Tag: Calcutta High Court

  • হাইকোর্টের রায়ে বিরাট স্বস্তি পেলেন শুভেন্দু

    হাইকোর্টের রায়ে বিরাট স্বস্তি পেলেন শুভেন্দু

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ছাব্বিশের রাজ্য বিধানসভা ভোটে (West Bengal Election 2026) আরও একবার মুখোমুখি হতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং শুভেন্দু অধিকারী। তবে এবার সেই লড়াই হতে চলেছে ভবানীপুরে। আর এই আবহে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে বড় স্বস্তি পেলেন নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একটি বিশেষ মামলায় ১২ সপ্তাহের জন্য অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে আদালত।

    অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের

    রিপোর্ট মোতাবেক, ২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর এক বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে খড়দহ থানার তরফে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আর সেই মামলাতেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর এবার সেই মামলায় বড় স্বস্তি পেলেন তিনি। জানা গিয়েছে, আজ, বিচারপতি অজয় কুমার মুখোপাধ্যায়ের একক বেঞ্চ আপাতত তদন্তে ১২ সপ্তাহের জন্য অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে । অর্থাৎ ভোটের মধ্যে এই মামলা নিয়ে আরও কোনও অস্বস্তির মধ্যে পড়তে হবে না শুভেন্দুকে। মামলার পরবর্তী শুনানি একেবারে ভোটপর্ব মিটলে হবে।

    স্বস্তিতে শুভেন্দু অধিকারী

    বিধানসভা নির্বাচনের আবহে সকলেই এখন বেশ ব্যস্ত, জেলায় জেলায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর সকলেই ময়দানে নেমেছে ভোটের প্রচারের জন্য। এই অবস্থায় শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে হওয়া মামলা নিয়ে বেশ চাপে ছিল দল। বিশেষ করে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই মামলার অগ্রগতি নিয়ে যথেষ্ট নজর ছিল বিভিন্ন মহলের। অবশেষে হাইকোর্টের নির্দেশে অনেকটাই স্বস্তি ফিরল। এখন দেখার, ১২ সপ্তাহ পর ভোটপর্ব মিটলে মামলার পরবর্তী শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট কী অবস্থান নেয় এবং তদন্ত প্রক্রিয়া কোন পথে এগোয়।

    আরও পড়ুন: মেরেকেটে ৫ দিনের LPG, ৭ দিনের তেল বেঁচে! জ্বালানির দাম ২০০% বাড়াল পাকিস্তান

    প্রসঙ্গত, ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম এই দুই গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে লড়াই করছেন শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই তিনি প্রচার শুরু করেছেন। অন্যদিকে ভবানীপুরে লড়ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নন্দীগ্রামে তৃণমূলের হয়ে লড়ছেন পবিত্র কর। এই অবস্থায় মনোনয়ন পত্র পূরণের জন্য এবং আইনি পথ সুরক্ষিত রাখতে নিজেই পুলিশের বিরোধিতায় সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। অভিযোগ নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা ও বিস্তারিত তথ্য না দিচ্ছে না পুলিশ। অন্যদিকে একই অভিযোগ জানিয়েছেন বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা।

  • ট্রেন বাতিল, ঈদের মঞ্চে মমতার কটাক্ষ…! আজকের সেরা ১০ খবর (২১ মার্চ)

    ট্রেন বাতিল, ঈদের মঞ্চে মমতার কটাক্ষ…! আজকের সেরা ১০ খবর (২১ মার্চ)

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আজ ২১ মার্চ, শনিবার। ট্রেন বাতিল, ঈদের মঞ্চে মমতার কটাক্ষ, মুরগির মাংসের দাম ঊর্ধ্বগতি, রাজ্য-রাজনীতি, অর্থনীতি, বহির্বিশ্ব, কোথায় কী ঘটল আজ? জানতে চোখ রাখুন আজকের সেরা দশে। India Hood-র তরফ থেকে আমরা নিয়ে এসেছি তরতাজা দশটি (Top 10 Bangla News in West Bengal And India) খবর, যা না পড়লে মিস করে যাবেন অনেক কিছুই। বিস্তারিত নতে হলে অবশ্যই প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

    ১০) দেশে মুরগির মাংসের দাম ঊর্ধ্বগতি, ৩০০ ছুঁই ছুঁই

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে এমনিতেই জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। তবে গ্যাসের অভাব এবং দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি এবার মুরগির মাংসের দাম হু হু করে বাড়ছে। হ্যাঁ, এক সপ্তাহে কেজি প্রতি ১৮০-১৯০ টাকা থেকে বেড়ে এবার ২৫০-২৮০ টাকায় পৌঁছে গেল। এমনকি কোথাও ৩০০ ছুঁই ছুঁই। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, ভ্যাকসিন আর ভিটামিনের ঘাটতি এবং গরমে উৎপাদন কমার কারণে দাম দিনের পর দিন বাড়ছে। যার ফলে সাধারণ মানুষের উপরই চাপ পড়ছে। পাশাপাশি জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে পরিবহন খরচ বাড়ছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

    ৯) টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন দিলীপ পত্নী রিংকু মজুমদার

    দিলীপ পত্নী রিংকু মজুমদার বিজেপির টিকিট না পেয়ে প্রকাশ্যে এবার ক্ষোভ উগড়ে দিলেন। রাজারহাট নিউটাউন আসনে প্রার্থী হতে চাইলেও তাঁকে কোনও রকম ভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এরপর তিনি অভিযোগ করেছেন, দলের কিছু প্রার্থী আর্থিক দুর্নীতিতে জড়িত। নাম না করে শুভেন্দু অধিকারী সহ প্রভাবশালী নেতাদের বাড়ির পরিবারকে একাধিক টিকিট দেওয়ার সমালোচনা করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলেই নতুনদের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। আর বিষয়টি ঘিরে ভোটের আগে বিজেপি অন্দরে অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসলো। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

