Category: রাজনীতি

  • গ্যাসের দাম বাড়তেই ক্ষুব্ধ মমতা, নারী দিবসে হাঁড়ি-কড়াই নিয়ে প্রতিবাদের ডাক মুখ্যমন্ত্রীর

    গ্যাসের দাম বাড়তেই ক্ষুব্ধ মমতা, নারী দিবসে হাঁড়ি-কড়াই নিয়ে প্রতিবাদের ডাক মুখ্যমন্ত্রীর

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আঁচ পড়েছে হেঁশেলে। আজ অর্থাৎ শনিবার থেকে ঘরোয়া এবং বাণিজ্যিক দুই রান্নার গ্যাসের দামই (Gas Cylinder Price Hike) এবার বাড়ানো হল। ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের দাম একলাফে বাড়ানো হল সিলিন্ডার প্রতি ৬০ টাকা করে। অর্থাৎ কলকাতায় রান্নার গাসের দাম বেড়ে হল ৯৩৯ টাকা। এবং ১৯ কেজির বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানো হল সিলিন্ডার প্রতি ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ দাম বেড়ে হল ১৯৯০ টাকা। আর তাই গ্যাস সিলিন্ডার দাম বৃদ্ধি নিয়ে এবার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ।

    গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ মমতার

    রিপোর্ট মোতাবেক, আজ, শনিবার ধরনা মঞ্চে রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্যাসের দাম ৬০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি জানান, রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলাদের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। গতকাল ৬০ টাকা গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। তার আগে তিনদিন আগে ৪৯ টাকা গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। বড় সিলিন্ডাররে দাম ২১০০ টাকা হয়ে গিয়েছে। আর ছোট সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার টাকা হয়ে গিয়েছে। বলছে ২১ দিন আগে থেকে বুক করতে হবে। যার বাড়িতে গ্যাস শেষ হয়ে যাবে সে কী ২১ দিন রান্না না করে থাকবে? খাবেন কী করে? মাথা খাবেন?”

    মহিলাদেরকে নিয়ে প্রতিবাদের ডাক মমতার

    কেন্দ্রীয় সরকারের এই গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমগ্র মহিলাদেরকে নিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিন প্রতিবাদের ডাক দিলেন। তিনি বলেন, “কালকে মিছিল হবে। গ্যাস নাই, রান্না নাই। গ্যাস নাই, খাবার নেই। সেই জন্য হাঁড়ি, কড়াই, বাটি, ঘটি, হাতা, খুন্তি দিয়ে প্রতিবাদ মিছিল হবে আন্তর্জাতিক মহিলা দিবসে। মানবতাকে পালন করার জন্য কাল মা বোনেরা রাস্তায় নামুন, প্রতিবাদ করুন। প্রয়োজনে কালো শাড়ি পরুন। আর হাতে এইসব রাখবেন। গ্যাসের ওভেনও পারলে কেউ নিয়ে আসবেন। পারলে কাঁচা আনাজও ঝুড়িতে আনবেন।”

    আরও পড়ুন: ধর্ষণ করে খুন, গোডাউনে লুকোনো দেহ! সাঁইথিয়ায় নাবালিকা মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

    প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাস ধরেই বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে। চলতি বছরের শুরুতেই অর্থাৎ ১ জানুয়ারি একধাক্কায় ১১১ টাকা বেড়েছিল বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম। এরপর পরের মাসে অর্থাৎ ১ ফেব্রুয়ারি আরও ৪৯ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে গ্যাসের দাম। সংশোধিত দামের তালিকা অনুযায়ী, ১ মার্চ কলকাতায় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম দাঁড়িয়েছিল ১৮৭৫ টাকা ৫০ পয়সা। এবার নতুন বৃদ্ধির পর সেই দাম বেড়ে হল ১৯৯৯ টাকা। বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছে সকলে।

  • ‘যারা তৃণমূলের সঙ্গে নয়, তারা বাঙালি নয়!’  মহুয়া মৈত্রর মন্তব্য ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

    ‘যারা তৃণমূলের সঙ্গে নয়, তারা বাঙালি নয়!’ মহুয়া মৈত্রর মন্তব্য ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) আগে ফের বিতর্কে জড়ালেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। বাঙালি কারা? সেটা বোঝাতে গিয়েই করলেন বিতর্কিত মন্তব্য। রাজ্যে SIR প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ্যে আসার পর এখনও ৬০ লক্ষ নাম ‘বিচারাধীন’ রয়েছে। আর সেই নিয়ে তুমুল অশান্তি শুরু হয়েছে রাজ্য জুড়ে। এমতাবস্থায় বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার থেকে ধর্মতলায় ধরনায় বসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সহ শতাধিক নেতা-নেত্রীরা। রাতভর মেট্রো চ্যানেলে প্রতিবাদ মঞ্চে থেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিতর্কে জড়ালেন তিনি।

