Tag: Amit Shah

  • ৫৩২ থেকে বেড়ে ৮১৬ হবে লোকসভার আসন, মহিলাদের জন্য থাকবে ২৭৩টি! বড় খবর

    ৫৩২ থেকে বেড়ে ৮১৬ হবে লোকসভার আসন, মহিলাদের জন্য থাকবে ২৭৩টি! বড় খবর

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নারী শক্তি বন্দন অধীনিয়ম বা নারী সংরক্ষণের আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে এবার এক মাস্টার প্ল্যান তৈরি করল কেন্দ্র। সমস্ত জল্পনা সত্যি করে এবার লোকসভা কেন্দ্রগুলির আসন (Lok Sabha Seat) সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে এই সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু করতে চাইছে নরেন্দ্র মোদী সরকার (Government of India)। এমনকি নারীদের জন্য থাকবে আলাদা সংরক্ষিত আসন। সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একটি সর্বদলীয় বৈঠকে খসড়া প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে বলেই সূত্র মারফৎ খবর।

    এবার আসন সংখ্যার টার্গেট ৮১৬

    উক্ত বৈঠকে জানা গিয়েছে, ২০১১ সালের জনগণনার উপর ভিত্তি করে লোকসভার বর্তমান ৫৩২টি আসন বাড়িয়ে এবার ৮১৬টি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, আসন সংখ্যা এবার ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। আর এই বর্ধিত আসন সংখ্যার মধ্যে আনুমানিক এক তৃতীয়াংশ বা ২৭৩টি আসন নারীদের জন্যই সংরক্ষিত থাকবে।

    তবে এক্ষেত্রে বলে রাখি, সাধারণত নতুন জনগণনা এবং তার পরবর্তী সীমানা পুনঃনির্ধারণ প্রক্রিয়ার পরেই নারী সংরক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে ২০২৯ সালের আগে নতুন করে জনগণনা সম্পন্ন হওয়া একেবারে অনিশ্চিত, এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের। সেই কারণে সরকার চাইছে ২০১১ সালের ডেটা ব্যবহার করেই এখনই আসন সংখ্যা বাড়াতে। তবে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির দীর্ঘদিনের ভয় ছিল যে জনসংখ্যা কম থাকার কারণে তাদের আসন কমে যাবে। কিন্তু সরকারের নতুন প্রস্তাবে প্রতিটি রাজ্যের বর্তমান আসনের অনুপাত এবার একই রাখা হবে।

    উত্তরপ্রদেশে বাড়বে আসন

    এদিকে নতুন ফর্মুলা কার্যকর হলে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলির আসন সংখ্যা অনেকটাই বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ বলতে পারি, উত্তরপ্রদেশে লোকসভা আসন ৮০ থেকে বেড়ে এবার ১২০ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে বৈঠকে উপস্থিত এক সাংসদ জানিয়েছেন যে, কোন আসনটি নারীদের জন্য সংরক্ষিত হবে তা লটারি পদ্ধতির মাধ্যমে ঠিক করা হবে। আর প্রতি তিনটি আসনের মধ্যে একটি আসন মহিলাদের জন্য বরাদ্দ থাকতে পারে। কিন্তু হ্যাঁ, এই আসনগুলি স্থায়ীভাবে নাকি রোটেশন ভাবে পরিবর্তিত হবে সে বিষয়ে এখনো পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

    আরও পড়ুন: পাকিস্তানে গুপ্তচরবৃত্তির জন্য গ্রেফতার ভারতীয় বায়ুসেনার এক বেসামরিক কর্মী

    এমনকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইতিমধ্যে বিজেডি, এনসিপি বা শারদ পাওয়ার, শিবসেনার মতো বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আর খুব শীঘ্রই কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস সহ অন্যান্য দলের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। মনে করা হচ্ছে, এই ঐতিহাসিক সংশোধনের বিলটি যদি পাস করা হয়, তাহলে সংসদদের বর্তমান অধিবেশনের মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে।

  • India Hood Decode: মিশন বেঙ্গল! মমতার ঘুম উড়িয়ে দেবে বিজেপির এই ৭ মাস্টারস্ট্রোক

    India Hood Decode: মিশন বেঙ্গল! মমতার ঘুম উড়িয়ে দেবে বিজেপির এই ৭ মাস্টারস্ট্রোক

