Category: পশ্চিমবঙ্গ

  • দোলে রেকর্ড মদ বিক্রি উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গে, কোন জেলায় কত? দেখুন পরিসংখ্যান

    দোলে রেকর্ড মদ বিক্রি উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গে, কোন জেলায় কত? দেখুন পরিসংখ্যান

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: হোলির মরশুম (Holi 2026) ঘিরে তুমুল হইচই রাজ্য জুড়ে। আবির আর পিচকারির এই বর্ণময় আনন্দের মাঝেই উঠে এল এক নয়া তথ্য। জানা গিয়েছে সুরাপ্রেমীদের দৌলতে নাকি রাজ্যের (West Bengal) কোষাগারে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব লাভ করল প্রশাসন। আবগারি দফতরের প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে দোল ও হোলির দিনগুলোতে রাজ্যে মদ বিক্রি (Record Liquor Sold In West Bengal) নাকি বিগত সমস্ত রেকর্ডকে ছাপিয়ে গিয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর এবং দার্জিলিং এর দোকানে দোকানে ভিড় উপচে পড়েছে।

    ১২০ কোটি টাকার মদ বিক্রি রাজ্যে

    আবগারি দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দোলের মরসুমে রাজ্যজুড়ে মদ বিক্রি করে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ১২০ কোটি টাকা। রেকর্ড হারে মদ বিক্রি হয়েছে এলাকায় এলাকায়, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল বিয়ারের। শুধুমাত্র বিয়ার বিক্রি থেকেই এসেছে ৭০ কোটি টাকা। আর এই সুরাপ্রেমীদের দৌলতে পূর্ব মেদিনীপুরেও দোল ও হোলির দিনগুলোতে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত এই চার দিনে মোট ৩০ কোটি ১১ লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়েছে। যার মধ্যে দেশি মদ বিক্রি হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ ৭৭ হাজার লিটার। পাশাপাশি বিদেশি মদ বিক্রি হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৮৬ হাজার লিটার।

    ৩ দিনে মোট ১১ কোটির বেশি মদ বিক্রি

    পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুর–সহ একাধিক জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। ফলে যে কোনও ছুটির মরশুমেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি ভিন রাজ্য থেকেও বহু পর্যটক এখানে ভিড় করেন। তাই সেখানে নদের চাহিদাও বেশি। একইভাবে দোলের দিন শিলিগুড়ি সহ দার্জিলিংয়েও রেকর্ড বিক্রি হয়েছে মদ। আবগারি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ২ মার্চ থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত ৩ দিনে মোট ১১ কোটি ১৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার মদ বিক্রি হয়েছে। গত ২ মার্চ দার্জিলিং এ ৪ কোটি ১০ লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়েছে। ৩ মার্চ ৬ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়েছে এবং ৪ তারিখ ১ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়েছে।

    আরও পড়ুন: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার অতীত! বাংলার মহিলাদের জন্য গঠন হবে ৫৭০০ কোটির তহবিল

    রাজ্যে বৈধ মদের পাশাপাশি অবৈধ চোলাই মদের রমরমাও বেশ বেড়েছে, তাই সেই তৎপরতা রুখতে সক্রিয় হয়েছে প্রশাসন। গোটা ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে জেলায় অভিযান চালিয়েছে আবগারি দফতর ও প্রশাসন। জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় দোলের দিন বিশেষ অভিযান চালিয়ে আবগারি দপ্তর মোট ১৩২ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি দু’টি বাইকও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এদিকে রাজ্যের এই বিপুল পরিমাণ মদ বিক্রি নিয়ে আতঙ্কিত মাদক বিরোধী সংগঠনগুলো। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা মদ ও মাদক দ্রব্য বিরোধী কমিটির আহ্বায়ক নারায়ণচন্দ্র নায়ক বলেন, ‘রাজ্য সরকার ঢালাও মদের লাইসেন্স দেওয়ার কারণেই এই অপরাধ বাড়ছে। যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অশনিসংকেত।’

  • DA থেকে সপ্তম পে কমিশন, শাহের ওপর আস্থা? জানালেন পশ্চিমবঙ্গ সরকাররের কর্মীরা

    DA থেকে সপ্তম পে কমিশন, শাহের ওপর আস্থা? জানালেন পশ্চিমবঙ্গ সরকাররের কর্মীরা

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বাংলায় বিধানসভা ভোটের মুখে প্রতিশ্রুতির বন্যা বইছে সকলের জন্য। ইতিমধ্যে ভোটকে নজরে রেখে পশ্চিমবঙ্গ সরকার লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা বৃদ্ধি, বেকার ভাতার আওতায় ১৫০০ টাকা, ৪ শতাংশ ডিএ (Dearness allowance) বৃদ্ধি, সপ্তম বেতন পে কমিশনের ঘোষণা করেছে। অপরদিকে সম্প্রতি বাংলা সফরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছেন, বাংলায় বিজেপি সরকার গড়ল ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন পে কমিশন (7th Pay Commission) লাগু করা হবে। এতকিছু প্রতিশ্রুতির মধ্যে এখন প্রশ্ন উঠছে, বাংলার সরকারি কর্মীরা এসবের ওপর বিশ্বাস রাখতে পারছেন? সেই নিয়েই এবার মুখ খুললেন বকেয়া মহার্ঘ ভাতা আদায়ের আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ ও কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ-এর সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় (Malay Mukherjee)।

    অমিত শাহের প্রতিশ্রুতিতে আস্থা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীদের?