    ধর্মতলায় ধরনায় মমতা

    ভোটাধিকারের লড়াইয়ে গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার, ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে প্রতিবাদ মঞ্চে ধরনা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একাধিক নেতা নেত্রী। সেখানে ‘ভোট নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার কেড়ে নিতে দেব না’ লেখা পোস্টার গলায় ঝুলিয়ে ধরনা মঞ্চে বক্তব্য রাখতে ওঠেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি বলেন, ‘‘এটা নীতি বা আদর্শের লড়াই নয়। এটা বেঁচে থাকার লড়াই। আজ কলকাতার কোনও মানুষ, যাঁরা বাসে-ট্রামে যাচ্ছেন, আর ভাবছেন, মমতা তো আবার বসেছেন (ধর্নায়), তাঁর মতো অপরাধী আর নেই। এসআইআর এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে সাধারণ শিক্ষিত মানুষও বুঝতে পারছেন না।

    ফের বিতর্কে জড়ালেন মহুয়া মৈত্র

    বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, সেখানে মহুয়া মৈত্রকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “বুদ্ধিজীবী সমাজ, শিক্ষিত ছেলেমেয়েরাও এসআইআরের পরিকল্পি গেম, চক্রান্তটা ধরতে পারছে না। সবাইকে বলছি যে এখন আজকে তৃণমূলের সঙ্গে নয়, সে কিন্তু বাঙালি নয়, তাঁর বাংলায় থাকার অধিকার নেই।’ বলে দিই, ইন্ডিয়া হুড সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। এছাড়াও একই সভা থেকে তথ্যগত অসঙ্গতি থেকে ভোটার তালিকায় নাম বাদ নিয়ে কমিশন এবং বিজেপিকেও তোপ দাগেন মহুয়া মৈত্র। এরপরই সেই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। বাঙালি জাতিকে অসম্মানের অভিযোগ ওঠে চারিদিক থেকে। এমনকি এই নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তিনি বলেন, “যাদের জীবন ও জীবিকা শাসকদল বছরের পর বছর দুর্নীতির মাধ্যমে লুট করেছে, তারা কি অন্য গ্রহের মানুষ?”

    আরও পড়ুন: গ্যাসের সংকট দেখা দিতেই গুজরাটে ১০০ কারখানায় কাজ বন্ধ, ঝুঁকির মুখে আরও ৪০০

    তরুণজ্যোতি তিওয়ারি মহুয়াকে কটাক্ষ করে জানিয়েছেন যে, “যে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী বছরের পর বছর ধরে ন্যায্য সরকারি চাকরির আশায় পড়াশোনা করে, নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হতে দেখেছে, তারা কি বাঙালি নন? অসংখ্য সাধারণ নাগরিক স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিষেবা পেতে লড়াই করে চলেছে এখনও। এমনকি মহুয়া মৈত্রের প্রতিনিধিত্বকারী সংসদীয় এলাকার লোকেরাও প্রায়শই উন্নয়ন এবং চিকিৎসা পরিকাঠামোর অভাবের অভিযোগ করেন। তাহলে তাঁরা কি চাঁদে থাকেন? আসলে বাঙালি অস্মিতা স্লোগানে পশ্চিমবঙ্গে একটি নতুন রাজনৈতিক নাটক শুরু করেছে তৃণমূল।”

  • সরকারের চাপে না অন্য কারণে পদত্যাগ? এবার মুখ খুললেন প্রাক্তন রাজ্যপাল আনন্দ বোস

    সরকারের চাপে না অন্য কারণে পদত্যাগ? এবার মুখ খুললেন প্রাক্তন রাজ্যপাল আনন্দ বোস

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) নিয়ে রীতিমত উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি। জনসংযোগ বৃদ্ধিতে একের পর এক কর্মসূচি এবং প্রচার পর্ব করেই চলেছে শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধীরা। আর এই অবস্থায় ভোটের ঠিক আগেই পদত্যাগ করলেন সি ভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose)। গত বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল পদে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। ওইদিনই রাষ্ট্রপতির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন। ভোটের আগে কেন এভাবে আকস্মিক পদত্যাগ করলেন, সেই নিয়ে তখন কিছু না জানালেও এবার মুখ খুললেন বোস।

