Category: ধর্ম

  • ৫০০০ বছরের পুরনো প্রথা, জানুন হিমাচলের এই রহস্যময় ‘রাউলানে’ উৎসব সম্পর্কে

    ৫০০০ বছরের পুরনো প্রথা, জানুন হিমাচলের এই রহস্যময় ‘রাউলানে’ উৎসব সম্পর্কে

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আধুনিকতার ছোঁয়ায় মানুষের জীবন বদলে গেলেও ভারতের কিছু কিছু জায়গায় এমন কিছু ঐতিহ্য আজও পর্যন্ত বেঁচে রয়েছে, যার শিকড় খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তেমনই একটি বিস্ময়কর উৎসব হল হিমাচল প্রদেশের ‘রাউলানে’ (Raulane)। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন যে, এই উৎসব প্রায় ৫০০০ বছরের পুরনো, যা ইতিহাসের লিখিত নথিরও বহু আগে। তবে এই উৎসবের মাহাত্ম্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে অবশ্যই পড়ুন প্রতিবেদনটি।

    কোথায় হয় এই উৎসব?

    প্রথমেই জানিয়ে দিই, হিমাচল প্রদেশের কিন্নর জেলার কালপা এবং তার আশেপাশার গ্রামগুলিতে প্রতিবছর বসন্ত ঋতুর শুরুতে এই উৎসব উদযাপন করা হয়। বরফ গলতে শুরু করলেই পাহাড়ে নতুন জীবনের যেমন ছোঁয়া লাগে, ঠিক তেমনই গ্রামবাসীরা একত্রিত হয় এই বিশেষ অনুষ্ঠানে। জানা যায়, রাউলানে উৎসবের কোনও নির্দিষ্ট লিখিত ইতিহাস নেই। এমনকি কোনও ধর্মীয় গ্রন্থে উল্লেখ নেই। আর নেই কোনও কাহিনী। তবে স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন যে, এটি এমন এক সময়ের ঐতিহ্য, যখন ধর্মলোকে বিশ্বাস আর দৈনন্দিন জীবন একসঙ্গে মিশে ছিল। আর এই উৎসবের জন্ম হয়েছিল প্রকৃতি এবং অদৃশ্য শক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্যই।

    সাউনি পাহাড়ের অদৃশ্য রক্ষকের সাথে যোগসূত্র

    এদিকে এই উৎসবের মূল বিশ্বাস জড়িয়ে রয়েছে সাউনি নামের একটি পাহাড়ি আত্মা বা পরীদের সঙ্গেই। গ্রামবাসীরা মনে করেন যে, এই আত্মারা শীতকালে তাদেরকে রক্ষা করে। আর পশুপালন, ফসল এবং যাত্রাপথে সাহায্য করে। রাউলানে মূলত এই সাউনির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশেরই একটি উৎসব। এমনকি উৎসবের সবথেকে আকর্ষণ দুটো চরিত্র। প্রথমটি রাউলা যিনি একজন জ্ঞানী পুরুষ, আর দ্বিতীয় রাউলানে যিনি কনের রূপ। তবে এটিও একজন পুরুষ অভিনয় করেন। আর এই জুটি কোনও বাস্তবের বিবাহ নয়, বরং মানুষ ও প্রকৃতির মিলনের প্রতীক আর পুরুষ এবং নারীর শক্তি সমন্বয়ের প্রতীক।

    এদিকে রাউলা ও রাউলানের পোশাকে থাকে ফুলের মুকুট, ঐতিহ্যবাহী গয়না। সম্পূর্ণ ঢাকা মুখে মানুষের পরিচয় মুছে নিজেদের ঐতিহ্য রক্ষা করেন তাঁরা। আর উৎসবের দিন ঢাকঢোলের শব্দে বিশেষ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। তাতে থাকে রাউলা ও রাউলানে, জানপুন্ডুলু নামের মুখোশধারী রক্ষক, যারা অশুভ শক্তি তাড়ায় আর পুরো গ্রামবাসী। সকলে মিলে এদিন নাগিন নারায়ণ মন্দিরে যান।