    অনেকেই ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, DA, পেনশন, বেতন বৃদ্ধি নিয়ে অমিত শাহের কথার ওপর আস্থা রাখতে পারবেন বাংলার সরকারি কর্মীরা? কারণ দীর্ঘ বিগত কয়েক বছর ধরে পঞ্চম বেতন পে কমিশনের আওতায় বকেয়া ডিএ মামলা নিয়ে লড়াই চলছে। আর এই লড়াইয়ে আংশিক জয়ও পেয়েছেন সকলে। আগামী ৩১ মার্চ, ২০২৬-এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সরকারি কর্মীদের বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এসবের মধ্যেই মলয় মুখোপাধ্যায়ের আশঙ্কা, ভোটের পর তৃণমূল সরকার পুনরায় নির্বাচিত হলে পেনশন বন্ধ করে দিতে পারে। অমিত শাহের করা মন্তব্য প্রসঙ্গে মলয়বাবু জানান, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখ দিয়ে একটা কথা বের হওয়া মানে সেটাকে একদম অবিশ্বাস আমরা করতে পারি না বা করছিও না।’

    ২০৩০ সালে লাগু হবে সপ্তম বেতন পে কমিশন!

    মুখ্যমন্ত্রীর করা সপ্তম বেতন কমিশন প্রসঙ্গে মলয় মুখোপাধ্যায় জানান, ‘বর্তমান সরকার যদি আবার আসে তাহলে এই সপ্তম বেতন পে কমিশন ২০৩০ সালে লাগু হবে। মুখ্যমন্ত্রী এসে অনেক কথাই বলেছিল। তাঁর যে প্রতিশ্রুতি কতটা ফেক তা কর্মচারী সমাজ হারে হারে টের পাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন যে বাম আমলে যে যে বঞ্চনা হয়েছিল তা তাঁরা এসে ঠিক করে দেবেন। কিন্তু সেটা একদম মিথ্যে প্রতিশ্রুতি ছিল। এখানে শুধু দুর্নীতি আর দুর্নীতি। আর এসব করেই দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রাজত্ব করছে বর্তমান সরকার। তবে এই যে মাননীয় অমিত শাহের বক্তব্য এটা যদি সত্যি সত্যি লাগু হয় তাহলে ১০০ শতাংশ সরকারি কর্মচারীরা অনেক উপকৃত হবে, যেটা বর্তমান সরকার থাকলে আমরা পেতাম না।’

    আরও পড়ুনঃ দ্বিতীয় বা তৃতীয় সন্তানের জন্ম দিলেই ২৫,০০০ টাকা দেবে রাজ্য সরকার! কবে থেকে?

    অমিত শাহ বলেছেন ৪৫ দিনের মধ্যে পে কমিশন লাগু হবে। যদিও মলয় মুখোপাধ্যায় অন্য কথা বলছেন। তিনি জানান, ‘আমার মনে হয় মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই বেতন কমিশনের বিস্তারিত তথ্য জানেন না। তবুও তাঁর মুখ থেকে ওই কথাটা বলা মানে কিন্তু বড় বিষয়।’

  • বাংলায় আরেক চিটফাণ্ড কেলেঙ্কারি! পূর্বস্থলীতে কোটি কোটি টাকা তছরুপ

    বাংলায় আরেক চিটফাণ্ড কেলেঙ্কারি! পূর্বস্থলীতে কোটি কোটি টাকা তছরুপ

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সারদা-রোজভ্যালিতে চিটফান্ড কাণ্ড (Chit Fund Case) নিয়ে বিতর্ক এখনও শেষ হয়নি। হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর থেকে বেআইনিভাবে আমানত সংগ্রহ করা হয়েছিল, যদিও এই ঘটনা সংক্রান্ত মামলা এখন বিচারাধীন। ইডি জানিয়েছে, তারা প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে যা বিনিয়োগকারীদের ফেরানো হবে। আর এই অবস্থায় সারদার স্মৃতি দেখা গেল পূর্বস্থলীতে (Purbasthali), আরেক চিটফান্ড কাণ্ডের হদিস পাওয়া গেল। আমানতকারীদের টাকা নিয়ে পালাল প্রতারকরা।

    পূর্বস্থলীতে চিটফান্ড কাণ্ড

    রিপোর্ট মোতাবেক, পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী এলাকায় চিটফান্ডে টাকা বিনিয়োগের নাম করে কোটি কোটি টাকা আদায় করা হয়েছিল গ্রাহকদের কাছ থেকে। দাবি করা হয়েছিল টাকা বিনিয়োগ করলে অল্প সময়েই বিপুল পরিমাণ সুদ মিলবে। অনেকেই তাঁদের টোপ গিলে টাকা বিনিয়োগও করে বসছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই সংস্থায় টাকা জমা করেছিলেন। কিন্তু এখন টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে চোখ কপালে উঠল লগ্নিকারীদের। অভিযোগ, জমানো কোটি কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেল দুই চিটফান্ড মালিক। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।

