Category: পশ্চিমবঙ্গ

  • ৫টার মধ্যে জবাব চাই! রাষ্ট্রপতি মুর্মুর দার্জিলিং সফরে অব্যবস্থা নিয়ে নবান্নকে কড়া চিঠি

    ৫টার মধ্যে জবাব চাই! রাষ্ট্রপতি মুর্মুর দার্জিলিং সফরে অব্যবস্থা নিয়ে নবান্নকে কড়া চিঠি

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভোটের কারণে উত্তপ্ত বঙ্গ রাজ্য রাজনীতি, একাধিক ইস্যু নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে সংঘাত লেগেই চলেছে। আর এই আবহে বাংলায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Draupadi Murmu) সভা ঘিরে বিতর্ক যেন আরও দানা বাধল। জানা গিয়েছে বাংলার মুখ্যসচিবের কাছে এবার সরাসরি রিপোর্ট চাইলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব। রিপোর্টের মাধ্যমে জানতে চাওয়া হয়েছে কেন রাষ্ট্রপতির সভার স্থানবদল করা হয়েছে। বেঁধে দেওয়া হয়েছে সময়সীমা।

    রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে মহা বিতর্ক

    গতকাল অর্থাৎ শনিবার শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দিতে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছন রাষ্ট্রপতি। শুক্রবার বিকেলে উত্তরবঙ্গে আসার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু কিছু কারণে তাঁর সফরসূচির পরিবর্তন হয়। আগের অনুষ্ঠান সূচি অনুযায়ী, বিধাননগরে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দেওয়ার কথা ছিল রাষ্ট্রপতির। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে গোঁসাইপুর থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দেন তিনি। কিন্তু পরে এই স্থান পরিবর্তন নিয়েই অসন্তুষ্ট হন রাষ্ট্রপতি মুর্মু। রাজ্যের ব্যবস্থাপনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেন।

    মুখ্য সচিবের কাছে রিপোর্ট চাইল কেন্দ্র

    রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, “আমিও বাংলার মেয়ে। আমাকে বাংলায় আসতেই দেওয়া হয় না। মমতাদি আমার ছোট বোন। জানি না, আমার উপর কী রাগ। যাই হোক… কোনও অভিযোগ নেই। কোনও ক্ষোভ নেই। উনি ভাল থাকুন, আপনারাও ভাল থাকুন।” এমতাবস্থায় গতকাল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সফরে কী কী ঘটেছে, স্থানবদল কেন করা হয়েছে, প্রশাসন কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সবটাই লিখিতভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। রিপোর্ট মোতাবেক, আজ অর্থাৎ রবিবার, সকালে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন এই বিষয়ে একটি নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন। যেখানে বলা হয়েছে, আজ বিকেল পাঁচটার মধ্যেই রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

    রাষ্ট্রপতি সফর নিয়ে কী বলছে প্রশাসন?

    উত্তরবঙ্গ সফরে এসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর মন্তব্যকে ঘিরে যে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তাই নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, শিলিগুড়ির যে অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি যোগ দিয়েছিলেন সেটি ছিল ‘ইন্টারন্যাশনাল সান্তাল কাউন্সিল’ নামে একটি বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগ, এবং সেখানে প্রোটোকল ভাঙার কোনও ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিকে টার্গেট করে বলেন, “মাননীয়া রাষ্ট্রপতিকে আমরা সম্মান করি। তাঁকে দিয়েও পলিটিক্স বেচতে পাঠানো হয়েছে! বিজেপির এজেন্ডা বেচতে পাঠানো হয়েছে!’’

    আরও পড়ুন: যুবসাথীর চক্করে কত হাজার কোটির ধাক্কা রাজ্য সরকারের? ভয়ঙ্কর রিপোর্ট দিল RBI

    রাষ্ট্রপতির উত্তরবঙ্গ সফর সংঘাতকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং। রাষ্ট্রপতির অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। প্রথমে ইংরেজিতে, তার পরে বাংলায় এবং পরে অলচিকি লিপিতেও এই ঘটনার নিন্দা করেন। পাশাপাশি দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, “রাজ্যের গাফিলতির কারণে এই পরিস্থিতি, এটা দেশের সাংবিধানিক প্রধানকে অপমান, আদিবাসী-সাঁওতাল সমাজকে অপমান।”

  • শ্রীরামপুর স্টেশন নিয়ে বড় ঘোষণা রেলমন্ত্রীর, হাওড়া লাইনে হতে পারে আরেকটি হল্ট স্টেশনও

    শ্রীরামপুর স্টেশন নিয়ে বড় ঘোষণা রেলমন্ত্রীর, হাওড়া লাইনে হতে পারে আরেকটি হল্ট স্টেশনও

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ নির্ঘন্ট প্রকাশ না পেলেও বাংলার বিধানসভা ভোট নিয়ে কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। আর এই সময়কে কাজে লাগিয়েই এক অঘোষিত রাজনৈতিক প্রচারে নেমে পড়েছে বাম থেকে শুরু করে শাসক দল তৃণমূল, বিজেপি ও অন্যান্যরা। জায়গায় জায়গায় যাচ্ছেন রাজনৈতিক দলীয় নেতৃবৃন্দরা। এদিকে বাংলায় নিজেদের জমি দখল করতে বিজেপিও একের পর এক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এসে ঘুরে গিয়েছেন। এবার বঙ্গ সফরে এলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw)। সম্প্রতি তিনি হুগলীর শ্রীরামপুর (Serampore) গিয়েছিলেন এবং সেখানে গিয়ে বড় ঘোষণা করেছেন।

