Category: রাজনীতি

  • ফাইল আটকে নবান্নেই? ১০০ দিনের টাকা বন্ধের আসল কারণ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি

    ফাইল আটকে নবান্নেই? ১০০ দিনের টাকা বন্ধের আসল কারণ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্রমেই এগিয়ে আসছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন, তাই স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য জুড়ে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্র এবং রাজ্যের মধ্যে সংঘাত যেন কিছুতেই থামছে না। কখনও আবাস যোজনা প্রকল্প তো কখনও আবার MGNREGA-এর প্রকল্প (MGNREGA Scheme)। আর এই পরিস্থিতির মাঝেই এবার মমতা সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরলেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য।

    ১০০ দিনের কাজ নিয়ে তুমুল বিতর্ক

    দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে ১০০ দিনের কাজে রাজ্য সরকারকে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও এই নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। কখনও এর বিরুদ্ধে মামলা করে হাইকোর্টে যেতে হয়েছে তো কখনও আবার সুপ্রিম কোর্টে। আদালত জানিয়ে ছিল, দুর্নীতির তদন্ত চলুক, তবে সাধারণ মানুষের টাকা আটকে রাখা যাবে না। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কেন্দ্রকে শর্তও ঠিক করতেও বলেছিল আদালত। কিন্তু কেন্দ্রের দেওয়া শর্তগুলি মানতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই সেই নিয়ে ঝামেলার শেষ নেই। আর এই অবস্থায় লোকসভার তরফে দেওয়া এক চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরলেন অমিত মালব্য।

    MGNREGA নিয়ে নয়া তথ্য ফাঁস

    সম্প্রতি তৃণমূলের এক সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল MGNREGA নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন তুলে ধরেছিলেন। তিনি জানতে চেয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প তহবিল দীর্ঘ সময় ধরে আটকে কেন রাখা রয়েছে। এবং কবে বরাদ্দ টাকা মিলবে সেই নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। অবশেষে তার জবাব পেয়ে ফ্যাসাতে পড়ল শাসকদল। রিপোর্ট মোতাবেক, আজ, বুধবার, বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লোকসভার সেই প্রশ্নের জবাবের তথ্য পোস্ট করেন। যেখানে স্পষ্ট জানানো হয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার MGNREGA-এর জন্য শ্রম বাজেট প্রস্তাব জমা দেয়নি। আর এই নিয়ে বেশ শোরগোল শুরু হয়। অমিত কটাক্ষ করে জানান তাহলে বোঝাই যাচ্ছে বাংলার লক্ষ লক্ষ দরিদ্র শ্রমিকের কাছে MGNREGA মজুরি পৌঁছানো থেকে আসলে কে আটকাচ্ছে?

    আরও পড়ুন: গ্যাস সংকটের প্রভাব এবার পরিবহণে! CNG-র দাম বাড়ায় কলকাতায় বাড়ছে অটোভাড়া, কতটা?

    প্রসঙ্গত, শুরু থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে ১০০ দিনের কাজ নিয়ে একাধিক অভিযোগ করে এসেছে। তাঁদের এও বলা হয়েছিল যে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে ১০০ দিনের কাজে নাকি অধিক বরাদ্দ দেওয়া হয়, কিন্তু মমতা সরকার ঠিকভাবে কাজ করেও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কোনো সুবিধা পায়নি। এদিকে লোকসভার এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপির তরফে নানাবিধ মন্তব্য করা হলেও এখনও তৃণমূলের তরফে কিছু জানানো হয়নি।

  • ভবিষ্যতের মুখ কমরেডের বিরুদ্ধে ছাত্রীর যৌন হেনস্থার অভিযোগ! অস্বস্তিতে SFI

    ভবিষ্যতের মুখ কমরেডের বিরুদ্ধে ছাত্রীর যৌন হেনস্থার অভিযোগ! অস্বস্তিতে SFI

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বেশ তপ্ত পরিস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে। জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে রীতিমত মরিয়া হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক দলগুলি। এমতাবস্থায় সিপিএমের ছাত্র সংগঠন SFI এর সদস্যের বিরুদ্ধে ফের যৌন হেনস্তার অভিযোগ উঠে এল। জানা গিয়েছে কলকাতার এক SFI ছাত্রী সরাসরি সংগঠনেরই এক ছাত্রনেতার (SFI Leader) বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। নির্বাচনের আবহে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসায় সংগঠনের অন্দরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