    আরও পড়ুন: ভোটের আগে অন্য খেলা! শুভেন্দু হাইকোর্টে যেতেই শোরগোল

    নৃত্যের মাধ্যমে বিদায়

    তবে মন্দিরে পৌঁছে ধীরগতির একটি বিশেষ নৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। আর এই নৃত্যের মাধ্যমেই সাউনিদের বিদায় জানানো হয় এবং ভালো ফসল, সুরক্ষা ও শান্তির জন্য প্রার্থনা করা হয়। গ্রামবাসীরা বিশ্বাস করেন, এই সময় মানুষ এবং অদৃশ্য জগতের দূরত্ব কমে যায়। এমনকি আজকের দিনে যখন মোবাইল, ইন্টারনেট বা শহরের জীবনযাত্রা গ্রামাঞ্চলকেও প্রভাবিত করছে, তখন এই রাউলানে উৎসব সম্পূর্ণ ইতিহাসের ধারা বজায় রেখেছে। আর এটি শুধুমাত্র কোনও উৎসব নয়, বরং এটি ঐতিহ্য পরম্পরার এক বিশ্বস্ত প্রতীক।

     

  • ২০২৬-এ গাজন কত তারিখে? দেখুন দিনক্ষণ, পালনের নিয়ম ও মাহাত্ম্য

    ২০২৬-এ গাজন কত তারিখে? দেখুন দিনক্ষণ, পালনের নিয়ম ও মাহাত্ম্য

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলার লোক ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় চেতনার এক অনন্য মিলনকে বলা হয় গাজন উৎসব (Gajan 2026)। হ্যাঁ, এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ চড়ক পূজা, যাকে অনেক জায়গায় নীল পূজা বা হাজরা পূজা হিসেবেও পালন করা হয়। প্রতিবছর চৈত্র মাসের শেষের দিকে এই উৎসব পালিত হয়, যা একদিকে ধর্মীয় ভক্তির প্রতীক, অন্যদিকে কৃষি এবং সামাজিক জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কিন্তু ২০২৬ সালে এই গাজন উৎসব কত তারিখে পড়ছে? জানুন।

    গাজন আর চড়কের তাৎপর্য

    বলে রাখি, গাজন উৎসব মূলত ভগবান শিবের উপাসনার সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে এটিকে নীলকন্ঠ রূপে পালন করা হয়। পুরাণ অনুযায়ী, সমুদ্র মন্থনের সময় বিষ পান করে মহাদেব বিশ্বকে রক্ষা করেছিলেন। আর সেই আত্মহত্যাগ এবং সহিষ্ণুতার প্রতীক হিসেবেই এই উৎসব পালিত হয়। এই উৎসবের মাধ্যমে ভক্তরা আত্মসংযম, ত্যাগ, ধৈর্য ও সমাজ কল্যাণের প্রতি দায়বদ্ধতা শেখেন।

    গাজনের আচার এবং তপস্যা

    চৈত্র মাসের একদম শেষের দিকে ভক্তরা এই গাজন ব্রত পালন করে থাকেন। আর এই সময় তাদের জীবনযাপন আরও সরল এবং সংগ্রামপূর্ণ হয়। প্রথাগতভাবে গাজনে অগ্নিপথে হাঁটা হয়, এমনকি শরীরে ভেদন করা হয় আর চড়ক গাছে দোল খাওয়া হয়। হ্যাঁ, শরীরের বিভিন্ন অংশকে ছেদ করা হয় এই গাজন উৎসবে। কিন্তু আধুনিক সময়ে এই কঠোর আচারগুলি অনেকটাই প্রতীকী রূপেই পালিত হয়। সেখানে নিরাপত্তা আর মানবিকতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    কিন্তু হ্যাঁ, চড়ক পূজার সবথেকে প্রধান প্রতীক হল চড়ক গাছ। একটি লম্বা খুঁটি, যাকে মাটির সঙ্গে আকাশের সংযোগের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়। আর এর চারপাশে শোভাযাত্রা প্রদক্ষীণ, গান, নৃত্য এবং লোকনাট্য ইত্যাদির আয়োজন করা হয়। এমনকি এটি পুরনো বছর থেকে নতুন বছরে প্রবেশের একটি প্রতীক।

    ২০২৬-এ গাজন কত তারিখে? | Date of Gajan 2026 |

    আমরা বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী জানতে পারছি, ২০২৬ সালের ১৩ এপ্রিল নীল পূজা বা গাজন অনুষ্ঠিত হবে, আর ১৪ এপ্রিল হবে চড়ক পূজা। বাংলা ক্যালেন্ডার হিসেবে ১৩ এপ্রিল অর্থাৎ ২৯ চৈত্র, সোমবার এবং ১৪ এপ্রিল অর্থাৎ ৩০ চৈত্র, মঙ্গলবার।

