Tag: America

  • ইরান-ইজরায়েল নয়, যুদ্ধে সবচেয়ে বড় ক্ষতি ভারতের!

    ইরান-ইজরায়েল নয়, যুদ্ধে সবচেয়ে বড় ক্ষতি ভারতের!

    একবার ভাবুন তো, যদি বলি – আমেরিকা, ইজরায়েল আর ইরানের যুদ্ধে সবথেকে বেশি ক্ষতি ভারতের (India) – বিশ্বাস করবেন?

    হয়তো না।

    কিন্তু সম্প্রতি, যুদ্ধের শুরুতেই উঠে এসেছে এমন কিছু তথ্য, যা শুনলে চোখ কপালে উঠবে আপনারও! অবস্থা এমন হয়েছে, যে যুদ্ধ না থামলে ভারতে পেট্রোল/ডিজেলের দাম লিটার পিছু বাড়তে পারে ১৫ থেকে ২০ টাকা করে! যার ফলে মূল্যবৃদ্ধি হতে পারে সব জিনিসের। চাকরি যেতে পারে প্রায় ১ কোটি মানুষের! শুধু তাই নয় মাত্র ১০ দিনে ক্ষতি হয়েছে ৩১ লক্ষ কোটি টাকা!

    কী অবাক হচ্ছেন? হয়তো হচ্ছেন! কিন্তু এই কথা আমরা বলছি না, বলছে রিপোর্ট!

    আমেরিকা, ইজরায়েল আর ইরানের যুদ্ধের যতটা ক্ষতি ওই দেশগুলোর হয়েছে, তার ১০ গুণ বেশি ক্ষতি ভারতের হয়েছে! কিন্তু, কীভাবে এই যুদ্ধ প্রভাব ফেলল ভারতের অর্থনীতিতে? কীভাবেই বা ক্ষতি হয়ে গেল প্রায় ৩১ লক্ষ কোটি টাকা? যদি ভারতের এই অবস্থা হয়, তাহলে আমেরিকা, ইজরায়েল আর ইরানের কতটা ক্ষতি হয়েছে?

    আজ India Hood ডিকোড-এ আমরা তুলে ধরবো এমন কিছু তথ্য, এমন কিছু সত্য যা জানা উচিত প্রতিটি ভারতবাসীর! তাই ধৈর্য ধরে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

    দিনটা ২৮শে ফেব্রুয়ারি। হঠাৎ করেই ইরানের ওপর আক্রমণ করে বসে আমেরিকা ও ইজরায়েল। খতম করে দেওয়া হয় ইরানের সর্বোচ্চ লিডার খামেইনিকে। আর তারপরেই শুর হয় আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণ। এমনকি এই সংঘর্ষের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে কুয়েত, সৌদি আরব থেকে বাহারিনে।

    আর যুদ্ধ হলে এক নয়, একাধিক ক্ষতি যে হবেই সে কথাও কারোর অজানা নয়। কিন্তু, এই যুদ্ধে কেবল জড়িত দেশ আমেরিকা, ইজরায়েল, এবং ইরানের হয়েছে – তা কিন্তু নয়। এই যুদ্ধে ক্ষতি হয়েছে বিশ্বের একাধিক দেশের। আর এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ভারতের। এবার আমরা আপনাদের সামনে এক এক করে তুলে ধরবো – কোন দেশের ঠিক কতটা ক্ষতি হয়েছে!

    আমেরিকা (America)

    প্রথমেই আসি আমেরিকায়। সারা বিশ্বের মধ্যে মার্কিন সেনাশক্তি যে ১ নম্বরে, সেটা কারও অজানা নয়। আমেরিকার সেনা খাতের বাজেট প্রায় ৯১ লক্ষ কোটি টাকা, যে টাকায় পাকিস্তানের মতো তিনটি দেশ কিনে ফেলা যায়।

    জানলে অবাক হবেন, ইরানের বিরুদ্ধে অপারেশন এপিক ফিউরি চালাতে আমেরিকা একদিনে খরচ করেছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা

    এর মধ্যে হামলায় খরচ ৭,২০০ কোটি,

    আর প্রস্তুতিতে ৫,৮০০ কোটি টাকা

    কিন্তু যুদ্ধ এখনও চলছে। রিপোর্ট বলছে, যুদ্ধের দ্বিতীয় দিন থেকে পরবর্তী ১০০ ঘণ্টায় আমেরিকা খরচ করেছে দৈনিক প্রায় হাজার কোটি টাকায়। আর এই খরচ ধীরে ধীরে পৌঁছাতে পারে ৮,৩০০ কোটি টাকায়

    পেন্টাগনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রথম সপ্তাহে খরচ হয়েছে প্রায় ৫৫,২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩৬,৮০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে ইরানের হামলা প্রতিহত করতে।

    এই যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত আমেরিকার জন সেনা নিহত হয়েছেন।

    কিন্তু এত খরচ হচ্ছে কেন?