    পদত্যাগ নিয়ে বাড়ছে জল্পনা

    পঞ্চায়েত ভোটের আগে অর্থাৎ ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন সি ভি আনন্দ বোস। মাত্র ৩ বছর হয়েছে রাজ্যপালের পদে ছিলেন। রাজভবনের নাম পাল্টে লোকভবনও করেছেন সাম্প্রতিক সময়ে। এমনকি রাজ্যে ভোট-হিংসা, দুর্নীতির মতো বিষয়ে গুরত্বপূর্ণ বিষয়ে সরব হয়েছিলেন তিনি এবং রাজ্যকে দুর্নীতিমুক্ত করার ডাকও দিয়েছিলেন। কিন্তু বিধানসভা ভোটের আগে বৃহস্পতিবার রাজ্যপালের সিংহাসন থেকে পদত্যাগ করলেন সি ভি আনন্দ বোস। কিন্তু এই পদত্যাগ স্বেচ্ছায় না কি তাঁকে পদত্যাগ করানো হল? তা নিয়ে জল্পনা বেড়েই চলেছে, এবার সব জল্পনার অবসান করে নিজেই পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে মুখ খুলেছেন প্রাক্তন রাজ্যপাল বোস।

    পদত্যাগের কারণ জানালেন বোস

    গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার, প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস একটি এক্স পোস্ট করেন। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করতে নিজের রাজ্য কেরল চলে যাচ্ছেন। পোস্টে তিনি লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গে আমার অধ্যায় শেষের পথে। বাংলার মহান মানুষ আমাকে যে ভালোবাসা ও সম্মান দিয়েছেন, তার জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আমি বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে কাজ করতে নিজের রাজ্য কেরলে চলে যাচ্ছি। সেখানে জাতীয় নেতৃত্বের নির্দেশ মেনে এই মিশনের লক্ষ্য পূরণে কাজ করব। কেরলের কল্যাণে সব দিক থেকে চেষ্টা করব। কারণ, এটা আমার নিজের রাজ্য।” পোস্টে সিভি আনন্দ বোস নিজের পদত্যাগপত্রের কপিও শেয়ার করেন।

    আরও পড়ুন: ভোটের আগে রদবদল, ৭ IAS অফিসার সহ KMC-র কমিশনারকেও সরাল নবান্ন

    নয়া রাজ্যপালকে শুভেচ্ছা

    বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যপাল পদে বসানো হয়েছে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর এন রবিকে। সিভি আনন্দ বোস তাঁকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি লেখেন, “আমার অত্যন্ত প্রিয় বন্ধু এবং বিশিষ্ট প্রশাসক আর এন রবিকে শুভেচ্ছা জানাই। তিনি আমার উত্তরসূরি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের দায়িত্ব নেবেন। তিনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমিত শাহকে ধন্যবাদ জানিয়ে আরও বলেন, “এই নতুন দায়িত্বকে আমি আমার পবিত্র কর্তব্য হিসেবে দেখছি। কেরলের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি সুযোগ হিসেবে দেখছি। আমি মানুষের জন্য, মানুষের সঙ্গে এবং মানুষের পাশে থেকে কাজ করব।” তবে কেরলে তিনি ঠিক কোন পদে কাজ করবেন, সে বিষয়ে কিছু জানাননি।

  • মুখ্যমন্ত্রীর ধরনা মঞ্চের সামনে বিক্ষোভ পার্শ্বশিক্ষকদের, বিজেপির কাছে যেতে বললেন মমতা

    মুখ্যমন্ত্রীর ধরনা মঞ্চের সামনে বিক্ষোভ পার্শ্বশিক্ষকদের, বিজেপির কাছে যেতে বললেন মমতা

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের প্রতিবাদে আজ ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ধরনা মঞ্চের সামনেই হঠাৎ করে তৈরি হয় উত্তেজনা। বেতন বৃদ্ধি এবং স্থায়ীকরণের দাবিতে কয়েকজন পার্শ্ব শিক্ষক প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। আর পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীকেই হস্তক্ষেপ করতে হয়। পরে পুলিশ এসে বিক্ষোভকারীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।

    ধরনা মঞ্চের সামনে বিক্ষোভ

    আসলে শুক্রবার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে অবস্থান বিক্ষোভে বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।রাজ্যের ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর এর প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক সংসদ থেকে শুরু করে বিধায়ক আর রাজ্যের মন্ত্রীরা। এই সময় কয়েকজন পার্শ্ব শিক্ষক হঠাৎ করেই মুখ্যমন্ত্রীর মঞ্চের সামনে এসে নিজেদের দাবি জানিয়ে প্ল্যাকার্ড দেখাতে থাকেন আর বেতন বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দেন। তাদের আচমকা এই বিক্ষোভে কার্যত পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়।

    তবে মঞ্চে বসেই বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তিনি বলেন, “শান্ত হয়ে থাকুন। এখানে রাজনীতি করবেন না। বিজেপির কথায় মোটেও এসব করবেন না। যদি কিছু বলার থাকে তাহলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কিংবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে গিয়েই বলুন।” এরপর তিনি পুলিশের উদ্দেশ্যে নির্দেশ দেন যাতে বিক্ষোভকারীদের শান্তভাবেই অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়।

    কেন বিক্ষোভে নামেন পার্শ্ব শিক্ষকরা?

