Tag: Afghanistan

  • আফগানিস্তানের হাসপাতালে এয়ারস্ট্রাইক পাকিস্তানের, মৃত ৪০০

    আফগানিস্তানের হাসপাতালে এয়ারস্ট্রাইক পাকিস্তানের, মৃত ৪০০

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ভয়াবহ বিমান হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে (Pakistan Airstrike Afghanistan)। সোমবার গভীর রাতে চালানো এই হামলায় একটি হাসপাতাল সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আর বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ঘটনাটি ঘিরে প্রতিবাদ জানিয়েছে তালিবান প্রশাসন। অন্যদিকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দিয়েছে পাকিস্তান। তাদের দাবি, শুধুমাত্র সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। কোনও বেসামরিক স্থাপনা টার্গেট করা হয়নি।

    হাসপাতালে হামলার অভিযোগ

    আফগান প্রশাসনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, কাবুলের নেশামুক্তি চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত একটি হাসপাতালের উপর এই হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। আর হামলার জায়গায় ভবনের একটি বিরাট অংশ ভেঙে পড়ে আর সেখানে আগুন ধরে যায়। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী খবর, ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকে পড়েন এবং আঘাতে প্রাণহানি হয়। উদ্ধারকারী দল আগুন নেভানো আর ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে মানুষকে বের করার কাজ চালিয়েছে। পাশাপাশি আহতদেরকে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    এদিকে এই ঘটনার পর পাকিস্তান সরকার জানিয়ে দিয়েছে, তাদের বিমান হামলা মূলত সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের ঘাঁটি আর অস্ত্রভাণ্ডারগুলিকে লক্ষ্য করেই চালানো হয়েছিল। আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর অপশাসন ধ্বংস করায় তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল। কোনও হাসপাতাল বা সাধারণ মানুষের বসতি লক্ষ্য করা হয়নি বলেই দাবি করছে ইসলামাবাদ।

    আরও পড়ুন: কবে, কত দফায় মিলবে বকেয়া DA? বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের

    বলাই বাহুল্য, সোমবার সীমান্ত এলাকায় আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মধ্যে তীব্র গুলি বিনিময় হয়। তারপর এই হামলা ঘটে বলে অভিযোগ। আফগান প্রশাসন দাবি করছে যে, পাকিস্তান তাদের সার্বভৌম সীমা লঙ্ঘন করেছে। এর যথাযথ জবাব দেওয়া হবে। এমনকি হামলায় ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তালিবান। তাদের দাবি, চিকিৎসাধীন রোগীদের উপর হামলা নৃশংস কাজ। একইসঙ্গে ঘটনার পূর্ণ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

  • তালিবানদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ফের আফগানিস্তানে এয়ারস্ট্রাইক পাকিস্তানের

    তালিবানদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ফের আফগানিস্তানে এয়ারস্ট্রাইক পাকিস্তানের

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: একদিকে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, আরেক দিকে দক্ষিণ এশিয়ার (Pakistan-Afghanistan War)। হ্যাঁ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও চরমে পৌঁছেছে। সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার তো কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। আর তারই মধ্যে আফগানিস্তানের কান্দাহার অঞ্চলের তালিবান ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান (Pakistan Airstrike on Afghanistan)। এমনটাই দাবি আফগান প্রশাসনের। আর এই ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে আবারও নতুন করে সংঘর্ষ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। পাকিস্তানের দাবি, সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জবাবে হিসাবেই তাদের এই আক্রমণ।

    কান্দাহারে ফের বিমান হামলা

    পাকিস্তানের সূত্র মারফৎ খবর, আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহারের কাছে তালিবানদের একটি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। আর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তের কাছে পাকিস্তানের এলাকায় একাধিক ড্রোন দেখা গিয়েছিল। নিরাপত্তা বাহিনী ড্রোনগুলিকে প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ধ্বংসাবশেষ পড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে।

    এদিকে পাক সেনা কর্মকর্তাদের মতে, এই ড্রোনগুলোর লক্ষ্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলিকে গুঁড়িয়ে দেওয়া। কিন্তু অধিকাংশ ড্রোনই লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। আর কিছু জায়গায় ধ্বংসাবশেষ পড়ে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও তারা দাবি করেছে। পাকিস্তানের কোয়েটাতে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুই শিশু আহত হয়েছে বলেও খবর মিলেছে। এছাড়াও কোহাট এবং রাওয়ালপিন্ডি এলাকাতেও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর সামনে আসে।

