Category: পশ্চিমবঙ্গ

  • শিয়ালদা-হাওড়া লাইনে সেতুর সংস্কার, ট্র্যাকে নতুন প্রযুক্তি, একগুচ্ছ পদক্ষেপ পূর্ব রেলের

    শিয়ালদা-হাওড়া লাইনে সেতুর সংস্কার, ট্র্যাকে নতুন প্রযুক্তি, একগুচ্ছ পদক্ষেপ পূর্ব রেলের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ক্রমাগত একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে রেল (Indian Railways)। উন্নতমানের প্রযুক্তি রেল পরিষেবা এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় পূর্ব রেলের (Eastern Railway) ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ গত ফেব্রুয়ারি মাসে একগুচ্ছ উল্লেখযোগ্য পরিকাঠামোগত সাফল্যের কথা তুলে ধরেছে। যা উন্নত ট্রেন পরিচালন নিরাপত্তার ওপর যেমন জোর দেওয়া হয়েছে ঠিক তেমনই আধুনিক ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে।

    ম্যানড লেভেল ক্রসিং গেট প্রতিস্থাপন

    পূর্ব রেল বর্তমানে নিরাপত্তা বিধি নিয়ে যে ক্রমাগত অবাধ্যতা তৈরি হচ্ছে তার বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছে। পরিকাঠামোর ব্যাপক আধুনিকীকরণ এবং সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও, দ্রুত পারাপার করে রেললাইনকে দুর্ঘটনার করিডোরে পরিণত করেছে। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে লেভেল ক্রসিং বাদ দিয়ে এবং ওভারব্রিজের নিরাপত্তা এবং রেল চলাচলের গতি বাড়াতে পূর্ব রেলের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ১১টি ম্যানড লেভেল ক্রসিং গেট প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। জানা গিয়েছে সেখানে লিমিটেড হাইট সাবওয়ে এবং কৌশলগত ডাইভারশন তৈরি করা হয়েছে, যা রেল ও রাস্তার ট্রাফিক সংযোগস্থলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি দূর করবে।

    ১৩টি সেতুর সংস্কার

    পূর্ব রেলের পরিষেবা আরও বৃদ্ধি করতে ১৩টি সেতুর সংস্কার করা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদী থাকবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা উন্নত করতে এবং ট্রেনের গতি বজায় রাখতে ৯ টি সেতুর রিগ্রেডিং করা হয়েছে। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে ৯ টি নতুন সাইড পাথওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে এই সাইড পাথওয়ে রেলের গ্রাউন্ড স্টাফদের নিরাপদ চলাচল এবং নজরদারির কাজকে আরও সহজতর করে তুলবে। পাশাপাশি পূর্ব রেলের ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণের আধুনিকীকরণের জন্য ট্র্যাক নবীকরণ এবং ট্রাকের অবস্থার পর্যবেক্ষণের ওপর জোর দিয়েছে।

    ফোর্সড লেআউট প্রতিস্থাপন

    রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ৪১.৭৫ সমতুল্য সংখ্যার ‘থ্রু টার্নআউট রিনিউয়াল’ স্থাপন করা হয়েছে, যা পুরনো মেশিনগুলিকে সরিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করেছে। এবং ১,৩২০ কিমি রেলপথে ‘আল্ট্রা সনিক ফ্ল ডিটেকশন’ পরীক্ষা করা হয়েছে যাতে ট্র্যাকের ভিতরে কোনও ফাটল থাকলে তা শনাক্ত করা যায়। এছাড়াও ১০৬,২৭০ ঘনমিটার ব্যালাস্ট পাথর বিছানো হয়েছে, যা রেল চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি ৭টি ‘ফোর্সড লেআউট’ সফলভাবে সংশোধন করা হয়েছে।

    আরও পড়ুন: এবার বাড়িতে ED-কে ডাকলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়

    পূর্ব রেলের এই একগুচ্ছ নিরাপত্তা মূলক পদক্ষেপে আশার আলো দেখছে যাত্রীরা। এই প্রসঙ্গে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী শিবরাম মাঝি জানান, “এই উন্নয়নগুলি যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং পরিকাঠামো আধুনিকীকরণের প্রতি পূর্বরেলের একনিষ্ঠ দায়বদ্ধতাকে প্রতিফলিত করে। উন্নত পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা আমাদের যাত্রীদের জন্য আরও উন্নতমূলক এবং নির্ভরযোগ্য রেল পরিষেবা তৈরি করছি।”

  • পেনশন পাওয়া আরও সহজ, GISS সমস্যা মেটাতে নয়া মেমোরেন্ডাম জারি নবান্নর

    পেনশন পাওয়া আরও সহজ, GISS সমস্যা মেটাতে নয়া মেমোরেন্ডাম জারি নবান্নর

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারীদের অবসরকালীন সুবিধা বা পেনশন (Pension) প্রাপ্তি আরও সহজ করার জন্য এবার বিরাট পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার (Government of West Bengal)। বিশেষ করে জেনারেল ইন্সুরেন্স কাম সেভিংস স্কিম বা জিআইএসএস সংক্রান্ত তথ্যের অভাবে যাদের পেনশন ফাইল এতদিন ধরে আটকে ছিল, তাদের জন্য এবার বিরাট খুশির খবর শুনিয়েছে নবান্ন। গত ১৯ মার্চ অর্থ দফতর থেকে জারি করা একটি নতুন নির্দেশিকা সেই দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ এবার আরও প্রশস্ত করল।

    কেন জারি করা হল নতুন নির্দেশিকা?

