Category: পশ্চিমবঙ্গ

  • ব্যবসায়ীদের স্বার্থে বড় ঘোষণা মমতার

    ব্যবসায়ীদের স্বার্থে বড় ঘোষণা মমতার

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) কবে হবে তা নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। এদিকে রাজ্য রাজনীতিতে নির্বাচন নিয়ে এক চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সকলেই ভোটপ্রচারের অনুষ্ঠানে মেতে উঠেছে। আর এই অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ী মহলের দীর্ঘ দিনের দাবিকে মান্যতা দিয়ে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার (Government Of West Bengal)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বে সরকার এবং ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে গঠন করা হল ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড’।

    ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে পোস্ট মমতার

    বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের এক্স হ্যান্ডেলে রাজ্যের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে একটি পোস্ট করেন। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘‘অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড (WBTWB)-এর গঠন ও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এই প্রতিশ্রুতিটি আমি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত রাজ্য ব্যবসায়ী সম্মেলন এবং বিজনেস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কনক্লেভে দিয়েছিলাম। আমরা যা প্রতিশ্রুতি দিই, তা পূরণ করি। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের ব্যবসায়ী মহলের এই দাবি ছিল। তাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।’’ জানা গিয়েছে, ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডটি ব্যবসায়ী সংগঠন এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ ও সমন্বয়ের একটি ‘প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে কাজ করবে।

    ব্যবসায়ীদের স্বার্থসিদ্ধি করতে এই উদ্যোগ

    মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই বোর্ডের চেয়ারপার্সন হবেন কনফেডারেশন অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। বাজার, পাইকারি ব্যবসা, খুচরো বাণিজ্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ও সমস্যার বিষয়ে সরকারকে অবহিত করা এবং তার সমাধানে উদ্যোগী হবে এই বোর্ড। নিজের পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী আরও লিখেছেন যে, ‘আমাদের ব্যবসায়ীরা বাংলার অর্থনীতির মেরুদণ্ড। আমরা তাঁদের পাশে থেকে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং একসঙ্গে কাজ করে রাজ্যের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করে তুলতে চাই।’

    আরও পড়ুন: পুলিশের উপরেও চলবে নজরদারি? ভোটে নিরাপত্তা জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ কমিশনের

    মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই উদ্যোগ নিয়ে অর্থনৈতিক মহলের একাংশ জানিয়েছে যে, এই বোর্ড গঠনের মাধ্যমে ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হতে পারে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রশাসনিক সমস্যা, লাইসেন্স, কর বা বাজার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার একটি নির্দিষ্ট মঞ্চ তৈরি হবে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে শিল্পমহল ও ব‍্যবসায়ী সমাজের সমর্থন নিজের দিকে টানতেই মমতা এমন পদক্ষেপ করেছেন। এখন দেখার ব্যবসায়ীদের বাস্তব সমস্যার সমাধানে এটি কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে।

  • DA ধর্মঘটে উত্তপ্ত খাদ্যভবন, কর্মীদের ঢুকতে বাধা, বিস্ফোরক ভাস্কর ঘোষ

    DA ধর্মঘটে উত্তপ্ত খাদ্যভবন, কর্মীদের ঢুকতে বাধা, বিস্ফোরক ভাস্কর ঘোষ

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) মাঝেই DA ইস্যু নিয়ে তৈরি হল মহাবিতর্ক। আজ, শুক্রবার ডিএ ধর্মঘটকে (DA Strike) কেন্দ্র উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজ্যের সরকারি দফতরগুলিতে, এমতাবস্থায় খাদ্যভবন যেন হয়ে উঠেছে ঝামেলার কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে তৃণমূল সমর্থনকারী সরকারি কর্মচারী, অন্যদিকে ডিএ আন্দোলনকারীদের স্লোগান পাল্টা স্লোগান চলছেই। ধর্মঘট ঘিরে দফায় দফায় বাড়ছে উত্তেজনা। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা নাকি কাজে আসা সরকারী কর্মীদের ঢুকতে বাধা দিচ্ছেন।

    উত্তপ্ত পরিস্থিতি খাদ্যভবনের সামনে

    পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রশাসনের বিরুদ্ধে আজ অর্থাৎ শুক্রবার ধর্মঘট ডেকেছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ-সহ একাধিক সরকারি কর্মচারী সংগঠন। তা ঘিরেই কার্যত ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় খাদ্যভবনের সামনে। সংগঠনের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষের নেতৃত্বে খাদ্যভবনের গেটে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ধর্মঘটীরা। যেসব গাড়ি আসছে তার কাছে এগিয়ে গিয়ে ধর্মঘটে শামিল হওয়ার আবেদন জানানো হচ্ছে। অন্যদিকে, কিছুটা দূরে তৃণমূলের সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তাঁরা চেষ্টা করছেন, যারা ধর্মঘট বিফল করে অফিস করতে চান তাঁদের পাশে থাকতে। উঠছে স্লোগানের রেষারেষি। একদিক থেকে উঠল ‘জয় বাংলা স্লোগান’, অন্যদিক বলে উঠল, ‘ওরা সব সরকারি দালাল’

    কী বলছেন আন্দোলনকারী ভাস্কর ঘোষ?

    সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ জানান, “আমরা আগেই জানিয়েছিলাম যে ধর্মঘটটা কর্মচারীদের স্বার্থে, রাজ্যটাকে বাঁচানোর স্বার্থে ডাকা হয়েছে। রাজ্যে যে প্রশাসনিক দুর্নীতি, শূন্যপদে নিয়োগ নেই…তাই আমরা আপনাদের বিবেকের কাছে আবেদন জানাচ্ছি যে এই ধর্মঘটে শামিল হয়ে রাজ্য সরকারকে অন্তত বলুন যে সে তার রাজধর্ম পালন করুক। এই আবেদনটুকু জানানোর সময় তাঁরা বলছেন যে, এটাও করা যাবে না। এটাকে যদি আটকানো বলেন তাহলে হাজার বার পথ আটকাব। পারলে ধর্মঘট করুক। আমাদের আবেদন থাকবে ধর্মঘট করার।”

    আরও পড়ুন: গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে করাচি, কোয়েটা, ইসলামাবাদ! পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি তালিবানের

    প্রসঙ্গত, সরকারি কর্মীদের ধর্মঘট বানচাল করতে রীতিমতো মরিয়া হয়ে উঠেছে রাজ্য প্রশাসন। গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার নবান্নের তরফে এই প্রসঙ্গে নোটিস জারি করা হয়েছিল। সেখানে প্রশাসনের তরফে সাফ জানানো হয়েছিল যে, ধর্মঘটের দিন প্রত্যেক সরকারি কর্মীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। ওইদিন কোনও কর্মী যদি অনুপস্থিত থাকেন তাহলে তাঁকে ‘ডাইস নন’ হিসাবে গণ্য করা হবে অর্থাৎ ওই দিনের বেতন কেটে দেওয়া হবে। আর সেই ভয়েই এদিন একাধিক কর্মীকে কাজে ফিরতে দেখা গিয়েছিল

  • পুলিশের উপরেও চলবে নজরদারি? ভোটে নিরাপত্তা জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ কমিশনের

    পুলিশের উপরেও চলবে নজরদারি? ভোটে নিরাপত্তা জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ কমিশনের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Election 2026) ঘিরে নিরাপত্তার ঘেরাটোপ আরও জোরদার হতে চলেছে। সূত্রের খবর, এবারের ভোটে জেনারেল অবজারভার (General Observer) এবং পুলিশ অবজারভারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে চলেছে কমিশন (Election Commission Of India)। এমনকি প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য একজন করে পুলিশ অবজারভার নিয়োগের বিষয়েও ভাবনা-চিন্তা চলছে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই জলঘোলা পরিস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে।

    ভোটে নজিরবিহীন কড়াকড়ি

    রিপোর্ট মোতাবেক, গত সোমবার কলকাতায় রাজ্যের ২৩ টি জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সহ কমিশনের ফুল বেঞ্চ। আলোচনার পর কমিশনের পর্যবেক্ষণ, পশ্চিমবঙ্গে কিছু প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা থাকলেও তা ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় বাধা নয়। অর্থাৎ এতদিন পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীদের যে তীব্র অভিযোগ ছিল, তা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে কমিশন। তবে এবার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তার ঘেরাটোপ আরও আঁটসাঁট করতে চলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

    প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ অবজারভার থাকবে

    সূত্রের খবর, ২০২১ এর তুলনায় ২০২৬-এর নির্বাচনে পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে এবং পুলিশ নজরদারির জন্য এ বার প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য এক জন করে ‘জেনারেল অবজার্ভার’ নিয়োগ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এবং আয় ব্যয়ের হিসেব নিকেশ দেখতে ‘এক্সপেন্ডিচার অবজার্ভার’-এর সংখ্যাও এ বার অনেকটাই বাড়ানো হচ্ছে। আর এই আবহে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের জন্য ২৯৪ জন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হল বৃহস্পতিবার।

    বিধানসভা ভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসারদের প্রাপ্ত তালিকা থেকে দেখা যাচ্ছে, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, জেলা পরিষদের সচিব, জেলা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন আধিকারিক, জেলা সংখ্যালঘু উন্নয়ন আধিকারিক, জেলা তফসিলি জাতি-জনজাতি উন্নয়ন আধিকারিক, জেলা পরিকল্পনা আধিকারিক স্তরের অফিসারেরা এ বার রিটার্নিং অফিসার হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান বলছে, সে বার রাজ্যে মোট জেনারেল অবজার্ভার ছিলেন ১৬০ জন, ৩৭ জন পুলিশ অবজারভার এবং ৮৪ জন এক্সপেন্ডিচার অবজারভার নিয়োগ করা হয়েছিল। অর্থাৎ একাধিক কেন্দ্রের দায়িত্ব সামলাতে হয়েছিল এক এক জন আধিকারিককে। তবে এবার পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়ে বিশেষ পদক্ষেপ করা হতে চলেছে।