    গাজনের উৎসব আর মেলা

    প্রসঙ্গত, গাজন বা চড়ক পূজা শুধুমাত্র কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং একটি সামাজিক উৎসবও বলা চলে। এই সময় চড়ক মেলা, লোক সংগীত ও যাত্রাপালা, হস্তশিল্প এবং স্থানীয় বাজার দেখা যায়। এর মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পী, কারিগর ও ব্যবসায়ীরা নতুন সুযোগ পায় এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

    এমনকি নীল পূজার দিন অনেকেই বাড়িতে বা শিব মন্দিরে আরাধনা করেন। সাধারণত শিবলিঙ্গে জল, দুধ বা পঞ্চামৃত অর্পণ করে থাকেন ভক্তরা। আর বিল্বপত্র নিবেদন করেন এবং প্রদীপ জ্বালান। এর সাথে ওম নমঃ শিবায় মন্ত্র জপ করেন আর প্রসাদ বিতরণ করে থাকেন।

    আরও পড়ুন: ২০২৬-এ অক্ষয় তৃতীয়া কত তারিখে পড়ছে? জানুন সময়সূচি, তিথি নক্ষত্র ও তাৎপর্য

    বিভিন্ন অঞ্চলে গাজন পালন

    এদিকে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও বাংলাদেশ, ত্রিপুরা এবং অসমের বরাক উপত্যকায় এই উৎসব সমান গুরুত্ব দিয়ে পালিত হয়। আর অঞ্চলভেদে আলাদা আলাদা লোকসংগীত, ঢোল বা বাদ্যযন্ত্রের ভিন্নতা এবং বিশেষ খাদ্য বা প্রসাদ বিতরণ করতে দেখা যায়। কিন্তু এর মূল উদ্দেশ্য একটাই। ভালো ফসল, সুস্বাস্থ্য ও সমাজের মঙ্গল কামনা করা।

  • ২০২৬-এ অক্ষয় তৃতীয়া কত তারিখে পড়ছে? জানুন সময়সূচি, তিথি নক্ষত্র ও তাৎপর্য

    ২০২৬-এ অক্ষয় তৃতীয়া কত তারিখে পড়ছে? জানুন সময়সূচি, তিথি নক্ষত্র ও তাৎপর্য

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ২০২৬ সালে অক্ষয় তৃতীয়া কত তারিখে পড়ছে (Akshaya Tritiya 2026)? কী রয়েছে দিনক্ষণ, শুভ সময়? আসলে এই অক্ষয় তৃতীয়া দিনটিকে সোনা কেনার জন্য সবথেকে শুভ সময় বলেই মনে করা হয়। আর এই দিনটিতে সকলে শুভ কাজ শুরু করেন। যেমন ব্যবসা থেকে শুরু করে গৃহ প্রবেশ, বিবাহ ইত্যাদি। আর অক্ষয় তৃতীয়ার দিন দেবী লক্ষ্মীর পূজা ও প্রার্থনা করলে ঘরে সুখ-সমৃদ্ধি এবং মঙ্গল ফিরে আসে বলেই বিশ্বাস করা হয়। কারণ, দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ বর্ষিত হয়। তাই ২০২৬ সালের অক্ষয় তৃতীয়া সম্পর্কে জানতে হলে পড়ুন এই প্রতিবেদনটি।

    অক্ষয় তৃতীয়া সাধারণত কবে পালিত হয়?

    জানিয়ে রাখি, প্রতিবছর বাংলা ক্যালেন্ডার বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে এই অক্ষয় তৃতীয়া পালন করা হয়। আর অক্ষয় তৃতীয়ার দিন লক্ষ্মীর পূজা করলে আর্থিক লাভ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পেতে থাকে। আর এই দিনটিকে সোনা কেনার জন্য সবথেকে শুভ সময় বলে মনে করা হয়।

    অক্ষয় তৃতীয়া ২০২৬ সময়সূচি

    বৈদিক পঞ্জিকা বলছে, বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথি শুরু হচ্ছে আগামী ১৯ এপ্রিল রবিবার। তিথি শুরু হবে সকাল ১০:৪৯ মিনিটে এবং তৃতীয়া তিথি শেষ হবে ২০ এপ্রিল সকাল ৭:২৭ মিনিটে। সনাতন ধর্ম অনুযায়ী, সূর্যোদয় থেকেই তিথি গণনা করা হয়। এর জন্য ১৯ এপ্রিল অক্ষয় তৃতীয়া পালন করা হবে। জানা যাচ্ছে, ১৯ এপ্রিল পূজার শুভ সময় সকাল ১০:৪৯ থেকে দুপুর ১২:২০ মিনিট পর্যন্ত। এই সময় যদি দেবী লক্ষীর পূজা করা হয়, তাহলে আশীর্বাদ বর্ষিত হবে।