    বঙ্গ সফরে এসে বড় ঘোষণা রেলমন্ত্রী

    বঙ্গ সফরে এসে শ্রীরামপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন নিয়ে বড় ঘোষণা করেন অশ্বিনী বৈষ্ণব। সেইসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার জন্য রেল প্রকল্পের ক্ষেত্রে কত কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে সে বিষয়ে বড় তথ্য দেন তিনি। অশ্বিনী বৈষ্ণব জানালেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বছরের সাধারণ বাজেটে বাংলার রেলওয়ের উন্নয়নের জন্য রেকর্ড ১৪,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। এছাড়াও, রাজ্যে ইতিমধ্যেই ৯৩,০০০ কোটি টাকার বিভিন্ন রেল উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।

    স্থানীয়দের তরফে রেলমন্ত্রীর কাছে একটি বিশেষ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণেশ্বর স্টেশন যেমন দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে হয়েছে। তেমনই এবার মাহেশের জগন্নাথ মন্দিরের আদলে যেন শ্রীরামপুর স্টেশন করা হবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী। এমনকি রেলমন্ত্রীর কাছে এদিন হাওড়া লাইনে শ্রীরামপুর থেকে রিষড়ার মধ্যে একটি হল্ট স্টেশন হয় সেই দাবিও জানানো হয়। এই স্টেশনটি হলে মাহেশের রথযাত্রা দেখতে আসা দর্শনার্থীদের অনেক সুবিধা হবে।

    সরকারের বিরুদ্ধে গুরতর অভিযোগ রেলমন্ত্রীর

    রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব শনিবার আবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে নিশানা করেন। দাবি করেন যে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে বাংলায় হাজার হাজার কোটি টাকার অনেক গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প ঝুলে আছে। এদিন হুগলি জেলার শ্রীরামপুরে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় অংশগ্রহণকারী অশ্বিনী বৈষ্ণব সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় অভিযোগ করেন যে রাজ্য সরকার রেল প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা করছে না। জমি অধিগ্রহণের জন্য রাজ্য সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

    আরও পড়ুনঃ বদলে গেল ভোল, অমৃত ভারত প্রকল্পের আওতায় অত্যাধুনিক হল সিউড়ি থেকে হলদিয়া স্টেশন

    তিনি বলেন যে, বাংলায় রেল প্রকল্পের জন্য মাত্র ২৭ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে ৭৩ শতাংশ এখনও অঅধিগ্রহণ করা হয়নি। তিনি দাবি করেন যে এর ফলে অনেক প্রকল্প আটকে আছে। রেলমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকারের অব্যাহত অসহযোগিতা সত্ত্বেও, রেল প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রচুর প্রচেষ্টা এবং কঠোর পরিশ্রম করা হচ্ছে। বাংলায় ১০ থেকে ১২টি এমন রেল প্রকল্প রয়েছে যেখানে কাজ করার জন্য সরকার কোনও সাহায্য করছে না। রেলমন্ত্রী জানান, ২০১৪ সালের আগের ৪০ বছরে, পূর্ববর্তী সরকারগুলির অধীনে, কলকাতা মেট্রো লাইনের মাত্র ২৭ কিলোমিটার সম্প্রসারণ করা হয়েছিল। কিন্ত ২০১৪ সালে মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ১১ বছরে, কলকাতায় ৪৫ কিলোমিটার মেট্রো লাইন সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

    আরও পড়ুনঃ যুবসাথীর চক্করে কত হাজার কোটির ধাক্কা রাজ্য সরকারের? ভয়ঙ্কর রিপোর্ট দিল RBI

    রেলমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে বাংলা জুড়ে ১০১টি রেলস্টেশন সংস্কার করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এই বছরের বাজেটে বাংলার জন্য একটি বুলেট ট্রেনের পাশাপাশি একটি নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর অনুমোদন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে, বুলেট ট্রেনটি শিলিগুড়িকে সংযুক্ত করবে।

  • যুবসাথীর চক্করে কত হাজার কোটির ধাক্কা রাজ্য সরকারের? ভয়ঙ্কর রিপোর্ট দিল RBI

    যুবসাথীর চক্করে কত হাজার কোটির ধাক্কা রাজ্য সরকারের? ভয়ঙ্কর রিপোর্ট দিল RBI

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) শুরু হতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। তার আগেই বড় মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকেই যুবসাথী (Yuba Sathi Scheme) নিয়ে ঘোষণা করলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বরাদ্দ ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের ভাতার টাকা ১ এপ্রিল নয়, আজ, শনিবার, ৭ মার্চ থেকেই উপভোক্তাদের দেওয়া হবে টাকা। কিন্তু প্রকল্পের জন্য এই টাকা দেওয়ার চক্করে এবার সরকারি কোষাগারে বড় প্রভাব পড়তে চলেছে। একধাক্কায় খরচ হতে চলেছে অন্তত ১২৬০ কোটি টাকা!

