Category: পশ্চিমবঙ্গ

  • ভূমিকম্পের জেরে দুর্বল, দোলের সকালে পার্কস্ট্রিটে ভেঙে পড়ল ১৫০ বছরের পুরনো বাড়ি

    ভূমিকম্পের জেরে দুর্বল, দোলের সকালে পার্কস্ট্রিটে ভেঙে পড়ল ১৫০ বছরের পুরনো বাড়ি

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দোলের আবহে চারিদিকে উৎসবের আমেজ, কিন্তু তার মাঝেই ঘটে গেল ভয়ংকর বিপদ। মঙ্গলবার সকালে পার্ক স্ট্রিটে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল একটা বাড়ির একাংশ (Old House Breaks Down)। সৌভাগ্যবশত ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ না থাকায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু সাতসকালে এই ভয়ংকর ঘটনায় রীতিমত চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এলাকা জুড়ে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে এসেছে পার্কস্ট্রিট থানার বিশাল পুলিশবাহিনী।

    সাতসকালে ভেঙে পড়ল বাড়ি

    সাতসকালে আবির, রঙের মেজাজে যখন সকলে মাতোয়ারা, ঠিক সেই সময় পার্ক স্ট্রিটে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল প্রায় ১৫০ বছরের বাড়ির একটা একাংশ। বিকট শব্দে কেঁপে উঠল এলাকা। যদিও ঘটনার সময় বাড়িটিতে কেউ ছিলেন না। এমনকি ছুটির দিনে বাইরে কেউ না থাকার ফলে বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া গিয়েছে বলেই খবর স্থানীয়দের দাবি। এছাড়াও প্রত্যক্ষদর্শীরাও অভিযোগ করে আসছে যে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় একটা অংশ একেবারে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে বলে মনে করা হচ্ছে। এই অবস্থায় পার্কস্ট্রিট থানায় যোগাযোগ করা হয়।

    ভূমিকম্পের জেরে ভাঙল বাড়ি!

    স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার কলকাতায় ভূমিকম্প হয়ে যাওয়ার পরেই বাড়ির কাঠামো দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। সেই সময়েই বাড়ির কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। তার জেরেই এদিন সকালে ছাদের অংশ থেকে বাড়িটির একাংশ ভেঙে পড়ে। যদিও এখনও সঠিক কারণ জানা যায়নি যে কীভাবে ঘটনাটা ঘটল। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে এসেছে পুলিশ, ধ্বংসাবশেষ এর চারিদিকে আটকে দেওয়া হয়েছে। বাড়ির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এদিকে শহরে এমন বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। বারবার এই ধরনের ঘটনা ঘটায় সতর্কতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মনে।

    আরও পড়ুন: সফল হল ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের ট্রায়াল রান, কবে গড়াবে চাকা?

    প্রসঙ্গত, গতকাল অর্থাৎ সোমবার সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্ক মেট্রো স্টেশনের নীচে ভেঙে পড়েছিল কংক্রিটের চাঙড়। ভাগ্যক্রমে সেই সময় ওই জায়গায় কেউ যাতায়াত করছিল না তার ফলে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে এই ঘটনায় পথচারী এবং গাড়িচালকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রশ্ন ওঠে, ভূমিকম্পের জেরেই কি তবে স্টেশনের কংক্রিটের চাঙর ভেঙে পড়েছে? তবে এখনও এই বিষয়ে মেট্রোর তরফে স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি।

  • খামেনিকে কটূক্তি! ইউটিউবার বিষাক্ত ছেলের শাস্তির দাবিতে বসিরহাট থানায় তুলকালাম

    খামেনিকে কটূক্তি! ইউটিউবার বিষাক্ত ছেলের শাস্তির দাবিতে বসিরহাট থানায় তুলকালাম

    সৌভিক মুখার্জী, বসিরহাট: ইজরাইল এবং আমেরিকার যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনির মৃত্যুর পর তোলপাড় আন্তর্জাতিক মহল থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া। তাঁর মৃত্যুর প্রতিবাদে একাধিক দেশের একাধিক জায়গায় কর্মসূচির আয়োজন করেছে আমজনতা। সেই মতোই উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাটে প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে তা নিয়ে সরব হয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার প্রহ্লাদ মাইতি (Prahlad Maity) ওরফে ‘বিষাক্ত ছেলে’ একটি ভিডিও বানিয়েছিল। এবার তাঁর বিরুদ্ধেই বসিরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হল।

    ভিডিওতে কী বলেছিল বিষাক্ত ছেলে?

