Category: পশ্চিমবঙ্গ

  • গুজরাতের বোমা হুমকি ই-মেল কাণ্ডে গ্রেফতার বাংলার যুবক, তদন্তে নামল পুলিশ

    গুজরাতের বোমা হুমকি ই-মেল কাণ্ডে গ্রেফতার বাংলার যুবক, তদন্তে নামল পুলিশ

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আবহে রাজ্যে এই মুহুর্তে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, আর সেই সময় গত কয়েকদিন ধরে রাজ্য জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে বেশ কয়েকটি হুমকি ইমেল নিয়ে। খবর উঠে আসছে কলকাতা সহ জেলাগুলিতে একাধিক স্কুল, আদালত এবং পোস্ট অফিসে বোমা রাখার রয়েছে। এমনকি রাজ্যের বাইরে গুজরাতেও আদালত ও স্কুলে বোমা থাকার হুমকি ইমেল (Bomb Threat Email) নিয়ে তৈরি হয়েছিল চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি। এমতাবস্থায় বোমা মারার হুমকি ইমেল পাঠানোর অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেফতার করা হল সৌরভ বিশ্বাস নামে এক যুবককে।

    হুমকি মেল কাণ্ডে গ্রেফতার এক বাঙালি

    কিছুদিন আগেই কলকাতা-সহ আসানসোলের আদালতে একটি হুমকি ই-মেইল একই দিনে একই সময়ে পাঠানো হয়েছিল। যার ফলে এই নিয়ে যথেষ্ট আতঙ্ক ছড়ায়। কিন্তু গোটা আদালত চত্বরে তদন্ত করেও কোনো বোমা মেলেনি, ব্যাপক হয়রানির শিকার হয়েছিল সকলে। পরে যদিও সাংবাদিক বৈঠক করে পুলিশ কমিশনার সুপ্রতীম সরকার জানিয়ে দেন, সেটি ভুয়ো ছিল। কিন্তু এর পরেও বাইরের রাজ্যে গুজরাতে আহমেদাবাদ ভাদোদরাসহ বেশ কয়েকটি স্কুলে বোমা ফেলার ভুয়ো হুমকি মেইল উঠে আসে। তারপরেই তদন্তে নামে পুলিশ। অবশেষে আহমেদাবাদ পুলিশের একটি বিশেষ দল পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেফতার করে সৌরভ বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তিকে।

    VPN ব্যবহার করে পাঠানো হত মেল

    তদন্তকারীদের সন্দেহ, গুজরাতে ভুয়ো হুমকি ইমেল পাঠানোর নেপথ্যে থাকা এই সৌরভ বিশ্বাসই বাংলার স্কুল, আদালত এবং পোস্ট অফিসে পাঠানো ওই হুমকি ইমেল কাণ্ডে জড়িত কিনা। আমেদাবাদ পুলিশের দাবি, দেশের বিভিন্ন জায়গাতেই হুমকি ই-মেল পাঠানোর ঘটনায় সৌরভের যোগ রয়েছে। জানা গিয়েছে, VPN ব্যবহার করে বিদেশের সার্ভারের মাধ্যমে গুজরাতে এই হুমকি ই-মেল গুলি পাঠানো হয়েছিল। তাঁরা আপাতত নিজেদের হেফাজতে রেখেছে সৌরভকে।

    আরও পড়ুন: ৮ মার্চ অবধি বহু ট্রেন বাতিল করল দক্ষিণ পূর্ব রেল, যাত্রার আগে দেখুন তালিকা

    প্রসঙ্গত, কলকাতা সহ গোটা বাংলায় আদালত, পাসপোর্ট অফিসে সম্প্রতি যে হুমকি ই-মেল এসেছিল, সেই ঘটনায় সৌরভকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। ধৃতকে জেরা করে এই আন্তঃরাজ্য যোগসূত্র খুঁজে বের করারও চেষ্টা করছে পুলিশ। স্থানীয় প্রশাসনের ধারণা, নির্বাচনের আগে বড় কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এই ধরনের আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। এখন দেখার এই ঘটনার নেপথ্যে আর কোনো বড় মাথা জড়িত আছে কিনা।

  • ৮ মার্চ অবধি বহু ট্রেন বাতিল করল দক্ষিণ পূর্ব রেল, যাত্রার আগে দেখুন তালিকা

    ৮ মার্চ অবধি বহু ট্রেন বাতিল করল দক্ষিণ পূর্ব রেল, যাত্রার আগে দেখুন তালিকা

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ হোলির মুখে ফের ভোগান্তির শিকার সাধারণ রেল যাত্রীরা। আগামী ৮ মার্চ অবধি বহু ট্রেন বাতিলের (Train Cancelled) ঘোষণা করল রেল। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। এমনিতে হোলিতে ছুটি রয়েছে। আর এই ছুটির সদ্ব্যবহার করে সকলেই কমবেশি কাছেপিঠে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করছেন। কিন্তু সকলের সেই প্ল্যান ভেস্তে দিল দক্ষিণ পূর্ব রেলের (South Eastern Railways) একটা ঘোষণা। জানানো হল, আগামী বহুদিন বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের পথচলা বন্ধ থাকবে। চলুন বিশদে জেনে নেওয়া যাক।