    আসলে দীর্ঘদিন ধরে দেখা যাচ্ছিল যে, বহু সরকারি কর্মচারীর সার্ভিস বুকে জিআইএসএস সাবস্ক্রিপশনের হিসেব সঠিক ভাবে আপডেট করা নেই। বিশেষ করে পুরনো নথি কিংবা তথ্য সময় মতো প্রশাসনিক দফতর থেকে না আসার কারণে পেনশনের কাজ থমকে যাচ্ছিল। আর অবসর গ্রহণের পর দিনের পর দিন প্রাপ্য টাকা পাওয়ার জন্য কর্মচারীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছিল। কর্মীদের এই ভোগান্তি দূর করার জন্যই অর্থ দফতরের গ্রুপ-জে শাখা বিশেষ মেমোরেন্ডাম জারি করল।

    মেমোরেন্ডাম নম্বর 061-F(J)/2025 অনুযায়ী, এবার পেনশন প্রক্রিয়ায় বাধা দূর করার জন্য সরকার বিশেষ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথমত, এখন থেকে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার কন্ট্রোলিং অথরিটি নিজেরাই জিআইএসএস সাবস্ক্রিপশনের এন্ট্রি করতে পারবে। দ্বিতীয়ত, তথ্য যাচাই বা তথ্য প্রত্যায়িত করার ক্ষমতা সরাসরি কর্তৃপক্ষের হাতে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, ১৯৮৭ সালের পুরনো একটি আইনের সুত্র ধরে এবার রাজ্যপালের বিশেষ অনুমতিক্রমে নতুন নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে।

    এক্ষেত্রে বলে রাখি, এই নির্দেশিকাটি এইচআরএমএস ব্যবস্থা চালুর আগের সময়ের জন্যই প্রযোজ্য। অর্থাৎ, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসের আগে যদি কোনও কর্মচারী জিআইএসএস সাবস্ক্রিপশনের তথ্য সার্ভিস বুকে নথিভুক্ত না থাকে, সেক্ষেত্রে তা এখন আরও সহজে আপডেট করা যাবে।

    আরও পড়ুন: শিয়ালদা ডিভিশনে একাধিক লোকাল ট্রেনের গন্তব্য বাড়াল রেল

    কীভাবে আপডেট করতে হবে তথ্য?

    সার্ভিস বুকে এই পুরনো তথ্যগুলি নথিভুক্ত করার জন্য এবার নির্দিষ্ট কিছু নিয়মের কথা বলা হয়েছে। প্রথমত, উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই তথ্য এন্ট্রি করা যাবে। দ্বিতীয়ত, যথাযথভাবে সত্যায়িত সার্ভিস ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেট থাকতে হবে এবং তৃতীয়ত, কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য অন্য যে কোনও বৈধ নথির ভিত্তিতে এই কাজ সম্পন্ন করা যাবে। এমনকি রাজ্যের সমস্ত ট্রেজারি অফিসার, জেলাসচিব, পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন দফতরের সচিবদের কাছে ইতিমধ্যে এ বিষয়ে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। যার ফলে হাজার হাজার সরকারি কর্মচারী যারা অবসরের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন বা যাদের পেনশনের কাজ আটকে রয়েছে, তারা সরাসরি উপকৃত হবে।

  • শিয়ালদা ডিভিশনে একাধিক লোকাল ট্রেনের গন্তব্য বাড়াল রেল

    শিয়ালদা ডিভিশনে একাধিক লোকাল ট্রেনের গন্তব্য বাড়াল রেল

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: শোনা গিয়েছিল আগেই। এবার বাস্তবেই কমতে চলেছে মাঝপথে ট্রেন বদলের ঝক্কি (Indian Railways)। আজ অর্থাৎ 23 মার্চ তারিখ থেকে 23 মে পর্যন্ত শিয়ালদা-বনগাঁ, শিয়ালদা-ক্যানিং (Sealdah) এমনকি শিয়ালদা-ডায়মন্ড হারবার রুটে বাড়ছে ট্রেনের গন্তব্য। অর্থাৎ যেসব লোকাল ট্রেন নির্দিষ্ট স্টেশন পর্যন্ত যেত সেই ট্রেনের গন্তব্য এবার আরও প্রশস্ত হচ্ছে। শিয়ালদা শাখার কোন কোন ট্রেন এবার থেকে আরও দূর পর্যন্ত ছুটবে জানতে আজকের প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ দেখুন।

    কোন কোন ট্রেনের গন্তব্য বাড়ছে?