    চলতি মাসেই ১২৬০ কোটি টাকা খরচ

    মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্যজুড়ে ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্প এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চলতি বছর গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যুবসাথী প্রকল্পের আবেদন জমা নেওয়া হয়েছিল। রিপোর্ট মোতাবেক সব মিলিয়ে এই প্রকল্পে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮৪ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ব্লক স্তরে আয়োজিত অফলাইন শিবিরে প্রায় ৬৫ লক্ষ এবং অনলাইন পোর্টালে প্রায় ১৯ লক্ষ যুবক যুবতী নাম নথিভুক্ত করেছে। আগে জানানো হয়েছিল ১ এপ্রিল থেকে এই টাকা দেওয়া হবে কিন্তু আচমকা দিন বদলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর তাতেই চলতি মাসে ১২৬০ কোটি টাকা খরচ হতে চলেছে। সেক্ষেত্রে অনুদানের খরচ সামলাতে জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ এই তিন মাসে সম্ভাব্য ধারের পরিমাণ পৌঁছতে পারে ৪৬ হাজার কোটি টাকায়।

    চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করল RBI

    রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, গত জানুয়ারি থেকে চলতি মার্চ মাস পর্যন্ত রাজ্য সরকার প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা ধার করার প্রস্তাব দিয়েছে যা ত্রৈমাসিকে সর্বাধিক। এছাড়াও চলতি আর্থিক বছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭৮ হাজার কোটি টাকা ধার করার কথা জানিয়েছিল রাজ্য। ফলে এই তিন মাসের জন্য আরও ৪৬ হাজার কোটি টাকা ধার করতে হলে চলতি আর্থিক বছরেই ধারের পরিমাণ হবে ১.২৪ লক্ষ কোটি টাকা। যা নিয়ে চিন্তিত সকলে। এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে কেন ১ এপ্রিল থেকে ভাতা দেওয়ার কথা ছিল? জানা গিয়েছে, ১ এপ্রিল থেকে নতুন আর্থিক বছর শুরু হবে। তখন থেকে ভাতা চালু করলে ওই বছরের বাজেট থেকে খরচ করা যেত। কিন্তু এখন থেকেই তা চালু হওয়ায় প্রথম মাসের খরচটা চলতি আর্থিক বছরেই ঢুকে যাবে। কিন্তু ভোটের আগে হাতে টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়তো জরুরি বলেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করল সরকার।

    কোষাগার নিয়ে বাড়ছে বিরোধীদের কটাক্ষ

    দিনের পর দিন রাজ্যের কোষাগারের বেহাল অবস্থা নিয়ে চুপ থাকছে না বিরোধীরা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মমতার এই প্রকল্প অনুদানের আচমকা নেওয়া সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “রাজ্যকে দেউলিয়া করছে এই সরকার। যুবসাথী যাঁরা নেবেন, তাঁরাও জানেন, এই সরকার তাঁদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দেবে। ফলে ভাতা নিলেও এই সরকারকে বিসর্জন দেবেন তাঁরাই।” অন্যদিকে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীও কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী ‘ক্যাশ ফর ভোট’ মডেলের চক্করে রাজ্যের মানুষের ঘাড়ে বিপুল ঋণের বোঝা চাপছে। আর তার দায় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকেই নিতে হবে।’’

    আরও পড়ুন: ভারত না নিউজিল্যান্ড, T20 বিশ্বকাপে কার ক্ষমতা বেশি? পরিসংখ্যান দেখলে ভয় পাবেন!

    বিরোধীদের মন্তব্য মানেনি তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “রাজ্যের কোষাগারে চাপ ও ঋণের হাল নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে কেন্দ্রীয় সরকারকে রাজ্যের প্রাপ্য বকেয়া ছেড়ে দিতে বলুন।” প্রসঙ্গত, গত অন্তর্বর্তী বাজেটে যুবসাথী ছাড়াও খরচসাপেক্ষ একাধিক ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে উপভোক্তার সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ২.৪২ কোটি করা হয়েছে এবং মাসিক ভাতাও ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। খেতমজুরদের আর্থিক অনুদান দেওয়ার কথাও ঘোষণা হয়েছিল। সব মিলিয়ে আগের খরচের বহরের উপর আরও বোঝা চাপানো হয়েছে।

  • ‘এবার সুপ্রিম কোর্ট দেখাবে অ্যাগ্রেসিভ মনোভাব’, DA মামলায় বড় আপডেট

    ‘এবার সুপ্রিম কোর্ট দেখাবে অ্যাগ্রেসিভ মনোভাব’, DA মামলায় বড় আপডেট

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ উপেক্ষা আর উপেক্ষা। এই বকেয়া ডিএ (Bengal Da Case) নিয়ে কবে টানাপোড়েন, উপেক্ষার পালা শেষ হবে? উত্তর খুঁজছেন সাধারণ সরকারি কর্মচারী থেকে শুরু করে পেনশন প্রাপকরা। এদিকে সরকার শিক্ষক, শিক্ষা কর্মী সহ অনেককে এই বকেয়া ডিএ-র আওতায় রাখেনি। সেই এমএ পিটিশন দাখিল করা হয়েছে আদালত। এহেন ঘটনায় ক্ষোভের মুখে পড়েছে কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ। ডিএ মামলাকারী এক ভিডিও বার্তায় এই বিষয়ে মুখ খুললেন। তিনি জানালেন, ‘রাজ্য সরকার ইমেইল মারফত সর্বোচ্চ আদালতে একটি MA পিটিশন দাখিল করে। পরবর্তীকালে সেটা আমাদের হাতে আসে। সকাল থেকেই যে খবরটি ভাইরাল হয়েছে সেটা অনুযায়ী সরকার নাকি শিক্ষা কর্মী, পঞ্চায়েত কর্মীদের ডিএ-র আওতায় রাখেনি। আমরাও দেখলাম। তবে একটা কথা মনে রাখবেন, এটি এমএ অ্যাপ্লিকেশন যেটি সরকারের তরফে সুপ্রিম কোর্টের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। সেক্ষেত্রে এখনও কিন্তু ফাইলিং হয়নি। সেটা গ্রাহ্য হবে কি হবে না সেটা পরে জানা যাবে।’

