Category: পশ্চিমবঙ্গ

  • IPAC মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ফের বাড়তি সময় চাইল রাজ্য সরকার

    IPAC মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ফের বাড়তি সময় চাইল রাজ্য সরকার

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভোটের আবহে ফের খবরের শিরোনামে উঠে এল IPAC মামলা (IPAC ED Case)। আজ সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানি শুরু হলে ফের বিতর্কের মুখে পড়ে রাজ্য। জানা গিয়েছে ইডির হলফনামার জবাব জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়েছে। আর তাই নিয়ে বিরোধিতা করল ED। ভোটের ঠিক আগেই আই-প্যাককে ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্যের টানাপোড়েন এখন চরমে। এমতাবস্থায় ED-র অভিযোগের উত্তর দিতে রাজ্য সরকারকে সময় দিল সর্বোচ্চ আদালত।

    IPAC মামলার শুনানি সুপ্রিম কোর্টে

    আজ বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং এন ভি আঞ্জারিয়া-র বেঞ্চে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এদিন শুনানির সময় পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইডির হলফনামার জবাব জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়েছে। তবে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, এই মামলাকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে রাজ্য। ইডি ইতিমধ্যেই দুই সপ্তাহ আগে তাদের প্রতিক্রিয়া আদালতে দাখিল করেছে। এদিন আইপ্যাক মামলা স্থগিত করার রাজ্যের সিদ্ধান্তকে খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে ইডির অভিযোগের জবাব দিতে রাজ্যকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

    বিরোধিতা করল কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর

    রিপোর্ট মোতাবেক আজ রাজ্যের তরফে ইডির মামলার যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়। আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী বলেন, “আমরা মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুনানি চাই।” এরপরই বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রর তরফে বলা হয়, “শুনানি শুরু করা হোক। আপনারা (রাজ্য) ইডির পাল্টা হলফনামা জমা দিতে চাইছেন। আবার মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন? আপনাদের মূল অবস্থান কী?” কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল সময় চাওয়ার আর্জির বিরোধিতা করে বলেন, “এটা অত্যন্ত আশ্চর্যজনক যে, একজন মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে হস্তক্ষেপ করছেন। আর এখন আবার মামলার শুনানিতে দেরি করা হচ্ছে?” এরপরই দুই পক্ষের উদ্দেশেই বিচারপতি বলেন, “শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার লড়াই চলছে না। আপনারা সওয়াল শুরু করুন।”

    আরও পড়ুন: ‘অবৈধভাবে পশ্চিমবঙ্গে আটক স্ত্রী’, উদ্ধারের দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ বাংলাদেশি নাগরিক

    মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবীর অতিরিক্ত সময়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র বলেন, “চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। আপনারা এত দিনেও কেন পাল্টা জবাব দিলেন না?” যদিও পড়ে ইডির অভিযোগের জবাব দিতে রাজ্যকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এদিকে ইডি ইতিমধ্যেই দুই সপ্তাহ আগে তাদের প্রতিক্রিয়া আদালতে দাখিল করেছে। যেখানে বলা হয়, নথি নেওয়ার আগে কোনও তদন্তকারী আধিকারিকের অনুমতি নেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে নথিগুলি নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা তৃণমূলের নাকি কয়লাপাচারের সে সম্পর্কে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এছাড়াও ED এও দাবি করেছিল যে ইডি র আধিকারিকদের কাজে বাধা দিয়ে মৌলিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে।

  • ‘অবৈধভাবে পশ্চিমবঙ্গে আটক স্ত্রী’, উদ্ধারের দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ বাংলাদেশি নাগরিক

    ‘অবৈধভাবে পশ্চিমবঙ্গে আটক স্ত্রী’, উদ্ধারের দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ বাংলাদেশি নাগরিক

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলাদেশে বিয়ের (Bangladesh Marriage Case) পর অবৈধভাবে সেই মেয়েকে ভারতে নিয়ে আসে তাঁর পরিবার। সেই সূত্রে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হলেন বাংলাদেশি যুবক অরিজিৎ সরকার। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন সূত্রে খবর, বিয়ের পরপরই মেয়েটির পরিবার তাঁকে জোরপূর্বক পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসে। আর এখানেই তাঁকে আটকে রেখে দেয় এবং স্বামীর সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ করতে দেয় না। কার্যত একটি মেসেজের জন্যই অপেক্ষা করে থাকে সেই যুবক। কিন্তু কোনও রকম যোগাযোগ করাও সম্ভব হয় না। জানুন সবটা।

