Category: রাজনীতি

  • মমতা, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে মুসলিম ক্যান্ডিডেট! ভবানীপুরে কাকে প্রার্থী করলেন হুমায়ুন?

    মমতা, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে মুসলিম ক্যান্ডিডেট! ভবানীপুরে কাকে প্রার্থী করলেন হুমায়ুন?

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ঘোষণা হয়ে গিয়েছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) দিন। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যে হবে ভোট। এদিকে তৃণমূল বিজেপি এবং লাল শিবির প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে দিয়েছে। এমতাবস্থায় আর দেরি না করে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল হুমায়ুন কবীরের জনতা উন্নয়ন পার্টি (Candidate Lists Of Humayun Kabir Party)। জানা গিয়েছে, তাঁরা এবার ১৮২টি আসনে প্রার্থী দিচ্ছে তাঁরা।

    দুই জায়গার প্রার্থী হলেন হুমায়ুন কবীর

    গতকাল অর্থাৎ বুধবার, জনতা উন্নয়ন পার্টির ১৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন কবীর। এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে হুমায়ুন জানিয়েছেন, “আমরা ১৮২টি আসনে প্রার্থী দিচ্ছি। বাকি প্রার্থী তালিকা আগামী ২২ মার্চ তারিখ প্রকাশ করা হবে।” এছাড়াও তিনি জানিয়েছেন ‘মিম’ অর্থাৎ অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীনের সঙ্গেও আসন সমঝোতা চলছে। তাঁদের নাকি কয়েকটি আসন ছাড়া হয়েছে, তারা সেখানে লড়বে। কিন্তু সূত্রের খবর, এবার হুমায়ুন কবীর লড়বেন না ভরতপুর থেকে। শুভেন্দু অধিকারী যেমন নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর থেকে লড়বেন, ঠিক তেমনই হুমায়ুন কবীরও মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং নঁওদা থেকে লড়বেন।

    কে কোথায় লড়ছেন?

    জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, বর্ধমান পূর্বস্থলী উত্তর থেকে লড়াই করবেন বাপন ঘোষ। ইয়াসিন হায়দার কান্দি থেকে লড়াই করবেন। মালতীপুর থেকে আবদুল মিনাজ শেখ, বেলডাঙা থেকে সৈয়দ আহমেদ কবীর, মানিকচক থেকে আবু শইদ, মালদহ রতুয়া থেকে রয়াল ইসলাম, সুজাপুর থেকে নাসিমুল হক, ভরতপুর থেকে সৈয়দ খুবাইব আমিন সাহেব, বেহালা পূর্ব থেকে অনুপম রোহদগীর, ফরাক্কা থেকে ইমতিয়াজ মোল্লা, হরিহর পাড়া থেকে বিজয় শেখ এবং ভবানীপুর আসনে একজন অবাঙালি মুসলিমকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তাঁর নাম আগামী ২২ তারিখে প্রকাশ্যে আসবে।

    আরও পড়ুন: স্বপ্না বর্মণের জীবনে শোকের ছায়া, বাবাকে হারিয়ে ভেঙে পড়লেন তৃণমূলের প্রার্থী

    সূত্রের খবর, তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা থেকে বেশ কয়েকজন মুসলিম বিধায়কের নাম বাদ পড়েছে এবার তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইছেন হুমায়ুন। তাঁর লক্ষ্য তৃণমূলকে উচিত শিক্ষা দেওয়া এবং রাজ্যের মুসলিম ভোট এক করা। এর আগে সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে জোট গঠনের জন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন হুমায়ুন। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি। উল্টে এই নিয়ে সিপিআইএমের অন্দরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। একজন দেখার বিজেপি দ্বিতীয় দফা ভোটের জন্য কাকে কাকে প্রার্থী তালিকায় জায়গা দেয়।

  • স্বপ্না বর্মণের জীবনে শোকের ছায়া, বাবাকে হারিয়ে ভেঙে পড়লেন তৃণমূলের প্রার্থী

    স্বপ্না বর্মণের জীবনে শোকের ছায়া, বাবাকে হারিয়ে ভেঙে পড়লেন তৃণমূলের প্রার্থী

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্রমেই এগিয়ে আসছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), কিন্তু তার আগেই ঘটে গেল এক ভয়ংকর বিপদ। উত্তরবঙ্গের রাজগঞ্জ কেন্দ্রের প্রার্থী হওয়ার পরই বড় ধাক্কা খেলেন অ্যাথলিট কন্যা স্বপ্না বর্মন (Swapna Barman)৷ দীর্ঘ অসুস্থতার পর বুধবার রাতে বাবাকে হারালেন (Swapna Barman Father Passes Away) রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী৷ শোকের ছায়া নেমে এল পরিবারে। পাশে দাঁড়ালেন তৃণমূল নেতা নেত্রীরা।

    মারা গেলেন স্বপ্না বর্মনের বাবা

    আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখেই গত মঙ্গলবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। আর সেই তালিকায় উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে উঠে এল নয়া মুখ স্বপ্না বর্মন। জানা গিয়েছে জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতে চলেছেন এই অ্যাথলিট কন্যা। রাজনীতির দুনিয়ায় প্রথমবার ভোটে দাঁড়িয়ে বেশ খুশি তিনিও। কিন্তু এসবের মাঝেই বড় দুর্যোগ নেমে এল তাঁর পরিবারে। জানা গিয়েছে গতকাল, বুধবার রাতে ৭২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন স্বপ্না বর্মনের বাবা। শোকের ছায়া নেমে এসেছে বর্মন পরিবারে, মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন স্বপ্নাও৷

    দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন স্বপ্না!

