Category: রাজনীতি

  • বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন কামদুনি আন্দোলনের অন্যতম মুখ টুম্পা কয়াল? বড় খবর

    বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন কামদুনি আন্দোলনের অন্যতম মুখ টুম্পা কয়াল? বড় খবর

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভোটের আগে সরগরম রাজ্য রাজনীতি (West Bengal Assembly Election)। বঙ্গের দুই প্রতিদ্বন্ধী তৃণমূল এবং বিজেপি ইতিমধ্যেই নিজেদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে দিয়েছে। ঠিক সেই আবহে এবার সরাসরি রাজনীতির ময়দানে নামতে চাইলেন কামদুনি (Kamduni) আন্দোলনের অন্যতম মুখ টুম্পা কয়াল। জানা যাচ্ছে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে লড়াই করতে চেয়ে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সাথে যোগাযোগ করেছেন তিনি! কামদুনির মেয়ে টুম্পা বলছেন, আন্দোলন করেই বেঁচে থাকতে চান তিনি। তবে রাজনীতি ছাড়া এই আন্দোলন মূল্যহীন!

    বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন টুম্পা কয়াল?

    বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির টিকিটে দাড়াতে চাইছেন কামদুনি আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ টুম্পা। সে কথা ইতিমধ্যেই নাকি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীককে জানিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলার সময় টুম্পা স্পষ্ট জানালেন, “12টা বছর কেটে গেছে। আমি ঠিক করলাম এবার কোনও একটা রাজনৈতিক দলের অধীনে থেকে আন্দোলন করবো। এর কারণ আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করে এসেছি। অনেক কিছু দেখেছি। তবে রাজনীতি ছাড়া আন্দোলন করা অত্যন্ত কঠিন। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম বিজেপি জয়েন করব।”

    টুম্পা বলেন, “রাজনীতির ময়দানে লড়াই করতে চাই। সেজন্যেই দাদার ( শমীক ভট্টাচার্য) সাথে কথা বললাম। দু-তিন দিনের মধ্যেই আমি বিজেপিতে জয়েন করে যাব। তারিখটা পরে জানিয়ে দেবো। আমি চাই মানুষের পাশে দাঁড়াতে। রাজনীতির ময়দানে লড়াই করতে।” বিজেপির টিকিটে দাঁড়াবেন টুম্পা? এমন প্রশ্নের উত্তরে কামদুনির মেয়ে জানিয়েছেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমি অনেকটাই দেরি করে ফেলেছি। বলতে গেলে একেবারে শেষের মুখে। আমি জানিনা দল কী করবে এখন। তবে দলের তরফে যা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আমি সেটাই মেনে নেব। এটা মানতেই হবে আমি তো অনেক শেষে এসেছি।”

    অবশ্যই পড়ুন: সত্যিই কপাল খারাপ KKR-র! এবার IPL থেকে ছিটকে গেলেন আকাশদীপও

    প্রসঙ্গত, এদিন নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন কামদুনি আন্দোলনের মুখ টুম্পা! তাঁকে বলতে শোনা যায়, “রাজ্য সরকারের পুলিশ রাজ্যের কথায় চলে। তাঁদের পুলিশ মন্ত্রী যেমন নির্দেশ দেবেন তেমনভাবেই চলবেন। রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রী যা বলেছেন… রাজ্যের পুলিশ সেভাবে আমাদের কাজ করেননি। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলাম 2013 সাল থেকে। আজও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যারা দোষী, ধর্ষণকারী তাদেরকেই সাপোর্ট করে রাজ্যের পুলিশ। উল্টে তাদের সুরক্ষা দেয়।”

  • টিকিট না পেয়ে একের পর এক বোমা ফাটালেন দিলীপ পত্নী! রিঙ্কুর নিশানায় কে?

    টিকিট না পেয়ে একের পর এক বোমা ফাটালেন দিলীপ পত্নী! রিঙ্কুর নিশানায় কে?

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Election 2026) কেন্দ্র করে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। একে একে সকল রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করছে। কিছুদিন আগেই বিজেপি দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা (BJP  Candidates) ঘোষণা করেছে, কিন্তু শত অনুরোধ করার পরেও টিকিট না পেয়ে এবার দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন দিলীপজায়া রিঙ্কু মজুমদার (Rinku Majumder)। নাম না করে বেনজির আক্রমন শুভেন্দু অধিকারীকে।

    ভোটের টিকিট না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ রিঙ্কু মজুমদার

    আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়ে বিজেপি নেতৃত্বের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন দিলীপ পত্নী রিঙ্কু মজুমদার। ইচ্ছে ছিল রাজারহাট-নিউটাউন আসনে প্রার্থী হবেন, সেই কারণে নিজের বায়োডাটাও জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিজেপির দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই দেখা যায় ওই কেন্দ্রে পীযূষ কানোরিয়াকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। এমনকি ঘোষিত ২৫৫ আসনের কোথাও প্রার্থী করা হয়নি তাঁকে। আর তাতেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন রিঙ্কু মজুমদার। তাঁর দাবি রাজারহাট-নিউটাউন ও বীজপুরে যে প্রার্থীদের দাঁড় করানো হয়েছে, তাঁরা সকলেই নাকি আর্থিক দুর্নীতি-সহ একাধিক কাজে যুক্ত।