    আসলে গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের পার্শ্ব শিক্ষকরা নিজেদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলন চালাচ্ছে। মূলত বেতন বৃদ্ধি, চাকরির স্থায়ীকরণের দাবিতে তারা আন্দোলন নেমেছেন। আর আদালতের নির্দেশে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিকাশভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভেও বসেছেন পার্শ্বশিক্ষকরা। এর পাশাপাশি বৃহস্পতিবার কালীঘাট অভিযানের ডাক দিয়েছিল শিক্ষক সংগঠনের ঐক্যমঞ্চ। সেদিন শিয়ালদা থেকে মিছিল শুরু হয়েও কলেজ স্ট্রিট এলাকায় পৌঁছনোর পর পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয়। আর তারপর সেখানেই শুরু হয় অবস্থান বিক্ষোভ।

    আরও পড়ুন: অলির দুর্গে জয়, নেপালের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন ভারতবিরোধী র‍্যাপার! কে এই বলেন্দ্র শাহ?

    আন্দোলনকারী পার্শ্বশিক্ষকদের দাবি, ২০০৯ সালে তাদের আন্দোলনের মঞ্চে এসে স্থায়ীকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালে মন্ত্রিসভার বৈঠকেও ধাপে ধাপে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ১৫ বছর কেটে গেলেও সেই সমাধান হয়নি। আর ২০২৪ এর মার্চ মাসে রাজ্যের শিক্ষা দফতরের তরফ থেকে পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী প্রাথমিক স্তরে পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন ২৮ হাজার টাকা এবং উচ্চ প্রাথমিক স্তরে ৩২ হাজার টাকা করার কথা হয়েছিল। তবে সেই দাবিও মান্যতা দেওয়া হয়নি।

  • অলির দুর্গে জয়, নেপালের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন ভারতবিরোধী র‍্যাপার! কে এই বলেন্দ্র শাহ?

    অলির দুর্গে জয়, নেপালের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন ভারতবিরোধী র‍্যাপার! কে এই বলেন্দ্র শাহ?

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: নেপালের রাজনীতিতে (Nepal Politics) এবার বিরাট বদল। সাম্প্রতিক নির্বাচনের ভোট গণনায় দেখা যাচ্ছে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলিকে পেছনে ফেলেই এগিয়ে গেলেন কাঠমাণ্ডুর প্রাক্তন মেয়র বলেন্দ্র শাহ (Balendra Shah)। বিশেষ করে অলির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঝাপা কেন্দ্রেই তিনি তাঁকে পিছনে ফেলেছেন। হ্যাঁ, বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ার পরেই রাত থেকে শুরু হয়েছে গণনা। আর গণনার শুরুতেই যা ফলাফলের ইঙ্গিত রয়েছে, তাতে নেপালের রাজনীতিতে এবার নতুন অধ্যায় সূচনা হবে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

    কে এই বলেন্দ্র শাহ?

    জানিয়ে রাখি, বলেন্দ্র শাহ একজন জনপ্রিয় র‍্যাপার হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু পরে ধীরে ধীরে রাজনীতির ময়দানে প্রবেশ করেন। পড়াশোনার ক্ষেত্রে তাঁর উল্লেখযোগ্য সাফল্যও রয়েছে। একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যায়, হিমালয়ান হোয়াইট হাউস ইন্টারন্যাশনাল কলেজ থেকে তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। তারপর কর্নাটকের বিশ্বেশ্বরায়া টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। আর বর্তমানে কাঠমাণ্ডু ইউনিভার্সিটিতে তিনি পিএইচডি করছেন। পাশাপাশি তিনি একসময় টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০২২ সালে তিনি নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে মেয়র হিসেবে নিয়োগ নির্বাচিত হন।

    এদিকে নেপালের তরুন প্রজন্মের মধ্যে বলেন্দ্র শাহ জনপ্রিয় একজন নাম। বিশেষ করে সাম্প্রতিক চলা জেন-জি আন্দোলনের সময় তিনি প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়েছিলেন। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা দ্রুতই বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছিল। সেই আন্দোলনের পরেই নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয় এবং পরে কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন নেপাল সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি।

    বলে রাখার বিষয়, ঝাপা কেন্দ্রকে দীর্ঘদিন ধরেই কেপি শর্মা অলির শক্তপোক্ত ঘাঁটি হিসেবে ধরা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সেই কেন্দ্রেই প্রাথমিকভাবে এগিয়ে রয়েছেন বলেন্দ্র শাহ। আর যদি শেষ পর্যন্ত এই ফলাফল বজায় থাকে, তাহলে নেপালের রাজনীতিতে বিরাট চমক আসবে তাও বলার অপেক্ষা রাখে না। অনেকেই মনে করছেন যে, ভবিষ্যতে তাঁকেই প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত করা হতে পারে।