    ক্ষোভের মুখে পড়েছে কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ

    মলয়বাবু বলেন, ‘সরকার যে কর্মচারীদের সংখ্যা তুলে ধরেছে তা বিভেদ সৃষ্টি করার জন্যই করেছে বলে মনে হচ্ছে। সেইসঙ্গে কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজকেই দায়ী করেছে। আমরা আগেও বলেছি, খোদ রাজ্য সরকারি কর্মীদের মামলায় আমাদের আসতে হয় ট্রাইব্যুনাল দিয়ে। আমাদের মামলা রোপা মেনে হয়েছে। যারা বেতন, ডিএ, পেনশন পায় তাঁরাই এর আওতায় আসবেন। আজ যে বলছে শিক্ষক, শিক্ষা কর্মী, পুরসভা কর্মীদের DA দেওয়া হবে না, তাঁদেরই কিন্তু বকেয়া দিতে বেশি খরচ হবে। সরকারের খরচ হবে ১৮,৩৬৯,৩২ কোটি টাকা।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সব মিলিয়ে সরকারের খরচ হবে ৪২,০০০ কোটি টাকা। ২৫ শতাংশ যে দেওয়ার কথা ছিল অর্থাৎ সেখানে খরচ হত ১০,০০০ কোটি টাকা মতো। সেখানে সবাই ছিল। কর্মচারী সমাজ, শিক্ষক, শিক্ষা কর্মী, পঞ্চায়েত, ভোট কর্মী প্রমুখ। ১০ নম্বর পেজে কিন্তু সবটা লেখা আছে। তারপরেও কেন আমাদের যাতা বলছেন? বেশ কিছু শিক্ষক কর্মচারী সমাজ থেকেই আমাদের যা নয় তাই বলা হচ্ছে। এখানে তো আমরাই তুলে ধরেছিলাম।’ মলয় মুখোপাধ্যায় এও বলেছেন যে, ‘এবার সুপ্রিম কোর্ট দেখাবে অ্যাগ্রেসিভ মনোভাব।’

    আরও পড়ুনঃ ‘Updated Soon’ মেসেজে বিপাকে আবেদনকারীরা, যুবসাথীর স্ট্যাটাস চেক নিয়ে আপডেট সরকারের

    কী বলছেন কর্মীরা?

    সরকারের নতুন পিটিশন নিয়ে কেউ কেউ বলছেন, ‘আপনারা আগে থেকে সব জানতেন তবু এটা নিয়ে কোনোদিন কোনোদিন ব্যবস্থা নেননি ‘ অন্য আরেকজন লিখেছেন, এই সরকার কে আর এক দিনও ক্ষমতায় রাখা উচিৎ নয়,,, এরা divide and rule করতে চাইছে,,, প্রথম বার যখন 25% দেওয়ার কথা হয়েছিল তখন এই রাজ্য সরকার supreme court এ বলেছে যে আমাদের 10 লাখ কর্মচারীদের বেতন দিতে হয়, তাই এই পরিমাণ DA দিতে পারব না,,,, এখন চুপিসারে অন্য পিটিশন দাখিল করেছে,,,, সমস্ত রাজ্যবাসীদের এরা ভিখারী আর ভাতাজীবিতে পরিণত করতে চায়।’ অন্য আরেকজন লিখেছেন, ‘শ্রদ্ধেয় মলয় বাবু আজকে তো রিপোর্ট দেখে আমাদের তো মন ভেঙে যাচ্ছে আপনারা ডিএ পাবেন অথচ আমরা প্রাথমিক শিক্ষক বা শিক্ষক সমাজ এরা ডি এ পাব না। এটা বোধহয় আপনার আগে জানা ছিল। মাঝে এই নিয়ে একটু তর্কাতর্কি হচ্ছিল যাক দুঃখ করে লাভ নাই জীবনে বাঁচতে হলে অনেক কিছুই দেখ কে স্বীকার করতে হয়।’

     

  • ‘Updated Soon’ মেসেজে বিপাকে আবেদনকারীরা, যুবসাথীর স্ট্যাটাস চেক নিয়ে আপডেট সরকারের

    ‘Updated Soon’ মেসেজে বিপাকে আবেদনকারীরা, যুবসাথীর স্ট্যাটাস চেক নিয়ে আপডেট সরকারের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচনের আবহে রাজ্যের সকল বেকার যুবক যুবতীদের জন্য যুব সাথীর (Yuba Sathi Scheme) মতো প্রকল্প ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Government Of West Bengal)। যেখানে, ১ এপ্রিল থেকে, বেকার যুবক-যুবতীদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ১৫০০ টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু এবার তার আগেই গতকাল অর্থাৎ ৭ মার্চ থেকেই এই টাকা ঢুকবে বলে ধরনা মঞ্চ থেকে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কিন্তু আবেদন জমা দেওয়ার পর, অনলাইনে স্ট্যাটাস চেক করতে গেলেই পড়তে হচ্ছে সমস্যায়, আর তাই নিয়ে এবার মুখ খুলল প্রশাসন।