    প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ রিঙ্কুর

    গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার বিধাননগরে বিজেপির দফতরে এসে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসলের সঙ্গে দেখা করেন রিঙ্কু মজুমদার। এরপরই সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে জানান যে, ”রাজারহাট-নিউটাউন ও বীজপুরে যে প্রার্থীদের দাঁড় করানো হয়েছে, তাঁরা আর্থিক দুর্নীতি-সহ একাধিক কুকাজে যুক্ত। আমি সুনীল বনশালজিকে একথা জানিয়েছি। জানি না, কেন এঁদের প্রার্থী করল, কিন্তু দলের এসব লোকজনের আসল পরিচয় শীর্ষ নেতাদের জানানো আমার কর্তব্য।” অন্যদিকে টিকিট না পাওয়ায় নিয়ে আক্ষেপ করে জানান, ” সুনীল বনশাল মুখে যা-ই বলুন, আমাকে টিকিট দেবে না। তাহলে এতক্ষণে প্রার্থী বদলে দিত। তাহলে এতগুলো বছর ধরে কোন দল করলাম, কাদের জন্য করলাম?”

    আরও পড়ুন: ৭ নতুন জেলা, ২৫ মডেল শহর! তালিকায় আপনার এলাকা আছে? জানুন

    রিঙ্কু মজুমদার ক্ষোভের সুরে সাংবাদিকদের জানান, “কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আমাকে যুক্তি দিয়েছিলেন একই পরিবার থেকে একাধিক ব্যক্তিকে প্রার্থী করা যাবে না। কিন্তু অধিকারী পরিবার, সিংহ পরিবারের একাধিক ব্যক্তি টিকিট পেয়েছেন। যদি এটা লজিক হয়, তাহলে সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।“ এখানে অধিকারী পরিবার বলতে শুভেন্দু অধিকারী এবং সিংহ পরিবার বলতে অর্জুন সিংয়ের কথা বলতে চেয়েছেন দিলীপ-পত্নী। সবশেষে অভিমানের সুরে বলেন, “নতুনদের সুযোগ দেওয়া উচিত। যাঁরা হারছে তাঁদেরকেই বারবার কেন টিকিট দেওয়া হচ্ছে। এটা আমার প্রশ্ন।“ উল্লেখ্য দিলীপ ঘোষকে এবার তাঁর পুরনো কেন্দ্র খড়গপুর সদর থেকে প্রার্থী করেছে বিজেপি।

  • ৭ নতুন জেলা, ২৫ মডেল শহর! তালিকায় আপনার এলাকা আছে? জানুন

    ৭ নতুন জেলা, ২৫ মডেল শহর! তালিকায় আপনার এলাকা আছে? জানুন

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গতকাল, শুক্রবার বিকেলে ২০২৬ সালের নির্বাচনকে (West Bengal Election 2026) টার্গেট করে ইস্তেহার প্রকাশ করে তৃণমূল (Trinamool Congress Manifesto)। যার পোশাকি নাম দেওয়া হয় ‘প্রতিজ্ঞা’। রাজ্যবাসীর কাছে একগুচ্ছ ‘প্রতিজ্ঞা’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। সেখানেই উঠে এল, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথী, দুয়ারে চিকিৎসার কথা। এছাড়াও প্রশাসনিক দিক থেকে নতুন জেলা এবং নতুন পুরসভা সহ ১০ প্রতিজ্ঞার কথা ঘোষণা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘আমাদের অঙ্গীকার, প্রতিজ্ঞা, যা বলি, তাই করে দেখাই।’

    নতুন সাত জেলার ঘোষণা মমতার

    মহিলা, যুব, কৃষক, সাধারণ পরিবার—প্রায় সব স্তরের মানুষের জন্য একাধিক আর্থিক ও সামাজিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের ইস্তেহারে। পাশাপাশি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক সুরও চড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার, কালীঘাট থেকে নির্বাচনী ইস্তেহার ঘোষণার সময় মমতা জানান, নতুন জেলা, নতুন পুরসভা তৈরি করা হবে। রাজ্যে যে নতুন সাত জেলার কথা ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলি হল, সুন্দরবন, ইছামতী (উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমা ও বাগদা নিয়ে), বসিরহাট, রানাঘাট, বিষ্ণুপুর, বহরমপুর এবং কান্দি। আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা এবং উন্নতমানের পরিষেবা দিতেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    ২৫টি প্রধান শহরকে মডেল শহর গড়বে সরকার