    “লক্ষীর ভাণ্ডার”-এর বদলে “লাখপতি দিদি”,
    “যুব সাথী”-র বদলে “উৎসাহ ভাতা”,
    “জয় শ্রী রাম”-এর বদলে “জয় মা কালী”

    এবার বাংলা জয় করতে এক বা দুই নয়, একেবারে ৭ দফা নীতি প্রয়োগ করল বিজেপি (BJP)। নেওয়া হল এমন সিদ্ধান্ত, যার ফলে পায়ের তলার মাটিই সরে যাবে তৃণমূল কংগ্রেসের। একদিকে মজবুত হবে বিজেপি-র জমি, বাড়বে ভোটব্যাঙ্ক, তেমনই অন্যদিকে নিঃশব্দে তিলে তিলে শেষ হবে TMC। একদিকে করা হবে বাংলার মা-বোনেদের বিশ্বাস অর্জন, তেমনই অন্যদিকে ভাতা দিয়ে নয়, যোগ্য করে কর্মসংস্থান দেওয়া হবে বাংলার প্রত্যেক

    চলুন, আজ India Hood ডিকোড-এ আমরা তুলে ধরবো এক এক করে BJP-র এমন সাতটি মাস্টারপ্ল্যান, যা আগে কোনোদিন বাংলায় প্রয়োগ করেনি বঙ্গ বিজেপি! তাই ধৈর্য ধরে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

    একদিকে SIR, তো অন্যদিকে হাইকোর্টের রায়!

    একদিকে SIR, তো অন্যদিকে CAA-র বিশেষ কমিটি, আবার ভোটের আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনী, তার ওপর হাইকোর্টে রায় – একপ্রকার নাজেহাল অবস্থাতেই রয়েছে বাংলার তৃণমূল সরকার। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই এক চুলও জমি ছাড়তে নারাজ বিজেপি। আর তাই এবার বাংলা জয় করতে সাতটি নয়া পদক্ষেপ নিল বিজেপি।

    প্রথম পদক্ষেপ – লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বিকল্প লাখপতি দিদি!

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটা বিশাল মাস্টারস্ট্রোক সে কথা মানতেই হবে। আর এবার ভোটের আগে সেই টাকা আরও ৫০০ করে বাড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যে বড় দাঁও মেরেছেন সেটাও অনস্বীকার্য।

    আর তাই এবার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালেই বাংলায় মাত দিতে চলেছে বিজেপি-র নেতৃত্বরা। এবার ভারতীয় জনতা পার্টি দাবি করেছে, তারা ক্ষমতায় এলে এই অনুদান বাড়িয়ে সরাসরি ৩ হাজার টাকা করা হবে। এই একই ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে সুকান্ত মজুমদাররা!

    অন্যদিকে, চালু করা হবে মোদী সরকারের একটি জনপ্রিয় এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প “লাখপতি দিদি”! যেখানে মেয়েদের স্বনির্ভর হওয়ার জন্য, নিজেদের ব্যবসা করার জন্য ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বাজেট ২০২৬-এ নারী ও লাখপতি দিদিদের জন্য C-Mart প্রকল্প শুরু করার কথা বলেছেন। যেখানে সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী লাখপতি দিদি প্রকল্পকে আরও সম্প্রসারণের ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, লাখপতি দিদিদের পণ্য বিক্রির জন্য দেশজুড়ে আরও রিটেল আউটলেট খোলা হবে। এর মাধ্যমে নারীরা সরাসরি বাজারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্থায়ী আয় বাড়াতে পারবেন।

    আর এই গেম যে বিজেপির জন্য বড়সড় গেমচেঞ্জার হতে পারে সে কথা বলাই বাহুল্য।

    দ্বিতীয় পদক্ষেপ – যুব সাথীর বিকল্প ‘উৎসাহ ভাতা’!