    জোরপূর্বক বাংলাদেশি মেয়েকে বাংলায় নিয়ে আসলো পরিবার

    অরিজিৎ সরকার নামের ওই যুবকের বক্তব্য অনুযায়ী, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর সঙ্গে বিয়ে হয় ১৯ বছর বয়সী মৌমি সাহার। ঢাকাতে হিন্দু রীতি মেনে একটি মন্দিরেই তাঁদের বিয়ে হয়। কিন্তু এক মাস কাটতে না কাটতেই মেয়ের বাবা-মা কোনও এক অজুহাত দিয়ে তাঁকে জোরপূর্বক বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসেন। তাঁর দাবি, ঢাকা বিভাগের নরসিংদী নিকটবর্তী মধ্যকান্দা এলাকার প্রতিবেশী ছিলেন তাঁর স্ত্রী, এবং বিয়ের দু’বছর আগে ধরেই তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

    অরিজিৎ এর বক্তব্য, অক্টোবর মাসের পরিবার তাঁকে অবৈধভাবে ভারতে নিয়ে এসে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিরাটিতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আটকে রাখেন। এমনকি বাইরের জগতের সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ঘরবন্দী থাকাকালীন কোনও উপায়ে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাঁর স্ত্রী নিজের লোকেশন পাঠান। সেই সূত্রে ২০২৬-এর জানুয়ারি মাসে তিনি বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় আসেন। তারপরেই একাধিক টানাপড়েনের পর অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হন তিনি। তাঁর দাবি, যেহেতু তাঁর কাছে কোনও রকম বৈধ নথিপত্র ছিল না, তাই বাংলাদেশ হাই কমিশনার বা স্থানীয় পুলিশের কাছে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম, যাতে তাঁরা আমাকে বাংলাদেশে ফিরে যেতে সহায়তা করে।

    আরও পড়ুন: ভোটের আবহে বাড়ছে উদ্বেগ, বীরভূমে উদ্ধার অসংখ্য বিস্ফোরক, আতঙ্ক নলহাটিতে

    এমনকি তিনি আরও বলেন যে, আমি প্রতিদিন তাঁর কাছ থেকে একটি মেসেজের অপেক্ষায় থাকি। কিন্তু কোনও খবরই আসে না। তাঁর সঙ্গে আমার কোনও যোগাযোগ করতে দেওয়া হয় না। বাধ্য হয়ে ব্যারাকপুর নিমতা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। এরপর ৭ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশনারের দ্বারস্থ হন। তারপর ৯ জানুয়ারি ইমেলের মাধ্যমে তাঁকে স্থানীয় থানায় এফআইআর দায়ের করার করতে বলা হয়। সেই সূত্রে গত তিনি ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তবে সেখানেও কোনও রকম কাজের কাজ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। যার ফলে গত ১০ মার্চ কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হন অরিজিৎ। তাঁর বক্তব্য, চলতি সপ্তাহে এই মামলাটির শুনানি হতে পারে।

  • কলেজ শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে অনিয়ম! বিতর্ক উঠতেই চিন্তায় চাকরিপ্রার্থীরা

    কলেজ শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে অনিয়ম! বিতর্ক উঠতেই চিন্তায় চাকরিপ্রার্থীরা

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নিয়োগ দুর্নীতি নিতে এখনও চর্চার শিখরে রয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। রাতারাতি চাকরিহারা হয়ে পড়েছিল প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মী। এখন পুনরায় পরীক্ষা দিতে হচ্ছে তাঁদের। স্বাভাবিকভাবেই রেশ কাটেনি সেই আতঙ্কের। এবার কলেজ নিয়োগেও দেখা যাচ্ছে অস্বচ্ছতা। গত ফেব্রুয়ারিতে কলেজ শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি (College Teacher Recruitment Notification) জারি করেছে কমিশন। আর সেখানে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন আবেদনকারীদের একাংশ। অভিযোগ UGC র অনেক নিয়ম নাকি মানা হয়নি।

    কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অস্বচ্ছতা

    জানা গিয়েছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সরকারপোষিত কলেজগুলির জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। সেই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন জমা দেওয়া যাবে। কিন্তু বেশ কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি UGC নিয়ম মানছে না। প্রথমত, কত শূন্যপদে নিয়োগ হবে তার কোনও তালিকা দেওয়া হয়নি। এক একটি শূন্যপদের জন্য কতজন আবেদনকারীকে ডাকা হবে, কেন নিয়োগ সে সব বিষয়ে কোনও উল্লেখ নেই। আর তাতেই চিন্তা বাড়ছে আবেদনকারী প্রার্থীদের। তাঁদের একাংশের অভিযোগ অন্তত তিনটি ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠতে পারে ভবিষ্যতে।