    আরও পড়ুন: মেসেজ পেলেও ঢোকেনি যুবসাথীর টাকা? জানুন কী হবে এবার

    আফগানিস্তানকে দায়ী ইসলামাবাদের

    এদিকে এই ঘটনার জন্য সরাসরি আফগানিস্তানকে দায়ী করেছে পাকিস্তান। তাদের দাবি, এই ড্রোন হামলাগুলি আফগানিস্তানের কান্দাহার অঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটি থেকেই করা হয়েছে। সেনা ঘাঁটি আর সাধারণ মানুষের উপর হামলা চালিয়ে তালিবানরা রেড লাইন অতিক্রম করতে চাইছে। তারই জবাবে পাকিস্তান বিমান হামলা চালিয়েছে। এমনকি সংঘাত আরও বাড়তে পারে এরকম আশঙ্কায় পাকিস্তান সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসলামাবাদের আকাশ পথ সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দাবি, নিরাপত্তার স্বার্থেই তাদের এই পদক্ষেপ।

  • গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে করাচি, কোয়েটা, ইসলামাবাদ! পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি তালিবানের

    গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে করাচি, কোয়েটা, ইসলামাবাদ! পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি তালিবানের

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইজরায়েল আর আমেরিকার সংঘাত, অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় আফগানিস্তান-পাকিস্তানের সংঘাত (2026 Afghanistan–Pakistan War)। এবার বিমান হামলার অভিযোগে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। সেই প্রেক্ষাপটে আফগান শাসকগোষ্ঠী তালিবান (Taliban) পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া সতর্কবার্তা জানিয়েছে। তালিবানের এক শীর্ষ কর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তান যদি এই ধরনের হামলা চালাতে থাকে, তাহলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোকেই এবার লক্ষ্যবস্তু করে হামলা করা হবে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক যে আরও তিক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    কোন শহরগুলিকে নিশানা করার হুমকি?

    এদিন তালিবানের মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানে হামলা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে দেশের বড় বড় শহরগুলিকে এবার গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। বিশেষ করে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে ইসলামাবাদ, করাচি এবং কোয়েটা। এই শহরগুলিকে লক্ষ্য করেই হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আর এতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়েছে।

    তালিবানদের দাবি, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সম্প্রতি আফগানিস্তানে বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, কাবুল এবং কান্দাহার প্রদেশকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এমনকি আফগানিস্তানের আরও বেশ কিছু এলাকাতে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। সেই সূত্রেই এবার হুঁশিয়ারি দিলেন তালিবান কর্মকর্তার মুখপাত্র হাজী জাহিদ। তিনি তালিবান নেতা হাজী ইউসুফের প্রতিনিধিত্ব করেন বলেই খবর। বিশেষজ্ঞদের মতে, তালিবানা শীর্ষ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার ঘনিষ্ঠ বলেই আফগানিস্তানের উত্তর অঞ্চলে এই গোষ্ঠীর প্রভাব যথেষ্ট শক্তিশালী।

    আরও পড়ুন: দেশে আকাল, বিদেশে রপ্তানি! এলপিজি সংকট নিয়ে কেন্দ্রের থেকে জবাব চাইল হাইকোর্ট

    এদিকে বলে রাখি, আফগানিস্তান আর পাকিস্তানের সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা তুঙ্গে। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ, জঙ্গি কার্যকলাপ আর পাল্টা অভিযানের অভিযোগ প্রায়শই সামনে আসে। বিশেষ করে ডুরান্ড লাইন ঘিরে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আর সামরিক বিরোধ দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই হুঁশিয়ারি দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে আরও ফাটল সৃষ্টি করছে। আর যদি এরকম ভাবে হামলা চলতে থাকে, তাহলে গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

  • India Hood Decode: এবার ধ্বংস হবে পাকিস্তান! সীমান্তে শুরু ভয়ংকর যুদ্ধ

    India Hood Decode: এবার ধ্বংস হবে পাকিস্তান! সীমান্তে শুরু ভয়ংকর যুদ্ধ

    দুই মুসলিম দেশ –আফগানিস্থান আর পাকিস্তানের মধ্যে শুরু হয়ে গেল ভয়ঙ্কর যুদ্ধ (Pakistan Afghanistan War)!

