Category: রাজনীতি

  • মমতার বিরুদ্ধে হবে ভোটে লড়াই, ভবানীপুরে বিরাট কাজ করলেন শুভেন্দু

    মমতার বিরুদ্ধে হবে ভোটে লড়াই, ভবানীপুরে বিরাট কাজ করলেন শুভেন্দু

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তবে তার আগে রাজনৈতিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে জোড়কদমে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে তাঁকেই এবার কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল বিজেপি। হ্যাঁ, সেই লক্ষ্যেই ভবানীপুরে বিশেষ ওয়ার রুম তৈরি করে ফেলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    কোথায় তৈরি হচ্ছে এই ওয়ার রুম?

    দক্ষিণ কলকাতার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের ৮/১ বি চক্রবেড়িয়া রোডের একটি বাড়ির নিচতলায় এই নির্বাচনী কার্যালয় গড়ে তোলা হচ্ছে বলে বেশ কয়েকটি সুত্রের খবর। এমনকি বিজেপির তরফ থেকে দাবী করা হচ্ছে, এই অফিস থেকেই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের সার্বিক ভোট পরিচালনা করা হবে। আর ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি গঠিত হয়েছে কলকাতা পৌরসভার মোট আটটি ওয়ার্ড নিয়ে। সেই ওয়ার্ডগুলি হলে যথাক্রমে ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪, ৭৭ এবং ৮২।

    এদিকে বিজেপি নেতৃত্বদের মতে, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে ভবানীপুরের একাধিক পদ্ম শিবির ভালো ফলাফল করেছে। বিশেষ করে ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২ এবং ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি ভালো ভোট পেয়েছে। তবে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভবানীপুর বিধানসভা অংশে বিজেপি প্রার্থী তথাগত রায় তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত বক্সীর থেকে মোট ১৭৬টি ভোটে এগিয়ে ছিলেন। আর সেই পরিসংখ্যানকেই বিজেপি নেতা নেতৃত্বরা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে। এদিকে দলের এক স্থানীয় নেতার দাবি, ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে সংখ্যালঘু ভোটের ব্যবধানেই তৃণমূল অতীতে জয়ী হয়েছে। কিন্তু এসআইআর এর তালিকা পরিস্থিতি বদলাতে পারে।

    আরও পড়ুন: হোলির ৪ দিন বন্ধ থাকবে হাওড়ার পুরনো ক্যাব রোড! বিকল্প উপায় কী?

    পাশাপাশি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী ভবানীপুর ছেড়ে নন্দীগ্রামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। আর সেখানে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হন। পরে ভবানীপুর উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক শর্ত পূরণ করেছিলেন তিনি। বিজেপি নেতাদের অনুমান, ২০২৬ সালে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই লড়াই করবেন। আর সেই সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে শুভেন্দু অধিকারী প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার ভবানীপুরের দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন বলে খবর। দক্ষিণ কলকাতা বিজেপির এক সূত্রের দাবি, ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে দলের শক্ত ভিত রয়েছে বলেই সেখানে এই ওয়ার রুম তৈরি করা হয়েছে। আর ঘটনাচক্রে সম্প্রতি ওই এলাকাতেই জনসংযোগ কর্মসূচি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

  • ভোটার তালিকা থেকে ৬৪ লক্ষ নাম বাদ, ৬ মার্চ ধর্মতলায় ধর্নায় বসবেন মমতা

    ভোটার তালিকা থেকে ৬৪ লক্ষ নাম বাদ, ৬ মার্চ ধর্মতলায় ধর্নায় বসবেন মমতা

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এসআইআর এর চূড়ান্ত তালিকায় প্রায় ৬৪ লক্ষ নাম বাদ পড়ার অভিযোগে এবার রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়ে আগামী ৬ মার্চ ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে এই কর্মসূচির কথা জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

    কেন এই আন্দোলন?

    আসলে গত বছরের ২৭ অক্টোবর রাজ্য এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তখন থেকেই শাসক দল অভিযোগ করছে, ইচ্ছাকৃতভাবেই বহু ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তৃণমূলের স্পষ্ট দাবি, চূড়ান্ত তালিকায় প্রায় ৬৪ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যা কিনা ভোটমুখী বাংলায় বেশ আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। সেই কারণেই এই ধর্নার কর্মসূচি। এর আগে ৪ নভেম্বর দক্ষিণ কলকাতায় বিশাল মিছিল করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে দিল্লিতেও একাধিকবার সরব হয়েছে তিনি। আর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকে করেছেন মমতা এবং অভিষেক।

    আরও পড়ুন: হোলির ৪ দিন বন্ধ থাকবে হাওড়ার পুরনো ক্যাব রোড! বিকল্প উপায় কী?

    এদিকে রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের জন্যই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, এত বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম অ্যাডজুডিকেশন লিস্টে রেখে ভোট হলে তা অমীমাংস থেকে যেতে পারে। সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও করা হবে। সেই মামলা লড়েই তিনি সমস্ত তথ্য প্রকাশ্যে আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এমনকি যাদের নাম বাদ পড়েছে তাদের ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করতেও পরামর্শ দেন অভিষেক।