    সোনা কেনার জন্য শুভ সময়

    আগেই বলেছি, অক্ষয় তৃতীয়ার দিন সোনা কেনা সবথেকে শুভ বলে মনে করা হয়। তাই সোনা কেনার জন্য আলাদা শুভ সময়ও রয়েছে। হ্যাঁ, ১৯ এপ্রিল সকাল ১০:৪৯ মিনিট থেকে পরের দিন অর্থাৎ ২০ এপ্রিল ভোর ৫:৫১ মিনিটের মধ্যে আপনি যে কোনও সময় সোনা কিনতে পারেন। এতে আপনার সুখ সমৃদ্ধি এবং ধন-সম্পত্তি বৃদ্ধি পাবে।

    অক্ষয় তৃতীয়া ২০২৬ তিথি নক্ষত্র

    জানিয়ে রাখি, অক্ষয় তৃতীয়ার দিন আয়ুষ্মান যোগ বিরাজ করবে। আর এদিন রাত ৮:০২ মিনিটে সৌভাগ্য যোগ শেষ হবে এবং পরের দিন ত্রিপুষ্কর যোগ বিরাজ করছে। আর এই সময় যদি কেনাকাটা করেন, তাহলে ভালো ফলাফল পাবেন। এমনকি সময়টিকে সাফল্যের ইতিবাচক দিক হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়াও কৃত্তিকা নক্ষত্রের প্রভাব পড়বে শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথির বিশেষ দিনটিতে। এর সঙ্গে কৌলব, তৈতিল এবং গর করণ যোগ বিরাজ করবে। আর জ্যোতিষীরা এই করণকে শুভ বলেই মনে করেন।

    আরও পড়ুন: ২০২৬-এ নীলষষ্ঠী কত তারিখে? দেখুন দিনক্ষণ, পালনের নিয়ম ও মাহাত্ম্য

    অক্ষয় তৃতীয়ার দিন করুন এই কাজ

    অক্ষয় তৃতীয়াকে এমনিতেই হিন্দু ধর্মে সবথেকে শুভ দিন বলে মনে করা হয়। তাই এদিন জলের পাত্র, গুড় বা পোশাক দান করার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। পাশাপাশি পূর্বপুরুষদের জন্য প্রার্থনা, স্নান বা অন্যান্য আচার অনুষ্ঠান করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। আর এইদিন দান, ধ্যান বা পূজা করলেও ইতিবাচক ফলাফল আসে। শাস্ত্র মতে, এই দিন শুরু করা যে কোনও প্রচেষ্টা ইতিবাচক ফলাফল নিয়ে আসে। আর অক্ষয় তৃতীয়ার দিন গঙ্গা পৃথিবীতে অবতরণ করেছিলেন বলেই বিশ্বাস করা হয়। সেই সূত্র অনুযায়ী, উত্তরাখণ্ডের চারধাম তীর্থযাত্রা এই দিন শুরু হয়। আর গঙ্গোত্রী এবং যমুনোত্রীর দরজা খোলা হয়। আর সাথে দেবী লক্ষ্মীর পূজার তাৎপর্য তো রয়েছেই।

  • ২০২৬-এ নীলষষ্ঠী কত তারিখে? দেখুন দিনক্ষণ, পালনের নিয়ম ও মাহাত্ম্য

    ২০২৬-এ নীলষষ্ঠী কত তারিখে? দেখুন দিনক্ষণ, পালনের নিয়ম ও মাহাত্ম্য

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। এই প্রবাদ যেন আজও সমান ভাবেই প্রাসঙ্গিক। বছরের নানা উৎসবের মধ্যে চৈত্র মাসের বিশেষ পার্বণ হল নীলষষ্ঠী (Nil Sasthi 2026)। বিশেষ করে সন্তানের মঙ্গল, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বাংলার বহু মা এই ব্রত পালন করে থাকেন। আর প্রচন্ড গরমের মধ্যেও সারাদিন উপবাস থেকে সন্ধ্যায় শিবের আরাধনার প্রথা রয়েছে এই দিন। তবে চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে নীলষষ্ঠী কত তারিখে পড়ছে, কীভাবে পালন করবেন আর কী কী মাহাত্ম্য রয়েছে? জানুন বিস্তারিত।