    প্রথমেই আসা যাক শিয়ালদা-বনগাঁ শাখায়। এই সেকশনের কয়েকটি লোকাল ট্রেন দত্তপুকুর বা গোবরডাঙায় গিয়ে নিজেদের যাত্রা পথ শেষ করত। এবার সেই দত্তপুকুর এবং গোবরডাঙা লোকালের গন্তব্য বাড়ছে। ট্রেন নম্বর 33617 শিয়ালদা-দত্তপুকুর লোকাল এবার থেকে বনগাঁ পর্যন্ত যাবে। এই ট্রেন সকাল 11 টা বেজে 44 মিনিটে বনগাঁয় পৌঁছবে। অন্যদিকে ট্রেন নম্বর 33622 লোকাল ট্রেনটি বনগাঁ থেকে সকাল 11টা 55 মিনিটে ছেড়ে সরাসরি শিয়ালদা আসবে।

    এবার আসা যাক রাতের প্রসঙ্গে। ট্রেন নম্বর 33685 শিয়ালদা-গোবরডাঙা লোকাল শিয়ালদা থেকে 8টা 23 মিনিটে ছেড়ে সোজাসুজি 10টা 31 মিনিটে বনগাঁয় পৌঁছবে। একইভাবে সন্ধ্যার দমদম-গোবরডাঙা 7টা 25 মিনিটে ছেড়ে সোজা বনগাঁয় পৌঁছবে। অন্যদিকে ক্যানিং এবং ডায়মন্ড হারবার শাখার ক্ষেত্রেও ট্রেন নম্বর 34392 এবং 30552 ট্রেন দুটি চম্পাহাটি এবং ঘুটিয়ারির বদলে সোজা ক্যানিং পর্যন্ত চলবে। ফেরার পথে ওই ট্রেন আবার ক্যানিং থেকেই ছেড়ে শিয়ালদা আসবে।

    অবশ্যই পড়ুন: ভারতীয় রুপিতে ভারী পতন, সোমবার ডলারের বিপরীতে নতুন রেকর্ড গড়ল টাকা

    এদিকে, ডায়মন্ড হারবার রুটে ট্রেন নম্বর 34898 শিয়ালদা-মগরাহাট ট্রেনটি মগরাহাট স্টেশনের বদলে সোজা ডায়মন্ড হারবার পর্যন্ত যাবে। এই ট্রেন রাত 8টা বেজে 38 মিনিটে ডায়মন্ড হারবার পৌঁছে দেবে যাত্রীদের। রেলের এমন পদক্ষেপে আখেরে উপকৃত হবেন অসংখ্য নিত্যযাত্রী।

  • চিংড়িঘাটা মেট্রো নিয়ে এবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে একহাতে নিল সুপ্রিম কোর্ট!

    চিংড়িঘাটা মেট্রো নিয়ে এবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে একহাতে নিল সুপ্রিম কোর্ট!

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: চিংড়িঘাটা মেট্রো নিয়ে এবার রাজ্যকে ভৎসনা সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court On Chingrighata Metro)। সোমবার, মেট্রোর বকেয়া কাজ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে ওঠে মামলা। আর তারপরেই রাজ্য সরকারকে মামলা তুলে নিতে বলে আদালত। অন্যথায় গোটা মামলাটি খারিজ করে দেওয়ার কথাও জানান বিচারপতিরা।

    চিংড়িঘাটা মেট্রোর বকেয়া কাজ নিয়ে রাজ্যকে কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

    এর আগে চিংড়িঘাটা মেট্রোর অবশিষ্ট অংশের কাজ নিয়ে রাজ্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছিল মেট্রো কর্তৃপক্ষ। সেই অভিযোগের পরপরই কলকাতা হাইকোর্ট বকেয়া কাজ শেষ করার জন্য রাজ্য সরকারকে সময় বেঁধে দিয়েছিল। এদিকে রাজ্যের তরফে উচ্চ আদালতের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোটে মামলা হয়। সোমবার সেই মামলা নিয়েই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি একেবারে খোলাখুলি জানিয়ে দিলেন, “সাধারণ মানুষের প্রকল্প নিয়ে রাজনীতি করবেন না। হাইকোর্ট যা নির্দেশ দিয়েছে, যেভাবে সময় বেঁধে দিয়েছে সেভাবেই কাজ করতে হবে।”

    কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে বহাল রেখেই সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ সরকার যে অবস্থানে রয়েছে তা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে গাফিলতিকে ইঙ্গিত করে। এটা একপ্রকার উন্নয়ন আটকানোর জেদ। এদিন চিংড়িঘাটার বকেয়া কাজ নিয়ে রাজ্যের তরফে করা মামলা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। রাজ্য পক্ষের আইনজীবীকে সরাসরি উচ্চ আদালতের বিচারপতি জানান, “কখনও উৎসব চলছে, কখনও পরীক্ষা, কখনও আবার নির্বাচন দেখানো হচ্ছে। সুযোগ দিচ্ছি মামলা এখনই তুলে নিন। না হলে খারিজ করে দেব।”

    অবশ্যই পড়ুন: আবারও IPL দেখবে ওপার বাংলা, নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে বাংলাদেশ!