    কারণ একটাই—সামরিক সরঞ্জাম। যেমন ধরুন, ইরানের বিরুদ্ধে এয়ারস্ট্রাইকে আমেরিকা ব্যবহার করছে B-2, B-52, B-1B, F-35-এর মতো আধুনিক ও ব্যয়বহুল বিমান। ব্যবহার করা হচ্ছে MQ-9 রিপারলুকাস ড্রোন, রকেট আর্টিলারি, হিমারস, এবং টমাহক ক্রুজ মিসাইল। একটি টমাহক মিসাইলের দামই প্রায় ১৮.কোটি টাকা

    ব্যবহার করা হয়েছে দুটি রণতরী—USS Gerald R Ford এবং USS Abraham Lincoln। একটি Aircraft Carrier Strike Group পরিচালনায় প্রতিদিন খরচ হয় প্রায় ৮৩ কোটি টাকা। এছাড়া আমেরিকা এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭,৩৬০ কোটি টাকা মূল্যের ৪০০টি মিসাইল লঞ্চ করেছে।

    তবে আমেরিকা শুধু আক্রমণই করেনি, নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কাতারের আল-উদেইদ বেসে ইরানের বড় হামলায় ধ্বংস হয়েছে একটি সতর্কতা রাডার, যার দাম প্রায় ১০,১১৮ কোটি টাকা

    এছাড়া UAE-তে থাকা একটি THAAD-2 রাডার ধ্বংস হয়েছে, ক্ষতি প্রায় ৪,৬০০ কোটি টাকা

    কুয়েতে ইরান ধ্বংস করেছে আমেরিকার তিনটি F-15 স্ট্রাইক ইগল জেট, যার মূল্য প্রায় ২,৭৬০ কোটি টাকা

    এরপর বাহরেনে থাকা একটি প্রধান মার্কিন স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল এবং একাধিক মার্কিন এয়ারবেসও ধ্বংস করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মোট প্রায় ১৮,৪০০ কোটি টাকার মার্কিন সামগ্রী নষ্ট হয়েছে।

    এই যুদ্ধে ইরান কিন্তু আমেরিকার বেশি ক্ষতি করাচ্ছে। কি বিশ্বাস হচ্ছে না? উদাহরণ দিলেই বুঝবেন। ইরানের একটি মিসাইলের দাম প্রায় ১৮.কোটি টাকা, কিন্তু সেটি আটকাতে আমেরিকাকে তিনটি প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স মিসাইল ছুঁড়তে হয়েছে, যার মোট খরচ প্রায় ১১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, একটি ইরানি মিসাইল আটকাতে আমেরিকার খরচ প্রায় গুণ বেশি

    এছাড়া ইরান হামলায় ব্যবহার করছে শাহিদ ড্রোন, যার দাম মাত্র ৩২ লক্ষ টাকা। আর সেগুলো ঠেকাতে ব্যবহার হচ্ছে হয় ১১৭ কোটি টাকার THAAD মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ৩২ কোটি টাকার প্যাট্রিয়ট মিসাইল। অর্থাৎ, অনেক ক্ষেত্রেই আমেরিকার খরচ হচ্ছে ১০০ থেকে ৩৬০ গুণ বেশি

    বিশ্লেষকদের অনুমান, যদি সপ্তাহ যুদ্ধ চলে, তাহলে আমেরিকার ক্ষতি হতে পারে প্রায় ৯২,০০০ কোটি থেকে লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকা। আর যদি মাস চলে, যেমনটা মার্কিন রাষ্ট্রপতি বলেছেন, তাহলে এই খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় সাড়ে লক্ষ কোটি টাকায়