    গত ১৫ বছরে বাংলায় উন্নয়নের এক নতুন মডেল তৈরি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই অনুযায়ী তৃণমূলের ইস্তেহারে ‘মিশন মহানগর’ নামের আরেকটি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের ২৫টি প্রধান শহরকে মডেল শহর হিসাবে তুলে ধরা হবে। তার মধ্যে রয়েছে, হাওড়া, ডায়মন্ড হারবার, বর্ধমান, দুর্গাপুর, বোলপুর, কৃষ্ণনগর, বারাসত, রায়গঞ্জ, শিলিগুড়ি, বহরমপুর, মালদহ, কল্যাণী, শ্রীরামপুর, অণ্ডাল, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, দিঘা, মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, এনকেডিএ এলাকা, গঙ্গারামপুর, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং দার্জিলিং।

    আরও পড়ুন: পানিহাটিতে অভয়ার মা দাঁড়ালে বিজেপির লাভ না ক্ষতি? সমীক্ষায় মিলল চমকপ্রদ উত্তর

    তৃণমূলের ইস্তেহারে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তা, বিদ্যুৎ, কৃষি—সব ক্ষেত্রেই উন্নয়নের দাবি করেছে শাসকদল। আগামী ১০ বছরে বাংলা হবে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। ৫ বছরে ৪০ লক্ষ কোটি টাকার অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্যও বড় চমক আনা হয়েছে। জানা গিয়েছে, রাজ্যে সপ্তম পে কমিশন চালু হবে। বকেয়া মহার্ঘ ভাতা ধাপে ধাপে মেটানো হবে। এ ছাড়া নতুন প্রশাসনিক ইউনিটও গঠন করা হবে। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে এই ইস্তেহারই আগামী নির্বাচনে শাসকদলের প্রধান অস্ত্র হতে চলেছে।

  • জাহান্নামে যাবে! রেড রোডে ঈদের মঞ্চে মোদিকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা মমতার

    জাহান্নামে যাবে! রেড রোডে ঈদের মঞ্চে মোদিকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা মমতার

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দোরগোড়ায় ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। তাইতো ভোটের প্রচারে এখনই ময়দানে নেমেছেন প্রার্থীরা। জনসংযোগ বৃদ্ধিতে যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে নজর রাখছে সকলে। এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) রেড রোডে ইদের পবিত্র সকালে সম্প্রীতি বার্তার পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তা দিলেন। শুধু তাই নয়, এসআইআর থেকে ধর্মীয় মেরুকরণ নিয়ে কমিশন এবং বিজেপি সরকারকে সরাসরি আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

    রেড রোডে মমতা

    রিপোর্ট মোতাবেক আজ অর্থাৎ শনিবার সকালে প্রতি বছরের মতো ঈদের অনুষ্ঠান উপলক্ষে রেড রোডে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। আর সেখান থেকেই সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি সুর চড়ালেন মমতা। সম্প্রীতির আবহে মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা জানান যে, “SIR-এ বহু মানুষের নাম কাটা হয়েছে, অনেক নাম এখনও বিচারাধীন। আপনাদের জন্য আমার লড়াই চলবে। বাংলার সব মানুষের সঙ্গে আছি। আমি সব ধর্মের মানুষের পাশে আছি। আমাদের অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।”

    বিজেপি-কমিশনকে হুঁশিয়ারি মমতার

    রাজ্যে SIR-এর চূড়ান্ত তালিকায় লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদে বিজেপির কারসাজিকে তুলে ধরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মোদীকে আমাদের অধিকার নিতে দেব না। নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের হয়ে কাজ করছে।” এরপরেই বিজেপিকে ‘চোর-ডাকাত-গুণ্ডাদের দল’ বলে কটাক্ষ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “যারা বাংলাকে টার্গেট করছে, তারা জাহান্নামে যাক।” এদিন রেড রোডের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা তৃণমূলনেত্রী। মমতার হুঙ্কার, ‘আপনি সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী। উনি দুবাই গিয়ে হাত মেলান তখন প্রভাব পড়ে না ওরা হিন্দু না মুসলিম। ভারতে এসেই সব ভুলে যান।”

    আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের DA বিজ্ঞপ্তিতেও ভিজল না চিঁড়ে, এবার কলকাতা হাইকোর্টে নতুন মামলা

    মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ভারত সরকার, অমিত শাহর অফিস, নরেন্দ্র মোদির অফিস ফোন করে করে যাকে পারছে হুমকি দিচ্ছে। আর বলছে এখানে ২০ লক্ষ জওয়ান পাঠাও। তারা নাকি ভোটের ভিতরে গিয়ে ছাপ্পা দেবে। পরিকল্পনা অনেক। আবার যাতে বাংলার পুলিশ ধরতে না পারে, সেজন্যই কতগুলো পেটোয়া লোককে আগমন করেছে। কুচো থেকে পোনা, রুই থেকে পুঁই সব বসে থাকবে। তারা তো বাংলার সব খেয়ে নেবে।’ বিধানসভা ভোটের আবহে ঈদের দিনে মুখ্যমন্ত্রীর এই হুংকার স্বাভাবিকভাবে বড় প্রভাব পড়বে বলে আশা করছে রাজনৈতিক মহল।

  • পানিহাটিতে অভয়ার মা দাঁড়ালে বিজেপির লাভ না ক্ষতি? সমীক্ষায় মিলল চমকপ্রদ উত্তর