    এবার ভোটের আগে যুব সমাজকে নিজেদের দিকে টানার জন্য আর এক মাস্টারস্ট্রোক হিসাবে যুব সাথী প্রকল্প চালু করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের বেকার যুবক এবং যুবতীদের মাসে ১,৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। আর এর ফলে যে বেকার যুবক-যুবতীদের ভোট তৃনমূলের ঢুকবে এটাই স্বাভাবিক।

    কিন্তু, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো এবার যুব সাথীর বিকল্প নিয়েও তৈরি বিজেপি। নাম ‘উৎসাহ ভাতা’। বছরে দেওয়া হবে ২৫ হাজার টাকা করে! তবে, নামে ভাতা থাকলেও দান খয়রাতি কিংবা ভাতা হিসাবে এই টাকা দেওয়া হবে না। বরং ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকারদের দক্ষতা প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য এই টাকা দেওয়া হবে। তবে, প্রশিক্ষণ মাঝপথে ছেড়ে দিলেই বন্ধ হয়ে যাবে ভাতা। বিজেপির উদ্দেশ্য স্পষ্ট—“শুধু ভাতা নয়, চাই দক্ষতা… চাই কর্মসংস্থান।”তাই প্রশিক্ষিত যুবশক্তি তৈরি করে শিল্প ও বিনিয়োগ টানাই তাদের লক্ষ্য।

    তবে, শুধু তাই নয়, বাংলার যুব সমাজের জন্য পাঁচ বছরে এক কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতিও রয়েছে বিজেপির ইস্তেহারে।

    তৃতীয় পদক্ষেপ – ‘জয় শ্রী রাম’ শ্লোগান বদলে গেল ‘জয় মা কালী’-তে

    আমরা বিজেপি বলতেই বুঝি – “জয় শ্রী রাম”। কিন্তু, গত কয়েক বছরে এই শ্লোগানে যে শিকে ছেঁড়েনি তা দেখে নিয়েছে বিজেপি-র নেতৃত্বরা! আর তাই এবার পুরো ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে মা কালীতে ভরসা রাখলেন মোদী-শমীকরা।

    হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন। আর এই কথা আমরা বলছি না। এই কথা শোনা যাচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বদের মন্তব্যেই!

    দিনটা ১৭ই জানুয়ারি। ভোটের আগে মালদার বুকে দাঁড়িয়ে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। আর সেদিনই নিজের ভাষণের মাঝে উঠে আসে “জয় মা হ্যান্টা কালী” ধ্বনী।

    এরপরেই সম্প্রতি বাংলা বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের উদ্দেশে খোলা চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লেখেন “জয় মা কালী”!

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বিজেপির “জয় শ্রী রাম” মন্ত্র মূলত উত্তর ও পশ্চিম ভারতের রাজ্যগুলিতে বেশি সাড়া ফেলেছিল। আবার ওড়িশায় ভোটের আগে যেমন ‘জয় জগন্নাথ’ সাড়া ফেলেছিল। তাই এবার বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘জয় মা কালী’ দিয়ে নিজেদের নতুন করে মেলে ধরতে চাইছে বিজেপি।

    চতুর্থ পদক্ষেপ – উত্তরবঙ্গের জন্য একাধিক প্যাকেজ

    লোকসভা নির্বাচন হোক কিংবা বিধানসভা নির্বাচন, পশ্চিমবঙ্গে উত্তরবঙ্গ বরাবরই বিজেপি-র একটি শক্ত ঘাঁটি। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেখানে প্রচুর ভুয়ো ভোটার এবং অনুপ্রবেশকারীদের ঢুকিয়ে ভোটকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে তৃণমূল, এমন দাবী করা হচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বের তরফ থেকে।

    আর সে কথা যে ঠিক তা হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া গেল, SIR-এর খসড়া তালিকা প্রকাশ হতেই। কারণ সারা বাংলায় যেখানে SIR-এর খসড়া তালিকায় বাদ গিয়েছে প্রায় ৫৮ লক্ষের নাম, সেখানেই শুধুমাত্র উত্তর বঙ্গ থেকে বাদ গিয়েছে প্রায় ৯ লক্ষ ৩৪ হাজার ৭২২ জনের নাম। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ। এই সংখ্যা চূড়ান্ত তালিকা বেরোলে যে আরও বাড়বে তা বলাই বাহুল্য।

    তাই, একদিকে যেমন ভুয়ো ভোটার ছাঁটছে SIR, তেমনই অন্যদিকে এবার নিজেদের জমি শক্ত করার লক্ষ্যে – ৫০ লক্ষ পরিবারের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছে বিজেপি। শুরু করেছে গৃহ সম্পর্ক অভিযান। বের করতে চাইছে শিলিগুড়ি থেকে কোচবিহার পর্যন্ত রথযাত্রা।

    এছাড়াও,  উত্তরবঙ্গের জন্য একটি AIIMS, একটি IIT, একটি ম্যানেজমেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যানসার গবেষণা কেন্দ্র চালু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবারের ইস্তেহারে।

    পঞ্চম পদক্ষেপ – CPIM-এর ভোটব্যাঙ্ক কবজা!