    বহু ট্রেন বাতিল করল রেল

    জানা গিয়েছে, পুরুলিয়ার আদ্রা বিভাগের অবকাঠামো কাজের কারণে, কয়েকটি ট্রেন পরিষেবা প্রভাবিত হবে। ইতিমধ্যে রেলের তরফে বাতিল ট্রেনের তালিকা দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী, 68045/68046 আসানসোল-আদ্রা-আসানসোল মেমু প্যাসেঞ্জার আগামী ৬ এবং ৭ মার্চ, ২০২৬ তারিখে বাতিল হবে। 68077/68078 আদ্রা-ভাগা-আদ্রা মেমু প্যাসেঞ্জার আজ ৪, ৫ থেকে ৮ মার্চ, ২০২৬ তারিখ অবধি বাতিল থাকবে।

    আরও পড়ুনঃ দক্ষিণবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির ভ্রুকুটি, ভিজবে কোন কোন জেলা? আজকের আবহাওয়া

    এর পাশাপাশি 68090/68089 আদ্রা-মধ্যনআপাড়-আদ্রা মেমু ৬ এবং ৮ মার্চ, ২০২৬ তারিখে বাতিল হবে। 68079/68080 মেমু প্যাসেঞ্জার আগামী ৭ মার্চ, ২০২৬ তারিখে বাতিল থাকবে। এছাড়া 68056/68060 টাটানগর-আসানসোল-বারভূম মেমু আজ ৪, ৫, ৬ এবং ৭ মার্চ, ২০২৬ তারিখে আদ্রা থেকে সংক্ষিপ্তভাবে শুরু/শেষ হবে।

    কেন এই ভোগান্তি?

    স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কেন এই ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে রেল যাত্রীদের? রেল জানিয়েছে, মূলত আদ্রা রেল বিভাগে (Adra Railway Division) রেললাইন মেরামতের জন্য রোলিং ব্লকের কাজ করবে। এই কারণে, দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ে বিভিন্ন তারিখে আটটি ট্রেন বাতিল থাকবে উল্লেখিত দিনগুলিতে। রেলওয়ের এই সিদ্ধান্তের ফলে ঝাড়খণ্ড, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গের হাজার হাজার যাত্রী প্রভাবিত হবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • ২৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে চার লেনের বাইপাস, যানজটমুক্ত হবে বীরভূম

    ২৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে চার লেনের বাইপাস, যানজটমুক্ত হবে বীরভূম

    সৌভিক মুখার্জী, বীরভূম: এত বছর ধরে যানজটের যন্ত্রণা সহ্য করে এসেছে বীরভূমের (Birbhum) দুবরাজপুরের বাসিন্দারা। ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক শহরের মাঝখান দিয়ে যাওয়ার কারণে প্রতিদিন ভারী পণ্যবাহী লরির চাপ বাড়ত। যার ফলে সকাল থেকে রাত যান চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হত সাধারণ মানুষের। অবশেষে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। বিরাট স্বস্তি পেতে চলেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। দুবরাজপুর শহরকে এড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে নতুন চার লেনের আধুনিক বাইপাস।

    নতুন বাইপাস সংক্রান্ত কিছু তথ্য

    জানিয়ে রাখি, এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দিক রয়েছে। প্রথমত, এই বাইপাসটির দৈর্ঘ্য হবে ৬ কিলোমিটার এবং এটি চার লেনের প্রশস্ত একটি আধুনিক রাস্তা। এই প্রকল্পের জন্য মোট ২৩২ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। আর সমবায় হিমঘর এলাকা থেকে শুরু করে সাতকেন্দুরির কাছে মূল সড়কের সংযুক্ত হবে এই বাইপাসটি। এমনকি এটি চালু হলে শহরের ভেতর দিয়ে ভারী যানবাহনের প্রবেশ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

    বলে দিই, ইতিমধ্যেই তৎপরতার সঙ্গে শুরু হয়েছে কাজ। জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী এলাকায় বড় বড় স্থাপনা ভাঙার কাজে চলছে। আর ভারী যন্ত্রপাতি এবং নির্মাণকারীরাও মাঠে নেমে পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, বহুদিনের দাবি অবশেষে পূরণ হতে চলেছে। অনেকেই মনে করছেন যে, এটি শুধুমাত্র রাস্তা নয়, বরং দুবরাজপুরের ভবিষ্যতের সংযোগ।

