Category: রাজনীতি

  • “বাড়িতে আঘাতের চিহ্ন নেই, পার্টি অফিসে ব্যান্ডেজ!” শশী পাঁজাকে একহাত নিলেন সজল ঘোষ

    “বাড়িতে আঘাতের চিহ্ন নেই, পার্টি অফিসে ব্যান্ডেজ!” শশী পাঁজাকে একহাত নিলেন সজল ঘোষ

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মাস গড়ালেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। সেই সূত্রে ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী মোদীর জনসভায় গতকাল লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন। তবে মোদীর সভার আগেই কলকাতার গিরিশ পার্কে তৃণমূল-বিজেপির ব্যাপক সংঘর্ষ লক্ষ্য করা যায়। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার (Sashi Panja) বাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। এমনকি বাড়ির অফিসের দরজা-জানলা ভাঙচুর করা হয় বলেও খবর। সবথেকে বড় ব্যাপার, শশী পাঁজার উপরেও হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে। তবে এবার সেই দাবির একহাত নিলেন বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ (Sajal Ghosh on Sashi Panja)।

    মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলা

    জানা যায়, গতকাল পুলিশের সামনেই বিজেপি এবং তৃণমূল দুই পক্ষের সংঘর্ষ বাঁধে। মুহূর্তের মধ্যে সেই সংঘর্ষে কার্যত রণক্ষেত্রে রূপ নেয় গিরিশ পার্ক। তৃণমূল অভিযোগ করে, মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় আর বিজেপির কর্মীরা তৃণমূল কর্মীদেরকে মারধর করেছে। পাশাপাশি ১৯ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলরের গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে। আর মন্ত্রীর উপরেও হামলার অভিযোগ ওঠে। শশী পাঁজা নিজেই জানান যে, “গুন্ডাদের দিয়ে ব্রিগেড সভা করছে বিজেপি। পাথর ছুঁড়ে জানলার কাঁচ, দরজা ভেঙে দিচ্ছে। এরা নিজেরাই খুনি। যেভাবে ওরা আক্রমণ করছে তাতে তাঁরা সামান্য গুন্ডা নয়, বরং খুনও করতে পারে। এমনকি শশী পাঁজার দাবি অনুযায়ী, তাঁদের হামলায় অন্তত ৫০ জন তৃণমূল কর্মী হাসপাতালে ভর্তি।” এছাড়া তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, এই হামলায় তিনি নিজেও জখম হয়েছেন।

    মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং বিধায়ক সায়নী ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে শশী পাঁজা অভিযোগ করেন, “চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ দিয়ে সকালবেলা ব্রিগেডমুখী বিজেপি কর্মীদের সমর্থকদের বাস যাচ্ছিল। আর সকাল থেকেই কিছু কিছু বাস আমার বাড়ির সামনের মেন রোড দিয়ে যাচ্ছিল। তবে ব্রিগেডমুখী এরকমই একটি বাস থেকে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউতে হামলা চলে। আমার ছেলেরা রাস্তার ধারে প্ল্যাকার্ড লাগাচ্ছিল। সেখানে দিয়ে যাওয়ার সময় বিজেপি পতাকা লাগানো একটি বাসের কর্মীরা তাঁদের উপর আক্রমণ করে আর নেমে এসে মারধর শুরু করে। বাসে করে ইট, বড় পাথর, লাঠি, বোমা ইত্যাদি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভায় যাচ্ছিল বিজেপির কর্মীরা। এভাবে তিনি বাংলা দখল করবেন? সব ভিডিও ফুটেজ আমার কাছে রয়েছে।”

    আরও পড়ুন: তালিবানদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ফের আফগানিস্তানে এয়ারস্ট্রাইক পাকিস্তানের

    পাল্টা বক্তব্য সজল ঘোষের

    এদিন সজল ঘোষ নিজেই শশী পাঁজার সেই ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন যে, “সম্ভবত প্রথম দিকের ছবিটা আপনার নিজের বাড়ির। তখন আপনি সুস্থই ছিলেন। আপনার শরীরে কোনও রকম আঘাতের চিহ্ন নেই। কিন্তু পার্টি অফিসে গিয়ে দেখা যায় যে আপনি আহত। আমার একটাই প্রশ্ন, তাহলে আপনাকে এই সময়ের মধ্যে মাড়ল কে? যতই আপনি পাশে অভিনেতা বা অভিনেত্রীদের নিয়ে বসুন না কেন, চিত্রনাট্যটা সত্যিই দুর্বল।” এমনকি সজল ঘোষ আরও দাবি করেন যে, “শশী পাঁজার বাড়ির সামনে থেকেই অনবরত পাথর ছোঁড়া হয়েছে। আর তাতে বিজেপির বহু কর্মীরাও আহত হয়েছে। ওরা যদি কিছু মেরে থাকে তাহলে তা পাটকেল। ইট আপনারাও মেরেছেন। আর আমাদের কর্মীরা শুধুমাত্র নিজেদেরকে রক্ষা করেছে। তৃণমূল মানুষের স্রোত দেখে ভয় পেয়েই এইসব কাজ করেছে।”

