বাড়তি টাকা খরচ করে জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে ভারতকে। যার কারণে ডলারের বিপরীতে মুদ্রার পতন।

  • ব্যারেল প্রতি ১৩৭ ডলার! হরমুজ সংকটে এপ্রিলে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়তে পারে ভারতে

    ব্যারেল প্রতি ১৩৭ ডলার! হরমুজ সংকটে এপ্রিলে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়তে পারে ভারতে

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের (Middle East War) কারণে দিনের পর দিন দেশের অর্থনীতির উপর প্রভাব পড়ছে। শোনা যাচ্ছে, আগামী ৩১ মার্চের পর নাকি পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়বে! হ্যাঁ, ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বগতিতে ঠেকেছে। জানা যাচ্ছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যেখানে এই তেলের দাম ছিল ৭০.৯ ডলার, সেখানে শুক্রবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৬.৫৬ ডলার। অর্থাৎ, ভারতীয় শোধনাগারগুলির জন্য এই অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত ঊর্ধ্বগতিতে ঠেকেছে। সেই সূত্রে আঁচ করা হচ্ছে যে, পেট্রোল-ডিজেলের দামও এবার অনেকটাই বাড়বে (Petrol-Diesel Price Hike)।

    ভারতে বাড়বে জ্বালানির দাম

    বেশ কিছু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, বাজেট লক্ষ্যমাত্রা আর আর্থিক ভারসাম্যের উপর নজর রেখেই আগামী ৩১ মার্চ সরকার তেলের দামের মূল্যবৃদ্ধি করতে পারে। তবে হ্যাঁ, যেহেতু বাংলা সহ মোট পাঁচটি রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন, তাই এই রাজ্যগুলিতে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা খুবই কম। তবে তারপর দাম বাড়তে পারে।

    বলে দিই, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৭০.৯ ডলার। আর ১২ মার্চ সেই দাম দাঁড়ায় ১৮৭.২ ডলার। এমনকি গত শুক্রবার সেই দাম পৌঁছে গিয়েছে এক্কেবারে ১৩৬.৫ ডলারে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪০ শতাংশের বেশি আর ইউরালস ক্রুডের দাম প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আসলে ইরানের সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার কারণে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল আর গ্যাস সরবরাহ কমে গিয়েছে। আর এই সংকটের কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ছে। যেহেতু ভারতের মোট জ্বালানির প্রায় ৬০% এই পথ দিয়ে আসে, সেই কারণেই পড়ছে প্রভাব।

    এদিকে এও বলে রাখি, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ায় রাশিয়া থেকে অল্প দামে তেল কিনে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি রাশিয়ার ইউরালস ক্রুডের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সেই কারণেই আরও চাপ বাড়ছে। এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি অপরিশোধিত তেলের দাম সারা বছর প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকে, তাহলে ভারতের আমদানি ব্যয় বেড়ে ৮০ বিলিয়ন ডলারের পৌঁছবে। এমনকি ২০২৬ সালে অপরিশোধিত তেলের গড় মূল্য ৮৫ ডলার থাকলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ০.৩ থেকে ০.৪ শতাংশ কমে যেতে পারে, আর মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে ০.৬০%।

    আরও পড়ুন: পরিচারিকাতে ভরসা বিজেপির, আউশ গ্রামের পদ্মের প্রার্থী কলিতা মাজির নাম বিচারাধীন

    এখন বিশেষজ্ঞদের একটাই বক্তব্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যতদিন না পর্যন্ত তৈলবাহী জাহাজগুলি সাধারণভাবে চলাচল করতে পারছে, ততদিন বাজারে এই অস্থিরতা বজায় থাকবে এবং ভারতীয় ভোক্তাদের উপরে প্রভাব পড়বে। এমনকি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির কারণে বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে চ্যালেঞ্জ। ফেব্রুয়ারি মাসের আমদানি-রফতানির পরিসংখ্যানেও দেখা গিয়েছে আমূল পরিবর্তন। হ্যাঁ, আমদানি ২৪.১১% বেড়ে ৬৩.৭১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আর বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৭.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এখন দেখার, পেট্রোল-ডিজেলের দামের উপর কোনও প্রভাব পড়ে কিনা, আর এই পরিস্থিতি নয়াদিল্লি কীভাবে সামাল দেয়।