    মানা হচ্ছে না একাধিক নিয়ম

    ইউজিসি-র নিয়ম অনুযায়ী কলেজে নিয়োগের জন্য বয়সের কোনও ঊর্ধ্বসীমা থাকে না। কিন্তু কলেজ সার্ভিস কমিশন বয়ঃসীমা ৪০ হিসেবে উল্লেখ করেছে। অথচ, যোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষা নেট বা সেট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বয়ঃসীমা নেই। এখানেই শেষ নয়, নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীর ‘অ্যাকাডেমিক স্কোর ডিভিশন’-এর উল্লেখ করা নেই। এদিকে UGC-র নিয়ম অনুযায়ী, এই ভাগের উল্লেখ থাকা একান্ত প্রয়োজন। এইরূপ একের পর এক ত্রুটি থাকায় প্রার্থীদের মাঝপথে চাকরি চলে যাওয়ার আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাই সেই ভয় নিয়ে তাঁরা ই-মেল করে কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে নিয়োগের ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

    আরও পড়ুন: ভোটের আবহে বাড়ছে উদ্বেগ, বীরভূমে উদ্ধার অসংখ্য বিস্ফোরক, আতঙ্ক নলহাটিতে

    শেষ আপডেট অনুযায়ী, নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক প্রার্থী জানান, কলেজ সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানকে ই-মেল করে তাঁরা বিষয়গুলি জানিয়েছেন। কিন্তু কোনও জবাব আসেনি। যদিও কমিশনের তরফে এ সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। সূত্রের খবর নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কমিশনের এক কর্তা জানিয়েছেন, “যা হয়েছে তা ইউজিসি-র বিধি অনুযায়ী হয়েছে। এর আগেও শূন্যপদ প্রকাশ না করেই বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সকল আবেদনকারীকে ইন্টারভিউয়ে ডাকা হয়।” আসলে ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিল হয়ে যাওয়ায় সকলেই বেশ আতঙ্কিত তাই এবার সেই ছায়া যাতে কলেজ নিয়োগের ক্ষেত্রে না পরে তাই এই ই-মেল।

  • ইতিহাস গড়লেন TTE, বিনা টিকিটে যাত্রীদের ধরে একদিনেই ২.৫৭ লাখ আদায় রেলের

    ইতিহাস গড়লেন TTE, বিনা টিকিটে যাত্রীদের ধরে একদিনেই ২.৫৭ লাখ আদায় রেলের

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ (Without Ticket) করা দণ্ডনীয় অপরাধ। দেশের এমন কোনও রেল স্টেশন হয়তো বাকি নেই যেখানে বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি বা অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষায় এই ঘোষণা করা হয়নি রেলের (Indian Railways) তরফে। তারপরেও এমন বহু মানুষ আছেন যারা কিনা রেলের এই বার্তা কানে তোলেন না। সেই স্বভাবসিদ্ধ বিনা টিকিটেই ভ্রমণ করবেন। অনেকে আছেন এতে সাফল্যও পান তো কপাল খারাপ থাকলে টিকিট পরিক্ষকের হাতে ধরা পরেন। এরই মাঝে জরিমানা হিসেবে ভুসাওয়াল রেলওয়ে বিভাগ নয়া নজির গড়ল।

    একদিনে ২.৫৭ লাখ টাকা আদায় করল রেল

    মধ্য রেলওয়ে জোনের ভুসাওয়াল রেলওয়ে বিভাগের টিকিট পরীক্ষকরা সম্প্রতি ৭৮টি এরকম কেস হাতে পেয়েছেন। সকলেই বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ করছিলেন বলে খবর। টিটিই-রা নাকি এক দিনে ২.৫৭ লাখ টাকা আদায় করেছেন যাত্রীদের কাছে থেকে। শুনে আকাশ থেকে পড়লেন তো? কিন্তু এটাই সত্যি।

    আরও পড়ুনঃ সোনা, রুপোর দামে ফের মহা পরিবর্তন! বাড়ল না কমল? আজকের রেট

    জানা গিয়েছে, শ্রী চি.পি. বাধে নামের এক টিটিই গত ১৫ মার্চ, ২০২৬-এ একটি আকস্মিক অভিযান চালান। আর এই অভিযান চলাকালীন বিনা টিকিটে ভ্রমণ করছেন বা অবৈধভাবে সিট দখল করে বসে আছেন, এরকম অনেককে পাকড়াও করে তাঁদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করেছেন। আর এই ঘটনা রেলের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা তা বলাই বাহুল্য। ডিআরএম ভুসাওয়াল এই তথ্য সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। একদিনে ২.৫৭ লাখ টাকা আদায় করা কিন্তু মুখের কথা নয়। হিসেব করলে দেখা যাবে, প্রতি ব্যক্তির কাছ থেকে ওই টিটিই ৩২৯৪ টাকা আদায় করেছেন।

    কী বলছেন সাধারণ মানুষ?