    সন্তানের মঙ্গল কামনায় মায়েদের ব্রত নীলষষ্ঠী

    প্রথমেই জানিয়ে রাখি, নীলষষ্ঠীর মূল উদ্দেশ্য হল সন্তানের মঙ্গল কামনা। বহু মা এদিন নির্জলা উপবাস পালন করে থাকেন। সারাদিন কিছু না খেয়ে সন্ধ্যাবেলা শিবলিঙ্গে জল অর্পণ করেন আর মহাদেবের পূজা দেন। এরপর পূজার প্রসাদ গ্রহণ করে ব্রতভঙ্গ করা হয়। আর বাংলা সাহিত্যে সন্তানের মঙ্গল কামনার জন্য এই ভাবনার উল্লেখ বহুবারই দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে মঙ্গলকাব্যের প্রার্থনায় আমাদের সেই চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা আজও ফুটে ওঠে যে “আমার সন্তান যেন থাক দুধে-ভাতে!”

    নীলষষ্ঠী ২০২৬ তারিখ ও সময়সূচি | Date And Time of Nil Sasthi 2026 |

    বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী আমরা জানতে পারছি, ২০২৬ সালের নীলষষ্ঠী বা নীল পূজা পড়বে আগামী ১৩ এপ্রিল সোমবার। আর বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী যদি তা দেখি, তাহলে এই দিনটি পড়ছে ৩০ চৈত্র ১৪৩২ সন।

    কেন নীলষষ্ঠীতে শিবের পূজা করা হয়?

    জানিয়ে রাখি, সাধারণত ষষ্ঠীতে দেবী ষষ্ঠীর পূজা করার প্রথা রয়েছে। যেমন অশোক ষষ্ঠী বা শীতল ষষ্ঠী ইত্যাদি। কিন্তু নীলষষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই নিয়ম কিছুটা আলাদা। কারণ, এদিন দেবী ষষ্ঠীর পরিবর্তে মহাদেবের আরাধনা করা হয়। লোককথা মতে, রাজা দক্ষের যজ্ঞে স্বামী শিবের অপমান সহ্য করতে না পেরে সতী আগুনে আত্মহুতি করেছিলেন। পরে তিনি রাজা নীলধ্বজের কন্যা হিসেবে পুনর্জন্ম গ্রহণ করেন। সেই জন্যই তাঁর নাম হয় নীলাবতী। আর পরবর্তীতে রাজা নীলধ্বজ তাঁর কন্যা নীলাবতীর সঙ্গে শিবের বিবাহ দিয়েছিলেন। এমনকি গ্রাম বাংলার বিশ্বাস অনুযায়ী, চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন শিব ও নীলাবতীর বিয়ে হয়েছিল। তাই এই সময় নীলষষ্ঠী, গাজন আর চৈত্র সংক্রান্তি পালন করা হয়।

    তবে এই দিনের সঙ্গে নীল শব্দটির সম্পর্ক রয়েছে মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, মহাদেবের আরেক নাম নীলকন্ঠ। আর দ্বিতীয়ত, দেবী পার্বতীর আরেক রূপ নীল চণ্ডিকা বা নীলাবতী। পুরাণ অনুযায়ী, এই দিনে শিব আর নীলাবতীর বিবাহ হয়েছিল। তাই এই দিনটিকে নীলষষ্ঠী বলা হয়। আর শিবের পূজাকে অনেক জায়গায় নীলপূজা বলা হয়।

    গাজন এবং চড়ক উৎসবের সঙ্গেও রয়েছে সম্পর্ক

    এদিকে নীলষষ্ঠীর পরের দিন চৈত্র সংক্রান্তি পালন করা হয়। আর এদিন হয় চড়কের মেলা। তারপরের দিন আবার শুরু হয় বাংলা নববর্ষ বা পয়লা বৈশাখ। চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে বাংলার বহু গ্রামে গাজনের মেলা বসে থাকে। আর ওই সময় অনেক ভক্ত শিব-পার্বতীর সাজে ঘরে ঘরে ঘুরে ভিক্ষা সংগ্রহ করে থাকেন। পাশাপাশি চড়কপূজা এবং গাজনের নানা আচারও এই সময় পালন করা হয়।

