Category: রাজনীতি

  • এই কারণেই পানিহাটিতে অভয়ার মায়ের নাম ঘোষণা করতে পারল না বিজেপি?

    এই কারণেই পানিহাটিতে অভয়ার মায়ের নাম ঘোষণা করতে পারল না বিজেপি?

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) শুরু হতে আর খুব বেশি দেরি নেই। তাই গত সোমবার, ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৪৪টি আসনের প্রার্থীদের নাম কয়েক দিন আগেই বিজেপি (BJP Candidate) ঘোষণা করে দিয়েছিল। এরপর বাকি ১৫০টি আসনের তালিকা নিয়ে গত তিন দিন ধরে দিল্লিতে দফায় দফায় বৈঠক চলছিল। অবশেষে গতকাল, বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হয় দ্বিতীয় দফার প্রার্থীদের তালিকা। কিন্তু সেই তালিকায় ছিল না পানিহাটির (Panihati) নাম। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে পানিহাটি থেকে পদ্ম শিবিরের হয়ে নিজেই প্রার্থী হওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন আরজি করের নির্যাতিতার মা। তাতেই নাকি তৈরি হয়েছে সমস্যা।

    ঘোষণা হয়নি পানিহাটির প্রার্থীর নাম

    শুরু থেকেই আরজি করের নির্যাতিতার পরিবারকে প্রার্থী হিসাবে পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু নির্যাতিতার পরিবার এত দিন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তাই সকলের ধারণা ছিল পানিহাটিতে বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে নাম থাকবে দলের পুরনো নেতা তথা রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি অনিন্দ্য (রাজু) বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু বুধবার বিকেলের পর থেকে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। কারণ নির্যাতিতার মা ভোটে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। নির্যাতিতার মা ভোটে বিজেপির প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা করতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে নাগরিক সমাজের মধ্যে। এদিকে নির্যাতিতা ও তাঁর আত্মীয়দের নাম প্রকাশ নিয়ে আইনি জটিলতার কারণেই নাকি পানিহাটিতে প্রার্থী নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না পদ্ম শিবির।

    প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ নির্যাতিতার মায়ের

    নির্যাতিতার মায়ের কথায়, ‘‘আমিই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, বিজেপির প্রার্থী হিসাবে আমি লড়তে চাই। অনেক দিন ধরেই আমাকে প্রার্থী হতে বলা হচ্ছিল। আমি রাজি ছিলাম না। কিন্তু আমি দেখলাম যে, নারীদের নিরাপত্তা, নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে, আর পশ্চিমবঙ্গকে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে যাওয়া দুর্নীতি থেকে মুক্তি দিতে হলে তৃণমূলকে মূল থেকে উপড়ে ফেলা দরকার। তাই আমি বিজেপিতে যোগ দিয়েছি এবং প্রার্থী হতে রাজি হয়েছি।’’ কিন্তু তৈরি হল আইনি জট। আসলে ২০১৮-র নিপুণ সাক্সেনা কেসে, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, যৌন নির্যাতনের শিকার নারী বা শিশুর পরিচয় মিডিয়ায় প্রকাশ নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

    আরও পড়ুন: গভীর সঙ্কটে HDFC ব্যাঙ্ক? এবার মুখ খুলল RBI

    পরবর্তী সময়ে ২০২৪-এর ২১ আগস্ট অভয়ার নাম-পরিচয় প্রকাশ বন্ধের জন্য একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, ধর্ষণের শিকার কোনও মেয়ের পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না। কেন্দ্রকে নির্দেশ দেয়, ওই তরুণীর পরিচয় প্রকাশ্যে আসে, এমন সব ছবি–ভিডিয়ো ইত্যাদি সোশ্যাল ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিতে হবে। আর সেক্ষেত্রে নির্যাতিতার মা প্রার্থী হলে তাঁর নামে দেওয়াল লিখন বা ব্যানার পোস্টারে ছবি ছাপা হবে কী ভাবে সেই নিয়ে ওঠে প্রশ্ন। নির্যাতিতার বাবা বলেন, ‘আমরা প্রকাশ্যে আসতে চাই। আমরা পরিচয় প্রকাশ্যে আনতে আদালতে দু’বার হলফনামা দিয়েছি। কিন্তু তা আদালত খারিজ করে দিয়েছে।’ এখন দেখার কীভাবে এই আইনি জট কাটে।

  • বিয়ে না করেও এক সন্তানের মা, মানিকতলার তৃণমূল প্রার্থী শ্রেয়া পান্ডের অতীত জানলে গর্ব হবে

    বিয়ে না করেও এক সন্তানের মা, মানিকতলার তৃণমূল প্রার্থী শ্রেয়া পান্ডের অতীত জানলে গর্ব হবে

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: প্রত্যাশা মতোই মঙ্গলবার বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) । 291টি আসনে প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেই বড় চমক দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। এ বছর 74 জন সিটিং MLA কে বসিয়ে রেখে নতুন মুখেদের নির্বাচনে লড়ার টিকিট দিয়েছে শাসক দল। সেই তালিকায় নাম রয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের মেয়ে শ্রেয়া পান্ডের (Shreya Pande)। কলকাতার মানিকতলা কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। সেই খবর পাঁচ কান হওয়া মাত্রই সাধন কন্যাকে নিয়ে একেবারে মেতে উঠেছেন অনুরাগীরা। কিন্তু কে এই শ্রেয়া পান্ডে?