    সম্প্রতি প্রহ্লাদ মাইতি যে ভিডিওটি পোস্ট করেছিল সেখানে তিনি বলেন, কোথায় ৪০০০ থেকে ৫০০০ কিলোমিটার দূরে ইরান একটি দেশ। সেখানকার এক ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনিকে ইজরায়েল আর আমেরিকা মিলে মেরে দিয়েছে। আর খামেনি মহিলাদের উপর অত্যাচার করত এবং ইতিহাসের সবথেকে জঘন্যতম মানুষ ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর প্রতিবাদেই বাংলার মুসলিমরা পথে নেমেছে। যখন কাশ্মীরে জঙ্গি হামলা হয়েছিল তখন সবাই মুখে কুলুপ এঁটে ছিল। এমনকি আরজি কর ঘটনার সময়ও কাউকে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি। তবে জঘন্যতম এক মুসলিম নেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে বাংলার মানুষ এইভাবে ধর্নায় নামছে যা সত্যিই কুরুচিকর।

    তাঁর এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই একদিকে যেমন সমালোচনার ঢেউ বয়ে যায়, অন্যদিকে অনেকে প্রশংসাও করতে থাকে। কিন্তু প্রতিবাদকারীরা তাঁর বিরুদ্ধে গিয়েই বসিরহাট থানায় গতকাল প্রহ্লাদ মাইতি ওরফে বিষাক্ত ছেলের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় খামেনিকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেছে বিষাক্ত ছেলে। হ্যাঁ, তাদের স্পষ্ট দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল আলি খামিনিকে নিয়ে জঘন্যতম মন্তব্য করা হয়েছে। সেই প্রতিবাদেই তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তবে নেট নাগরিকরা এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছে। কেউ কেউ বলছে, এটা কোনও ইসলামিক দেশ নয়। এখানকার মানুষদের দেখছি ইরানের প্রতি দরদ উতলে উঠেছে।

    আরও পড়ুন: বাড়বে DA থেকে পেনশন, বাংলায় ৭ পে কমিশন গঠনের দিন ঘোষণা, তবে রয়েছে শর্ত

    বলাই বাহুল্য, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১ মার্চ মার্কিন এবং ইজরায়েল যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। এমনকি সেই ঘটনার পর ইরান সরকার ৪০ দিনে জাতীয় শোক আর ৭ দিনের সরকারি ছুটিও ঘোষণা করেছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিক বিবৃতি মিলেছে ইজরায়েল এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তরফ থেকে। আর এ নিয়ে এখন মধ্যপ্রাচ্ছে সংঘাত তুঙ্গে। ইরান একে একে আমেরিকা থেকে শুরু করে দুবাই, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান, ইয়ামেন, ইজরায়েলের উপর হামলা চালাচ্ছে। এমনকি অনেকেই এই পরিস্থিতিকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বলেও আখ্যা দিচ্ছে।

  • পেনশনভোগীদের চিকিৎসায় ২ লাখের বেশি খরচ হলেও মিলবে ক্যাশলেস সুবিধা

    পেনশনভোগীদের চিকিৎসায় ২ লাখের বেশি খরচ হলেও মিলবে ক্যাশলেস সুবিধা

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: রাজ্যের সরকারি পেনশনভোগীদের জন্য চরম সুখবর। এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের (Government Of West Bengal) স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতাল গুলিতে চিকিৎসার খরচ 2 লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেলেও মিলবে ক্যাশলেস সুবিধা। হ্যাঁ, সোমবারই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দপ্তরের মেডিকেল সেলের তরফে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করে এই কথা জানানো হয়। বলাই বাহুল্য, এতদিন রাজ্য সরকারের এই বিশেষ প্রকল্পের সুবিধা পেতেন শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীরাই। এবার থেকে সেই সুবিধা ভোগ করবেন রাজ্য সরকারের পেনশনাররাও।

    বাজেটে এই সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী

    সম্প্রতি সপ্তদশ বিধানসভার শেষ অধিবেশনে অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট পেশ করার পর রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এ বঙ্গের সরকারি পেনশনভোগীদের 2 লাখ টাকার বেশি চিকিৎসার খরচের ক্ষেত্রে ক্যাশলেস সুবিধার প্রস্তাব রেখেছিলেন। সেই মতোই, বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পেনশনভোগীদের উপর থেকে চিকিৎসা সংক্রান্ত চাপ কমাতে তড়িঘড়ি বিশেষ নির্দেশ কার্যকর করল সরকার।