    ব্রত পালন করার কিছু নিয়ম

    নীলষষ্ঠীর ব্রত পালনার ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু প্রচলিত নিয়ম রয়েছে। প্রথমত, আগের দিন নিরামিষ খাবার গ্রহণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্রতের দিন পূজা না হওয়া পর্যন্ত উপবাস থাকতে হবে। তৃতীয়ত, সন্ধ্যাবেলায় শিব পূজার পর প্রসাদ খেয়ে উপবাস ভঙ্গ করতে হয়। পঞ্চমত, ব্রত ভঙ্গের পর ফল, সাবুদানা বা নিরামিষ খাবার গ্রহণ করতে হয়। আর অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, ভক্তি এবং নিষ্ঠার সঙ্গে এই ব্রত যদি পালন করা হয়, তাহলে সন্তানের সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু ও আশীর্বাদ লাভ করা যায়।

    আরও পড়ুন: ২০২৬-এ পয়লা বৈশাখ কত তারিখে পড়ছে? জানুন দিনটির মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য

    নীলষষ্ঠীর পূজার সামগ্রী

    নীলষষ্ঠীর দিন সাধারণত যে সমস্ত সামগ্রী ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল কাঁচা দুধ, দই, ঘি, মধু, চিনি, গঙ্গাজল, বেলপাতা, চন্দন, আতপ চাল, বেল, ধুতরা ফুল, নীল অপরাজিতা ফুল, আকন্দ ফুলের মালা, নতুন মাটির প্রদীপ এবং ঘি। এছাড়াও অনেক মা তাঁদের সন্তানের নামে আলাদা করে প্রদীপ ও মোমবাতি জ্বালিয়েও মহাদেবের কাছে প্রার্থনা করে থাকেন।

  • ২০২৬-এ পয়লা বৈশাখ কত তারিখে পড়ছে? জানুন দিনটির মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য

    ২০২৬-এ পয়লা বৈশাখ কত তারিখে পড়ছে? জানুন দিনটির মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাঙালির জীবনে বছরের সবথেকে আনন্দের দিনগুলির মধ্যে একটি হল পয়লা বৈশাখ (Poila Baisakh 2026)। তবে ২০২৬ সালের পয়লা বৈশাখ কত তারিখে পড়ছে? কী রয়েছে এই দিনটির মাহাত্ম্য আর তাৎপর্য? আসলে বাংলা ক্যালেন্ডারের প্রথম দিন হিসেবে এই দিনটি শুধুমাত্র নতুন বছরের সূচনা এমনটা নয়, বরং বাঙালি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর আবেগের মিলনক্ষেত্র। নতুন জামা কাপড় থেকে শুরু করে মিষ্টি, পরিবার পরিজনের সঙ্গে দেখা করা, নতুন কাজ শুরু করার জন্য এই দিনটিকে সবথেকে শুভ বলেই বিবেচনা করা হয়। কিন্তু এ বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের পয়লা বৈশাখের সময়সূচি সম্পর্কে জানতে হলে পড়ুন প্রতিবেদনটি।

    কী এই পয়লা বৈশাখ (Poila Baisakh)?

    প্রথমেই জানিয়ে রাখি, পয়লা বৈশাখ শব্দটির অর্থ হল বৈশাখ মাসের প্রথম দিন। অর্থাৎ, বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন বা বাংলা ক্যালেন্ডার প্রথম মাস বৈশাখের প্রথম দিন। এইদিন থেকে শুরু হয় বাংলার নতুন বছর। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেখানে বাঙালিরা বসবাস করে, সেখানে উৎসাহের সঙ্গে এই দিনটি উদযাপন করা হয়। আর বাংলাদেশেও বেশ জাকজমকপূর্ণভাবে পয়লা বৈশাখ উদযাপন করা হয়।

    পয়লা বৈশাখের ইতিহাস

    অনেক ঐতিহাসিকের মতে, বাংলা নববর্ষের প্রচলন শুরু হয়েছিল মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে। ১৫৮৪ সালে তিনি একটি নতুন ক্যালেন্ডার চালু করেছিলেন। সেটি কৃষিকাজ, কর সংগ্রহ সুবিধার জন্য চালু করা হয়েছিল বলে জানা যায়। এমনকি এই ক্যালেন্ডারটি তৈরি করা হয়েছিল হিন্দু সৌর ক্যালেন্ডার আর ইসলামিক হিজরি ক্যালেন্ডার সমন্বয়ের মাধ্যমে। সেই সময় জমিদাররা পয়লা বৈশাখে প্রজাদের মিষ্টি খাইয়ে নতুন বছরের শুভারম্ভ করতেন। আবার অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন যে, বাংলা সনের সূচনা আরও আগে। সেই সপ্তম শতকে গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের সময়।

