Tag: Calcutta High Court

  • ফুড সেফটিতে কত নম্বরে বাংলা? রাজ্য সরকারের রিপোর্ট দেখে খুশি হাইকোর্ট

    ফুড সেফটিতে কত নম্বরে বাংলা? রাজ্য সরকারের রিপোর্ট দেখে খুশি হাইকোর্ট

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বর্তমান সময়ে বাংলার (West Bengal) প্রতিটি খাবারের মধ্যেই এখন ভেজাল থাকে। এদিকে চিকিৎসকরা বারংবার খাবারে ভেজাল সম্পর্কে সতর্ক করে চলেছে সুস্থতার ক্ষেত্রে। কারণ খাবারের মেশানো রাসায়নিক দ্রব্য শরীরে বিপদ ডেকে আনে। আর এই আবহে খাবারে ভেজাল ও কৃত্রিম রঙের ব্যবহার রুখতে এবং খাবারের গুণগতমান নিয়মিত যাচাইকরণ নিয়ে রাজ্য সরকার (Government Of West Bengal) নিল এক বড় পদক্ষেপ। যা নিয়ে এবার বেশ প্রশংসা করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।

    খাদ্যে ভেজাল নিয়ে জনস্বার্থ মামলা

    রিপোর্ট মোতাবেক, সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে দিনের পর দিন খাবারে ভেজাল থাকা নিয়ে এক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল, কাঁচা সবজি, মাছ, মাংস, দুধ, ফল, রাস্তার খাবার, প্রক্রিয়াজাত খাবার, মিষ্টি জাতীয় খাবারে ভেজাল ও বিভিন্ন পানীয় দ্রব্যে কৃত্রিম রঙের ব্যবহার করা হচ্ছে, যা খুবই ভয়ংকর। এতে শিশু থেকে বৃদ্ধ প্রত্যেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাই সেক্ষেত্রে রাজ্য সরকার কী ভূমিকা নিচ্ছে। এবার সেই মামলায় প্রশংসা অর্জন করল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার, হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেয়, যা দেখে রীতিমত সন্তোষ প্রকাশ করে ডিভিশন বেঞ্চ।

    রিপোর্ট জমা দিল রাজ্য সরকার

    রাজ্যের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, বর্তমানে জেলা, পুরসভা এবং ব্লক স্তরে মোট ১৭৬ জন ফুড সেফটি অফিসার কাজ করছেন। এর পাশাপাশি জেলাগুলিতে রয়েছেন ২৮ জন আধিকারিক এবং ৩ জন রাজ্য খাদ্যদ্রব্য তদন্তকারী আধিকারিক। নিয়ম অনুযায়ী ফুড সেফটি অফিসাররা প্রতি মাসে অন্তত ২৫টি খাদ্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠান। সেই পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এছাড়াও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের খাদ্য সুরক্ষা সূচক বা Food Safety Index-এ পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে। যেখানে, ২০১৯ সালে এই সূচকে রাজ্যের অবস্থান ছিল ১৫তম। অর্থাৎ খাদ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের অগ্রগতি বেশ উল্লেখযোগ্য।

    আরও পড়ুন: তৃণমূল নেতার উসকানিতে তরোয়াল দিয়ে একের পর এক কোপ! মালদায় বাচ্চাদের ঝামেলায় প্রাণ গেল ব্যক্তির

    প্রসঙ্গত, এই জনস্বার্থ মামলায় আদালত রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে যে, প্রতি মুহূর্তে খাদ্যের গুণগত মান ও শুদ্ধতা যাচাইকরণ নিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরকে তৎপর থাকতে হবে। যদি খাদ্যদ্রব্যে ব্যবসায়ীদের কোনও ত্রুটি বা ভুল ধরা পড়ে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরে কর্মীর যাতে কোনো অভাব না হয়, সঙ্গে সঙ্গে নিয়ম মেনে শূন্যপদে নিয়োগ করতে হবে। এরপরই সেই জনস্বার্থ মামলাটির নিষ্পত্তি করে দেয় আদালত।

  • ভোটের আগেই হাইকোর্টে জনস্বার্থে মামলা, কী দাবি?

    ভোটের আগেই হাইকোর্টে জনস্বার্থে মামলা, কী দাবি?

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সামনেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তবে তার আগে রক্তপাতহীন এবং সুষ্ঠু ভোটের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) জনস্বার্থে মামলা দায়েরের আবেদন জানিয়েছেন এক আইনজীবী। আর তাঁর আবেদন গ্রহণ করেই মামলা করার অনুমতি দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ। কিন্তু ঠিক কী কী বললেন আইনজীবী?

    কী দাবি জানানো হল?

    মামলাকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, অতীতের নির্বাচনী হিংসার অভিজ্ঞতা রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছিল। তাই ভোটের আগেই সতর্কমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সবথেকে জরুরী। এমনকি পিটিশনে একাধিক দাবি তোলা হয়েছে। প্রথমত, স্পর্শকাতর এবং অতি স্পর্শকাতর বুথগুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে হবে। তৃতীয়ত, বাধ্যতামূলকভাবে ভিডিওগ্রাফি করতে হবে। চতুর্থত, গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর নজরদারির জন্য উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক করমচারিদের নিয়ে একটি মনিটরী কমিটি গঠন করতে হবে। এছাড়াও রাজনৈতিক, সাম্প্রদায়িক এবং লিঙ্গভিত্তিক হিংসা নিস্পত্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।

    এদিকে পিটিশনে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনী পরবর্তী হিংসার ঘটনাগুলোর কথা তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগ উঠছে, ভোট পরবর্তী অশান্তিতে প্রাণহানি, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং ঘরছাড়া হওয়ার মতো একাধিক ঘটনা ঘটেছিল। আর সেই সময় বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টে পৌঁছয়। আদালতের নির্দেশে তদন্ত এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপ নেওয়াও হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিচারপতির বেঞ্চ গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল।

    আরও পড়ুন: জঙ্গল মহলে শক্তিবৃদ্ধি বিজেপির, গেরুয়া শিবিরে যোগ কুড়মিদের প্রধান উপদেষ্টার

    এদিকে মামলাকারীর আইনজীবী বক্তব্য রাখেন, আদালতের তত্ত্বাবধান থাকলে প্রশাসন আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারবে। আর ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে। তিনি চেয়েছেন, ভোটার আগে যাতে সবকিছু ঝুঁকিপূর্ণভাবে হয় সেই দিকে নজরদারি বাড়ানো। সেই কারণেই হাইকোর্টের কাছে তাঁর এই আবেদন।