    এবারের বিধানসভা নির্বাচন হবে হাড্ডাহাড্ডি! কারণ একদিকে সিপিআইএম ছেড়ে তৃনমূলে যোগ দিয়ে ইতিমধ্যেই বাংলা কাঁপাচ্ছেন প্রতীক উর রহমান, আবার অন্যদিকে হুমায়ুন কবীরের সাথে লুকিয়ে বৈঠক করছেন সিপিআইএম নেতা মহম্মদ সেলিম।

    তাই সিপিআইএম-এর জনপ্রিয়তা কমুক কিংবা বাড়ুক, কিন্তু তাদের ভোটব্যাঙ্ক যা বিজেপিতে এসেছে গত কয়েক বছর ধরে তা যেন হাতছাড়া না হয় – এবার জেলা সভাপতিদের উদ্দেশ্যে সেই ফরমানই জারি করেছে রাজ্য নেতৃত্ব! জানিয়েছে, সিপিএম থেকে আসা ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতেই হবে। তার জন্য নীচুতলায় নিবিড় যোগাযোগ বাড়াতে হবে। কোনও অবস্থাতেই সিপিএমের ভোটব্যাঙ্ক ফিরে যেন না যায়।

    কারণ তথ্য বলছে, ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে CPIM-এর ভোটের শেয়ার ছিল ১৯.৮ শতাংশ আর BJP-র মাত্র ১০.২ শতাংশ। আর ২০২১ সালে এই পরিমাণটা কত হয়েছে জানেন? CPIM পেয়েছে মাত্র ৪.৭৩ শতাংশ ভোট আর BJP ৩৮.১৩ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ, কেন এই ফরমান জারি করা হয়েছে তা এই সংখ্যা থেকেই স্পষ্ট তাই নয় কি?

    ষষ্ঠ পদক্ষেপ – মাঠে নামছে “মহিলা বিস্তারক”

    গত বারের ভুল ত্রুটি যাতে আর না হয়, এবার সেই লক্ষ্যে শুধু নেতাদের নয় নেত্রীদেরও  বাংলায় নামাচ্ছে বিজেপি। তাও আবার ভিনরাজ্য থেকে এনে। হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন, এবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং উত্তরপ্রদেশের মহিলা ব্রিগেড আনছে বিজেপি।

    শুধু আসছে তাই নয়, কৌশলগতভাবে যে সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে বিজেপি-র জেতার সম্ভাবনা রয়েছে সেই সমস্ত জায়গাগুলিতে ঘুরে ঘুরে কাজ করবে ও প্রচার চালাবেন এই মহিলারা। পাশাপাশি মেয়েদের নিরাপত্তা, বিজেপি শাসিত অন্যান্য রাজ্যের মেয়েরা কীভাবে উন্নতি করছে – সেই সবকিছুই তারা তুলে ধরবে। আর সেই লক্ষ্যে প্রতিটি বিধানসভা পিছু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিনজন করে নেত্রীকে। আর ইতিমধ্যেই তাঁরা নাকি ঘুরে ঘুরে কাজও শুরু করে দিয়েছেন।

    সপ্তম পদক্ষেপ – পরিবর্তন যাত্রা!

    সালটা ২০২১। বঙ্গে ক্ষমতায় আসার জন্য বিজেপি চালু করেছিল ‘যোগদান মেলা’। যেখানে তৃণমূল-বাম-কংগ্রেসের নেতাকর্মীদের বিজেপি-তে গণযোগদানের আয়োজন করা হয়েছিল। রাজ্যের নানা প্রান্তে সে ‘মেলা’ হয়েছিল।

    আর এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির হাতিয়ার ‘নেতার মেলা’। কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক নাম ‘পরিবর্তন যাত্রা’। আর সেই উপলক্ষে আগামী ১লা এবং ২রা মার্চ একসঙ্গে এত হেভিওয়েট বিজেপি নেতা-মন্ত্রীরা পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন, তেমনটা আগে কখনও দেখেনি বাংলা!