    এদিকে এক্স হ্যান্ডেলে আবার অনেকে এমন কিছু ট্রেনের তালিকা মানুষ তুলে ধরেছেন যেখানে রেল যদি অভিযান চালায় তাহলে ১ কোটি টাকা অবধি জরিমানা হিসেবে তুলতে পারে। যেমন ট্রেন নম্বর ১২৩৫৯/১২৩৬০ গরীব রথ, ১৩০৩১/২২ মিথিলা এক্সপ্রেস, ১৫০৪৮/৪৭ সমস্তিপুর-মানাসী-সহস্রার মধ্যে হানা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই ট্রেনগুলিতে নাকি অনেকে বিনা টিকিটে কিংবা অবৈধভাবে ভ্রমণ করেন। তাই দিল্লি থেকে রেলের টিম পাঠিয়ে অভিযান চালানো হয় তাহলে মাসে ১ কোটি টাকা আদায় করতে পারবে রেল।

     

  • ভোটের আবহে বাড়ছে উদ্বেগ, বীরভূমে উদ্ধার অসংখ্য বিস্ফোরক, আতঙ্ক নলহাটিতে

    ভোটের আবহে বাড়ছে উদ্বেগ, বীরভূমে উদ্ধার অসংখ্য বিস্ফোরক, আতঙ্ক নলহাটিতে

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Election 2026) লক্ষ্য করে মঙ্গলবার বিকেলে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রীতিমত এক চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে জেলায় জেলায়। এই অবস্থায় মঙ্গলবার রাতেই বীরভূমে (Birbhum) ট্রাক্টর বোঝাই বিস্ফোরক উদ্ধার করল পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ ভোটের দিন ঘোষণা হতে না হতেই এলাকায় বিস্ফোরক উদ্ধার হচ্ছে তাহলে আগামী দিন কী অপেক্ষা করছে। ঘটনায় তদন্তে নেমেছে নলহাটি (Nalhati) থানার পুলিশ।

    ঠিক কী ঘটেছিল?

    রিপোর্ট মোতাবেক, বীরভূমের নলহাটিতে একটি ট্রাক্টর থেকে প্রায় ১০ হাজার জিলেটিন স্টিক ও ৩৬০টি ডিটোনেটর উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। অভিযোগ, গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার রাতেই অনেকগুলো বাক্স বোঝাই ট্রাক্টর দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। আর সেই সন্দেহ থেকেই আচমকা ট্রাক্টর আটকায় বাসিন্দারা এবং সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় থানায়। এরপরই পুলিশ এসে এই বাক্স খুলতেই দেখে বিস্ফোরক, এক এক করে সবকটাই উদ্ধার করা হয়। আর এই অবস্থায় সুযোগ বুঝে পালিয়েছেন ট্রাক্টর চালক, খোঁজ চলছে তাঁর। এছাড়াও কোথা থেকে এই বিস্ফোরক আনা হয়েছে এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সবটাই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    টিকিট না পাওয়ায় ক্ষোভ বিধায়কদের

    নির্বাচনের দিন ঘোষণা হতেই রাজ্য জুড়ে এক চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এক এক করে সমস্ত রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে আনছে প্রার্থীদের তালিকা। গত সোমবার বিজেপি প্রথম দফায় ১৯২ আসনে এবং গতকাল তৃণমূল ২৯১টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। প্রার্থীদের নাম ঘোষণার সময়ই জয়ের টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে বিভিন্ন জেলায় দেখা গেল প্রার্থী নিয়ে বিক্ষোভ। দলের টিকিট না মেলায় দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন চুঁচুড়ার তিনবারের বিধায়ক অসিত মজুমদার। দল ছাড়তে চলেছেন তিনি। এছাড়াও হাওড়া শিবপুরের বিধায়ক মনোজ তিওয়ারি, জোড়াসাঁকোর বিধায়ক বিবেক গুপ্ত, মালদহের কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী, সাবিত্রী মিত্র, রত্না দে নাগ, পরেশ পাল-সহ ৭৩ জন বর্তমান বিধায়ক টিকিট পায়নি।

    আরও পড়ুন: শুভেন্দুর বিরুদ্ধে তৃণমূলের ‘বাজি’ পবিত্র কর, চিনে নিন নন্দীগ্রামের প্রার্থীকে

    প্রসঙ্গত, তৃণমূলের বর্তমান বিধায়কদের মধ্যে যে অনেকেই টিকিট পাবেন না সেই বিষয়ে আগেই আভাস দিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাই হল। কালীঘাট সূত্রে বলা হচ্ছে, স্থানীয় স্তরে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা মোকাবিলার জন্যই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। অর্থাৎ ওই সকল এলাকায় বর্তমান বিধায়ককে ফের প্রার্থী করলে হেরে যেতে পারত। তা ঠেকাতেই প্রার্থী বদল করা হয়েছে। শুধু বর্তমান বিধায়কদের টিকিট না দেওয়া নয়, কিছু বর্তমান বিধায়কের আসন বদলও হয়েছে।