    বলাই বাহুল্য, রাজ্য সরকারি কর্মচারীর পাশাপাশি পেনশনভোগীদের হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ যদি 2 লাখ টাকা পার করেও যায় সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পেনশনভোগী বা কর্মী ফর্ম 7 পূরণ করে ওই হাসপাতালে জমা দিতে পারবেন। আবেদন পাওয়ার পর সেই আবেদন খতিয়ে দেখে সর্বোচ্চ 10 দিনের মধ্যে চিকিৎসার খরচের একটি আনুমানিক হিসাব সহ গোটা রিপোর্ট তৈরি করে রাজ্য সরকারের ডাবলুবিএইচএস পোর্টালের মাধ্যমে অর্থ দপ্তরের মেডিকেল সেলকে দিতে হবে।

    অবশ্যই পড়ুন: “কেউ আশা করবে না সূর্যকুমার..” সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির গলায় কেন টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়কের নাম?

    রিপোর্ট অনুযায়ী, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে আবেদন পাওয়ার সর্বোচ্চ 24 ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে অর্থ দপ্তরকে। তবে শেষ পর্যন্ত যদি কোনও সিদ্ধান্ত না আসে সে ক্ষেত্রে আবেদন ডিমড অ্যাপ্রুভাল হিসেবে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে

    সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মচারী বা পেনশনভোগী মোট খরচের সর্বোচ্চ 75 শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশলেস সুবিধা পেতে পারেন। সবচেয়ে বড় কথা, একজন সম্ভাব্য রোগী বা কর্মী ক্যাশলেস সুবিধা পাওয়ার সীমা বা লিমিট বাড়ানোর জন্য কয়েকবার আবেদন করতে পারেন।

  • দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, অবশেষে ৩১ নং রুটে ফের শুরু হল SBSTC বাস

    দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, অবশেষে ৩১ নং রুটে ফের শুরু হল SBSTC বাস

    সহেলি মিত্র, কলকাতা: দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, ফের একবার শুরু হল ৩১ নং রুটে এসবিএসটিসি বাস পরিষেবা (SBSTC Bus)। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। লম্বা কিছু সময় ধরে হুগলীর শ্রীরামপুর থেকে শুরু করে রাজবলহাটের মানুষ এই ৩১ নম্বর রুটের বাস পরিষেবা চালু করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে সেই বিষয়ে রাজ্য পরিবহণ দফতর উদ্যোগ নেয় এবং পুনরায় এই দুই জায়গার মধ্যে বাস পরিষেবা চালু করা হল। রবিবার থেকে শুরু হয়েছে পরিষেবা। এর ফলে লাভবান হবেন বহু মানুষ। চলুন আরও বিশদে জেনে নেওয়া যাক।

    ফের চালু হল ৩১ নম্বর রুটের বাস পরিষেবা

    ইতিমধ্যেই এই বাস পরিষেবা পুনরায় চালু করার জন্য রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী তথা বিধায়ক স্নেহাশিস চক্রবর্তীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন মানুষ। যাইহোক চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক বাসটির সময়সূচি সম্পর্কে। জানা গিয়েছে, রাজবলহাট থেকে একটি বাস ছাড়বে সকাল ৭ টা ৪০ মিনিটে।  অপরদিকে শ্রীরামপুর থেকে ১০ টা ১৫ মিনিটে ছাড়বে বাস। এছাড়াও রাজবলহাট থেকে দুপুর ২ টোর সময় আরও একটি বাস ছাড়বে এবংগ শ্রীরামপুর থেকে ৫ টা ১০ মিনিটে ছাড়বে বাস।

    আরও পড়ুনঃ এদের বাদ দেওয়া হবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুবসাথী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে! ঘোষণায় বিতর্ক

    রুট সম্পর্কে বললে, বাসটি শ্রীরামপুর থেকে ছেড়ে ভায়া বারুইপাড়া, শিয়াখালা, ফুরফুরা, জাঙ্গিপাড়া হয়ে রাজবলহাট ঢুকবে। ফিরতি পথেও একই রুট থাকবে বলে খবর। যাইহোক, বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে এই রুটের বাস পরিষেবা চালু হওয়ায় বেজায় খুশি সাধারণ মানুষ। যদিও এই বাস সার্ভিস নিয়ে অনেকের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

    কী বলছেন সাধারণ মানুষ?