    পানিহাটিতে অভয়ার মা দাঁড়ালে বিজেপির লাভ না ক্ষতি? সমীক্ষায় মিলল চমকপ্রদ উত্তর

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) জন্য বিজেপির (BJP) দ্বিতীয় দফা প্রার্থী তালিকা নিয়ে সকলেই আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। কারণ পানিহাটিতে (Panihati) আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা নাকি বিজেপি প্রার্থী হতে চলেছে। পদ্ম-প্রতীকের প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছার কথা নাকি তিনি নিজেই জানিয়েছেন। অন্যদিকে নির্যাতিতার পরিবারকে প্রার্থী হিসাবে পাওয়ার ইচ্ছা যে বিজেপি নেতৃত্বের ছিল, সে কথা বিজেপি সূত্রও অস্বীকার করছে না। তবে বেশ কিছু আইনি জটের কারণে সেই কেন্দ্রে প্রার্থী তালিকা নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে অভয়ার মা ভোটে দাঁড়ালে, বিজেপির কি সুবিধে পাবে পানিহাটিতে?

    বিজেপির প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ নির্যাতিতার মায়ের

    পানিহাটির সম্ভাব্য বিজেপি প্রার্থীর কথায়, ‘‘ বিজেপির প্রার্থী হিসাবে আমি লড়তে চাই। অনেক দিন ধরেই আমাকে প্রার্থী হতে বলা হচ্ছিল। আমি রাজি ছিলাম না। কিন্তু আমি দেখলাম যে, নারীদের নিরাপত্তা, নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে, আর পশ্চিমবঙ্গকে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে যাওয়া দুর্নীতি থেকে মুক্তি দিতে হলে তৃণমূলকে মূল থেকে উপড়ে ফেলা দরকার। তাই আমি বিজেপিতে যোগ দিয়েছি এবং প্রার্থী হতে রাজি হয়েছি।’’ এই আবহে ABP আনন্দ ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় সমীক্ষা করার জন্য প্রশ্ন তুলেছিল যে তিনি পানিহাটি থেকে হয়ে ভোটে দাঁড়ালে, বিজেপি কি ডিভিডেন্ট পাবে? আর সেই প্রশ্নের জবাবে উঠে এসেছে একাধিক জবাব।

    সমীক্ষায় মিলল উত্তর

    সমীক্ষায় জানা যায় আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা বিজেপির প্রার্থী হিসেবে পানিহাটিতে দাঁড়ালে ৬৭ শতাংশ মানুষ জানিয়েছে বিজেপির লাভ হবে এবং ২৯ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন লাভ হবে না। তবে ৪ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন বলতে পারবেন না। অর্থাৎ সুবিধার ফলাফলটাই বেশি। বুধবার বিকেল পর্যন্ত পানিহাটিতে বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে নাম ছিল দলের পুরনো নেতা তথা রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি অনিন্দ্য (রাজু) বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু বুধবার বিকেলের দিকে প্রার্থী বাছাই নিয়ে জটিলতায় পড়ে বিজেপি, তাই আপাতত ওই কেন্দ্রে প্রার্থী এখনও অঘোষিত আছে।

    আরও পড়ুন: মার্চেও কনকনে ঠান্ডা! ভাঙল ৬ বছরের রেকর্ড, বিপর্যস্ত জনজীবন

    প্রসঙ্গত, রবিবার নির্বাচনের দিন ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম দফায় ১৪৪টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল বিজেপি। সেখানে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন শুভেন্দু অধিকারী এদিকে আবার ভবানীপুরে লড়ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নন্দীগ্রামে করছেন পবিত্র কর। অন্যদিকে খড়গপুরে লড়ছেন দিলীপ ঘোষ। সব মিলিয়ে এবার আসন নিয়ে ভোটের লড়াই যে বেশ জবরদস্ত হবে, তা বেশ বোঝা যাচ্ছে।

  • দুয়ারে চিকিৎসা থেকে ঘরে ঘরে পানীয় জল, মর্ডান স্কুল! ইস্তেহারে ১০ প্রতিজ্ঞা তৃণমূলের

    দুয়ারে চিকিৎসা থেকে ঘরে ঘরে পানীয় জল, মর্ডান স্কুল! ইস্তেহারে ১০ প্রতিজ্ঞা তৃণমূলের

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে একের পর এক চমক দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC Manifesto 2026)। এবার ইস্তেহার প্রকাশ করে রাজ্যবাসীকে চমকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কালীঘাট থেকে ইস্তেহার প্রকাশ করে বাংলার মানুষ জনের কাছে বড় প্রতিশ্রুতি রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী। ইস্তেহারের নাম রাখা হল “বাংলার জন্য দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা।” মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তৃণমূল কংগ্রেস ফের ক্ষমতায় এলে রাজ্যবাসীর দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে যাবে চিকিৎসা পরিষেবা। সেই সাথে বাংলার মানুষের কাছে আরও 9টি প্রতিজ্ঞা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    তৃণমূল এলেই দুয়ারে চিকিৎসা