    আরও পড়ুন: বুথের ভিতরে-বাইরে সিসিটিভি বাধ্যতামূলক! ভোট প্রস্তুতিতে কড়া নির্দেশ কমিশনের

    এদিকে এ বিষয়ে এলাকার বিধায়ক অনুপ সাহা জানিয়েছেন, এই ফোর লেন বাইপাস দুবরাজপুরের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। তিনি বলেছেন, শহরের ভিতর দিয়ে জাতীয় সড়ক যাওয়ার কারণে প্রতিনিয়ত সমস্যার মুখে পড়তে হত সাধারণ মানুষকে। সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতেই প্রশাসনের তরফ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রকের অনুমোদন পাওয়ার পরেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথের দিকে এগিয়েছে। আর এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নীতি গড়করির দফতরের সহযোগিতার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।

  • UTS-র ব্যালেন্স RailOne-এ কীভাবে ট্রান্সফার করবেন? শিখে নিন

    UTS-র ব্যালেন্স RailOne-এ কীভাবে ট্রান্সফার করবেন? শিখে নিন

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দিন কয়েক আগে থেকেই অনলাইনে ট্রেনের টিকিট বুকিংয়ের মোবাইল অ্যাপ UTS বন্ধ হয়ে যাবে বলে শোনা যাচ্ছিল, অবশেষে ১ মার্চ থেকে বন্ধ হল সেই পরিষেবা। তবে সেক্ষেত্রে চিন্তা নেই, কারণ UTS থেকে যাত্রীদের একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম RailOne-এ শিফট করার কথা জানিয়েছে ভারতীয় রেল। এর ফলে অসংরক্ষিত টিকিট, প্ল্যাটফর্ম টিকিট এবং সিজন পাসসহ সকল পরিষেবা এখন নতুন RailOne সুপার অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। কিন্তু এসবের মাঝে UTS অ্যাপ বন্ধ হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ওয়ালেটে ব্যালেন্স ট্রান্সফার (UTS Balance Transfer) নিয়ে উদ্বেগ দেখা গেল।

    সকল পরিষেবা মিলবে RailOne অ্যাপে

    আগে যাত্রীদের সংরক্ষিত টিকিটের জন্য IRCTC, আর অসংরক্ষিত টিকিটের জন্য UTS ব্যবহার করতে হতো। এর ফলে বিশেষ করে বয়স্ক ও নতুন ব্যবহারকারীদের অসুবিধা হত। তাই সব পরিষেবা একটিতে আমার জন্য রেলওয়ের আইটি শাখা CRIS চালু করল RailOne অ্যাপ। তাই ১ মার্চ থেকে পুরোনো UTS অ্যাপ বন্ধ করা হল। এর ফলে অসংরক্ষিত টিকিট, প্ল্যাটফর্ম টিকিট এবং সিজন পাসসহ সকল পরিষেবা এখন শুধুমাত্র নতুন RailOne সুপার অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। তবে অনেকেই আছেন যারা UTS অ্যাপেই ত্রৈমাসিক বা গোটা বছরের টিকিট কেটে রাখেন। সেক্ষেত্রে কি সেই টাকা জলে যাবে? না, না! চিন্তার কোনও কারণ নেই। কারণ যাদের দীর্ঘমেয়াদি টিকিট কাটা, তাঁরা নিমেষেই সেই টাকা ট্রান্সফার করে নেবেন নয়া RailOne-এ।

    Android ও ios উভয় প্ল্যাটফর্মে উপলব্ধ

    RailOne অ্যাপ হল নতুন একটি সুপার অ্যাপ, যা রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ২০২৫ সালের জুলাইতে চালু করেছিলেন। অ্যাপটি Android ও ios উভয় প্ল্যাটফর্মে উপলব্ধ। এর ফলে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি যেমন পাবে, ঠিক তেমনই সময় সাশ্রয় হবে। অন্যদিকে পুরোনো UTS থেকে সহজেই টাকা ব্যালেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে RailOne অ্যাপে স্থানান্তরিত হবে। চলুন একনজরে জেনে নেওয়া যাক সম্পূর্ণ পদ্ধতি।

    ব্যালেন্স ট্রান্সফারের পদ্ধতি

    প্রথমে যাত্রীকে নতুন RailOne অ্যাপ ডাউনলোড করে নিতে হবে। এবার পুরোনো UTS অ্যাপে ব্যবহৃত একই মোবাইল নম্বর ও R-Wallet আইডি দিয়ে লগ ইন করে নিতে হবে। এরপর সেই ব্যালেন্স নতুন অ্যাপে ট্রান্সফার করতে সময় নেবে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা। কিন্তু এরপরেও যদি টাকা ট্রান্সফার না হয় তাহলে সেক্ষেত্রে ১৩৯ এই নম্বরে যোগাযোগ করে সমস্যা জামাতে পারবেন অথবা অ্যাপের সহায়তা বিভাগে অভিযোগ দায়ের করা যাবে।