    সামাজিক মাধ্যমে একজন লিখেছেন, বলছি দাদা ২টো বাস সার্ভিস কি হবে। আর ফের ভোট মিটলে বন্ধ হয়ে যাবে না তো কি গ্যারেন্টি আছে? অন্য একজন লিখেছেন, ‘ বাস গুলোর এমনিতেই ১৫ বছর বয়স হয়ে গেছে কিছুদিনের মধ্যে কাটাই হয়ে যাবে তখন গ্যারান্টি সহকারে বন্ধ হয়ে যাবে।’ কেউ কেউ বলছেন, ‘ এর আগেও দুবার চালু করে বন্ধ করে দিয়েছে।’

  • ৪০ মিনিটেই কলকাতা, ৩৫০০ কোটির কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী

    ৪০ মিনিটেই কলকাতা, ৩৫০০ কোটির কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বিরাট কর্মযজ্ঞ অবশেষে সমাপ্ত হল। বাংলা পেল উন্নত এবং বিশ্বমানের এক্সপ্রেসওয়ে (Kalyani Expressway)। যেই পথ ধরে মাত্র 40 মিনিটে পৌঁছে যাওয়া যাবে কলকাতা থেকে কল্যাণী। হ্যাঁ, বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কলকাতা-কল্যাণী 45 কিলোমিটারের দীর্ঘ সুপার হাইওয়ে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম থেকে রাজ্যের এই সুপার হাইওয়ের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের সাথেই উদ্বোধন হল ফ্লাইওভারের

    এদিন, নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম থেকে বহুদিনের প্রকল্প কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করার সাথে সাথে নিমতায় বেলঘড়িয়া এক্সপ্রেসওয়ে থেকে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েগামী 3 লেনের দেড় কিলোমিটারের দীর্ঘ ফ্লাইওভারেরও উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা পেয়ে উচ্ছসিত বেলঘড়িয়ার স্থানীয় বাসিন্দারা।

    মাত্র 40 মিনিটে কলকাতা থেকে কল্যাণী

    মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বপ্নের প্রকল্প যে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন হয়ে গেল তা তৈরি করতে সরকারের মোট খরচ হয়েছে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। ঝা চকচকে উন্নত মানের এই এক্সপ্রেসওয়েতে বিনা যানজটে মাত্র 40 মিনিট সময়েই পৌঁছে যাওয়া যাবে কলকাতা থেকে কল্যাণী।

    রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই নতুন রাস্তাগুলি পুরোপুরি চালু হয়ে গেলে উত্তর 24 পরগনা থেকে শুরু করে নদীয়া এমনকি হুগলি জেলার মানুষও উপকৃত হবেন। পরিবহনে বদলে যাবে এই তিন জেলার মানচিত্র। শুধু তাই নয়, এই নতুন এক্সপ্রেসওয়ে খুলে গেলে সহজেই বারাসাতের যানজট এড়িয়ে খুব সহজেই উত্তরবঙ্গে পৌঁছানো যাবে। সবচেয়ে বড় কথা বছরের বিভিন্ন সময়ে কলকাতা, উত্তর 24 পরগনা সহ শহর সংলগ্ন বিভিন্ন জেলা থেকে বহু মানুষ কল্যাণী Aiims এ চিকিৎসা করাতে যান। নতুন এক্সপ্রেসওয়ে খুলে গেলে কল্যাণীর কেন্দ্রীয় হাসপাতালটিতে চিকিৎসা করাতে যাওয়া অনেকটাই সহজ হবে।

    অবশ্যই পড়ুন: সেমিতে ভারত বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচ বৃষ্টির কারণে ভেস্তে গেলে ফাইনালে উঠবে কে? জেনে নিন

    প্রসঙ্গত, সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের যাত্রা শুরু হওয়ার পাশাপাশি বড় জাগুলি পর্যন্ত ন্যাশনাল হাইওয়ে 12 এ 6.5 কিলোমিটার দীর্ঘ 6 লেনের এলিভেটেড করিডোরেরও উদ্বোধন হয়েছে। এছাড়াও শোনা যাচ্ছে, আগামী দিনে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের সাথে জুড়ে যাবে গঙ্গার উপরে নির্মীয়মান 6 লেনের দ্বিতীয় ঈশ্বর গুপ্ত সেতুও। যা বাংলার পরিবহন ব্যবস্থার মানচিত্রে নতুন পালক জুড়বে সে কথা বলাই যায়।