    সূত্রের খবর, স্বপ্না বর্মনের বাবা পঞ্চানন বর্মন গত বৃহস্পতিবার রাতে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তড়িঘড়ি ওইদিন রাত প্রায় তিনটের সময় কালিয়াগঞ্জের বাড়ি থেকে পঞ্চাননকে জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। এরপর নিউরোলজিক্যাল চিকিৎসার জন্য পরেরদিন, শুক্রবার দুপুরে তাঁকে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। এদিকে ওইদিনই সকালে দুইবার তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। অবস্থা অত্যন্ত সংকটপূর্ণ ছিল। বিশেষ মেডিকেল টিম বানিয়ে তাঁর চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু সব চেষ্টাই বৃথা হয়ে গেল।

    আরও পড়ুন: সুরক্ষায় নয়া রেকর্ড গড়ল রেল, ৩০০০ কিমিতে চালু ‘কবচ’, কাজ চলছে আরও ২০০০০ কিমিতে

    এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে নিজেকে গড়ে তুলেছেন স্বপ্না বর্মন। দারিদ্র্য, অভাব-অনটন নিয়ে সংসার চালিয়েছিলেন তাঁর বাবা। শেষে সব কিছু পেরিয়ে দেশের হয়ে সোনা জয়ের গল্প ইতিমধ্যেই বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আর এবার স্বপ্না আরও একটি অধ্যায় শুরু করতে চলেছে একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে। কিন্তু সেই নতুন অধ্যায়ের সূচনা প্রাণের প্রিয় মানুষকে হারিয়ে রীতিমত কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তিনি। এদিকে রাজগঞ্জ কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক লড়াইও ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এখন দেখার এই সবকিছুকে ছাপিয়ে স্বপ্না জয়ের লক্ষ্যে কতটা এগিয়ে যেতে পারে।

  • বাংলার মসনদে ফের তৃণমূল নাকি বিজেপি? নিজের দলকে পিছিয়ে রেখে ভবিষ্যদ্বাণী অভিষেকের!

    বাংলার মসনদে ফের তৃণমূল নাকি বিজেপি? নিজের দলকে পিছিয়ে রেখে ভবিষ্যদ্বাণী অভিষেকের!

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ পশ্চিমবঙ্গ সহ ৫ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের (West Bengal Election 2026) দামামা বেজে গিয়েছে। এদিকে ভোট ঘোষণার পরেই তৃণমূল থেকে শুরু করে বাম, বিজেপি নিজেদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছে। এখন শুধুমাত্র বাকি রয়েছে কংগ্রেস, আইএসএফ। যাইহোক, এরই মাঝে বাংলায় কে জিতবে, তা নিয়ে বড় দাবি করলেন সিনিয়র কংগ্রেস নেতা তথা আইজীবী অভিষেক মনু সিংভি। সবথেকে বড় কথা, বাংলায় কংগ্রেসের কী অবস্থা হবে তারও ইঙ্গিত দিলেন। চলুন বিশদে জেনে নেবেন।

    ২৬-এর ভোটে বাংলায় কে জিতবে?

    ২৬-এর ভোটে বাংলায় কে জিতবে? বিজেপি, তৃণমূল নাকি অন্য কেউ? অভিষেক মনু সিংভির উত্তর সকলকে চমকে দিয়েছে। আসলে সম্প্রতি বাংলায় কংগ্রেসের লড়াই করা উচিৎ কি না, একসঙ্গে লড়া ভালো নাকি জোটে? এই প্রশ্নের উত্তরে অভিষেক মনু সিংভি বলেন, “এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত যে বাংলায় জোট হওয়া উচিত। কিন্তু এমন অনেক কারণ আছে যার জন্য জোট গঠন করা যায় না। এটা আমাদের বা কয়েকজন নেতার সিদ্ধান্ত হতে পারে না। কংগ্রেসের তিন-চারজন এই সিদ্ধান্ত নেন।”

    তিনি আরও বলেন, “আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস হলো, নির্বাচন আসন্ন হওয়ায় সঠিক সংখ্যার ভিত্তিতে জোট গঠন করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আমি আবারও বলছি যে এটি আমার ব্যক্তিগত মতামত।” এদিকে, অভিষেক মনু সিংভি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল নেত্রী প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে যদি এমন কোনো নেত্রী থাকেন যিনি মানুষের মন জয় করেছেন, তবে তিনি হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তাঁর শিরায় শিরায় বইছে।” তাহলে কি ভোট, ফলাফলের আগেই বাংলার মসনদে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত তৃণমূলই বসছে? সেই ইঙ্গিতই কি দিতে চাইলেন দিল্লির এই সিনিয়র কংগ্রেস নেতা? উঠছে প্রশ্ন।