    অন্যদিকে যদি আপনি টাকা ট্রান্সফার না করে ফেরত পেতে চান, তাহলে অ্যাপের প্রোফাইল সেকশন থেকে Surrender Wallet অপশনটি ক্লিক করে নিতে হবে। মিলবে একটি Secret Code। এরপর সেই Code টিকে আপনার কাছের কোনো রেলওয়ে স্টেশনের UTS কাউন্টারে গিয়ে অপারেটরকে দেখালে, ৩০ টাকা চার্জ কেটে নেওয়ার পর বাকি টাকা ফেরৎ দেওয়া হবে।

    আরও পড়ুন: মতুয়া আবেদন বাড়তেই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত! বাংলায় ২ অতিরিক্ত কমিটি গঠন মন্ত্রকের

    প্রসঙ্গত, কলকাতা, দিল্লি, চেন্নাই ও মুম্বাইয়ের মতো শহরে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ লোকাল ট্রেনে ভ্রমণ করেন তাই সেক্ষেত্রে যাত্রীদের সুবিধার্থে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগে অনেক পরিষেবা শুধুমাত্র স্টেশন কাউন্টারে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মোবাইলে এই পরিষেবা সহজলভ্য করা হচ্ছে। প্রথমদিকে এই পরিষেবা মিলতে কিছুটা অসুবিধাজনক মনে হতে পারে, তবে পরে এটি যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক হতে চলেছে।

  • SIR-র চাপে মৃত ৬১ পরিবারের সদস্যদের হাতে হোমগার্ড পদের নিয়োগপত্র দিলেন মমতা

    SIR-র চাপে মৃত ৬১ পরিবারের সদস্যদের হাতে হোমগার্ড পদের নিয়োগপত্র দিলেন মমতা

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্কের আবহে এবার বিরাট সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সোমবার কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে ৬১ জন মৃত ব্যক্তির পরিবারের হাতে হোমগার্ড পদে চাকরি নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন। জানা যাচ্ছে, যে ৬১ জন এসআইআর-এর চাপে মৃত্যু হয়েছিল, তাদের পরিবারের সদস্যরাই এই সুযোগ পাচ্ছে। রাজ্য সরকারের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে চরম মানসিক চাপের জেড়ে এই ব্যক্তিরা প্রাণ হারিয়েছেন।

    দোলের অনুষ্ঠানে নিয়োগপত্র প্রদান

    কলকাতায় দোল উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এই নিয়োগপত্র তুলে দেন। অনুষ্ঠানের দিন নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন যে, ভোটারদের নাম ভুল ভাবে বাদ দেওয়া এবং আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন তালিকায় ফেলে রাখার ফলে বহু মানুষ এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এক ব্যক্তি আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন শ্রেণীতে পড়ার পর এতটাই মানসিক চাপ পড়েছেন যে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন।

    সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মোট ৭ কোটি ৪ লক্ষ ভোটারের নাম রয়েছে। যার মধ্যে ৬০ লক্ষ নাম আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন হিসেবে চিহ্নিত। এমনকি মামলাগুলি বর্তমানে ৫০১ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। আর রাজ্যে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে রাজ্যে একাধিক ব্যক্তি মানসিক চাপে অসুস্থ রয়েছেন এবং আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে।

    আরও পড়ুন: তৃণমূলের পর এবার বিজেপির চমক! রাজ্যসভায় প্রার্থী হলেন রাহুল সিনহা

    এদিকে গত বছর মুখ্যমন্ত্রী মৃতদের নিকট আত্মীয়দের জন্য ২ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেছিলেন বলে রিপোর্ট অনুযায়ী খবর। আর এবার তার সঙ্গে সরকারি চাকরির সুযোগও দেওয়া হল। তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, মা-মাটি মানুষ সরকার ৬১টি শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং তা পূরণ করেছে।

  • বুথের ভিতরে-বাইরে সিসিটিভি বাধ্যতামূলক! ভোট প্রস্তুতিতে কড়া নির্দেশ কমিশনের

    বুথের ভিতরে-বাইরে সিসিটিভি বাধ্যতামূলক! ভোট প্রস্তুতিতে কড়া নির্দেশ কমিশনের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন শুরু হতে আর খুব বেশি দিন বাকি নেই। তাই ভোট প্রচারের জন্য বেশ জোরকদমে নেমেছে সকল রাজনীতিবিদ। এদিকে গত শনিবার SIR এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরে শুরু হয়েছে নয়া উত্তেজনা। জানা গিয়েছে এবার বাংলায় ভোট প্রস্তুতি চূড়ান্ত ভাবে খতিয়ে দেখতে ফের আসছে দেশের নির্বাচন কমিশনের (Election Commission Of India) ফুলবেঞ্চ। আগামী ৯ মার্চ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে ফুলবেঞ্চের আসার কথা। এই অবস্থায় বুথের ভিতরে আর বাইরে সিসিটিভি বসানোর নির্দেশ দিল ECI।