  • কলকাতা, শিয়ালদা, আসানসোল থেকে একাধিক ট্রেন ঘোষণা পূর্ব রেলের! জেনে নিন রুট

    কলকাতা, শিয়ালদা, আসানসোল থেকে একাধিক ট্রেন ঘোষণা পূর্ব রেলের! জেনে নিন রুট

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ দোলে কি আপনিও ট্রেনে করে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করছেন? অথচ ট্রেনের টিকিট পাচ্ছেন না? তাহলে আপনার জন্য রইল দারুণ সুখবর। দোল যাত্রা এবং হোলির ভিড় সামাল দিতে এবার রেলওয়ে ২৭৬টি বিশেষ ট্রেনের (Holi Special Train) ঘোষণা করেছে। যার মধ্যে শিয়ালদহ, হাওড়া, কলকাতা এবং আসানসোল থেকে দিল্লি, প্রয়াগরাজ, জয়পুর এবং বিশাখাপত্তনমের জন্য একাধিক ট্রেন রয়েছে। চলুন বিশদে জেনে নেওয়া যাক।

    হোলি স্পেশাল ২৭৬টি ট্রেন চালাবে পূর্ব রেল

    রেল কর্তাদের মতে, পূর্ব রেল ৬৬টি বিশেষ ট্রেন, অন্যান্য জোনাল রেলওয়ের ১১৬ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালাবে। সেইসঙ্গে আরও ৯৪টি ট্রেন পরিষেবা মিলবে বলে খবর। শিয়ালদহের অধীনে ছয়টি, হাওড়ার অধীনে পাঁচটি এবং মালদা ও আসানসোলের অধীনে দুটি করে সহ বিভাগ জুড়ে ১৫টি হোলি স্পেশাল ট্রেন চালানো হবে। পরিষেবাগুলি হাওড়া-রাক্সৌল, শিয়ালদহ-মধুবনি, শিয়ালদহ-গোরখপুর, আসানসোল-গোরখপুর, ডানকুনি-আনন্দ বিহার, মালদা টাউন-আনন্দ বিহার, কলকাতা-নিউ জলপাইগুড়ি এবং ডানকুনি-পাটনার মতো রুটগুলিকে সংযুক্ত করবে।

    এক নজরে কিছু বিশেষ ট্রেনগুলির তালিকা

    ১) রেল জানিয়েছে, ট্রেন নম্বর ০৩১১৫ কলকাতা – জয়পুর একমুখী অসংরক্ষিত হোলি স্পেশাল ট্রেনটি আজ ২ মার্চ কলকাতা থেকে ছেড়ে যাবে ২৩:৫৫ মিনিটে। এরপর ট্রেনটি ৪ মার্চ জয়পুরে পৌঁছাবে সকাল ১১:৫০ মিনিটে। যাত্রাপথে ট্রেনটি আসানসোল বিভাগের দুর্গাপুর এবং আসানসোল স্টেশনে থামবে।

    আরও পড়ুনঃ যুবসাথী নিয়ে বিরাট পদক্ষেপ নবান্নর, চিন্তার দিন শেষ আবেদনকারীদের

    ২) ট্রেন নম্বর ০৩৫৩৫ আসানসোল – জয়পুর অসংরক্ষিত হোলি স্পেশাল ট্রেনটি ৩ মার্চ দুপুর ১২:৩০ মিনিটে আসানসোল থেকে ছেড়ে ৫ মার্চ রাত ১:০০ মিনিটে রাজস্থানের জয়পুর পৌঁছাবে। যাত্রাপথে ট্রেনটি চিত্তরঞ্জন, জামতারা, মধুপুর এবং জাসিডিহর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থামবে।

    ৩) ট্রেন নম্বর ০৩১১১ শিয়ালদহ – দিল্লি অসংরক্ষিত হোলি স্পেশাল ১ মার্চ শিয়ালদহ থেকে বিকেল ৩:৩০ মিনিটে ছেড়ে পরের দিন সকাল ৭টায় দিল্লি পৌঁছাবে। রেল সূত্রে খবর, যাত্রাপথে ট্রেনটি নৈহাটি, ব্যান্ডেল, বর্ধমান, বোলপুর, সাঁইথিয়া, রামপুরহাট, বারহারওয়া, সাহেবগঞ্জ, কাহালগাঁও, ভাগলপুর, সুলতানগঞ্জ এবং মুঙ্গের স্টেশনে থামবে।

  • যুবসাথী নিয়ে হেল্পডেস্ক খুলল নবান্ন

    যুবসাথী নিয়ে হেল্পডেস্ক খুলল নবান্ন

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: রাজ্যজুড়ে শেষ হয়েছে যুবসাথী প্রকল্পের (Yuva Sathi Scheme) আবেদন প্রক্রিয়া। কিন্তু তা হলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই বিশেষ প্রকল্প নিয়ে নানান প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে আবেদনকারীদের মনে। আবেদন করার পরও বেশ কিছু সংশয় নিয়েই দিন কাটাতে হচ্ছিল তাঁদের। অবশেষে সেই সবদিক মাথায় রেখেই সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে এবার সরাসরি যুবসাথী প্রকল্পের হেল্পডেস্ক চালু করল নবান্ন। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দপ্তরের তরফে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নতুন হেল্পডেস্ক চালু করার খবর জানানো হয়েছে।

    আপনার সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে এক নম্বরেই

    নবান্নর তরফে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এবার যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে যেকোনও ধরনের প্রশ্নের উত্তর অর্থাৎ সমাধান পেতে নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বর 6292248888 এ whatsapp করতে পারবেন আবেদনকারীরা। এই এক নম্বর থেকেই আবেদনকারীরা নিজেদের যুবসাথী প্রকল্পের আবেদন সংক্রান্ত সমস্ত রকমের প্রশ্নের উত্তর পেতে পারেন। নবান্ন সূত্রে খবর, শনি এবং রবিবার ও সরকারি ছুটির দিনগুলি বাদ দিয়ে প্রত্যেকদিন সকাল সাড়ে দশটা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত খোলা থাকবে রাজ্য সরকারের এই বিশেষ হেল্পডেস্ক।

    এই হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুব দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে বাংলার যুবসাথী প্রকল্প সংক্রান্ত বিষয়ে সমস্যার সমাধানের জন্য সরকারের তরফে দেওয়া নির্দিষ্ট ইমেল আইডিতে মেইল করে সমস্যা সমাধান করতে পারেন আবেদনকারীরা। সব মিলিয়ে বলাই যায়, যুবসাথী নিয়ে আবেদনকারীদের সব রকম সমস্যার সমাধান সূত্র খুঁজে দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

    অবশ্যই পড়ুন: যুদ্ধের আবহে পাকিস্তানে অভিযান মোসাদের? ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর অভিযোগ

    উল্লেখ্য, গত 26 ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যুবসাথী প্রকল্পে মোট জমা পড়েছিল 84 লাখ আবেদন। এরমধ্যে অফলাইনে আবেদন জমা পড়েছে 64 লাখ। বাকি আবেদন অনলাইনে পোর্টালের মাধ্যমে জমা করেছিলেন আবেদনকারীরা। মূলত দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর চব্বিশ পরগনা, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার মতো জেলাগুলি থেকে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে এই প্রকল্পে।

  • ভোটার তালিকা থেকে নাম DELETED? পুনরায় কীভাবে তুলবেন জেনে নিন

    ভোটার তালিকা থেকে নাম DELETED? পুনরায় কীভাবে তুলবেন জেনে নিন

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলায় ভোটার তালিকা (Voter List) বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। তবে সেই তালিকায় রয়েছে তিনটি ক্যাটাগরি। বৈধ ভোটার যারা তাদের নামের পাশে কিছুই লেখা নেই। তারা কোনও রকম সমস্যা ছাড়াই ভোট দিতে পারবেন। দ্বিতীয়ত রয়েছে ‘অ্যাডজুডিকেশন’ অর্থাৎ তাদের মামলা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। তাদের জন্য ধীরে ধীরে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের করা হবে। আর তারপর রয়েছে ডিলিটেড ক্যাটাগরি। অর্থাৎ তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তারা আর ভোট দিতে পারবে না। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, তারা এবার কী করবে? কীভাবে পুনরায় ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারবে? জেনে নিন বিস্তারিত।

    নামের পাশে ডিলিটেড থাকলে কী করবেন?

    এসআইআর এর চূড়ান্ত তালিকা থেকে বিশেষ করে মৃত ভোটারদের নামই বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যারা একাধিক জায়গায় ভোটার তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এমন অনেকেই রয়েছে যারা জীবিত কিন্তু তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে নাম বাদ পড়েছে, এবং সেখানে ডিলিটেড দেখাচ্ছে। তবে সেক্ষেত্রে চিন্তার কোনও কারণ নেই। কারণ, ডিইও বা সিইও-র কাছে পুনরায় আবেদন করলে আবারো ভোটার তালিকায় নাম উঠবে। এক্ষেত্রে তালিকা প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যেই জেলা শাসক বা ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারের কাছে আবেদন জমা দিতে হবে। তবে সে যদি নাম তালিকায় না তোলার সিদ্ধান্ত নেন সেক্ষেত্রে ১৫ দিনের মধ্যে চিফ ইলেক্টোরিয়াল অফিসারের কাছে আবেদন করা যাবে।