  • ‘বাংলায় জঙ্গলরাজ শেষের কাউন্টডাউন শুরু’ ব্রিগেড থেকে গর্জে উঠলেন মোদী

    ‘বাংলায় জঙ্গলরাজ শেষের কাউন্টডাউন শুরু’ ব্রিগেড থেকে গর্জে উঠলেন মোদী

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) নিয়ে বেশ উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে কোনরকম কুন্ঠাবোধ করছে না রাজনৈতিক দলগুলি। আর এই অবস্থায় ব্রিগেডে শুরু হল মোদীর বহু প্রতীক্ষিত জনসভা। আর সেখানে বক্তৃতা দিতে গিয়েই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রীতিমত গর্জে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তুলে ধরলেন জঙ্গলরাজের প্রসঙ্গ।

    তৃণমূলের দুর্নীতি প্রসঙ্গ তুললেন মোদি

    দুর্নীতি ইস্যুতে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি অভিযোগ করেন, “পাকা বাড়ি সর্বত্র পাচ্ছেন মানুষ। কিন্তু এখানে প্রকল্পের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। তার পরেও যাঁদের বাড়ি পাওয়ার কথা ছিল, তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন। জলজীবন মিশন থেকে আয়ুষ্মান ভারত, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তৃণমূলের জন্য বঞ্চিত। এমনকি চা-বাগানের শ্রমিকদেরও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা দিতে দেয় না তৃণমূল।” মোদী বলেন, “তৃণমূল না নিজে কাজ করে, না অন্যদের কাজ করতে দেয়। কাটমানি না পেলে কোনও প্রকল্পকে গ্রামেগঞ্জে পৌঁছোতে দেয় না তাই কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে পৌঁছোতে দেয় না।”

    বিগ্রেডে গর্জন মোদীর

    ব্রিগেডের তৃণমূলের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে গোটা বিজেপি নেতৃত্ব। আর সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই মোদী বলেন, “বাংলা থেকে নির্মম সরকারের বিদায় হবে। বাংলা থেকে মহাজঙ্গলরাজ শেষ হবে। বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আওয়াজ উঠছে, ‘চাই বিজেপি সরকার, চাই বিজেপি সরকার।” প্রধানমন্ত্রীর দাবি, আজও ব্রিগেড সভা আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছে বারাবার। তিনি বলেন, “আজ এই সভা আটকানোর জন্য নির্মম সরকার সব হাতিয়ার ব্যবহার করতে চেয়েছে। ব্রিজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, গাড়ির উপর হামলা করা হয়েছে, ট্রাফিক জ্যাম করেছে, পোস্টার ছিড়ে দিয়েছে। কিন্তু এত কিছু করেও নির্মম সরকার জনপ্লাবনকে আটকাতে পারেনি। মহাজঙ্গলরাজ শেষের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে।”

    আরও পড়ুন: রেল থেকে জাতীয় সড়ক, বাংলাকে ১৮ হাজার ৬০০ কোটির উপহার মোদীর, দেখুন তালিকা

    প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী আজ, প্রশাসনিক সভা থেকে বাংলায় ৬টি অমৃত ভারত স্টেশনের উদ্বোধন করেছেন। সেই স্টেশনগুলি হল, আনারা, তমলুক, হলদিয়া, বরাভূম, সিউড়ি এবং কামাখ্যাগুড়ি। পাশাপাশি পুরুলিয়া-আনন্দ বিহার টার্মিনাল (দিল্লি) এক্সপ্রেসের সূচনা করেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, বেলদা ও দাঁতনের মধ্যে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ তৃতীয় রেল লাইন এবং কলাইকুন্ডা ও কানিমোহুলির মধ্যে স্বয়ংক্রিয় ব্লক সিগন্যালিং ব্যবস্থার উদ্বোধনও করেন নরেন্দ্র মোদি।