    চিনে নিন তৃণমূলের মানিকতলা কেন্দ্রের মুখ শ্রেয়া পান্ডেকে

    সালটা 2011। সে বছরই 34 বছরের লাল জামানার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। আর সে বছরই বিধানসভা নির্বাচনে মানিকতলা কেন্দ্র থেকে আমজনতার রায়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন তৃণমূলের দীর্ঘ সময়ের সৈনিক সাধন পান্ডে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম ছায়া সঙ্গী তথা তৃণমূলের একনিষ্ঠ সৈনিক ছিলেন সাধন পান্ডে। 2022 এর 20 ফেব্রুয়ারি রাজ্যের বর্ষিয়ান নেতার মৃত্যু হয়। আর তারপরেই বাবার কেন্দ্রে সাধারণ মানুষের ভরসা হয়ে ওঠেন সাধন কন্যা শ্রেয়া।

    বলাই বাহুল্য, বাবা সাধন পান্ডের উপর অগাধ ভরসা ছিল মানিকতলা কেন্দ্রের সাধারণ মানুষের। সেই ভরসাকে কাজে লাগাতে চান তৃণমূলের টিকিটে বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী শ্রেয়া পান্ডে। একদিন, বাবা অপারেশন থিয়েটারে ঢোকার সময় বলেছিলেন, “সুবিমলকে কম্বলগুলো দিস।” বাবার সেই কথা যেন আজও মনে গেঁথে রেখেছেন শ্রেয়া। লক্ষ্য একটাই বিধানসভা নির্বাচনে জয়যুক্ত হয়ে মানিকতলার মানুষের ঘরের মেয়ের মতো সমস্ত প্রয়োজন পূরণ করা।

    অবশ্যই পড়ুন: বাংলায় প্রচারের ঝাঁঝ বাড়াচ্ছেন মোদী, করবেন ১২ টি সভা, কোথায় কোথায়?

    এবছর মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রে কনিষ্ঠতম তৃণমূল প্রার্থী হয়েছেন শ্রেয়া। লড়তে হবে বিজেপির অভিজ্ঞ নেতা তাপস রায়ের বিরুদ্ধে। তবে তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে তাঁকে মানিকতলার গুরুদায়িত্ব দেওয়ার পরই সাধন কন্যা জানিয়েছিলেন, “সারা বছর মানুষের পাশে থাকি। মানুষের ভালবাসতেই জিতব।” লড়াই কতটা কঠিন এমন প্রশ্নের উত্তরে শ্রেয়া স্পষ্ট বলেন, “লড়াই তখন হবে যখন নির্বাচিত বিধায়ক হিসেবে কী কী কাজ করতে পারব সেটা দেখব। না বললেই নয়, দলের প্রার্থী তালিকায় নিজের নাম দেখতে পাওয়া মাত্রই ভোটারদের দোরে দোরে যাচ্ছেন শ্রেয়া। শুরু করেছেন প্রচারও।

    এদিকে প্রাণের নেতা সাধন পান্ডের মেয়ে শ্রেয়াকে মানিকতলার প্রার্থী করায় আনন্দে আত্মহারা তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা। বয়োজ্যেষ্ঠরা ইতিমধ্যেই ঘরের মেয়েকে একেবারে জড়িয়ে ধরে আশীর্বাদ দিচ্ছেন। ইতিমধ্যেই সেই সব রঙিন মুহূর্তের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে বেশ। কম বেশি সকলেই জানেন, তৃণমূল নেত্রী শ্রেয়া পান্ডে সমাজ মাধ্যমে বেশ সক্রিয়। বিভিন্ন সময় দলের হয়ে নেট দুনিয়াতেই নিজের মতামত রাখেন তিনি। এক কথায় বলতে গেলে, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের নতুন মুখ হলেও শহর কলকাতায় এবং নেট দুনিয়ায় সাধন কন্যা কিন্তু পুরনো মুখ।

    শ্রেয়ার আরও একটি পরিচয় আছে

    মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সাধন পান্ডের মেয়ে শ্রেয়া পান্ডে আজ পর্যন্ত বৈবাহিক জীবনে পা রাখেননি ঠিকই, তবে বিয়ে না করেও তিনি এক সন্তানের মা। হ্যাঁ, বিষয়টা প্রথম প্রথম শুনলে অবাক লাগবে এটাই স্বাভাবিক। তবে এর পেছনের কাহিনী জানলে চোখ ভিজবে অনেকের। সালটা 2021। সে বছর মে মাসে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তাণ্ডবে একেবারে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছিল বাংলার বহু এলাকা। বিশেষ করে উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছিল এই ঘূর্ণিঝড়ের।

    কমবেশি সকলেই জানেন, সে বছর ঘূর্ণিঝড় ইয়াস বিধ্বস্ত সুন্দরবনের অসহায় মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন লোকনাথ দাস। সুন্দরবনে যাওয়ার পথে গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর। লোকনাথের মৃত্যুতে মাথার ছাদ হারিয়েছিল তাঁর সন্তানরা। সেই সময় সহকর্মীর সন্তানদের দায়িত্ব নিয়েছিলেন শ্রেয়া। পরবর্তীতে, বাড়িতে কিছু না জানিয়েই সিঙ্গেল মাদার হওয়ার সিদ্ধান্তটাও নিয়েছিলেন  তিনিই। 2017 সালে সারোগেসির মাধ্যমে শ্রেয়ার মা হওয়ার বিষয়টিকে অনেকেই ভালো চোখে দেখেননি। শুনতে হয়েছিল বহু কটাক্ষ। তবে সেসব পাশ কাটিয়েই আদর ওরফে ইন্দিরাকে মানুষ করেছিলেন তিনি।

    এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, শ্রেয়া পান্ডে যে সিঙ্গেল মাদার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সে কথাটা বাবার সাধন পান্ডে জেনেছিলেন খবরের কাগজে দেখে। পরে মেয়ে গোটা বিষয়টি তাঁকে খুলে বললে তিনিও সবটা মেনে নেন। একবার এক সাক্ষাৎকারে শ্রেয়া জানিয়েছিলেন, “মেয়ে ইন্দিরার নামকরণ করেছিল বাবা। এর পেছনেও একটা ছোট্ট গল্প আছে। আসলে আমার নাম রেখেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। তাই বাবা মেয়ের নাম রাখেন ইন্দিরা।” যদিও নিজের ব্যস্ত রাজনৈতিক জীবনের মাঝে মেয়েকে খুব একটা সময় দিতে পারেন না শ্রেয়া। তবে তৃণমূল নেত্রী জানিয়েছিলেন, দিন শেষ বাড়িতে ফিরে মাম্মা ডাকটাই তাঁকে পৃথিবীর সর্ব সুখ এনে দেয়।”

  • বাংলায় প্রচারের ঝাঁঝ বাড়াচ্ছেন মোদী, করবেন ১২ টি সভা, কোথায় কোথায়?

    বাংলায় প্রচারের ঝাঁঝ বাড়াচ্ছেন মোদী, করবেন ১২ টি সভা, কোথায় কোথায়?

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বহু প্রতীক্ষার পর গত রবিবার নির্বাচন কমিশন বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে দিয়েছে। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যে সংগঠিত হবে ভোট। তাই স্বাভাবিকভাবেই তুমুল ব্যস্ততা শুরু হয়েছে জেলায় জেলায়। দেওয়াল লিখন, প্রচার কোনটাতেই ত্রুটি রাখছে না রাজনীতিবিদরা। এমতাবস্থায় ফের বঙ্গে আসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে কমপক্ষে তিনি ১২ জনসভা করতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।

    ১২টি জনসভা মোদীর

    ভোটের দিনক্ষণ প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূল থেকে বিজেপি, সিপিআইএম- প্রায় সব দল প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন ঘোষণার পরই রাজ্যের ২৯১ আসনের পূর্ণাঙ্গ প্রার্থীতালিকা ঘোষণা করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি ও সিপিআইএমও তাদের প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। তার উপর জেলায় জেলায় চলছে দলবদলের পালা। এই অবস্থায় কর্মীদের শক্তি জোগাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যে অন্তত ১২টি জনসভা করতে চলেছেন৷ যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে৷

    কোথায় কোথায় সভা হওয়ার সম্ভাবনা?

    কয়েকদিন আগেই ব্রিগেডে মহাসভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অসংখ্য লোকের ভিড় দেখা গিয়েছে সেখানে। আর এবার উত্তরবঙ্গে ৩টি ও দক্ষিণবঙ্গে ৯টি জনসভা করতে চলেছেন মোদী। দলীয় সূত্রে খবর উত্তরবঙ্গে কোচবিহার, শিলিগুড়ি ও বালুরঘাটে সভা হবে। এরপর দক্ষিণবঙ্গের খড়গপুর, কাঁথি, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, হাওড়া, দুই ২৪ পরগনায় তাঁর সভা করার কথা রয়েছে। অর্থাৎ মোট ১২টি সভা করতে পারেন। শোনা যাচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থনে কাঁথিতে একইভাবে খড়গপুরে দিলীপ ঘোষের সমর্থনে সভা করার কথা মোদীর। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও ততধিক সভা করতে আসবেন বলে জানা গিয়েছে।

    আরও পড়ুন: লটারি লাগল রেল কর্মীদের! ৫০% DA বৃদ্ধির পর এবার ২৫ শতাংশ বাড়ছে KMA

    প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দলের সাংগঠনিক দশটি বিভাগের মধ্যে ৭টি বিভাগে সভা ইতিমধ্যেই করেছেন। যার মধ্যে আলিপুর, দমদম, দুর্গাপুর, তাহেরপুর, মালদহ, সিঙ্গুর ও ব্রিগেড উল্লেখযোগ্য ৷ তাই এবার বাকি এলাকাগুলিকে টার্গেট করা হচ্ছে। একটাই লক্ষ্য গেরুয়া শিবিরের প্রচার আরও বিস্তৃত করা৷ এছাড়া, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও রাজ্যে একাধিক জনসভা করবেন বলে জানা গিয়েছে৷ যদিও কিছুই এখনও সরকারিভাবে ঘোষণা হয়নি।

  • দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ বামেদের! নন্দীগ্রাম, ভবানীপুরে কে? লিস্টে চমক

    দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ বামেদের! নন্দীগ্রাম, ভবানীপুরে কে? লিস্টে চমক

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সামনের মাসেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই প্রত্যেকটি দল তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই সূত্রে গত ১৬ মে বামফ্রন্ট তাদের প্রথম দফার তালিকা প্রকাশ করেছিল (CPIM Candidate List)। সেখানে ১৯২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। আর বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফার তালিকা সামনে আনল তারা। সেখানে মোট ৩২টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের তালিকায় শ্রীজীব বিশ্বাস থেকে শুরু করে মাহমুদুল হাসান, জামাল হোসেন, পূর্ণিমা দাসের মতো নেতা নেত্রীদের নাম রয়েছে। আর এই ৩২ জনের মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ১১ জন এবং ৩ জন রয়েছে মহিলা। দেখে নিন সিপিআইএম এর দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা।

    সিপিআইএম এর দ্বিতীয় লিস্ট

    • আসানসোল উত্তর – অখিলেশ কুমার সিং
    • জয়নগর – অপূর্ব প্রামাণিক
    • করনদিঘি – মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন
    • কল্যাণী – সবুজ দাস
    • কালচিনি – পাশং শেরপা
    • কুলতলী – রামশঙ্কর হালদার
    • কৃষ্ণগঞ্জ – অর্চনা বিশ্বাস
    • কৃষ্ণনগর উত্তর – অদ্বৈত বিশ্বাস
    • খেজুরি – হিমাংশু দাস
    • গোপীবল্লভপুর – বিকাশ ষড়ঙ্গী
    • চাঁচল – আনোয়ারুল হক
    • চাঁপদানি – এডভোকেট চন্দ্রনাথ ব্যানার্জি
    • জঙ্গিপাড়া – সুদীপ্ত সরকার
    • জয়নগর – অপূর্ব প্রামাণিক
    • জলঙ্গি – ইউনূস আলী সরকার
    • ডায়মন্ড হারবার – সমরেন্দ্রনাথ নাইয়া
    • টালিগঞ্জ – প্রফেসর পার্থপ্রতিম বিশ্বাস
    • নন্দীগ্রাম – শান্তি গিরি
    • নয়াগ্রাম – পুলিনবিহারী বাস্কে
    • নবগ্রাম – পূর্ণিমা দাস
    • পুড়শুড়া – সন্দীপ কুমার সামন্ত
    • পাঁশকুড়া পশ্চিম – নিরঞ্জন সিহি
    • পাঁশকুড়া পূর্ব – ইব্রাহিম আলী
    • বারুইপুর পশ্চিম – লাহেক আলী
    • বালিগঞ্জ – আরফিন বেগম (শিল্পী)
    • বসিরহাট দক্ষিণ – আইনুল আরফিন (রাজু আহমেদ)
    • ভবানীপুর – এডভোকেট শ্রীজীব বিশ্বাস
    • ভগবানগোলা – মাহমুদুল হাসান
    • মন্তেশ্বর – অনুপম ঘোষ
    • মেটিয়াবুরুজ – এডভোকেট মনিরুল ইসলাম
    • মুরারই – মোহাম্মদ আলী রেজা মন্ডল
    • রানীনগর – জামাল হোসেন
    • হাবিবপুর – বাসুদেব বর্মন
  • টিকিট পেলেন রেখা পাত্র, হিরণ, সুব্রত ঠাকুর! দ্বিতীয় দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ BJP-র

    টিকিট পেলেন রেখা পাত্র, হিরণ, সুব্রত ঠাকুর! দ্বিতীয় দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ BJP-র

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দুয়ারে কাড়া নাড়ছে বাংলার বিধানসভা নির্বাচন। গত ১৬ তারিখ প্রথম দফায় মোট ১৪৪ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল ভারতের জনতা পার্টি। আর আজ বাকি ১১১ আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল বিজেপি (BJP Candidate List)। তালিকায় রয়েছে হিরণ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে রেখা পাত্র, তাপস রায়, সন্দীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একাধিক দাপুটে নেতারা। বিস্তারিত তালিকা নিচে তুলে ধরা হল—

    বিজেপির দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা

    • অশোকনগর – ডা. সূমোয় হীরা
    • ইটাহার – শ্রীমতি সবিতা বর্মন
    • উলুবেড়িয়া উত্তর – শ্রী চিরন বেরা
    • এন্টালি – শ্রীমতি প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল
    • এগরা – শ্রী দিব্যেন্দু অধিকারী
    • কসবা – শ্রী সন্দীপ ব্যানার্জী
    • কালিম্পং – শ্রী ভরত ছেত্রী
    • কার্শিয়াং – শ্রী সোনম লামা
    • কালনা – শ্রী সিদ্ধার্থ মজুমদার
    • কান্দি – শ্রীমতি গার্গী দাস ঘোষ
    • কামারহাটি – শ্রী অরূপ চৌধুরী
    • কাশিপুর-বেলগাছিয়া – শ্রী রিতেশ তিওয়ারি
    • কুশমণ্ডি – শ্রী তাপস চন্দ্র রায়
    • কুলপি – শ্রী অবনি নস্কর
    • কৃষ্ণগঞ্জ – শ্রী সুকান্ত বিশ্বাস
    • কৃষ্ণনগর দক্ষিণ – শ্রী সাধন ঘোষ
    • ক্যানিং পশ্চিম – শ্রী প্রশান্ত বায়েন
    • খড়গ্রাম – শ্রীমতি মিতালী মাল
    • খড়দহ – ডা. কল্যাণ চক্রবর্তী
    • খন্ডঘোষ – শ্রী গৌতম ধারা
    • গাইঘাটা – শ্রী সুব্রত ঠাকুর
    • গলসি – শ্রী রাজু পাত্র
    • গোসাবা – শ্রী বিকর্ণ নস্কর
    • চন্ডীতলা – শ্রী দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়
    • চাপড়া – শ্রী সৈকত সরকার
    • চাঁপদানি – শ্রী দিলীপ সিং
    • চিকিৎসা – শ্রী সুদীপ্তা দাস (বীজপুর)
    • চোপড়া – শ্রী শঙ্কর অধিকারী
    • জঙ্গিপুর – অ্যাড. চিত্তো মুখোপাধ্যায়
    • জগৎদল – ডা. রাজেশ কুমার, আইপিএস
    • জগৎবল্লভপুর – শ্রী অনুপম ঘোষ
    • জাঙ্গিপাড়া – শ্রী প্রসেনজিৎ বাগ
    • জয়নগর – শ্রী আলোক হালদার
    • জলপাইগুড়ি – শ্রী অনন্ত দেব অধিকারী
    • জোড়াসাঁকো – শ্রী বিজয় ওঝা
    • টালিগঞ্জ – শ্রীমতি পাপিয়া (দে) অধিকারী
    • তেহট্ট – শ্রী সুব্রত কবিরাজ
    • দমদম – অ্যাড. অরিজিৎ বক্সী
    • দার্জিলিং – শ্রী নোমান রাই
    • ধনেখালি – শ্রীমতি বর্ণালী দাস
    • ধূপগুড়ি – শ্রী নরেশ চন্দ্র রায়
    • নকাশিপাড়া – শ্রী শান্তনু দে
    • নন্দকুমার – শ্রী নির্মল খাঁড়া
    • নবগ্রাম – শ্রী দিলীপ সাহা
    • নবদ্বীপ – শ্রী শ্রুতি শেখর গোস্বামী
    • নয়াগ্রাম – শ্রী অমিয়া কিস্কু
    • নওদা – শ্রী রাণা মণ্ডল
    • পুরুলিয়া – শ্রী সুদীপ কুমার মুখোপাধ্যায়
    • পান্ডুয়া – শ্রী তুষার কুমার মজুমদার
    • পিংলা – শ্রীমতি স্বাগতা মান্না
    • পূর্বস্থলী উত্তর – শ্রী গোপাল চট্টোপাধ্যায়
    • ফারাক্কা – শ্রী সুনীল চৌধুরী
    • ভরতপুর – শ্রীমতি অনামিকা ঘোষ
    • ভাঙড় – শ্রী জয়ন্ত গায়েন
    • বিধাননগর – ডা. শরদ্বত মুখোপাধ্যায়
    • বিষ্ণুপুর – শ্রীমতি শুক্লা চট্টোপাধ্যায়
    • বীজপুর – শ্রী সুদীপ্তা দাস
    • বড়ওয়ান – শ্রী সুখেন কুমার বাগদী
    • বনগাঁ উত্তর – শ্রী অশোক কীর্তনীয়া
    • বনগাঁ দক্ষিণ – শ্রী স্বপন মজুমদার
    • ব্যারাকপুর – শ্রী কৌস্তভ বাগচী
    • বারুইপুর পশ্চিম – শ্রী বিশ্বজিৎ পাল
    • বারুইপুর পূর্ব – শ্রীমতি টুম্পা সরদার
    • বারাসাত – শ্রী শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়
    • বালি – শ্রী সঞ্জয় সিং
    • বালিগঞ্জ – ডা. শতরূপা
    • বাঘমুন্ডি – শ্রী রহিদাস মাহাতো
    • বাগনান – শ্রী প্রেমাংশু রানা
    • বাঁকুড়া – শ্রী নীলাদ্রি শেখর দানা
    • বেহালা পশ্চিম – ডা. ইন্দ্রনীল খান
    • বেহালা পূর্ব – শ্রী সুনীল মহারাজ
    • বেলেঘাটা – ডা. পার্থ চৌধুরী
    • বলাগড় – শ্রীমতি সুমনা সরকার
    • বর্ধমান দক্ষিণ – শ্রীমতি মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র
    • মাদারিহাট – শ্রী লক্ষ্মণ লিম্বু
    • মাথাভাঙ্গা – শ্রী নিশীথ প্রামাণিক
    • মানিকতলা – শ্রী তাপস রায়
    • মাল – শ্রী শুক্রা মুন্ডা
    • মেকলিগঞ্জ – শ্রী দধিরাম রায়
    • মগরাহাট পশ্চিম – শ্রী গৌর সুন্দর ঘোষ
    • মঙ্গলকোট – শ্রী শিশির ঘোষ
    • ময়নাগুড়ি – শ্রী কৌশিক রায়
    • মন্দিরবাজার – শ্রীমতি মল্লিকা পাইক
    • মুরারই – শ্রীমতি রিঙ্কি ঘোষ
    • যাদবপুর – শ্রীমতি সরবোরী মুখোপাধ্যায়
    • রানাঘাট দক্ষিণ – ডা. অসীম কুমার বিশ্বাস
    • রানীনগর – শ্রী রানা প্রতাপ সিং রায়
    • রানিগঞ্জ – অ্যাড. পার্থ ঘোষ
    • রাজারহাট নিউ টাউন – শ্রী পীযূষ কনোড়িয়া
    • রাজারহাট গোপালপুর – শ্রী তরুণ জ্যোতি তিওয়ারি
    • রামপুরহাট – শ্রী ধ্রুব সাহা
    • লাভপুর – শ্রী দেবাশীষ ওঝা
    • সাগর – শ্রী সুমন্ত মন্ডল
    • সাগরদিঘি – শ্রী তাপস চক্রবর্তী
    • সাতগাছিয়া – শ্রী অগ্নিশ্বর নস্কর
    • সন্দেশখালি – শ্রী সনত সরদার
    • সমসেরগঞ্জ – শ্রী ষষ্ঠী চরণ ঘোষ
    • সাঁকরাইল – শ্রীমতি বর্ণালী ঢালী
    • সোনারপুর দক্ষিণ – শ্রীমতি রূপা গাঙ্গুলি
    • শ্রীরামপুর – শ্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য
    • শ্যামপুকুর – শ্রীমতি পূর্ণিমা চক্রবর্তী
    • শ্যামপুর – ডা. হিরন্ময় চট্টোপাধ্যায়
    • হরিণঘাটা (পূর্বের তালিকা অনুযায়ী)
    • হরিহরপুর (তালিকায় থাকলে বাদ)
    • হরিশচন্দ্রপুর – শ্রী রতন দাস
    • হাওড়া উত্তর – শ্রী উমেশ রায়
    • হাড়োয়া – শ্রী ভাস্কর মন্ডল
    • হাবড়া – শ্রী দেবদাস মন্ডল
    • হিঙ্গলগঞ্জ – শ্রীমতি রেখা পাত্র
  • বাংলায় ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’? কমিশনের বিরুদ্ধে এবার গর্জে উঠলেন মমতা

    বাংলায় ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’? কমিশনের বিরুদ্ধে এবার গর্জে উঠলেন মমতা

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দোরগোড়ায় এসে গিয়েছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), হাতে বাকি আর মাত্র কয়েকটা দিন। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যে হবে বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই বিজেপি এবং CPIM প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে এনেছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেছে। তাই এখন তুমুল ভোট প্রচার শুরু হয়েছে রাজনীতিবিদদের। এই অবস্থায় ফের নির্বাচন কমিশনারকে নিশানা করল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। অঘোষিত জরুরি অবস্থা নিয়ে গর্জে উঠলেন তিনি।

    কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মমতা

    রিপোর্ট মোতাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ, নিজের এক্স হ্যান্ডেলে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি পোস্টে লেখেন, “নির্বাচন কমিশন যেভাবে বাংলাকে আলাদাভাবে টার্গেট করে একের পর এক নিশানা করেছে, তা শুধু নজিরবিহীনই নয় বরং গভীর উদ্বেগের। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারির আগেই মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ প্রায় ৫০ জনেরও বেশি উচ্চপদস্থ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন একাধিক এডিজি, আইজি, ডিআইজি এবং জেলাশাসকরা। তাই, এটি কোনও সাধারণ প্রশাসনিক রদবদল নয়, বরং এটি একটি ‘সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ’।”

    নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের ট্রান্সফার নিয়ে প্রশ্ন মমতার

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে নির্বাচন কমিশনকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করেছেন। তিনি লিখেছেন, “শিলিগুড়ি ও বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারদের কোনো বিকল্প ছাড়াই পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ শহর কিছু সময়ের জন্য কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। এমনকি যে আধিকারিকদের এতদিন ‘নির্বাচনী কাজের অযোগ্য’ বলে সরানো হচ্ছিল, তাঁদেরই দেখা যাচ্ছে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভিন রাজ্যে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে। যা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।” তিনি আরও জানান, “আইবি, এসটিএফ এবং সিআইডির মতো গুরুত্বপূর্ণ শাখার অফিসারদের সরিয়ে দেওয়ায় প্রশাসনিক কাঠামো পঙ্গু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যা নাগরিকদের মধ্যে উদ্বিগ্ন ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।”

    অঘোষিত জরুরি অবস্থা প্রসঙ্গে মমতা

    তৃণমূল সুপ্রিমো নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ শানিয়ে জানান যে, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এখনও সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া বিতর্কিত এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং নাগরিকত্ব প্রমাণের বাধ্যবাধকতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এটি কোনো সুশাসন নয়। এটি বিশৃঙ্খলা, বিভ্রান্তি এবং চরম অযোগ্যতা, যাকে ক্ষমতার মোড়কে চালানো হচ্ছে। এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং জোরজুলুম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কারসাজির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের নিয়ন্ত্রণ দখল করার পরিকল্পনা। আমরা যা দেখছি তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দ্বারা পরিচালিত একটি অঘোষিত জরুরি অবস্থা এবং রাষ্ট্রপতির শাসনের এক অপ্রকাশিত রূপ।”

    আরও পড়ুন: সিভিক ভলান্টিয়ারদের বোনাস বাড়াল নবান্ন! এক ধাক্কায় বাড়ল এত টাকা

    নির্বাচন কমিশনকে দোষ দেওয়ার পাশাপাশি এদিন বিজেপিকেও এক হাতে নেন তৃণমূল সুপ্রিম তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বাংলার মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে ব্যর্থ হয়ে বিজেপি বাংলাকে কব্জা করতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তাইতো স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরেও মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বাধ্য করতে হচ্ছে। তবে বাংলা লড়বে, বাংলা প্রতিরোধ গড়বে এবং এই মাটিতে কোনো বিভাজনমূলক ও ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিটি চেষ্টাকে বাংলা চূড়ান্তভাবে পরাজিত করবে।”

  • আশীর্বাদ নিয়ে মায়ের বিরুদ্ধেই লড়াইয়ে নামলেন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির তৃণমূল প্রার্থী রঞ্জন

    আশীর্বাদ নিয়ে মায়ের বিরুদ্ধেই লড়াইয়ে নামলেন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির তৃণমূল প্রার্থী রঞ্জন

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Election 2026) বড় চমক! এবার শিলিগুড়িতে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিজেপি প্রার্থী ‘মা’য়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন তৃণমূল প্রার্থী ‘ছেলে’। জানা গিয়েছে এই বিধানসভা আসনে এবার বিজেপি প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন শিখা চট্টোপাধ্যায়। এবং তাঁর বিরুদ্ধে রাজ্যের শাসকদল প্রার্থী করেছে তাঁর ছেলে রঞ্জন শীল শর্মাকে (Ranjan Shil Sharma)। তাই সেই প্রচারের শুরুতেই মায়ের আশীর্বাদ নিতে বৃহস্পতিবার সকাল সকাল শিখা দেবীর দরবারে গেলেন ছেলে রঞ্জন।

    বিজেপি প্রার্থীকে প্রণাম করে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী

    বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসে থাকাকালীন তাকে মা বলে ডাকতেন তৃণমূল নেতা রঞ্জন শীল শর্মা। এবার সেই মায়ের বিরুদ্ধেই তিনি ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে তৃণমূলের প্রার্থী হলেন। যা নিয়ে শুরু হয়েছে বেশ চর্চা। যদিও দলীয় এবং রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও মা-ছেলের সম্পর্কের ভালোবাসা এখনও অটুট রয়েছে। তাই আজও রঞ্জন শীল শর্মা, শিখাকে ‘মা’ বলেই ডাকেন। ঠিক তেমনই আবার রঞ্জনকেও নিজের ছেলের মতোই ভালোবাসেন শিখা। তাইতো ভোটের আগে মায়ের আশীর্বাদ নিয়েই মায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রচার শুরু করলেন রঞ্জন। পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে কৌশলে ছেলে আবার জানিয়ে দিলেন এবার হারছেন মা। জিতবে ছেলেই।

    কী বলছেন রঞ্জন শীল শর্মা?

    সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রঞ্জন বলেন, “মায়ের আশীর্বাদ নিলাম। কিন্তু এটা মমতা বন্দোপাধ্যায়ের লড়াই। এলাকার আশা-আকাঙ্খা পূরণ করতে পারেননি মা। ভোটের ফল দেখবেন।” এছাড়াও রঞ্জন বার্তা দেন জিতলেই ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িব চারটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে নিয়ে পুরসভা করা হবে। এছাড়াও এদিন নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছে কর্মীদের সঙ্গে ভোট প্রচার নিয়ে বৈঠক করেন। অন্যদিকে শিখা চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এটা ধর্মের লড়াই । এখানে ব্যক্তিগত কিছু নয়। তবে তৃণমূল কংগ্রেস যেখানে যেখানে পারে না সেখানে পরিবারের মধ্যে রাজনীতি ঢুকিয়ে দেয়। ঠাকুর বাড়িতেও ঢুকিয়েছে। কিন্তু ধর্মের জয় হবে। এবারও বিজেপি জিতবে। আমি ছেলেকে ধর্মের রাস্তায় আনতে পারলাম না এটা আমার অক্ষমতা।”

    আরও পড়ুন: ভোটের আগে অন্য খেলা! শুভেন্দু হাইকোর্টে যেতেই শোরগোল

    প্রসঙ্গত, ২০১১ ও ২০১৬ সালে পরপর দুইবার ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি থেকে জয় লাভ করেছিলেন তৃণমূলের গৌতম দেব। কিন্তু ২০২১ সালে শিখা চট্টোপাধ্যায় টিকিট না পাওয়ায় দল ছেড়েছিলেন। এরপরই প্রয়াত মুকুল রায়ের হাত ধরে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তারপর ওই কেন্দ্রে গৌতম দেবকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন শিখা চট্টোপাধ্যায়। এখন দেখার এই কেন্দ্রে মা ও ছেলের মধ্যে কে বিপুল ভোটে জয় লাভ করে। অন্যদিকে, পাঁশকুড়া পূর্ব বিধানসভার বিদায়ী বিধায়ক তথা মন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরীর বাড়িতেও আশীর্বাদ নিতে যান সেখানকার তৃণমূলের প্রার্থী অসীম মাজি।

  • ভোটের আগে অন্য খেলা! শুভেন্দু হাইকোর্টে যেতেই শোরগোল

    ভোটের আগে অন্য খেলা! শুভেন্দু হাইকোর্টে যেতেই শোরগোল

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর ভোটের (West Bengal Election 2026) দামামা বেজে গিয়েছে রাজ্য জুড়ে। তাই বেশি দেরি না করে সোমবারই বিজেপি প্রথম দফার ভোটের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই দেখা যায় নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর এই দুই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এদিকে ভবানীপুরে তাঁর প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাই সেখানে টক্কর যে বেশ নজরকাড়া হবে তা বেশ বোঝা যাচ্ছে। এমতাবস্থায় ঘটল আরেক ঘটনা। মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার আগে ফের হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হলেন শুভেন্দু অধিকারী।

    হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন শুভেন্দু

    রিপোর্ট মোতাবেক, আজ, ভবানীপুর এলাকায় প্রচার মিছিলেও যান শুভেন্দু অধিকারী৷ কিন্তু, হঠাৎ করেই ঢুকে পড়েন ভবানীপুর থানার ভিতরে। বেশ খানিকক্ষণ কথাও বলেন সেখানে৷ এরপর সেখান থেকে বেরিয়ে গিয়েই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তিনি। আর তাতেই সকলের মনে প্রশ্ন জাগে যে কী এমন হল যে হাইকোর্টে আসলেন শুভেন্দু অধিকারী? পরে জানায় হাইকোর্টে তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। শুভেন্দুর বক্তব্য, তাঁর বিরুদ্ধে মোট কতগুলি মামলা রয়েছে, সেই সঠিক তথ্য পুলিশ তাঁকে দিচ্ছে না। কিন্তু মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীকে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, অপরাধমূলক রেকর্ড, আর্থিক অবস্থা, পেশা ও আয়ের উৎস, সরকারি বকেয়া সবই বিস্তারিত জানাতে হয়। তাই এই বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বিজেপি নেতা।

    খারিজ হয়েছিল ১৫ টি FIR

    শুভেন্দু অধিকারী এর আগে আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, আদালতের অনুমতি ছাড়া শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কোনো নতুন FIR করা যাবে না। কিন্তু গত বছর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের আইনি সুরক্ষাকবচ সরিয়ে নেন। এদিকে সুরক্ষাকবচ তুলে নিলেও একই রায়ে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৫টি FIR বা মামলা সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। কারণ স্বরূপ আদালত জানিয়েছিল মামলাগুলি ভিত্তিহীন ছিল বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। আর সেই রায় বড় স্বস্তি লাভ করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

    আরও পড়ুন: হাড়োয়ায় উদ্ধার তৃণমূল নেতার ক্ষতবিক্ষত দেহ! গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে খুন? উত্তেজনা এলাকায়

    উল্লেখ্য, চলতি বছর পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বেশ উত্তেজোনামূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এই নিয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই মামলায় ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিয়েছিল হাইকোর্ট। এবার এই পরিস্থিতিতে মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলার পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন শুভেন্দু। এখন দেখার আদালত এই প্রসঙ্গে কী নির্দেশ দেয়।

  • হাড়োয়ায় উদ্ধার তৃণমূল নেতার ক্ষতবিক্ষত দেহ! গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে খুন? উত্তেজনা এলাকায়

    হাড়োয়ায় উদ্ধার তৃণমূল নেতার ক্ষতবিক্ষত দেহ! গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে খুন? উত্তেজনা এলাকায়

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) নির্ঘণ্ট বেজে গিয়েছে। জেলায় জেলায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে দেওয়াল লিখন। কিন্তু এই অবস্থায় ভোটের আগেই রক্ত ঝড়ল বাংলায়। তৃণমূল নেতাকে কুপিয়ে খুন করা হল। উদ্ধার করা হল দেহটি (TMC Worker Body)।ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ার (Haroa) সোনাপুকুর শংকরপুরে। ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

    ভোটের আগেই খুন এক তৃণমূল কর্মী

    রিপোর্ট মোতাবেক, উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ার সোনাপুকুর শংকরপুরের তৃণমূল নেতা মশিউর কাজী বুধবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের দাবি, রাতে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়ি আসেনি। কিন্তু পরে আজ, বৃহস্পতিবার সকালে হাড়োয়া থানা এলাকার সোনাপুকুর শংকরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নব্বই পাট ঘেরির পাশ থেকে ওই কর্মীর ক্ষতবিক্ষত ও অর্ধনগ্ন মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ এবং হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মশিউরের দুই হাতের কব্জি কাটা ছিল এবং সারা শরীরে গভীর ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। কান্নায় ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার।

    ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন!