    পরিস্থিতি এমন যে পাকিস্তানে জারি করতে হয়েছে জরুরী অবস্থা! শুধু তাই নয়, আফগানিস্থানের কাছে মাথাও নত করেছে তারা, পাঠিয়েছে সংঘর্ষবিরতি, শান্তি, সমঝোতার প্রস্তাবও।

    অন্যদিকে পাকিস্তান শুরু করেছে আফগানিস্থানের ওপর ‘অপারেশন ঘাজ়াব লিল হক’!

    হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন!

    ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই, পাকিস্তানের মসজিদে বিস্ফোরণ, আর ফেব্রুয়ারির শেষে আফগানিস্থানের মাদ্রাসায় আক্রমণ দিয়ে যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল, এবার সেই সংঘর্ষ নিয়ে নিয়েছে রনং দেহি রূপ! রমজান মাসের তোয়াক্কা না করেই দুই দেশ উঠে পড়ে লেগেছে একে অপরের অস্তিত্ব মেটাতে! যা  ইতিমধ্যেই কেড়ে নিয়েছেদুই দেশের কয়েকশো সেনা এবং নাগরিকের প্রাণ!

    কিন্তু, হঠাৎ করেই কী নিয়ে আফগানিস্থান আর পাকিস্তানের মধ্যে ফের শুরু হয়ে গেল লড়াই? ঠিক কী কী আপডেট পাওয়া গিয়েছে এখনও অবধি এই যুদ্ধ নিয়ে? তবে কি এবার সত্যিই তালিবানদের কাছে মাথা নত করবে পকিস্তান? কেনই বা এই যুদ্ধের কারণে হঠাৎ করে ভারতের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলছে পাকিস্তান?

    জানলে অবাক হবেন – যে পাকিস্তান নিজেদের মুসলিম বিশ্বের এক অন্যতম নেতা হিসাবে দাবী করে, আজ তারাই রমজান মাস চলাকালীন আক্রমণ করল মুসলিম জনতার ওপর! হামলা চালাল মাদ্রাসার ওপর!

    যে পাকিস্তান আগে নিজেরাই, রমজান মাস চলাকালীন গাজার ওপর ইজরায়েলের আক্রমণ নিয়ে করেছিল নিন্দা, আজ তারাই করল সেই একই কাজ! যুদ্ধ ঘোষণা করে ডিল আর এক মুসলিম দেশ আফগানিস্থানের ওপর!

    আজ India Hood ডিকোড-এ আমরা তুলে ধরবো এমন কিছু তথ্য, যা পরিষ্কার করে দেবে পাকিস্তানের নীচ মনোভাব সম্পর্কে। পরিষ্কার করে দেবে, তারা আর কোনও রাষ্ট্র নেই, আমেরিকার গোলামে পরিণত হয়েছে। তাই ধৈর্য ধরে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

    রমজান মাসে আফগানিস্থানের মাদ্রাসায় বোমা হামলা!

    দিনটা ২১শে ফেব্ররুয়ারি, রমজান মাস চলাকালীন, গভীর রাতে হঠাৎ করেই আফগানিস্তানের পক্তিকা প্রদেশের বরমল জেলার এক মাদ্রাসায় বিমান হামলা চালানো হয়। আর হামলার অভিযোগ ওঠে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। জানা যায়, এই হামলার করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে F-16 এবং JF-17 বিমান থেকে। যার ফলে মৃত্যু হয় প্রায় ৭০ জন আফগান নাগরিকের।

    এরপর পাক সেনার তরফ থেকে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়,“আফগানিস্তানে জঙ্গিদের বেশ কয়েকটি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।“

    এরপর ২২শে ফেব্রুয়ারি, আফগানিস্তানের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই হামলা চালানো হয়েছে বসতি এলাকায়। যার ফলে নিরীহ মানুষদের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই আবার মহিলা এবং শিশু। এর পাশাপাশি আফগানিস্তানের তালিবান প্রশাসন এই হামলা বরদাস্ত করবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেয়।

    আর এরপর ২৫শে ফেব্রুয়ারি, কথা মতো কাজ করে দেখায় আফগানিস্থান সরকার। নিজেদের সরকারি এক্স হ্যান্ডলে আফাগনিস্তান দাবি করে, “পাকিস্তানে বিমানহামলা চালানো হয়েছে। সেই হামলায় অন্ততপক্ষে ৫০ পাক সেনা নিহত হয়েছেন। এই লড়াই থামবে না।“