    একাধিক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছাত্রনেতার

    অভিযোগকারিণীর দাবি, অভিযুক্ত ছাত্রনেতা দীর্ঘদিন ধরে নাকি তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে জীবন কাটানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। এখানেই শেষ নয়, তাঁদের মধ্যে নাকি শারীরিক সম্পর্কও তৈরি হয়। কিন্তু পরে অভিযোগকারিণী জানতে পারেন, একই সময়ে ওই ছাত্রনেতা একাধিক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। এরপর আচমকাই সম্পর্ক থেকে সরে গিয়ে ওই ছাত্রনেতা অভিযোগকারিণীকে ‘ইন্টেলেকচুয়ালি নিম্নমানের’ বলে অপমান করেন। জেলা নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও তাঁকে বলা হয়, “এসব করে কিছু হবে না।” জানা গিয়েছে, গোটা ঘটনার পর অভিযোগকারিণী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

    বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা

    সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, অভিযুক্ত ওই ছাত্রনেতা কলকাতা জেলার উত্তরের দিকে এক অঞ্চলিক কমিটির সদ্য প্রাক্তন সম্পাদক। তাঁকে নাকি উত্তর ও মধ্য কলকাতার বাম নেতৃত্বের একাংশ নির্বাচনে ভবিষ্যতের মুখ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। আর এই অবস্থায় যৌন নির্যাতনের মত ভয়ংকর অভিযোগ দলকে অস্বস্তির মধ্যে ফেলেছে। সংগঠনের জেলা সম্পাদক ও সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁরা নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার মাধ্যমে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এদিকে আজ অর্থাৎ ১১ মার্চ থেকে ১৩ মার্চ কলকাতা জেলার এসএফআইয়ের জেলা সম্মেলন হওয়ার কথা। কিন্তু এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সম্মেলনের ব্যাপারে একাধিক প্রশ্ন উঠছে।

    আরও পড়ুন: DA নিয়ে এবার নয়া পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের, ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল কর্মীদের

    এর আগেও গত কয়েক বছরে বাম সংগঠনের ভেতরে একাধিকবার যৌন হেনস্থার অভিযোগ সামনে এসেছে। কয়েক মাস আগে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের দলীয় দফতরেই এক মহিলা কর্মী প্রকাশ্যে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন। অন্যদিকে দমদম-লেকটাউন এলাকার এক এসএফআই নেতার বিরুদ্ধে এক মহিলা নেত্রী মদ্যপানের প্রস্তাব দেওয়া, ফাঁকা ফ্ল্যাটে ডাকা এবং শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর প্রাক্তন মন্ত্রী সুশান্ত ঘোষকে পদ ছাড়তে হয়েছিল। এখন দেখার অভিযুক্ত এই ছাত্র নেতার বিরুদ্ধে দল কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

  • টিম ইন্ডিয়ার লজ্জা লাগা উচিৎ! বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে মন্দিরে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ কীর্তি আজাদ

    টিম ইন্ডিয়ার লজ্জা লাগা উচিৎ! বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে মন্দিরে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ কীর্তি আজাদ

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রবিবার নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে তৃতীয়বারের জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছিল ভারত, খুশিতে মাতোয়ারা হয়ে গিয়েছিল গোটা টিম। এরপর ট্রফি (T20 World Cup Trophy) জিতেই সেখানকার হনুমান মন্দিরে পুজো দিতে গেলেন টিম ইন্ডিয়ার হেডকোচ গৌতম গম্ভীর। আর তাতেই রেগে কাঁই ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কীর্তি আজাদ। প্রশ্ন তুললেন, মহম্মদ সিরাজ তো মসজিদে কিংবা সঞ্জু স্যামসন তো চার্চে নিয়ে যাননি বিশ্বকাপ ট্রফি। তাহলে কেন সেই বিশ্বকাপ ট্রফিকে হনুমান মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হল।