    মৃত তৃণমূল কর্মী মশিউর কাজী রাজনীতি করার পাশাপাশি পেশায় জামাকাপড়ের ব্যবসায়ী ছিলেন। এবং দেগঙ্গার চাঁপাতলা পঞ্চায়েতের ১৭৮ নম্বর বুথের বুথ সভাপতি ছিলেন। পুলিশের তরফে প্রথমে ওই কর্মীর পরিচয় জানা যায়নি। পরে পরিবারের লোকজন দেহ শনাক্ত করেন। তাঁদের দাবি, চক্রান্ত করে ডেকে খুন করা হয়েছে মশিউর কাজীকে। ভোটের মুখে তৃণমূল নেতার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে অত্যন্ত নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে তাঁকে। কে বা কারা এই খুন করল, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এমনকি গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সম্ভাবনাও উঠে আসছে।

    আরও পড়ুন: ভারতের সবথেকে সস্তার শহর কলকাতা, খরচ কত? দেখুন রিপোর্ট

    প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই বঙ্গ সফরে এসেছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সেই সময় বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ভোটে হিংসা ও ভোট পরবর্তী হিংসা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে বদ্ধপরিকর কমিশন। তাই কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। কিন্তু ভোট শুরু হওয়ার আগেই বাংলায় তৃণমূল কর্মী খুন হওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে কমিশন।

  • ‘বিরোধী নেই, আমি নিজেই প্রতিদ্বন্দ্বী’ বিপক্ষকে পাত্তাই দিতে নারাজ ইন্দ্রনীল সেন

    ‘বিরোধী নেই, আমি নিজেই প্রতিদ্বন্দ্বী’ বিপক্ষকে পাত্তাই দিতে নারাজ ইন্দ্রনীল সেন

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর ভোটযুদ্ধ (West Bengal Election 2026) শুরু হয়ে গিয়েছে জেলায় জেলায়, রবিবার নির্বাচন কমিশনের দিন ঘোষণার পরেই সোমবার প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছিল গেরুয়া শিবির। ঠিক তার পরের দিনই অর্থাৎ মঙ্গলবার ২৯৪ টি কেন্দ্রের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে আনে তৃণমূল (Trinamool Congress)। সেই তালিকায় যেমন নতুন মুখ দেখা গিয়েছিল ঠিক তেমনই আবার বেশ কিছু পুরোনো মুখও ছিল। যার মধ্যে অন্যতম হলেন ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)। টানা তৃতীয়বারের জন্য চন্দননগর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসেবে জয়ের গান গাইলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন।

    হ্যাটট্রিকের পথে ইন্দ্রনীল সেন

    মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয়েছিল তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা। সেখানে তৃতীয়বারের জন্য তৃণমূলের প্রার্থী হলেন ইন্দ্রনীল সেন। ২০১৬ সালে প্রথম চন্দননগর বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হন সংগীত শিল্পী ইন্দ্রনীল সেন। সেখান থেকেই জয়লাভ করে বিধায়ক হন। এরপর ২০২১ সালেও চন্দননগর থেকেই প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন ইন্দ্রনীল। আর এবার ২০২৬ এর লক্ষ্যে বিধানসভা ভোটে চন্দননগর বিধানসভায় ইন্দ্রনীলের উপরেই ভরসা রাখল তৃণমূল কংগ্রেস। তাই সেই ভরসার দাম দিতে রীতিমত চন্দননগরে ঘর গোছাতে শুরু করলেন তিনি। যদিও তাঁর বিশ্বাস এবার সে হ্যাটট্রিক গড়বেই।

    সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি ইন্দ্রনীল

    রিপোর্ট মোতাবেক গতকাল অর্থাৎ বুধবার চন্দননগরের কলুপুকুরধার এলাকার একটি লজে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইন্দ্রনীল। তারপরেই সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি তিনি বলেন, “চন্দননগরে একাধিক উন্নয়ন হয়েছে। তবু যদি কেও মনে করেন আরও কিছু কাজ হওয়ার দরকার ছিল, সেই কাজ গুলি হয়নি। তবে সেই কাজের লিস্ট আপনারা পাঠাবেন করে দেব। আগামী দিন আর কী কী কাজ হবে তা সবাইকে নোটিস দিয়ে এবং সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।” এছাড়াও তিনি বুঝিয়ে দিলেন, চন্দননগরে তাঁর লড়াই কোনও নির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং নিজের উন্নয়নের রেকর্ডের সঙ্গেই।

    আরও পড়ুন: স্বপ্না বর্মণের জীবনে শোকের ছায়া, বাবাকে হারিয়ে ভেঙে পড়লেন তৃণমূলের প্রার্থী

    এলাকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে সিপিএম প্রার্থীর করা অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে ইন্দ্রনীল সেন জানিয়েছেন, “ওঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত। ওঁর চক্ষু পরীক্ষা করা উচিত। তাঁর জন্য সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প রয়েছে। স্বাস্থ্য বীমা রয়েছে। তার পরেও যদি আমার কোনও ব্যক্তিগত সাহায্য দরকার হয়, আমি করব।” এছাড়াও ভোটের ময়দানে কর্মীদের একগুচ্ছ পরামর্শ দেন ইন্দ্রনীল। তাঁর কথায়, “বিরোধী নেই, আমি নিজেই আমার প্রতিদ্বন্দ্বী। সবাইকে বলব শরীর সুস্থ রাখুন। সম্পর্ক সবার সাথে ভাল রাখুন। ভোটাররা যাতে ভোট দিতে পারে সেদিকে নজর দিন। সকলে যেন নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেদিকে নজর দিন।”