    এরপর ২৬শে ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আফগান-পাক সীমান্ত। গোলাগুলি থেকে শুরু করে আকাশপথে হামলা সবই চলতে থাকে জোর কদমে। আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লা মুজাহিদ বলেন, ‘‘আমাদের সেনারা নাইট ভিশন এবং লেজ়ার নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এ বার পাকিস্তানি ফৌজদের নরকে পাঠাব।’’ তার পরেই পাল্টা জবাব দেয় পাকিস্তানও।

    আফগানিস্থানের দাবি – এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানের ৫৫ জন সেনার মৃত্যু হয়েছে। মার্কিন এফ-১৬ পাক যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে।

    পাকিস্তানের দাবি – এখনও পর্যন্ত দুই পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে। উল্টো দিকে মারা গিয়েছেন ৩৬ জন আফগান সেনা। যদিও যুদ্ধবিমান নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি পাকিস্তান।

    তবে, এই হামলা কি হঠাৎ করেই পাকিস্তান শুরু করল?

    না। এর পেছনে রয়েছে ৬ই ফেব্রুয়ারির একটি ঘটনা। যেদিন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের শেহজাদ টাউন এলাকার শিয়া টারলাই ইমামবাড়ার শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ হয়। ওই বিস্ফোরণের ফলে মৃত্যু হয় প্রায় ৩১ জনের। এর পর ৭ই ফেব্রুয়ারি, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু এলাকায় পাকিস্তানের এক সেনাকর্মী ও এক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিহত হন।

    এই নিয়ে পাকিস্তানের তরফ থেকে জানানো হয়, যে ভারতের মদতে আফগানিস্তানে বসে জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলার পরিকল্পনা করছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িতও হচ্ছে ভারতের মদতে। আর এই সমস্ত জঙ্গিরা আফগানিস্থানের কাবুলে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসছে। যদিও ভারতের তরফ থেকে দীর্ঘ দিন ধরে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হচ্ছে। আর পাকিস্তানও নিজেদের বক্তব্যের পক্ষে কোনও প্রমাণও দেখাতে পারেনি।

    আর সেই হামলার প্রতিশোধ নিতেই এবার পাকিস্তান এই হামলা চালিয়েছে।

    আর পাকিস্তান আর আফগানিস্থানের এই যুদ্ধ দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে আফগানিস্থান এবং পাকিস্তান সীমান্তে টানা ১০ দিন সংঘর্ষ চলে, যার ফলে দুই দেশেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানি হয়। তবে, সেই সংঘর্ষে পাকিস্তানের প্রচুর সেনাবাহিনী মারা গেলেও, কিন্তু পাকিস্তানের আক্রমণে বেশিরভাগ প্রাণহানি হতে থাকে আফগানিস্থানের সাধারণ জনগণের।

    এরপর ২০২৫-এর অক্টোবরেই পাকিস্তান ফের হামলা করে আফগানিস্থানে। যার ফলে মারা যায় আফগানিস্থানের তিন ক্রিকেটার সহ ৫ জন সাধারণ নাগরিক।

    এরপর ওই বছরের নভেম্বর মাসে, ফের আফগানিস্থানের ওপর পাকিস্তানের তরফ থেকে বিমান হামলা করা হয় যার ফলে ১০ জন সাধারণ আফগান নাগরিকের মৃত্যু হয়।

    অর্থাৎ, এই কথাগুলো বলার আমাদের একটাই উদ্দেশ্য, আর সেটি হল – যতবার পাকিস্তানের তরফ থেকে আফগানিস্থানে হামলা করা হয়েছে মৃত্যু হয়েছে সাধারণ মানুষের! জঙ্গি মৃত্যুর প্রমাণ খুবই কম পাওয়া গিয়েছে।

    তবে, অনেক জিওপলিটিক্স বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার বাগরাম এয়ারবেস পুন্রুদ্ধার করার জন্যই পাকিস্তানকে ব্যবহার করে আফগানিস্থানে এই হামলা চালানো হচ্ছে। যাতে আফগানিস্থান, আমেরিকার কথা মেনে নেয়।

    এবার আমরা আপনাদের জানাবো, পাকিস্তান এই জঙ্গি বলতে ঠিক কাদের কথা বোঝাতে চেয়েছে!