    শুধু তাই নয়, যুদ্ধের প্রভাবে আমেরিকার শেয়ার মার্কেটেও বড় ধস নেমেছে, যেখানে ইতিমধ্যেই গায়েব হয়েছে প্রায় ৮৩ লক্ষ কোটি টাকা

    ইজরায়েল (Israel)

    এবার আসি ইজরায়েলে। ইজরায়েল সারা বিশ্বের মধ্যে সেনা শক্তির দিক থেকে এক নম্বরে না থাকলেও, যথেষ্ট ভালো স্থানে রয়েছে। তাদের সামরিক বাজেট প্রায় ৪ লক্ষ ৩২ হাজার কোটি টাকা, যা পাকিস্তানের চার গুণ। আপনি যদি ইজরায়েলের সেনা শক্তি সম্পর্কে জানতে চান, তাহলে ক্লিক করুন আই বাটনে আর দেখে নিন আমাদের ইজরায়েল স্পেশাল ডিকোড ভিডিওটি।

    ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে রোরিং লায়ন” নামের যে অভিযান শুরু করেছিল ইজরায়েল, সেই অভিযানের সাপ্তাহিক খরচ পৌঁছেছে প্রায় ২৭,৫০০ কোটি টাকায়। বর্তমানে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চালাতে প্রতিদিন প্রায় ৬,৬৫২ কোটি টাকা সামরিক খরচ করছে ইজরায়েল। অর্থাৎ এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬০,০০০ কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে। এই যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত ১১ থেকে ১৩ জন ইজরায়েলি নাগরিক সেনার মৃত্যু হয়েছে

    তবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ করছে ইজরায়েলে, মূলত রাজধানী তেল আভিভে। হামলায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল প্রতিহত করতে ইজরায়েলের কাছে রয়েছে উন্নত মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যার এক একটি ব্যবস্থার দাম কয়েক হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত।

    এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত আয়রন ডোম, যা রাডারের মাধ্যমে রকেট শনাক্ত করে আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। প্রতিটি ইন্টারসেপশনে খরচ হয় প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা। এছাড়া রয়েছে অ্যারো-থ্রি হাইপারসনিক ইন্টারসেপ্টর এবং ডেভিড’স্লিং ইন্টারসেপ্টর। পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে আয়রন বিম লেজার সিস্টেম, যা প্রায় ১০ কিমি দূরের মিসাইল ধ্বংস করতে পারে

    যুদ্ধের কারণে ইজরায়েল ব্যাপকভাবে রিজার্ভ সেনাদেরও ডেকে নিয়েছে। প্রায় থেকে লক্ষ রিজার্ভ সেনা সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। ফলে অনেক শিল্পকারখানা, প্রযুক্তি কোম্পানি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কর্মী সংকটে পড়েছে।

    এছাড়া যুদ্ধের ফলে দেশের অনেক জায়গায় ব্যবসা, স্কুল বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। উৎপাদন কমছে, পর্যটন বন্ধ হয়ে গেছে, আর বহু মানুষ বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়ায় শ্রমিক সংকট তৈরি হয়েছে। দেশের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, মাত্র এক সপ্তাহেই প্রায় ২৭,৫০০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে।

    বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে আবাসিক ভবন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা শিল্প অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো পুনর্গঠনের জন্য সরকারকে আরও কয়েক লক্ষ কোটি টাকা খরচ করতে হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলে, তাহলে ইজরায়েলের মোট অর্থনৈতিক ক্ষতি সাড়ে লক্ষ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।

    এছাড়া যুদ্ধের প্রভাবে ইজরায়েলের শেয়ার মার্কেট থেকেও প্রায় লক্ষ ২০ হাজার কোটি থেকে আড়াই লক্ষ কোটি টাকা উধাও হয়ে গেছে

    ইরান (Iran)

    এবার আসি ইরানে। হয়তো অনেকেরই মনে হচ্ছে এই যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে ইরানেরই। কিন্তু বিভিন্ন রিপোর্ট বলছে ভিন্ন কথা। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে তারা তাদের সুপ্রিম লিডার আলি খামেনিকে হারিয়েছে, কিন্তু আর্থিক দিক থেকে তাদের ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।

    যুদ্ধ শুরুর আগেই ইরানের অর্থনীতি বেশ চাপের মধ্যে ছিল। একদিকে দাম বৃদ্ধি, অন্যদিকে আমেরিকার কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। এর ওপর যুদ্ধের ফলে খাদ্য, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, ফলে মুদ্রাস্ফীতিও বাড়বে