    এছাড়াও আপনি অনলাইনের মাধ্যমে তথ্য পেতে পারেন। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, voters.eci.gov.in ওয়েবসাইটে গিয়ে বিএলও-দের মাধ্যমে আবেদন জানানো যাবে। আর electoralsearch.eci.gov.in পোর্টালে গিয়ে এপিক নম্বর দিয়ে সংশ্লিষ্ট বিএলও-র নাম ও ফোন নম্বরও দেখতে পাবেন। তবে যদি সিইও দফতর আবেদন খারিজ করে দেয় সেক্ষেত্রে ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করে আবেদন করতে হবে। এমনকি নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য এই ফর্ম পূরণ করতে হবে। কিন্তু কীভাবে এই ফর্ম পূরণ করবেন তা বিস্তারিত তুলে ধরা হল নিচে।

    আরও পড়ুন: ভোটের আগেই হাইকোর্টে জনস্বার্থে মামলা, কী দাবি?

    ফর্ম পূরণ করার পদ্ধতি

    ভোটার তালিকায় পুনরায় নাম তোলার জন্য যে ৬ নম্বর ফর্ম রয়েছে, সেটি আমাদের প্রতিবেদনের নিচেই দেওয়া রয়েছে। আপনারা চাইলে সেটি সরাসরি ডাউনলোড করে নিতে পারেন। তারপর প্রথমে নিজের জেলা এবং তারিখ লিখতে হবে। এরপর ধাপে ধাপে নিজের নাম, বাবা-মা বা স্বামীর নাম এবং ঠিকানা লিখতে হবে। তারপর নিজের এপিক নম্বর নির্দিষ্ট স্থানে পূরণ করতে হবে। তারপর বিধানসভার নম্বর, পার্ট নম্বর এবং সিরিয়াল নম্বর লিখতে হবে। মনে রাখবেন, নতুন যে তালিকা বেরিয়েছে সেখানে যে পার্ট নম্বর এবং সিরিয়াল নম্বর রয়েছে সেটাই হুবহু বসাতে হবে। তারপর শেষে নিজের নাম এবং ফোন নম্বর লিখে জমা দিতে হবে।

    ফর্ম ডাউনলোড করুন: ক্লিক করুন

  • ভোটের আগেই হাইকোর্টে জনস্বার্থে মামলা, কী দাবি?

    ভোটের আগেই হাইকোর্টে জনস্বার্থে মামলা, কী দাবি?

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সামনেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তবে তার আগে রক্তপাতহীন এবং সুষ্ঠু ভোটের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) জনস্বার্থে মামলা দায়েরের আবেদন জানিয়েছেন এক আইনজীবী। আর তাঁর আবেদন গ্রহণ করেই মামলা করার অনুমতি দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ। কিন্তু ঠিক কী কী বললেন আইনজীবী?

    কী দাবি জানানো হল?

    মামলাকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, অতীতের নির্বাচনী হিংসার অভিজ্ঞতা রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছিল। তাই ভোটের আগেই সতর্কমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সবথেকে জরুরী। এমনকি পিটিশনে একাধিক দাবি তোলা হয়েছে। প্রথমত, স্পর্শকাতর এবং অতি স্পর্শকাতর বুথগুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে হবে। তৃতীয়ত, বাধ্যতামূলকভাবে ভিডিওগ্রাফি করতে হবে। চতুর্থত, গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর নজরদারির জন্য উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক করমচারিদের নিয়ে একটি মনিটরী কমিটি গঠন করতে হবে। এছাড়াও রাজনৈতিক, সাম্প্রদায়িক এবং লিঙ্গভিত্তিক হিংসা নিস্পত্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।

    এদিকে পিটিশনে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনী পরবর্তী হিংসার ঘটনাগুলোর কথা তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগ উঠছে, ভোট পরবর্তী অশান্তিতে প্রাণহানি, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং ঘরছাড়া হওয়ার মতো একাধিক ঘটনা ঘটেছিল। আর সেই সময় বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টে পৌঁছয়। আদালতের নির্দেশে তদন্ত এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপ নেওয়াও হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিচারপতির বেঞ্চ গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল।