    আপনাদের জানিয়ে দিই, এখানে জঙ্গিঘাঁটি বলতে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান অর্থাৎ টিটিপি-কে বোঝানো হয়েছে, যাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। এই জঙ্গি গোষ্ঠী আদতে পাকিস্তানের হলেও, আদর্শগতভাবে এরা তালিবানপন্থী, এবং এরা পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করে। আর মজার বিষয় কি জানেন? যে পাকিস্তান একসময় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে কৌশলগত সম্পদ ভাবত, আজ তারাই পাকিস্তানের ভিতরে আগুন ধরাচ্ছে।

    কিন্তু এই তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান গোষ্ঠী কারা এবং পাকিস্তানের গোষ্ঠী হওয়া সত্ত্বেও এদের সাথে পাকিস্তানের কিসের শত্রুতা, এই সবকিছু নিয়ে আমাদের চ্যানেলে একটি বিস্তারিত ভিডিও রয়েছে। আপনি আই বাটনে ক্লিক করে দেখে নিতে পারেন সেই ডিকোড ভিডিওটি।

    এবার জানবো বারবার কেন ভারতকে এর মধ্যে টানা হচ্ছে? ভারত কি সত্যিই এই যুদ্ধে নাক গলাবে?

    দিনটা ১৩ই নভেম্বর, ২০২৫। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ, পাকিস্তানের হামলার জন্য আফগানিস্থানের পাশাপাশি ভারতকে তো দায়ী করেই, উল্টে দুজনের সাথেই একসাথে লড়ার হুমকি দেয়। জানিয়ে দেয়, পাকিস্তান তৈরি কাবুল এবং নিউ দিল্লির সাথে লড়ার জন্য। সাথে এও বলে, ভারতের সাথে যুদ্ধ সম্ভব।

    কিন্তু, এর কারণটা কি?

    এর কারণ ভারত আর আফগানিস্থানের সম্পর্ক। আফগানিস্থান ও ভারতের মধ্যে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের শিকড় আমরা লক্ষ্য করেছিলাম জখন ২০২৫ সালে আফগানিস্থানের বিদশ মন্ত্রী আমির মুত্তাকি ভারত সফরে এসেছিলেন। আমাদের চ্যানেলে ভারত ও তালেবানদের সম্পর্ক নিয়ে একটি বিস্তারিত ভিডিও রয়েছে। আপনি আই বাটনে ক্লিক করে দেখে নিতে পারেন সেই ডিকোড ভিডিওটি।

    তো এই সম্পর্কের জন্যই পাকিস্তান ভেবে নিয়েছে, হয়তো আফগানিস্থানে হামলা করলে, ভারত পাকিস্তানের ওপর হামলা করতে পারে। তাই পাকিস্তান আগে থেকেই এই সিগন্যাল দেয় ভারতকে।

    তবে, একটা বিষয় পরিষ্কার – ভারত কিন্তু আফগানিস্থান এবং পাকিস্তানের এই ঝামেলার মধ্যে নাক গলাবে না। তবেও ভারত কিন্তু চুপ করেও নেই। পাকিস্তানের তরফ থেকে আফগানিস্থানে যে হামলা করা হয়েছে তার কড়া নিন্দা জানিয়েছে ভারত।

    ২২শে ফেব্রুয়ারি, ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেন, ‘‘পবিত্র রমজান মাসে আফগান-ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে ভারত। এই হামলার ফলে মহিলা ও শিশু-সহ বহু প্রাণহানি হয়েছে। এই ঘটনায় গভীর ভাবে শোকাহত ভারত।” তিনি আরও লেখেন, “এই ঘটনাটি পাকিস্তান সরকারের ব্যর্থতাকে ফের প্রকাশ্যে এনেছে।” রণধীর জানান, আফগানিস্তানের পাশে আছে ভারত।

    তবে ভারত হাতে না মারলেও একরকমভাবে জলে মেরে দিয়েছে পাকিস্তানকে।

    একদিকে ইতিমধ্যেই স্থগিত রয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া Indus Waters Treaty।

    এবার অন্যদিকে পাকিস্তানে প্রবাহিত হওয়া বন্ধ হয়ে যাবে রবি নদীর উদ্বৃত্ত জল। কারণ, পাঞ্জাব–জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে শাহপুর কান্ডি বাঁধ প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে হচ্ছে। আর সেই বাঁধ চালু হলে রবি নদীর উদ্বৃত্ত জল পাকিস্তানে প্রবাহিত হওয়া বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন, জম্মু ও কাশ্মীরের মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ রানা।