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভুয়সী প্রশংসা কংগ্রেস নেতার

    কংগ্রেস নেতা আরও বলেছেন যে, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে অফুরন্ত শক্তি, সামর্থ্য, দিকনির্দেশনা এবং গতি রয়েছে। তিনি বাংলার সংকট বোঝেন। সমস্ত ভারতীয় নেতাদের মধ্যে, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে, তাঁর চেয়ে ভালো রাজনীতি আর কেউ করতে পারেন না। অভিষেক মনু সিংভিও বিজেপির নির্বাচনী প্রচারের বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “আমার বিশ্বাস, বিজেপি কেবল একটি পরিবেশ তৈরি করছে। প্রত্যেকের ব্যক্তিগত জীবনই একসময় শেষ হয়ে যায়। কিন্তু বিজেপি ভাবছে এটাই সঠিক সময়, আমি বলবে এমনটা ভাবা ঠিক নয়।’

    আরও পড়ুনঃ একসময় বিজেপিতে আস্থা দেখিয়েছিল ভবানীপুর, জিতেছিল গেরুয়া শিবির

    অভিষেক মনু সিংভি বলেছেন, “গতবারের মতোই এবারও প্রচুর শোরগোল হবে। সে সময় এমন একটা আবহ তৈরি করা হয়েছিল যে বিজেপি জিতছে এবং ২০২, ২২৫, ২৫০-এর মতো সংখ্যাও দেওয়া হয়েছিল। মানুষ এমনকি বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল যে বাংলায় গেরুয়া ঝড় বইতে চলেছে, কিন্তু ‘পাহাড় খুঁড়তে গিয়ে ইঁদুর’ প্রবাদটি সেই সময়ে সত্যি প্রমাণিত হয়। তাই বাংলার মানুষের আতঙ্কিত হওয়া উচিত নয়; ঢাক পেটানোই বিজেপির স্বভাব।”

  • একসময় বিজেপিতে আস্থা দেখিয়েছিল ভবানীপুর, জিতেছিল গেরুয়া শিবির

    একসময় বিজেপিতে আস্থা দেখিয়েছিল ভবানীপুর, জিতেছিল গেরুয়া শিবির

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বাংলায় ভোটের আখড়া রীতিমত জমে উঠেছে। রবিবার নির্বাচন কমিশনের ভোটের (West Bengal Election 2026) দিনক্ষণ ঘোষণার পরেই পরেরদিন সোমবার, বিজেপি প্রথম দফার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। আর সেই তালিকায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে দেখা গিয়েছে ভবানীপুর (Bhabanipur) এবং নন্দীগ্রামের প্রার্থী হতে। অন্যদিকে গতকাল, তৃণমূল কংগ্রেস প্রকাশ্যে এসেছে সম্পূর্ণ ভোটার তালিকায়। উল্লেখ্যযোগ্য বিষয় হল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবার ভবানীপুর থেকে ভোটে দাঁড়াতে চলেছেন। অর্থাৎ নন্দীগ্রামের হাইভোল্টেজ লড়াই এবার দেখা যাবে ভবানীপুরে।

    ভবানীপুরে জোর টক্কর তৃণমূল বিজেপির

    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। মমতাকে ১৯৫৬ ভোটে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু। প্রতি মুহূর্তে সেই সংখ্যা জাহির করে প্রায়ই নিজের প্রশংসা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবারেও শুভেন্দু দাবি করেছেন যে ২০২১-এ তাঁর কাছে নন্দীগ্রামে যেভাবে হারতে হয়েছিল মমতাকে, ২০২৬ এ ভবানীপুরে তার পুনরাবৃত্তি হবে। কিন্তু ইতিহাস বলছে, ভবানীপুর দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। তাই মমতাকে হারাতে গেলে অনেক কষ্ট করতে হবে। কিন্তু এর মাঝেও উঠছে উল্টো হিসেব, কারণ একসময় কিন্তু বিজেপিও ভবানীপুরে জিতেছিল।

    ভবানীপুরে জিতেছিল বিজেপি!

    রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, ২০১১ সালের পর থেকে ভবানীপুর কেন্দ্রে একাধিকবার জিতেছিল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১১ ও ২০২১ সালের উপনির্বাচন এবং ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছিল তৃণমূল। যদিও ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভালো ফল করতে পারেনি তৃণমূল, উল্টে গেরুয়া শিবির কম ভোট পেলেও হারিয়েছিল শাসকদলকে। রিপোর্ট বলছে ২০১৪ এর লোকসভা নির্বাচনে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে সর্বমোট ১৮৫ ভোটে জিতেছিল বিজেপি (যদিও সেটি আসন জয় নয়, তবে সেবার ভবানীপুরে প্রথমবার এমন পটপরিবর্তন দেখা গিয়েছিল)। যদিও ওই একটি বারই, গত ১৫ বছরে মোট ৮টি নির্বাচনের মধ্যে ৭টিতেই তৃণমূল জয়ী বা এগিয়ে ছিল। ফলে এই কেন্দ্র এখনও তৃণমূলের ঘাঁটি বলেই ধরা হয়।