    উল্লেখ্য, মাত্র 316 বর্গমিটার অংশের জন্য আটকে রয়েছে চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ। এই অংশের জন্যই নিউ গড়িয়া থেকে কলকাতা বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রোর অরেঞ্জ লাইনের সম্প্রসারণ করা যাচ্ছে না। চিংড়িঘাটা মোড়ের এই অংশের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হলে সাময়িকভাবে বাইপাসে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। তবে অভিযোগ, রাজ্যের কাছে অনুরোধ জানানো সত্বেও অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। ফলে একই জায়গায় আটকে রয়েছে মেট্রো প্রকল্পের কাজ।

  • ২৮ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণ আজ, প্রকাশিত হচ্ছে প্রথম তালিকা, কীভাবে দেখবেন নাম?

    ২৮ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণ আজ, প্রকাশিত হচ্ছে প্রথম তালিকা, কীভাবে দেখবেন নাম?

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দুই দফায় হতে চলেছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থী তালিকা। ভোট প্রচার পর্বও শুরু হয়েছে। এমতাবস্থায় আজ বিকেলেই প্রকাশিত হতে চলেছে SIR-র সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা (First Supplementary Voters List)। যারা এতদিন বিচারাধীন তালিকায় ছিলেন, তাঁদের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়াদের নাম ওই অতিরিক্ত তালিকায় থাকবে। আশঙ্কা করা হচ্ছে প্রথম পর্যায়ে সেই সংখ্যাটা ২৮ লক্ষের আশপাশে থাকবে।

    প্রকাশিত হবে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা

    রিপোর্ট মোতাবেক, রবিবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, আজ পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ায় ‘বিচারাধীন’ তালিকাভুক্ত ভোটারদের প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হতে চলেছে। আশা করা যাচ্ছে বিকেলেই ‘বিচারাধীন’ তালিকায় থাকা ভোটারদের প্রথম অতিরিক্ত তালিকা। জানা গিয়েছে তালিকাটি রাজ্যজুড়ে বুথ, জেলাশাসকের দফতর, মহকুমা শাসকের দফতর, বিডিওয়ের দফতরে টাঙানো হবে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজ্যে ২৮ লক্ষ ৬ হাজার বিবেচনাধীন ভোটারের তথ্যের নিষ্পত্তি হয়েছে। আগামী সপ্তাহে শুক্রবার দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।

    চিন্তিত ভোটারেরা

    সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে বিচারাধীন ভোটারদের জন্য গঠিত হয়েছে ট্রাইবুনাল। রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়ে ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে। ৭০০ জন বিচারককে দিয়ে নথি যাচাইয়ের কাজ করা হয়েছিল। অবশেষে আজ প্রথম তালিকা প্রকাশিত হবে। তাই স্বাভাবিকভাবেই চিন্তিত ভোটাররা, কারণ এই তালিকার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে তাঁদের ভোটাধিকারের ভবিষ্যৎ। কমিশনের মাধ্যমে জানা গিয়েছে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের মতোই এই তালিকা প্রকাশিত হবে। অনলাইনে কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে এই অতিরিক্ত তালিকা দেখা যাবে। কীভাবে ভোটার দেখতে পারবেন নীচে পদ্ধতি জানিয়ে দেওয়া হল

    অনলাইনে কীভাবে দেখবেন নাম?

    প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম রয়েছে কিনা তা জানার জন্য প্রথমে eci.voters.gov.in টাইপ করতে হবে। এরপর কমিশনের নির্দিষ্ট ওই সাইট খুললে তাতে মোবাইল নম্বর এবং ওটিপি দিয়ে লগইন করে নিতে হবে। এরপর এপিক নম্বর দিয়ে সার্চ করে নিতে হবে নিজের নাম। পাশাপাশি মোবাইলে ECI নেটে গিয়ে পরপর পদ্ধতি অনুযায়ী তালিকা দেখতে পারবেন ভোটাররা। এছাড়াও অফলাইনে বুথ, বিডিও, এসডিও অফিস, ডিএম অফিসে অতিরিক্ত তালিকা ঝোলানো হবে। সেক্ষেত্রে তালিকায় যাদের নাম বাদ পড়বে, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করে নাম তুলতে পারবেন। অন্যদিকে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের জন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে রাজ্যজুড়ে।