    একই সঙ্গে ভারত চেনাব নদীর উপর একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে, যা ২০২৭–২৮ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    অর্থাৎ, ভারত সরাসরি লড়াইতে না নামলেও, আড়ালে যে পাকিস্তানের ওপর সারজিক্যাল স্ট্রাইক করে যাচ্ছে সে কথা কিন্তু বলাই বাহুল্য।

    ফলত, ফের একবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আফগানিস্থান – পাকিস্তান সীমান্ত! কী মনে হয়ে এর শেষ কোথায় গিয়ে হবে? কী হবে এর ভবিষ্যৎ? পাকিস্তান কি সত্যিই ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে?
    নাকি এটা আরও বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি? আফগানিস্তান–পাকিস্তান সীমান্তে কি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হবে?
    ভারত কি শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষ থাকবে? জানাতে ভুলবেন না আপনার মতামত কমেন্ট করে।

  • ডুরান্ড লাইন পেড়িয়ে পাকিস্তানে হামলা, দখল সেনা ছাউনি! বিরাট অ্যাকশন আফগানিস্তানের

    ডুরান্ড লাইন পেড়িয়ে পাকিস্তানে হামলা, দখল সেনা ছাউনি! বিরাট অ্যাকশন আফগানিস্তানের

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ইরান-ইজরায়েলের উত্তেজনার মাঝে দক্ষিণ এশিয়ায় বাড়ছে অস্থিরতা। হ্যাঁ, মুখোমুখি অবস্থানে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান (2026 Afghanistan–Pakistan War)। একে অপরের উপর হামলা চালিয়েই যাচ্ছে তারা। মূলত বিতর্কিত ডুরান্ড লাইন ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় সীমান্তে যে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনকি দুই দেশের সাধারণ মানুষ এ নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

    ডুরান্ড লাইন ঘিরে নতুন করে সংঘর্ষ

    আফগান তালিবান বাহিনী দাবি করছে, তারা পাকিস্তানের কয়েকটি সীমান্ত পোস্টে হামলা চালিয়ে নিয়ন্ত্রনে এনেছে। এমনকি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পিন বোলদাক ও শোরাবাক এলাকার কাছে পাকিস্তানের দুটি পোস্ট তালিবান বাহিনী দখল করে ফেলেছে। বলে রাখি, ১৮৯৩ সালে ব্রিটিশ ভারতের আমলে এই ডুরান্ড লাইনকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজও আফগানিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে তা স্বীকৃতি দেয় না। সেই কাল্পনিক সীমান্ত নিয়েই বহুবার দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।

    জানা যাচ্ছে, ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যাবেলা তালেবান বাহিনী পাকিস্তানের একাধিক সীমান্ত পোস্ট এবং সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। এ বিষয়ে তালেবান মুখপাত্র জাবিবুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাব হিসেবেই তাদের এই হামলা। এমনকি পাকিস্তান দাবি করেছিল যে, তারা আফগান ভূখণ্ডের সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু পরে জাতিসংঘ জানায় যে, ওই হামলায় প্রচুর সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে। এমনকি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আফগানিস্তানে ক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়ে।

    অন্যদিকে ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে পাকিস্তান আরও বড় আকারের বিমান হামলা চালায় আফগানিস্তানের ভিতরে। কাবুল থেকে কান্দাহার পর্যন্ত একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণে শব্দ শোনা যায় বলে দাবি স্থানীয়দের। বিশেষ করে কাবুলের পশ্চিমাঞ্চল তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠ। উল্লেখ্য, পাকিস্তান তাদের এই পাল্টা অভিযানের নাম দিয়েছে গজব লিল হক। এমনকি দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজাক মোহম্মদ আসিফ একে তালিবানের বিরুদ্ধে খোলা যুদ্ধ বলেই অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তালেবানরা নাকি ভারতের মদতে কাজ করছে। কিন্তু ভারত এবং আফগানিস্তান উভয়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    আরও পড়ুন: খামেনিকে কটূক্তি! ইউটিউবার বিষাক্ত ছেলের শাস্তির দাবিতে বসিরহাট থানায় তুলকালাম