    যেমন ধরুন রায়দিঘি থেকে ১লা মার্চ ‘পরিবর্তন যাত্রা’-র সূচনা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা দলের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। ওইদিন নদিয়ার কৃষ্ণনগর থেকে ‘যাত্রা’-র উদ্বোধন করলেন আর এক প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎপ্রকাশ নড্ডা। ২রা মার্চ হাওড়ার আমতায় ‘যাত্রা’-র উদ্বোধন করলেন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ।

    বিজেপির বর্তমান সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনও ওই উদ্বোধন পর্বের দু’দিনই রাজ্যে ছিলেন। তবে দু’দিনই তিনি ছিলেন উত্তরবঙ্গে। প্রথম দিন তিনি কোচবিহার শহর থেকে একটি ‘যাত্রা’-র উদ্বোধন করেছেন। পরের দিন উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর থেকে আর একটির উদ্বোধন করলেন

    ১লা মার্চ পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা থেকে ‘যাত্রা’ উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। একই দিনে আসানসোলের কুলটি থেকে আর একটি ‘যাত্রা’র উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী। ২রা মার্চ বীরভূমে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র উদ্বোধনে ছিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস। আর গত কয়েক বছরে রাজ্য রাজনীতিতে বহুচর্চিত সন্দেশখালি থেকে ওই দিনই আর একটি ‘যাত্রা’-র উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান।

    অর্থাৎ এক নয়, দুই নয় – একসাথে সাতটি মাস্টারস্ট্রোক নিয়ে হাজির বিজেপি। আপনার কি মনে হয় এই প্ল্যানে কি বাংলা জয় করতে পারবে বিজেপি? জানাতে ভুলবেন না আপনার মতামত কমেন্ট করে।

  • DA থেকে সপ্তম পে কমিশন, শাহের ওপর আস্থা? জানালেন পশ্চিমবঙ্গ সরকাররের কর্মীরা

    DA থেকে সপ্তম পে কমিশন, শাহের ওপর আস্থা? জানালেন পশ্চিমবঙ্গ সরকাররের কর্মীরা

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বাংলায় বিধানসভা ভোটের মুখে প্রতিশ্রুতির বন্যা বইছে সকলের জন্য। ইতিমধ্যে ভোটকে নজরে রেখে পশ্চিমবঙ্গ সরকার লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা বৃদ্ধি, বেকার ভাতার আওতায় ১৫০০ টাকা, ৪ শতাংশ ডিএ (Dearness allowance) বৃদ্ধি, সপ্তম বেতন পে কমিশনের ঘোষণা করেছে। অপরদিকে সম্প্রতি বাংলা সফরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছেন, বাংলায় বিজেপি সরকার গড়ল ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন পে কমিশন (7th Pay Commission) লাগু করা হবে। এতকিছু প্রতিশ্রুতির মধ্যে এখন প্রশ্ন উঠছে, বাংলার সরকারি কর্মীরা এসবের ওপর বিশ্বাস রাখতে পারছেন? সেই নিয়েই এবার মুখ খুললেন বকেয়া মহার্ঘ ভাতা আদায়ের আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ ও কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ-এর সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় (Malay Mukherjee)।

    অমিত শাহের প্রতিশ্রুতিতে আস্থা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীদের?

    অনেকেই ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, DA, পেনশন, বেতন বৃদ্ধি নিয়ে অমিত শাহের কথার ওপর আস্থা রাখতে পারবেন বাংলার সরকারি কর্মীরা? কারণ দীর্ঘ বিগত কয়েক বছর ধরে পঞ্চম বেতন পে কমিশনের আওতায় বকেয়া ডিএ মামলা নিয়ে লড়াই চলছে। আর এই লড়াইয়ে আংশিক জয়ও পেয়েছেন সকলে। আগামী ৩১ মার্চ, ২০২৬-এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সরকারি কর্মীদের বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এসবের মধ্যেই মলয় মুখোপাধ্যায়ের আশঙ্কা, ভোটের পর তৃণমূল সরকার পুনরায় নির্বাচিত হলে পেনশন বন্ধ করে দিতে পারে। অমিত শাহের করা মন্তব্য প্রসঙ্গে মলয়বাবু জানান, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখ দিয়ে একটা কথা বের হওয়া মানে সেটাকে একদম অবিশ্বাস আমরা করতে পারি না বা করছিও না।’

    ২০৩০ সালে লাগু হবে সপ্তম বেতন পে কমিশন!