    তবে রিপোর্ট বলছে, ইরানের সামরিক বাজেট প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা, যা ইজরায়েলের প্রায় অর্ধেক। তবুও তারা এই যুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে সমান তালে টেক্কা দিচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ—হেজবোল্লা, হামাস ও হুথিদের মতো প্রক্সি গ্রুপের সমর্থন, এবং রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে তুলনামূলক সস্তায় অস্ত্র সংগ্রহ

    যেমন ধরুন, ইরান এই যুদ্ধে ব্যবহার করছে বহুল পরিচিত Shahed-136 ড্রোন, যাকে আকাশপথের AK-47 বলা হয়। এর দাম মাত্র ৩২ লক্ষ টাকা। রয়েছে Fateh-110 ব্যালিস্টিক মিসাইল, যার দাম প্রায় ৪.৫ কোটি টাকা, রয়েছে Sejjil ব্যালিস্টিক মিসাইল, যার দাম প্রায় ১০ কোটি টাকা।

    বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি বড় হামলায় তারা প্রায় ৬০০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ১,০০০-এর বেশি ড্রোন ব্যবহার করেছে।

    ইরানের আধুনিক যুদ্ধ জাহাজ IRIS Dena ডুবে যাওয়ার ফলে ইরানের ক্ষতি শুধু জাহাজের দামে সীমাবদ্ধ নয়। এই জাহাজে ছিল: ঘাদের এবং নুর অ্যান্টি-শিপ মিসাইল, সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল, টর্পেডো লঞ্চার, র‍্যাডার ও সেন্সর সিস্টেম, হেলিকপ্টার অপারেশন ডেক, প্রশিক্ষিত ১৪০ জন ক্রু। সব মিলিয়ে এর বাস্তবে সামরিক মূল্য প্রায় ২৭৫৫ কোটি টাকা।

    এছাড়া আমেরিকার দাবি অনুযায়ী, তারা ইরানের ৩০টিরও বেশি জাহাজ ডুবিয়েছে

    আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলায় ইরানে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১,৩০০ জন সাধারণ মানুষ সৈন্য নিহত হয়েছেন এবং ১৫৩টি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে

    তবে ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা তাদের তেল রপ্তানি নির্ভর অর্থনীতি। যুদ্ধের আগে ইরান প্রতিদিন প্রায় ১৭ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদন করত। তখন তেলের দাম ছিল প্রায় ৮০ ডলার প্রতি ব্যারেল, অর্থাৎ দৈনিক আয় প্রায় ১,২৪০ কোটি টাকা

    কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অনেক তেলবাহী জাহাজ রুট পরিবর্তন করেছে, বীমা খরচ বেড়েছে, কিছু বন্দরে রপ্তানি কমেছে এবং কিছু তেল উত্তোলন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এখন দৈনিক উৎপাদন কমে প্রায় লক্ষ ব্যারেলে নেমে এসেছে। অর্থাৎ দৈনিক আয় কমে হয়েছে প্রায় ৭৩ কোটি টাকা। শুধু গত ১০ দিনেই তেল থেকে প্রায় ১১,৬০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

    সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩৬,০০০ কোটি টাকাঅর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে ইরানের

    এছাড়া যুদ্ধের ফলে তেল শোধনাগার, গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, সামরিক ঘাঁটি, ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো মেরামত ও পুনর্গঠনে বিশ্লেষকদের মতে প্রায় ৪৫,৯০০ কোটি টাকা লাগতে পারে।

    অন্যদিকে, এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে ইরানের শেয়ার বাজারেও, যেখানে প্রায় লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে

    এবার আপনাদের জানাবো ভারতের কথা। যারা যুদ্ধে অংশ নেয়নি, তা সত্ত্বেও বড়সড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

    ভারত (India)

    গত ১০ দিনে ভারতের শেয়ার মার্কেট থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছে প্রায় ৩১ লক্ষ কোটি টাকা। যার ফলে মাথায় হাত পড়েছে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের। আর শুধু ভারতেই নয়, এই যুদ্ধের আঁচে গা পুড়ছে অধিকাংশ দেশেরই।