    ২০২৬ সালের পয়লা বৈশাখ কবে পড়ছে? | Date of Poila Baisakh 2026 |

    আমরা বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী জানতে পারছি, ২০২৬ সাল অর্থাৎ চলতি বছরের বাংলা নববর্ষ বা পয়লা বৈশাখ উদযাপিত হবে আগামী ১৫ এপ্রিল, বুধবার। এই দিন থেকেই শুরু হবে বাংলার নতুন বছর।

    আসলে পয়লা বৈশাখ বাঙালিদের কাছে যে শুধুমাত্র একটি উৎসব এমনটা নয়, বরং নতুন কিছু শুরু করার প্রতীক। এই দিনটিকে শুভ মনে করা হয় বিভিন্ন কারণ। এই দিনেই অনেকে নতুন ব্যবসা শুরু করে থাকে, পুরনো দেনা পাওনা মিটিয়ে ফেলে, নতুন খাতা বই বা হিসাব শুরু করে, বাড়িতে পূজা বা প্রার্থনা করে থাকে। আর অনেক ব্যবসায়ী এই দিন হালখাতা অনুষ্ঠান করে থাকেন।

    কীভাবে উদযাপন করা হয় পয়লা বৈশাখ?

    পয়লা বৈশাখের বিশেষ দিনটি উৎসবের আমেজ দিয়ে শুরু হয়। অনেকে ভোরবেলা উঠে সূর্যোদয় দেখেন এবং মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনাও করে থাকেন। এইদিন নারীরা সাধারণত লাল পাড় সাদা শাড়ি পড়ে সাজেন। আর পুরুষরা পাঞ্জাবি এবং ধুতি পড়েন। শহর এবং গ্রামে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা বা শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। আর এদিন বাড়িতে বিশেষ খাবারও রান্না করা হয়। যেমন মাছ, মাংস, নানা রকম ভাজা, মিষ্টি ইত্যাদি। পাশাপাশি পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো আর একে অপরকে “শুভ নববর্ষ” জানানো এই দিনের প্রধান রীতি।

    আরও পড়ুন: ২০২৬-এ রাম নবমী কত তারিখে পড়ছে? দেখুন দিনক্ষণ, সময়সূচি ও পালনের নিয়ম

    আর সবথেকে বড় ব্যাপার, পয়লা বৈশাখের সময় অনেকেই নতুন পঞ্জিকা বা বাংলা বর্ষপঞ্জি সংগ্রহ করেন। কারণ, এই দিনটি থেকেই বাংলা বছর শুরু হয়। আর এই পঞ্জিকায় সারা বছরের শুভ দিন, উৎসবের সময়সূচি, বিবাহের শুভ লগ্ন বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উল্লেখিত থাকে।

  • ২০২৬-এ রাম নবমী কত তারিখে পড়ছে? দেখুন দিনক্ষণ, সময়সূচি ও পালনের নিয়ম

    ২০২৬-এ রাম নবমী কত তারিখে পড়ছে? দেখুন দিনক্ষণ, সময়সূচি ও পালনের নিয়ম

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে রামনবমী কত তারিখে পড়ছে (Ram Navami 2026)? কী রয়েছে দিনক্ষণ এবং তিথি নক্ষত্র? নবমী তিথি শুরু হবে কখন আর কখন ছাড়াবে? এমনকি সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত থেকে শুরু করে পুরো নিয়মকানুন কী আছে? আসলে রামনবমী প্রতি চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের রবমী তিথিতে বিশেষ আরম্বরের সঙ্গেই পালিত হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনটিতে ভগবান রাম মা কৌশল্যার পুত্র হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাই ভগবান রামের অবতার হিসেবে এই দিনটি পালিত হয়। বিস্তারিত জানতে অবশ্যই পড়ুন প্রতিবেদনটি।

    রাম নবমী ২০২৬ দিনক্ষণ | Date of Ram Navami 2026 |

    বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, চৈত্র মাসের শুক্ল পক্ষের নবমী তিথি অর্থাৎ রাম নবমী পড়বে ২৬ মার্চ। তবে তিথি শেষ হবে ২৭ মার্চ। অর্থাৎ ২৬ মার্চ রাম নবমী পালিত হবে। অন্যদিকে আমরা যদি বাংলা ক্যালেন্ডার দেখি, তাহলে দেখতে পাব রাম নবমী পড়ছে ২০৩২ সালের ১১ চৈত্র, বৃহস্পতিবার।

    সময়সূচি ও তিথি নক্ষত্র কী রয়েছে?