    মুখ্যমন্ত্রীর করা সপ্তম বেতন কমিশন প্রসঙ্গে মলয় মুখোপাধ্যায় জানান, ‘বর্তমান সরকার যদি আবার আসে তাহলে এই সপ্তম বেতন পে কমিশন ২০৩০ সালে লাগু হবে। মুখ্যমন্ত্রী এসে অনেক কথাই বলেছিল। তাঁর যে প্রতিশ্রুতি কতটা ফেক তা কর্মচারী সমাজ হারে হারে টের পাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন যে বাম আমলে যে যে বঞ্চনা হয়েছিল তা তাঁরা এসে ঠিক করে দেবেন। কিন্তু সেটা একদম মিথ্যে প্রতিশ্রুতি ছিল। এখানে শুধু দুর্নীতি আর দুর্নীতি। আর এসব করেই দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রাজত্ব করছে বর্তমান সরকার। তবে এই যে মাননীয় অমিত শাহের বক্তব্য এটা যদি সত্যি সত্যি লাগু হয় তাহলে ১০০ শতাংশ সরকারি কর্মচারীরা অনেক উপকৃত হবে, যেটা বর্তমান সরকার থাকলে আমরা পেতাম না।’

    আরও পড়ুনঃ দ্বিতীয় বা তৃতীয় সন্তানের জন্ম দিলেই ২৫,০০০ টাকা দেবে রাজ্য সরকার! কবে থেকে?

    অমিত শাহ বলেছেন ৪৫ দিনের মধ্যে পে কমিশন লাগু হবে। যদিও মলয় মুখোপাধ্যায় অন্য কথা বলছেন। তিনি জানান, ‘আমার মনে হয় মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই বেতন কমিশনের বিস্তারিত তথ্য জানেন না। তবুও তাঁর মুখ থেকে ওই কথাটা বলা মানে কিন্তু বড় বিষয়।’

  • মতুয়া আবেদন বাড়তেই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত! বাংলায় ২ অতিরিক্ত কমিটি গঠন মন্ত্রকের

    মতুয়া আবেদন বাড়তেই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত! বাংলায় ২ অতিরিক্ত কমিটি গঠন মন্ত্রকের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এখনও ঘোষিত হয়নি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ, কিন্তু তার আগেই যেন রাজ্য জুড়ে বেজে গিয়েছে ভোটের দামামা। জেলায় জেলায় প্রচার শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলি। জনসংযোগ বৃদ্ধিতে মরিয়া সকলেই। তার উপর কিছুদিন আগেই SIR এর প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাই নিয়ে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে একাধিক জেলায়। আর এই অবস্থায় নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে রাজ্যে আরও ২ কমিটি গঠনের (Two More CAA Committees) সিদ্ধান্ত নিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

    ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে রাজ্যে কমিটি গঠন

    উল্লেখ্য, গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার জানিয়েছিল, ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী সমস্ত ভারতীয় নাগরিকদের নাম নথিভুক্ত করা এবং যাঁরা নথিভুক্ত করেছেন তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করা বাধ্যতামূলক করা হবে। এরপরই তা বাস্তবায়িত করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক গত ২০ ফেব্রুয়ারি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। যেখানে বলা হয় ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি ‘এমপাওয়ার্ড’ কমিটি গঠন করা হবে। আর এবার ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে আবেদনের বিষয়ে আরও ২ কমিটি গঠন করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

    বাড়তি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত মন্ত্রকের

    SIR পর্বে খসড়া ভোটার তালিকায় বহু মতুয়া, উদ্বাস্তুর নাম বাদ গিয়েছিল। যার জেরে প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন বঙ্গ বিজেপির নেতারা। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর আরও বেড়েছে মতুয়াদের উদ্বেগ। তাই মতুয়াদের নাম বাদ যাওয়ার ভয় দূর করতে রাজ্যে ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন এবং ২০০৯ সালের নাগরিকত্ব বিধি মেনে আগেই ২টি কমিটি গড়ে তুলেছিল শাহের মন্ত্রক। কিন্তু সেখানে মতুয়াদের প্রচুর সংখ্যক আবেদন আসায় ব্যাপক চাপের মুখে পরে কমিটি। তাই বাধ্য হয়ে আবেদন প্রক্রিয়া ঠিকভাবে যাচাই করতে বাড়তি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

    আরও পড়ুন: ভোটের আগে উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গে ভারী বুটের আওয়াজ, কোথায় এল কত কেন্দ্রীয় বাহিনী?