    আরও পড়ুন: ভবানীপুর নিয়ে কর্মীদের কড়া নির্দেশ অভিষেকের, লোডশেডিং প্রসঙ্গ টানলেন মমতা

    সংবেদনশীল অঞ্চলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    গতকাল অর্থাৎ রবিবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠক হয়েছিল CEO দফতরে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কমিশনের এক আধিকারিক বলেছেন যে ‘প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের প্রক্রিয়া যাতে শান্তিপূর্ণ হয়, সেজন্য যাবতীয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছি আমরা। সংবেদনশীল অঞ্চলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকবে। বাড়তি নজরদারিও চলবে।’ শনিবার রাজ্য সচিবালয় নবান্ন থেকে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। বলা হয়েছে, “সম্ভাব্য জমায়েতের স্থানগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য উপযুক্ত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে কঠোর নজরদারি চালানো হোক। আইন-শৃঙ্খলা যাতে বজায় থাকে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হোক।”

  • হাওড়া-দিল্লি সফর আরও সহজ, নয়া ট্রেন দিল পূর্ব রেল, দেখুন সময়সূচি

    হাওড়া-দিল্লি সফর আরও সহজ, নয়া ট্রেন দিল পূর্ব রেল, দেখুন সময়সূচি

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: যাত্রীদের জন্য বিরাট সুখবর। নিউ দিল্লি থেকে হাওড়া স্পেশাল ট্রেন (Howrah-New Delhi Special Train) চালানোর ঘোষণা করলে পূর্ব রেল। জানা যাচ্ছে, ট্রেন নম্বর ০৪০৫২ এবং ০৪০৫১ নিউ দিল্লি – হাওড়া – নিউ দিল্লি স্পেশাল ট্রেনটি আজ অর্থাৎ সোমবার থেকে ২৬ মার্চ অবধি চলবে। যাত্রাপথে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে ট্রেনটি থামবে। ট্রেনটির সময়সূচি কী রয়েছে আর কোন কোন স্টেশনে থামবে তা জানুন এই প্রতিবেদনে (Indian Railways)।

    নিউ দিল্লি – হাওড়া স্পেশাল ট্রেন

    পূর্ব রেলের তরফ থেকে যেমনটা জানানো হয়েছে, আজ অর্থাৎ ২৩ তারিখ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে এই ট্রেনটি চলবে। যার মধ্যে ট্রেন নম্বর ০৪০৫২ নিউ দিল্লি – হাওড়া স্পেশাল ট্রেনটি আজ অর্থাৎ ২৩ তারিখ নিউ দিল্লি স্টেশন থেকে সন্ধ্যা ৬:১৫ মিনিটে ছাড়বে এবং আগামীকাল অর্থাৎ ২৪ তারিখ হাওড়া জংশনে ট্রেনটি পৌঁছবে রাত ১১:৪০ মিনিটে। মাঝে জসিডি স্টেশনে ট্রেনটি পৌঁছবে আগামীকাল বিকাল ৫:৩২ মিনিটে।

    অন্যদিকে ট্রেন নম্বর ০৪০৫১ হাওড়া – নিউ দিল্লি স্পেশাল ট্রেনটি আগামী ২৫ তারিখ হাওড়া জংশন থেকে ছাড়বে রাত ১:৪০ মিনিটে এবং ট্রেনটি নিউ দিল্লি পৌঁছবে ২৬ তারিখ সকাল ৮:২০ মিনিটে। মাঝে ট্রেনটি জসিডি স্টেশনে পৌঁছবে ২৫ তারিখ সকাল ৭:২০ মিনিটে।

    আরও পড়ুন: দেড় লক্ষ বিনিয়োগে মাসে মিলবে ৯৭৫০ টাকা সুদ! এত রিটার্ন দিচ্ছে LIC?

    কোন কোন স্টেশনে থামবে ট্রেনটি?

    পূর্ব রেলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উপরোক্ত স্পেশাল ট্রেনগুলি উভয়দিকে গাজিয়াবাদ, আলিগড় জং., টুন্ডলা জং., গোবিন্দপুরী, প্রয়াগরাজ জং, মির্জাপুর, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় জং., বক্সার, আরা, পাটনা জং., বখতিয়ারপুর জং., কিউল জং., ঝাঝা, মধুপুর জং., আসানসোল জং., বর্ধমান এবং ব্যান্ডেল স্টেশনে স্টপেজ দেবে। আর ট্রেনটিতে মোট ১৯টি কোচ থাকবে যার মধ্যে এসি ২ টিয়ার কোচ থাকবে ১টি, এসি থ্রি টিয়ার কোচ থাকবে ২টি, স্লিপার ক্লাস থাকবে ১০টি, সাধারণ দ্বিতীয় শ্রেণীর কোচ থাকবে ৪টি এবং এসএলআরডি কোচ থাকবে ২টি। আর ট্রেনটিকে মেইল/এক্সপ্রেস ক্যাটাগরির মধ্যেই রাখা হচ্ছে।