    পঞ্জিকা বলছে, নবমী তিথি শুরু হচ্ছে ২৬ মার্চ সকালে ১১:৪৮ মিনিটে এবং নবমী তিথি শেষ হচ্ছে ২৭ মার্চ সকাল ১০:০৬ মিনিটে। এদিকে রাম নবমীর মধ্যাহ্ন মুহূর্ত রয়েছে সকাল ১১:১৩ মিনিট থেকে রাত ১:৪১ মিনিট পর্যন্ত। ব্রহ্ম মুহূর্ত রয়েছে ভোর ৪:৪৪ মিনিট থেকে ভোর ৫:৩০ মিনিট পর্যন্ত। বিজয় মুহূর্ত রয়েছে দুপুর ২:২০ মিনিট থেকে দুপুর ৩:১৯ মিনিট পর্যন্ত এবং গোধূলি মুহুর্তে রয়েছে সন্ধ্যা ৬:৩৫ মিনিট থেকে সকাল ৫:৫৮ মিনিট পর্যন্ত।

    অন্যদিকে পঞ্জিকা অনুযায়ী আমরা জানতে পারছি, এদিন সূর্যোদয় হবে সকাল ৬:১৭ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত যাবে সন্ধ্যা ৬:৩৬ মিনিটে। পাশাপাশি চন্দ্রোদয় হবে দুপুর ১:০০ টায় এবং চন্দ্রাস্ত যাবে ২৮ মার্চ সকাল ৩:২১ মিনিটে।

    কেন পালিত হয় রাম নবমী?

    রাম নবমী হল হিন্দু ধর্মের একটি প্রধান উৎসব। ভগবান বিষ্ণুর সপ্তম অবতার শ্রী রামের জন্মতিথি হিসেবেই চৈত্র মাসের শুক্র পক্ষের নবমী তিথির দিন উদযাপন করা হয় এটি। সত্য এবং ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে পালিত হয় এই দিনটি, যা অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির বিজয়ের বার্তা দিয়ে থাকে। আর এই দিনটিতে রামায়ণ পাঠ, পূজা এবং রথযাত্রার মাধ্যমে অযোধ্যার রাজা দশরথ এবং রানী কৌশক্যার পুত্র রামের আবির্ভাব স্মরণ করা হয়।

    আরও পড়ুন: ৩ মার্চ রাতের আকাশে দেখা যাবে ‘ব্লাড মুন!’ কোথা থেকে দৃশ্যমান হবে চন্দ্রগ্রহণ?

    রাম নবমীর আচারবিধি

    রাম নবমী পালন করার জন্য অবশ্যই কিছু আচারবিধি মেনে চলতে হয়। সেগুলি হল—

    • সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে উঠে স্নান করে নতুন বা পরিস্কার বস্ত্র পরিধান করে উপবাস করতে হয়। অনেকে নির্জলা বা ফল জল খেয়ে পুরো দিন উপোস করে থাকেন।
    • এদিন রামচন্দ্র, সীতা দেবী, লক্ষণ এবং হনুমানজির পূজা করতে হয়।
    • জল, ফুল, ধূপ, প্রদীপ, তুলসীপাতা ইত্যাদি দিয়ে পূজা করলে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যায়।
    • রাম নবমীর দিন ‘ওম শ্রী রামচন্দ্রায় নমঃ’ মন্ত্রটি জপ করা অত্যন্ত শুভ বলেই মনে করা হয়। এছাড়া রামায়ণ বা রামরক্ষা স্রোত পাঠ করার নিয়ম রয়েছে।
    • রামের জন্ম স্মরণ করে অনেকেই বাড়িতে বা মন্দিরে ছোট রামের মূর্তিকে দোলনায় দোল খাওয়ান।
    • তবে পুজো এবং আরতির পর প্রসাদ খেয়ে বা সারাদিন উপবাসের পর সন্ধ্যাবেলা ফল বা মিষ্টি খেয়ে ব্রত ভঙ্গ করতে হয়।

    রাম নবমীর দিন খান এই বিশেষ খাবার

    রাম নবমীর বিশেষ দিনটিতে ভক্তরা উপবাস রেখে সাত্বিক নিরামিষ আহার গ্রহণ করে থাকে। তবে এই দিন ভগবান রামকে ভোগ হিসেবে সাধারণত ক্ষীর যুক্ত পানীয়, মসলাদার ঘোল, ছোলা ইত্যাদি উৎসর্গ করতে হয়। এমনকি দুপুরবেলায় লুচি, আলুভাজা বা নিরামিষ তরকারি খাওয়া যেতে পারে।