    শুক্রবার নিজেদের ইস্তেহারে রাজ্যবাসীর কাছে অন্যতম প্রতিশ্রুতি হিসেবে দুয়ারের চিকিৎসা পরিষেবা চালু করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার কথায়, “তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতায় আসবে এবং দুয়ারে সরকারের আদলে দুয়ারের চিকিৎসা নামে ব্লকে ব্লকে খোলা হবে স্বাস্থ্যশিবির। সেখানে থাকবেন রাজ্যের অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা। আর সেই স্বাস্থ্য শিবির থেকেই নিজেদের যাবতীয় চিকিৎসা করাতে পারবে সাধারণ মানুষ।

    বলাই বাহুল্য, 2024 লোকসভা নির্বাচনের আগে নিজের ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে সেবাস্রয় শিবিরের আয়োজন করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে সেই সেবাশ্রয় গড়ে তোলা হয় নন্দীগ্রামেও। খানিকটা সেই আদলেই আগামী দিনে রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে স্বাস্থ্য শিবির গড়ে তোলার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

    তৃণমূলের ইস্তেহারে আর কী কী আছে?

    ইস্তেহারে দুয়ারে চিকিৎসা পরিষেবা চালু করার কথা জানানোর পাশাপাশি রাজ্যের কয়েক হাজার সরকারি স্কুলের আধুনিকীকরণ করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই স্কুল গুলিকে মডার্ন স্কুলে রূপান্তরিত করা হবে অর্থাৎ তালিকাভুক্ত প্রতিটি স্কুলে ই লার্নিং সহ আধুনিক পঠন-পাঠন চালানো হবে। এই প্রকল্পের অধীনে নিয়োগ করা হবে প্রচুর শিক্ষক।

     

    অবশ্যই পড়ুন: ট্রেনের খাবার কতটা সতেজ জানতে পারবেন স্ক্যান করেই, QR কোড সিস্টেম চালু করল রেল

    এখানেই শেষ নয়, রাজ্যের প্রবীণ নাগরিকদের দেখাশোনার জন্যও বিশেষ প্রকল্পের ঘোষণা করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। পাশাপাশি বাংলার সাত থেকে আটটি জেলায় নতুন নতুন পৌরসভা তৈরি করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এগুলি ছাড়াও বাংলার প্রত্যেককে পাকা বাড়ি করে দেওয়া হবে বলেও নিশ্চয়তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে তৃণমূলের ইস্তেহারে, বাড়িতে বাড়িতে পানীয় জল, বাংলাকে পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা, কৃষি ক্ষেত্রে 30 হাজার কোটি টাকার বাজেট এবং প্রতিটি কৃষককে আর্থিক সাহায্য করা, বেকার যুবক যুবতীদের পাশে থাকা অর্থাৎ যুবসাথী প্রকল্প এবং বাংলার মহিলাদের লক্ষ্মীর ভান্ডারের হাত ধরে মাসিক অর্থ সাহায্য দিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • জল্পনা কাটিয়ে ২৯ কেন্দ্রে প্রার্থী দিল ISF! নন্দীগ্রামে বামদের প্রার্থী তোলার আবেদন নওশাদের

    জল্পনা কাটিয়ে ২৯ কেন্দ্রে প্রার্থী দিল ISF! নন্দীগ্রামে বামদের প্রার্থী তোলার আবেদন নওশাদের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) দিন ঘোষণা হতেই রাজ্য জুড়ে এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একে একে বিজেপি, তৃণমূল এবং সিপিআইএম প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করছে। আর এবার পালা ISF দের। কয়েকদিনের জল্পনা শেষে অবশেষে আজ অর্থাৎ শুক্রবার ISF চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকী (Naushad Siddiqui) জানিয়ে দিলেন, কতগুলি আসনে প্রার্থী দিলেন তারা। অন্যদিকে নন্দীগ্রাম সহ আরও তিন আসনে বামেদেরকে প্রার্থী প্রত্যাহারের অনুরোধ জানাল ISF।

    ২৯টি আসন নিয়ে সমঝোতা ISF দের

    রিপোর্ট মোতাবেক আজ অর্থাৎ শুক্রবার ISF চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকী সাংবাদিক বৈঠকে জানান যে, “বিজেপি ও তৃণমূলকে পরাস্ত করতে আসন নিয়ে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ করেছি। একাধিকবার চিঠির আদানপ্রদান, আলিমুদ্দিনে আলোচনার পর অবশেষে আসন্ন নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে আমরা বেশ কিছু আসনে সমঝোতা করতে পেরেছি। বামেদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ২৯টি আসন নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। আজ সেই আসনগুলির ঘোষণা করা হচ্ছে।” পেশ করা তালিকা অনুযায়ী ISF মোথাবাড়ি, সুজাপুর, সামশেরগঞ্জ, রঘুনাথগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, অশোকনগর, আমডাঙা, মধ্যমগ্রাম, দেগঙ্গা, হাড়োয়া, মিনাখাঁ, বাদুড়িয়া, বসিরহাট উত্তর, বাসন্তী, কুলপি এলাকায় নামতে চলেছে।