    শুধুমাত্র, তেলের জন্যই অতিরিক্ত খরচ বাড়তে পারে দৈনিক ৪ লক্ষ ৯৬ হাজার কোটি টাকা! যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে, যেখান থেকে ভারত প্রতিদিন আড়াই থেকে ২.৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আনে। ইরানের IRGC বলেছে, বর্তমানে এক ব্যারেল তেলের দাম সারা বিশ্বে ৮১ ডলার। কিন্তু তারা সেটাকে ২০০ ডলারে নিয়ে যেতে চাইছে। তাদের মতো মূল্যবৃদ্ধি সব দেশে হোক তারা সেটার চাইছে। আর এর প্রভাব ইতিমধ্যেই দেখা গিয়েছে অনেক দেশে। কারণ যুদ্ধের কারণে তেলের দাম ইতিমধ্যেই ব্যারেল প্রতি ১১৪ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে পরিবহন খরচ, শিল্প উৎপাদন, বিমান পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন – সব ক্ষেত্রেই ব্যয় বাড়বে।তেলের দাম প্রতি ১ ডলার বাড়লে ভারতের অতিরিক্ত খরচ হয় প্রায় ১৬,০০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৩১ ডলার বেড়ে যাওয়া মানে এই অতিরিক্ত খরচের পরিমাণ কতটা বেড়ে যেতে পারে আশা করছি সেটা বুঝতেই পারছেন! আর তেলের দাম বাড়লে গাড়ি ভাড়া বাড়বে, ফলে বাড়বে জিনিসপত্রের দাম।

    যদিও, আপাতত রাশিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতকে তেল পাঠাচ্ছে এবং ভারতের কাছে যথেষ্ট তেল মজুদ রয়েছে তাই এখনই এই দুর্দিন আসছে না।

    ভারতের অন্যান্য শক্তিও ক্ষতির সম্মুখীন! এছাড়া, ভারতের ৬০ শতাংশ জ্বালানি শক্তি আসে ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত, UAE থেকে, আর এর মধ্যে সবগুলোতেই আক্রমণ করেছে ইরান। ফলত, ২০২৬ সালের ৭ মার্চ থেকে ভারতে ১৪.২ কেজি LPG সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এবং একই সঙ্গে ১৯ কেজি কমার্শিয়াল সিলিন্ডারের দাম ১১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। যার আঁচ পড়েছে সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটের ওপর।

    ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রপ্তানিও! এছাড়া, ভারত অনেক পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে যেগুলি বন্ধ হলে, ভারত আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভারত ২০২৫ সালে ২৩ বিলিয়ন ডলারের আইফোন UAE -তে রপ্তানি করেছিল। এছাড়াও, ভারত সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের বৈদ্যুতিক এবং প্রযুক্তিগত পণ্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে রপ্তানি করে, এবার সেটাও হরমুজের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সংক্ষেপে, ভারতের ১৭% রপ্তানি যায় ওই অঞ্চলে, প্রায় ১ কোটি ভারতীয় সেখানে কাজ করে। যদি যুদ্ধ দীর্ঘ হয় তাহলে ভারতের রেমিট্যান্স কমতে পারে, ভারতীয় কোম্পানির ব্যবসা কমতে পারে।

    তো এবার কী এই যুদ্ধ আমার আপনার পকেটে টান ফেলবে? জানাতে ভুলবেন না আপনাদের মতামত কমেন্ট করে।

  • ভারত প্রসঙ্গে আমেরিকাকে একহাত নিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী! যা বললেন তিনি

    ভারত প্রসঙ্গে আমেরিকাকে একহাত নিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী! যা বললেন তিনি

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা কমার বদলে ক্রমশ বেড়েই চলেছে (Iran Foreign Minister On America)। আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হামলার প্রত্যাঘাত করেছিল ইরান। তারপর থেকে যুদ্ধ বড় আকার নেয়। এদিকে ইরান যুদ্ধের আঁচ পড়েছে জ্বালানির উপর। এর অন্যতম কারণ, যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে গোটা বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি হয় সেটাই বন্ধ করে রেখেছে ইরান। যার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। এমতাবস্থায়, এবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি আক্রমণ করলেন ইরানের বিদেশ মন্ত্রী। তুললেন রাশিয়া থেকে ভারতের (India) তেল কেনার প্রসঙ্গও।