    হনুমান মন্দিরে ট্রফি নিয়ে পুজো দিলেন গম্ভীর

    ভারতীয় ক্রিকেট টিমের হেড কোচ গৌতম গম্ভীর খেলার প্রতি তাঁর যেমন কড়াকড়ি রয়েছে ঠিক তেমনই তাঁর নিয়মিত পুজো দেওয়ার ট্রাডিশনও বেশ চর্চিত। ভারতের বিভিন্ন জাগ্রত মন্দিরে, গম্ভীর নিয়ম করে পুজো-আচ্চা দেন। তাইতো বিশ্বকাপ জয়ের পর রবিবার রাতেও ট্রফি নিয়ে নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের পাশেই হনুমান টেকরি মন্দিরে পুজো দিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট টিমের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এবং আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ। তিন জন মিলে পুজো দেন। সূর্যের গলায় ছিল গাঁদা ফুলের মালা। মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রসাদ খান তাঁরা। বাইরে এসে ছবিও তোলেন। কিন্তু এবার সেই পুজো দেওয়া নিয়ে কটাক্ষ করলেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কীর্তি আজাদ।

    ধর্ম নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল সাংসদ

    গতকাল অর্থাৎ সোমবার, তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ বলেন, ‘টিম ইন্ডিয়ার লজ্জা লাগা উচিত। ১৯৮৩ সালে যখন আমরা কপিল দেবের নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জিতেছিলাম, তখন আমাদের দলে হিন্দু, মুসলিম, শিখ এবং খ্রিস্টান ছিলেন। আমাদের ধর্মীয় জন্মভূমি, আমাদের মাতৃভূমি, ভারত, হিন্দুস্তানে নিয়ে এসেছিলাম ট্রফি। কিন্তু এবার সেই ট্রফি কেন শুধু হনুমান মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হল? কেন মসজিদ নয়? কেন গির্জা নয়? কেন গুরুদোয়ারা নয়?” এখানেই শেষ নয়, এদিন তিনি সূর্যকুমার যাদব এবং আইসিসির প্রধান জয় শাহের পরিবারকেও তুলোধোনা করেন। কীর্তি আজাদ বলেন, “দলটি ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে – সূর্যকুমার যাদব বা জয় শাহের পরিবারের নয়! সিরাজ কখনও মসজিদে ট্রফি নেয়নি। সঞ্জু কখনও চার্চে নিয়ে যায়নি। ট্রফি ১৪০ কোটি ভারতীয়ের, প্রতিটি ধর্মের মানুষের – কোনও ধর্মের নয়।’

    আরও পড়ুন: দাম বৃদ্ধি তো ছিলই, এখন অমিল গ্যাস! LPG সঙ্কটে শহরের সমস্ত হোটেল বন্ধের সিদ্ধান্ত

    প্রসঙ্গত, ভারতীয় দলের কোচ হওয়ার পর থেকেই দেখা যায় গৌতম গম্ভীর যেখানেই খেলা থাকুক, সেখানকার স্থানীয় মন্দিরে পুজো দিতে চলে যান। কখনও কলকাতার কালীঘাটে, কখনও পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে, কখনও গুয়াহাটির কামাখ্যা, আবার কখনও মুম্বইয়ের সিদ্ধি বিনায়ক মন্দিরে দেখা যায় গম্ভীরকে। এবারেও তার ব্যতিক্রম হল না। এদিকে, ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কীর্তি আজাদের তোলা মন্তব্যকে নিয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি দলের তরফে।

  • ‘আমাকে বলছে ডোন্ট শাউট!’ জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য

    ‘আমাকে বলছে ডোন্ট শাউট!’ জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ, সোমবার, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission Of India) ফুল বেঞ্চের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলির বৈঠক হয়। আর সেই বৈঠকে শেষ দফায় অর্থাৎ সকাল ১১টা ৪৫ থেকে ১২টার মধ্যে ডাকা হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসকে (Trinamool Congress)। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রকাশ করেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং রাজ্যের পুলিশ কর্তা রাজীব কুমার। কিন্তু সেই বৈঠকে ফের জ্ঞানেশ কুমারের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুললেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)।