  • পাকিস্তানে হাহাকার! কর্মীদের ৩০% বেতন কাটল সরকার

    পাকিস্তানে হাহাকার! কর্মীদের ৩০% বেতন কাটল সরকার

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সংকটের মুখে কত কিছু যে করতে হবে কাঙাল পাকিস্তানের (Pakistan) তা হয়তো ভাবতেও পারবেন না আপনি। হ্যাঁ, টানাটানির মধ্যে পড়ে এবার দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিতে কর্মরত কর্মীদের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। চলমান যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল আর ইরান সংঘাতের (Middle East War) জেরে তৈরি হওয়া এই জ্বালানির সংকট মেটানোর জন্যই বড়সড় সিদ্ধান্তের পথে হাঁটল সন্ত্রাসের দেশের প্রশাসন।

    জ্বালানি সংকট মেটাতে বড় সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের

    প্রসঙ্গত, ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর ইজরায়েলের সংঘাত দিনের পর দিন বাড়ছে। যার কারণে শুধুমাত্র পাকিস্তান নয়, বরং বিশ্বের একাধিক দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। কারণ, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তৈলবাহী জাহাজগুলি আসতে পারছে না, যেহেতু ইরান সেখানে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আর সেই কারণেই বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। এমনকি সম্প্রতি পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। যার ফলে এখন ১ লিটার পেট্রোলের দামই পড়ছে ৩৪৫ টাকা। অন্যদিকে হাইস্পিড ডিজেলের দাম প্রায় ৩৫৫ টাকা প্রতি লিটার ছুঁয়েছে। সেই বৃদ্ধির ফলে সারা দেশে পরিবহন খরচ এবং খাদ্যের দামের উপর প্রভাব পড়েছে।

    এদিকে গ্যাসের শুল্কও দিনের পর দিন বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে এলএনজি আমদানির খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে গৃহস্থালির গ্যাসের দামও ২৫ শতাংশ বেড়েছে পাকিস্তানের। সেই কারণেই এবার জ্বালানি সংকট কাটানোর জন্য বড়সড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে পাকিস্তান। সম্প্রতি অর্থ দফতরের তরফ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, রাষ্ট্রায়ত্ত মালিকানধীন প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলির কর্মীদের বেতন এবার ৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হবে, যাতে ডুবে যাওয়া অর্থনীতিকে কিছুটা হলেও ত্বরান্বিত করা যায়।

    আরও পড়ুন: “বাড়িতে আঘাতের চিহ্ন নেই, পার্টি অফিসে ব্যান্ডেজ!” শশী পাঁজাকে একহাত নিলেন সজল ঘোষ

    তবে এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই কর্মকর্তারা নিজেদের মত প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, এই পদক্ষেপ সরকারের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। আর পাকিস্তানের সংকট এবং ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক জ্বালানির দামের ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবেলা করতে পারবে। তবে কেউ কেউ দাবি করছে, বিশ্বজুড়ে চলমান সংকটের প্রভাব শুধুমাত্র কর্মকর্তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক না। এদিকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন যে, জ্বালানি আর গ্যাসের ক্রমবর্ধমান দাম বৃদ্ধি পাকিস্তানের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলতে পারে আর মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। এখন দেখার দেশটির অর্থনীতি আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে কিনা।

  • ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলেও এই দেশগুলির তেল শেষ হবে না! তালিকায় আছে ভারত?

    ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলেও এই দেশগুলির তেল শেষ হবে না! তালিকায় আছে ভারত?