    প্রসঙ্গত, রাজ্যে নিবার্চনের আবহে SIR নিয়ে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েই চলেছে। তার উপর CAA-তে প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব এখনও মেলেনি বহু মানুষের। এর ফলে দুই প্রক্রিয়া নিয়ে মহাবিতর্ক তৈরি হয়। অনেক জায়গায় শোনা যাচ্ছে CAA-তে নাগরিকত্ব না মেলায় অনেকের নাম SIR-এ বাদ যেতে পারে। সেই কারণে মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু মানুষ দুশ্চিন্তার মুখে পড়েছে এবং ক্ষোভ-বিক্ষোভও দেখা গেছে। সেক্ষেত্রে তাই ক্ষোভ প্রশমন ও আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি করতে কমিটির সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সুদূর প্রসারী বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

  • ‘পরিবর্তন যাত্রা’র মঞ্চে বড় চমক! সাংবাদিকতা ছেড়ে বিজেপিতে সন্তু পান

    ‘পরিবর্তন যাত্রা’র মঞ্চে বড় চমক! সাংবাদিকতা ছেড়ে বিজেপিতে সন্তু পান

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে বঙ্গ রাজনীতিতে একের পর এক চমক দেখছে রাজ্যবাসী। কোথাও নির্বাচনের প্রাক্কালে বিজেপির মন্ত্রী সবুজ পতাকা ধরছে তো কোথাও আবার তৃণমূল ছেড়ে অনেক মন্ত্রী বিজেপিতে যোগ দিচ্ছে, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। এমতাবস্থায় ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু করেছে বিজেপি। আজও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে আয়োজিত হয়েছে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’র কর্মসূচি। উপস্থিত হয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ একাধিক বিজেপি নেতা। আর এই কর্মসূচির মাঝেই সাংবাদিকতা ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখালেন সন্তু পান (Santu Pan Joins BJP)।

    বিজেপিতে যোগ সন্তু পানের

    রিপোর্ট মোতাবেক, আজ অর্থাৎ সোমবার, মথুরাপুরের বাপুলিবাজার সংলগ্ন ভগবতীপুর মাঠে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার সূচনায় যখন অমিত শাহ সহ একাধিক নেতা একের পর বক্তব্য পেশ করছিলেন আর সেই সময় এক বড় চমক দেখা গেল অনুষ্ঠানের মঞ্চে। রিপাবলিক বাংলার জনপ্রিয় সাংবাদিক সন্তু পান এবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাত ধরে যোগ দিলেন বিজেপি শিবিরে। তুলে নিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির পতাকা। ইতিমধ্যে সেই ছবি বেশ ভাইরাল। যদিও সাংবাদিক সন্তু পান এদিন তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই খবর প্রকাশ্যে এনেছেন। তিনি লিখেছেন, “প্রত্যেকটা জার্নি শেষ হয় নতুন উদ্যমে নতুন জার্নির প্রস্তুতি হিসেবে৷ রিপাবলিক বাংলা ছাড়লাম। এবার মথুরার ছেলেটি পথ নির্দেশ দেবেন। নতুন কর্মের দিশা দেবেন।”

    শক্তিপ্রদর্শন করে চলেছে বিজেপি

    উল্লেখ্য, রেশন দুর্নীতির তদন্তে ইডি যখন সন্দেশখালিতে পা রেখেছিল, সেদিনই রিপোর্টিং করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন সন্তু পান। খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল সেই তথ্য। পরে তাঁকেই গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। আর সেই নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল সাংবাদিকদের তরফে। এমনকি রাজ্য প্রশাসনের সাংবাদিকের গ্রেফতারিরও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সন্দেশখালির বাসিন্দারা। আর এবার সেই সাংবাদিকই যোগ দিলেন বিজেপিতে। কিছুদিন আগেই জলপাইগুড়ি উত্তরবঙ্গের অ্যাথলিট কন্যা স্বপ্না বর্মন যোগ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসে, এছাড়াও কার্শিয়াংয়ের বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন, যা নিয়ে শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক চর্চা।

    আরও পড়ুন: ‘ভাইপো শাসন চলবে না’— মথুরাপুরে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় তৃণমূলকে নিশানা অমিতের