    আরও পড়ুন: DA নিয়ে সংঘাত চরমে! আন্দোলনের মাঝেই কর্মীদের কড়া নোটিস নবান্নর

    সূত্রের খবর, এ বার জেলা বা মহকুমার বদলে বিশেষ বিশেষ অঞ্চল বা বিধানসভা ভিত্তিক পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হতে পারে। এছাড়াও জানা গিয়েছে, স্পর্শকাতর বিধানসভা এলাকাগুলিতে এক জন নয়, একাধিক পুলিশ পর্যবেক্ষকও নিয়োগ করা হতে পারে। অর্থাৎ বঙ্গে ভোট নিয়ে কমিশনের এই ‘মাইক্রো-প্ল্যানিং’ থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ভোট নিয়ে কোনও রকম মাপঝোপ থাকবে না। কারণ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, ভোট প্রক্রিয়ায় কোথাও যদি অবহেলা বা ইচ্ছাকৃত ভুল প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • DA নিয়ে সংঘাত চরমে! আন্দোলনের মাঝেই কর্মীদের কড়া নোটিস নবান্নর

    DA নিয়ে সংঘাত চরমে! আন্দোলনের মাঝেই কর্মীদের কড়া নোটিস নবান্নর

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) আবহে রাজ্য জুড়ে সমস্ত দলগুলির মধ্যে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আর এই অবস্থায় আজ ফের ডিএ ইস্যুতে ধর্মঘটের (DA Strike) ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। তবে এব্যাপারে কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। আন্দোলনের মাঝেই সরকারি কর্মীদের জন্য নোটিস দিল নবান্ন (Nabanna)। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ওই দিন রাজ্য সরকারের সমস্ত দফতর স্বাভাবিক নিয়মেই খোলা থাকবে, উল্টে কেউ যদি ধর্মঘটের জন্য ছুটি নেন তাহলে সেই দিনের বেতন কাটা হবে তাঁর।

    ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা মামলার রায় কার্যকর করার সময়সীমা বাড়ানোর জন্য নতুন করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। জানানো হয়েছিল, ডিএ বকেয়া পরিশোধ সংক্রান্ত নির্দেশ বাস্তবায়নে একাধিক প্রশাসনিক, প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। সেই কারণেই অন্তত ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ এবং প্রথম কিস্তির অর্থ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। স্বাভাবিকভাবে রাজ্যের জানানো আর্জিতে হতাশ সরকারি কর্মীরা। আর তারই প্রতিবাদে আজ, শুক্রবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। কিন্তু DA আন্দোলনের মাঝেই সরকারি কর্মীদের জন্য কড়া নোটিস দিল নবান্ন।

    নোটিসে কী জানিয়েছে প্রশাসন?

    পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, ধর্মঘটের দিন প্রত্যেক সরকারি কর্মীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। ওইদিন কোনও কর্মী যদি অনুপস্থিত থাকেন তাহলে তাঁকে ‘ডাইস নন’ হিসাবে গণ্য করা হবে অর্থাৎ ওই দিনের বেতন কেটে দেওয়া হবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে কর্মীদের ছাড় দেওয়া হবে। যদি কোনও কর্মী চিকিৎসাধীন কিংবা পরিবারের কেউ গুরুতর অসুস্থ, পরিবারে কারও মৃত্যু হলে, মাতৃত্বকালীন ছুটি বা আগে থেকে নেওয়া ছুটির ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে। তবে যদি কোনও কর্মী অনুমতি ছাড়াই ছুটি নেন, তবে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠাতে হবে। সেক্ষেত্রে সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে ছুটি মঞ্জুর করা হবে না।এমনকি নোটিসের জবাব যদি না দেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

    আরও পড়ুন: দুর্ভোগ কমবে শিয়ালদা-হাওড়া লাইনের যাত্রীদের, নশিপুর হল্ট স্টেশন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত রেলের

    প্রসঙ্গত, যে কোনও ধর্মঘটের ক্ষেত্রে বরাবর কড়া অবস্থান নিয়ে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শাসকদল বা প্রশাসনের বিরুদ্ধে কোনরকম ধর্মঘট ও আন্দোলন আপোস করতে চান না তিনি। তাই এবারেও কর্মীদের ধর্মঘট নিয়ে করা অবস্থান নিলেন। তবে নাছোড়বান্দা কর্মীদের সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, যে করেই হোক আন্দোলন করে ছাড়বে। এই প্রসঙ্গে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে ভাস্কর ঘোষ বলেন, “গোটা ভারত সুপ্রিম কোর্টে আইন মেনে চলে। তবে বাংলায় একজনের নির্দেশে আইন চলে। সেমিফাইনাল শেষ। এবার ১৩ মার্চ ফাইনাল খেলা হবে।”