    ভারত নিয়ে আমেরিকাকে কটাক্ষ ইরানের বিদেশমন্ত্রীর

    সম্প্রতি ভারত প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আমেরিকাকে সরাসরি কটাক্ষ করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। খামেনির দেশের বিদেশ মন্ত্রী বললেন, “আমেরিকা প্রথমে ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল না কেনার জন্য চাপ দিয়েছিল। এখন তারাই গোটা বিশ্বকে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য অনুরোধ করছে।” নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি সংবাদপত্রের অংশ বা পেপার কাটিং পোস্ট করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানানোর পাশাপাশি ইউরোপকেও নিশানা করেন।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এও লেখেন, “ইউরোপ ভেবেছিল ইরানের বিরুদ্ধে এই অবৈধ যুদ্ধে আমেরিকাকে সমর্থন করে তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে আমেরিকাকে পাশে পাবে। কত দুঃখজনক!” এক কথায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প যে নিজের সুবিধামতো বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করে সেটাই একেবারে খাতায় কলমে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

     

    অবশ্যই পড়ুন: নতুন পেসারকে নিয়েও বড়সড় বিপদে পড়তে চলছে KKR!

    উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল আমেরিকা সহ পশ্চিমী দুনিয়া। সেই সাথে ভারত যাতে রাশিয়া থেকে তেল না কেনে সে জন্য বহুবার নরমে গরমে বুঝিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের সাথে সংঘাত শুরু হলে সেই ট্রাম্পই সম্প্রতি ভারত সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলিকে 30 দিনের জন্য রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ছাড়পত্র দিয়েছে।

  • “জঙ্গল রাজ চলবে না”, ইরান সংঘর্ষ নিয়ে আমেরিকাকে সরাসরি সতর্ক করল চিন!

    “জঙ্গল রাজ চলবে না”, ইরান সংঘর্ষ নিয়ে আমেরিকাকে সরাসরি সতর্ক করল চিন!

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরানের (Iran) সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর পশ্চিম এশিয়ার দেশটিতে ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। দুই শক্তিধর দেশের হামলার পাল্টা দিতে পিছুপা হচ্ছে না ইরানও। ঠিক সেই আবহে এবার মুখ খুলল ড্রাগন (China On Iran War)। চিন সরকারের তরফে একেবারে পরিষ্কার ভাবে জানানো হয়েছে, যাঁরা ইরানের সরকার পরিবর্তন করার চেষ্টা করছেন বা ষড়যন্ত্র করছেন তাদের সমর্থন করে না চিন। নাম না করে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের এমন সর্বগ্রাসী মনোভাবকে জঙ্গল রাজ বলে অভিহিত করেছে ড্রাগন।

    হুঙ্কার দিল চিন

    রিপোর্ট অনুযায়ী, চিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই রবিবার ভাষণ দেওয়ার সময় বলেছেন, “যাঁরা ক্রমাগত ষড়যন্ত্র করে আসছেন। ইরানের সরকারকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁদের সমর্থন করে না বেইজিং। এই ধরনের চেষ্টা করা হলে তারা সফল হবেন না। অন্য কোনও দেশের বিষয়ে কখনই হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। যা চলছে তা ইরানের সর্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে।”

    ওই বিবৃতিতে চিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই নাম না করে আমেরিকাকে সতর্ক করার পাশাপাশি এও বলেছেন, ইরান, আরব ও বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলির স্বাধীনতাকে সম্মান করা উচিত এবং অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করা উচিত। এই লড়াই এমন এক লড়াই যা কখনই কারও ভাল করবে না। অস্ত্রের শক্তির উপর লড়াই কেবল ঘৃণা বাড়িয়ে দেবে। পৃথিবীতে তৈরি হবে নতুন সংকট।

    এদিন ইজরায়েল এবং আমেরিকার প্রতি বার্তা দিতে গিয়ে চিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের মানুষজন তাদের ভূখণ্ডের প্রকৃত মালিক। এখানকার দেশগুলোকে নিজেদের মতো কাজ করার সিদ্ধান্ত নিতে দিন। মানুষ সিদ্ধান্ত নেবে তারা কী চায়। অন্য কেউ তাদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এমন পরিস্থিতিতে আমরা গোটা বিশ্বের কাছে আবেদন জানাবো কোনও দেশ যেন অন্য দেশের বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে।

     