    আরও পড়ুন: জঙ্গল মহলে শক্তিবৃদ্ধি বিজেপির, গেরুয়া শিবিরে যোগ কুড়মিদের প্রধান উপদেষ্টার

    এদিকে মামলাকারীর আইনজীবী বক্তব্য রাখেন, আদালতের তত্ত্বাবধান থাকলে প্রশাসন আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারবে। আর ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে। তিনি চেয়েছেন, ভোটার আগে যাতে সবকিছু ঝুঁকিপূর্ণভাবে হয় সেই দিকে নজরদারি বাড়ানো। সেই কারণেই হাইকোর্টের কাছে তাঁর এই আবেদন।

  • ERO, AERO-র বদান্যতায় বিচারাধীন বিশ্বকাপজয়ী রিচা ঘোষের নাম, জানিয়ে দিল কমিশন

    ERO, AERO-র বদান্যতায় বিচারাধীন বিশ্বকাপজয়ী রিচা ঘোষের নাম, জানিয়ে দিল কমিশন

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৯ জন। সেখানে প্রথম দফার আপাতত বাদ গিয়েছে ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম। আর বিচারাধীন রয়েছে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম। আর সেই তালিকায় এবার নাম উঠে এল ক্রিকেটার রিচা ঘোষের (Richa Ghosh), যিনি কিনা বিশ্বকাপ জিতিয়ে দেশকে গর্বিত করেছেন। স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে তাঁর নাম অমীমাংসিতের তালিকায় রাখা। আর সেই নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতেই জবাব দিলেন নির্বাচন কমিশন।

    অমীমাংসিতের তালিকায় রিচা ঘোষের নাম

    রিপোর্ট মোতাবেক শিলিগুড়ির কলেজপাড়ার ৩০ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রিচা ঘোষ। বরাবর ওই ওয়ার্ডেরই বাসিন্দা তিনি। সেখানেই রিচা ভোট দেন। কিন্তু SIR এর চূড়ান্ত তালিকায় এবার রিচা ঘোষের নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনের স্ট্যাম্প। শুধু রিচা নয়, তাঁর দিদি সোমাশ্রীর নামও অ্যাপ্রুভড তালিকায় নেই। এমনই দাবি করেছেন রিচার বাবা। যে ক্রিকেটার দেশের হয়ে খেলেছেন, যে ক্রিকেটার ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ খেলেছেন, কাপ জিতিয়েছেন দেশকে, সেই রিচা ঘোষের নাম কীভাবে অমীমাংসিতের তালিকায় থাকতে পারে, সেই প্রশ্ন তুলে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, তা হলে তো ভারতের বিশ্বকাপটাই বিচারাধীন। এরপরই মুখ খুলল নির্বাচন কমিশন।

    কমিশনের সাফাই

    অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংবাদিক বৈঠকের অনতিবিলম্বে সমাজমাধ্যমে রিচাকে নিয়ে একটি পোস্ট করেছে নির্বাচন কমিশন। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে “ SIR এর খসড়া তালিকায় প্রথমে তাঁকে ‘আনম্যাপ্‌ড’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। সেই সময় তাঁর পরিবর্তে এক আত্মীয় শুনানিতে উপস্থিত হন এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার অর্থাৎ ERO বা অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার AERO বিষয়টি নিষ্পত্তি করেননি। তাই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, বিষয়টি বিচারকদের কাছে নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো হয়েছে।” অর্থাৎ এই ঘটনায় ERO কিংবা AERO-কেই পরোক্ষেভাবে দায়ী করা হয়েছে কমিশনের তরফে।

    আরও পড়ুন: SIR মামলা শুনছেন যিনি, ভোটার লিস্টে সেই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর নামেই বিরাট ভুল

    প্রসঙ্গত, ভোটার লিস্টে যোগ্য তালিকায় মেয়ের নাম না ওঠে বেশ চিন্তিত রিচা ঘোষের বাবা মায়ের। এদিকে ২০০২-এর তালিকায় রিচার বাবা-মা দুজনেরই নাম রয়েছে। তাহলে কেন রিচার নাম অমীমাংসিতের তালিকায় রয়েছে, তা বুঝতে পারছেন না রিচার বাবা-মা। যদিও বলে রাখা প্রয়োজন, অমীমাংসিতের তালিকায় নাম থাকলেই যে তাঁর নাম বাদ হয়ে যাবে, তা একেবারেই নয়। অমীমাংসিত তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁরা এখনও বিচারাধীন প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। আর তাঁদের নথি খতিয়ে দেখছেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। নথি যাচাইয়ের পর সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত হবে।