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: থেমে থেমে অশান্ত হয়ে পড়ছে মধ্যপ্রাচ্য। আমেরিকা এবং ইজরায়েলের তরফে যে সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল তা বর্তমানে বহন করছে ইরান (Iran)। পরিস্থিতি কিছুটা বদলালেও ফের চরমে পৌঁছেছে উত্তেজনা। এদিকে ইরান এবং ইজরায়েল যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন গোটা বিশ্ব। বিশ্লেষক মহলের অনেকেই বলছেন, আপাতদৃষ্টিতে মনে হলেও এই যুদ্ধ এখনই থামবার নয়। এদিকে যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালীতে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইরান। পশ্চিম এশিয়ার এই দেশ স্পষ্ট বলেছে হরমুজ থেকে যদি কোনও দেশ তেল (Oil Reserves) নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। যদিও ভারতীয় বিদেশমন্ত্রীর পদক্ষেপে হরমুজ থেকে ছাড়া হয়েছে ভারতীয় জাহাজ। কিন্তু তাও উদ্বেগ বাড়ছে পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম নিয়ে।

    গোটা বিশ্বে বাড়ছে তেলের দাম!

    একাধিক আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের আবহে বিশ্বের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম 30 শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় অপরিশোধিত তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি 100 ডলারে পৌঁছেছে। তবে গোটা বিশ্বে তেলের দাম বাড়লেও ভারতে এখনও তেলের বাজার স্থিতিশীল। দাম বাড়েনি পেট্রোল এবং ডিজেলের। যদিও LPG র ঘাটতির কারণে রান্নার গ্যাসের দাম 60 টাকা বেড়েছে। দাম বেড়েছে পরিবহন জ্বালানি অর্থাৎ অটো গ্যাসের দামও। এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পেট্রোল এবং ডিজেল নিয়ে বিশেষ সমস্যায় পড়বে না কোন দেশগুলি?

    বলাই বাহুল্য, গোটা বিশ্বে জ্বালানি তেল মজুদের নিরিখে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে আমেরিকা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার প্রায় 700 মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদ করে রেখেছে। যা বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে নিরাপদ রাষ্ট্রায়ত্ত তেল মজুদ। এছাড়াও জ্বালানি তেল মজুদ করে রাখার নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চিন। ড্রাগনের কাছে এই মুহূর্তে প্রায় 400 থেকে 500 মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদ রয়েছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে জাপান। এই দেশের কাছে সরকারি এবং বেসরকারি মজুদ মিলিয়ে 440 মিলিয়ন ব্যারেল তেল রয়েছে।

    অবশ্যই পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে FIR দায়ের বিশ্ব হিন্দু পরিষদের!

    তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এই দেশটির কাছে রয়েছে 200 মিলিয়ন ব্যারেল তেল। পঞ্চম স্থানে নাম লিখিয়েছে জার্মানি। এই দেশের কাছে প্রায় 170 মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদ রয়েছে। 6 নম্বরে নাম রয়েছে ফ্রান্সের। তাদের কাছে রয়েছে 120 মিলিয়ন ব্যারেল তেল। এর পাশাপাশি 76 মিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছে ইতালি, 60 থেকে 70 মিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে অষ্টম স্থানে রয়েছে ব্রিটেন এবং নবম স্থানে জায়গা হয়েছে ভারতের। নয়া দিল্লির হাতে রয়েছে 5.33 মিলিয়ন মেট্রিক টন তেল। এছাড়াও শেষ অর্থাৎ দশম স্থানে রয়েছে স্পেন। এই দেশের কাছে 30 থেকে 50 মিলিয়ন ব্যারেল তেল আছে। অনেকেই মনে করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘ দীর্ঘায়িত হলেও এই দেশগুলির পেট্রোল শেষ হবে না সহজে!

  • কাটবে পেট্রোল-ডিজেলের অনিশ্চয়তা, বাজারে ছাড়া হচ্ছে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল

    কাটবে পেট্রোল-ডিজেলের অনিশ্চয়তা, বাজারে ছাড়া হচ্ছে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে প্রভাব পড়ছে গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজারে। তেলের সরবরাহ (Oil Import) নিয়ে ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। যার ফলে বহু দেশের পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম আর সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। ঠিক সেই পরিস্থিতিতে স্বস্তির বার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএ (International Energy Agency)। সংস্থার তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বিশ্ববাজারে তেলের ঘাটতি সামাল দেওয়ার জন্য সদস্য দেশগুলির জরুরী মজুদ থেকে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়া হবে।

    কেন নেওয়া হচ্ছে এই সিদ্ধান্ত?

    ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে গোটা বিশ্বজুড়ে। আর বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ বাড়িয়ে এই সংকট কিছুটা হলেও কমানোর যাবে। তাই এই সিদ্ধান্ত। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি বিশ্ব তেলবাজারের জন্য সবথেকে চ্যালেঞ্জিং। জরুরি তেলের মজুদ বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে আরও স্থিতিশীল রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    বলে রাখি, এই ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি হল একটি আন্তর্জাতিক আন্তঃসরকারি সংস্থা। এদের মূল লক্ষ্য হল বিশ্ব জ্বালানির বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। আর বর্তমানে বিশ্বের ৩২টি দেশ এই সংস্থার সদস্য। জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিলে বা বাজারে কোনও রকম অস্থিরতা বাড়লে সদস্য দেশগুলোর জরুরী মজুদ থেকেই তেল ছেড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। বর্তমানে সংস্থার সদস্য দেশগুলির কাছে আনুমানিক ১.২ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি জরুরী তেলের মজুদ রয়েছে। এছাড়াও শিল্প খাতের কাছে আরও ৬০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সংরক্ষিত।

    আরও পড়ুন: হাওড়া-শিয়ালদা থেকে ১৮টি স্পেশাল ট্রেন চালাবে রেল, দেখুন রুট ও সময়সূচি

    কীভাবে আসবে এই তেল?

    আইইএ-এর তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সদস্য দেশগুলির পরিস্থিতি আর প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে তেল বাজারে ছাড়া হবে। যার ফলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনাও কমবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের চাপ কিছুটা কমতে পারে। কারণ, বিশ্বের সবথেকে বড় অংশের অপরিশোধিত তেল আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকেই। কিন্তু সেখানে এমনিতেই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তেলের আশঙ্কা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ, সেখান থেকে ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়। যদিও খুশির খবর এই যে, আজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরান ভারতের জাহাজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করেছে।

  • ডলারের বিপরীতে সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে ভারতীয় রুপি, ১০০-র গণ্ডি টপকাবে?

    ডলারের বিপরীতে সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে ভারতীয় রুপি, ১০০-র গণ্ডি টপকাবে?

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব এবার ভারতের মুদ্রায় (Indian Rupee)। সোমবার মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় রুপির মূল্য আরও তলানিতে ঠেকে রেকর্ড গড়েছে। বাজারে এখন এক মার্কিন ডলার (United States Dollar) কিনতে গেলে পড়ছে ৯২.৩৪ টাকা, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তর। আর কয়েকদিন আগেই ডলারের তুলনায় রুপির বিনিময় মূল্য ৯২ টাকার গণ্ডি পেরিয়েছিল। গত বুধবার যেখানে এক ডলারের দাম ছিল ৯২.১৮ টাকা, সেখানে সোমবার আরও তলানিতে ঠেকেছে।

    আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে তলানিতে রুপি

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক উত্তেজনা আর পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে দিনের পর দিন অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। এর ফলে অনেক বিনিয়োগকারী নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের দিকেই ঝুঁকছে। সেই কারণে ভারতীয় মুদ্রা দিনের পর দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে।

    সবথেকে বড় ব্যাপার, ভারত তার মোট অপরিশোধিত তেলের ৮০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে। যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে আমদানি খরচ বেড়ে যায় এবং তেল কেনার জন্য বেশি পরিমাণ ডলারের প্রয়োজন হয়। ফলে ডলারের চাহিদা বাড়ে আর ভারতীয় রুপির মূল্য তলানিতে ঠেকে। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর একটি বৃহৎ অংশ শেয়ারবাজার থেকে তাদের বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে। আর যখন বিদেশী বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ তুলে নেয়, তখন ডলারের চাহিদা বাড়ে। যার ফলে রুপির উপর চাপ সৃষ্টি হয়।

    আরও পড়ুন: নির্বাচন হোক ২ দফায়, কমিশনের কাছে আর কী কী দাবি জানাল বিজেপি?