    অবশ্যই পড়ুন: প্রতিমাসে অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ৭০০০ টাকা! মহিলাদের ক্ষমতায়নে বড় প্ল্যান LIC-র

    চিনের মন্ত্রী একেবারে নাম না করেই একপ্রকার আমেরিকা এবং ইজরায়েলি অপ শাসনের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “এ পৃথিবীতে জঙ্গল রাজ চলবে না। ক্ষমতাশালীরা যা চাইবেন তাই করতে পারেন না। আমরা সব পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মিটিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। চিন শান্তি স্থাপনের জন্য কাজ করে এসেছে, আগামীতেও করবে।”

  • ব্যবহার হয়নি আগে, এই সস্তার ড্রোন দিয়েই ইরানে ধ্বংসযজ্ঞ চালাল আমেরিকা

    ব্যবহার হয়নি আগে, এই সস্তার ড্রোন দিয়েই ইরানে ধ্বংসযজ্ঞ চালাল আমেরিকা

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: আশঙ্কাই সত্যিতে পরিণত হয়েছে (Iran-US War)। গত শনিবার থেকে ইরানের উপর জোরালো হামলা চালানো শুরু করে আমেরিকা। সবচেয়ে বড় কথা, যা দিয়ে ইরানে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে সেই, ড্রোন প্রযুক্তি এর আগে কোনও অভিযানে ব্যবহার করেনি ওয়াশিংটন ডিসি। রিপোর্ট অনুযায়ী, এপিক ফিউরিতে ইজরায়েলের সাথে হাত মিলিয়ে ইরানে হামলা চালানোর সময় প্রথমবারের মতো এই বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সব একেবারে ধুলিস্যাৎ করে দিল আমেরিকা।

    এই ড্রোন ব্যবস্থাই ইরানে ধ্বংসযজ্ঞের কারণ

    একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইজরায়েলের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে ইরানের হামলা চালানোর সময় LUCAS আক্রমণাত্মক ড্রোনটি ব্যবহার করা হয়। বলাই বাহুল্য, এই ড্রোনগুলি ইরানের সস্তা কিন্তু শক্তিশালী ড্রোনগুলির অনুলিপি। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া ক্রমাগত হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করার দাবি করেছে আমেরিকা।

    দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতার মৃত্যুর পাশাপাশি ইরানের বুকে কম্পন ধরাতে ইরানেরই ড্রোন কৌশল অবলম্বন করেছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পাশাপাশি কয়েক ডজন সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

    বলে রাখা ভালো, যৌথভাবে ইরানের উপর হামলা চালাতে সস্তার LUCAS ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সহ অন্যান্য সমরাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল ল। যার ধার কার্যত ইরানের বুক চিরে দিয়েছে।

    LUCAS ড্রোনের বিশেষত্ব

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমেরিকার তরফে ইরানে ছোরা সস্তার ড্রোনগুলি একটা দীর্ঘ সময় ব্যবহার করার পর দ্বিতীয় বার আর ব্যবহার করা যায় না। তবে দামে অনেকটাই কম হয় অর্থাৎ খরচ কম হয় একসাথে অধিক সংখ্যক ড্রোন নিক্ষেপ করা যায় শত্রুর ডেরায়।

    অবশ্যই পড়ুন: খামেনির মৃত্যুর প্রতিবাদে করাচিতে মার্কিন দূতাবাসে হামলা, পাল্টা প্রতিরোধে নিহত ১০

    না বললেই নয়, আমেরিকার LUCAS হল ইরানি শাহেদ-136 এর উপর ভিত্তি করে তৈরি একটি কম খরচের আক্রমণাত্মক ড্রোন। এমন ড্রোন দিয়ে ইরানে হামলা প্রসঙ্গে CENTCOM স্পষ্ট জানিয়েছে, আমেরিকা এবং ইসরাইলের যৌথ উদ্যোগে এপিক ফিউরির সময় প্রথমবারের মতো ইরানের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করল কোনও দেশ। কয়েকজন সামরিক বিশেষজ্ঞ বলছেন, ইরানের সামরিক কৌশল এবং ড্রোন কৌশল রপ্ত করেই শাহেদ 136 এর অনুকরণ করে সস্তার LUCAS ড্রোন তৈরি করা হয়েছিল। এবার সেটাই ইরানের বুকে বিরাট ধ্বংসযজ্ঞ চালাল।