    অফিসিয়াল কাগজপত্রের মধ্যেও রয়েছে ত্রুটি

    লগ্নিকারীদের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার সময় যে কাগজপত্র চিটফান্ড থেকে দেওয়া হয়েছিল তাতেও একাধিক গোলযোগ ছিল। এমনকি ওই কাগজে ওই প্রতারকরা পুরো স্বাক্ষর করত না। এখানেই শেষ নয়, অফিসিয়াল কাগজপত্রের মধ্যেও ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের কোনও অনুমোদনও ছিল না। এইভাবেই এই চিট ফান্ড চালানো হত, আর সাধারণেরা এই প্রতারকদের বিশ্বাস করে তাঁদের সমস্ত সঞ্চয় বিনিয়োগ করতেই জালিয়াতির শিকার হল। জানা গিয়েছে, ওই দুই মালিকের মধ্যে একজনের বাড়ি পূর্বস্থলী থানার সিংহারি গ্রামে এবং অপরজনের বাড়ি পূর্বস্থলী নতুন বাজারপাড়া এলাকায়। এই বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন অনেকেই।

    আরও পড়ুন: একদম ঝাঁ চকচকে, অমৃত ভারত প্রকল্পে ভোল বদলে গেল পুরুলিয়ার দুই রেল স্টেশনের

    প্রসঙ্গত, এলাকায় একাধিক চিটফান্ডের রমরমা ব্যবসা চলছে ইদানিং। সারদা থেকে শুরু করে রোজভ্যালি, একসময় চিটফান্ডের রমরমা কারবার দেখে রীতিমতো চোখ কপালে উঠেছিল সাধারণ মানুষের। কিন্তু, ধীরে ধীরে এই সমস্ত বড় চিটফান্ডগুলি প্রতারণার জাল ছড়িয়ে ফেলেছে, আর তাতেই সাধারণের কোটি কোটি টাকা জলে চলে যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন উঠছে প্রতারকদের বিরুদ্ধে কি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে পুলিশ প্রশাসনের তরফে।

  • রাজীবের পর চর্চায় আরেক প্রাক্তন পুলিশ কর্তা, রণবীর কুমারকে বড় দায়িত্ব দিল নবান্ন

    রাজীবের পর চর্চায় আরেক প্রাক্তন পুলিশ কর্তা, রণবীর কুমারকে বড় দায়িত্ব দিল নবান্ন

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যের (West Bengal) প্রশাসনিক পদ নিয়ে বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। এর আগেও প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমারের পদ নিয়ে একাধিকবার বিতর্ক উঠেছিল। যদিও এইসব তর্ক বিতর্ককে পিছনে ফেলে ফের প্রশাসনিক পদ পরিবর্তন করল নবান্ন (Nabanna)। রাজ্যের সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস রণবীর কুমারকে (Ranbir Kumar) ট্রাফিক অ্যান্ড রোড সেফটির অ্যাডভাইজর করা হল।

    নতুন পদে নিয়োগ IPS রণবীর কুমারকে

    রিপোর্ট মোতাবেক, রাজ্যে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজে আরও জোর দিতে বেশ উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। তাই সেই কাজ যাতে আরও সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করা যায় তাই ট্রাফিক ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক নতুন উপদেষ্টা হিসেবে প্রাক্তন পুলিশ কর্তা রণবীর কুমারকে নিয়োগ করা হয়েছে। প্রশাসন মনে করছে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে রাজ্যে সড়ক নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। অন্যদিকে রাজ্যের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমারকে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বাকি তিন প্রার্থী, কোয়েল মল্লিক, বাবুল সুপ্রিয় এবং মেনকা গুরুস্বামীকে সঙ্গে নিয়ে জমা দিলেন মনোনয়ন পত্র।

    চর্চায় রাজীব কুমার

    বরাবরই খবরের শিরোনামে থাকেন প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার। সারদা ও রোজভ্যালি চিটফান্ড কেলেঙ্কারির তদন্ত চলাকালীন রাজীব কুমারের পাশে যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাঁড়িয়েছিলেন, তা নিয়ে বেশ চর্চা উঠেছিল বিরোধীদের মধ্যে। এক্ষেত্রে রাজীব কুমারকে নিয়ে সিবিআই তদন্তের জট থাকলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ওপর যথেষ্ট আস্থা রেখেছেন তাই সারদা তদন্তের জন্য রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রধান হিসেবে তাঁকে নিয়োগ করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে তাঁকে বিধাননগর কমিশনারেটের প্রধান এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদে বসানো হয়। এবং সবশেষে রাজ্য পুলিশের ডিজিপি (DGP) পদে নিযুক্ত করা হয়েছিল তাঁকে। সম্প্রতি সেই পদ থেকে তিনি অবসর নিয়েছেন।

    আরও পড়ুন: ভোটের মুখে বাংলায় রাজ্যপাল বদল! দায়িত্বে প্রাক্তন গোয়েন্দাকর্তা! কে এই আর এন রবি?