  • দুর্ভোগ কমবে শিয়ালদা-হাওড়া লাইনের যাত্রীদের, নশিপুর হল্ট স্টেশন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত রেলের

    দুর্ভোগ কমবে শিয়ালদা-হাওড়া লাইনের যাত্রীদের, নশিপুর হল্ট স্টেশন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত রেলের

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ নশিপুর হল্ট স্টেশন (Nashipur Halt Station) নিয়ে সামনে এল বিরাট আপডেট। বিধানসভা ভোটের মুখে অবশেষে এই মুর্শিদাবাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নশিপুর হল্ট স্টেশনের শিলান্যাস করে সকলকে চমকে দিল পূর্ব রেল। মুর্শিদাবাদবাসী অপেক্ষা করছেন এবং এই রেলস্টেশনটি সকলের জন্য উন্মুক্ত হবে, ট্রেন দাঁড়াবে তা নিয়ে। আরও বিশদে জানতে চোখ রাখুন আজকের এই প্রতিবেদনটির ওপর।

    শিলান্যাস হল নশিপুর হল্ট স্টেশনের

    গতকাল ১২ মার্চ নশিপুর হল্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়। এই ঘটনা মুর্শিদাবাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই অনুষ্ঠানে শিয়ালদহের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনার পাশাপাশি বিধায়ক গৌরী শঙ্কর ঘোষের উপস্থিতি ছিল। আঞ্চলিক অগ্রগতির প্রতি সম্মিলিত অঙ্গীকারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কৃষ্ণনগর লালগোলা সেকশনে এই স্টেশনটি স্থাপনের মাধ্যমে, রেল মন্ত্রক অবশেষে হাওড়া এবং শিয়ালদহ ডিভিশনের যাত্রীদের সমস্যার দূর করে। আর ঘুরপথ হবে না।

    আরও পড়ুনঃ দাঁড়ায় মাত্র ৫টি স্টেশনে, ‘লোকাল ট্রেনের রাজা’ বলা হয় এই ট্রেনটিকে! চলে হাওড়া-বর্ধমান রুটে

    একই জেলার অংশ হওয়া সত্ত্বেও, আজিমগঞ্জ এবং নশিপুর অঞ্চলগুলি কার্যত বিচ্ছিন্ন রয়ে গেছে। বর্তমানে, হাওড়া দিক থেকে নশিপুর বা মুর্শিদাবাদ অভিমুখে যাত্রীদের অনেক সম্মুখীন হতে হয়। যদিও আজিমগঞ্জ এবং নশিপুর মুর্শিদাবাদের প্রতিবেশী, ধীর গতির ফেরি এবং নৌকার উপর তাদের নির্ভরতা কয়েক কিলোমিটার যাত্রাকেও ক্লান্তিকর করে তুলেছে। সূত্রের খবর, আজিমগঞ্জ এবং নশিপুর উভয় তীরই অত্যন্ত উৎপাদনশীল কৃষি অঞ্চল। এই থামার স্টেশনটি দ্রুত পণ্য বিনিময়ের সুবিধা প্রদান করবে, যার ফলে কৃষকরা ন্যূনতম ওভারহেড খরচ ছাড়াই উভয় পাশের বাজারে প্রবেশ করতে পারবেন এবং অপ্রত্যাশিত নদী পরিবহনের উপর নির্ভরতা কম থাকবে।

    উপকৃত হবেন সাধারণ মানুষ

    তবে আর নয়, কারণ শীঘ্রই নশিপুরের বাসিন্দারা এখন সরাসরি হাওড়া নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত হবেন, এবং হাওড়া ডিভিশনের যাত্রীরা কোনওরকম ঘুরপথ ছাড়াই সরাসরি মুর্শিদাবাদের প্রাণকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। কৃষ্ণনগর-লালগোলা সেকশনে অবস্থিত নতুন থাম স্টেশনটি সময়সাপেক্ষ জল ক্রসিংকে দ্রুত রেল যাত্রায় রূপান্তরিত করতে সহায়তা করবে।

  • দাঁড়ায় মাত্র ৫টি স্টেশনে, ‘লোকাল ট্রেনের রাজা’ বলা হয় এই ট্রেনটিকে! চলে হাওড়া-বর্ধমান রুটে

    দাঁড়ায় মাত্র ৫টি স্টেশনে, ‘লোকাল ট্রেনের রাজা’ বলা হয় এই ট্রেনটিকে! চলে হাওড়া-বর্ধমান রুটে

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: প্রতিদিন বাংলার বুক চিরে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলে অসংখ্য লোকাল ট্রেন (Super Local Train)। নিত্য অফিস যাত্রী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, এক কথায় ডেলি প্যাসেঞ্জারদের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম এই ট্রেনগুলি (Train)। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না, বাংলার বুকে এমন একটি লোকাল ট্রেন রয়েছে যাকে যাত্রীরা লোকাল ট্রেনের রাজা বলে ডাকেন। হ্যাঁ, রেলের হোয়ার ইজ মাই ট্রেন অ্যাপেও এই লোকালটির নাম রয়েছে সুপার লোকাল হিসেবেই। কিন্তু কোন রুটে চলে এই ট্রেন? কেনই বা তাকে সুপার লোকাল বা লোকাল ট্রেনের রাজা বলা হয় জানা আছে?