    আরও পড়ুন: বাংলায় ফের বড় অ্যাকশন কমিশনের, পাঁচ DIG সহ ১১ DM-কে সরাল কমিশন

    বেশ কয়েকটি সংবাদ প্রতিবেদনে শোনা যাচ্ছে, ভবানীপুরে প্রায় ৪০% বাঙালি ভোটার, সমসংখ্যক গুজরাতি, মারওয়ারি, বিহারি ও অন্যান্য রয়েছে এছাড়াও মুসলিম ভোটারের পরিসংখ্যানও এখানে ২০%। এই মিশ্র সামাজিক গঠন নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেয়। সেক্ষেত্রে দুই দলের মধ্যে কোন দল জিতবে সেই নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। যদিও তৃণমূল এবং বিজেপি দুজনেই আশা রাখছে তারাই জিতবে। এখন দেখার মমতা বনাম শুভেন্দুর লড়াইয়ের টক্করে কে জেতে।

  • শুভেন্দুর বিরুদ্ধে তৃণমূলের ‘বাজি’ পবিত্র কর, চিনে নিন নন্দীগ্রামের প্রার্থীকে

    শুভেন্দুর বিরুদ্ধে তৃণমূলের ‘বাজি’ পবিত্র কর, চিনে নিন নন্দীগ্রামের প্রার্থীকে

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) দিন ঘোষণা হতেই রাজ্য রাজনীতিতে এক তুমুল উত্তেজনামূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভোটের আবহে ঘোষণা হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থীদের তালিকা। বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে নন্দীগ্রাম (Nandigram) এবং ভবানীপুর থেকে এবার লড়াই করবেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এরপরেই জল্পনা বাড়ে কে তৃণমূলের প্রার্থী হবে এই যুদ্ধে। গতকালই প্রকাশ্যে আসে তালিকা। জানা যায় ভবানীপুরে লড়াই করবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করবেন পবিত্র কর (Pabitra Kar)।

    কে এই পবিত্র কর?

    নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বয়ালের বাসিন্দা হলেন তৃণমূলের নয়া প্রার্থী তথা দাপুটে নেতা পবিত্র কর। শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চমাধ্যমিক পাশ। তাঁর মাছের পারিবারিক ব্যবসা রয়েছে। প্রথম দিকে পবিত্র কর তৃণমূলেই ছিলেন। সেই সময় নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে একাধিক বার প্রধান ও উপপ্রধানের দায়িত্ব সামলে ছিলেন। কোনোরকম প্রচার ছাড়াই নিজের মত করে এলাকার কাজ করে গিয়েছেন। বলা হয়, বিজেপির মধ্যে যারা কড়া হিন্দুত্ববাদী নেতা রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে এই পবিত্র কর একজন। বর্তমানে বয়াল ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের তাঁর স্ত্রী শিউলি কর প্রধান। তবে ২০২০ সালে পবিত্র কর তৃণমূল ছেড়ে দিলীপ ঘোষের হাত থেকে বিজেপির পতাকা তুলে নেন। আর তার পরেই তৃণমূল ছেড়ে শুভেন্দু অধিকারীও যোগ দেন বিজেপিতে।

    পুনরায় তৃণমূলে যোগ পবিত্রর

    ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৯৫৬ ভোটে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সংখ্যা জাহির করে প্রায়ই নিজের কথা বলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবারেও শুভেন্দু দাবি করেছেন যে ২০২১-এ তাঁর কাছে নন্দীগ্রামে যেভাবে হারতে হয়েছিল মমতাকে, ভবানীপুরে তার পুনরাবৃত্তি হবে। তাই স্বাভাবিকভাবেই সকলের মনে প্রশ্ন জাগছে কে হবে। যদিও জল্পনা আগেই উঠেছিল পবিত্র করের। কারণ গত ডিসেম্বর থেকে এই পবিত্রর দলবদল নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। এমনকি আইপ্যাকের সঙ্গে পবিত্রর গোপন বৈঠকে বোঝা গেছিল এবার দলবদলের পালা তাঁর। আর সেটাই বাস্তবের রূপ নিল।

    আরও পড়ুন: নবান্নর DA বিজ্ঞপ্তি নিয়ে ক্ষোভ, এরা আদৌ পাবেন মহার্ঘ ভাতা? ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

    গতকাল, মঙ্গলবার, তৃণমূলের বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণার আগেই সকালবেলায় বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগ দিলেন পবিত্র কর। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে তুলে নিয়েছিলেন দলীয় পতাকা। এরপর বিকেলেই নন্দীগ্রামের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয় তাঁর নাম। একসময় যে কিনা শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ ছিলেন সেই এখন শুভেন্দুর প্রতিপক্ষ হয়ে ভোট ময়দানে নামবেন। এ বার দেখার পালা নিজের ঘুঁটি কী ভাবে সাজান পবিত্র। তবে তৃণমূল ইতিমধ্যেই বলতে শুরু করে দিয়েছে, এ বার নন্দীগ্রামে খেলা হবে, বিরাট খেলা হবে, বইবে সবুজ ঝড়।