    আরও পড়ুন: যুদ্ধের প্রভাব গ্যাসে! কলকাতায় বন্ধ হল LPG-র গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা

    ভারত-নেপাল সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ

    এদিকে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে আরও এক জল্পনা। কারণ, বলেন্দ্র শাহকে অনেকেই ভারত বিরোধী বলে মনে করে থাকেন। অতীতে তিনি ভারতের কিছু অঞ্চলকে গ্রেটার নেপালের অংশ হিসেবে দাবি করেন। এমনকি ২০২৩ সালের জুন মাসে নিজের দফতর থেকে একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন তিনি। আর সেখানে ভারতের কিছু এলাকাকে নেপালের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল, যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিতর্ক হয়। তবে এ নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া এসেছে। দিল্লির বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন যে, ভারত সব সময় নেপালের শান্তি এবং উন্নয়ন চায়। নতুন সরকার গঠিত হলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

  • “দাবি না মানলে বাংলাদেশ-নেপালের মতো আন্দোলন” তীব্র হুঁশিয়ারি তৃণমূল নেতৃত্বের

    “দাবি না মানলে বাংলাদেশ-নেপালের মতো আন্দোলন” তীব্র হুঁশিয়ারি তৃণমূল নেতৃত্বের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) শুরু হতে আর বেশিদিন বাকি নেই, কিন্তু এখনও রাজ্যে SIR (SIR In Bengal) বিতর্ক যেন কিছুতেই কাটছে না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি SIR এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই অশান্তি যেন চরম আকার নিয়েছে। এই অবস্থায় কমিশনের বিরুদ্ধে আজ থেকেই ধর্মতলায় ধর্নায় বসেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এক এক করে বিধায়ক নেতা মন্ত্রী উপস্থিত হচ্ছে এই সভায়। আর এবার SIR বিতর্ক নিয়ে দলের সংখ্যালঘু সেলের তরফে রীতিমতো বাংলাদেশের অনুকরণে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিল তৃণমূল নেতৃত্ব।

    বাংলাদেশ বা নেপালের মতো আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

    রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ির বাহাদুর অঞ্চলে তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের তরফে একটি সভা করা হয়। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের অঞ্চল সভাপতি মেহেবুব আলম, উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল মাদারের জেলা কমিটির সদস্য পল হাসান প্রধান। এদিন SIR কর্মসূচিতে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছিল সেই সময় তৃণমূল নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দেয় যে আগামীতে যে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ হতে চলেছে, সেই তালিকায় যদি সব জীবিত ভোটারদের নাম না থাকে তাহলে জলপাইগুড়ি জেলায় ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন করতে দেবেন না তাঁরা। এখানে শেষ নয়, হুঁশিয়ারি দিয়ে শাসকদল জানায় যে,“ প্রয়োজনে বাংলাদেশ বা নেপালের মতো আন্দোলন করা হবে। তখন যদি কেন্দ্রীয় বাহিনী এগিয়ে আসে তবে তাদের সঙ্গেও সরাসরি সংঘাতের পথে যেতে পিছপা হব না।”

    কটাক্ষ বিজেপির

    বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল নেতাদের এই হুনসমূলক মন্তব্যকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। যা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য সৌজিত সিংহ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “দেশে বাংলাদেশের মত জামাতের সরকার নেই। তাই তৃণমূল নেতাদের সংযত হয়ে মন্তব্য করাই ভালো।” পাশাপাশি তিনি SIR এ ভোটার তালিকায় বিচারাধীন নামের প্রসঙ্গে বলেন, “অনেক বিজেপি নেতা কর্মীদের নামও বিচারাধীন রয়েছে। তাই তাঁরাও উদ্বিগ্ন। কিন্তু প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে না পারলে নাম অবশ্যই কাটা যাবে। তাই সকলে চিন্তামুক্ত থাকুন এবং নির্বাচন কমিশনারের ওপর বিশ্বাস রাখুন।”

    আরও পড়ুন: ভোটাধিকার রক্ষায় ধরনায় মমতা, ধর্মতলায় কতদিন চলবে এই কর্মসূচি?

    প্রসঙ্গত, এসআইআর শুরুর আগে জলপাইগুড়িতে মোট ভোটার ছিল ১৯১৪০২২ জন। কিন্তু এসআইআর শুরুর পর মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটার হিসেবে বাদ যায় ১,৩৩,১০৭ জনের নাম। এরপর লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সিতে ডাক পান ২,৭৫,৪০২ জন ভোটার। অন্যদিকে, আনম্যাপ ক্যাটাগরিতে ছিলেন ৭৭৪৪০ জন ভোটার। পরে শুনানি পর্ব মিটলে শুনানির পর এবার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ল ৩২,৭৮৫ জন ভোটারের। এবং বর্তমানে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৪৮৯১৪ জন। এখন দেখার সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায় কী ফলাফল বেরোয়।

  • ভোটাধিকার রক্ষায় ধরনায় মমতা, ধর্মতলায় কতদিন চলবে এই কর্মসূচি?