  • শিয়ালদা লাইনে একাধিক স্পেশাল ট্রেনের ঘোষণা পূর্ব রেলের, দেখুন সময়সূচি

    শিয়ালদা লাইনে একাধিক স্পেশাল ট্রেনের ঘোষণা পূর্ব রেলের, দেখুন সময়সূচি

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ গরমের ছুটি পড়তে বেশিদিন সময়ে নেই। আর গরমের ছুটি মানেই কোথাও না কোথাও ঘুরতে যাওয়া। এদিকে ট্রেনে ভিড় যেম কমতেই চাইছে না। এহেন পরিস্থিতিতে শিয়ালদা ডিভিশনে (Sealdah) বেশ কিছু স্পেশাল ট্রেন চালানোর ঘোষণা করল পূর্ব রেল (Eastern Railway)। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। যাত্রীদের উন্নততর সুবিধা প্রদান করতে এবং ওয়েটিং লিস্টের সমস্যা কমাতে মূলত রেলের এহেন সিদ্ধান্ত। আগামী ১৯, ২০ এবং ২২ মার্চ বিশেষ ট্রেন চালাবে রেল। নিশ্চয়ই ভাবছেন কোন রুটে? তাহলে বিশদে জানতে চোখ রাখুন আজকের এই প্রতিবেদনটির ওপর।

    শিয়ালদা-লালগোলা রুটে একাধিক ট্রেনের ঘোষণা রেলের

    আর অপেক্ষা না করে জানিয়ে রাখি, শিয়ালদা,লালগোলা, রাণাঘাট রুটে বিশেষ ট্রেনগুলি চলবে আগামী তিনদিন। চলতি সপ্তাহেই রয়েছে ঈদ। আর এই সময়ে অনেকেই আছেন বাড়ি ফিরবেন। অনেকে আবার ফিরতেও শুরু করে দিয়েছেন। ট্রেনে রীতিমতো পা রাখার জায়গা নেই। সমস্যা বাড়ছে যাত্রীদের। তবে চিন্তা নেই। সবকিছু মাথায় রেখে আগামী ৩ দিন ৬টি স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। চলুন জেনে নেবেন ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কে।

    এক নজরে ট্রেনের সময়সূচী

    রেলের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার শিয়ালদা-লালগোলা স্পেশাল সকাল ১১:৫৫ মিনিটে শিয়ালদা থেকে ছাড়বে। এরপর লালগোলায় পৌঁছাবে বিকেল ৪ টে ৫৫ মিনিটে। এছাড়া লালগোলা-রানাঘাট স্পেশাল লোকাল বিকেল ৫:৪৫ মিনিটে লালগোলা থেকে ছাড়বে। এরপর সেটি রাত ৯:০২ মিনিটে রানাঘাটে পৌঁছাবে। এরপর শুক্রবার শিয়ালদা-লালগোলা স্পেশাল লোকাল শিয়ালদা থেকে ছাড়বে দুপুর ৩:২০ মিনিটে। এরপর সেটি লালগোলায় রাত ৮:২০ মিনিটে পৌঁছাবে।

    আরও পড়ুনঃ নবান্নর DA বিজ্ঞপ্তি নিয়ে ক্ষোভ, এরা আদৌ পাবেন মহার্ঘ ভাতা? ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

    এছাড়াও সেদিনই আবার লালগোলা-শিয়ালদা স্পেশাল লোকাল ট্রেনটি ভোর ৪:৫০ মিনিটে লালগোলা থেকে ছাড়বে। সেটি শিয়ালদায় ঢুকবে সকাল ৯:৫৫ মিনিটে। রবিবার ছুটির দিন রানাঘাট-লালগোলা স্পেশাল লোকাল সকাল ৯:৫০ মিনিটে রানাঘাট স্টেশন থেকে ছাড়বে। এরপর সেটি বেলা ১২:৫০ মিনিটে লালগোলায় ঢুকবে। লালগোলা-শিয়ালদা স্পেশাল লোকাল ট্রেন দুপুর ২:১৫ মিনিটে লালগোলা থেকে ছাড়বে। সেটি সন্ধ্যা ৭ টা ১০ মিনিটে শিয়ালদায় পৌঁছাবে।

  • নবান্নর DA বিজ্ঞপ্তি নিয়ে ক্ষোভ, এরা আদৌ পাবেন মহার্ঘ ভাতা? ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

    নবান্নর DA বিজ্ঞপ্তি নিয়ে ক্ষোভ, এরা আদৌ পাবেন মহার্ঘ ভাতা? ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