  • রেল থেকে জাতীয় সড়ক, বাংলাকে ১৮ হাজার ৬০০ কোটির উপহার মোদীর, দেখুন তালিকা

    রেল থেকে জাতীয় সড়ক, বাংলাকে ১৮ হাজার ৬০০ কোটির উপহার মোদীর, দেখুন তালিকা

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বহু অপেক্ষার অবশেষে অবসান, অসমের শিলচরে সভা শেষ করে শহরে এলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। ৬ মাস আগে থেকেই রাজ্যে জনসভা শুরু করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গে তাঁর একাধিক জনসভা ছিল এরই মধ্যে। আর এবার আসলেন ব্রিগেডে (Modi Brigade Rally)। আর সেখানকার প্রশাসনিক মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করলেন।

    উপহারের ঝুলি মোদীর

    রিপোর্ট মোতাবেক নরেন্দ্র মোদীর উপহারের তালিকায় থাকছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি ব্যয়ে ৬৮ কিমি দীর্ঘ ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে পানাগড় থেকে পালসিট পর্যন্ত ৬ লেনের জাতীয় সড়ক, থাকছে ১১৪ নম্বর জাতীয় সড়কে ভেদিয়াতে ৪ লেনের আরওবি এবং সংযোগকারী রাস্তা, যার খরচ ১৯৫ কোটি। এছাড়াও ৩২৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের বারওয়া আড্ডা থেকে পানাগড় পর্যন্ত ৬ লেন রাস্তা থাকছে, যার দৈর্ঘ্য ১১৫ কিমি। হলদিয়া ডক কমপ্লেক্স বার্থ নম্বর ২-এর আধুনিকিকরণ করা হবে, যার জন্য খরচ ধার্য করা হয়েছে ২৯৮ কোটি টাকা। পাশাপাশি ইছামতী নদীর উপরে নির্মাণ করা হবে স্বরূপনগর ব্রিজ। যার জন্য খরচ করা হবে ১৬ কোটি টাকা।

    ৬টি স্টেশনের সৌন্দর্যায়নে বরাদ্দ হল অর্থ

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রেলযাত্রীদের জন্য অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অধীনে পশ্চিমবঙ্গের ৬টি স্টেশনের সৌন্দর্যায়নের উদ্বোধন করবেন। সেই স্টেশনগুলি হল, আনারা, তমলুক, হলদিয়া, বরাভূম, সিউড়ি এবং কামাখ্যাগুড়ি। পাশাপাশি পুরুলিয়া-আনন্দ বিহার টার্মিনাল (দিল্লি) এক্সপ্রেসের সূচনা করবেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, বেলদা ও দাঁতনের মধ্যে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ তৃতীয় রেল লাইন এবং কলাইকুন্ডা ও কানিমোহুলির মধ্যে স্বয়ংক্রিয় ব্লক সিগন্যালিং ব্যবস্থার উদ্বোধন করবেন নরেন্দ্র মোদি। তাই স্বাভাবিকভাবেই উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।

    আরও পড়ুন: ১৩০ কিমি বেগে ছুটবে ট্রেন, দেশ জুড়ে হাইস্পিড ট্র্যাকের উন্নতিতে বড় সাফল্য রেলের

    বাংলার জন্য একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী জানান,” আজ কলকাতার মাটি থেকে পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ব ভারতের বিকাশের নয়া অধ্যায় শুরু হচ্ছে। সড়ক, রেলওয়ে ও বন্দর পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ১৮ হাজার কোটির বেশি প্রকল্পের শিল্যান্যাস ও উদ্বোধন হল। বাংলার উন্নয়নে নয়া দিশা দেখাবে এই প্রকল্পগুলি। খড়গপুর-মৌরিগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে সম্পূর্ণ হলে রাজ্যের অনেকাংশে আর্থিক উন্নতি হবে। শিলাবতী নদীর উপর যে সেতু তৈরি হবে, তাতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। সব নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-সহ পূর্ব ভারতের জনগণকে শুভেচ্ছা।”

  • ব্রিগেড যাওয়ার পথে সংঘর্ষ, গিরিশ পার্কে মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে ছোঁড়া হল পাথর

    ব্রিগেড যাওয়ার পথে সংঘর্ষ, গিরিশ পার্কে মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে ছোঁড়া হল পাথর

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্রমেই অপেক্ষার প্রহর কাটতে চলেছে, কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে (Modi Brigade Rally) বিজেপির জনসভাকে ঘিরে ক্রমেই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। কিছুক্ষণ পরেই শুরু হতে চলেছে মোদীর সভা। আর এই অবস্থায় গিরিশ পার্কে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার (Shashi Panja House Attacked) অভিযোগ উঠল কয়েকদল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। তৃণমূল কর্মীদের দাবি, ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভায় যাওয়ার সময় বিজেপি কর্মীরা এ সব করেছেন।