    এই ট্রেনটিকে বলা হয় লোকাল ট্রেনের রাজা

    বাংলার অন্যতম ব্যস্ত রেলরুট বা লাইন হাওড়া-বর্ধমান। প্রতিদিন এই রুটেই চলে একাধিক মেল/এক্সপ্রেস এবং মেমু লোকাল। বলে রাখা প্রয়োজন, বর্ধমান থেকে হাওড়া পর্যন্ত মোট 33টি স্টেশন রয়েছে। এই রুটের প্রায় সব লোকাল ট্রেনই প্রতিটি স্টেশনের স্টপেজ দিয়ে থাকে। তবে এদের মধ্যে এমন একটি লোকাল ট্রেন রয়েছে যেটি বর্ধমান থেকে হাওড়া পর্যন্ত মাত্র পাঁচটি স্টেশনে দাঁড়ায়। হ্যাঁ, প্রতিদিন ভোর 6টা বেজে 35 মিনিটে বর্ধমান থেকে ছেড়ে সকাল সাড়ে আটটায় হাওড়ায় পৌঁছয় এই ট্রেন।

    ট্রেন নম্বর 37822 বর্ধমান-হাওড়া মেন লাইন সুপার লোকাল ট্রেনটি তার যাত্রাপথে বর্ধমান থেকে ছেড়ে প্রথমে মেমারি, তারপর বৈঁচি, এরপর পান্ডুয়া, মগরা, ব্যান্ডেল স্টেশনে স্টপেজ দিয়ে সোজা হাওড়া স্টেশনে ঢোকে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, আর পাঁচটা লোকাল ট্রেন যেখানে এই নির্দিষ্ট যাত্রা পথ অতিক্রম করতে আড়াই ঘণ্টা থেকে পৌনে তিন ঘন্টা সময় নেয় সেখানে এই সুপার লোকাল ট্রেনটি মাত্র 2 ঘন্টায় যাত্রীদের বর্ধমান থেকে হাওড়া আবার হাওড়া থেকে বর্ধমান এ পৌঁছে দেয়।

    অবশ্যই পড়ুন: LPG কানেকশনে শীর্ষে উত্তরপ্রদেশ, বাংলার অবস্থান কোথায়? দেখুন রাজ্যভেদে পরিসংখ্যান

    এক কথায় বলতে গেলে, আপাত দৃষ্টিতে বাংলার বর্ধমান থেকে হাওড়া রুট সহ অন্যান্য শাখার সাধারণ লোকাল ট্রেন গুলির তুলনায় কম স্টপেজ এবং অল্প সময়ে যাত্রা সম্পূর্ণ করার জন্যই এই ট্রেনটিকে লোকাল ট্রেনের রাজা বলেই ডাকেন নিত্যযাত্রীরা। হাওড়া-বর্ধমান শাখার একটা বড় অংশের যাত্রীর দাবি, একই খরচে অন্যান্য লোকাল ট্রেনের তুলনায় এই ট্রেন অনেক আগে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। তাছাড়াও এর স্টপেজ অনেক কম। মূলত সে কারণেই, প্রতিদিন ভোর হলেই এই ট্রেনে ওঠার হিড়িক পড়ে যায় যাত্রীদের মধ্যে।

  • কাল থেকেই অ্যাকাউন্টে ঢুকবে যুবসাথী, ক্ষেতমজুরের টাকা, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী!

    কাল থেকেই অ্যাকাউন্টে ঢুকবে যুবসাথী, ক্ষেতমজুরের টাকা, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী!

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: যুবসাথীর (Banglar Yuva Sathi) টাকা আর কবে অ্যাকাউন্টে ঢুকবে? গত শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) ঘোষণার পর এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্যের একটা বড় অংশের আবেদনকারীর মুখে মুখে। মেট্রো চ্যানেলের ধরনা মঞ্চ থেকে বেকার ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও এখনও কেন ঢুকছে না মাসিক ভাতা? প্রশ্ন তুলছেন রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীরা। ঠিক সেই আবহে, বৃহস্পতিবার নবান্নের বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন যুবসাথীর টাকা আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত পৌঁছনোর দিনক্ষণ। ভূমিহীন ক্ষেতমজুর প্রকল্প নিয়েও মিলল সুখবর।

    কবে ঢুকতে চলেছে যুবসাথী ও ভূমিহীন ক্ষেতমজুরের টাকা?