    সিসিটিভি বসানোর নির্দেশ দিল ECI এর

    সোমবার সব জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনার–সহ উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। আর সেখানেই রাজ্যে ভোটের প্রাক প্রস্তুতি নিয়ে একাধিক আলোচনা করা হয়। এদিন বুথে নজরদারি জোরদার করার জন্য সিসিটিভি ফুটেজের কথা বলা হয়। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের সময় বুথে-বুথে নজর আরও বাড়ানোর জন্য বুথের ভিতরে ও বাইরে সিসিটিভি বসাতে হবে। এর ফলে বুথের ভিতরে ও বাইরে যেখানেই গন্ডগোল হোক না কেন তা ধরা পড়বে ক্যামেরায়। আর সেই নিয়ে ব্যবস্থাও নেবে কমিশন।

    বুথের বাইরে পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবেন কারা?

    প্রতিবার নির্বাচনের সময় বুথের ভিতর বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা যায়। ভোটারদের উপর জোর করে নির্দিষ্ট দলে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। তাই সেই ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে তার জন্য বুথের ভিতর সিসিটিভি বসানোর কথা বলা হয়েছে। এর ফলে, কেউ যদি বুথের ভিতর জোরপূর্বক ঢোকার চেষ্টা করে তাঁর বিরুদ্ধে ফুটেজ দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানেই শেষ নয়, কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বুথের বাইরে পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবেন মাইক্রো অবজার্ভাররা। এদিন বৈঠকে শুধু বুথে নজরদারি নিয়ে আলোচনা হয়নি, পাশাপাশি কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ কেন্দ্রীয় বাহিনী যেন কারও কোনও আতিথেয়তা গ্রহণ না করে তা লক্ষ্য রাখা।

    আরও পড়ুন: বনগাঁ শো কাণ্ডে চরম নাটকীয়তা! এবার মিমির বিরুদ্ধে দায়ের হল জোড়া মামলা

    প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের আগেই প্রথম দফায় ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পৌঁছেছে রাজ্যে। আগামী ১০ মার্চ আরও ২৪০ কোম্পানি বাহিনী আসার কথা। ইতিমধ্যেই গত রবিবার, চার কোম্পানির কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছিল দক্ষিণ দিনাজপুরে। বিকেল থেকেই সেখানকার কুমারগঞ্জ, গঙ্গারামপুর, কুশমণ্ডি ও হরিরামপুরের আটটি ব্লকেই রুট মার্চ শুরু করেছে জওয়ানরা। আরও ছয় কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্রুত জেলায় আসবে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও ধূপগুড়ি এবং শ্রীরামপুরেও পৌঁছে গিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

  • বনগাঁ শো কাণ্ডে চরম নাটকীয়তা! এবার মিমির বিরুদ্ধে দায়ের হল জোড়া মামলা

    বনগাঁ শো কাণ্ডে চরম নাটকীয়তা! এবার মিমির বিরুদ্ধে দায়ের হল জোড়া মামলা

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বনগাঁর শো কাণ্ড নিয়ে বিতর্কের জট যেন কিছুতেই কাটছে না। হেনস্থার অভিযোগ তুলে থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জামিনে ছাড়া পেয়ে অভিযুক্ত তনয় শাস্ত্রী। কিছুতেই কাটছে না জটিলতা। এমতাবস্থায় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে (Mimi Chakraborty) ফের বিপাকে ফেলতে এবার বনগাঁ আদালতের দ্বারস্থ হলেন তনয় শাস্ত্রী। মিথ্যা অপবাদ ও মানহানিকর মন্তব্য, এই জোড়া অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হল দুটি মামলা।

    বনগাঁর শো কাণ্ড নিয়ে বিতর্ক

    ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল একটি কনসার্টকে ঘিরে। বনগাঁ নয়াগোপালগঞ্জে যুবক সংঘের পরিচালনায় বাৎসরিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। কিন্তু সেখানে মিমি চক্রবর্তী হেনস্থার অভিযোগ তোলেন অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা তনয় শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার জেরে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মিমি। অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতারও করা হয় অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক তনয় শাস্ত্রীকে। এই ঘটনায় মিমি চক্রবর্তী বনগাঁ মহকুমা আদালতে গোপন জবানবন্দিও দেন। বর্তমানে তনয় শাস্ত্রী জামিনে মুক্ত। আর জেল থেকে বেরিয়েই তিনি এবার মিমির বিরুদ্ধে দায়ের করলেন দুটি মামলা।