    মহিলা ভোটারদের ‘টার্গেট’ করার অভিযোগ

    বৈঠক শেষে আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য নির্বাচন কমিশনারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা কমিশনকে বলেছি, বহুবার আপনাদের কাছে গিয়ে সমস্যার কথা জানিয়েছি। কিন্তু আপনারা সেই পথে হাঁটছেন না। প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ফর্ম ৬ জমা পড়েছে ৬ লক্ষের বেশি, অথচ নতুন করে নাম যোগ হয়েছে মাত্র ১ লক্ষ। অন্যদিকে প্রায় ৫ লক্ষ নাম মুছে ফেলা হচ্ছে। আগে তালিকায় মহিলাদের সংখ্যা বেশি ছিল। এখন তা কমে যাচ্ছে। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে মহিলাদেরই টার্গেট করা হচ্ছে।” এসবের পরেই নাকি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের উপর রীতিমতো চিৎকার করে ওঠেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।

    চন্দ্রিমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার নির্বাচন কমিশনারের

    চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের অভিযোগ, SIR এর বিষয়গুলি তুলে ধরতে গেলেই কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে রয়েছে এবং তাঁদের আর কিছু করার নেই। তিনি বলেন, “আমরা কথা বলতে গেলেই কমিশনার বলছে সুপ্রিম কোর্টে গেছেন, এখন কিছু করার নেই। তারপরই আমাকে বলছে, ডোন্ট শাউট। আমার গলার জোর আছে, তাই বলেছি। আমি তো ওঁকে অপমান করার জন্য চিৎকার করিনি। আমি একজন মহিলা, আমাকে এভাবে বলা হচ্ছে। এটা কি ঠিক? সুপ্রিম কোর্টে গেছি, ঠিকই করেছি। কিন্তু কেন ভোটারদের নাম নেই, সেই প্রশ্নের উত্তর তো দিতে হবে।”

    আরও পড়ুন: নির্বাচন হোক ২ দফায়, কমিশনের কাছে আর কী কী দাবি জানাল বিজেপি?

    প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও জ্ঞানেশ কুমারের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, “আলোচনা এমন পর্যায়ে পৌঁছয়, মেজাজ হারিয়ে আঙুল উঁচিয়ে কথা বলেন জ্ঞানেশ কুমার। আমি বলেছি, আঙুল নীচে নামিয়ে কথা বলুন।” এমনকি তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই অভিযোগ তুলেছিলেন। রীতিমত অহঙ্কারি বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন কমিশনকে।

  • নির্বাচন হোক ২ দফায়, কমিশনের কাছে আর কী কী দাবি জানাল বিজেপি?

    নির্বাচন হোক ২ দফায়, কমিশনের কাছে আর কী কী দাবি জানাল বিজেপি?

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) কাছে একগুচ্ছ দাবি জানিয়েছে বিজেপি (BJP on Commission)। সোমবার নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেছে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি প্রতিনিধি দল। আর সেখানে তারা মোট ১৬ দফা দাবি পেশ করেছে। বিরোধী দলের দাবি, রাজ্যে দীর্ঘদিন সময় ধরে বহু দফায় ভোট করানোর বদলে এবার এক বা দুই দফায় নির্বাচন করা হোক। তাদের মতে, এতে প্রশাসনিক চাপ অনেকটাই কমবে এবং দ্রুত আর সুষ্ঠুভাবে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

    বলাবাহুল্য, ওই বৈঠকে বিজেপি প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন তাপস রায়, শিশির বাজোরিয়া এবং জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। বৈঠকে নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কমিশনের সঙ্গে তাঁর আলোচনা করেছেন। আর বৈঠকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, প্রায় আধাঘন্টা ধরে কমিশনের সামনে তাঁদের দাবি এবং প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।

    কী কী দাবি জানানো হল বিজেপির তরফ থেকে?

    বিজেপির দাবি, আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যাতে হিংসামুক্ত আর ভয়মুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সেই লক্ষ্যেই এই দাবি জানানো হয়েছে। এ নিয়ে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা কমিশনকে জানানো হয়েছে।

    বিজেপির দাবিগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ছয় সপ্তাহ ধরে দীর্ঘ ৭-৮ ধাপের পরিবর্তে স্বল্প সময়ের মধ্যেই একক বা সর্বোচ্চ দুটি ধাপে ভোট গ্রহণ করতে হবে। ভোটের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কল্যাণ সংস্থাকে নিষিদ্ধ করা উচিত এবং তাদের সমস্ত অফিস ও কার্যক্রম এলাকা সিল করে দেওয়া উচিত। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, বড় বড় বহুতল কমপ্লেক্সের ভেতরে ভোটকেন্দ্র থাকা বাধ্যতামূলক। স্থানীয় পুলিশের উপর নির্ভর না করে সাধারণ এবং পুলিশ পর্যবেক্ষক দ্বারা চিহ্নিত এলাকাগুলির উপর ভিত্তি করেই সিএপিএফ-এর আধিপত্য যাচাই করতে হবে। সাধারণ এবং পুলিশ পর্যবেক্ষকদের এলাকা সম্পর্কে জানার জন্য আর মূল্যায়নের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আগেই মোতায়েন করা উচিত।

