Category: রাজনীতি

  • বাড়বে DA থেকে পেনশন, বাংলায় ৭ পে কমিশন গঠনের দিন ঘোষণা, তবে রয়েছে শর্ত

    বাড়বে DA থেকে পেনশন, বাংলায় ৭ পে কমিশন গঠনের দিন ঘোষণা, তবে রয়েছে শর্ত

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মহলে এখন প্রতিশ্রুতির ঝড় বইছে। বিভিন্ন দল নিজেদের নির্বাচনী রূপরেখা তুলে ধরা শুরু করেছে। আর সেই প্রেক্ষাপটেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বিরাট ঘোষণা করল রাজ্যের বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি। দলের তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তারা ক্ষমতায় আসলে ৪৫ দিনের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) কার্যকর হবে।

    বেতন কমিশন নিয়ে চর্চা তুঙ্গে

    বলে রাখি, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্র এবং রাজ্য প্রতি ১০ বছর অন্তর বেতন কমিশন গঠন করে। আর রাজ্যের ষষ্ঠ বেতন কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ এর ৩১ ডিসেম্বর। সেই অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকেই সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের কথা। তবে রাজ্য বাজেটে নতুন বেতন কমিশনের প্রসঙ্গ তোলা হলেও তা কবে থেকে বাস্তবায়িত হবে সে বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কিছু ঘোষণা করা হয়নি। যার ফলে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে স্বাভাবিক প্রত্যাশা আর অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

    কিন্তু বিজেপির দাবি, তারা সরকার গঠন করলে ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করবে। যার ফলে বাড়বে DA থেকে পেনশন। তবে শর্ত একটি বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে হবে। আর দীর্ঘদিন ধরেই ডিএ এবং বেতন কাঠামো নিয়ে অসন্তোষে থাকা কর্মীদের মন জিততেই এই ঘোষণা করা হয়েছে বলেই মত প্রকাশ করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কিন্তু এই প্রতিশ্রুতি নির্বাচনের সমীকরণে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে রয়েছে মতভেদ।

    আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য প্রকল্প নিয়ে বড় ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের, উপকৃত হবেন …

    ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ঠিক কত হতে পারে?

    এদিকে বেতন কমিশনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর। এর উপরে নির্ভর করছে কর্মীদের মূল বেতন কতটা বাড়বে তা। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৯১ থেকে ৩.১৫ পর্যন্ত করা হতে পারে। আর সেই হিসেবে বর্তমানে যাদের বেসিক বেতন ১৮ হাজার টাকা, তাদের বেতন বেড়ে হতে পারে ৫২ হাজার টাকা থেকে ৫৬ হাজার টাকা। কিন্তু এই অংক পুরোপুরি নির্ভর করবে চূড়ান্ত সুপারিশের উপরেই।

  • “১ ভোট হলেও ভবানীপুর থেকে আমিই জিতব!” হুঙ্কার মমতার

    “১ ভোট হলেও ভবানীপুর থেকে আমিই জিতব!” হুঙ্কার মমতার

    সৌভিক মুখার্জী, ভবানীপুর: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তবে তার আগেই উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনীতি। সেই আবহে আজ বড়সড় বক্তব্য রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সম্প্রতি এসআইআর তালিকা প্রকাশের পর ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪৭ হাজারের নাম বাদ পড়েছে। এমনকি আরও ১৪ হাজারের বেশি নাম অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে। আর তা নিয়েই এবার বিজেপি হংকার ছেড়েছে যে, এই কেন্দ্রে তারা জিতবে। তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “বারবার আমি লড়াই করেছি এবং আমিই এখানে জিতব।”

    এসআইআর-এ বাদ ৪৭ হাজারে বেশি নাম

    জানিয়ে রাখি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই ভবানীপুরের বিধায়ক। তবে এতদিন পর্যন্ত এই কেন্দ্রে কতজনের নাম বাদ পড়বে তা নিয়ে চলছিল জল্পনা। তবে তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায় যে, সেখানে ৪৭ হাজারের বেশি নাম বাদ পড়েছে। এমনকি আরও ১৪ হাজারের বেশি নাম অমীমাংসিত তালিকায় পড়ে রয়েছে। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লক্ষ ৬ হাজার ২৯৫। তাছাড়াও ১৬ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা গিয়েছিল ৪৪ হাজার ৭৮৬ জনের নাম সেখান থেকে বাদ পড়েছে। আর এবার আরও ৩২৪ জনের নাম যুক্ত হল। অনুমান করা হচ্ছে, নথি যাচাইয়ের আরও নাম বাদ পড়বে। সেই কারণেই সুর চড়িয়েছিল রাজ্যের বিরোধী দল।

    নির্বাচনের আগেই শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে সুকান্ত মজুমদাররা ভবানীপুরে এসে একাধিকবার দাবি করেছেন যে, এবার বিজেপিই এই আসনে জিতবে। আর শুভেন্দু অধিকারী নিজেই বলেছেন যে, “উনি জানেন কাদের ভোট জিতেছিলেন। ওটা বিজেপির জায়গা। আর আমি চ্যালেঞ্জ করছি, আপনি দাঁড়ান। বাকিটা নিজেই বুঝে নেবেন।” কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে ভোটের উপর কী প্রভাব পড়বে তা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।

    আরও পড়ুন: ‘ভাইপো শাসন চলবে না’— মথুরাপুরে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় তৃণমূলকে নিশানা অমিতের

    “আমিই জিতব ভবানীপুরে”—মমতা

    এদিকে আজ সভা করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই বলেছেন যে, “এক ভোট হলেও ভবানীপুর থেকে আমি জিতব। বারবার আমি নিজে এখান থেকে লড়াই করেছি। আর আমাকে নৈতিকভাবেই সবাইকে সমর্থন করুন। এখানে কোনও ভাবেই বিজেপিকে আসতে দেবো না।” এমনকি তিনি এদিন আরও জানিয়েছেন, “বাংলার ১ কোটির ২০ লক্ষ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চলেছে কমিশন। বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়েছে। সমস্ত তথ্য দেওয়ার পরেও নাম কেটেছে নির্বাচন কমিশন। ভেরিফিকেশন ছাড়াই বাদ গেছে ৫৮ লক্ষের নাম। সব দোষই বিজেপির।”

  • ‘পরিবর্তন যাত্রা’র মঞ্চে বড় চমক! সাংবাদিকতা ছেড়ে বিজেপিতে সন্তু পান

    ‘পরিবর্তন যাত্রা’র মঞ্চে বড় চমক! সাংবাদিকতা ছেড়ে বিজেপিতে সন্তু পান

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে বঙ্গ রাজনীতিতে একের পর এক চমক দেখছে রাজ্যবাসী। কোথাও নির্বাচনের প্রাক্কালে বিজেপির মন্ত্রী সবুজ পতাকা ধরছে তো কোথাও আবার তৃণমূল ছেড়ে অনেক মন্ত্রী বিজেপিতে যোগ দিচ্ছে, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। এমতাবস্থায় ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু করেছে বিজেপি। আজও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে আয়োজিত হয়েছে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’র কর্মসূচি। উপস্থিত হয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ একাধিক বিজেপি নেতা। আর এই কর্মসূচির মাঝেই সাংবাদিকতা ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখালেন সন্তু পান (Santu Pan Joins BJP)।

    বিজেপিতে যোগ সন্তু পানের

    রিপোর্ট মোতাবেক, আজ অর্থাৎ সোমবার, মথুরাপুরের বাপুলিবাজার সংলগ্ন ভগবতীপুর মাঠে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার সূচনায় যখন অমিত শাহ সহ একাধিক নেতা একের পর বক্তব্য পেশ করছিলেন আর সেই সময় এক বড় চমক দেখা গেল অনুষ্ঠানের মঞ্চে। রিপাবলিক বাংলার জনপ্রিয় সাংবাদিক সন্তু পান এবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাত ধরে যোগ দিলেন বিজেপি শিবিরে। তুলে নিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির পতাকা। ইতিমধ্যে সেই ছবি বেশ ভাইরাল। যদিও সাংবাদিক সন্তু পান এদিন তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই খবর প্রকাশ্যে এনেছেন। তিনি লিখেছেন, “প্রত্যেকটা জার্নি শেষ হয় নতুন উদ্যমে নতুন জার্নির প্রস্তুতি হিসেবে৷ রিপাবলিক বাংলা ছাড়লাম। এবার মথুরার ছেলেটি পথ নির্দেশ দেবেন। নতুন কর্মের দিশা দেবেন।”

    শক্তিপ্রদর্শন করে চলেছে বিজেপি

    উল্লেখ্য, রেশন দুর্নীতির তদন্তে ইডি যখন সন্দেশখালিতে পা রেখেছিল, সেদিনই রিপোর্টিং করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন সন্তু পান। খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল সেই তথ্য। পরে তাঁকেই গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। আর সেই নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল সাংবাদিকদের তরফে। এমনকি রাজ্য প্রশাসনের সাংবাদিকের গ্রেফতারিরও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সন্দেশখালির বাসিন্দারা। আর এবার সেই সাংবাদিকই যোগ দিলেন বিজেপিতে। কিছুদিন আগেই জলপাইগুড়ি উত্তরবঙ্গের অ্যাথলিট কন্যা স্বপ্না বর্মন যোগ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসে, এছাড়াও কার্শিয়াংয়ের বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন, যা নিয়ে শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক চর্চা।

    আরও পড়ুন: ‘ভাইপো শাসন চলবে না’— মথুরাপুরে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় তৃণমূলকে নিশানা অমিতের

    প্রসঙ্গত, সামনেই বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। তাই তার আগে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে রাজ্যজুড়ে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু করেছে বিজেপিতে। যেখানে একাধিক কেন্দ্রের নেতা-মন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সেই সভাতে যোগ দিতেই এদিন মথুরাপুর আসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আর সেখান থেকে শিক্ষক দুর্নীতি-সহ একাধিক ইস্যুতে তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ শানাচ্ছেন তিনি। এখন দেখার বিধানসভা নির্বাচনের ময়দানে কোন দল এগিয়ে থাকে।

  • ‘ভাইপো শাসন চলবে না’ মথুরাপুরে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় তৃণমূলকে নিশানা অমিতের

    ‘ভাইপো শাসন চলবে না’ মথুরাপুরে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় তৃণমূলকে নিশানা অমিতের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা এখনও বাকি ৷ কিন্তু তার আগেই জনসংযোগ বৃদ্ধিতে ময়দানে নেমেছে শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধীরা। তৃণমূল কংগ্রেস একদিকে যখন উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে সাধারণের দোরে দোরে তখন রাজ্যে পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করতে নেমেছে বিরোধী দল বিজেপি। আজ, সোমবার পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)৷ এদিনের মঞ্চ থেকে আবারও শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে জোরাল হুঁশিয়ারি দিলেন অমিত শাহ৷

    মথুরাপুরে অমিত শাহ

    রিপোর্ট অনুযায়ী, বিজেপির পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে আজ অর্থাৎ সোমবার, মথুরাপুরের বাপুলিবাজার সংলগ্ন ভগবতীপুর মাঠে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার সূচনায় যোগ দিলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দুপুর ৩ টে ৫ মিনিট নাগাদ শাহের হেলিকপ্টার মথুরাপুরের আসেন। তাঁকে দেখে কর্মীদের উচ্ছ্বাস যেন আরও বেড়ে গিয়েছিল। মঞ্চে উপস্থিত হয়ে বক্তৃতা দিতে গিয়ে অমিত শাহ এদিন শুরুতেই তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “রাজ্যের ৯ জায়গা থেকে পরিবর্তন যাত্রা হচ্ছে। আরও একটা ধাক্কা দিতে হবে। তৃণমূলকে বিদায় করতে হবে। এখন তৃণমূল সরকার তলানিতে পৌঁছে দিয়েছে উন্নয়নকে। নতুন সরকার গড়তে হবে। একমাত্র বিজেপিই গড়তে পারে সোনার বাংলা।”