    মিমির বিরুদ্ধে জোড়া মামলা দায়ের

    রিপোর্ট মোতাবেক, বনগাঁ আদালতে মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছেন তনয় শাস্ত্রী। আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি তাঁর হয়ে মামলা করেছেন। মিথ্যা অপবাদ ও মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগে দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। প্রথম মামলাটি মানহানির। তনয়ের অভিযোগ, অভিনেত্রী তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যে অপবাদ ও মানহানিকর মন্তব্য করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। দ্বিতীয় মামলাটি চুক্তিভঙ্গ সংক্রান্ত। তনয় শাস্ত্রীর দাবি, অনুষ্ঠানের জন্য মিমি ২ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়েছিলেন, কিন্তু নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হননি। সেই অগ্রিম অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে মামলায়।

    আরও পড়ুন: দোলের দিনে কলকাতা জুড়ে কড়া নিরাপত্তা, ৮৬ জায়গায় পুলিশ পিকেট, থাকছে কুইক রেসপন্স টিম

    প্রসঙ্গত, প্রাক্তন সাংসদ-অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর দায়ের করা অভিযোগের বিপক্ষে কথা বলেছে বনগাঁ নয়াগোপালগঞ্জে যুবক সংঘ। তাঁদের দাবি, “নির্দিষ্ট সময়ের ঘন্টাখানেক পর মিমি চক্রবর্তী মঞ্চে আসেন। বারোটা পর্যন্ত আমাদের অনুষ্ঠানের অনুমতি নেওয়া ছিল। তাই তাঁকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলা হয়।” যদিও সেই সকল অভিযোগকে কান না দিয়েই একের পর এক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু হয়েছে। এদিকে জোড়া মামলা নিয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি প্রাক্তন সাংসদ-অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর তরফে।

  • দোলের দিনে কলকাতা জুড়ে কড়া নিরাপত্তা, ৮৬ জায়গায় পুলিশ পিকেট, থাকছে কুইক রেসপন্স টিম

    দোলের দিনে কলকাতা জুড়ে কড়া নিরাপত্তা, ৮৬ জায়গায় পুলিশ পিকেট, থাকছে কুইক রেসপন্স টিম

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আজ দোল পূর্ণিমা। সকাল থেকেই চারিদিকে শুরু হয়েছে আবির এবং রঙের খেলা। তাইতো প্রতি বছরের মতো এবছরও দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে শহরে থাকছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা (Security Wrapped In Kolkata)। আসলে প্রতিবারই এই দিন শহরে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকে। তাই সেই সকল পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সে কারণে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছে কলকাতা পুলিশ। জায়গায় জায়গায় দেওয়া হবে টহল।

    রাস্তায় থাকছে প্রায় ৪০০ পুলিশ পিকেট

    লালবাজারের তরফে জানানো হয়েছে, দোল ও হোলির দিন শহরে যাতে কোনও গোলমাল না বাঁধে, সেই কারণে তাই শহরজুড়ে মোতয়েন করা হয়েছে প্রায় চার হাজার পুলিশ। এছাড়াও যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য রাস্তায় থাকবে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার ও ডিসি পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিকরাও। জানা গিয়েছে আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার রাস্তায় থাকছে প্রায় ৪০০ পুলিশ পিকেট। এর মধ্যে খান্না মোড়, পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট, শ্যামবাজার সহ রয়েছে ৮৬টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। মোতায়েন থাকছেন ৬জন পুলিশ আধিকারিক ও পুলিশকর্মী। এ ছাড়াও আরও ৩১২টি জায়গায় পিকেটে থাকছেন তিনজন করে পুলিশকর্মী। পাশাপাশি বন্দর এলাকায় থাকছে প্রায় ৭২টি পিকেট।

    বিভিন্ন জলাশয়ের ঘাটে থাকবে পুলিশি ব্যবস্থা

    আজ রাস্তায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার খাতিরে থাকছে হেভি রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াড, ৬২টি পিসিআর ভ‌্যান ও সঙ্গে কুইক রেসপন্স টিম। এই টিম সারা শহরজুড়ে প্রত্যেকটি থানা এলাকার অপরিসর রাস্তাগুলিতে টহল দেবে। থাকবে পুলিশের বাইকও। এদিকে আজ গঙ্গার ঘাটে থাকবে বাড়তি ভিড়। সে কারণে কলকাতার ৬৬টি গঙ্গা ও বিভিন্ন জলাশয়ের ঘাটে পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা থাকছে। এছাড়াও লালবাজারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পিকেট ছাড়াও ২৪টি ঘাটে ডিএমজি দল থাকবে। দোল বা হোলিতে রং মেখে কেউ যাতে মদ‌্যপ অবস্থায় গঙ্গা বা জলাশয়ে স্নান করতে না নামেন, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ।