    গোটা সীমান্তে পাল্টাপাল্টি দখলের দাবি

    তালেবান মুখপাত্র বলেন, পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে একাধিক বোমা বিস্ফোরণ করেছে। আর এর জবাবেই তালিবান বাহিনী হেলমান্দ এবং পূর্ব সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালিয়েছে। এমনকি ২৬ ফেব্রুয়ারি খোস্ত, নাঙ্গারহাড়, পাকতিকা এবং কুনার প্রদেশে সংঘর্ষ আরও বাড়ে। আর খোস্তের জাজি ময়দান, আলি শের ও তেরেজাই জেলায় একাধিক পাকিস্তানি চেকপোস্ট দখল এবং ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি করছে তালেবানরা। আবার অন্যদিকে পাকিস্তান জানিয়েছে যে, তারা তালেবানদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে ফেলেছে। কিন্তু কোনও স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ সূত্র এগুলি যাচাই করেনি। যদিও ডুরান্ড লাইন নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। কিন্তু সেই সংঘর্ষ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটাই দেখার।

  • রাওয়ালপিণ্ডির নূর খান বিমান ঘাঁটিতে হামলা আফগানিস্তানের! খতম ৩৫ পাকিস্তানি সেনা

    রাওয়ালপিণ্ডির নূর খান বিমান ঘাঁটিতে হামলা আফগানিস্তানের! খতম ৩৫ পাকিস্তানি সেনা

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: একদিকে ইরান-ইজরায়েল সংঘাত, অন্যদিকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান (Afghanistan–Pakistan Conflict)। দিনের পর দিন বাড়ছে উত্তেজনা। গত চারদিন পাক-আফগান উভয় দেশের সেনাবাহিনী একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে। তবে সোমবার আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, আফগান বিমান বাহিনী বেশ কয়েকটি পাকিস্তান সামরিক ঘাঁটিতে নির্ভুলভাবেই হামলা চালিয়ে ৩৫ জন পাকিস্তানি সেনাকে খতম করেছে। এমনকি অপারেশন সিঁদুরে ধ্বংসপ্রাপ্ত নূর খান ঘাঁটিতেও চালানো হয়েছে হামলা।

    পাকিস্তান জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা আফগানিস্তানের

    সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, রাওয়ালপিণ্ডির নূর খান বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। এমনকি বেলুচিস্তানের কোয়েটায় ১২ তম ডিভিশনের সদর দফতর এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার মোহাম্মদ এজেন্সি খোয়াজাই ক্যাম্পেও বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এমনকি পাকিস্তানের আরও বেশ কয়েকটি সামরিক ক্যাডার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যাতে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, তাদের এই অভিযান পাকিস্তান বাহিনীর সাম্প্রতিক অনুপ্রবেশেরই প্রতিশোধ। কারণ, পাকিস্তান সম্প্রতি আফগানিস্তানের কাবুল আর বাগরাম বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। এমনকি আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট বলেছে, যদি পাকিস্তান আবারও আকাশসীমা লঙ্ঘন করে তাহলে বড়সড় হামলা চালানো হবে।

    এদিকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করে পাকিস্তান। তাতে আরও উত্তেজনা বাড়ে। এমনকি শুক্রবার পাকিস্তান কাবুল এবং কান্দাহারেও বিমান হামলা চালিয়েছিল। আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আফগান সেনাবাহিনী পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের করা অপারেশন সিঁদুরে নূর খান বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ধরা হয়েছিল। সেই আক্রমণে ওই ঘাঁটির অবকাঠামো পুরো ভেঙে পড়ে। আর সেখানেই এবার হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান।

    আরও পড়ুন: ERO, AERO-র বদান্যতায় বিচারাধীন বিশ্বকাপজয়ী রিচা ঘোষের নাম, জানিয়ে দিল কমিশন

    টোলো নিউজ দাবি করছে, তালেবানদের হামলায় ৩২ জন পাকিস্তানি সেনা খতম হয়েছে। এমনকি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তাদের ২০৩ মানসুরি, ২০১ সিলাব এবং ২০৫ আল-বদর কর্পস এই অভিযান চালিয়েছে। তাতে ১০ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছে। পাশাপাশি চারটি সামরিক পোস্ট পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। আর আফগান সেনাবাহিনী দুটি পাকিস্তানি ড্রোনও নিচে নামিয়ে আনে। এখন দেখার দুই দেশের পরিস্থিতি ঠিক কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।