    সহেলি মিত্র, কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে বকেয়া ডিএ (Dearness allowance) দেওয়ার ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। চলতি মার্চ মাসেই প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। যদিও এসবের  মাঝেই এক নয়া আশঙ্কায় ভুগতে শুরু করেছেন সরকারি কর্মীরা। বিশেষ করে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীরা টাকাটা আদৌ পাবেন কিনা তা নিয়ে ধন্ধে রয়েছেন সকলে। এই সংশয় নিয়েই এবার সকলে নতুন করে আন্দোলনে সামিল হতে চলেছেন। শুনে চমকে গেলে তো? কিন্তু এটাই সত্যি।

    ডিএ নিয়ে ফের পথে নামছে শিক্ষক সমাজ

    শিক্ষক সমাজের দাবি, রাজ্য সরকারের অর্থ দফতরের তরফে DA সংক্রান্ত যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে সেখানে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার বিষয়ে খোলসা করে কিছু বলা নেই। যে কারণে তারা টাকা পাবেন কিনা সেই নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছেন সকলে। তাঁরা টাকা নাও পেতে পারেন, এই আশঙ্কা তাঁদের তাড়া করে বেরাচ্ছে। ফলে নতুন করে আন্দোলনে সামিল হতে চলেছেন তাঁরা বলে খবর।

    এক শিক্ষক দাবি করেছেন, অর্থ দফতরের তরফে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত এবং পৌরসভার মতো স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থার অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের ২০১৮-এর এপ্রিল থেকে ২০১৯-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত মহার্ঘ ভাতার পরিমাণ কত, তা উল্লেখ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট বিভাগ এই হিসাব জানাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানেই যত সংশয় তৈরি হয়েছে সংশয়। তা হলে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা পাবেন না তাঁরা? স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।

    বিজ্ঞপ্তি জারি সরকারের

    সোমবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দফতরের এক বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, নবান্ন রাজ্য কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতার  বকেয়া একাধিক ধাপে পরিশোধ করবে। ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের এই বকেয়ার কথা রবিবার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও সরকার জানিয়েছে মার ৪৮ মাসের বকেয়া আগে শোধ করা হবে। তারপরে বাকিটা কবে কী শোধ করা হবে তা পরে জানাবে সরকার।

    আরও পড়ুনঃ আকাশ কালো করে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী, ৫ জেলায় প্রবল বৃষ্টি! আজকের আবহাওয়া

    সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে, সর্বভারতীয় ভোক্তা মূল্য সূচকের ভিত্তিতে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া গণনা করা হবে। এই অর্থ দুটি কিস্তিতে প্রদান করা হবে প্রথমটি ২০২৬ সালের মার্চ মাসে এবং দ্বিতীয়টি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন মনিটরিং কমিটি কর্তৃক মোট বকেয়ার চূড়ান্ত নির্ধারণের ওপর এই অর্থপ্রদান নির্ভরশীল থাকবে। এই বিষয়ে বড় মন্তব্য করেছেন শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী। তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রেও মার্চের মধ্যে নির্ধারিত বকেয়া মিটিয়ে দিতেই হবে। সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে কোন‌ও ভাবেই বিভাজন চলবে না। শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে ধোঁয়াশা রেখে শাসকদলের ভোট বৈতরণী পেরোনোর কৌশল কোন‌ওমতেই মেনে নেব না আমরা।”

  • ৭৪ জন বর্তমান বিধায়ককে টিকিট দিল না তৃণমূল, আসন বদল হল কাদের? দেখুন

    ৭৪ জন বর্তমান বিধায়ককে টিকিট দিল না তৃণমূল, আসন বদল হল কাদের? দেখুন

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: কথামতোই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস (West Bengal Assembly Election)। মঙ্গলবার বিকেলে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেই তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয়, সেই তালিকায় নাম নেই একাধিক বর্তমান বিধায়কের। হাওড়া শিবপুরের বিধায়ক মনোজ তিওয়ারি থেকে শুরু করে পরেশ পালের মতো 74 জন সিটিং MLA শাসক দলের টিকিট পাননি।

    74 জন তৃণমূল বিধায়কের নাম নেই প্রার্থী তালিকায়

    নির্বাচন ঘোষণার আগে জল্পনা বেড়েছিল বহু বিধায়কের টিকিট পাওয়া নিয়ে। তাছাড়াও অনেকেই ভেবেছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মতো বিধায়করা নিজেদের কেন্দ্র থেকে এ বছর আর লড়তে পারবেন না। তবে হয়েছে তার উল্টো। শিবপুরের বিধায়ক মনোজ তিওয়ারি, জোড়াসাঁকর বিধায়ক বিবেক গুপ্ত, মালদহের কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরি থেকে শুরু করে রত্না দে নাগ, পরেশ পাল, সাবিত্রী মিত্রর মতো মোট 74 জন বর্তমান বিধায়ক এবারের প্রার্থী তালিকায় জায়গা পাননি।