    আরও পড়ুন: ‘ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেব’ বকেয়া DA কাণ্ডে বড় ঘোষণা, ঘুরে যাবে খেলা? জল্পনা তুঙ্গে

    এছাড়াও পূর্ববর্তী তিনটি নির্বাচনে অর্থাৎ ২০১৯ লোকসভা নির্বাচন, ২০২১ বিধানসভা নির্বাচন আর ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে কমিশনের আদেশে বদলি হওয়া সকল কর্মকর্তাদের বদলি করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে কমিশনকে। বিজেপির স্পষ্ট দাবি, আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যেন কোনও রকম অসন্তোষ ছাড়াই সম্পন্ন হয়।

  • ‘রাজ্য সরকার চাইলে বাংলায় কমবে গ্যাসের দাম’ কতটা?

    ‘রাজ্য সরকার চাইলে বাংলায় কমবে গ্যাসের দাম’ কতটা?

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক যুদ্ধ পরিস্থিতির ভয়ংকর প্রভাব পড়েছে গোটা বিশ্ববাজারে। এমনকি এই প্রভাব থেকে বাদ পড়েনি ভারতও, গ্যাসের দাম এতটাই বৃদ্ধি (LPG Cylinder Price Hike) পেয়েছে যে মধ্যবিত্তের হেঁশেলে রীতিমত আগুন ধরে গিয়েছে। একধাক্কায় ঘরোয়া সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। অর্থাৎ কলকাতায় ঘরোয়া রান্নার গাসের দাম বেড়ে হল ৯৩৯ টাকা। এবং ১৯ কেজির বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে, বর্তমানে দাম ১৯৯০ টাকা। এই অবস্থায় রাস্তায় প্রতিবাদে নেমেছে তৃণমূল (Trinamool Congress)। তবে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury) বলছেন অন্য কথা, তাঁর দাবি মুখ্যমন্ত্রী নাকি চাইলেই রাজ্যে গ্যাসের দাম বেশ খানিকটা কমতে পারে।

    গ্যাসের দাম কমানোর ফর্মুলা দিল অধীর

    গতকাল অর্থাৎ রবিবার, কংগ্রেসের তরফে একটি সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে সাংবাদিকদের সম্মুখে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী রাজ্যের একাধিক ইস্যু নিয়ে নানা মন্তব্য করছিলেন, আর তখনই উঠে আসে রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গে। তিনি বলেন, “দিদি যদি মনে করেন, তাহলে গ্যাসের দাম কিছুটা কমাতে পারেন। দিদি যদি ভাবেন, গ্যাসে যতটা দাম বাড়ল, ততটা যদি সাবসিডি দিই, তাহলে মানুষ সস্তার গ্যাস পাবে। এটা রাজ্য যদি মনে করে, রাজ্য সরকার পারবে।” এছাড়াও তাঁর দাবি, “আপনি যদি লক্ষ্মীর ভান্ডারে মা বোনেদের জন্য পয়সা দিতে পারেন, তাহলে গ্যাসের জন্যও পয়সা দিন। কারণ গ্যাসটা তো ব্যবহার করেন মা-বোনেরাই। যাতে তাঁদের রান্নায় কোনও সঙ্কট তৈরি না হয়।”

    কী বলছেন অধীর চৌধুরী?

    পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যখন চারিদিকে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেই সময় গ্যাসের চড়া দাম বৃদ্ধি নিয়ে অধীর রঞ্জন চৌধুরী দাবি করেন, “রাজ্যের কাছে আবেদন করব, গ্যাসের যে দামটা বাড়ছে, রাজ্য ক্ষতিপূরণের মতো যাতে মানুষের স্বার্থে সাবসিডি অথবা ভর্তুকি দেয়। কারণ বিভিন্ন প্রকল্পে রাজ্য অনুদান দিচ্ছে, তাহলে গ্যাসের ক্ষেত্রেও দেওয়া হোক।” এদিকে গতকালই রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কালো শাড়িতে হাতা-খুন্তি হাতে রাস্তায় নেমেছিল মহিলা বাহিনী। আন্দোলনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সাংসদ মালা রায়, বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। মিছিল শেষে পরে তাঁরা পুনরায় ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রীর ধর্নামঞ্চে এসেও হাতা-খুন্তি নিয়ে গ্যাসের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদ করেছিলেন।

    আরও পড়ুন: SIR ইস্যুতে ক্ষোভ! উঠল ‘গো ব্যাক’ স্লোগান, কালীঘাটে পুজো দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে জ্ঞানেশ কুমার

    প্রসঙ্গত, এইমুহুর্তে রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি সকলের কাছে এক বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর ভোটের আবহে এই সমস্যাকেই রাজনীতিবিদরা হাতিয়ার হিসেবে, স্বাভাবিকভাবেই এই চাপানউতোরের মাঝেই চাপা পড়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষ। কলকাতা, মুম্বই, দিল্লি বা চেন্নাই সর্বত্রই এখন জ্বালানির জ্বালায় জেরবার সাধারণ গৃহস্থ। এখন দেখার অধীরের এই ‘ভরতুকি ফর্মুলা’ রাজ্য সরকার গ্রহণ করে কি না। যদিও শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কিছুই জানানো হয়নি।

  • নারী দিবসের আগে মহিলা রাষ্ট্রপতিকে অপমান! ফের গর্জে উঠলেন নরেন্দ্র মোদী

    নারী দিবসের আগে মহিলা রাষ্ট্রপতিকে অপমান! ফের গর্জে উঠলেন নরেন্দ্র মোদী

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যে SIR বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক এবং সমালোচনা হয়েই চলেছে। এখনও থামেনি সেই বিতর্কের ঝড়, আর এই অবস্থায় রাজ্য প্রশাসন এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Draupadi Murmu) অসন্তোষ প্রকাশের ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে৷ এমনকি এই ঘটনাকে নজিরবিহীন এবং লজ্জাজনক বলে শনিবারই সুর চড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)৷ আর এবার সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগুনে আরও ঘি ঢাললেন নরেন্দ্র মোদী।

    রাষ্ট্রপতি সফর নিয়ে রাজ্য কেন্দ্রের সংঘাত

    গতকাল অর্থাৎ শনিবার শিলিগুড়ি মহকুমার গোঁসাইপুরে নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। কিন্তু তাঁকে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী বা কোনও মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না, যা নিয়ে অভিযোগ তোলেন খোদ রাষ্ট্রপতি। এমনকি একাধিক ইস্যু নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। লিখিত কোনও প্রোটোকল না থাকলেও চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী, যখনই কোনও রাজ্যে রাষ্ট্রপতি যান তখন সেই রাজ্যের রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রীকে রিসিভ করতে দেখা যায়। সেক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী না গেলেও সাধারণত প্রশাসনিক স্তরের শীর্ষ কর্তারা যান। কিন্তু শনিবার কাউকেই দেখা যায়নি, তাই নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

    এক্স হ্যান্ডেলে ক্ষোভ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

    রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে বেশ ক্ষুব্ধ হন। এরপরই এক্স মাধ্যমে ঘটনার নিন্দা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি জানিয়েছেন, “ এটি লজ্জাজনক এবং অভূতপূর্ব ঘটনা। গণতন্ত্র এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী মানুষজন সকলেই মর্মাহত। জনজাতি সম্প্রদায় থেকেই উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশিত বেদনা ও উদ্বেগ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সঞ্চার করেছে।” এদিন প্রথমে ইংরেজিতে, তার পরে বাংলায় এবং পরে অলচিকি লিপিতেও এই ঘটনার নিন্দা করেন। এখানেই ক্ষান্ত হননি তিনি। এরপর আজ, একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফের সুর চড়ান মোদী।

    আরও পড়ুন: কালীঘাটে পুজো থেকে বেলুড় দর্শন, বাংলায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সফরনামা