    শশী পাঁজার বাড়িতে হামলা

    রিপোর্ট মোতাবেক, আজ শনিবার দুপুরে ব্রিগেডে নরেন্দ্র মোদীর জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার সময় একদল বিজেপি গিরিশপার্কে রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী শশী পাঁজার বাসভবনে হামলা করে। ছোঁড়া হয় পাথর। তাতেই দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ঘটনায় শশী পাঁজা বলেন, ‘‘বিজেপি গুণ্ডারা এ সব করেছে। আজ যে বাস ব্রিগেডে যাচ্ছে, সেগুলিতে রয়েছে ইট, কাচের বোতল, বোম। বহিরাগত গুণ্ডাদের নিয়ে তারা ব্রিগেডে যাচ্ছে।’’ পাথর ছোড়াছুড়িতে রক্তাক্ত বিজেপির উত্তর কলকাতার সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ। তাঁকে ইতিমধ্যেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শশীর কথায়, ‘‘এরা খুনও করতে পারে। এরা গুণ্ডা। গণতন্ত্রের খুন করা হয়েছে। ওঁদের দুঃসাহস দেখুন!’’

    তৃণমূল-বিজেপির হাতাহাতি

    গোটা ঘটনায় তৃণমূল কর্মীদের দাবি, ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভায় যাওয়ার সময় বিজেপি কর্মীরা ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করেছেন। কিন্তু এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, গিরিশ পার্কে মিছিল করে যাওয়ার সময় তাদের কর্মীদের লক্ষ্য করে ইট ছোড়ে তৃণমূল। সবটা দেখেও পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল। ঘটনায় আহত হয়েছেন বৌবাজার থানার ওসি বাপ্পাদিত্য নস্কর-সহ কয়েক জন। বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি এলাকা জুড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে একাধিক পুলিশকর্মী। এদিকে পাথর এবং ইটের আঘাতে বাড়ির জানালার কাচ ও সদর দরজার ক্ষতি হয়েছে বলে খবর।

    আরও পড়ুন: শিয়ালদায় বিজেপির কর্মীদের নিজের হাতে খাবার পরিবেশন শমীকের

    ইতিমধ্যেই, কলকাতা বিমানবন্দরে নেমেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিমান। অসমের শিলচরে সভা শেষ করে শহরে এলেন তিনি। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে গিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। ওদিকে ব্রিগেডের মঞ্চে ইতিমধ্যেই উপস্থিত হয়েছেন মিঠুন চক্রবর্তী, দিলীপ ঘোষ, লকেট চট্টোপাধ্যায়, সুকান্ত মজুমদার , শুভেন্দু অধিকারী সহ একাধিক বিজেপি নেতৃত্ব।

  • শিয়ালদায় বিজেপির কর্মীদের নিজের হাতে খাবার পরিবেশন শমীকের

    শিয়ালদায় বিজেপির কর্মীদের নিজের হাতে খাবার পরিবেশন শমীকের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজেপির জনসভাকে ঘিরে ক্রমেই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। আর কিছুক্ষণ পরেই শুরু হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত মোদীর হাইভোল্টেজ সভা (Modi Brigade Rally)। ইতিমধ্যে জেলা থেকে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা সভায় ভিড় জমাতে শুরু করেছে। কাতারে কাতারে মানুষ হাওড়া-শিয়ালদা হয়ে ব্রিগেড অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছেন। এই অবস্থায় স্টেশনের বাইরে কর্মী-সমর্থকদের জন্য তৈরি করা অস্থায়ী ক্যাম্পে অন্য ভূমিকায় দেখা গেল রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে। করলেন খাবার পরিবেশন।

    খাবার পরিবেশন শমীকের

    দূর-দূরান্ত থেকে যে সকল কর্মী সমর্থকরা বিজেপির সভায় হাজির হয়েছেন। শিয়ালদহ স্টেশনের বাইরে বিজেপির তরফে যে ক্যাম্প করা হয়েছে, সেখানে সকাল থেকেই উত্তরবঙ্গ-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের জন্য খাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ওই ক্যাম্পে বিশ্রাম নিচ্ছেন কর্মীরা। এক এক সকলেই দুপুরের খাবার খাচ্ছেন। মেনুতে রয়েছে ভাত, ডাল, সবজী, ডিম। আর সেখানেই কর্মী সমর্থকদের খাবার পরিবেশন করতে দেখা গিয়েছে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে। খাবার পরিবেশন প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, এটা নতুন কিছু নয়। ছোটবেলা থেকেই বিজেপির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মানুষকে খাবার পরিবেশন করার অভ্যাস রয়েছে তাঁর।