  • ৭৪ জন বর্তমান বিধায়ককে টিকিট দিল না তৃণমূল, আসন বদল হল কাদের? দেখুন

    ৭৪ জন বর্তমান বিধায়ককে টিকিট দিল না তৃণমূল, আসন বদল হল কাদের? দেখুন

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: কথামতোই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস (West Bengal Assembly Election)। মঙ্গলবার বিকেলে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেই তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয়, সেই তালিকায় নাম নেই একাধিক বর্তমান বিধায়কের। হাওড়া শিবপুরের বিধায়ক মনোজ তিওয়ারি থেকে শুরু করে পরেশ পালের মতো 74 জন সিটিং MLA শাসক দলের টিকিট পাননি।

    74 জন তৃণমূল বিধায়কের নাম নেই প্রার্থী তালিকায়

    নির্বাচন ঘোষণার আগে জল্পনা বেড়েছিল বহু বিধায়কের টিকিট পাওয়া নিয়ে। তাছাড়াও অনেকেই ভেবেছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মতো বিধায়করা নিজেদের কেন্দ্র থেকে এ বছর আর লড়তে পারবেন না। তবে হয়েছে তার উল্টো। শিবপুরের বিধায়ক মনোজ তিওয়ারি, জোড়াসাঁকর বিধায়ক বিবেক গুপ্ত, মালদহের কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরি থেকে শুরু করে রত্না দে নাগ, পরেশ পাল, সাবিত্রী মিত্রর মতো মোট 74 জন বর্তমান বিধায়ক এবারের প্রার্থী তালিকায় জায়গা পাননি।

    বলাই বাহুল্য, উল্লিখিত নাম গুলি ছাড়াও 74 জনের তালিকায় নাম রয়েছে বলাগড়ের মনোরঞ্জন ব্যাপারী, চুঁচুড়ার অসিত মজুমদার, সপ্তগ্রামের তপন দাশগুপ্ত, শ্রীরামপুরের ডক্টর সুদীপ্ত রায়, ডোমজুড়ের কল্যাণ ঘোষদের। হিসেব বলছে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে সবমিলিয়ে 33 শতাংশ বিধায়ককেই নতুন করে টিকিট দেয়নি, দল তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও এ নিয়ে আগেই হালকা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

    এ প্রসঙ্গে দলীয় সূত্রে খবর, স্থানীয় স্তরের কিছু বিরোধিতার কারণেই এ বছর নতুন করে টিকিট পেলেন না 74 জন বিধায়ক। শোনা যাচ্ছে, নতুন করে তাঁদের টিকিট দেওয়া হলে হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেই দিক মাথায় রেখেই বর্তমান বিধায়কদের ফের প্রার্থী তালিকায় জায়গা দেয়নি তৃণমূল কংগ্রেস।

    আসন বদলেছে বহু বিধায়কের

    এদিকে বর্তমান বিধায়কদের মধ্যে অনেকেই টিকিট পেলেও আগের আসন থেকে লড়তে পারছেন না। সেই তালিকায় নাম রয়েছে 15 জনের। এদের মধ্যে বেহালা পূর্বের বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়কে পাঠানো হয়েছে বেহালা পশ্চিমে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে খড়দহ থেকে সরিয়ে নিয়ে বালিগঞ্জ বিধানসভার প্রার্থী করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য নাম শওকত মোল্লাকে ক্যানিংয়ের বদলে প্রার্থী করা হয়েছে ভাঙরে। একই সাথে ডেবরার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে মুর্শিদাবাদের ডোমকলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর বদলে ডেবরায় টিকিট পেয়েছেন সেচ এবং বন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।

    অবশ্যই পড়ুন: অধিনায়ক কে হবে ঘোষণা করে দিল KKR, নাম জানলে চমকে যাবেন

    বলে রাখি, বর্তমান বিধায়কদের মধ্যে এবছর 135 জন টিকিট পেয়েছেন। ওদিকে হাবড়ার জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে নিয়ে কানাঘুষা শোনা গিয়েছিল হয়তো এ বছর হাবড়া থেকে তাঁকে দাঁড় করানো হবে না। তবে সেসব জল্পনাতে কান না দিয়েই স্থানীয় স্তরে বালু দা হিসেবে পরিচিত নেতাকে ফের একই আসন থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। ওদিকে হাবড়ার সম্ভাব্যপ্রার্থীর তালিকায় থাকা কুনাল ঘোষ টিকিট পেয়েছেন বেলেঘাটায়। তবে ইমন চক্রবর্তীর মতো ব্যক্তিদের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও এখনই সেই পথে হাঁটেনি তৃণমূল।

  • তৃণমূলে যোগ দিয়েই প্রার্থী, সমাজের জন্য যা করেছেন আব্দুল মাতিন, জেনে শ্রদ্ধা বাড়বে

    তৃণমূলে যোগ দিয়েই প্রার্থী, সমাজের জন্য যা করেছেন আব্দুল মাতিন, জেনে শ্রদ্ধা বাড়বে