    বেশ কয়েকটি বিশ্বস্ত সূত্র মারফত খবর, বৃহস্পতিবার নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠক ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকের পরই নাকি মুখ্যমন্ত্রীর তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভোট প্রক্রিয়ার মাঝেও যেন উন্নয়নের কাজ বাধাপ্রাপ্ত না হয় সেদিকেই নজর রয়েছে রাজ্য সরকারের। তাই আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবারের মধ্যেই আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে দিয়ে দেওয়া হবে যুবসাথী প্রকল্পের টাকা।

    এখানেই শেষ নয়, ওই সূত্র দাবি করছে, বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক বৈঠক শেষে রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প ভূমিহীন ক্ষেতমজুর নিয়ে বিশেষ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে জানানো হয়, বেকার ভাতার পাশাপাশি শুক্রবারের মধ্যে ভূমিহীন ক্ষেতমজুরের টাকাও নিজেদের অ্যাকাউন্টে পেয়ে যাবেন যোগ্য আবেদনকারীরা। মুখ্যমন্ত্রী এমন ঘোষনার পর মাসিক ভাতা নিয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে আবেদনকারী, সে কথা বলাই যায়।

    অবশ্যই পড়ুন: সাবধান KKR থেকে MI! IPL এ CSK-কে একাই ম্যাচ জেতাতে পারেন এই প্লেয়ার

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি সপ্তদশ বিধানসভার শেষ অধিবেশনে রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করেছিলেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। আর সেই বাজেট পেশ করার সাথে সাথে নতুন দুই প্রকল্প যুবসাথী এবং ভূমিহীন খেতমজুরের প্রস্তাব রাখেন তিনি। আর তারপরই সাংবাদিক সম্মেলন করে এই বিশেষ প্রকল্প সম্পর্কে আমজনতাকে অবগত করেন মমতা।

  • LPG সংকটে বিপর্যস্ত মিড ডে মিল! পড়ুয়াদের খাবারে কাটছাঁট

    LPG সংকটে বিপর্যস্ত মিড ডে মিল! পড়ুয়াদের খাবারে কাটছাঁট

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে প্রবল জ্বালানি সংকট দেখা গেল বিশ্ব জুড়ে, যার আঁচ পড়েছে ভারতেও। এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বেড়েছে রান্নার গ্যাসের দাম। অন্যদিকে দাম বেড়েছে বাণিজ্যিক গ্যাস এবং অটো এলপিজি গ্যাসের দামও (LPG Cylinder Price Hike)। এদিকে এই দাম বৃদ্ধির মাঝেই গ্যাস সরবরাহ সঙ্কটের মুখে পড়েছে কলকাতা (Kolkata) সহ বিভিন্ন জেলায়। গ্যাস বুকিংয়ের জন্য গোডাউনে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে গ্রাহকদের। আর এবার গ্যাস সংকটের কোপের মুখে পড়ল পড়ুয়াদের মিড ডে মিল (Mid Day Meal)।

    সংকটে স্কুলের হেঁসেল

    সরকারের তরফ থেকেই প্রতিটি সরকারি স্কুলে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। মূলত ছাত্রছাত্রীদের স্কুলমুখী করার জন্য এই ব্যবস্থা। কিন্তু বর্তমানে LPG সঙ্কটের প্রভাব পড়েছে পড়ুয়াদের এই মিড ডে মিলে। জেলার স্কুলগুলিতে নিয়মিতভাবে রান্না হলেও, কলকাতার অধিকাংশ সরকারি স্কুলে রান্নার ব্যবস্থা নেই। এস এন ব্যানার্জি রোডের রানি রাসমণি হাই স্কুলে বুধবার মিড-ডে মিলে দেওয়ার কথা ছিল ভাত, আলু-সয়াবিনের তরকারি এবং ডিম সেদ্ধ। কিন্তু তার বদলে মিলল শুধুই ডিম। অভিযোগ রান্নার জন্য বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার অপর্যাপ্ত, তাই শুধুই ডিম পেল পড়ুয়ারা। এছাড়াও বিভিন্ন স্কুলে খাবারে কাটছাঁট দেখা গিয়েছে।

    পড়ুয়াদের খাবারের মেনুতে একাধিক বদল

    কলকাতার অধিকাংশ সরকারি স্কুলে রান্নার ব্যবস্থা নেই। সেই কারণেই এই সমস্ত স্কুলগুলিতে রান্না করা খাবার আসে কমিউনিটি কিচেন থেকেই। ওই কমিউনিটি রান্নাঘরগুলি চালায় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। এমনই কিছু সংস্থার দাবি, মিড-ডে মিল রান্নার জন্য প্রতিদিন যত গ্যাস সিলিন্ডার দরকার, ততগুলি তারা এ দিন পায়নি। তাই মেনুতে বদল আনা হচ্ছে। গড়িয়াহাটের কমিউনিটি কিচেনে খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, এখানে পড়ুয়াদের জন্য রান্না হওয়ার কথা ছিল ভাত আর সয়াবিনের তরকারি। কিন্তু গ্যাসের আকাল থাকায় বাদ দেওয়া হয়েছে সয়াবিনের তরকারি। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছচ্ছে যে স্কুলগুলিতে কত দিন মিড-ডে মিল সরবরাহ করতে পারবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

    কী বলছেন শিক্ষামন্ত্রী?

    শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু মিড ডে মিলের ক্ষেত্রে এইরূপ সিলিন্ডার সংকট নিয়ে জানিয়েছেন যে, ‘‘মিড-ডে মিলের জন্য যাতে কোনও ভাবেই গ্যাসের সঙ্কট দেখা না দেয়, তার জন্য স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’’ জানা গিয়েছে আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে খাদ্য দফতর থেকে গ্যাসের ডিলারদের সঙ্গে কথা হতে চলেছে। এছাড়াও সেই বৈঠকে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মিড-ডে মিল, স্কুল-কলেজের ক্যান্টিনের জন্য সিলিন্ডারের জোগানে যাতে কোনও ঘাটতি না হয়, তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

    আরও পড়ুন: LPG দাম বৃদ্ধি এবং সংকটে পথে নামছেন মমতা! দিলেন মহামিছিলের ডাক

    প্রসঙ্গত LPG সংকট নিয়ে শুধু স্কুল নয়, সমস্যায় পড়েছেন অফিসে কর্মরত কর্মীরাও। যাঁরা রোজ অফিস যান, অনেকের ক্ষেত্রেই ভরসা অফিস পাড়ার খাবারের দোকান। কম দামে, মনের মতো খাবার এখানে মেলে সহজেই। অধিকাংশ জায়গাতে রান্নাও প্রায় ঘরের মতোই। কিন্তু সেখানেও গ্যাসের আকাল দেখা দিয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনও ভাবেই রান্নার গ্যাসের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি করা যাবে না। কিন্তু তারপরেও এই অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

  • না মানলে এই মাস থেকেই বন্ধ হবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, নিয়মে বদল আনল পশ্চিমবঙ্গ সরকার

    না মানলে এই মাস থেকেই বন্ধ হবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, নিয়মে বদল আনল পশ্চিমবঙ্গ সরকার

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সবথেকে জনপ্রিয় প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি হল লক্ষীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar)। তবে এই প্রকল্পে এবার আসছে বিরাট পরিবর্তন। রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে এই প্রকল্পে একাধিক নতুন নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে। সরকারি সূত্রে খবর, এই নিয়মগুলি না মানলে চলতি মাস থেকে উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মহিলার আর্থিক সহায়তার জন্য এই প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্যই বড়সড় পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসন।

    প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সবথেকে জনপ্রিয় প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি হল এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলাদের প্রতি মাসে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়। সম্প্রতি অন্তর্বর্তী বাজেটে এই প্রকল্পের ভাতাও বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা পাচ্ছে ১৫০০ টাকা এবং এসসি/এসটি শ্রেণীর মহিলারা পাচ্ছে ১৭০০ টাকা করে, যে টাকা সরাসরি উপোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে আসছে নতুন নিয়ম

    সরকারি সূত্র মারফৎ খবর, বেশ কিছু ক্ষেত্রে নথিপত্রের ভুল বা অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসছে। কেউ কেউ নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন। সেই পরিস্থিতিতে প্রকৃত উপভোক্তাদের সুবিধা দেওয়ার জন্য অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করতে প্রশাসন এখন নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। জানা যাচ্ছে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার কার্ড সংযুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক। যে সমস্ত উপভোক্তার অ্যাকাউন্ট আধারের সঙ্গে লিঙ্ক করানো নেই, তাদের ভাতা পাঠানো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই দ্রুত ব্যাঙ্কে গিয়ে আধার লিঙ্ক করে নেওয়া সবথেকে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

    এদিকে আরও একটু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নিয়ম। এখন থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা শুধুমাত্র উপভোক্তাদের নিজের নামে থাকা একক অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে ঢুকবে। যৌথ অ্যাকাউন্ট বা জয়েন্ট অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দেওয়া হবে না। তাই প্রয়োজনে নিজের নামে আলাদা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে নেওয়ারই পরামর্শ দিয়েছে রাজ্যের প্রশাসন।

    আরও পড়ুন: ঘূর্ণাবর্তের জেরে বাড়ছে দুর্যোগ! শুক্রেও ঝড়-বৃষ্টির আভাস, আগামীকালের আবহাওয়া

    এছাড়াও এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য বয়সের নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। আবেদনকারীর বয়স হতে হবে অবশ্যই ২৫ বছর থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। কিন্তু বয়স ৬০ বছর পেরিয়ে গেলে তিনি আর এই প্রকল্পের আওতায় সুবিধা পাবেন না। সেক্ষেত্রে তাঁকে বার্ধক্য ভাতা সুবিধা দেওয়া হবে। তাই যদি বয়সজনিত কারচুপি করা হয়, তাহলে এই প্রকল্পের ভাতা আর মিলবে না। প্রশাসনের তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আবেদনপত্রে ভুল তথ্য দিলে বা নথিপত্রে অসঙ্গতি থাকলে অ্যাকাউন্ট বাতিল হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যদি আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের কেউ স্থায়ী সরকারি চাকরি করেন বা সরকারি পেনশন পান, সেক্ষেত্রে এই প্রকল্পের আওতায় ভাতা পাওয়া যাবে না।