    অভিষেককে আক্রমণ অমিতের

    মথুরাপুরের বাপুলিবাজার সংলগ্ন ভগবতীপুর মাঠে অমিত শাহ এদিন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “সারা দেশে পরিবারতন্ত্র চলছে। এটা শেষ করতে হবে। এরাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী বানাতে চান। তাই সেক্ষেত্রে তৃণমূল এবার ক্ষমতায় আসলে ভাইপো শাসক হবে। আপনারা কি ভাইপোর শাসন চান? প্রশ্ন তোলেন অমিত শাহ।” এদিন জনসমক্ষে ভাইপোর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি চলছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন অমিত শাহ।

    আরও পড়ুন: ‘পরিবর্তন যাত্রা’র পর মোদীর ব্রিগেড সমাবেশ, দিনক্ষণ জানিয়ে দিল বিজেপি

    তৃণমূলকে জোরাল হুঁশিয়ারি অমিতের

    অমিত শাহ বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’র অনুষ্ঠানে জানান, “বাংলা থেকে ‘ভ্রষ্টাচার’ বন্ধ করা । সিন্ডিকেট বন্ধ করা। সীমান্ত সুরক্ষিত করা। মহিলাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আর তাই তৃণমূল কংগ্রেসকে সরিয়ে বিজেপির সরকার আনতে হবে।” এদিকে এই অনুষ্ঠান উদ্বোধন করার আগেও সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করে তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছিলেন। তিনি লেখেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের কুশাসনে বিপর্যস্ত বাংলার জনগণ এখন পরিবর্তন চাইছে। এই জনসঙ্কল্পকে আরও শক্তিশালী ও মুখর করে তুলতে বাংলার বিজেপি ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু করেছে। এই যাত্রার মাধ্যমে বিজেপির কর্মীরা রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে ‘অনুপ্রবেশমুক্ত বাংলা’র অঙ্গীকার পৌঁছে দেবেন।”

  • ‘পরিবর্তন যাত্রা’র পর মোদীর ব্রিগেড সমাবেশ, দিনক্ষণ জানিয়ে দিল বিজেপি

    ‘পরিবর্তন যাত্রা’র পর মোদীর ব্রিগেড সমাবেশ, দিনক্ষণ জানিয়ে দিল বিজেপি

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গত শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলায় SIR- এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। আর কয়েকদিনের মধ্যেই বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে। তাই সময় নষ্ট না করেই সমস্ত রাজনৈতিক দল এক এক করে নেমে পড়েছে জনসংযোগ বৃদ্ধিতে। এমতাবস্থায় পরিবর্তন যাত্রা শুরু করেছে বিজেপি। আর সেই কর্মসূচির প্রথম দিনেই এবার ব্রিগেডে নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সভার দিন ঠিক হল।

    কবে হবে মোদির ব্রিগেডের জনসভা?

    গতকাল অর্থাৎ রবিবার, থেকে বিজেপির তরফে রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে ‘পরিবর্তন যাত্রা’। বিজেপি সূত্রে খবর, রবিবার ও সোমবার রাজ্যের ন’টি আলাদা জায়গা থেকে ন’টি পৃথক র‍্যালি হবে। তবে ৩ ও ৪ মার্চ ‘দোল যাত্রা’ এবং হোলির কারণে কোনও কর্মসূচি রাখা হয়নি। ৫ মার্চ থেকে আবার যাত্রা শুরু হবে এবং ধাপে ধাপে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রকে কভার করা হবে। অন্যদিকে এই পরিবর্তন যাত্রার পরই এবার বিজেপির ব্রিগেডে সভা করার নির্দিষ্ট দিন ঘোষণা করা হল। জানা গিয়েছে আগামী ১৫ মার্চ হতে চলেছে সেই সভা। আর সেখানেই উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর এই বিশাল র‍্যালির মাধ্যমেই পরিসমাপ্তি হবে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র আনুষ্ঠানিক সূচি।

    সভায় থাকবেন অমিত, মিঠুন?