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) দামামা বেজে গিয়েছে রাজ্য জুড়ে, বিজেপি-সিপিএমের পর তৃণমূলও প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করেছে। কিন্তু তার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে ক্রিকেটার শিবশঙ্কর পাল, শিক্ষাবিদ তনুশ্রী হাঁসদা ও আবদুল মাতিন (Abdul Matin) যোগ দেন তৃণমূলে। আর যোগ দেওয়ার পরেই তিনি টিকিটও হাসিল করে নিয়েছেন।

    তৃণমূলে যোগ ৪ জনের

    আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার দুপুরের পরেই তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হয়েছে। আর প্রার্থী তালিকা প্রকাশের আগেই শাসকদলে যোগ দেন প্রাক্তন ক্রিকেটার শিবশঙ্কর পাল, শিক্ষাবিদ তনুশ্রী হাঁসদা, মুহম্মদ আব্দুল মতিন। তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও পার্থ ভৌমিক। অন্য দিকে এ দিন একই সময়ে রাজ্যের আরও কয়েকটি জেলায় বিভিন্ন সমাজকর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বও তৃণমূলের পতাকা হাতে নেন। বাঁকুড়া জেলার শালতোড়া ও বড়জোড়া এলাকা থেকে সমাজসেবী গৌতম মিশ্র তৃণমূলে যোগ দেন।

    সমাজকর্মী হিসেবে আব্দুল মতিনের নাম জনপ্রিয়

    শিক্ষাক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম হল আবদুল মাতিন। তিনি মূলত ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিয়ে শুরু করে তাঁর পরিচালিত প্রতিষ্ঠান রাজ্য মাদ্রাসা বোর্ড ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত কাজ করে চলেছেন। মেয়েদের শিক্ষা সম্প্রসারে নির্মাণ করেছেন ১৮ টি স্কুল। একইসঙ্গে অল ইন্ডিয়া সুন্নত উল জামাত নামে এক সংগঠনের সংগঠনের সম্পাদকও তিনি। এর পাশাপাশি তৈরি করেছেন ২টি আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। একাদশ ও দ্বাদশ শেণিতে মেয়েদের ভর্তি নেওয়া হয় ওইসব প্রতিষ্ঠানে।

    আরও পড়ুন: হিরণ ছাড়া বিজেপির প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ আরও ৮ বিধায়ক, দেখুন লিস্ট

    আজ তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় আব্দুল মতিনের নাম জ্বলজ্বল করছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাড়োয়া থেকে আব্দুল মতিনকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

  • নন্দীগ্রামে পবিত্র, ভবানিপুরে মমতা! ২৯১ আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল TMC

    নন্দীগ্রামে পবিত্র, ভবানিপুরে মমতা! ২৯১ আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল TMC

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মাস গড়ালেই বিধানসভা নির্বাচন বাংলায়। গতকাল বিজেপি এবং বামফ্রন্ট তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। আর সেই তালে তাল মিলিয়ে আজ রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ২৯১ আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল (TMC Candidate List)। একদিকে ভবানীপুরে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে নন্দীগ্রামেও রয়েছে চমক। কারণ, সেখানেও লড়ছেন শুভেন্দু। আবার সেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককেই হাবড়ার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করা হল। কোন আসনে কাকে প্রার্থী করল শাসকদল? জানুন।

    তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ঘোষণা

    শাসকদল এবার রাজ্যের মোট ২৯১টি আসনে তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। প্রত্যেকটি বিধানসভা অনুযায়ী প্রার্থী তালিকা নিচে তুলে ধরা হল—