    বলাই বাহুল্য, উল্লিখিত নাম গুলি ছাড়াও 74 জনের তালিকায় নাম রয়েছে বলাগড়ের মনোরঞ্জন ব্যাপারী, চুঁচুড়ার অসিত মজুমদার, সপ্তগ্রামের তপন দাশগুপ্ত, শ্রীরামপুরের ডক্টর সুদীপ্ত রায়, ডোমজুড়ের কল্যাণ ঘোষদের। হিসেব বলছে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে সবমিলিয়ে 33 শতাংশ বিধায়ককেই নতুন করে টিকিট দেয়নি, দল তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও এ নিয়ে আগেই হালকা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

    এ প্রসঙ্গে দলীয় সূত্রে খবর, স্থানীয় স্তরের কিছু বিরোধিতার কারণেই এ বছর নতুন করে টিকিট পেলেন না 74 জন বিধায়ক। শোনা যাচ্ছে, নতুন করে তাঁদের টিকিট দেওয়া হলে হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেই দিক মাথায় রেখেই বর্তমান বিধায়কদের ফের প্রার্থী তালিকায় জায়গা দেয়নি তৃণমূল কংগ্রেস।

    আসন বদলেছে বহু বিধায়কের

    এদিকে বর্তমান বিধায়কদের মধ্যে অনেকেই টিকিট পেলেও আগের আসন থেকে লড়তে পারছেন না। সেই তালিকায় নাম রয়েছে 15 জনের। এদের মধ্যে বেহালা পূর্বের বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়কে পাঠানো হয়েছে বেহালা পশ্চিমে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে খড়দহ থেকে সরিয়ে নিয়ে বালিগঞ্জ বিধানসভার প্রার্থী করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য নাম শওকত মোল্লাকে ক্যানিংয়ের বদলে প্রার্থী করা হয়েছে ভাঙরে। একই সাথে ডেবরার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে মুর্শিদাবাদের ডোমকলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর বদলে ডেবরায় টিকিট পেয়েছেন সেচ এবং বন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।

    অবশ্যই পড়ুন: অধিনায়ক কে হবে ঘোষণা করে দিল KKR, নাম জানলে চমকে যাবেন

    বলে রাখি, বর্তমান বিধায়কদের মধ্যে এবছর 135 জন টিকিট পেয়েছেন। ওদিকে হাবড়ার জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে নিয়ে কানাঘুষা শোনা গিয়েছিল হয়তো এ বছর হাবড়া থেকে তাঁকে দাঁড় করানো হবে না। তবে সেসব জল্পনাতে কান না দিয়েই স্থানীয় স্তরে বালু দা হিসেবে পরিচিত নেতাকে ফের একই আসন থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। ওদিকে হাবড়ার সম্ভাব্যপ্রার্থীর তালিকায় থাকা কুনাল ঘোষ টিকিট পেয়েছেন বেলেঘাটায়। তবে ইমন চক্রবর্তীর মতো ব্যক্তিদের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও এখনই সেই পথে হাঁটেনি তৃণমূল।

  • দায়িত্ব নিয়েই অ্যাকশনে রাজ্যপাল, নিয়োগ নিয়ে চিঠি নবান্নে

    দায়িত্ব নিয়েই অ্যাকশনে রাজ্যপাল, নিয়োগ নিয়ে চিঠি নবান্নে

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে ভোটের (West Bengal Election 2026) নির্ঘণ্ট বেজে গিয়েছে। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দুই দফায় হতে চলেছে ভোট। গণনা হবে ৪ মে। আর এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নিলেন আর এন রবি (Governor RN Ravi)। জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে বিভিন্ন রীতি মেনে ঘোষণা করা হয় তাঁর নাম। এদিকে রাজ্যপালের দায়িত্ব গ্রহণ করার পরই প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে উদ্যোগী হলেন তিনি। নবান্নকে রাজভবনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে পাঠালেন চিঠি।

    নবান্নকে চিঠি রাজ্যপালের

    শুক্রবার, লোকভবন থেকে ইমেলের মাধ্যমে বার্তা পাঠানো হয়েছিল। সেখানে রাজ্যপালের সচিব পদে এক জন আইএএস আধিকারিক, বিশেষ সচিব পদে এক জন প্রোমোটি IAS, দু’জন যুগ্মসচিব এবং একটি ডেপুটি সচিব পদের জন্য তিন জন WBCS অফিসারের নাম চাওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে থেকে এক জনকে বেছে নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের জন্য নবান্নকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যপালের চিঠি পাওয়ার পরেই নবান্নের তরফে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহেই নবান্নের তরফে আধিকারিকদের নাম জানিয়ে দেওয়া হবে।

