প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দোরগোড়ায় এসে গিয়েছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), তাই সকল প্রার্থী নাম ঘোষণার পর শুরু করে দিয়েছে ভোটের প্রচার। গতকাল অর্থাৎ রবিবার থেকেই নির্বাচনের প্রচার শুরু করে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ত্রুটি রাখছে না কোনো পরিকল্পনায়। এমতাবস্থায় ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রতি কড়া নির্দেশ দিল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে (Abhishek Banerjee)। অন্তত ৬০ হাজার ভোটে জেতানোর টার্গেট বেঁধে দিলেন অভিষেক।
বৈঠকে মমতা অভিষেক
রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ রবিবার সন্ধ্যায় চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে কর্মীদের নিয়ে ভবানীপুরের নির্বাচনী সভা ডেকেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বৈঠকে ছিলেন তৃণমূল কাউন্সিলর থেকে ব্লক স্তরের নেতানেত্রীরাও। সেখানে সকল কর্মীদের সতর্কবার্তা দিলেন মমতা-অভিষেক। এদিন অভিষেক দলীয় নেতাকর্মীদের শিথিলতা, নিষ্ক্রিয়তা, আত্মতুষ্টিতে না-ভুগে কাজ করার বার্তা দেন। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, “ কলকাতার মধ্যে ‘ফার্স্টবয়’ করতে হবে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে। অন্তত ৬০ হাজার ভোটে জেতাতে হবে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর সে ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে হবে কর্মীদেরই।”
ভোট প্রচার কৌশল নিয়ে নির্দেশ অভিষেকের
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মীদের প্রচার প্রক্রিয়া নিয়ে জানান, “কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কথা মানুষের কাছে তুলে ধরুন। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছে ওরা সেটা বলুন। একবার নয় মানুষের কাছে তিনবার যান। দিদির ১০ প্রতিজ্ঞার কথা জানান। নিজেদের বুথ আগলাতে হবে অতন্দ্র প্রহরীর মতো। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ২৮৭টি বুথ রয়েছে। উপনির্বাচনে মমতা যখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তখন ২৩১টি বুথে তৃণমূল জয় পেয়েছিল। এ বার সেই সংখ্যাকে ছাপিয়ে যেতে হবে।” অন্যদিকে নিজের কেন্দ্রের ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃদু সমালোচনা করেছেন কাউন্সিলরদের। তাঁর অভিযোগ, কাউন্সিলদের সক্রিয়তা লোকসভা বা বিধানসভা ভোটে দেখা যায় না। কিন্তু এ বার এই ‘কর্মসংস্কৃতি’ বদলাতে হবে, একনিষ্ঠ হয়ে কাজ করতে হবে।
লোডশেডিং নিয়ে সতর্ক মমতার
গতবার নন্দীগ্রামে ১৯৫৬ ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেবার তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, গণনাকেন্দ্রে লোডশেডিং করে গরমিল করেছিল নাকি বিজেপি। তাই এবার তৃণমূল নেত্রীর মুখে সেই প্রসঙ্গ উঠে এল। এবারও নেত্রীর আশঙ্কা, তেমন কিছু ঘটানো হতে পারে। তাই বৈঠকে গতকাল সাবধানবাণী দেন তিনি। মমতা বলেন, ‘সতর্ক থাকুন। ভোট শেষ হলেই বাড়ি যাবেন না। লোডশেডিং করে দিতে পারে। স্ট্রংরুমে নজর রাখবেন।’ অর্থাৎ কে কী করছেন, কী করছেন না কোনও কিছুই দলীয় শীর্ষনেতৃত্বের নজরের বাইরে থাকবে না বলে জানিয়ে দিল শীর্ষ নেতৃত্ব।
আরও পড়ুন: স্ট্রেচার না পেয়ে হাঁটতে গিয়ে মৃত্যু! ফের আরজি করের ট্রমা কেয়ার নিয়ে চরম অভিযোগ
প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী ভবানীপুরের প্রিয়নাথ মল্লিক রোডের কার্যালয়ে তৃণমূল কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। সেখানে ভোটের প্রচারের রণনীতি ঠিক করে দেওয়ার পাশাপাশি, নতুন একটি স্লোগান ব্যবহার করতে নির্দেশ দেন রাজ্য সভাপতি। আর সেটি হল ‘বাংলার উন্নয়ন ঘরে ঘরে, ঘরের মেয়ে ভবানীপুরে’। এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন। আগামীকাল সেখানে তাঁর তিনটি জনসভা করার কথা। অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও আগামীকাল থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রচারে নামছেন।