    • অশোকনগর- নারায়ণ গোস্বামী
    • আলিপুরদুয়ার- সুমন কাঞ্জিলাল
    • উত্তরপাড়া- শীর্ষান্ন বন্দ্যোপাধ্য়ায়
    • উলুবেড়িয়া পূর্ব- ঋতব্রত
    • কান্দি- অপূর্ব সরকার
    • কামারহাটি- মদন মিত্র
    • কালিগঞ্জ- পার্থপ্রতিম রায়
    • করিমপুর- সোহম চক্রবর্তী
    • কুশমণ্ডি- রাজীব তিরকে (কুমারগঞ্জ)
    • কোচবিহার উত্তর- পার্থপ্রতিম রায়
    • কলকাতা পোর্ট- ফিরহাদ হাকিম
    • করিমপুর- সোহম
    • কান্দি- অপূর্ব সরকার
    • খড়গপুর (ডেবরা)- রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়
    • গোপালপুর (রাজারহাট)- অদিতি মুন্সি
    • চাঁচল-মালদা- প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়
    • চোপড়া- হামিদুল রহমান
    • চুঁচুডা- দেবাংশু ভট্টাচার্য
    • দিনহাটা- উদয়ন গুহ
    • ডোমকল- হুমায়ুন কবীর
    • ডায়মন্ড হারবার- পান্নালাল হালদার
    • ডেবরা- রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তালিগঞ্জ- অরূপ বিশ্বাস
    • ধূপগুড়ি- ড. নির্মল রায়
    • নন্দীগ্রাম- পবিত্র কর
    • নওদা- বাইরন বিশ্বাস
    • নাটাবাড়ি- শৈলেন বর্মা
    • নোয়াপাড়া- তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য
    • পাঁচলা- গুলশন মল্লিক
    • পলাশিপাড়া- রুকবানুর রহমান
    • বারুইপুর পশ্চিম- বিমান বন্দোপাধ্যায়
    • বারুইপুর পূর্ব- বিভাস সর্দার
    • ব্যারাকপুর- রাজ চক্রবর্তী
    • বালুরঘাট- অর্পিতা ঘোষ
    • বেহালা পশ্চিম- রত্না চট্টোপাধ্যায়
    • বেলেঘাটা- কুণাল ঘোষ
    • বরানগর- মদন মিত্র
    • ভবানীপুর- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    • ভাটপাড়া- অমিত গুপ্তা
    • ভাঙড়- শওকত মোল্লা
    • মানিকতলা- শ্রেয়া পাণ্ডে
    • মাথাভাঙা- সাধু বর্মন
    • মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি- শঙ্কর মালাকার
    • মেখলিগঞ্জ- পরেশ অধিকারী
    • মোথাবাড়ি- মহম্মদ নজরুল ইসলাম
    • রানাঘাট- রানা চট্টোপাধ্যায়
    • রামনগর- অখিল গিরি
    • রায়গঞ্জ- কৃষ্ণ কল্যাণী
    • রাজারহাট-নিউটাউন- তাপস চট্টোপাধ্যায়
    • শিলিগুড়ি- গৌতম দেব
    • শীতলকুচি- হরিহর দাস
    • সাগরদিঘি- বাইরন বিশ্বাস
    • সবং- মানস ভুঁইয়া
    • সিঙ্গুর- বেচারাম মান্না
    • সোনারপুর উত্তর- ফিরদৌসি বেগম
    • সোনারপুর দক্ষিণ- অরুন্ধুতী মৈত্র
    • হাবড়া- জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক
    • হাওড়া উত্তর- গৌতম চৌধুরী
    • হরিরামপুর- বিপ্লব মিত্র
    • বরানগর- সায়ন্তিকা
  • নন্দীগ্রামে মমতার আঘাতপ্রাপ্ত খুঁটিতে ধূপ-ধুনো! প্রচার শুরু বিজেপির, ভাইরাল ভিডিও

    নন্দীগ্রামে মমতার আঘাতপ্রাপ্ত খুঁটিতে ধূপ-ধুনো! প্রচার শুরু বিজেপির, ভাইরাল ভিডিও

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বহু জল্পনা এবং প্রতীক্ষার পর অবশেষে গত রবিবার কমিশন রাজ্যে দুই দফায় নির্বাচনের দিন (West Bengal Election 2026) ঘোষণা করল। ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের পর ৪ মে প্রকাশ্যে আসবে ফলাফল। এমতাবস্থায় গতকাল প্রকাশ্যে এল বিজেপির প্রার্থীদের তালিকা। ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম (Nandigram) থেকে দাঁড়াতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নাম ঘোষণায় আনন্দে মেতে উঠেছেন কর্মীরা। এমতাবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঘাতপ্রাপ্ত খুঁটিতে পুজো করে নন্দীগ্রামে প্রচার শুরু করে বিজেপি। ভাইরাল সেই ভিডিও।

    নন্দীগ্রামে খুঁটি পুজো বিজেপি কর্মীদের

    রবিবার কমিশনের নির্বাচনের দিন ঘোষণার পরেই নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থনে শুরু হয়ে যায় দেওয়াল লিখন। যদিও তখনও অফিসিয়ালি ঘোষণা হয়নি তাঁর নাম। তবে পরে নাম ঘোষণা হতেই উল্লাসে মেতে ওঠেন বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। ব্যান্ড পার্টি নিয়ে দলের পতাকা ওড়াতে ওড়াতে সোজা চলে যান নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া বাজারে। সেখানে যে খুঁটিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই খুঁটিতে ধূপকাঠি জ্বালিয়ে পুজো করতে দেখা যায় বিজেপি কর্মীদের। পুজো দেওয়ার পাশাপাশি জয় শ্রীরাম স্লোগানও দেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই সেই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি।

    কী কারণে এই খুঁটি পুঁজো?

    গতবার বিধানসভা নির্বাচনের সময় নন্দীগ্রামের ওই খুঁটিতে পায়ে আঘাত লেগেছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পায়ে প্লাস্টার নিয়েই রাজ্যজুড়ে ভোটের প্রচার করেছিলেন তিনি। যদিও বিজেপির নেতাদের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘নাটক’ করেছিলেন। তাতেও লাভ হয়নি তাঁর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৯৫৬ ভোটে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাই শাসক দলকে মোক্ষম জবাব দিতে সোমবার রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আঘাতপ্রাপ্ত খুঁটিতে পুজো করে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর হয়ে প্রচার শুরু করেন বিজেপি কর্মীরা। তুমুল ভাইরাল হয় সেই ভিডিও। আর তাতেই রাজনৈতিক তরজা চরম আকার নেয়।