    বন্ধ রাখা হয়েছে আবেদন প্রক্রিয়া

    রাজ্যজুড়ে ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্প এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত যুবসাথী প্রকল্পের আবেদন জমা নেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে এই প্রকল্পে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮৪ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ব্লক স্তরে আয়োজিত অফলাইন শিবিরে প্রায় ৬৫ লক্ষ এবং অনলাইন পোর্টালে প্রায় ১৯ লক্ষ যুবক, যুবতী নাম নথিভুক্ত করেছেন। এই মুহুর্তে আবেদন প্রক্রিয়া বন্ধ আছে। পোর্টাল থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই স্কিমের অনলাইন আবেদন জমা দেওয়ার সময় শেষ হয়ে গেছে তাই কোনও নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে না। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন ৭ মার্চ থেকে অ্যাকাউন্টে নাকি ঢুকবে টাকা। কিন্তু টাকা পাবেন কিনা সেটি চেক করতে গেলেই পড়তে হচ্ছে সমস্যায়।

    স্ট্যাটাস চেক করতে গেলেই পড়তে হচ্ছে সমস্যায়!

    অনলাইনে স্মার্টফোনের মাধ্যমে আবেদনপত্রের স্ট্যাটাস যাচাই করা যাবে বে আগেই জানানো হয়েছিল। সেই অনুযায়ী আবেদনকারীর Application ID ব্যবহার করেই স্ট্যাটাস চেক করা যাবে। তার জন্য প্রথমে ‘বাংলা যুবসাথী’ https://yubasathi.wb.gov.in/ পোর্টালে গিয়ে Application ID বা মোবাইল নম্বর দিয়ে লগইন করে নিতে হবে। এরপর OTP ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করলে আবেদনপত্রের বর্তমান অবস্থা দেখা যাবে। কিন্তু এইমুহুর্তে Check Status এ ক্লিক করতে গেলে “Updated Status will be made available soon, please Visit again, Thank You” – এই লেখাটি দেখছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই সকলে চিন্তায় পড়েছে। সেক্ষেত্রে আশ্বস্ত করেছে সরকার।

    Yuba Sathi Scheme

    আরও পড়ুন: বদলে গেল ভোল, অমৃত ভারত প্রকল্পের আওতায় অত্যাধুনিক হল সিউড়ি থেকে হলদিয়া স্টেশন

    প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, যুবসাথী প্রকল্পে ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। তাই অনেক ক্ষেত্রে যাচাই প্রক্রিয়ার কারণে স্ট্যাটাস আপডেট হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, সেই কারণে এই বার্তা দেওয়া হচ্ছে। রিপোর্ট বলছে, ইতিমধ্যেই সারা রাজ্য থেকে প্রায় ৯০ লক্ষ থেকে এক কোটি বেকার যুবক-যুবতী এই মাসিক সহায়তার জন্য দরখাস্ত করেছেন, তাই এই অসুবিধা। তবে খুব শীঘ্রই এই সমস্যা সমাধান হবে।

  • বদলে গেল ভোল, অমৃত ভারত প্রকল্পের আওতায় অত্যাধুনিক হল সিউড়ি থেকে হলদিয়া স্টেশন

    বদলে গেল ভোল, অমৃত ভারত প্রকল্পের আওতায় অত্যাধুনিক হল সিউড়ি থেকে হলদিয়া স্টেশন

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ ভারতীয় রেলের (Indian Railways) উদ্যোগে পুরো ভোল বদলে যাচ্ছে বাংলার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশনের। আজকের এই আর্টিকেলে তেমনই কিছু রেল স্টেশন নিয়ে আলোচনা করা হবে যেখানে কোনও না কোনওদিন আপনি নিশ্চয়ই গিয়ে থাকবেন। তবে কয়েক বছর আগের দেখা আর এখনের স্টেশনের মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ। নিশ্চয়ই ভাবছেন কোন কোন স্টেশনকে নিয়ে কথা হচ্ছে? জানতে চোখ রাখুন আজকের এই প্রতিবেদনটির ওপর।

    আসলে অমৃত ভারত স্কিমের (Amrit Bharat Station Scheme) আওতায় বাংলা সহ দেশের বহু রাজ্যের রেল স্টেশনকে পুননির্মাণ করছে রেল। যার মধ্যে রেলের নজরে রয়েছে বাংলারও বেশ কিছু স্টেশন। যদিও আজ কথা হচ্ছে সিউড়ি এবং হলদিয়া রেল স্টেশনকে নিয়ে। দুটি স্টেশনের চেহারাই আগের থেকে অনেক বদলে গিয়েছে। আগের তুলনায় হয়ে গিয়েছে একদম ঝাঁ চকচকে এবং আরও আধুনিক। কয়েক বছর আগের স্টেশন আর এখনের স্টেশনের মধ্যে মানুষ রীতিমতো গুলিয়ে যাবেন।

    অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম কী?