    ভোটাধিকার রক্ষায় ধরনায় মমতা, ধর্মতলায় কতদিন চলবে এই কর্মসূচি?

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) প্রাক্কালে ক্রমেই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। জেলায় জেলায় প্রচার এবং জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে দিন রাত কাজ করে চলেছে নেতা মন্ত্রীরা। এমতাবস্থায় আজ অর্থাৎ শুক্রবার থেকে কলকাতার ধর্মতলায় ধরনায় বসলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মেট্রো চ্যানেলে ইতিমধ্যেই মঞ্চ তৈরি হয়ে গিয়েছে। দল বেঁধে এক এক করে বিভিন্ন জেলা থেকে তৃণমূলের বিধায়ক এবং নেতারাও জড়ো হতে শুরু করেছেন। বিজেপি যেখানে জেলায় জেলায় ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু করেছে সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর ধর্মতলায় এই ধরনা বসা নিয়ে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি।

    ধরনায় বসলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    এসআইআর নিয়ে শুরু থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করে চলেছেন, এমনকি এই নিয়ে মামলাও দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টে, কিন্তু তার পরেও রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিবেচনাধীন বলে প্রকাশ করেছে কমিশন। যা নিয়ে রীতিমত তীব্র সংঘাত তৈরি হয়েছে, তাই এরই প্রতিবাদে আজ থেকে ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিত থাকার কথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। এছাড়াও ধরনা মঞ্চে থাকবেন SIR প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়া ভোটার, এবং ‘মৃত’ বলে চিহ্নিত হওয়া ভোটারেরা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে কতদিন থাকবে এই ধরনা সভা।

    কতদিন থাকবে এই ধরনা সভা?

    তৃণমূলের তরফে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে যে, এই ধরনা শুধু একদিনের জন্য নাও হতে পারে। সম্ভাবনা রয়েছে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এই ধরনের কর্মসূচি চালানোর। আর সেই কারণে মন্ত্রী, মুখপাত্র এবং দলের বক্তাদের কয়েকদিনের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। কারণ, ধরনা মানে তো শুধু বসে থাকা নয়। লাগাতার সেই মঞ্চ থেকেই ধারাবাহিকভাবে নেতারা বক্তব্য রাখবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও যেকোনো সময় তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করবেন। যদিও এর আগেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখনোই একদিনের জন্য ধরনা দেননি, তাই এবারেও যে এটি হবে না তা সকলের বিশ্বাস। এদিকে এই নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিজেপি।

    আরও পড়ুন: মনোনয়ন ঘিরে একাধিক বিভ্রান্তি! স্ক্রুটিনির পর অবশেষে গৃহীত রাহুল সিনহার ফর্ম

    বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধরনায় বসলেও কোনও ফারাক পড়বে না। এই সরকারের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। তৃণমূল আর ফিরবে না। প্রসঙ্গত, রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে। সেক্ষেত্রে এই নিয়ে আসন্ন ভোট শুরুর আগে তৃণমূলের এই ধরনা উদ্যোগ এক বিশেষ পরিকল্পনা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের দাবি এগুলি আসলে রাজ্যের নানা বিতর্ক এবং সরকারবিরোধী অভিযোগ থেকে নজর ঘোরানোর এক স্ট্র্যাটেজি।

  • মনোনয়ন ঘিরে একাধিক বিভ্রান্তি! স্ক্রুটিনির পর অবশেষে গৃহীত রাহুল সিনহার ফর্ম

    মনোনয়ন ঘিরে একাধিক বিভ্রান্তি! স্ক্রুটিনির পর অবশেষে গৃহীত রাহুল সিনহার ফর্ম

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আগামী ১৬ মার্চ রাজ্যসভা নির্বাচন (Rajya Sabha Election)। দেশের ১০টি রাজ্যের মোট ৩৭টি রাজ্যসভা আসনে ভোট হবে। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি আসনও রয়েছে। তৃণমূলের তরফে কে কে নির্বাচনে নামবেন তাঁদের নাম ঘোষণা হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। বিজেপিও প্রার্থী হিসেবে রাহুল সিনহার নাম ঘোষণা করেছে। এদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজ্যসভার টিকিট মিললেও মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে একেবারে ফেসাদে পড়লেন রাহুল (Rahul Sinha)। রীতিমত নাম বাদ পড়ার জোগাড় তৈরি হয়েছিল। অবশেষে আজ রাজ্যসভা নির্বাচনের মনোনয়ন পরীক্ষায় পাশ করলেন রাহল সিনহা! নথির সমস্যা মিটতেই গৃহীত হল তাঁর মনোনয়ন পত্র (Nomination Files)।

    নথির স্ক্রুটিনি শুরু বিধানসভায়

    রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ রাজ্যসভা নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন বঙ্গের পাঁচ জন প্রার্থী অর্থাৎ তৃণমূলের পক্ষে চার জন এবং বিজেপির পক্ষে এক জন প্রার্থী। তৃণমূলের পক্ষে মনোনয়ন জমা দেন প্রাক্তন আইপিএস রাজীব কুমার, অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক, আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী, এবং রাজ্যের মন্ত্রী তথা গায়ক বাবুল সুপ্রিয়। অন্য দিকে, ভ্রান্তি-বিলম্ব কাটিয়ে বিজেপির তরফে একমাত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন রাহুল সিনহাও। কিন্তু রাহুল সিনহার মনোনয়ন পত্র নিয়ে একটি সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাই আজ, শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে সেই নথির স্ক্রুটিনি শুরু হয়েছে।

    মনোনয়নপত্র পূরণে ভুলভ্রান্তি রাহুলের

    গতকাল, মনোনয়নপত্র পূরণে বিস্তর ভুলভ্রান্তি দেখা গিয়েছিল বিজেপির একমাত্র প্রার্থী রাহুল সিনহার। মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে হলফনামা বা এফিডেভিট। মনোনয়নপত্রতে যেখানে স্পষ্ট করে ‘Not Applicable’ লেখার কথা ছিল, সেখানে লেখা হয়েছে সংক্ষেপে ‘N/A’। এছাড়াও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী হলফনামার নির্দিষ্ট কিছু জায়গা হাতে লেখার নির্দেশ থাকলেও, সেটা ‘প্রিন্টেড’ হয়ে এসেছে। তাই শেষ মুহূর্তে তাই বেশ সমস্যায় পড়েছিলেন তিনি। এরপর দফায় দফায় নতুন করে ফর্ম পূরণ করেন তিনি। পরে প্রাথমিকভাবে মনোনয়পত্র গৃহীত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও একটি নথিতে সমস্যা দেখা যায়। জানানো হয়েছে, যে নথি তিনি দিতে ভুল করেছেন, তা স্ক্রুটিনি শুরুর আগেই জমা করতে হবে। আর এসবের মাঝেই আজ বিধানসভায় হাজির হন CEO মনোজ আগরওয়াল।

    আরও পড়ুন: দোলে রেকর্ড মদ বিক্রি উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গে, কোন জেলায় কত? দেখুন পরিসংখ্যান

    গৃহীত হল রাহুলের মনোনয়ন পত্র

    রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকা থেকে যাতে নাম বাদ না যায় তাই তড়িঘড়ি স্ক্রুটিনির আগে জরুরি নথি জমা দিতে বিধানসভায় এসেছিলেন রাহুল সিনহা। অবশেষে মেটে সেই নথির সমস্যা। বহু ঝামেলা ঝক্কির পর গৃহীত হল রাহুলের মনোনয়ন পত্র। স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে একগাল হাসিমুখ নিয়ে বিধানসভা থেকে বেরলেন রাহুল। সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, “কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে ৯ তারিখে সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। আমি খুব খুশি। এরপর যা কাজ, দায়িত্ব পাব তা পূরণ করব।” এদিকে বিধানসভায় মনোজ আগরওয়াল আসা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। একাংশের দাবি ছিল, রাহুলকে বিপন্মুক্ত করতেই ছক ভেঙে বিধানসভায় হাজির হয়েছেন মনোজ। তবে সেই নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি বিজেপি প্রার্থী।

  • লক্ষ্মীর ভাণ্ডার অতীত! বাংলার মহিলাদের জন্য গঠন হবে ৫৭০০ কোটির তহবিল

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার অতীত! বাংলার মহিলাদের জন্য গঠন হবে ৫৭০০ কোটির তহবিল

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) শুরু হতে আর বেশিদিন বাকি নেই। অপেক্ষা শুধু কমিশনের দিনক্ষণ ঘোষণার। এদিকে এখনই জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে উঠে পরে লেগেছে শাসক দল থেকে শুরু করে বিরোধীরা। এমতাবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে একাধিক জনমুখী প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী ইস্তেহার (BJP Manifesto) তৈরির প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি। মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে বিরাট তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি দিল বিজেপি।

    বিজেপির ইস্তেহারে একাধিক চমক

    বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে টার্গেট করে জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসরা যেমন উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে সাধারণের ঘরে ঘরে ঠিক তেমনই বিজেপিও ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু করেছে বিজেপি। একাধিক জেলায় শুরু হয়েছে দলীয় কর্মীদের ‘পরিবর্তন যাত্রা’। এমতাবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে একাধিক জনমুখী প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী ইস্তাহার তৈরির প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি। আর সেখানেই সরকারি কর্মচারী, যুবসমাজ এবং মহিলাদের জন্য একাধিক ঘোষণা করা হতে চলেছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, পরিবর্তনের বাংলায় মহিলাদের জন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের থেকেও বিরাট তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি।