    ৮) আসানসোলে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ সেতু

    আসানসোলের বিদায়গড় এলাকায় নুনিয়া নদীর উপর নির্মীয়মান একটি সেতু হঠাৎ করে ভেঙে পড়েছে। যার ফলে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও স্থানীয়দের ক্ষোভ এখন চরমে। অভিযোগ উঠছে, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার কারণ এই সেতু ধসে পড়েছে। প্রায় ২ কোটি টাকার এই প্রকল্পটি বহুদিনেরই দাবি ছিল যা ভোটের আগে শেষ করার কথা ছিল। ঘটনার কারণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে আর তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক জলঘোলা শুরু হয়েছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

    ৭) রবিবার আসানসোল ডিভিশনে বাতিল একাধিক ট্রেন

    ভারতীয় রেলের আসানসোল ডিভিশনে ২২ মার্চ ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বহু ট্রেন বাতিল করে দেওয়া হল। নরগঞ্জ-ঝাঝা, অন্ডাল, রানীগঞ্জ, মধুপুরসহ সহ বিভিন্ন শাখায় এই কাজ চলবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে একাধিক লোকাল এবং প্যাসেঞ্জার ট্রেন পরিষেবা বন্ধ থাকবে। এছাড়াও ১৩৩৩১ ধানবাদ-পাটনা ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস দেরিতে চলবে। আর কিছু ট্রেন সংক্ষিপ্ত যাত্রা করবে। যেমন দেওঘর-পাটনা মেমু ঝাঝা থেকে চলবে। পাশাপাশি ভাস্কো দা গামা-জসিডি এক্সপ্রেস মধুপুরে শেষ হবে বলে জানানো হয়েছে। যাত্রীদের আগে থেকে সময়সূচি দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

    ৬) এপ্রিলে ৩ মাসের রেশন একসাথে দেওয়ার ঘোষণা

    ভারত সরকার ঘোষণা করল যে, এপ্রিল মাসে রেশন গ্রাহকদের এক সঙ্গে তিন মাসের চাল এবং গম দেওয়া হবে। আর এতে বারবার রেশন দোকানে যাওয়ার ঝামেলা অনেকটাই কমবে এবং সাধারণ মানুষের সুবিধা বাড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ফসল সংরক্ষণের জন্য গুদামে জায়গা তৈরি করার জন্যই হয়তো এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমস্ত রাজ্যকে দ্রুত শস্য তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর বিনামূল্যে রেশন প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ এবং শহর দুই ক্ষেত্রেই এই সুবিধা মিলবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনও সমস্যা হলে জেলা খাদ্য দফতরে যোগাযোগ করা যাবে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

    ৫) মালদহ ডিভিশনে বিরাট পদক্ষেপ রেলের

    ভারতীয় রেলের মালদা ডিভিশনের ট্রেন চলাচল দ্রুত করার জন্য নতুন ইন্টারমিডিয়েট ব্লক সিগনাল চালু হল। নওপাড়া মহিষাসুর হল্টে। মনিগ্রাম এবং মহিপাল রোডের মাঝে এই ব্যবস্থায় ১২ কিলোমিটার ব্লক সেকশনকে ভাগ করে ৬ কিলোমিটার করে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে ট্রেনের অপেক্ষা এবং সিগন্যাল জুড়ে দেরি অনেকটাই কমবে। ইন্টারলকিং সিস্টেমেও পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং লেভেল ক্রসিং যুক্ত করা হচ্ছে। যাত্রীদের ভ্রমণের সময় এতে অনেকটাই কমবে বলে মত রেল কর্তৃপক্ষের। রেল কর্মীদের প্রশিক্ষণও চলছে আর পরিষেবা আরও উন্নত হবে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

    ৪) ডিএ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে নতুন মামলা

    পশ্চিমবঙ্গে বকেয়া ডিএ ইস্যুতে উত্তেজনার মাঝেই এবার ষষ্ঠ বেতন কমিশন নিয়ে নতুন মামলা দায়ের করা হল কলকাতা হাইকোর্টে। ইউনিটি ফোরাম সংগঠন এই মামলা দায়ের করেছে। আর AICPI অনুযায়ী ডিএ নির্ধারণ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের কর্মীরা ২২ শতাংশ ডিএ পেলেও কেন্দ্র সরকারি কর্মচারীদের ৫৮ শতাংশের তুলনায় প্রায় তা ৪০ শতাংশ কম। আবেদনকারীরা অভিযোগ করছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানা হয়নি এবং ৬ এপ্রিল মামলার শুনানি  হতে পারে। একইসঙ্গে সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

    ৩) রেড রোডে ঈদের মঞ্চে মোদীকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা মমতার

    মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেড রোডে ঈদের অনুষ্ঠানে সম্প্রীতির বার্তার পাশাপাশি তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণও করেছেন। নরেন্দ্র মোদীকে অনুপ্রবেশকারী বলে কটাক্ষ করে তিনি বিজেপি, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এবার পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন। এসআইআর তালিকা থেকে বহু নাম বাদ পড়ার প্রসঙ্গ তুলে মানুষের অধিকার রক্ষার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার এবং অমিত শাহকে অফিস থেকে চাপ এবং হুমকির অভিযোগ করেছেন। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

    ২) বকেয়া DA থেকে নতুন পে কমিশন, বড় ঘোষণা মমতার

    মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ইস্তেহারে বকেয়া ডিএ মেটানো এবং নতুন বেতন কমিশন নিয়ে বড়সড় ঘোষণা করা হল। জানানো হয়েছে যে, ২০১৬-২০১৯ সালের ৪৮ মাসের বকেয়া ডিএ ধাপে ধাপে দিয়ে দেওয়া হবে। আর যার প্রথম কিস্তি মার্চে এবং পরেরটি সেপ্টেম্বর মাসে মিলবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্তরে ডিএ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। আর্থিক চাপের কথা উল্লেখ করে সরকার সপ্তম বেতন কমিশন চালুর প্রস্তাব দিয়েছে, যেটি কার্যকর হলে বেতন, ভাতা এবং পেনশন অনেকটাই বাড়তে পারে অনুমান করা হচ্ছে। কিন্তু কবে তা বাস্তবায়িত হবে তা স্পষ্ট নয়। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

    ১) হাওড়া-শিয়ালদা লাইনে বাতিল ৪৭টি লোকাল

    পূর্ব রেলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২২ মার্চ রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য হাওড়া ডিভিশনের বিভিন্ন শাখায় ট্রাফিক ব্লক থাকবে। যার ফলে ব্যাপক ট্রেনের বিভ্রাট ঘটবে। আনুমানিক ৪৭টি লোকাল এবং প্যাসেঞ্জার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। যার মধ্যে হাওড়া-বর্ধমান, ব্যান্ডেল, কাটোয়া, পাঁশকুড়া সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটের ট্রেন রয়েছে। আর তার পাশাপাশি কিছু এক্সপ্রেস ট্রেনের সময় পিছিয়ে গিয়েছে। আর কয়েকটি ট্রেন ৪৫ থেকে ১২০ মিনিট পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিতভাবে চলবে বলে জানানো হয়েছে। যাত্রীদের আগেভাগে সময়সূচি দেখে বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

  • পশ্চিমবঙ্গ সরকারের DA বিজ্ঞপ্তিতেও ভিজল না চিঁড়ে, এবার কলকাতা হাইকোর্টে নতুন মামলা

    পশ্চিমবঙ্গ সরকারের DA বিজ্ঞপ্তিতেও ভিজল না চিঁড়ে, এবার কলকাতা হাইকোর্টে নতুন মামলা

    সহেলি মিত্র, কলকাতা: পঞ্চম বেতন পে কমিশনের আওতায় এখনো অবধি ডিএ (Dearness allowance)-র প্রথম কিস্তি টাকা পাননি সরকারি কর্মীরা। অপরদিকে শীঘ্রই সপ্তম পেতন পে কমিশন লাগু হবে বলে নিজেদের ইস্তেহারে ঘোষণা করেছে তৃণমূল। এক কথায় যত সময় এগোচ্ছে ততই বকেয়া DA বা মহার্ঘ্য ভাতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ চড়ছে। তবে এসবের মাঝেই এবার ষষ্ঠ বেতন পে কমিশনের (6th Pay Commission) মামলা গড়াল কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। শুনে চমকে গেলেন তো? কিন্তু এটাই সত্যি। কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্য সরকারের তুলনা টেনে এনে এবার আদালতেই মামলা করলেন সরকারি কর্মীরা। অর্থাৎ বিধানসভা ভোটের মুখে নতুন এক চাপের মুখে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

    এবার হাইকোর্টে ষষ্ঠ বেতন পে কমিশন মামলা

    ষষ্ঠ বেতন পে কমিশন নিয়ে মামলা করেছে ‘ইউনিটি ফোরাম’ নামের একই সংগঠন। বিচারপতি মধুরেশ প্রসাদের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংগঠনের তরফে মামলায় দাবি করা হয়েছে। ষষ্ঠ বেতন কমিশনের প্রথম কিস্তির ডিএ অল ইন্ডিয়া প্রাইস ইনডেক্স (AICPI) অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে। জানিয়ে রাখি, বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা ৫৮% হারে ডিএ পাচ্ছেন। সেখানে বাংলার সরকারি কর্মীরা এতদিন ১৮ শতাংশ হারে মহার্ঘ্য ভাতা পাচ্ছিলেন। তবে রাজ্য বাজেটে আরও ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। অর্থাৎ সরকারি কর্মীরা এখন ২২ শতাংশ হারে ডিএ পাবেন। তারপরেও কেন্দ্রের সঙ্গে বাংলার সরকারের ডিএ ফারাক ৪০%, যা নিঃসন্দেহে চোখে পড়ার মতো।

    আরও পড়ুনঃ বকেয়া DA থেকে নতুন পে কমিশন, বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

    বিস্ফোরক দাবি আবেদনকারীদের

    অর্থাৎ পঞ্চম বেতন কমিশনের পাশাপাশি এখন ষষ্ঠ বেতন পে কমিশন নিয়েও আইনি লড়াইয়ে ফাঁসল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আবেদনকারীদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের তুলনায় এখনও প্রায় ৪০ শতাংশ কম ডিএ পাচ্ছেন রাজ্যের কর্মীরা। এই বৈষম্য দূর করতেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। এর আগে পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, ভবিষ্যতে ডিএ নির্ধারণ করতে হবে অল ইন্ডিয়া প্রাইস ইনডেক্স মেনেই। কিন্তু সেই নির্দেশ বাস্তবায়িত হয়নি বলেই অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের ক্ষেত্রেও একই নীতি কার্যকর করার দাবিতে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    সূত্রের খবর, আগামী ৬ এপ্রিল এই মামলার প্রথম শুনানি হতে পারে। অর্থাৎ বিধানসভা ভোটের মুখে আরও একটা কমিশন সংক্রান্ত মামলা। এদিকে সরকার সপ্তম বেতন পে কমিশন লাগুর বিষয়ে বড় তথ্য দিয়েছে সরকার। সরকার ইস্তেহারে সপ্তম বেতন পে কমিশন চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সরকার জানিয়েছে, রাজ্যে নতুন পে কমিশন গঠন করে সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক, পেনশনভোগী এবং অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন কাঠামোয় সামঞ্জস্য আনা হবে। এরইসঙ্গে সকল কর্মীদের মন জয় করার স্বার্থে ডিএ ছাড়াও একের পর এক কাজ করছে সরকার। অর্থ বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তম পে কমিশন চালু হলে ডিএ-সহ অন্যান্য ভাতা এবং বেতনের গঠন নতুন করে নির্ধারিত হতে পারে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থার উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হবে। যদিও এই প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে, আদৌ শুরু হবে কিনা তা এখনই জোর দিয়ে বলা সম্ভব হচ্ছে না।

     

  • আলোচনা না করেই IAS-IPS বদলি কমিশনের! হাইকোর্টে মামলা দায়ের কল্যাণের

    আলোচনা না করেই IAS-IPS বদলি কমিশনের! হাইকোর্টে মামলা দায়ের কল্যাণের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে ভোটের (West Bengal Election 2026) প্রচার। দিন রাত এক করে প্রার্থীরা জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে উঠে পড়ে লেগেছে। এদিকে ভোট ঘোষণার পর থেকে বাংলায় একের পর এক আধিকারিক বদল হয়েই চলেছে। যা নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ প্রশাসন। এমতাবস্থায় বাংলার IAS এবং IPS অফিসারদের অন্য রাজ্যে নির্বাচনের কাজে পাঠানোর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে (Calcutta High Court) মামলা দায়ের করলেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। অনুমতি দিলেন প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। সোমবার হবে শুনানি।

    প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের বদলি নিয়ে ক্ষুব্ধ সরকার

    গত রবিবার পশ্চিমবঙ্গ-সহ চারটি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে কমিশন ৷ দুই দফায় হবে রাজ্যে হবে নির্বাচন। এদিকে ঘোষণার পরেই ওইদিন রাত থেকেই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের একে একে পরিবর্তন করতে শুরু করে কমিশন। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে পুলিশ ও প্রশাসনের আরও বেশ কয়েকজন কর্তাকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে শোনা যায় তাঁদের কয়েকজনকে অন্য রাজ্যে ভোটের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রশাসন। এবার সেই নিয়ে হাইকোর্টে দ্বারস্থ হলেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

    কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের কল্যাণের

    রিপোর্ট মোতাবেক, আজ অর্থাৎ শুক্রবার, রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের মামলা দায়েরের আবেদন জানান। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে। সেখানে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ জানিয়েছেন যে, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নির্বাচন করা। কিন্তু প্রশাসনের সমস্ত বিভাগের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের অন্য রাজ্যে স্থানান্তরের অধিকার নির্বাচন কমিশনের নেই। এতে প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। জানা গিয়েছে, আগামী সোমবার, এই মামলার শুনানি হবে। অন্যদিকে এই একই বিষয় নিয়ে এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও দিয়েছেন। কিন্তু মেলেনি কোনো জবাব।

    আরও পড়ুন: সৌদির সঙ্গে মিলিয়ে ঈদ পালন করে ভারতের এই গ্রাম! কারণ জানলে অবাক হবেন আপনিও

    প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণার দিনেও বিজেপি এবং কমিশনকে সাংবাদিক সম্মেলনে সরাসরি আক্রমণ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ”বাংলাকে ইচ্ছে করে টার্গেট করা হচ্ছে। আপনাদের অনেক পরিকল্পনা, অনেক চক্রান্ত আছে। কিন্তু মনে রাখবেন, এবারেও বাংলার মাটিতে বিজেপির জেতার কোনো সম্ভাবনা নেই। SIR, গ্যাসের লাইনে দাঁড় করিয়ে মানুষকে হেনস্তা করলে কেউ আপনাদের পাশে থাকবে না। এই লড়াইয়ে বাংলা, বাংলার মা-মাটি-মানুষ জিতবে।” বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজ্য ও কমিশনের সংঘাত শুরু থেকেই ছিল৷ এর আগেও নানা ব্যাপারে কমিশনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে রাজ্য প্রশাসন ৷ একজন দেখার মামলার জল কত দূর এগোয়।

  • ভোটের আগে অন্য খেলা! শুভেন্দু হাইকোর্টে যেতেই শোরগোল

    ভোটের আগে অন্য খেলা! শুভেন্দু হাইকোর্টে যেতেই শোরগোল

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর ভোটের (West Bengal Election 2026) দামামা বেজে গিয়েছে রাজ্য জুড়ে। তাই বেশি দেরি না করে সোমবারই বিজেপি প্রথম দফার ভোটের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই দেখা যায় নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর এই দুই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এদিকে ভবানীপুরে তাঁর প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাই সেখানে টক্কর যে বেশ নজরকাড়া হবে তা বেশ বোঝা যাচ্ছে। এমতাবস্থায় ঘটল আরেক ঘটনা। মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার আগে ফের হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হলেন শুভেন্দু অধিকারী।

    হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন শুভেন্দু

    রিপোর্ট মোতাবেক, আজ, ভবানীপুর এলাকায় প্রচার মিছিলেও যান শুভেন্দু অধিকারী৷ কিন্তু, হঠাৎ করেই ঢুকে পড়েন ভবানীপুর থানার ভিতরে। বেশ খানিকক্ষণ কথাও বলেন সেখানে৷ এরপর সেখান থেকে বেরিয়ে গিয়েই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তিনি। আর তাতেই সকলের মনে প্রশ্ন জাগে যে কী এমন হল যে হাইকোর্টে আসলেন শুভেন্দু অধিকারী? পরে জানায় হাইকোর্টে তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। শুভেন্দুর বক্তব্য, তাঁর বিরুদ্ধে মোট কতগুলি মামলা রয়েছে, সেই সঠিক তথ্য পুলিশ তাঁকে দিচ্ছে না। কিন্তু মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীকে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, অপরাধমূলক রেকর্ড, আর্থিক অবস্থা, পেশা ও আয়ের উৎস, সরকারি বকেয়া সবই বিস্তারিত জানাতে হয়। তাই এই বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বিজেপি নেতা।

    খারিজ হয়েছিল ১৫ টি FIR

    শুভেন্দু অধিকারী এর আগে আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, আদালতের অনুমতি ছাড়া শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কোনো নতুন FIR করা যাবে না। কিন্তু গত বছর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের আইনি সুরক্ষাকবচ সরিয়ে নেন। এদিকে সুরক্ষাকবচ তুলে নিলেও একই রায়ে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৫টি FIR বা মামলা সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। কারণ স্বরূপ আদালত জানিয়েছিল মামলাগুলি ভিত্তিহীন ছিল বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। আর সেই রায় বড় স্বস্তি লাভ করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

    আরও পড়ুন: হাড়োয়ায় উদ্ধার তৃণমূল নেতার ক্ষতবিক্ষত দেহ! গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে খুন? উত্তেজনা এলাকায়

    উল্লেখ্য, চলতি বছর পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বেশ উত্তেজোনামূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এই নিয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই মামলায় ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিয়েছিল হাইকোর্ট। এবার এই পরিস্থিতিতে মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলার পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন শুভেন্দু। এখন দেখার আদালত এই প্রসঙ্গে কী নির্দেশ দেয়।

  • ‘অবৈধভাবে পশ্চিমবঙ্গে আটক স্ত্রী’, উদ্ধারের দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ বাংলাদেশি নাগরিক

    ‘অবৈধভাবে পশ্চিমবঙ্গে আটক স্ত্রী’, উদ্ধারের দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ বাংলাদেশি নাগরিক

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলাদেশে বিয়ের (Bangladesh Marriage Case) পর অবৈধভাবে সেই মেয়েকে ভারতে নিয়ে আসে তাঁর পরিবার। সেই সূত্রে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হলেন বাংলাদেশি যুবক অরিজিৎ সরকার। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন সূত্রে খবর, বিয়ের পরপরই মেয়েটির পরিবার তাঁকে জোরপূর্বক পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসে। আর এখানেই তাঁকে আটকে রেখে দেয় এবং স্বামীর সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ করতে দেয় না। কার্যত একটি মেসেজের জন্যই অপেক্ষা করে থাকে সেই যুবক। কিন্তু কোনও রকম যোগাযোগ করাও সম্ভব হয় না। জানুন সবটা।

    জোরপূর্বক বাংলাদেশি মেয়েকে বাংলায় নিয়ে আসলো পরিবার

    অরিজিৎ সরকার নামের ওই যুবকের বক্তব্য অনুযায়ী, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর সঙ্গে বিয়ে হয় ১৯ বছর বয়সী মৌমি সাহার। ঢাকাতে হিন্দু রীতি মেনে একটি মন্দিরেই তাঁদের বিয়ে হয়। কিন্তু এক মাস কাটতে না কাটতেই মেয়ের বাবা-মা কোনও এক অজুহাত দিয়ে তাঁকে জোরপূর্বক বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসেন। তাঁর দাবি, ঢাকা বিভাগের নরসিংদী নিকটবর্তী মধ্যকান্দা এলাকার প্রতিবেশী ছিলেন তাঁর স্ত্রী, এবং বিয়ের দু’বছর আগে ধরেই তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

    অরিজিৎ এর বক্তব্য, অক্টোবর মাসের পরিবার তাঁকে অবৈধভাবে ভারতে নিয়ে এসে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিরাটিতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আটকে রাখেন। এমনকি বাইরের জগতের সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ঘরবন্দী থাকাকালীন কোনও উপায়ে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাঁর স্ত্রী নিজের লোকেশন পাঠান। সেই সূত্রে ২০২৬-এর জানুয়ারি মাসে তিনি বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় আসেন। তারপরেই একাধিক টানাপড়েনের পর অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হন তিনি। তাঁর দাবি, যেহেতু তাঁর কাছে কোনও রকম বৈধ নথিপত্র ছিল না, তাই বাংলাদেশ হাই কমিশনার বা স্থানীয় পুলিশের কাছে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম, যাতে তাঁরা আমাকে বাংলাদেশে ফিরে যেতে সহায়তা করে।

    আরও পড়ুন: ভোটের আবহে বাড়ছে উদ্বেগ, বীরভূমে উদ্ধার অসংখ্য বিস্ফোরক, আতঙ্ক নলহাটিতে

    এমনকি তিনি আরও বলেন যে, আমি প্রতিদিন তাঁর কাছ থেকে একটি মেসেজের অপেক্ষায় থাকি। কিন্তু কোনও খবরই আসে না। তাঁর সঙ্গে আমার কোনও যোগাযোগ করতে দেওয়া হয় না। বাধ্য হয়ে ব্যারাকপুর নিমতা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। এরপর ৭ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশনারের দ্বারস্থ হন। তারপর ৯ জানুয়ারি ইমেলের মাধ্যমে তাঁকে স্থানীয় থানায় এফআইআর দায়ের করার করতে বলা হয়। সেই সূত্রে গত তিনি ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তবে সেখানেও কোনও রকম কাজের কাজ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। যার ফলে গত ১০ মার্চ কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হন অরিজিৎ। তাঁর বক্তব্য, চলতি সপ্তাহে এই মামলাটির শুনানি হতে পারে।

  • বেলডাঙা কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের বড় ধাক্কা! বহাল থাকল হাইকোর্টের নির্দেশ

    বেলডাঙা কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের বড় ধাক্কা! বহাল থাকল হাইকোর্টের নির্দেশ

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সামনেই ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), দুই দফাতেই হতে চলেছে নির্বাচন। এদিকে রাজ্যের অন্দরে হিংসা ক্রমেই বাড়ছে। ফের খবরের শিরোনামে উঠে এল বেলডাঙা হিংসাকাণ্ড (Beldanga Incident)। সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) ফের বেলডাঙা কাণ্ডে রাজ্যকে ধাক্কা খেতে হল। নথি হস্তান্তর করা নিয়ে আর্জি খারিজ করে দেওয়া হল। হাইকোর্টের রায়ে কোনও হস্তক্ষেপ করল না শীর্ষ আদালত। NIA-এর নথি হস্তান্তর নিয়ে হাইকোর্ট যা নির্দেশ দিয়েছিল সেটাই আপাতত বহাল রাখা হল।

    বেলডাঙা হিংসা মামলায় ধাক্কা খেল রাজ্য

    বেলডাঙা হিংসা মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার ঘটনায় রাজ্য পুলিশের হাতে যে ডকুমেন্ট বা তথ্য রয়েছে, সেই সবগুলো NIA-কে হস্তান্তর করতে হবে। কিন্তু সেই নির্দেশ মানতে নারাজ হাইকোর্ট। তাই বাধ্য হয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে যায়। সেখানে রাজ্য অভিযোগ জানায় তাদের বক্তব্য পুরো না শুনেই কলকাতা হাইকোর্টের তরফে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু লাভের ল কিছুই হল না। ফের সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। NIA-এর নথি হস্তান্তর নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশকেই মান্যতা দিল শীর্ষ আদালত।

    ঠিক কী ঘটেছিল?

    উল্লেখ্য, জানুয়ারি মাসে ঝাড়খণ্ডে আলাউদ্দিন শেখ নামে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। পরে জানা যায়, আলাউদ্দিনকে খুন করা হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ ঝাড়খণ্ডে গিয়ে সেখানকার পুলিশের তথ্যপ্রমাণ দেখে এসেছিল। এদিকে বেলডাঙায় এর জেরে অশান্ত ছিল বেশ কয়েকদিন। স্টেশন সংলগ্ন রেলগেটে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল সেই সময়। রেলের সিগন্যালও ভেঙে ফেলা হয়েছিল। ব্যাহত হয়েছিল রেল পরিষেবা। সড়কপথেও যান চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। মারধর করা হয়েছিল সাংবাদিকদেরও। এরপর মামলা ওঠে হাইকোর্টে। সেই সময় আদালত বলেছিল, কেন্দ্র যদি মনে করে, তাহলে বেলডাঙার হিংসা নিয়ে NIA তদন্ত হতে পারে। সেই মতো তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। কিন্তু সেই তদন্ত ঠেকাতেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল রাজ্য।

    আরও পড়ুন: ২৪-র লোকসভা ভোট হিংসায় যুক্ত পুলিশ অফিসারদের তালিকা তলব, বড় পদক্ষেপ কমিশনের

    NIA-কে বেলডাঙার কেস ডায়েরি হস্তান্তর করার জন্য গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্দেশ দিয়েছিল বিশেষ আদালত। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এবং সমস্ত তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট ঘুরে ফের সেই মামলা দেয় কলকাতা হাইকোর্টে। আর সেই মামলাতেই রাজ্য সরকারের আপত্তি খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট।

  • নবান্নের দিকে জানলা ব্যালকনি রাখা যাবে না! পুলিশের শর্তে বড় ধাক্কা দিল হাইকোর্ট

    নবান্নের দিকে জানলা ব্যালকনি রাখা যাবে না! পুলিশের শর্তে বড় ধাক্কা দিল হাইকোর্ট

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নবান্নের (Nabanna) সামনে বাড়ি তৈরির জন্য স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া তিনটি শর্ত খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। আর এই রায়ের নিরিখে স্বস্তি পেল নির্মাণকারীরা। হাই সিকিউরিটি জোন হিসেবে চিহ্নিত নবান্নের দিকে বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছিল কোনো জানলা থাকবে না, ছাদের উপরে তুলতে হবে পাঁচিল! যেটা খুবই অস্বস্তিকর, এই নিয়ে মামলা উঠতেই বড় সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা হাইকোর্ট।

    একাধিক শর্ত আরোপ হাইকোর্টের

    নবান্নর নিরাপত্তার মূল দায়িত্বে রয়েছে লালবাজার। পুলিশের ২০১৯-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ওই এলাকা ‘হাই সিকিউরিটি জোন’ হিসেবে চিহ্নিত। তাই নবান্নের আশেপাশে বাড়ি তৈরি করার জন্য ১৭ দফা শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। নবান্নের আশেপাশের আবাসনে কাউকে ফ্ল্যাট বিক্রির আগে সেই ব্যক্তির অতীত সম্পর্কে প্রোমোটারকে খোঁজ নিতে হবে। আইনজীবীদের ব্যাখ্যা, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনও ক্রিমিনাল কেস থাকলে তাঁর কাছে ফ্ল্যাট বিক্রি করা যাবে না। শুধু তাই নয় কোনও ভাবেই আশেপাশের আবাসন বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা যাবে না। বিল্ডিং তৈরির পরে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো সংক্রান্ত একাধিক নিয়ম জারি করা হয়েছিল। এমনকি জানলা এবং ব্যালকনি নিয়েও শর্ত রাখা হয়েছিল।

    শর্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের

    নবান্নের পাশে বাড়ি তৈরির লালবাজারের অন্যতম শর্ত ছিল নবান্নের দিকে মুখ করে কোনও জানলা অথবা বারান্দা রাখা যাবে না৷ ছাদে নবান্নের দিকে পাঁচিলের উচ্চতা হতে হবে অন্তত ১০ ফুট। নবান্ন যাতে দেখা না যায় তা নিশ্চিত করতে ছাদের উপরেও ১০ মিটার উঁচু পাচিল তুলতে হবে৷ এদিকে নবান্নের সামনে ক্ষেত্রমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় লেনে এক ব্যক্তি পাঁচ তলা বাড়ি তৈরি করতে চেয়েছিলেন। তাই হাওড়া পুরসভার কাছে বাড়ির পরিকল্পনা জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদন চান তিনি। কিন্তু অভিযোগ, তখনই তাঁকে পুলিশের ১৭টি শর্ত ধরানো হয়। তাই এবার নির্দিষ্ট এই শর্তগুলি চ্যালেঞ্জ করে জমির মালিক এবার সরাসরি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন।

    প্রশ্ন তোলা হয় শর্তগুলি নিয়ে

    জানা গিয়েছে, নবান্ন থেকে ১০০ মিটার দূরে হাওড়া পুরসভার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ তলা ওই বাড়িটি তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন জমির মালিক৷ বছর সাতেক আগে হাওড়া পুরসভায় প্রস্তাবিত বাড়িটির নকশা অনুমোদনের জন্য জমা দেওয়া হয়৷ কিন্তু নবান্নের দিকে জানলা, বারান্দা না রাখতে দেওয়া, ছাদের উপরে দশ মিটার উচ্চতার পাঁচিল তোলার শর্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়৷ মামলাকারীর আইনজীবী শ্রীজীব চক্রবর্তীর প্রশ্ন, আইন অনুযায়ী এই ধরনের শর্ত কি কোনও বাড়ির উপর চাপানো যায়? কী ভাবে বাড়ি তৈরি করা হবে, তা কি প্রশাসন ঠিক করে দিতে পারে? অবশেষে গতকাল সেই শর্ত খারিজ করে দিল হাই কোর্টের বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তের বেঞ্চ।

    আরও পড়ুন: DA আন্দোলনে যেতে পারবেন না শিক্ষকরা! নোটিশ জারি মধ্যশিক্ষা পর্ষদের

    শর্ত খারিজ হাইকোর্টের

    আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনও এলাকার নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও শর্তাবলি আইনের সীমার মধ্যে রাখা উচিত। ছাদে ১০ ফুটের দেওয়াল তৈরি করতে গেলে বাড়ির প্রয়োজনীয় আলো-বাতাস বন্ধ হয়ে যাবে। লালবাজারের জানলা বা বারান্দার নির্মাণ নিষিদ্ধ করাও অমানবিক, এতে আবাসিকদের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই এই জোড়া শর্তকে ‘অবৈধ’ বলে উল্লেখ করেছেন বিচারপতি। এছাড়াও আদালত জানিয়েছে, কে বাড়িতে থাকবেন, তা নির্ধারণ করা পুরসভার কাজ নয়। তাই পুলিশের ক্রাইম ইনসিডেন্ট ভেরিফিকেশন শর্তটিও খারিজ করা হয়েছে।

  • সারদা কাণ্ডের গোপন নথি প্রকাশ্যে আসছে? ১৩ বছর পর বিরাট নির্দেশ হাইকোর্টের

    সারদা কাণ্ডের গোপন নথি প্রকাশ্যে আসছে? ১৩ বছর পর বিরাট নির্দেশ হাইকোর্টের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আবহে সারদা কেলেঙ্কারি মামলা (Sarada Scam Case) নিয়ে বড় আপডেট দিল কলকাতা হাইকোর্ট। প্রায় ১৩ বছর পর মামলার তদন্তে রাজ্যের গঠিত বিচারপতি শ্যামল সেন কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশের নির্দেশ দিল উচ্চ আদালত (Calcutta High Court)। আশঙ্কা করা হচ্ছে এত বছর পর এবার হয়ত আর্থিক হিসেব-নিকেশ সহ যাবতীয় রিপোর্ট এবং দীর্ঘদিন ধরে গোপন থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথি এবার সকলের সামনে আসতে চলেছে।

    বিচারপতি শ্যামল সেনের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল কমিশন

    উল্লেখ্য, শুরু থেকেই সারদা কেলেঙ্কারিকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র শোরগোল হয়ে চলেছে। ২০১৩ সালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই কারণে রাজ্য সরকার, বিচারপতি শ্যামল সেনের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করেছিল। আর সেই কমিশনের মাধ্যমে রাজ্যের ঘোষিত ৫০০ কোটির তহবিল থেকে প্রায় ২২৫ কোটি টাকা আমানতকারীদের মধ্যে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করে। পরে কমিশনের কাজ শেষ হলে সমস্ত হিসেব নিকেশ এবং অবশিষ্ট অর্থ রাজ্য সরকারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এবং একটি প্রতিলিপি আদালতের কাছেও জমা দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকাশ্যে আনা হয়নি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট।

    পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেশের নির্দেশ হাইকোর্টের

    এক যুগ কেটে গেলেও বিচারপতি শ্যামল সেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন রিপোর্ট না বের করায় আদালতে মামলা করা হয়। গতকাল, মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানি ওঠে হাইকোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ ও বিচারপতি উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ। আমানতকারীদের আইনজীবী তাঁদের পক্ষের মন্তব্য পেশ করেছেন। কিন্তু এদিনও চিটফান্ডের মামলাগুলিতে সিবিআই ও ইডি-র আইনজীবী না থাকা নিয়ে ডিভিশন বেঞ্চ ক্ষোভ প্রকাশ করে। বিচারপতি ভরদ্বাজ বলেন, “চিটফান্ডের যাবতীয় কোম্পানির তদন্ত এই দুই সংস্থার হাতে। অথচ লক্ষ্য করছি, ৯০ শতাংশ চিটফান্ডের মামলায় এই দুই এজেন্সির আইনজীবী গরহাজির থাকছেন। এইভাবে চললে, আদালত পদক্ষেপ করতে বাধ্য হবে।” এরপরই আদালত স্পষ্ট জানায় শীঘ্রই ওই রিপোর্ট মামলার সব পক্ষকে দেখাতে হবে।

    আরও পড়ুন: হবে মাল্টিট্র্যাকিং, চতুর্থ লাইন! বাংলায় ফের একগুচ্ছ রেল প্রকল্পের ঘোষণা

    প্রসঙ্গত, সারদা কেলেঙ্কারি নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের মধ্যে এই নির্দেশ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। আমানতকারীদের আইনজীবী শুভাশিস চক্রবর্তী ও অরিন্দম দাস বলেন, এতদিনে সারদা সংক্রান্ত শ্যামল সেন কমিশনের যাবতীয় রিপোর্ট প্রকাশ্যে এলে নতুন করে এই রিপোর্ট নিয়ে অগ্রসর হওয়া যাবে। এখন দেখার কবে এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসে।

  • ‘এই দিন পর্যন্ত সমাধান হলেও দিতে পারবেন ভোট’ জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট

    ‘এই দিন পর্যন্ত সমাধান হলেও দিতে পারবেন ভোট’ জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) শুরু হতে আর খুব বেশি দেরি নেই, এদিকে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আগে থেকেই মামলা চলছে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদেরও এই SIR প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছিল, ভোটার তালিকার তথ্যগত অসঙ্গতির ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বর্তমান এবং প্রাক্তন জুডিশিয়াল অফিসাররা। এবং রাজ্যকে তা পালন করতে হবে। এরই মধ্যে হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতি জানালেন যে, শুনানিতে (SIR Hearing) রাজ্যের বিবেচনাধীনের ভোটার তালিকায় থাকা আপাতত ১০ লক্ষ লোকের নিষ্পত্তি হয়েছে।

     ১০ লক্ষ ভোটারের শুনানির কাজ নিষ্পত্তি

    রিপোর্ট মোতাবেক আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে SIR সংক্রান্ত মূল মামলার শুনানি ছিল। সেখানে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জানান, এখনও পর্যন্ত বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ১০ লক্ষ লোকের নিষ্পত্তি হয়েছে। এই নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় যোগ দিয়েছেন আরও ২০০ জুডিশিয়াল অফিসার। এদিকে রাজ্যের আইনজীবি মেনকা গুরুস্বামী জানান, ‘মাত্র ৭ লক্ষ লোকের নিষ্পত্তি হয়েছে, এখনও বাকি ৫৭ লক্ষ’। এরপরই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, “ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন যে ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের শুনানির কাজ নিষ্পত্তি হয়েছে। জুডিশিয়াল অফিসারদের নিজেদের মতো করে কাজ করতে দিন। আপনারা সবকিছু জানেন না, কোথায় কী হচ্ছে আমরা জানি।’

    ভোট দেওয়া নিয়ে বিশেষ নির্দেশ আদালতের

    সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “সমস্ত বৈধ ভোটারদের তালিকায় যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই বিচার বিভাগ কাজ করছে। তবে এক্ষেত্রে কোনও জুডিশিয়াল অফিসারদের কর্মদক্ষতা নিয়ে যেন কোনও প্রশ্ন না ওঠে। যদি কেউ তা করে থাকেন তবে তাঁর দৃষ্টান্তমূলক জরিমানা করা হবে। যদি কোনও জুডিশিয়াল অফিসার মনে করেন কেউ বৈধ ভোটার নন, তাহলে তিনি ভোট দিতে পারবেন না। এমনকি ভোটের আগের দিন পর্যন্ত যদি কোনও ভোটারের সমস্যার সমাধান হয়ে যায় তবে তিনিও ভোট দিতে পারবেন।” এই নির্দেশের পর কোর্টে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী দাবি করেন যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জুডিশিয়াল অফিসারদের কাজ শেষ করা যাবে বলে মনে হচ্ছে না, আর সেই মন্তব্য শুনে পাল্টা জবাব দেন প্রধান বিচারপতি।

    আরও পড়ুন: একটু পরেই দক্ষিণবঙ্গের এই ৫ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি, বইবে ঝোড়ো হাওয়া

    রাজ্যের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, “আপনাদের কমিশনের কাছে আবেদন জুডিশিয়াল অফিসারদের ভোটারদের যে তালিকা রিভিউ করার জন্য দেওয়া হয়েছে সেটা প্রত্যাহার করা হোক। কারণ এটা আমাদের নির্দেশের পরিপন্থী’। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন যে, “দু’পক্ষের সততা নিয়ে আমরা এই মুহূর্তে সন্দিহান। তাই সেক্ষেত্রে দরকার পড়লে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের দিয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। তখন জুডিশিয়াল অফিসারদের নির্দেশের বিরুদ্ধে এই ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করা যাবে।”