    Image

  • স্ট্রেচার না পেয়ে হাঁটতে গিয়ে মৃত্যু! ফের আরজি করের ট্রমা কেয়ার নিয়ে চরম অভিযোগ

    স্ট্রেচার না পেয়ে হাঁটতে গিয়ে মৃত্যু! ফের আরজি করের ট্রমা কেয়ার নিয়ে চরম অভিযোগ

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: লিফট ঘটনার পর ফের বিতর্কের শিরোনামে উঠে এল আরজি কর হাসপাতাল। সেখানকার ট্রমা কেয়ারে (RG Kar Hospital Trauma Care Centre) ফের অব্যবস্থার অভিযোগ উঠে এল। জানা গিয়েছে, চিকিৎসা করাতে এসে হাসপাতালের অব্যবস্থার কারণে মৃত্যু হয় এক প্রৌঢ়ের। শৌচালয়ে যাওয়ার জন্য পাওয়া যায়নি কোনো স্ট্রেচার। হাঁটতে গিয়ে শ্বাসকষ্ট হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বিশ্বজিৎ সামন্ত নামের ওই প্রৌঢ়। তার পরেই মৃত্যু হয় তাঁর।

    স্ট্রেচার না পেয়ে হাঁটতে গিয়ে মৃত্যু!

    রিপোর্ট মোতাবেক, শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে আরজি কর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৬০ বছরের এক প্রৌঢ় বিশ্বজিৎ সামন্ত। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় তাঁর নাক থেকে রক্তও পড়ছিল। ট্রমা কেয়ারে চিকিৎসা চলছিল তাঁর। যদিও প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাতে রক্ত বন্ধ হয়ে যায়। কিছুটা সুস্থ বোধ করেন কিন্তু শৌচালয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় তাঁর। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালের যেখানে প্রৌঢ়ের চিকিৎসা চলছিল, সেখানে কাছাকাছি কোনও শৌচালয় ছিল না। এমনকি দোতলায় ওঠার জন্য স্ট্রেচারের ব্যবস্থাও ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে রোগী অসুস্থ অবস্থায় হেঁটে হেঁটে দোতলার শৌচালয়ে যেতে গিয়েই মৃত্যু হয় তাঁর। যদিও এখনও এবিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

    ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে দেহ

    মৃত বিশ্বজিৎ সামন্তের ছেলে বিশাল সামন্ত বলেন, ‘‘অনেক আশা নিয়ে আমরা আরজি কর হাসপাতালে এসেছিলাম। কিন্তু এখানে তো সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছেন!’’ অন্যদিকে হাসপাতাল সূত্রে দাবি, ট্রমা কেয়ার সেন্টারে শৌচালয় রয়েছে। তাহলে কেন তা সত্ত্বেও রোগীকে নিয়ে বাইরে যেতে বলা হয়? তবে এই সকল প্রশ্নের জবাবের জন্য মৃতের দেহ আপাতত ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক অনুমান, হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে প্রৌঢ়ের। আপাতত এই ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে টালা থানার পুলিশ।

    আরও পড়ুন: ৫ জেলায় দুর্যোগের ভ্রূকুটি, কেমন থাকবে আজকের আবহাওয়া

    উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ভোরে আরজি করের ট্রমা কেয়ার ভবনের লিফ্‌টে আটকে মৃত্যু হয়েছিল দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেখানেও বিতর্কের কেন্দ্র ছিল শৌচালয়। তিন বছরের ছেলের চিকিৎসা করানোর জন্য আরজি করে এসেছিলেন তিনি। শিশুকে শৌচালয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য লিফ্‌টে উঠতে হয় তাঁদের। কিন্তু, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সেই লিফ্‌টের বেসমেন্টে দীর্ঘ ক্ষণ আটকে থাকেন অরূপেরা। সেখানেই এক ঘণ্টা আটকে থাকার পর স্ত্রী সন্তানের চোখের সামনেই মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। হাসপাতালের অব্যবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নজরদারির অভাবকেই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়েছে। শেষ আপডেট বলছে, এই ঘটনায় ৩ জন লিফটম্যান-সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

  • কমিশনের দুই কর্মীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর তৃণমূলের! দুর্গাপুরে চাঞ্চল্য

    কমিশনের দুই কর্মীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর তৃণমূলের! দুর্গাপুরে চাঞ্চল্য

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলায় বেজে গিয়েছে ভোটের নির্ঘণ্ট (West Bengal Election 2026)। তবে ভোট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের নির্বাচন বিধি কড়া ভাবে কার্যকর করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। আর সেই বিধি মেনেই দুর্গাপুরে (Durgapur) সরকারি দেওয়াল থেকে প্রার্থীর নাম মুছতে গিয়ে চরম হেনস্থার শিকার হয়েছেন খোদ নির্বাচন কমিশনারের দুই কর্মী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি অভিযোগের তির উঠছে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের দিকেই। জানুন ব্যাপারটা।

    ঘটনাটি কী?