    দলীয় অবস্থান নিয়ে কড়া বার্তা শমীকের

    ব্রিগেডে মোদীর জনসভা রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে প্রশ্ন করা হলে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে কড়া বার্তা দিলেন তিনি। শমীক বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ বহুত্ববাদের মাটি এবং এই মাটিকে কখনও বিভেদের রাজনীতির দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না। এই মাটিকে কিছুতেই হুমায়ুনের মাটি বানাতে দেব না।” বিজেপির আদর্শ নিয়ে শমীক বলেন, “শ্যামা প্রসাদ মুখার্জীর আদর্শেই দল এগিয়ে চলছে। দেশভাগের পর শিয়ালদহ স্টেশনে উদ্বাস্তুদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। সেই ঐতিহ্য থেকেই বিজেপি বাংলার মানুষের পাশে থাকার দাবি করছে।”

    আরও পড়ুন: বোরখা পরা মহিলাদের জন্য বাংলায় ‘বিহার মডেল’! মুখ দেখিয়েই দিতে হবে ভোট

    ব্রিগেড সভার আগে শিয়ালদহে কর্মী-সমর্থকদের জমায়েতের মধ্যে রাজনৈতিক শিবিরে এক টান টান মুহূর্ত তৈরি হয়েছে। এখন বাকি শুধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্টেজে ওঠার। এদিকে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “আসন্ন নির্বাচন মূলত মানুষের সঙ্গে তৃণমূলের লড়াই হয়ে উঠেছে। রাজ্যের মানুষ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত এবং সেই বার্তাই ব্রিগেডের সভা থেকে আজ স্পষ্ট হবে।

  • মোদীর ব্রিগেডমুখী বাসে হামলা, ভাঙল কাঁচ! বেলদায় আক্রান্ত একাধিক বিজেপি কর্মী

    মোদীর ব্রিগেডমুখী বাসে হামলা, ভাঙল কাঁচ! বেলদায় আক্রান্ত একাধিক বিজেপি কর্মী

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আজ, শনিবার, কলকাতার ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা (Narendra Modi Brigade Rally), আর সেই সভাকে কেন্দ্র করে বিজেপির অন্দরে যেমন সাজো সাজো রব, ঠিক তেমনই কলকাতা পুলিশও নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করতে ব্যস্ত। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সভা করবেন নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে এটাই হয়ত বিজেপির শেষ সভা হতে চলেছে। তাই কোনো খামতি রাখছে না দলীয় কর্মীরা। কিন্তু মোদীর ব্রিগেডের সভায় (PM Modi Rally) যাওয়ার পথেই মারমুখী পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হল দলীয় কর্মী সমর্থকদের। বাসগুলিকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হল ইট, পাথর।

    বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর

    জানা গিয়েছে, ব্রিগেড আসার পথেই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে বেলদায় বিজেপির সমর্থকরা। আজ ভোর ৫.৩০ মিনিট নাগাদ আহার মুণ্ডা এলাকার দিকে যাচ্ছিল বিজেপির সমর্থক-বোঝাই বাসটি। আচমকাই বাইকে করে বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতি তাঁদের বাসে হামলা, পাথর ছুঁড়ে কাঁচ ভেঙে দেয়। যার ফলে সমর্থকদের মধ্যে কয়েকজন চোট পেয়েছেন এই ঘটনায়। শুধু বেলদা নয়, পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশওয়াড়ি থেকে ব্রিগেডের দিকে আসা বাসেও আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে। হামলা চালানোর পাশাপাশি নাকি বাস চালককে নামিয়ে মারধরও করা হয়েছে। আর এই সমস্ত কাণ্ডে অভিযোগের আঙুল উঠছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসক দল।

    শহরে ‘গো ব্যাক মোদী’ হোর্ডিং

    মোদীর সফরের আগের দিন অর্থাৎ শুক্রবার কলকাতার নানা প্রান্তে দেখা গেল ‘গো ব্যাক মোদি’ লেখা হোর্ডিং। এই হোর্ডিংয়ের মাধ্যমে রাজ্যের কত টাকা বকেয়া রয়েছে সেটাকেই অস্ত্র করে মোদীর ব্রিগেড সভার আগে তুলে ধরতে চাইল তৃণমূল। কলকাতা সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় ‘গো ব্যাক মোদী’ হোর্ডিংয়ে ছেয়ে গিয়েছে। মা উড়ালপুল থেকেও ওই হোর্ডিং দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও ‘বয়কট বিজেপি’ বলে পোস্টারও দেখা যাচ্ছে চারিদিকে। যেখানে যেখানে বিজেপিরা মোদির সভার পোস্টারটা নিয়েছে সেখানেই বিশেষ করে বয়কট বিজেপি পোস্টার টানানো হয়েছে। যদিও রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির নাম সেখানে উল্লেখ নেই সেখানে। তবে প্রাথমিক অনুমান এই সমস্ত কর্মকান্ডের পিছনে রয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।