    ৫,৭০০ কোটি ফান্ডের তহবিল নারীদের জন্য

    জানা গিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের মত বিজেপিও নারী উন্নয়নকে নির্বাচনী অগ্রাধিকারের তালিকায় কার্যত সবার ওপরেই রেখেছে। তাইতো মহিলাদের জন্য প্রায় ৫,৭০০ কোটির একটি বিশেষ তহবিল গঠনের কথাও ঘোষণা করতে পারে বিজেপি। যেখানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দৌলতে যেখানে মহিলাদের প্রতিমাসে ১৫০০/১৭০০ করে মেলে। সূত্রের খবর, এই তহবিল ব্যবহার করা হবে জীবিকা প্রকল্প, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে শক্তিশালী করা, শিক্ষায় সহায়তা এবং মহিলাদের নিরাপত্তা ও আর্থিক স্বনির্ভরতা বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগে। শুধু মহিলাদের জন্য নয়, যুবসমাজের জন্য নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। শূন্য পদে স্বচ্ছ ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছে দল।

    আরও পড়ুন: সারদা, রোজভ্যালির পর বাংলায় আরেক চিটফাণ্ড কেলেঙ্কারি! পূর্বস্থলী! কোটি কোটি টাকা তছরুপ

    সরকারি কর্মীদের জন্য আনা হবে নানা চমক

    প্রসঙ্গত, বিজেপির পেশ করা ইস্তেহারে থাকবে সরকারি কর্মীদের জন্যও রয়েছে বড় চমক। সূত্রের দাবি, ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গের লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারীর বেতন ও ভাতা কেন্দ্রের কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধন করা হবে। এবং কর্মীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা হবে। আসলে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকে সরকারি কর্মীদের আন্দোলন, ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে পড়তে হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে। সেই সুযোগকে তাই কাজে লাগিয়ে ইস্তাহারে বড় চমক এনেছে বিজেপি।

  • পদত্যাগ পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আনন্দ বোসের, কারণ কী?

    পদত্যাগ পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আনন্দ বোসের, কারণ কী?

    সহেলি মিত্র, কলকাতা: পদত্যাগ করলেন সি ভি আনন্দ বোস (C. V. Ananda Bose)। ২০২৬ এর বিধানসভা ভোটের মুখে বাংলার রাজ্যপালের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন আনন্দ বোস। ইতিমধ্যে নিজের ইস্তফাপত্র দিল্লিতে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে খবর।

    পদত্যাগ করলেন সি ভি আনন্দ বোস

    বাংলার রাজ্যপাল হিসেবে সিভি আনন্দ বোস সাড়ে তিন বছর দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগ করেছেন। ভোটের মুখে তাঁর এহেন পদত্যাগকে মোটেও ভালো চোখে দেখছে না রাজনৈতিক মহল। সূত্রের খবর, বাংলার অস্থায়ী রাজ্যপাল হচ্ছে আরএন রবি। পদত্যাগের কারণ প্রসঙ্গে সি ভি আনন্দ বোস জানিয়েছেন, ‘রাজ্যপাল হিসেবে যথেষ্ট সময় কাটিয়েছি।’ এদিকে রাজ্যপালের পদত্যাগ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি যে এহেন পদক্ষেপের জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না তা তাঁর প্রতিক্রিয়াতেই স্পষ্ট।

    কী প্রতিক্রিয়া মুখ্যমন্ত্রীর?

    মুখ্যমন্ত্রী নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘রাজ্যপাল সি. ভি. আনন্দ বোসের হঠাৎ পদত্যাগের সংবাদে আমি হতবাক এবং গভীরভাবে চিন্তিত। এই পদত্যাগের পিছনের কারণগুলো এই মুহূর্তে আমার কাছে জানা নেই। তবে, বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, যদি রাজ্যপালকে আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে কিছু রাজনৈতিক স্বার্থে কাজ করার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বারা কিছু চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছে, তাহলে আমি অবাক হব না।’

    মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে মাত্র জানিয়েছেন যে শ্রী আর.এন. রবি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ হচ্ছেন। এই বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত রীতিনীতির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি কখনো আমার সঙ্গে পরামর্শ করেননি। এ ধরনের পদক্ষেপ ভারতের সংবিধানের আত্মাকে ক্ষুণ্ন করে এবং আমাদের ফেডারেল কাঠামোর ভিত্তিকেও আঘাত দিয়েছে। কেন্দ্রকে সহযোগিতামূলক ফেডারেলিজমের নীতি সম্বন্ধে সম্মান দেখাতে হবে এবং একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।’