    তৃণমূল সরকারকে ধিক্কার জানালেন মোদি

    অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদি বলেন, “আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হচ্ছে চারিদিকে। আর ঠিক আগের দিন পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সরকার মহিলা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে চরম অপমান করেছেন। দ্রৌপদী মুর্মু আদিবাসীদের উৎসবে সামিল হতে বাংলায় গিয়েছিলেন। কিন্তু তৃণমূল সরকার জনসমক্ষে সাঁওতালদের অপমান করেছে, রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেছে।” এছাড়াও মোদী আরও বলেন যে, “রাষ্ট্রপতি আদিবাসী সমাজের বিকাশের কথা চিন্তা করেছেন। আর তাঁকেই নারী দিবসের আগের দিন চরম অপমান করা হল। তাই এটা শুধু সেই রাষ্ট্রপতির অপমান নয়, সংবিধানেরও অপমান। সংবিধানের স্পিরিটের অপমান। যাঁরা জীবনের সংঘর্ষ পেরিয়ে সাফল্য পেয়েছেন, সেই সব মহিলাদের অপমান।”

  • নারী দিবসে কালো শাড়িতে রাস্তায় তৃণমূলের মহিলারা, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ

    নারী দিবসে কালো শাড়িতে রাস্তায় তৃণমূলের মহিলারা, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্দেশে অনুযায়ী আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ময়দানে নামল মহিলারা। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির (LPG Cylinder Price Hike) প্রতিবাদে কালো শাড়ি পরে তুমুল প্রতিবাদ শুরু হল চারিদিকে। শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যদের মতো নেত্রীদের নেতৃত্বে রীতিমত মুখরিত মহিলা ব্রিগেড। থালা-বাসন, খুন্তি বাজিয়ে ধরনা মঞ্চেও কালো শাড়ি পরে চলল প্রতিবাদ। প্রতীকী সিলিন্ডার হাতে প্রতিবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

    নারী দিবসের দিন প্রতিবাদের ডাক তৃণমূলের

    রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ শনিবার, ধর্মতলায় কেন্দ্রীয় সরকারের গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমগ্র মহিলাদেরকে নিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিন প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “গ্যাসের দাম বৃদ্ধির জন্য হাঁড়ি, কড়াই, বাটি, ঘটি, হাতা, খুন্তি দিয়ে প্রতিবাদ মিছিল হবে আন্তর্জাতিক মহিলা দিবসে। মানবতাকে পালন করার জন্য কাল মা বোনেরা রাস্তায় নামুন, প্রতিবাদ করুন। প্রয়োজনে কালো শাড়ি পরুন। গ্যাসের ওভেনও পারলে কেউ নিয়ে আসবেন। পারলে কাঁচা আনাজও ঝুড়িতে আনবেন।” আর সেই নির্দেশ মাথায় রেখেই আজ সুবোধ মল্লিক স্কোয়্যারে মিছিলে যোগ দেন মহিলারা। সকলেরই পরনে ছিল কালো পোশাক।

    প্রতিবাদে সরব মুখ্যমন্ত্রী

    মহিলাদের এই আন্দোলনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সাংসদ মালা রায়, বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। মিছিল শেষে পরে তাঁরা পুনরায় ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রীর ধর্নামঞ্চে এসেও হাতা-খুন্তি নিয়ে গ্যাসের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করেছেন। পাশাপাশি এদিন প্রতীকী সিলিন্ডার হাতে নিয়ে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই প্রতিবাদে শামিল হন। যদিও তিনি নিজে প্রথাগত সাদা শাড়িই পরেছিলেন। গ্যাসের দামের পাশাপাশি ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটার ইস্যুকেও এই প্রতিবাদের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। ফলে ভোটমুখী বাংলায় এসআইআর-র প্রতিবাদে ধরনা মঞ্চ থেকে মমতার প্রতিবাদের ডাকে বেশ চাপের মুখে পড়ল বঙ্গ বিজেপি।

    আরও পড়ুন: ট্রোলের জেরে ছেড়েছিলেন সোশ্যাল মিডিয়া! মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শে কামব্যাক ইমনের