    প্রতীক চিহ্ন হিসেবে রাখা হয়েছে ‘খাম’

    এছাড়াও ISF এর প্রকাশিত তালিকায় রয়েছে মন্দিরবাজার, ক্যানিং পশ্চিম, ক্যানিং পূর্ব, মগরাহাট পশ্চিম, ভাঙড়, উলুবেড়িয়া পূর্ব, জগৎবল্লভপুর, হরিপাল, খানাকুল, মহিষাদল এবং বীরভূম জেলার বোলপুর সহ মোট ২৯টি কেন্দ্র। বামেদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ISF । তাঁদের প্রতীক চিহ্ন হয়েছে ‘খাম’। নওশাদ সিদ্দিকী আরও বলেন, “আরও কয়েকটি আসনে বামফ্রন্টের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছিল। পাঁশকুড়া পশ্চিম, নন্দীগ্রাম, ভগবানগোলা এবং মুরারই। কিন্তু ইতিমধ্যে বামেরা সেখানে প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। কিন্তু, এই চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। তাই এই চারটে আসনে যাতে বামেরা প্রার্থী না দেয়, সেই আবেদন করছি।”

    আরও পড়ুন: বেতন-স্থায়ীকরণের দাবিতে বাড়ছে ক্ষোভ, ভোটে তৃণমূলকে হারানোর ডাক পার্শ্ব শিক্ষকদের

    বৈঠকে সাংবাদিকরা আইএসএফের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের দিনক্ষণ জানতে চাওয়ায় নওশাদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, “আগামিকাল ঈদ উদযাপন। স্বাভাবিকভাবে মানুষ উৎসবের মেজাজে রয়েছেন। তাই ঈদের পর পরই আমরা প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করব।” ইতিমধ্যেই বিজেপির তরফে নন্দীগ্রামে ভোটের ময়দানে নামতে চলেছে বিরোধী দলনেতার শুভেন্দু অধিকারী এবং শাসকদলের তরফে সেই কেন্দ্রে লড়াই করবেন পবিত্র কর। এমতাবস্থায় CPIM আসনটি সিপিআইকে ছেড়েছে এবং সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন শান্তি গিরি। এখন দেখার ISF-এর অনুরোধ CPIM রাখেন কিনা।

  • বেতন-স্থায়ীকরণের দাবিতে বাড়ছে ক্ষোভ, ভোটে তৃণমূলকে হারানোর ডাক পার্শ্ব শিক্ষকদের

    বেতন-স্থায়ীকরণের দাবিতে বাড়ছে ক্ষোভ, ভোটে তৃণমূলকে হারানোর ডাক পার্শ্ব শিক্ষকদের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) নিয়ে বেশ তোড়জোড় শুরু হয়েছে রাজ্য জুড়ে। রবিবার নির্বাচনের দিন ঘোষণার পরেই মঙ্গলবার, পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। জনবিচ্ছিন্ন নয়, বরং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকার জন্য তালিকায় নতুন পুরাতন মুখকে দাঁড় করানো হয়েছে। কিন্তু এসবের মাঝেই পার্শ্ব শিক্ষকদের (Para Teachers) ক্ষোভ আরও বড় আকার নিল। প্রতিশ্রুতি না পূরণ হওয়ায় এবার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় চেয়ে পথে নামতে চলেছে পার্শ্ব শিক্ষকেরা।

    প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি রাজ্য সরকার

    স্থায়ীকরণ ও বেতন বৃদ্ধির দাবিতে এখনও অনড় রাজ্যের সকল পার্শ্ব শিক্ষকরা। কিন্তু কোনো সুফল মিলছে না। নিখিল বঙ্গ পার্শ্ব শিক্ষক সমিতির সভাপতি মধুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী কি সবটাই ভুলে গেলেন? সাধারণ শিক্ষকদের মতোই পার্শ্ব শিক্ষকেরাও স্কুলের সব দায়িত্ব পালন করছেন। তবু আমরা কেন দীর্ঘ দিন অবহেলিত থাকব? দী‌র্ঘ বছর ধরে নিয়োগ না হওয়ায় এখন বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষকের অভাব। তবে আমরা লিফলেট তৈরি করে আমাদের বঞ্চনার কথা লিখে সাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে দেব।’’ তবে এই সকল অভিযোগ অস্বীকার করছে শাসকদল। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির রাজ্য সভাপতি মইদুল ইসলাম জানিয়েছেন, “শিক্ষকদের অবসরকালীন ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। ৬০ বছর পর্যন্ত চাকরি সুনিশ্চিত করেছে, মাতৃত্বকালীন ছুটি চালু করেছে।”