    কিন্তু বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছে, যদি আন্তর্জাতিক উত্তেজনা এরকম বজায় থাকে এবং তেলের দাম বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে ডলারের তুলনায় রুপির মূল্য আরও কমতে পারে। এমনকি তা ১০০-র গণ্ডিও পার করতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারের দিকে নজর রাখার পাশাপাশি এখন অর্থনৈতিক নীতির উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

  • ২৫ দিনের তেল মজুত, ভারতে বাড়বে গ্যাস থেকে পেট্রোল-ডিজেলের দাম? মিলল উত্তর

    ২৫ দিনের তেল মজুত, ভারতে বাড়বে গ্যাস থেকে পেট্রোল-ডিজেলের দাম? মিলল উত্তর

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ বাড়ছে ইরান এবং ইজরায়েলের সংঘাত। তবে এই আবহে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম (Crude Oil Price) দিনের পর দিন ঊর্ধ্বগতিতে ঠেকছে। গত দুইদিনে প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যারেল পিছু দাম। এমনকি এখন পৌঁছেছে ৮২ মার্কিন ডলারে। আর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এই দাম ১০০ ডলার পর্যন্ত ছুঁতে পারে, এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের। তবে তেলের দাম বাড়ার প্রভাব শুধুমাত্র পেট্রোল-ডিজেলেই যে সীমাবদ্ধ থাকবে এমনটা নয়। তার ঢেউ পড়তে পারে মধ্যবিত্তর হেঁশেলেও। এমনটাই দাবি বিশেষজ্ঞদের।

    জ্বালানির দাম ঠিক কী হবে?

    প্রসঙ্গত, ভারত তাদের জ্বালানির সবথেকে বড় অংশ আমদানি করে থাকে। এমনকি তার সিংহভাগ মধ্যপ্রাচ্য থেকেই। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতে। সরকারি সূত্রের মতে ভারতের কাছে এখন ২৫ দিনের তেল মজুত আছে। সরকার সূত্র এও জানিয়েছে যে, এই মুহূর্তে ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ছে না। তবে কোনও কারণে দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়বে এবং ট্র্যাক ও পণ্যবাহী গাড়ির ভাড়া বাড়বে। শুধু তাই নয়, চাল-ডাল, সবজি, দুধের মতো নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম অনেকটাই চড়তে পারে বলে জানা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এলপিজি সিলিন্ডারের দামও বাড়ার সম্ভাবনা একেবারে উঠিয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এটাও বলে রাখি যে, ভারত কোনও একটি দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল, LPG আমদানি করে না। তাই বিকল্প উৎসের সন্ধানে কাজ চলছে বলে খবর। কিন্তু গ্যাসের দাম বাড়লে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পকেটে যে চাপ পড়বে তাও বলার অপেক্ষা রাখে না।

    এদিকে সংঘাতের জেরে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশ তাদের আকাশ সীমা বন্ধ করে দিয়েছে। যার ফলে ভারত থেকে ইউরোপ বা আমেরিকায় যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত রুটে বাধা তৈরি হচ্ছে। এমনকি বিকল্প দীর্ঘ রুট ব্যবহার করতে হচ্ছে বিমান সংস্থাগুলিকে। যার ফলে জ্বালানির খরচ বাড়ছে এবং ভ্রমণের সময়ও বাড়ছে। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, এর কারণে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের টিকিটের দামও অনেকটাই বেড়েছে।

    আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মাঝে তেলের সঙ্কট এড়াতে বিরাট প্ল্যান ভারতের!

    সোনা, রুপোতে বাড়ছে বিনিয়োগ

    অন্যদিকে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সাধারণত সোনা এবং রুপোর চাহিদা বাড়ে। কারণ, সোনাকেই সবাই নিরাপদ বিনিয়োগের বিকল্প হিসেবে ভেবে থাকে। এর ফলে গয়নার বাজারে দাম অনেকটাই ঊর্ধ্বগতিতে ঠেকতে পারে বলে মত প্রকাশ করছে ওয়াকিবহাল মহল।

  • মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মাঝে তেলের সঙ্কট এড়াতে বিরাট প্ল্যান ভারতের!

    মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মাঝে তেলের সঙ্কট এড়াতে বিরাট প্ল্যান ভারতের!

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ক্রমশ বাড়ছে। ইজরায়েল এবং আমেরিকার যৌথ হামলার পর সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে ক্ষেপে গিয়েছে ইরান। আর তারপরেই মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে আমেরিকার একের পর এক সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করছে তারা। আর এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্বে লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম। ইতিমধ্যেই ব্যারেল প্রতি 13 শতাংশ দাম বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের। গত ফেব্রুয়ারিতে যেই দাম ব্যারেল প্রতি 65 থেকে 67 ছিল তাই ইতিমধ্যেই 82 ডলার ছুঁয়ে ফেলেছে। আশঙ্কা আগামীতে এই তেলের দাম আরও বাড়বে। কারণ বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখনই থামার নয়। ঠিক সেই আবহে দেশে তেলের যোগান অব্যাহত রাখতে নতুন পরিকল্পনা ফাঁদছে ভারত (India On Oil Price)।

    হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে হুঙ্কার ইরানের

    যুদ্ধ আবহে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। শুধু তাই নয়, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ করার পাশাপাশি ইরান একেবারে হুঁশিযারি দিয়ে বলেছে যদি কেউ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তাহলে জাহাজে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হবে। বলাই বাহুল্য, গোটা বিশ্বে তেলের বাণিজ্যের অন্তত 20 শতাংশ হয়ে থাকে স্ট্রেট অফ হরমুজ প্রণালী হয়ে। অন্যদিকে বিশ্বের তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের বাণিজ্যের প্রায় এক তৃতীয়াংশ হয় এই স্ট্রেট অফ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়লে সবার প্রথমে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এই জলপথ। আর এই পথ থেকে তেল যাতায়াত না করতে পারলে গোটা বিশ্বের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যে বাড়বে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    বিকল্প ভেবে রেখেছে ভারত

    এই মুহূর্তে যা অবস্থা তাতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এখনই কমছে না। আর সেটা না হলে হরমুজ প্রণালী খুলবে না ইরান। অনির্দিষ্টকালের জন্য এই জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে তেলের দাম আকাশ ছোঁয়া হবে, এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের দাবি, এই সংঘাতের পরিস্থিতিতে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম গোটা বিশ্বে পৌঁছে যেতে পারে ব্যারেল প্রতি 100 ডলার বা তারও বেশি অর্থে। এমনটা হলে পেট্রোলিয়ামের দামও অন্তত 40 শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। যার ধাক্কা দিয়ে পড়বে সরাসরি পেট্রোল এবং ডিজেলের দামে। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যে পেট্রোলের দাম 100 থেকে 105 টাকা, আগামী দিনে সেটারই দাম হয়ে দাঁড়াতে পারে 140 থেকে 145 টাকা।

    মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতার মধ্যে তেলের দামের ব্যাপক বৃদ্ধির আঁচ যাতে ভারতবাসীর পকেটে না পড়ে সেজন্যই নাকি নতুন পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন তেল কোম্পানি গুলির সাথে আলোচনা শুরু হয়েছে সরকারের। কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে পেট্রোল, ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করা, রাশিয়া থেকে ফের অপরিশোধিত তেল আমদানি বাড়ানো সহ অন্য কোনও বিকল্প দেশ থেকে তেল কেনা যায় কিনা সেই সব দিকে নিয়ে বৈঠক চলছে সরকারি আধিকারিকদের।

    অবশ্যই পড়ুন: সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ডোবাতে পারেন ভারতের এই ৬ প্লেয়ার

    তবে, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমানোর কারণে ভারতের উপর থেকে শুল্ক কমিয়েছে আমেরিকা। শুধু তাই নয়, বাণিজ্য চুক্তিতেও সম্মত হয়েছে দুই দেশ। এমতাবস্থায়, ভারত যদি ফের রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বাড়ায় সেক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতিগতি কোন দিকে গিয়ে ঠেকবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয়ে রয়েছেন অনেকে। বিশ্লেষক মহলের অনেকেই বলছেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেলে আমদানি বাড়িয়ে দিলে ফের শুল্ক বাড়াতে পারে আমেরিকা। যদিও নয়া দিল্লি চিরকালই বলে এসেছে, জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার্থে যেখান থেকে তেল কিনতে হয় কিনবে ভারত।