    প্রসঙ্গত, সামনেই বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। তাই তার আগে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে রাজ্যজুড়ে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু করেছে বিজেপিতে। যেখানে একাধিক কেন্দ্রের নেতা-মন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সেই সভাতে যোগ দিতেই এদিন মথুরাপুর আসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আর সেখান থেকে শিক্ষক দুর্নীতি-সহ একাধিক ইস্যুতে তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ শানাচ্ছেন তিনি। এখন দেখার বিধানসভা নির্বাচনের ময়দানে কোন দল এগিয়ে থাকে।

  • ‘ভাইপো শাসন চলবে না’ মথুরাপুরে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় তৃণমূলকে নিশানা অমিতের

    ‘ভাইপো শাসন চলবে না’ মথুরাপুরে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় তৃণমূলকে নিশানা অমিতের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা এখনও বাকি ৷ কিন্তু তার আগেই জনসংযোগ বৃদ্ধিতে ময়দানে নেমেছে শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধীরা। তৃণমূল কংগ্রেস একদিকে যখন উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে সাধারণের দোরে দোরে তখন রাজ্যে পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করতে নেমেছে বিরোধী দল বিজেপি। আজ, সোমবার পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)৷ এদিনের মঞ্চ থেকে আবারও শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে জোরাল হুঁশিয়ারি দিলেন অমিত শাহ৷

    মথুরাপুরে অমিত শাহ

    রিপোর্ট অনুযায়ী, বিজেপির পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে আজ অর্থাৎ সোমবার, মথুরাপুরের বাপুলিবাজার সংলগ্ন ভগবতীপুর মাঠে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার সূচনায় যোগ দিলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দুপুর ৩ টে ৫ মিনিট নাগাদ শাহের হেলিকপ্টার মথুরাপুরের আসেন। তাঁকে দেখে কর্মীদের উচ্ছ্বাস যেন আরও বেড়ে গিয়েছিল। মঞ্চে উপস্থিত হয়ে বক্তৃতা দিতে গিয়ে অমিত শাহ এদিন শুরুতেই তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “রাজ্যের ৯ জায়গা থেকে পরিবর্তন যাত্রা হচ্ছে। আরও একটা ধাক্কা দিতে হবে। তৃণমূলকে বিদায় করতে হবে। এখন তৃণমূল সরকার তলানিতে পৌঁছে দিয়েছে উন্নয়নকে। নতুন সরকার গড়তে হবে। একমাত্র বিজেপিই গড়তে পারে সোনার বাংলা।”

    অভিষেককে আক্রমণ অমিতের

    মথুরাপুরের বাপুলিবাজার সংলগ্ন ভগবতীপুর মাঠে অমিত শাহ এদিন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “সারা দেশে পরিবারতন্ত্র চলছে। এটা শেষ করতে হবে। এরাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী বানাতে চান। তাই সেক্ষেত্রে তৃণমূল এবার ক্ষমতায় আসলে ভাইপো শাসক হবে। আপনারা কি ভাইপোর শাসন চান? প্রশ্ন তোলেন অমিত শাহ।” এদিন জনসমক্ষে ভাইপোর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি চলছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন অমিত শাহ।

    আরও পড়ুন: ‘পরিবর্তন যাত্রা’র পর মোদীর ব্রিগেড সমাবেশ, দিনক্ষণ জানিয়ে দিল বিজেপি

    তৃণমূলকে জোরাল হুঁশিয়ারি অমিতের

    অমিত শাহ বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’র অনুষ্ঠানে জানান, “বাংলা থেকে ‘ভ্রষ্টাচার’ বন্ধ করা । সিন্ডিকেট বন্ধ করা। সীমান্ত সুরক্ষিত করা। মহিলাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আর তাই তৃণমূল কংগ্রেসকে সরিয়ে বিজেপির সরকার আনতে হবে।” এদিকে এই অনুষ্ঠান উদ্বোধন করার আগেও সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করে তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছিলেন। তিনি লেখেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের কুশাসনে বিপর্যস্ত বাংলার জনগণ এখন পরিবর্তন চাইছে। এই জনসঙ্কল্পকে আরও শক্তিশালী ও মুখর করে তুলতে বাংলার বিজেপি ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু করেছে। এই যাত্রার মাধ্যমে বিজেপির কর্মীরা রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে ‘অনুপ্রবেশমুক্ত বাংলা’র অঙ্গীকার পৌঁছে দেবেন।”