    ভাতা নিয়েও বাড়ছে ক্ষোভ

    পার্শ্ব শিক্ষকদের অভিযোগ, ২০০৯ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন বিরোধী দলনেত্রী। তখন পার্শ্ব শিক্ষকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, সরকারে এলে তাঁর প্রধান কাজ হবে পার্শ্ব শিক্ষকদের স্থায়ীকরণ। এখনও সেই বক্তব্যের ভিডিয়ো রেকর্ডিং, খবরের কাটিং আছে তাঁদের কাছে। এমনকি ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের শেষে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, পার্শ্ব শিক্ষকদের ছয় মাস থেকে তিন বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে স্থায়ীকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু এত বছর পরে সেই স্থায়ীকরণ আজও হয়নি। এমনকি আট বছর পরে ভাতা বেড়েছে মাত্র এক হাজার টাকা।

    আরও পড়ুন: ‘জনসংগ্রাম মঞ্চ’ নিয়ে ভোটে রাজন্যা, লড়বেন দুই হেভিওয়েট কেন্দ্র থেকে

    পার্শ্ব শিক্ষক ঐক্য মঞ্চের সভাপতি ভগীরথ ঘোষ জানিয়েছেন, “স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় ৫৫ বছর পর্যন্ত বসার সুযোগ ছিল। তৃণমূলের সরকার সেই সংরক্ষণের নিয়মও তুলে দেয়। তাই এ বারের ভোটে তৃণমূলের পরাজয় চেয়ে মাঠে নামতে চাইছেন ক্ষুব্ধ পার্শ্ব শিক্ষকেরা। রাজ্যে পার্শ্ব শিক্ষকের সংখ্যা ৪১ হাজারের মতো। প্রতিটি পরিবারে চার জন সদস্য আছেন ধরে নিলে মোট ভোটারের সংখ্যা কিছু কম নয়। আমাদের আবেদন, যে এলাকায় যে বিরোধী দল শক্তিশালী, তাদের ভোট দিন। আমরা কলকাতার ভবানীপুর-সহ বেশ কিছু এলাকায় স্ট্রিট কর্নার করছি।” জানা গিয়েছে, খুব শীঘ্রই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সমাবেশ-মিছিল করতে চলেছেন তাঁরা। এখন দেখার এই ক্ষোভের মুখে পড়ে রাজ্য সরকার পার্শ্ব শিক্ষকদের জন্য কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে কিনা।

  • স্বাস্থ্য, মহিলা, কর্মসংস্থান—তৃণমূলের ইস্তেহারে বড় চমক আনতে চলেছেন মমতা

    স্বাস্থ্য, মহিলা, কর্মসংস্থান—তৃণমূলের ইস্তেহারে বড় চমক আনতে চলেছেন মমতা

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: হাতে সময় খুব কম, তাই বিধানসভা ভোটের (West Bengal Election 2026) নির্ঘণ্ট, প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই বিভিন্ন ইস্যুকে সামনে রেখে দিন রাত ভোট প্রচার করে চলেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর সিংহাসন চতুর্থবার দখল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে তৃণমূল (Trinamool Congress)। তাই অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করার সময় নানা চমক এনেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আর এবার শীঘ্রই ইস্তাহার (TMC Manifesto) প্রকাশ করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মহিলাদের নানা সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আনা হতে চলেছে একাধিক চমক।

    তৃণমূলের ইস্তেহারে থাকবে একাধিক চমক

    রিপোর্ট মোতাবেক ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তেহার প্রকাশ করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। শোনা যাচ্ছে আজ বিকেলেই প্রকাশিত হবে। এক বিশেষ নির্বাচনী স্লোগান নিয়ে আসা হয়েছে, আর সেটি হল ‘যে লড়ছে সবার ডাকে, সেই জেতাবে বাংলা মাকে’। শোনা যাচ্ছে বেশ কিছু সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি মহিলাদের জন্য একাধিক চমক রাখা হচ্ছে। কর্মসংস্থানের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি শিল্পায়নের নতুন দিশা দেখাতে চলেছে তৃণমূলের এই ইস্তেহার। মহিলাদের উন্নয়ন ও সুরক্ষায় বিশেষ জোর দিতে চলেছে শাসকদল। এছাড়াও SC-ST সম্প্রদায়ের উন্নয়নে আরও জোর যেমন দেওয়া হবে ঠিক তেমনই স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিশেষ চমক থাকতে পারে ইস্তেহারে।

    টার্গেট করা হচ্ছে সাধারণের নিত্যদিনের কাজকে

    তৃণমূল কংগ্রেসের আগামী ৫ বছরের কাজের পরিকল্পনায় বাঙালি অস্মিতা রক্ষায় জোর দিতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, ২০২১-এর ইস্তাহারে দুয়ারে রেশন, মা ক্যান্টিন বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছিল বঙ্গবাসীদের মনে। তাই এবারের ইস্তাহারেও সাধারণ মানুষের কাজগুলি যেগুলি নিত্যদিনের যোগ থাকবে তার উপর জোর দিতে চলেছে। এদিকে গত রবিবার ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরোহিত এবং মোয়াজ্জিনদের ভাতা ১৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করে দিয়েছিল, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চা শুরু হয়েছিল, এখন দেখার ইস্তেহারে কী কী চমক অপেক্ষা করছে।