    আরও পড়ুন: সত্যিই কি LPG সিলিন্ডার প্রতি ২৯১ টাকা কর নিচ্ছে রাজ্য সরকার? দেখুন হিসেব

    প্রসঙ্গত, পদ্ম-শিবিরের হাইভোল্টেজ ব্রিগেডে এবার দেখা গেল নিখাদ ‘বাঙালি’ ছোঁয়া। বাঙালি অস্মিতাকে সন্মান জানাতে সভার মঞ্চ তৈরি হয়েছে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে। মঞ্চের দু’পাশে তুলে ধরা হয়েছে বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি—টেরাকোটা, পটচিত্র-সহ একাধিক শিল্পকর্ম। এখন দেখার এই মঞ্চ থেকে নরেন্দ্র মোদী আগামী বিধানসভা নির্বাচনের জন্য সকলকে ঠিক কী কী বার্তা দেন।

  • ভোট ঘোষণার আগেই ১৫০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত বিজেপির? তালিকায় কাদের নাম?

    ভোট ঘোষণার আগেই ১৫০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত বিজেপির? তালিকায় কাদের নাম?

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) সময় যত এগিয়ে আসছে ততই রাজ্য রাজনীতিতে এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তাই এই পরিস্থিতিতে জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে উঠেপড়ে লেগেছে শাসক দল থেকে শুরু করে বিরোধীরা। এদিকে অনুমান করা হচ্ছে আগামী ১৬ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হতে পারে। এমতাবস্থায় শোনা যাচ্ছে বঙ্গের ১৫০ আসনে নাকি ঠিক হয়ে গিয়েছে বিজেপির প্রার্থী।

    ১৫০ আসনে প্রার্থী প্রস্তুত বিজেপির

    রিপোর্ট মোতাবেক, দু’দিন ধরে দিল্লিতে বৈঠকে গিয়েছিলেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। আর সেখানেই বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা তৈরি করা হয়েছিল বলে খবর। দলের অন্দরেও শোনা যাচ্ছে, ১৫০ এর মতো আসনে প্রার্থীদের ঠিক করে ফেলেছে বিজেপি। তবে সবার নাম প্রকাশ্যে আনবে ভোটের দিন ঘোষণার পরেই। অনুমান করা হচ্ছে, ১৬ মার্চ ভোট ঘোষণা হলে প্রথম দফার নির্বাচনের আগে অন্তত ২৮ থেকে ৩০ দিন সময় দিতে হবে। অর্থাৎ এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি বা তৃতীয় সপ্তাহে হবে প্রথম দফার নির্বাচন।

    তালিকায় থাকবে নতুন মুখ

    সূত্রের খবর বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী তালিকায় নাম থাকতে পারে বর্তমান বিধায়কদের মধ্যে ৮৭ থেকে ৮৮ শতাংশের। বাকি ১০ থেকে ১২ শতাংশ শারীরিক অসুস্থতা আর বয়সজনিত কারণে প্রার্থী না হতে চেয়ে দলকে জানিয়েছে বলে খবর। এছাড়াও তালিকায় থাকতে পারে একাধিক নতুন মুখও। যদিও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বরা কেউই কোনো মন্তব্য করেনি এই ব্যাপারে। এদিকে নির্বাচন ক’দফায় হবে তা এখনও স্পষ্ট না হলেও মোটামুটি এক থেকে তিন দফায় ভোট হতে পারে বলেই ইঙ্গিত মিলছে। অতীতে রাজ্যে নির্বাচনী হিংসা রুখতে ৮ দফায় ভোটগ্রহণের নজির গড়ে উঠেছিল। তবে এবার শোনা যাচ্ছে এত বেশি দফায় ভোটের আর কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই।

    আরও পড়ুন: পুলিশের উপরেও চলবে নজরদারি? ভোটে নিরাপত্তা জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ কমিশনের

    প্রসঙ্গত, তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে এখনও কিছু মতামত পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বাংলার সঙ্গেই ভোটের দিন ঘোষণা হবে তামিলনাড়ু, কেরল, অসম, পুদুচেরিতে। রাজ্যে ক’দফায় ভোট হবে, এই নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে রয়েছে। ১ থেকে ৩ দফায় ভোট হতে পারে বলে একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামী এপ্রিলেই ভোটের ফল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন তৃণমূলের হেভিওয়েট বিধায়ক, ছড়াল জল্পনা

    বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন তৃণমূলের হেভিওয়েট বিধায়ক, ছড়াল জল্পনা

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দোরগোড়ায় এসে গিয়েছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), হাতে সময় বেশ কম, তাই এখন থেকেই ভোট প্রচারে মনোযোগ দিয়েছে শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধীরা। কমিশন সূত্রে খবর, সোমবার ১৬ মার্চ ঘোষণা হতে পারে ভোটের দিনক্ষণ, তাইতো সকলের মধ্যে এক চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বেসুরো হয়ে উঠলেন তমলুকের তৃণমূল বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্র (Soumen Mahapatra)। উঠছে দল বদলের সম্ভাবনা।

    সৌমেন মহাপাত্রের নিরাপত্তায় কাটছাঁট!