    প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, আগামীকাল অর্থাৎ সোমবার ভোটার তালিকার সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশের কথা। আর তার আগে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারদের কড়া নির্দেশিকা দিয়েছে কমিশন। রিপোর্ট অনুযায়ী, এদিন দুর্গাপুর মহকুমা শাসকের দফতর থেকে নিযুক্ত দুই কর্মী এলাকা পরিদর্শন করতে বেরিয়েছিলেন। আর কলোনিপাড়া পোস্ট অফিসের দেওয়ালে প্রার্থীদের নাম লিখে প্রচার চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। তবে সেটা নির্বাচন বিধির পরিপন্থী বলে দাবি করা হয় নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে। আর সরকারের নির্দেশ মেনেই সেই দেওয়াল মুছতে গেলে বাঁধে বিপত্তি।

    এ বিষয়ে আক্রান্ত এক কর্মী জানিয়েছেন যে, তারা ডিউটি করছিলেন এবং এসডিও দফতরের নির্দেশে দেয়াল মুছতে গিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, কাজ শেষ করে আমরা গাড়িতে উঠে পড়েছিলাম। তখনই একদল লোক এসে আমাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে আমাদেরকে মারধর শুরু করে। আমরা বারবার পরিচয়পত্র দেখিয়ে সরকারি কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের কোনও কথাই শুনতে চায়নি। আক্রান্তদের দাবি, হামলাকারীরা স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত।

    আরও পড়ুন: দর্শক ছাড়াই হবে খেলা, স্টেডিয়াম মাত্র দুটো! তেল সংকটে বড় সিদ্ধান্ত PSL নিয়ে

    এদিকে ভোটের আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক পারদ আরও চড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। কিন্তু মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূলের নেতারা। জোড়াফুল শিবিরের পাল্টা দাবি, মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিজেপির লোকজন বহিরাগতদেরকে নিয়ে এসে জয় শ্রী রাম শ্লোগান দিচ্ছিল এবং নিজেরাই উস্কানিমূলক কাজ করেছে।

  • নথি কী কী লাগবে, মোবাইল সহ ভোটের একগুচ্ছ নিয়ম চালু করল নির্বাচন কমিশন

    নথি কী কী লাগবে, মোবাইল সহ ভোটের একগুচ্ছ নিয়ম চালু করল নির্বাচন কমিশন

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ক্রমশ এগিয়ে আসছে বাংলার বিধানসভা নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের তরফে ইতিমধ্যেই রাজ্যে দুই দফায় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এবার ভোটারদের স্বার্থে বড় পদক্ষেপ করল কমিশন। জানা যাচ্ছে, ভোটারদের যাতে সমস্যা না হয় সেজন্যেই ভোট চলাকালীন বুথের বাইরে চার ধরনের পোস্টার লাগানো থাকবে। সেখানেই থাকবে প্রার্থীদের নাম সহ অন্যান্য তথ্য। একই সাথে বুথের কাছেই থাকবে ভোটার সহায়তা কেন্দ্র। এখানেই শেষ নয়, ভোট কেন্দ্রের 100 মিটারের মধ্যে ফোন বন্ধ করার মতো বেশ কিছু নতুন নিয়ম চালু করেছে নির্বাচন কমিশন।

    ভোটের নতুন নিয়ম চালু করল নির্বাচন কমিশন

    রবিবার সকাল সকাল একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ভোট চলাকালীন একাধিক নিয়ম-কানুনের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।। বাংলা ছাড়াও অসম, তামিলনাড়ু কেরলের মতো 5 রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের মোট 2 লাখ 18 হাজার 807টি বুথে ভোটারদের ন্যূনতম সমস্ত পরিষেবা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফে।।

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট কেন্দ্রের অন্তত 100 মিটারে মধ্যে কোনও মোবাইল ফোন সক্রিয় অবস্থায় থাকবে না। হয় ফোন সুইচ অফ করে রাখতে হবে অথবা ফোন থাকবে সাইলেন্ট অবস্থায়। একই সাথে ভোট দিতে যাওয়ার সময় ভোটাররা নিজেদের ফোন জমা করে তবেই ভোট দিতে পারবেন। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রত্যেকটি বুথে ন্যূনতম পরিষেবা হিসেবে পানীয় জল, পর্যাপ্ত জল সহ শৌচাগার, ভোট কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আলো সহ এমন একাধিক ব্যবস্থা থাকতে হবে।

     

    একই সাথে, যাঁরা ভোট দিতে আসছেন তাঁদের যাতে রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে না হয় সেজন্যেই ছায়ার আশ্রয় বা শেডের বন্দোবস্ত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটারদের জন্য আলাদা আলাদা ভোটকক্ষ, বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকতে হবে বুথে। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বুথের সামনে চার ধরনের যে পোস্টার লাগানো হবে সেই পোস্টারে প্রার্থীর নাম পরিচয় লেখার পাশাপাশি ওই পোস্টারে ভোটের সময় কী কী করা যাবে এবং কোন কাজ করা যাবে না, ভোটার কার্ড ছাড়া কোন কোন নথী দেখিয়ে ভোট দিতে হবে, ভোট কেন্দ্রে কোন কোন জিনিস গ্রহণযোগ্য নয় সে সবই লেখা থাকবে।

    অবশ্যই পড়ুন: পিছিয়ে গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরবঙ্গের ভোট প্রচার, কারণ কী?

    শোনা যাচ্ছে, প্রত্যেক বুথের কাছেই ভোটার সহায়তা কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। সেখানেই থাকবেন BLO রা। ভোটারদের বুথ চিনিয়ে নিয়ে আসা থেকে শুরু করে লাইনে দাঁড় করানো এমনকি অন্যান্য সব রকম সাহায্য করবেন তাঁরা। কোনও বৃদ্ধ যদি ভোট দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন তবে তাঁকে সবটা বুঝিয়ে ভোট পক্ষ পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়াও BLO দের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলেই জানানো হয়েছে। এছাড়াও ভোট কেন্দ্রের বাইরে এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে যাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেদিকে নজর রাখবে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

  • যুবসাথীর ১৫০০ টাকা এখনও পাননি? জানুন কী করতে হবে এবার

    যুবসাথীর ১৫০০ টাকা এখনও পাননি? জানুন কী করতে হবে এবার

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ যুবসাথী প্রকল্পে (Banglar Yuva Sathi) আবেদন করেছেন অথচ টাকা পেতে দেরি হচ্ছে? কী করবেন বুঝতে পারছেন না? তাহলে আপনার জন্য রইল আজকের এই প্রতিবেদনটি। রাজ্য বাজেটে পশ্চিমবঙ্গ সরকার যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষণা করে। সরকারের এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি মাসে বাংলার বেকার যুবক যুবতীরা ১৫০০ টাকা করে অর্থ সাহায্য পাবেন। অনেকে এই টাকা পেয়েওছেন। কিন্তু আবার অনেকে পাননি। আদৌ টাকা মিলবে তো? নাকি আবেদন বাতিল হয়ে গেল? তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। যারা এখনও টাকা পাননি তাঁরা কি আর ভবিষ্যতে পাবেন? চলুন বিশদে জেনে নেওয়া যাক।

    কবে মিলবে যুবসাথীর টাকা?

    সরকার জানিয়েছে, গত ৭ মার্চ, ২০২৬ থেকে আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে ১৫০০ টাকা করে পাঠানো শুরু করা হয়েছে। আগে এই প্রকল্পের সুবিধা ১৫ আগস্ট, তারপর ১ এপ্রিল এবং পরে ৭ মার্চ থেকে দেওয়ার ঘোষণা করে সরকার। এদিকে ঘোষণা মতো সেদিন থেকেই টাকা ঢুকতে শুরু করে আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে। ইতিমধ্যে বাংলায় বিধানসভা ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। জোরকদমে নির্বাচনী প্রচারের কাজ চলছে জেলায় জেলায়। তবে অন্যদিকে বিপাকে পড়েছেন সরকারি দফতরগুলি। কারণ ভোট ঘোষণা হওয়ার পাশাপাশি আচরণবিধিও লাগু হয়েছে। ফলে সরকারি দফতরগুলির কাজ ব্যাহত হয়েছে।

    আরও পড়ুনঃ DA কাণ্ডে রাজ্যের কাছে গেল কড়া চিঠি, চাপে পড়বে নবান্ন?

    সূত্রের খবর, ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকদের (BDO) লগইন আইডি সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকায় তারা সরাসরি কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারছেন না। ফলে এখন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে চারিদিকে। যদিও সরকার এখনও আশ্বাস দিচ্ছে, যারা একদম নির্ভুল ফর্ম জমা দিয়েছেন কিন্তু অনুদান পাননি তাঁরা শীঘ্রই টাকা পেয়ে যাবেন। এই মার্চ মাসের মধ্যে সকলেই টাকা পেয়ে যাবেন বলে খবর। শুধু একটু অপেক্ষা আর কিছুই না।

    এভাবে নিজের স্টেটাস চেক করুন

    • ১) প্রথমে yubasathi.wb.gov.in -এ ভিজিট করতে হবে।
    • ২) এরপর “Check Status” or “Applicant Login” অপশনে ক্লিক করতে হবে।
    • ৩) পরবর্তী ধাপ হিসেবে আবেদন নম্বর বা রেজিস্টার মোবাইল নম্বর লিখতে হবে।
    • ৪) Security Code দিতে হবে। এরপরেই আপনার আবেদন কী পর্যায়ে আছে তা দেখানো হবে স্ক্রিনে।