  • বাড়ছে ঋণের বোঝা, আর্থিক স্বাস্থ্যে বিহার-ইউপির পিছনে বাংলা! শেষ তিনে পশ্চিমবঙ্গ

    বাড়ছে ঋণের বোঝা, আর্থিক স্বাস্থ্যে বিহার-ইউপির পিছনে বাংলা! শেষ তিনে পশ্চিমবঙ্গ

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এবারেও পিছিয়ে বাংলা! আর্থিক স্বাস্থ্যের মাপকাঠিতে দেশের ১৮টি বড় রাজ্যের মধ্যে শেষ সারিতে দেখা গেল পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) নাম। সঙ্গে রয়েছে কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ ও পঞ্জাব। রিপোর্ট দেখে কপালে চিন্তার ভাঁজ প্রশাসনের। তবে কি রাজকোষের দুরাবস্থা অনুদানের কারণেই হচ্ছে? বড় তথ্য ফাঁস নীতি আয়োগ (Niti Aayog)।

    শেষের দিক থেকে তৃতীয় স্থান বাংলার

    দেশের বড় রাজ্যগুলির মধ্যে কার রাজকোষের অবস্থা কেমন, তা নিয়ে নীতি আয়োগ ২০২৬-এর দ্বিতীয় বার্ষিক রিপোর্ট পেশ করা হল আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার। আর সেখানে পশ্চিমবঙ্গের রিপোর্ট দেখে চক্ষু চড়কগাছ সকলের। রাজকোষের স্বাস্থ্যের মাপকাঠিতে মোট ১৮টি রাজ্যকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল রাজ্যগুলির মধ্যে একবারে শেষে রয়েছে কেরল, পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ ও পঞ্জাব। অর্থাৎ শেষের দিক থেকে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে বাংলা। সেক্ষেত্রে নীতি আয়োগের মতে, পশ্চিমবঙ্গকে অবিলম্বে পরিকাঠামো তৈরি-সহ মূলধনী খাতে খরচে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কর বাবদ আয় এবং কর ছাড়া অন্যান্য আয়— দুই ক্ষেত্রেই জোর দিতে হবে।

    West Bengalঋণের বোঝা কমছে না রাজ্যের

    গত বছরও নীতি আয়োগের রিপোর্টে পশ্চিমবঙ্গ শেষ সারিতেই ছিল। প্রথম শ্রেণিতে ছিল ওড়িশা, ছত্তীসগঢ়, গোয়া, ঝাড়খণ্ড ও গুজরাত। চতুর্থ বা সব থেকে খারাপদের শ্রেণিতে ছিল পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ, পঞ্জাব। তবে এবার একধাপ এগিয়েছে। নীতি আয়োগ জানিয়েছে, উন্নয়ন খাতে খরচ ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে পশ্চিমবঙ্গ সামান্য এগিয়ে এসেছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিষেবা ক্ষেত্রে মূলধনী খাতে খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। অর্থাৎ আর্থিক পরিকাঠামো ও সামাজিক পরিকাঠামোতে প্রশাসন যে জোর দিচ্ছে তা বোঝা যাচ্ছে। এছাড়াও রাজ্যের নিজস্ব দু’বছরে প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু ঋণের বোঝা এবং পুরনো ঋণে সুদ মেটাতে গিয়ে রাজস্ব আয়ের পাঁচ ভাগের এক ভাগ খরচ হয়ে যাচ্ছে। সেখানে নজর দিতে হবে।

    আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে FIR দায়ের বিশ্ব হিন্দু পরিষদের!

    এছাড়াও সামগ্রিক ভাবে নীতি আয়োগের আর্থিক স্বাস্থ্যের রিপোর্ট বলছে, গতবারের মত এবারেও রাজকোষ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ওড়িশা দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে। এছাড়াও প্রথম পাঁচে রয়েছে গোয়া, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাত। অন্যদিকে হরিয়ানা এক বছরে প্রভূত উন্নতি করেছে। পাশাপাশি বিহার, কর্নাটক, তেলঙ্গানা সামান্য উন্নতি করেছে। কিন্তু পিছনের শাড়ি গুলিতে রাজ্যগুলির উন্নতি খুবই ধীরগতিতে হচ্ছে। নীতি আয়োগের কর্তাদের মতে, আর্থিক অনুদান পাইয়ে দেওয়ার বদলে রাজ্যগুলিকে সঠিক পথে চালিত করা জরুরি। আর্থিক শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে বা আয় বুঝে ব্যয় করতে হবে।