    প্রসঙ্গত, নবান্নে প্রশাসনিক রদবদলের মাঝেই গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার আচমকা রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সিভি আনন্দ বোস। রাতেই রাষ্ট্রপতি ভবনে পদত্যাগপত্র পাঠানো হলে তা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু ভোটমুখী বঙ্গে কেন আচমকা এই পদত্যাগ রাজ্যপালের, সেই কারণ এখনো স্পষ্ট হয়নি, এমনকি এ বিষয়ে সিভি আনন্দ বোস নিজেও কোনও মন্তব্য করেননি। আর এই অবস্থায়, বোসের ইস্তফার পর ‌পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের দায়িত্ব পেলেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর এন রবি। অন্যদিকে কেরলের রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকরকে তামিলনাড়ুর রাজ্যপালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • একদম ঝাঁ চকচকে, অমৃত ভারত প্রকল্পে ভোল বদলে গেল পুরুলিয়ার দুই রেল স্টেশনের

    একদম ঝাঁ চকচকে, অমৃত ভারত প্রকল্পে ভোল বদলে গেল পুরুলিয়ার দুই রেল স্টেশনের

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বাংলায় ভোটের মুখে বিরাট চমক দিল রেল (Indian Railways)। ভোল বদলে গেল পুরুলিয়ার বরাভূম রেলওয়ে স্টেশনের (Barabhum Railway Station)। আর এই নিয়ে বিশেষ পোস্ট করে সকলকে চমকে দিলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এমনিতে অমৃত ভারত স্টেশন স্কিমের অধীনে দেশের বহু রেলওয়ে স্টেশনের ভোল বদলে দেওয়ার কাজ করছে রেল। এদিকে সেই তালিকায় রয়েছে বাংলারও একগুচ্ছ রেলস্টেশন। তেমনই এবার পুরুলিয়া জেলার বরাভূম রেলস্টেশনের এমন কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে যা দেখলে আপনারও চোখ রীতিমতো ধাঁধিয়ে যাবে।

    ভোল বদলে গেল বরাভূম রেলওয়ে স্টেশনের

    রেলমন্ত্রীর তরফে শেয়ার করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, আগের বরাভূম রেলস্টেশন কেমন ছিল আর এখন অমৃত ভারত স্টেশন স্কিমের আওতায় কেমন হয়েছে। আগের থেকে স্টেশনটি আরও পরিষ্কার হয়েছে। সেইসঙ্গে স্টেশনের গায়ে থাকা দেওয়াল চিত্র আপনার মন ভালো করে দেবে। সাঁওতাল সংস্কৃতির ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে স্টেশনে।

    বরাভূমের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের আরও একটি স্টেশন এই অমৃত ভারত স্টেশন স্কিমের আওতায় আগের থেকে আমূল বদলে গিয়েছে। স্টেশন প্রাঙ্গন হয়ে উঠেছে আরও সুন্দর এবং ঝকঝকে। আজ কথা হচ্ছে আনারা রেলওয়ে স্টেশন নিয়ে। এই স্টেশনটি দক্ষিণ পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনের অন্তর্গত। সারাদিনে এখানে ৪৮টি ট্রেন হল্ট দেয়। এই স্টেশনে রয়েছে মাত্র ২টি প্ল্যাটফর্ম। সারাদিনে এই স্টেশনের ওপর দিয়ে কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন।

    অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম কী? 

    আলোচনা করে নেওয়া যাক অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম ঠিক কী?  ভারতের সমস্ত রেলওয়ে স্টেশনগুলিকে রূপান্তরিত করা হচ্ছে, নানান সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। স্টেশনগুলির সৌন্দর্যায়নের কাজ চলছে। এটি সরকারের অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় সম্পন্ন করা হচ্ছে। সারা দেশে ১০৩টি অমৃত ভারত স্টেশন উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই সমস্ত স্টেশনের উদ্বোধন করেছেন। অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায়, সারা দেশের স্টেশনগুলিকে একটি অনন্য চেহারা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই স্টেশনগুলি বিভিন্ন থিমের উপর নির্মিত হয়েছে। এগুলি শিল্প ও স্থানীয় সংস্কৃতির পাশাপাশি বন্যপ্রাণীকেও প্রদর্শন করে। 

    আরও পড়ুনঃ দ্বিতীয় বা তৃতীয় সন্তানের জন্ম দিলেই ২৫,০০০ টাকা দেবে রাজ্য সরকার! কবে থেকে?

    এই পরিকল্পনার লক্ষ্য স্টেশনগুলিকে পরিষ্কার, আরামদায়ক এবং অ্যাক্সেসযোগ্য করে তোলা। আকর্ষণীয় প্রবেশ এবং প্রস্থান গেটগুলি ডিজাইন করা হয়েছে, যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক অপেক্ষা কক্ষ, পরিষ্কার শৌচালয় এবং সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ ও আপগ্রেডেট প্ল্যাটফর্ম সহ। এছাড়াও, স্টেশনগুলিতে যাত্রীদের জন্য লিফটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিনামূল্যে ওয়াই-ফাইয়ের মতো সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি বিভিন্ন সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে। “এক স্টেশন, এক পণ্য” প্রকল্পের আওতায় এই অমৃত স্টেশনগুলিতে স্থানীয় পণ্য বিক্রি করা হবে।

  • ভোটের মুখে বাংলায় রাজ্যপাল বদল! দায়িত্বে প্রাক্তন গোয়েন্দাকর্তা! কে এই আর এন রবি?

    ভোটের মুখে বাংলায় রাজ্যপাল বদল! দায়িত্বে প্রাক্তন গোয়েন্দাকর্তা! কে এই আর এন রবি?

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সামনেই ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন, সেই কারণে রাজ্য জুড়ে শাসকদল এবং বিরোধীদলের মধ্যে চলছে তুমুল ব্যস্ততা। আর এই ডামাডোল পরিস্থিতির মাঝে আচমকা রাজ্যপাল (West Bengal Governor) পদ থেকে বৃহস্পতিবারই ইস্তফা দিলেন সিভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose)। রাষ্ট্রপতি ভবনে পদত্যাগপত্র পাঠানো হলে তা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু ভোটমুখী বঙ্গে কেন আচমকা এই পদত্যাগ রাজ্যপালের, সেই কারণ এখনো স্পষ্ট হয়নি, এমনকি এ বিষয়ে সিভি আনন্দ বোস নিজেও কোনও মন্তব্য করেননি। এমতাবস্থায়, বোসের ইস্তফার পর ‌পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের দায়িত্ব পেলেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর এন রবি (R N Navi) ।

    কে এই আরএন রবি?

    আর এন রবির জন্ম পটনায়। ১৯৭৪ সালে পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর পাশ করেন এবং ১৯৭৬ সালে IPS-এ যোগ দেন। তিনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর দায়িত্বও সামলেছিলেন। পাশাপাশি দেশের গোয়েন্দা বিভাগ IB-এ কাজ করার সময়ে জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং মাওবাদী প্রভাবিত এলাকায় বিদ্রোহ দমন করেন তিনি। এমনকি সন্ত্রাস দমনে আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে গোপন তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন আরএন রবি।

    স্ট্যালিনের সরকারের সঙ্গে তুমুল সংঘাত

    প্রাক্তন IPS অফিসার আরএন রবি এর আগে মেঘালয়, নাগাল্যান্ডের রাজ্যপালের দায়িত্ব সামলেছিলেন। এছাড়া তিনি উপ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদেও ছিলেন। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তামিলনাড়ুর ১৫তম এবং বর্তমান রাজ্যপাল তিনি। বিজেপি-বিরোধী এম কে স্ট্যালিনের সরকারের সঙ্গে গত কয়েক বছরে বার বার সংঘাতে জড়িয়েছেন রবি। প্রশাসনিক ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ, বিল আটকে রাখা এবং ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট বা NEET বিল নিয়ে বিতর্কের জন্য তিনি খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন। আর এবার সেই আর এন রবিকেই বঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ করা হল। অন্যদিকে কেরলের রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকরকে তামিলনাড়ুর রাজ্যপালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    আরও পড়ুন: এখনও নিখোঁজ বায়ুসেনার যুদ্ধ বিমান সুখোই, ভেঙে পড়েছিল অসমে

    উদ্বেগ প্রকাশ মমতার

    প্রসঙ্গত, গতকাল পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের পদত্যাগের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এক্স-হ্যান্ডলে লেখেন, ‘রাজ্যপাল শ্রী সিভি আনন্দ বোসের আকস্মিক পদত্যাগের খবরে আমি হতবাক এবং গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন। তাঁর পদত্যাগের কারণগুলি এই মুহূর্তে আমার জানা নেই। তবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কিছু রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণের জন্য রাজ্যপাল যদি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চাপের মুখে পড়েন, তবে আমি অবাক হব না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন যে, শ্রী আর এন রবিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসাবে নিযুক্ত করা হচ্ছে। কিন্তু এই নিয়ে কখনও আমার সঙ্গে পরামর্শ করেননি। এই ধরনের পদক্ষেপ আমাদের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভিত্তিকে আঘাত করে।”

  • সপ্তম পে কমিশন লাগু হলে কী কী সুবিধা পাবেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীরা?

    সপ্তম পে কমিশন লাগু হলে কী কী সুবিধা পাবেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীরা?

    সহেলি মিত্র, কলকাতা: পঞ্চম বেতন পে কমিশনের আওতায় এখনও বকেয়া টাকা পাননি বাংলার সরকারি কর্মীরা। চলছে বিক্ষোভ। এদিকে বিক্ষোভ আন্দোলনের মাঝেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার সপ্তম বেতন পে কমিশনের (7th Pay Commission) ঘোষণা করেছে। চলতি বছরের রাজ্য বাজেটে এই নতুন পে কমিশনের ঘোষণা করে স্বাভাবিকভাবেই সকলকে চমকে দেয় সরকার। এখন প্রশ্ন উঠছে, সরকার ঘোষণা তো করেছে বটে, কবে থেকে এটি লাগু হবে? ঠিক কী কী সুবিধা মিলবে তা এখনো স্পষ্ট নয় অনেকের কাছে। আজকের এই প্রতিবেদনে সেই বিষয়টি নিয়েই আলোচনা হবে।

    কবে থেকে লাগু হচ্ছে সপ্তম বেতন পে কমিশন?

    আগামী ৩১ মার্চ, ২০২৬- এর মধ্যে পঞ্চম বেতন পে কমিশনের (5th Pay Commission) আওতায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে বকেয়া টাকা মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এদিকে এ বিষয়ে সরকারের এখন অবধি কোনওরকম হেলদোল না থাকায় দফায় দফায় বিক্ষোভ আন্দোলনের সামিল হচ্ছেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। এসবের মাঝেই চলতি বছরের রাজ্য বাজেটে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ৪ শতাংশ ডিএ (Dearness allowance) বা মহার্ঘ্য ভাতা এবং সপ্তম বেতন পে কমিশনের ঘোষণা করে। আর এই ঘোষণা বিধানসভা ভোটের আগে বিরাট মাস্টারস্ট্রোক হিসেবে দেখছেন সকলে। প্রশ্ন একটাই নতুন বেতন কাঠামো কবে থেকে কার্যকর হবে এবং বেতন কতটা বাড়তে পারে? দেখে নিন এক নজরে।

    আরও পড়ুনঃ ‘DA, পেনশন দূর! বেতনই বন্ধ হতে পারে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীদের!’ চাঞ্চল্যকর তথ্য

    গত ৫ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী বাজেট পেশের সময় রাজ্য সরকার সপ্তম পে কমিশন গঠনের কথা জানায়। রাজ্যে বর্তমানে চালু থাকা ষষ্ঠ পে কমিশন বা রোপা ২০১৯-এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫। সেই হিসেবে নিয়ম মেনে ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকেই সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হওয়ার কথা। তবে বেতন কাঠামো নিয়ে এখনো অবধি সরকারের তরফে কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। এখানেও অবশ্য ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরই শেষ কথা বলবে।

    এতটা বাড়তে পারে বেতন!

    বেতন কতটা বাড়বে সেটা জানার আগে বুঝতে হবে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের বিষয়ে। কারণ যে কোনও পে কমিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্য সরকার কেন্দ্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৯১ থেকে ৩.১৫-এর মধ্যে রাখতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি বিবৃতি মেলেনি। যদি এই হারে বেতন পরিকাঠামো সংশোধন হয়, তবে কর্মীদের বেসিক পে কার্যত তিনগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

    আরও পড়ুনঃ বজ্রবিদ্যুৎ সহ শিলাবৃষ্টি, দক্ষিণবঙ্গের ৬ জেলায় সতর্কতা! আজকের আবহাওয়া

    উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কারও বর্তমান বেসিক বেতন যদি ১৮,০০০ টাকা হয়, তাহলে ২.৯১ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরে নতুন বেসিক দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫২,৩৮০ টাকা। আর ৩.১৫ হলে তা বেড়ে প্রায় ৫৬,৭০০ টাকা হতে পারে। বেসিক বাড়ার পাশাপাশি অটোমেটিকভাবে  HRA, DA, DR বাড়বে। বাজেটে রাজ্য সরকার ৪% মহার্ঘ্য ভাতার ঘোষণা করেছিল। এর ফলে এখন সকলের ডিএ পরিমাণ ১৮% থেকে বেড়ে ২২%-এ এসে দাঁড়িয়েছে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, নদিয়ায় পেট্রোল পাম্পে লম্বা লাইন! বাংলায় তেল নিয়ে হাহাকার?

    মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, নদিয়ায় পেট্রোল পাম্পে লম্বা লাইন! বাংলায় তেল নিয়ে হাহাকার?

    সৌভিক মুখার্জী, নদীয়া: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে হঠাৎ করেই তেল সংকটের আতঙ্কে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হল বাংলার নদিয়া জেলায় (Oil Crisis in Nadia)। বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন সারি, সারি গাড়ি দাঁড়িয়ে রয়েছে তেল নেওয়ার আশায়। এমনকি অনেকে ব্যারেল নিয়ে ভিড় জমাচ্ছে পাম্পগুলোতে। ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবার কেউ কেউ একাধিক পাম্প ঘুরেও তেল পাচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই পরিস্থিতি চরমে পৌঁছচ্ছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলা সংঘাতকে (Middle East Conflict) কেন্দ্র করেই তেলের যোগান কমে যেতে পারে, সেই আশঙ্কায় এখন স্থানীয় মানুষরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

    উপচে পড়া ভিড় পাম্পে

    নদিয়ার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে সকাল থেকেই দেখা যাচ্ছে গাড়ির লম্বা লাইন। এমনকি অনেকেই ভোর থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে পড়ছে যাতে তেল পাওয়া যায়। কিছু ক্রেতারা অভিযোগ করছে, তিন থেকে চার ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েও ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। আবার অনেক পাম্পের ডিজেল শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে পরিষেবা বন্ধ রাখা হচ্ছে। এ বিষয়ে পাম্পের এক কর্মী নিজেই জানিয়েছেন, গত দুইদিন ধরে অস্বাভাবিক হারে ডিজেল বিক্রি হয়েছে। যার ফলে অনেক পাম্পের ডিজেল দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। আর পেট্রোল এখনো পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু সেটাও খুব দ্রুত হয়ে বিক্রি হয়ে যাবে।

    আসলে এই পরিস্থিতিতে সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়েছেন কৃষকরা। কারণ, তাদের চাষবাসের কাজে সেচের প্রয়োজন হয়। সেই কারণে অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে বাধ্য হয়ে লাইনে দাঁড়াচ্ছে। এ বিষয়ে এক কৃষক জানিয়েছেন, শোনা যাচ্ছে যুদ্ধের কারণে ডিজেল পাওয়া যাবে না। তাই আগে থেকে ডিজেল কিনে রাখার চেষ্টা করছি। ধান চাষের সময় ডিজেল না পেলে আমাদের বিরাট সমস্যায় পড়তে হবে।

    আরও পড়ুন: ‘সংঘাতে সমস্যা মেটে না..’ পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে প্রথম বিবৃতি মোদির

    মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

    এদিকে সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন রকম গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। সেই কারণে দেশে তেল সরবরাহের উপর প্রভাব পড়তে পারে বলে মত প্রকাশ করছে সাধারণ মানুষ। কিন্তু কেন্দ্রের তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ২৫ দিনের তেল মজুদ রয়েছে। আর তেলের সরবরাহ নিয়েও কোনও রকম সমস্যা নেই। এমনকি রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ জগন্নাথ সরকার স্পষ্ট বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চললেও ভারতের তেল সরবরাহের একাধিক পথ খোলা রয়েছে। অতিরিক্ত তেল মজুদ করার কোনও রকম প্রয়োজন নেই। গুজবে কান দিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করবেন না।

  • ‘DA, পেনশন দূর! বেতনই বন্ধ হতে পারে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীদের!’ চাঞ্চল্যকর তথ্য

    ‘DA, পেনশন দূর! বেতনই বন্ধ হতে পারে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীদের!’ চাঞ্চল্যকর তথ্য

    সহেলি মিত্র, কলকাতা: একদিকে যখন বকেয়া ডিএ (Dearness allowance), পেনশন নিয়ে আন্দোলন চলছে বাংলার সরকারি কর্মীদের। তখন অন্যদিকে বলা হল, নাকি এসবের পাশাপাশি এবার মাইনেটাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে! শুনে চমকে গেলেন তো? কিন্তু এটাই সত্যি। আর ফেসবুক লাইভে এসে ঠিক এমনই মন্তব্য করে সকলের চিন্তা বাড়িয়েছেন বিশ্লেষক এবং অধ্যাপক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী। চলুন তিনি কী বলেছেন সেটা বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

    DA, পেনশন, মাইনে সব বন্ধ হয়ে যাবে?

    বিশ্বনাথ চক্রবর্তী জানান, ‘কলেজগুলিতে শিক্ষা কর্মীদের পাওনা টাকা দেওয়া হচ্ছে না। স্যার, ম্যাডামদের দৈনন্দিন ক্লাসের টাকা অবধি দেওয়া হচ্ছে না। কম্পোজিট গ্রান্ট স্কুলগুলিতে পৌঁছাচ্ছে না। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ৪ মার্চ অবধি প্রায় ৫৪ হাজার শিক্ষক, শিক্ষা কর্মীদের বেতন পাননি। সরকার ক্রমাগত দেউলিয়া হয়ে যেতে চলেছে। আগামী ৬ মার্চ অর্থাৎ আগামীকাল শুক্রবার জানা যাবে সরকারকে কত কিস্তিতে টাকা মেটাতে হবে কর্মীদের। এই দিনটার অপেক্ষা করছেন সকলে।’

    আরও পড়ুনঃ ১৫ মার্চই শেষ হবে ডেটা এন্ট্রি, কবে ঢুকবে বেকার ভাতার টাকা? যুবসাথী নিয়ে বড় খবর

    বকেয়া DA প্রসঙ্গে বিশ্বনাথবাবু জানান, ‘ডিএ-টা বড় কথা নয়, একটা সময়ে যদি মূল বেতনটাই না পাওয়া যায়! একবার ভাবুন আপনি লড়াই করছেন ডিএ-র জন্য। আমাদের কোষাগার, এমন হচ্ছে না তো নির্বাচনের পর সরকারি কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার মতো জায়গায় থাকবে না সরকার! খবর বিভিন্নভাবে বুঝতে পারা যায়, সেটা হল, বেতন দেওয়া নিয়ে ইতিমধ্যে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে সরকারকে। ডিএ তো অনেক দূরের কথা, ডিএ আপনি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেও পাননি। আদালত অবমাননার মামলা করা হয়েছে। কবে শুনানি হবে, কিভাবে হবে, আদৌ হবে কিনা কেউ জানেন না।’

    আরও পড়ুনঃ এক্সট্রা বোনাস, এই কর্মীরা পাবে সর্বোচ্চ ২২ হাজার টাকা! বিজ্ঞপ্তি জারি নবান্নর

    বিশ্ববিদ্যালয়গুলির হাল বেহাল

    বিশ্বনাথ চক্রবর্তী আগে জানান, ‘ডিএ সরকার দেবে না এটা আগেও বলেছিলাম। নানা অজুহাত দেবে এই সরকার। ভাবলে খারাপ লাগে অন্যান্য রাজ্যের কর্মীদের থেকে আমরা কত কম টাকা পাই। দীর্ঘদিন ধরে আমরা ডিএ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আমরা আতঙ্কিত। কিন্তু একবার ভেবে দেখেছেন, এই নির্বাচনের পর সরকারের যে আর্থিক অবস্থা তৈরি হবে, তাতে বিশেষ করে শিক্ষা কর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা কর্মী তাঁদের বেতনটা নিয়মিত হবে তো? যারা অধ্যাপক আছেন, কোথাও যদি গেস্ট প্রফেসর থাকে তাঁদের অনুদান এখন অনেকটা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলি চলবে কীভাবে? প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক নেই, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হচ্ছে কোর্স কমপ্লিট করার জন্য গেস্ট অধ্যাপক রাখতে।’ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বেকার ভাতা দেওয়ার জন্য সরকার যে পরিমাণে ঋণ নিচ্ছে হাত গুটিয়ে নেবে না তো সরকার? আশঙ্কায় ভুগছেন সরকারি কর্মীরা। বাকিটা শুনে নিন ভিডিওতে

  • ১৫ মার্চই শেষ হবে ডেটা এন্ট্রি, কবে ঢুকবে বেকার ভাতার টাকা? যুবসাথী নিয়ে বড় খবর

    ১৫ মার্চই শেষ হবে ডেটা এন্ট্রি, কবে ঢুকবে বেকার ভাতার টাকা? যুবসাথী নিয়ে বড় খবর

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: কবে থেকে মিলবে যুবসাথী প্রকল্পের (Banglar Yuva Sathi) টাকা? এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলার লক্ষ লক্ষ আবেদনকারীর মনে। এ নিয়ে প্রাথমিকভাবে সরকারের তরফে দিনক্ষণ জানিয়ে দেওয়া হলেও অনেকেরই ধারণা পহেলা এপ্রিল নয় বরং আগস্টের প্রথম তারিখ থেকেই ঢুকতে পারে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের (Government Of West Bengal) বিশেষ প্রকল্পের মাসিক ভাতা। কেউ কেউ আবার বলছেন আগস্ট নয় সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী এপ্রিল থেকে মিলবে মাসিক ভাতা। যুবসাথী নিয়ে নানা মুনির নানা মত শুনে ঘাবড়ে যাচ্ছেন আবেদনকারীরাও। ঠিক সেই আবহে যুবসাথী নিয়ে মিলল বড় আপডেট।

    15 মার্চ শেষ হবে ডেটা এন্ট্রির কাজ

    গত 26 ফেব্রুয়ারি ছিল যুবসাথী প্রকল্পে আবেদনের শেষ তারিখ। সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, শেষ দিন পর্যন্ত রাজ্য সরকারের এই বিশেষ প্রকল্পে জমা পড়েছিল প্রায় 85 লাখ আবেদন। বেকার ভাতা প্রকল্পে আবেদনের নিরিখে প্রথম সারিতে নাম রয়েছে দক্ষিণ 24 পরগনা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর 24 পরগনা, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া সহ একাধিক জেলার।

    তবে আবেদন প্রক্রিয়ার শেষ হতেই আবেদনকারীদের মধ্যে পড়ে গিয়েছে আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করার হিড়িক। সেই মর্মেই, যুবসাথী প্রকল্পের অফিসিয়াল পোর্টাল ভিজিট করছেন তারা। তবে বর্তমানে সেখান থেকে স্ট্যাটাস চেক করা যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় যথেষ্ট চিন্তায় আবেদনকারীরা। তবে সরকারি সূত্র দাবি করছে, এই মুহূর্তে যুবসাথী পোর্টালে আবেদনকারীদের আবেদনপত্র গুলি এন্ট্রি করার কাজ চলছে। একই সাথে যাঁরা অনলাইনে আবেদন করেছিলেন তাঁদেরও ডিজিটাইজেশনের কাজ চলছে ওই পোর্টালেই। কয়েকজন সরকারি আধিকারিকের তরফে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী 15 মার্চ শেষ হয়ে যাবে ডেটা এন্ট্রির কাজ। তারপরই খুব সম্ভবত চেক করা যাবে স্ট্যাটাস।

    অবশ্যই পড়ুন : T20 বিশ্বকাপে মহিলার শ্লীলতাহানি পাকিস্তানি ক্রিকেটারের! মিলল চরম শাস্তিও

    কবে থেকে মিলবে যুবসাথী প্রকল্পের টাকা?

    সম্প্রতি অন্তর্বর্তী বাজেটে যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষনা করেছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এরপরই জনসমক্ষে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন আগস্ট মাস থেকে মিলবে যুবসাথী প্রকল্পের টাকা। যদিও পরবর্তীতে সেই বক্তব্য সংশোধন করে মুখ্যমন্ত্রী জানান আগস্ট নয় বরং এপ্রিল মাসের প্রথম তারিখ থেকেই দেওয়া হবে যুবসাথীর মাসিক ভাতা। তবে এর মাঝে শোনা গিয়ে, ভোট পর্ব মিটিয়ে সরকার ক্ষমতায় এলে তবেই মিলবে এই প্রকল্পের মাসিক ভাতা। সেক্ষেত্রে এপ্রিল থেকে হিসেব করে আগস্টে একসাথে চার মাসের টাকা দেওয়া হতে পারে। তবে এখন শোনা যাচ্ছে, সব ঠিক থাকলে এপ্রিল থেকেই মিলতে পারে যুবসাথী প্রকল্পের অর্থ।