    আরও পড়ুন: ‘জনসংগ্রাম মঞ্চ’ নিয়ে ভোটে রাজন্যা, লড়বেন দুই হেভিওয়েট কেন্দ্র থেকে

    প্রসঙ্গত, নির্বাচনের আবহে যেকোনও রাজনৈতিক দলের কাছে নির্বাচনী ইস্তাহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আসলে এই ইস্তেহার হল যদি কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসে, তাহলে সেই দল আগামী পাঁচ বছর কী কী কাজ করবে, ইস্তাহারে তা তুলে ধরে এনে জনগণের সামনে। বিজেপি ইতিমধ্যে ইস্তেহার প্রকাশ করেছে, এখন নজর তৃণমূলের দিকে।

  • ‘জনসংগ্রাম মঞ্চ’ নিয়ে ভোটে রাজন্যা, লড়বেন দুই হেভিওয়েট কেন্দ্র থেকে

    ‘জনসংগ্রাম মঞ্চ’ নিয়ে ভোটে রাজন্যা, লড়বেন দুই হেভিওয়েট কেন্দ্র থেকে

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দোরগোড়ায় ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), তাই রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থী তালিকা ঘোষণা নিয়ে এইমুহুর্তে এক উত্তেজিনামূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজ্য জুড়ে। এমতাবস্থায় ভোটের ময়দানে এবার নিজস্ব দল গঠন করলেন রাজন্যা হালদার (Rajanya Haldar)। জানা গিয়েছে নির্বাচনে দুই হেভিওয়েট কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়ছেন তিনি। প্রকাশ্যে আনলেন দলের নামও।

    দুই কেন্দ্র থেকে লড়ছেন রাজন্যা

    বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টের সময় কলকাতার প্রেস ক্লাবে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন একদা তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন নেত্রী রাজন্যা হালদার। সেখানেই তিনি নিজের রাজনৈতিক দল ‘জনসংগ্রাম মঞ্চ’ প্রকাশ করেন। শুধু দলের নাম নয় এর পাশাপাশি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কোন কোন কেন্দ্রে রাজন্যা প্রার্থী দেবে তাও খোলসা করলেন। জানা গিয়েছে, সোনারপুর দক্ষিণ ও আসানসোল দক্ষিণ থেকে প্রার্থী হচ্ছেন রাজন্যা হালদার। এছাড়াও খড়দহে জনসংগ্রাম মঞ্চের প্রার্থী হচ্ছেন আইনজীবী অনির্বাণ ব্যানার্জি, রাজারহাট-নিউটাউনে শুভঙ্কর মুখার্জি, সোনারপুর উত্তরে আইনজীবী নারায়ণ দাস। তবে আরও প্রার্থী ঘোষণা এখনও বাকি।

    মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করলেন রাজন্যা

    সাংবাদিক সম্মেলনে প্রার্থী এবং দল ঘোষণার পর রাজন্যা হালদার তৃণমূল এবং বিজেপি, ২ দলের বিরুদ্ধেই সরব হয়েছেন। তিনি বলেছেন, “ প্রার্থী হিসেবে নানা বিধানসভা কেব্দ্র থেকে ভোটের ময়দানে থাকব। বাংলা কাঁদছে, গণতন্ত্র ধার চাই।” নাম না করেই মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “যে বাংলার মানুষের দায়িত্ব নিয়েছেন তাঁকে বাংলার গণতন্ত্রকে বাঁচানোর আবেদন সুপ্রিম কোর্টে যেতে হত না। বাংলার গণতন্ত্রকে কীভাবে বাঁচাতে হয় তা তাঁর করে দেখানো উচিৎ ছিল। কিন্তু তা পারেননি। তাই ‘জনসংগ্রাম মঞ্চ’-এর মাধ্যমে ছাত্রযুবরা মাঠে নামছি।” তিনি আরও বলেন, “হারি কি জিতি, লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরব না।”

    আরও পড়ুন: সিভিকরা পাবেনা ৬০০ টাকা বোনাস? নবান্নর সিদ্ধান্তের পরই রিপোর্ট চাইল কমিশন

    আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজন্যা হালদার এদিন ‘জনসংগ্রাম মঞ্চ’-এর ইশতেহার প্রকাশ করেন। কর্মসংস্থান, চাকরি সঙ্কট, মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত করা, নারী সুরক্ষা এবং নারীর অর্থনৈতিক বিকাশ সুরক্ষা করা, শিশুদের পুষ্টির বিকাশ, শিক্ষার উন্নয়ন ইত্যাদি তুলে ধরেন ইশতেহারে। উল্লেখ্য, আর জি কর-কাণ্ডের আবহে, তিলোত্তমাদের প্রতিবাদ নিয়ে শর্ট ফিল্ম তৈরি করে, দলের রোষে পড়েন তিনি। তারপর তৃণমূল তাঁকে সাসপেন্ড করে দিয়েছিল। জল্পনা ছিল যে, তিনি বিজেপি-তে যোগ দিতে পারেন। যদিও সেই জল্পনা উড়িয়ে অবশেষে নিজের দল তৈরি করলেন রাজন্যা।