    প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শুরুতেই অর্থাৎ ১ জানুয়ারি একধাক্কায় বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বেড়েছিল ১১১ টাকা। ঠিক তার পরের মাসে অর্থাৎ ১ ফেব্রুয়ারি আরও ৪৯ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে গ্যাসের দাম। সংশোধিত দামের তালিকা অনুযায়ী, ১ মার্চ কলকাতায় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম দাঁড়িয়েছিল ১৮৭৫ টাকা ৫০ পয়সা। এবার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে নতুন দাম বৃদ্ধির পর গ্যাসের দাম বেড়ে হল ১৯৯৯ টাকা। আর তাই বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছে মধ্য এবং নিম্নবিত্তরা।

  • ভোটের আগে তৃণমূলে ভাঙন? বিজেপিতে ফিরছেন মুকুটমণি? জানালেন শান্তনু ঠাকুর

    ভোটের আগে তৃণমূলে ভাঙন? বিজেপিতে ফিরছেন মুকুটমণি? জানালেন শান্তনু ঠাকুর

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে রাজ্য জুড়ে, আর কিছুদিন পরেই রাজ্যে হতে চলেছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। তাই এখন থেকেই দিন রাত ভোট প্রচারের প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছে শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধীরা। আর এই আবহে ফের শাসকদলের ভাঙনের ইঙ্গিত মিলল। শোনা যাচ্ছে মুকুটমণি অধিকারী (Mukut Mani Adhikari) নাকি ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের তৃণমূল থেকে বিজেপিতে (Bharatiya Janata Party) যেতে চলেছেন। ক্রমেই বাড়ছে সেই জল্পনা, অবশেষে এই নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজেই জানালেন সত্যিটা।

    ফের বিজেপিতে ফিরে যাবেন মুকুটমণি?

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে এর আগেও আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ঠিক আগে বিজেপি ছেড়েছিলেন মুকুটমণি অধিকারী, যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। নারী দিবস উপলক্ষ্যে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে পতাকা নিয়ে দল বদল করেছিলেন। লোকসভা নির্বাচনে রাণাঘাটে তৃণমূলের প্রার্থী হন। তবে হেরে যান। তবে তৃণমূলের টিকিটে রাণাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনে জয়ী হন। আর এবারেও আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ঠিক আগে দলবদলের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে তাঁর। ফের বিজেপিতে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে বৈঠকের পর মুকুটের।

    শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে বৈঠক মুকুটের

    রিপোর্ট মোতাবেক গতকাল অর্থাৎ শনিবার, ঠাকুরনগরে ঠাকুরবাড়িতে এসে বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে দেখা করেছিলেন মুকুটমণি অধিকারী। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে সেই বৈঠক। বৈঠক শেষে বেরিয়ে মুকুটমণি অধিকারী সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি হন। সেখানে তিনি বলেন, “আমি নতুন গাড়ি কিনেছি। ঠাকুরবাড়িতে নতুন গাড়ির পুজো দিতে এসেছিলাম। সেখানেই শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছি।” এই প্রসঙ্গে শান্তনু ঠাকুরও একই কথা বলেন। তিনি বলেন, “এতে কোনও রাজনীতির বিষয় নেই। গাড়ির পুজো দিতে এসে আমার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। দলে ফেরা নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।” শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকরা এদিন মুকুটমণি অধিকারীকে বিজেপিতে পুনরায় ফিরে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি সেই সকল জল্পনা খারিজ করে দেন।

    আরও পড়ুন: ‘Updated Soon’ মেসেজে বিপাকে আবেদনকারীরা, যুবসাথীর স্ট্যাটাস চেক নিয়ে আপডেট সরকারের

    মুকুটমণি অধিকারী সাংবাদিকদের স্পষ্ট জানান, “আমি বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে যেমন দেখা করেছি ঠিক তেমনই ঠাকুরবাড়ির আরেক সদস্য তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের বাড়িতেও গিয়েছিলাম।” কিন্তু এই দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দেন মমতাবালার মেয়ে তথা বাগদার তৃণমূল বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুর। তিনি বললেন, “আমাদের বাড়িতে আসেননি মুকুটমণি অধিকারী। এটা ঠাকুরবাড়ি। যে কেউ আসতে পারেন। কিন্তু কেন মিথ্যা কথা বললেন, এটা বুঝতে পারছি না।” দল পরিবর্তন নিয়ে মধুপর্ণা বলেন, “তিনি বিজেপিতে যাবেন কি না, সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।” ফলস্বরূপ জল্পনা যেন কিছুতেই কাটতে চাইছে না।