    সচিব পদ নিয়োগের জন্য বার্তা

    উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে রাজভবনের প্রশাসনিক কাঠামোয় কয়েকটি শূন্যপদ ছিল। যার মধ্যে অন্যতম হল রাজ্যপালের সচিব পদটি। যদিও প্রাক্তন রাজ্যপাল বোস এই পদে নতুন কাউকে নিয়োগে আগ্রহী ছিলেন না তাই প্রায় তিন বছর ধরে সচিববিহীন অবস্থাতেই লোকভবনের কাজকর্ম চলেছিল, তবে বর্তমান রাজ্যপাল এবার সকল শূন্যপদ পূরণ করতে চাইছে। প্রশাসনের একাংশের মতে, এই উদ্যোগে একদিকে যেমন রাজভবনের কাজের গতি বাড়বে ঠিক তেমনই নবান্নের সঙ্গে রাজভবনের সমন্বয়ও আরও মজবুত হবে।

    আরও পড়ুন: প্রতি দফায় ২ লাখ ৫০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, অশান্তি হলে … কড়া বার্তা কমিশনের

    প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই বাংলার রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সিভি আনন্দ বোস। এরপরেই স্থায়ী রাজ্যপাল হিসাবে নিয়োগ করা হয় রবীন্দ্র নারায়ণ রবিকে। তিনি এতদিন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসাবে কাজ করেছিলেন। সে রাজ্যে থাকাকালীন একাধিক ইস্যুতে ডিএমকে সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছেন আরএন রবি। বিশেষ করে একাধিক বিল নিয়ে সংঘাত চরমে ওঠে। এমনকি রাজ্যপালকে সরানোর জন্য একাধিকবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল। তাই এবার বাংলার রাজ্যপাল হিসাবে পদ সামলাচ্ছেন আর এন রবি।

  • প্রতি দফায় ২ লাখ ৫০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, অশান্তি হলে … কড়া বার্তা কমিশনের

    প্রতি দফায় ২ লাখ ৫০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, অশান্তি হলে … কড়া বার্তা কমিশনের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এই অবস্থায় রাজ্যে সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচন করার লক্ষ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে (Central Force) আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। সেক্ষেত্রে প্রতিটি পর্যায়ে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করতে পারে বলে মনে করছে কমিশন (Election Commission Of India)। পাশাপাশি, সতর্ক করা হয়েছে বাহিনীকে। সিইও জানান, যদি কোনও বুথের মধ্যে অশান্তি হয়, তবে তার দায় সিআরপিএফের।

    ভোট শৃঙ্খলা নিয়ে বড় পদক্ষেপ কমিশনের

    রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ সোমবার, মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, “যেহেতু বাংলায় এই নির্বাচন দুই দফায় হতে চলেছে তাই এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে চলেছে। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। তাই ভোটের প্রতিটি পর্যায়ে প্রায় ২,০০০ থেকে ২,৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন হতে পারে। ভোটকেন্দ্রে কোনও গন্ডগোল হলে তা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর। শুধু তাই নয়, কোনও অনৈতিক কাজকর্ম দেখলেও তারা সেটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবে।” অর্থাৎ প্রতি দফায় নিয়োগ করা হতে চলেছে ২ লাখ ৫০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান।

    গন্ডগোলের জন্য দায়ী থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী

    সতর্কবার্তা স্বরূপ মনোজ কুমার আগরওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, “সিআরপিএফ কোনও সুবিধা নেবে না। জেলাশাসকদেরও তেমনই নির্দেশ দেওয়া হবে। যদি কেউ সুবিধা নেয় তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। অতীতে সুবিধা নেওয়ার জন্য সিআরপিএফ কর্মীর শাস্তি হয়েছে। বুথের ভিতরে কোনও রকম অনিয়ম হলে বা কোনও ধরনের গন্ডগোলের জন্য দায়ী করা হবে সিআরপিএফ-কেই।” তাঁর কথায়, ‘‘রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে কোনও অসুবিধা হবে না। কারণ সেই সময় অন্য রাজ্যের ভোট শেষ হয়ে যাবে।’’ মনোজের কথায়, ‘‘শান্তিতে ভোট করানোর জন্য যে কোনও ধরনের সাহায্য করবে কমিশন। আধিকারিকদের শুধু সাহায্য চাইতে হবে।’’

    আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর প্রতিপক্ষ প্রায় চূড়ান্ত, কাকে মাঠে নামাচ্ছে তৃণমূল?

    অন্যদিকে ভোটের আগে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। তাই রাজ্যের প্রতিটি থানাকে তাদের এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে প্রতিটি থানার ওসিকে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে যদি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন পরে কমিশন তা করতে প্রস্তুত।