    আরও পড়ুন: পরিচারিকাতে ভরসা বিজেপির, আউশ গ্রামের পদ্মের প্রার্থী কলিতা মাজির নাম বিচারাধীন

    খুঁটিপুজো প্রসঙ্গে তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি প্রলয় পাল বলেন ‘মেদিনীপুরে ছেলে শুভেন্দু অধিকারী এবার নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরেও প্রার্থী হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী যেখানেই দাঁড়ান না কেন আমাদের নেতা তাঁকে বিদায় জানাবেন। রীতি অনুযায়ী সনাতন ধর্মের মানুষ কিছু শুভ কাজ করার আগে খুঁটি পুজো করে। আমরা তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেই খুঁটিতে আঘাত পেয়েছিলেন, সেই খুঁটিতে পুজো করে শুভ কাজ শুরু করলাম।” অন্যদিকে ওই জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুজিত রায় বলেন, “যে বিজেপি নেতা খুঁটি পুজো করছেন তিনি মহিলাদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলেন। তাঁরাই শুভেন্দুর সম্পদ। এই নির্বাচনে মহিলারা বিজেপিকে উচিত শিক্ষা দেবেন।”

  • হিরণ ছাড়া বিজেপির প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ আরও ৮ বিধায়ক, দেখুন লিস্ট

    হিরণ ছাড়া বিজেপির প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ আরও ৮ বিধায়ক, দেখুন লিস্ট

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দুদফায় ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) হবে। এই অবস্থায় গতকাল অর্থাৎ সোমবার প্রথম দফায় ১৪৪টি আসনের জন্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি (Bharatiya Janata Party)। কিন্তু তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই দেখা যায় ১৪৪টি আসনের মধ্যে ৪৮টি আসন এমন, যেগুলি বিজেপির দখলেই ছিল। কিন্তু তার মধ্যে টিকিট পেলেন ৪০ জন। বাদ পড়লেন আট জন বিধায়ক। তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক।

    বাদ পড়েছে ৮ বিজেপি বিধায়ক

    বিজেপির প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী যে আটটি জয়ী আসনে প্রার্থী বদল করা হয়েছে, তার মধ্যে তিনটি উত্তরবঙ্গে, তিনটি রাঢ়বঙ্গে, বাকি দু’টি রাঢ় ঘেঁষা দক্ষিণবঙ্গে। অর্থাৎ তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন বালুরঘাটের অশোক লাহিড়ি, খড়্গপুর সদরের হিরণ চট্টোপাধ্যায়, শীতলকুচির বরেন্দ্রচন্দ্র বর্মন, কালিয়াগঞ্জের সৌমেন রায়, বলরামপুরের বালেশ্বর মাহাতো, রঘুনাথপুরের বিবেকানন্দ বাউরি, আরামবাগের মধুসূদন বাগ এবং গোঘাটের বিশ্বনাথ কারক। এদিকে খড়্গপুর সদরের বিধায়ক তথা কাউন্সিলর হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের বদলে বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা ওই আসনের প্রাক্তন বিধায়ক দিলীপ ঘোষকে টিকিট দেওয়া হয়। পুনরায় এই একই আসনে প্রার্থী হওয়ায় বেশ খুশি তিনি।

    দ্বিতীয় বিয়েই কি কাল হল হিরণের!

    কয়েক মাস আগে থেকেই দলীয় অন্দরে শোনা যাচ্ছিল যে, দিলীপ ঘোষ এবারেও খড়্গপুর সদরের প্রার্থী হতে পারবেন না। কিন্তু সম্প্রতি হিরণের দ্বিতীয় বিবাহ ঘিরে বিতর্ক চরম আকার নেওয়ায় পাশা পাল্টে যায়। যার ফলে স্থানীয় সমীক্ষাতেও দিলীপের নামই বেশি সমর্থন পাচ্ছিল। ফলে দিলীপ সেই আসন ফিরে পেলেন, যেখান থেকে তিনি প্রথম বার জনপ্রতিনিধি হয়েছিলেন। এই কাণ্ডে হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা বলেন, ‘‘সম্প্রতি যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা সাধারণ মানুষ ভাল ভাবে নেননি। বিজেপি-ও যে তার এই কাণ্ড ভাল চোখে দেখেনি, তা এই প্রার্থিতালিকা থেকেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।’’

    আরও পড়ুন: প্রতি দফায় ২ লাখ ৫০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, অশান্তি হলে … কড়া বার্তা কমিশনের

    প্রসঙ্গত, আজ, মঙ্গলবার বিকেলে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে চলেছে। এদিকে নাম ঘোষণার আগেই সকাল থেকে একাধিক জেলায় শাসক দলে যোগ দেওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। আজ কলকাতার দলীয় কার্যালয়ে প্রাক্তন ক্রিকেটার শিবশঙ্কর পাল, সাঁওতাল সম্প্রদায়ের পরিচিত শিক্ষাবিদ তনুশ্রী হাঁসদা এবং ইসলামিক স্কলার আবদুল মতিন তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। এখন দেখার ভোটের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে কাকে নির্বাচনের মুখ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।