    উল্লেখ্য, সৌমেন মহাপাত্র বর্তমানে তমলুকের বিধায়ক। তবে এই পদ ছাড়াও বিধানসভার ‘লোকাল ফান্ড স্ট্যান্ডিং কমিটির’ চেয়ারম্যান তিনি। যদিও মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়লেও এখনও তিনি ‘পাইলট কার’-সহ নিরাপত্তা পান। কিন্ত ভোট যখন বাংলার দোরগোড়ায়, সেই সময় ঘটল বড় চমক। হঠাৎ করেই তমলুকের বিধায়কের বাড়ির এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষী কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। জানা গিয়েছে এইমুহুর্তে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন তিনজন পুলিশকর্মী। আর এই ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র।

    ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করলেন বিধায়ক

    জানা গিয়েছে, তমলুকের বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্র সাংবাদিক বৈঠক করে শাসক দলের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভোট সামনে থাকলেও দল তাঁকে কাজে লাগাচ্ছে না। এমনকি চারবারের বিধায়ক ও তিনবারের মন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না? এদিন সাংবাদিকরা বিজেপির প্রসঙ্গ তুলতেই সৌমেন মহাপাত্র স্বীকার করে নেন যে, পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই কঠিন। কিন্তু একটিবারও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সম্পর্কে কোনো ভালো-খারাপ মন্তব্য করলেন না। আর তাতেই সন্দেহ বাড়ছে তবে কি নির্বাচনের আগেই পদ্ম শিবিরের যোগ দেবেন এই বিধায়ক?

    আরও পড়ুন: ৫টি পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের জন্য নয়া উন্নয়ন পর্ষদ গঠনের ঘোষণা নবান্নের

    প্রসঙ্গত, তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকেই দলের সঙ্গে রয়েছেন সৌমেন মহাপাত্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার তিনবারের মন্ত্রীও ছিলেন। এমনকী গত বিধানসভা নির্বাচনে তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদও সামলেছেন সৌমেন মহাপাত্র। কিন্তু আচমকাই গত ২০২২ সালে সৌমেন মহাপাত্রকে মন্ত্রিত্বকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকী ক্ষুদ্র শিল্প নিগমের চেয়ারম্যান পদ এবং সমস্ত দলীয় পদও খোয়াতে হয় তাঁকে। এদিকে নিরাপত্তা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে সৌমেন মহাপাত্রের স্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী সুমনা মহাপাত্রও একই সুরে অভিযোগ তোলেন। যদি ওই বিষয় নিয়ে এখনো তৃণমূলের তরফে কোন প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। এখন দেখার নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সঙ্গে সৌমেন মহাপাত্রের সম্পর্কের সমীকরণটি বদলায় নাকি।

  • মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে FIR দায়ের বিশ্ব হিন্দু পরিষদের!

    মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে FIR দায়ের বিশ্ব হিন্দু পরিষদের!

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভোটের আবহে রীতিমত উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। যেহেতু হাতে সময় খুব কম তাই এখন থেকেই জনসংযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসূচি করে চলেছে শাসকদল থেকে বিরোধীরা। আর এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে FIR দায়ের করা হল বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (Vishva Hindu Parishad) তরফে। জানা গিয়েছে পুলিশ সরাসরি FIR নিতে অস্বীকার করায় ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে দাবি পরিষদের।

    ধরনা মঞ্চে বিতর্কিত মন্তব্য মমতার

    গত শনিবার থেকে রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনী অর্থাৎ SIR এর প্রতিবাদে কলকাতার ধর্মতলায় পাঁচদিন ব্যাপী ধরনা কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চে ছিলেন একাধিক তৃণমূল নেতৃত্ব। সেখান থেকেই জনসমক্ষে বক্তব্য রাখার সময় তিনি বলেন, “আমরা আছি বলে আপনারা সবাই ভালো আছেন। আর যদি আমরা না থাকি… এক সেকেন্ড লাগবে একটা কমিউনিটি যখন জোট বাঁধে না, ঘিরে ফেললে এক সেকেন্ডে দেবে একদম ১২ টা বাজিয়ে দেবে।” ক্রমেই ভাইরাল হয়ে যায় এই মন্তব্য। অনেকেই একে ‘ঘৃণ্য’, ‘বিভ্রান্তিকর’ এবং ‘সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক’ বলেছেন। তাই এবার মমতার বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।