    আলোচনা করে নেওয়া যাক অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম ঠিক কী?  ভারতের সমস্ত রেলওয়ে স্টেশনগুলিকে রূপান্তরিত করা হচ্ছে, নানান সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। স্টেশনগুলির সৌন্দর্যায়নের কাজ চলছে। এটি সরকারের অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় সম্পন্ন করা হচ্ছে। সারা দেশে ১০৩টি অমৃত ভারত স্টেশন উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই সমস্ত স্টেশনের উদ্বোধন করেছেন। অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায়, সারা দেশের স্টেশনগুলিকে একটি অনন্য চেহারা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই স্টেশনগুলি বিভিন্ন থিমের উপর নির্মিত হয়েছে। এগুলি শিল্প ও স্থানীয় সংস্কৃতির পাশাপাশি বন্যপ্রাণীকেও প্রদর্শন করে।

    আরও পড়ুনঃ যাতায়াত করে বন্দে ভারত, রাজধানীর মতো ট্রেন, এটিই বাংলার একমাত্র দোতলা স্টেশন

    এই পরিকল্পনার লক্ষ্য স্টেশনগুলিকে পরিষ্কার, আরামদায়ক এবং অ্যাক্সেসযোগ্য করে তোলা। আকর্ষণীয় প্রবেশ এবং প্রস্থান গেটগুলি ডিজাইন করা হয়েছে, যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক অপেক্ষা কক্ষ, পরিষ্কার শৌচালয় এবং সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ ও আপগ্রেডেট প্ল্যাটফর্ম সহ। এছাড়াও, স্টেশনগুলিতে যাত্রীদের জন্য লিফটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিনামূল্যে ওয়াই-ফাইয়ের মতো সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি বিভিন্ন সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে। “এক স্টেশন, এক পণ্য” প্রকল্পের আওতায় এই অমৃত স্টেশনগুলিতে স্থানীয় পণ্য বিক্রি করা হবে।

  • যাতায়াত করে বন্দে ভারত, রাজধানীর মতো ট্রেন, এটিই বাংলার একমাত্র দোতলা স্টেশন

    যাতায়াত করে বন্দে ভারত, রাজধানীর মতো ট্রেন, এটিই বাংলার একমাত্র দোতলা স্টেশন

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: এ বাংলায় রয়েছে কম-বেশি প্রায় সাড়ে 700 রেল স্টেশন (Indian Railways)। যেগুলির প্রত্যেকটি একে অপরের থেকে আলাদা। পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) এমন একাধিক স্টেশন রয়েছে যেখানে সারা দিনে একটি ট্রেনও চলে না। আবার এমন স্টেশনও রয়েছে যে স্টেশন থেকে প্রতিদিন যাতায়াত করেন লক্ষাধিক মানুষ। ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য থেকে শুরু করে গঠন সবদিক থেকেই একে অপরের থেকে আলাদা স্টেশনগুলি। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না, বাংলার বুকেই রয়েছে এক এবং অদ্বিতীয় দোতলা স্টেশন। কিন্তু কোথায় সেটি?

    বাংলার একমাত্র দোতলা স্টেশন কোথায় রয়েছে?

    সালটা 1885। সে বছরই তৈরি হয়েছিল হাওড়া-তারকেশ্বর রুট। ভারতীয় রেলের হাত ধরে এই রুট নির্মাণের পাশাপাশি তৈরি হয় কামারকুন্ডু স্টেশনও। পরবর্তীতে 1917 সালে নির্মাণ করা হয় হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইন। যা এই স্টেশনের উপর থেকেই গিয়েছে। না বললেই নয়, বাংলার একমাত্র দোতলা স্টেশন কামারকুন্ডু দিয়ে মেইন এবং কর্ড উভয় লাইনেরই ট্রেন যাতায়াত করে।

    সব ঠিক থাকলে, এই কামারকুন্ডু স্টেশনটি হয়ে উঠতে পারতো জংশন। তবে স্টেশনটিকে জংশন তৈরি না করে হাওড়া তারকেশ্বর এবং হাওড়া বর্ধমান দুই লাইনকে আলাদাভাবে নিয়ে যাওয়া হয় এই স্টেশনের উপর দিয়ে। ফলে তৈরি করতে হয় আলাদা আলাদা দুটি স্টেশন। যদিও প্রথম স্টেশন অর্থাৎ হাওড়া থেকে বর্ধমান লাইনের স্টেশনে চারটি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। এই স্টেশন থেকে 100 মিটার দূরে রয়েছে হাওড়া-শেওড়াফুলি বা তারকেশ্বর লাইনের দ্বিতীয় স্টেশনটি।

    দ্বিতীয় স্টেশনটিতে রয়েছে মূলত আপ এবং ডাউন দুটি প্ল্যাটফর্ম। দুটি স্টেশনই কামারকুন্ডু স্টেশন হলেও দ্বিতীয় স্টেশনটি আপাতদৃষ্টিতে 4 প্ল্যাটফর্মের মেইন লাইনের স্টেশনের তুলনায় অনেকটাই উঁচুতে। প্রথম স্টেশনটির টিকিট কাউন্টারের পাশ থেকে RPF অফিস হয়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে হয় দ্বিতীয় দোতলা স্টেশনটিতে। আসলে যেসব যাত্রীরা হাওড়া শেওড়াফুলি বা হাওড়া তারকেশ্বর রুটের ট্রেন ধরতে চান তাদের আসতে হয় এই স্টেশনে।

     

    অবশ্যই পড়ুন: ৫০ কিমি বেগে হাওয়া, বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গের ৫ জেলায়! আজকের আবহাওয়া

    সব মিলিয়ে, মেন লাইনের স্টেশনটির তুলনায় অনেকটাই উঁচুতে থাকায় কামার কুন্ডু স্টেশনটিকে বাংলার একমাত্র দোতলা স্টেশন বলা হয়ে থাকে। বলে রাখা প্রয়োজন, হাওড়া বর্ধমান লাইনে বন্দে ভারত থেকে শুরু করে রাজধানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মেল বা সুপার ফাস্ট এক্সপ্রেস ট্রেন এই কামারকুন্ডু স্টেশনের উপর দিয়েই যায়।

  • ভূমিহীন ক্ষেতমজুরদের অ্যাকাউন্টে কবে ঢুকবে টাকা? দিন ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    ভূমিহীন ক্ষেতমজুরদের অ্যাকাউন্টে কবে ঢুকবে টাকা? দিন ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সম্প্রতি রাজ্যের অন্তরবর্তী বাজেটে রাজ্যের ভূমিহীন ক্ষেতমজুর (Bhumihin Khetmajur) বা শ্রমিকদের জন্য বিশেষ প্রকল্প চালু করেছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Government Of West Bengal)। রাজ্য সরকারের তরফে নির্দেশিকা পেতেই, গত ফেব্রুয়ারি জুড়ে চলেছিল ভূমিহীন ক্ষেতমজুর প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া। পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা ভূমিহীন বহু মানুষ এই প্রকল্পের টাকা পেতে আবেদন করেছিলেন। সরকারের তরফে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল, যুবসাথী প্রকল্পের পাশাপাশি আগামী পহেলা এপ্রিল থেকেই দেওয়া হবে ভূমিহীন ক্ষেতমজুর প্রকল্পের টাকা। তবে শনিবার, মেট্রো চ্যানেলে ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করে দিলেন, পহেলা এপ্রিল নয় বরং আজ অর্থাৎ 7 মার্চ থেকেই মিলবে ক্ষেতমজুর প্রকল্পের অর্থ।

    আজই ব্যাঙ্কে ঢুকবে ভূমিহীন ক্ষেতমজুর টাকা

    রাজ্য সরকারের তরফে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কৃষক বন্ধু প্রকল্পের আদলে যে নতুন ভূমিহীন ক্ষেতমজুর প্রকল্প চালু করা হল তাতে বছরে 4 হাজার টাকা করে পাবেন যোগ্য আবেদনকারীরা। মূলত দুটো কিস্তিতে 2 হাজার টাকা করে 4 হাজার টাকা দেওয়া হবে এই প্রকল্পে। সরকারি ঘোষণার পর গত মাসে ভূমিহীন ক্ষেতমজুর প্রকল্পে আবেদনের হিড়িক পড়েছিল কার্যত।

    বলাই বাহুল্য, রাজ্য সরকারের বিশেষ প্রকল্প যুবসাথীর আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইন এবং অফলাইন উভয় মাধ্যমে হলেও ভূমিহীন ক্ষেতমজুর প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া চলেছিল শুধুমাত্র অফলাইন পদ্ধতিতে। অর্থাৎ নিকটবর্তী স্বনির্ভর বাংলা ক্যাম্প, পৌরসভা বা BDO অফিসে গিয়ে নিজেদের আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন আবেদনকারীরা। এবার সেই প্রকল্পের প্রথম কিস্তি অর্থাৎ 2000 টাকা ঢুকবে আজই। এমনটাই ঘোষণা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

    অবশ্যই পড়ুন: ‘যারা তৃণমূলের সঙ্গে নয়, তারা বাঙালি নয়!’ মহুয়া মৈত্রর মন্তব্য ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

    উল্লেখ্য, গত 26 ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছিল বেকার ভাতা প্রকল্প যুবসাথীর আবেদন প্রক্রিয়া। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ প্রকল্পে রাজ্যের প্রায় 85 লাখ আবেদনকারী আবেদন করেছিলেন। সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছিল দক্ষিণ 24 পরগনা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর 24 পরগনা থেকে। এছাড়াও বাঁকুড়া, পুরুলিয়া সহ একাধিক জেলা থেকে অসংখ্য আবেদনকারী এই প্রকল্পে আবেদন করেছিলেন। আজ অর্থাৎ শনিবার থেকেই মিলবে যুবসাথী প্রকল্পের মাসিক 1500 টাকা।

  • শুধুমাত্র এদেরই বকেয়া DA দেবে নবান্ন? সুপ্রিম কোর্টে জমা রিপোর্ট ঘিরে চাঞ্চল্য

    শুধুমাত্র এদেরই বকেয়া DA দেবে নবান্ন? সুপ্রিম কোর্টে জমা রিপোর্ট ঘিরে চাঞ্চল্য

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ এখনই সরকার ডিএ (DA) দিতে পারবে না, সুপ্রিম কোর্টে MA ফাইল করে সাফ জানিয়ে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Government of West Bengal)। ভোটের মুখে সরকারের এহেন পদক্ষেপের ফলে স্বাভাবিকভাবেই ধাক্কা খেয়েছেন সরকারি আধিকারিক থেকে শুরু করে আন্দোলনকারীরা। যদিও সরকারের তরফে সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা একটি হিসেব দেখে চমকে গিয়েছেন সকলে। নবান্নের (Nabanna) তরফে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, সেটা অনুযায়ী কর্মচারীদের সংখ্যা মাত্র ৩,১৭,৯৫৪ সেই সঙ্গে রয়েছেন পেনশনররাও। তবে সরকার বকেয়া দিলে শুধুমাত্র এরাই পাবেন টাকা? উঠছে প্রশ্ন।

    সবাইকে বকেয়া টাকা দেবে না সরকার?

    হিসেব দেখে অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, তবে কি সরকার শিক্ষক, শিক্ষা কর্মীদের বকেয়া ভাতা দেওয়া থেকে বিরত থাকবে? এই বিষয়ে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তিনি নিজের ফেসবুক বার্তায় সরকারের হিসেব তুলে ধরে লিখেছেন, ‘বকেয়া ২৫% ডিএ মেটানোর জন্য আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময় চাইল রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের কাছে। শিক্ষক, কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রাপ্য অর্থ নিয়ে ভোট রাজনীতি চলছে। আমরা চাই দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্ট কড়া বার্তা দিয়ে পূর্ববর্তী রায় অনুযায়ী বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার জন্য রাজ্যকে বাধ্য করুক।’

    তিনি আরও লেখেন, ‘কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের কাছে যে হিসেব পেশ করেছে তাতে কর্মচারীদের সংখ্যা মাত্র ৩,১৭,৯৫৪ এবং তার সাথে পেনশনারা। এই হিসেব বলে দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী রাজ্য সরকার শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেবে না। এর ফলে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী সমাজের ক্ষোভের আগুন ব্যাপকভাবে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে যাবে। রাজ্য সরকার তাদের অবস্থান বদলাক। না হলে আইনি লড়াই এবং রাস্তার লড়াই আরো তীব্রতর হবে।’

    আরও পড়ুনঃ ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার MA ফিল করলেও …’ বকেয়া DA মামলায় নাটকীয় মোড়? এল বড় খবর

    ৩১ ডিসেম্বর অবধি সময় চাইল রাজ্য

    উল্লেখ্য, বকেয়া ২৫ শতাংশ DA দিতে পারবে না রাজ্য। আরও সময় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়েছে রাজ্যচ। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চাইল রাজ্য সরকার বলে খবর। সেক্ষেত্রে বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি দেওয়ার সময়সীমা ছিল ৩১ মার্চ। অর্থাৎ বকেয়া বুঝে নিতে এখনও লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হবে সকলকে।

  • ধর্ষণ করে খুন, গোডাউনে লুকোনো দেহ! সাঁইথিয়ায় নাবালিকা মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

    ধর্ষণ করে খুন, গোডাউনে লুকোনো দেহ! সাঁইথিয়ায় নাবালিকা মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফের সাঁইথিয়ায় (Sainthia) নাবালিকাকে ধর্ষণ (Rape Case) করে খুনের অভিযোগ উঠল। জানা গিয়েছে সেখানকার এক বাড়িতে বছর চোদ্দোর ওই নাবালিকা পরিচারিকার কাজ করত। খুনের পর নাকি পরিচারিকার দেহ পাথরের গোডাউনে রেখে দেওয়া হয়৷ গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার বিষয়টি জানাজানি হতেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায় ৷ নির্যাতিতার পরিজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা সাঁইথিয়া থানার সামনে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান ৷

    ঠিক কী ঘটেছিল?

    রিপোর্ট মোতাবেক, বীরভূমের সাঁইথিয়া পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মার্বেল পাথর ব্যবসায়ী পঙ্কজ পারেকের বাড়িতে কাজ করত এক নাবালিকা৷ তাঁর বাড়ি সাঁইথিয়ারই বাগডোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের দেরিয়াপুর অঞ্চলে। সেখান থেকেই সে কাজে আসত কিন্তু দোলের পরের দিন নাবালিকা আর বাড়ি ফেরেনি বলে অভিযোগ। এরপর নাবালিকার খোঁজ করতেই মার্বেল পাথরের গোডাউন থেকে উদ্ধার হয় তাঁর দেহ।

    এদিন, বিষয়টি জানাজানি হতেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ ওঠে, দোলের পরের দিন নাবালিকাকে ধর্ষণ করে নাকি খুন করা হয়েছে। আর এই নিয়ে উত্তপ্ত সাঁইথিয়া। পরিজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা সাঁইথিয়া রাস্তায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে এবং খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে সাঁইথিয়া থানার পুলিশ।

    অভিযোগ অস্বীকার গৃহকর্তার

    স্থানীয়দের অভিযোগ, ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে ওই নাবালিকাকে। কিন্তু অভিযোগ অস্বীকার করে বাড়ির গৃহকর্তা। তিনি বলেন, “আমাদের এখানে যদি ধর্ষণ করা হত, আমরা কি হাসপাতালে নিয়ে যেতাম? অ্যাম্বুল্যান্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। গত ২ বছর আমাদের বাড়িতে কাজ করত। সে বিষ খেয়েছিল। কেন খেয়েছিল, তা বাড়ির লোককে জিজ্ঞাসা করুন।” কিন্তু এই দাবি মানছে না কেউই। বিক্ষোভকারীদের দাবি, “ নাবালিকার মৃত্যুর একদিন পর বাড়িতে জানিয়েছে। এমনকি মৃতদেহ এনে ঘণ্টা তিনেক একটা গোডাউনে রাখে। কেন এটা হবে? ওই বাড়িতে আর একজন কিশোরী কাজ করে। কিন্তু, তাকে ওরা কথা বলতে দিচ্ছে না।”

    আরও পড়ুন: সরকারের চাপে না অন্য কারণে পদত্যাগ? এবার মুখ খুললেন প্রাক্তন রাজ্যপাল আনন্দ বোস

    নাবালিকার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় যুক্ত সন্দেহে শ্রেয়ান পারেক নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। স্থানীয়রা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “ আমরা এই ঘটনার শেষ দেখে ছাড়ব। পুলিশ যদি যথোপযুক্ত ব্যবস্থা না নেয় এবং অভিযুক্তকে শাস্তি না দেয় তাহলে আমরা পুনরায় পথ অবরোধ করব।”