    আরও পড়ুন: “পাকিস্তানের সাথে ফের যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত”, জানালেন খোদ পাক প্রেসিডেন্ট

    পুলিশের দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে, বহুতলের ছাদ বা বারান্দা থেকে পথচারীদের দিকে কেউ যাতে রং বা জলভর্তি বেলুন না ছোড়ে সেদিকে পুলিশের নজর থাকবে। রাস্তার কুকুর বা অন‌্য কোনও পশুর শরীরে যাতে রং না লাগানো হয়, সেদিকেও টহলরত পুলিশকে নজরদারি করতে বলা হয়েছে। এছাড়াও যদি কোথাও কোনও গোলমালের খবর পাওয়া যায় তাহলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌছে যাবে বলে জানানো হয়েছে। দরকার পড়লে নেওয়া হবে আইনি ব‌্যবস্থা।

  • মতুয়া আবেদন বাড়তেই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত! বাংলায় ২ অতিরিক্ত কমিটি গঠন মন্ত্রকের

    মতুয়া আবেদন বাড়তেই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত! বাংলায় ২ অতিরিক্ত কমিটি গঠন মন্ত্রকের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এখনও ঘোষিত হয়নি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ, কিন্তু তার আগেই যেন রাজ্য জুড়ে বেজে গিয়েছে ভোটের দামামা। জেলায় জেলায় প্রচার শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলি। জনসংযোগ বৃদ্ধিতে মরিয়া সকলেই। তার উপর কিছুদিন আগেই SIR এর প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাই নিয়ে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে একাধিক জেলায়। আর এই অবস্থায় নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে রাজ্যে আরও ২ কমিটি গঠনের (Two More CAA Committees) সিদ্ধান্ত নিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

    ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে রাজ্যে কমিটি গঠন

    উল্লেখ্য, গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার জানিয়েছিল, ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী সমস্ত ভারতীয় নাগরিকদের নাম নথিভুক্ত করা এবং যাঁরা নথিভুক্ত করেছেন তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করা বাধ্যতামূলক করা হবে। এরপরই তা বাস্তবায়িত করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক গত ২০ ফেব্রুয়ারি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। যেখানে বলা হয় ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি ‘এমপাওয়ার্ড’ কমিটি গঠন করা হবে। আর এবার ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে আবেদনের বিষয়ে আরও ২ কমিটি গঠন করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

    বাড়তি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত মন্ত্রকের

    SIR পর্বে খসড়া ভোটার তালিকায় বহু মতুয়া, উদ্বাস্তুর নাম বাদ গিয়েছিল। যার জেরে প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন বঙ্গ বিজেপির নেতারা। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর আরও বেড়েছে মতুয়াদের উদ্বেগ। তাই মতুয়াদের নাম বাদ যাওয়ার ভয় দূর করতে রাজ্যে ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন এবং ২০০৯ সালের নাগরিকত্ব বিধি মেনে আগেই ২টি কমিটি গড়ে তুলেছিল শাহের মন্ত্রক। কিন্তু সেখানে মতুয়াদের প্রচুর সংখ্যক আবেদন আসায় ব্যাপক চাপের মুখে পরে কমিটি। তাই বাধ্য হয়ে আবেদন প্রক্রিয়া ঠিকভাবে যাচাই করতে বাড়তি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

    আরও পড়ুন: ভোটের আগে উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গে ভারী বুটের আওয়াজ, কোথায় এল কত কেন্দ্রীয় বাহিনী?

    প্রসঙ্গত, রাজ্যে নিবার্চনের আবহে SIR নিয়ে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েই চলেছে। তার উপর CAA-তে প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব এখনও মেলেনি বহু মানুষের। এর ফলে দুই প্রক্রিয়া নিয়ে মহাবিতর্ক তৈরি হয়। অনেক জায়গায় শোনা যাচ্ছে CAA-তে নাগরিকত্ব না মেলায় অনেকের নাম SIR-এ বাদ যেতে পারে। সেই কারণে মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু মানুষ দুশ্চিন্তার মুখে পড়েছে এবং ক্ষোভ-বিক্ষোভও দেখা গেছে। সেক্ষেত্রে তাই ক্ষোভ প্রশমন ও আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি করতে কমিটির সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সুদূর প্রসারী বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

  • ভোটের আগে উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গে ভারী বুটের আওয়াজ, কোথায় এল কত কেন্দ্রীয় বাহিনী?

    ভোটের আগে উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গে ভারী বুটের আওয়াজ, কোথায় এল কত কেন্দ্রীয় বাহিনী?