    FIR দায়ের বিশ্ব হিন্দু পরিষদের

    রিপোর্ট মোতাবেক, ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এবার আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বীরভূমের রামপুরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পূর্ব ক্ষেত্রের সম্পাদক অমিয় কুমার সরকার। তবে পুলিশ সরাসরি FIR নিতে অস্বীকার করেছিল তাই ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ জানানো হয়। অমিয় কুমার সরকার জানান, রাজ্যের একজন সন্মানীয় ব্যক্তি হয়েও এই ধরনের মন্তব্য রাজ্যে দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। আর এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই তুমুল উত্তেজনা।

    আরও পড়ুন: নবান্নের দিকে জানলা ব্যালকনি রাখা যাবে না! পুলিশের শর্তে বড় ধাক্কা দিল হাইকোর্ট

    মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রথমে FIR না নেওয়ায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সম্পাদক অমিয় কুমার সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “পুলিশ আমাদের FIR নিতে চায়নি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে যে বর্তমানে প্রশাসন দলদাসে পরিণত হয়েছে। আমরা ই-মেইলে অভিযোগ জানিয়েছি। প্রতিটি জেলায় এবার এফআইআর করা হবে। পুলিশ পদক্ষেপ না করলে আমরা এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হব এবং মুখ্যমন্ত্রীকেও আদালতে টেনে নিয়ে যাব। দেখি কে আটকায়।” এদিকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এই পদক্ষেপে তুমুল প্রশংসা করছে বিরোধীরা।

  • জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহর উপর গুলি, এখন কেমন আছেন তিনি?

    জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহর উপর গুলি, এখন কেমন আছেন তিনি?

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ন্যাশনাল কনফারেন্সের পৃষ্ঠপোষক ডঃ ফারুক আব্দুল্লাহকে (Farooq Abdullah) লক্ষ্য করে গুলি চালানো হল। অল্পের জন্য কোনওক্রমে রক্ষা পেয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছে জম্মু শহরের গ্রেটার কৈলাস এলাকায়। সেখানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তিনি, এমনটাই খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

    ফারুক আব্দুল্লাহর উপর গুলি

    রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, আজ রাত সাড়ে দশটার পর ঘটনাটি ঘটে। ফারুক আব্দুল্লাহ এবং উপমুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরী এক বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। তাঁদেরকে লক্ষ্য করেই গুলি চালানো হয। পরে জানা যায়, ওই দুষ্কৃতির নাম কমল সিং জামওয়াল। তবে গুলি চালানোর সময় নিরাপত্তা কর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে ধরে ফেলে এবং হেফাজতে নেয়। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় তাঁদের উপরে গুলি চালিয়েছিল। তবে সুখবর এই যে, অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

    এটিকে সন্দেহভাজন ব্যক্তি কেন গুলি চালিয়েছিল এবং কাকে ঠিক লক্ষ্যবস্তু করতে চেয়েছিল তা এখনো পর্যন্ত পুলিশের কাছে স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যেই এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে জম্মু কাশ্মীর পুলিশ। এমনকি ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হয়েছে। আর সেখানে আবদুল্লাহকে চৌধুরী এবং আরও বেশ কয়েকজনের সাথে অনুষ্ঠানস্থান থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। আর অভিযুক্ত তাঁদেরকে অনুসরণ করে আব্দুল্লাহর দিকে এগিয়েও গিয়েছিল। তবে নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত ওই অভিযুক্তকে ধরে ফেলে।

    আরও পড়ুন: সিদ্ধি যোগে টাকা-পয়সায় মুড়ে যাবে ৪ রাশির ভাগ্য! আজকের রাশিফল, ১২ মার্চ

    এ বিষয়ে উপমুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিয়ে থেকে বেরিয়ে আসার সময় বন্দুকধারী আব্দুল্লাহর পিঠ লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। এমনকি তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমালোচনা করেও বলেছেন যে, স্থানীয় পুলিশের সম্পূর্ণ গাফিলতি ছিল। সেরকম কোনও নিরাপত্তাও ছিল না। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আগে নিরাপত্তা দল তাকে গ্রেফতার করেছে। তবে হ্যাঁ, এই ঘটনায় আব্দুল্লাহ এবং উপমুখ্যমন্ত্রী সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছেন।