Tag: Arabul Islam

  • দলবদলেই ক্যানিং পূর্বে ISF প্রার্থী হলেন আরাবুল ইসলাম

    দলবদলেই ক্যানিং পূর্বে ISF প্রার্থী হলেন আরাবুল ইসলাম

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে। একের পর এক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই ভোটের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। আর এই অবস্থায় দলবদল করে কপাল খুলল ভাঙড়ের প্রাক্তন বিধায়ক তথা ‘তাজা নেতা’ আরাবুল ইসলাম (Arabul Islam)। নিজের পছন্দ মত আসনে প্রার্থী হলেন আরাবুল। জানা গিয়েছে শওকত মোল্লার বিপরীতে ভাঙড় থেকে দাঁড়াতে চলেছেন তিনি। তুমুল উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছে আরাবুল ইসলামের অনুগামীদের মধ্যে।

    ভাঙর থেকে প্রার্থী হলেন আরাবুল!

    তৃণমূল ছেড়ে সম্প্রতি ISF-এ যোগ দিয়েছেন ভাঙড়ের প্রাক্তন বিধায়ক ‘তাজা নেতা’ আরাবুল ইসলাম। আর দলে যোগদান করতেই প্রত্যাশা মতোই তাঁকে ক্যানিং পূর্ব থেকে প্রার্থী করল ISF। আজ অর্থাৎ সোমবার ফুরফুরা শরিফ থেকে প্রথম দফা প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে ISF। প্রথম দফায় ২৩টি আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ISF-এর প্রার্থী তালিকায় ৩০ শতাংশেরও বেশি হিন্দু প্রার্থী রয়েছে। অন্যদিকে ISF বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়াই করার কথা বলেছিলেন। তবে চারটি আসন নিয়ে এখনও জটিলতা কাটেনি।

    ২৩ আসনের মধ্যে ISF এর হিন্দু প্রার্থী ঘোষণা

    আজ যে সমস্ত আসনে ISF প্রার্থী ঘোষণা করেছে সেগুলি হল- মালদার সুজাপুর, নদিয়ার পলাশিপাড়া ও চাপড়া, উত্তর ২৪ পরগনার বাদুরিয়া, অশোকনগর, আমডাঙ্গা, মধ্যমগ্রাম, দেগঙ্গা, হাড়োয়া ও বসিরহাট। এখনও পর্যন্ত ২৩ আসনের মধ্যে ISF এর হিন্দু প্রার্থী হলেন ৭ জন। এঁরা হলেন, অশোকনগরের প্রার্থী তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়, আমডাঙার বিশ্বজিৎ মাইতি, মধ্যমগ্রামের প্রাক্তন এসএফআই নেত্রী প্রিয়াঙ্কা বর্মন, ক্যানিং পশ্চিমে প্রবীর মণ্ডল, শালবনির পীযূষ হাঁসদা, বারাবনিতর বিশ্বজিৎ বাউড়ি এবং বোলপুরে অধ্যাপক বাপি সরেন।

    ভাঙরে শুধু হাড্ডাহাড্ডির লড়াই

    আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ক্যানিং পূর্বের বিদায়ী বিধায়ক শওকত মোল্লাকে ভাঙড় থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল তিনি ভাঙড়ে তৃণমূলের পর্যবেক্ষক থাকাকালীন বার বার আরাবুলের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়তেন, এখন সেই প্রতিপক্ষ হিসেবে নির্বাচনে লড়তে চলেছেন। অন্যদিকে ISF এর প্রার্থী হিসেবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপিতে আব্দুল মালেক মোল্লা, ক্যানিং পশ্চিমে প্রবীর মণ্ডল, ক্যানিং পূর্বে আরাবুল, মগরাহাট পশ্চিমে আব্দুল আজিজ আল হাসান এবং ভাঙড়ে নওশাদ দাঁড়াতে চলেছেন।

    আরও পড়ুন: শিয়ালদা-হাওড়া লাইনে সেতুর সংস্কার, ট্র্যাকে নতুন প্রযুক্তি, একগুচ্ছ পদক্ষেপ পূর্ব রেলের

    প্রসঙ্গত, ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে ISF এর সঙ্গেই জোট বাঁধল বাম। কিন্তু এখনও কাটেনি চারটি আসন নিয়ে জট! দীর্ঘদিন ধরেই বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট বাঁধার ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন নওশাদ। আজ শেষমুহূর্তে প্রার্থী তালিকা প্রকাশের কথা ছিল আইএসফের। কিন্তু নওশাদ জানালেন, একদিন সময় চেয়েছে বামেরা। সেই কারণেই আজ নয়, আগামিকাল তালিকা প্রকাশ করবেন তিনি। সাংবাদিকদের কাছে বিধায়ক জানিয়ে দেন, “সাত মাস বামেদের সঙ্গে জোট নিয়ে আলোচনা চলেছে। আজ একদিন অপেক্ষা করলাম। প্রার্থী তালিকা আজ ঘোষণা করলাম না।”

  • তৃণমূল ছাড়লেন আরাবুল ইসলাম, কোন দলে যোগ দিচ্ছেন? ভাঙড়ে নতুন সমীকরণ

    তৃণমূল ছাড়লেন আরাবুল ইসলাম, কোন দলে যোগ দিচ্ছেন? ভাঙড়ে নতুন সমীকরণ

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের (West Bengal Election 2026) নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল অর্থাৎ রবিবার নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গে দুদফায় ভোটের দিন ঘোষণা করেছে। আগামী ২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল রাজ্যে ভোট গ্রহণ হবে। এদিকে সেই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন ভাঙড়ের পরিচিত নেতা আরাবুল ইসলাম (Arabul Islam Quits Trinamool Congress)। প্রশ্ন উঠছে এবার কি তবে ISF-এ যোগ দেবেন তৃণমূলের এই দাপুটে নেতা।

    কী বলছেন আরাবুল ইসলাম?

    আজ, সোমবার সকালে হুগলির ফুরফুরা শরিফের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে আরাবুল ইসলাম বলেন, “সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় থেকে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকেছি। যে দলের জন্য এত কিছু করেছি, সেই দল আমাকে চিনতে পারল না। পাঁচবার জেলে গিয়েছি। তিন বার দল থেকে সাসপেন্ড হয়েছি। কোনো মর্ম বুঝল না, তাই দুঃখে তৃণমূল ছাড়ছি।” আরাবুলের দলত্যাগের পরেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে এবার তিনি কোন দলে যোগ দেবেন। অনেকেই জানাচ্ছেন, আরাবুল ISF-এ যোগ দিতে পারেন বলে জল্পনা ছড়িয়েছে। তবে, এখনও আরাবুল কোনও মন্তব্য করেননি।

    ভাঙড়ে তৃণমূলে বড়সড় ক্ষতি

    দীর্ঘদিন ধরেই ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লার সঙ্গে আরাবুল ইসলামের সম্পর্ক নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে টানাপড়েন চলছিল। দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে একাধিকবার তাঁকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দলের বিভিন্ন কর্মসূচি থেকেও তাঁকে দূরে থাকতে দেখা গিয়েছে। ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভাঙড় তৃণমূলের বড়সড় ক্ষতি হতে পারে। অনুগামীরা জানান যদি দলবদল করেন, তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোট তহবিলে ধস নামতে পারে।

    আরও পড়ুন: বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়? সমাজমাধ্যমে ছড়াল জল্পনা

    প্রসঙ্গত, আরাবুল ইসলামকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন কিছু নয়। ২০২৪ সালে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের এক কর্মীকে খুনের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল উত্তর কাশীপুর থানার পুলিশ। সেখানে প্রায় সাত মাস কারাবন্দি থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এখানেই শেষ নয়, এরপর তৃণমূলের আরেক নেতা শওকত মোল্লার সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। এমনকি আরাবুলের উপর হামলার অভিযোগও ওঠে শওকতের বিরুদ্ধে। তখন খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন আরাবুল। এখন দেখার তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান কোন দিকে মোড় নেয়।