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্য জুড়ে বেজে গিয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের ঢাক ঢোল পর্ব। যে কোনও সময়ে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে চলেছে কারণ মার্চের শুরুতেই আসার কথা কমিশনের ফুল বেঞ্চের। এমতাবস্থায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বাংলায় আগমন হল কেন্দ্রীয় বাহিনীর (Central Force Comes To Bengal)। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ, সর্বত্রই শোনা যাচ্ছে বুটের আওয়াজ। সাধারণ মানুষ এবং বিধানসভা নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে সম্ভাব্য স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে নজরদারি চলছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর।

    দক্ষিণ দিনাজপুর এবং ধূপগুড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী

    রিপোর্ট মোতাবেক ১ মার্চ অর্থাৎ রবিবার চার কোম্পানির কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছিল দক্ষিণ দিনাজপুরে। বিকেল থেকেই সেখানকার কুমারগঞ্জ, গঙ্গারামপুর, কুশমণ্ডি ও হরিরামপুরের আটটি ব্লকেই রুট মার্চ শুরু করেছে জওয়ানরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন জেলা পুলিশ প্রশাসনের অধিকারিকরা। আরও ছয় কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্রুত জেলায় আসবে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও ধূপগুড়িতে পৌঁছে গিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিভিন্ন ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের সঙ্গে রুট মার্চ শুরু করে দিয়েছে জওয়ানরা। পাশাপাশি এদিন ডাউকিমারি এলাকাতেও রুট মার্চ করে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

    শ্রীরামপুরেও চলছে রুট মার্চ

    হুগলির শ্রীরামপুরেও কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে গিয়েছে রুট মার্চের জন্য। জানা গিয়েছে, রবিবার বিকাল থেকেই শ্রীরামপুরে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শুরু হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ। সঙ্গে ছিলেন চন্দননগর কমিশনারেটের এসিপি ২ জি আরবিন্দ ও শ্রীরামপুর থানার আইসি সুখময় চক্রবর্তী। শ্রীরামপুর বাস টার্মিনাল থেকে নওগাঁর মোড় পর্যন্ত রুট মার্চ করে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এছাড়াও রাতেই ডানকুনিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পৌঁছায়।সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রগুলিতে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন জওয়ানরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন তাঁরা। তবে এখন পর্যন্ত বালুরঘাটে আসেনি কেন্দ্রীয় বাহিনী।

    জানা গিয়েছে, দোলের পরেই এবং আগামী ১০ মার্চের মধ্যে দার্জিলিংয়ে মোতায়েন হচ্ছে ৫ কোম্পানি বাহিনী, শিলিগুড়িতে ২ কোম্পানি, কালিম্পংয়ে ১ কোম্পানি, কোচবিহারে ৬ কোম্পানিও, আলিপুরদুয়ারে ২ কোম্পানি, রায়গঞ্জ জেলায় ৪ কোম্পানি, মালদহে ৬ কোম্পানি, মুর্শিদাবাদে ১২, জঙ্গিপুর পুলিশ জেলায় ৭ কোম্পানি। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলায় ৭ কোম্পানি, রানাঘাট ৩ কোম্পানি, হাওড়া ৩ কোম্পানি, হাওড়া রুরাল ৩ কোম্পানি, হুগলি (রুরাল) ১০ কোম্পানি, চন্দননগর ৩ কোম্পানি, কলকাতায় মোতায়েন হবে ১৮ কোম্পানি।

    এছাড়াও বারাসত পুলিশ জেলা ৫ কোম্পানি, বনগাঁ ২ কোম্পানি, বসিরহাটে মোতায়েন হবে ১০ কোম্পানি। বারাকপুর ১০ কোম্পানি, বিধাননগর ১ কোম্পানি, বারুইপুর ৮ কোম্পানি, ডায়মন্ড হারবার ৫ কোম্পানি, সুন্দরবন ৫ কোম্পানি, আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ জেলায় ১০ কোম্পানি, পশ্চিম মেদিনীপুর ১৩ কোম্পানি, ঝাড়গ্রাম ৬ কোম্পানি, বাঁকুড়া ৬ কোম্পানি, পুরুলিয়া ১৫ কোম্পানি এবং বীরভূমে ১৪ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে।

    আরও পড়ুন: বাড়বে DA থেকে পেনশন, বাংলায় ৭ পে কমিশন গঠনের দিন ঘোষণা, তবে রয়েছে শর্ত

    প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের আগে একাধিক জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই টহল ঘিরে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে প্রশাসন। কিছুদিন আগেই রাজ্যের CEO দফতর থেকে এক দফায় ভোট করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে দিল্লিতে। অর্থাৎ একদিনেই ২৯৪টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণের পক্ষে মত দেয় রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। জানা গিয়েছে ইতিমধ্যেই সেটার ভিত্তিতে জোরদার আলোচনা চলছে দিল্লিতে কমিশনের সদর দফতরে। তবে এপ্রিল মাসের মধ্যেই সমগ্র নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ করে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।