    জানা গিয়েছে, আজ অর্থাৎ সোমবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে আয়োজিত ন’টি র‍্যালির একটির সূচনায় উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র। গতকালই এই র‍্যালিটি প্রথমে হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা সোমবারে সরানো হয়। তবে ১৫ মার্চ ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের সমাবেশে অমিত শাহ উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এমনকি ব্রিগেডের ওই সভায় মিঠুন চক্রবর্তী থাকবেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা চলছে। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব এই নিয়ে এখনও কিছু বলেনি, তবে এই সভা সফল করতে তাঁরা যে বদ্ধপরিকর, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন।

    আরও পড়ুন: এদের বাদ দেওয়া হবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুবসাথী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে! ঘোষণায় বিতর্ক

    প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে গেরুয়া শিবিরের পরিবর্তন যাত্রা’য় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাধিক কেন্দ্রের শীর্ষ নেতা অংশ নেবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা, কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গডকরি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবিশ প্রমুখ। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে বাংলাকে দখল করতে রীতিমত মরিয়া হয়ে উঠেছে মোদি গোষ্ঠী।

  • প্রাথমিকের পর এবার SSC কেলেঙ্কারি! পার্থ, অর্পিতাকে ফের তলব ED-র

    প্রাথমিকের পর এবার SSC কেলেঙ্কারি! পার্থ, অর্পিতাকে ফের তলব ED-র

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ফের মামলার আইনি প্যাঁচে পড়লেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। তবে তিনি শুধু একা নন, ইডির ডাক পেলেন অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ও। জানা গিয়েছে প্রাথমিক দুর্নীতির পর এবার এসএসসি দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে তলব করতে চলেছে ইডি। দোলের পরেই দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে বলে খবর। চরম উত্তেজনা মূলক পরিস্থিতি রাজ্য জুড়ে।

    প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতিতে পার্থ অর্পিতা

    উল্লেখ্য, ২০২২ সালের জুলাই মাসে প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘ তল্লাশির পর অর্পিতার দু’টি ফ্ল্যাট থেকে নগদ প্রায় ৫০ কোটি টাকা এবং বিপুল সোনা উদ্ধার করেছিল ইডি। তার পরেই দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। এই নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত সিবিআই ও ইডি দুই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা করছে। ওই মামলার চার্জগঠনও হয়েছে। যদিও এইমুহুর্তে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জামিনে মুক্ত হয়েছেন। তার আগেই অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ও জামিনে মুক্ত হয়েছিলেন। এবার পালা এসএসসি মামলার।

    কবে তলব করবে ED?

    রিপোর্ট মোতাবেক প্রাথমিকের দুর্নীতি মামলার পর স্কুল সার্ভিস কমিশন মামলার তদন্তও করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইতিমধ্যেই ওই মামলার চার্জশিটও জমা পড়েছে বলে খবর। আধিকারিকরা তদন্তে বেশ কিছু ক্ষেত্রে পার্থ ও অর্পিতার নাম উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। এরপরই দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জানা গিয়েছে,চলতি মাসের ১৬ থেকে ১৮ তারিখের মধ্যে দু’জনকে তলব করা হয়েছে। তাঁদের আলাদা আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য পেতে চাইছেন তদন্তকারীরা। এই মামলায় কেবল পার্থ-অর্পিতাই নন, আরও কয়েক জনকে চলতি মাসেই তলব করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    আরও পড়ুন: জঙ্গল মহলে শক্তিবৃদ্ধি বিজেপির, গেরুয়া শিবিরে যোগ কুড়মিদের প্রধান উপদেষ্টার

    কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ED সূত্রের খবর, SSC মামলায় একাধিক চাকরিপ্রার্থীর বয়ান নথিবদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এখন দেখার পালা পার্থ এবং অর্পিতাকে জিজ্ঞাসাবাদের ফলে কী কী তথ্য বেরিয়ে আসে। প্রসঙ্গত, গত বছর নভেম্বরে সব মামলায় জামিন পেয়ে তিন বছর তিন মাস পর বাড়ি ফিরেছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু মাঝে নাকতলার বাসভবন বিজয়কেতনে স্নানঘরে পড়ে গিয়ে বাঁ হাতে আঘাত পেয়েছিলেন পার্থ। টানা ২৫ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়ি ফেরেন তিনি। এখন তিনি শাসকদলের জনসংযোগ বৃদ্ধি কর্মসূচির জন্য ময়দানে নেমেছেন।

  • এদের বাদ দেওয়া হবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুবসাথী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে! ঘোষণায় বিতর্ক

    এদের বাদ দেওয়া হবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুবসাথী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে! ঘোষণায় বিতর্ক

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্রমেই এগিয়ে আসছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের সময়। আর তার জন্যই ভোটের প্রচার চালাতে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু করেছে বিজেপি। এমতাবস্থায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ তুললেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। জানা গিয়েছে, যারা বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় অংশগ্রহণ করবেন, তাদের নাকি যুব সাথী এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা বাতিল করে দেবে বলে হুংকার দিচ্ছে তৃণমূল। এই নিয়ে একটি স্ক্রিনশট করেন সুকান্ত মজুমদার।

    চাঞ্চল্যকর স্ক্রিনশট শেয়ার সুকান্তর

    বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিন শট শেয়ার করেছেন। যেখানে গ্রুপের নাম লেখা ২৬৭ নং বুথ তৃণমূল। সেই বার্তায় লেখা রয়েছে যে, “মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ সভায় যে সকল গেরুয়া শিবিরের কার্যকর্তারা এবং সমর্থকরা যাবেন, তাঁদের সকলের যুব সাথী এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা বাতিল করে দেওয়া হবে! তাই তৃণমূলের সমস্ত কর্মী সমর্থকদের জানানো হচ্ছে যে আপনারা সকলে সকাল থেকে একটুখানি খবর রাখবেন কারা কারা যায় এবং তার নাম বুথের নেতৃত্বকে জানানোর জন্য বিশেষ ভাবে আহ্বান জানাই।” আর এই বার্তা ছড়িয়ে পড়তেই তুমুল হইচই শুরু হয়ে গিয়েছে। কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না সুকান্ত।

    চরম কটাক্ষ তৃণমূলকে

    সুকান্ত মজুমদার এক্স হ্যান্ডেলে তৃণমূলকে টার্গেট করে লিখেছেন, “সমাজবিরোধী দুর্বৃত্ত তৃণমূল কংগ্রেস কতটা নীচ এবং ন্যক্কারজনক প্রতিহিংসাপরায়ণ মানসিকতা পোষণ করে, তা স্পষ্ট হয়ে যায় তাদের দলের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মেসেজ দেখলেই!” সঙ্গে তিনি আরও লিখেছেন, “তৃণমূলের এই জঘন্য প্রতিহিংসামূলক মানসিকতা প্রমাণ করে দেয়, গ্রামেগঞ্জে কী ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গণতান্ত্রিক অধিকারের চর্চাকে রুদ্ধ করতে এ ধরনের হুমকি ও বঞ্চনার রাজনীতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাংলার প্রান্তিক খেটে খাওয়া মানুষের উপর এই ন্যক্কারজনক রাজনৈতিক প্রতিহিংসার উপযুক্ত জবাব হবে।” যদিও এই রাজনৈতিক তরজার মাঝে এখনও পর্যন্ত শাসক দলের তরফে কোন প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

    আরও পড়ুন: জঙ্গল মহলে শক্তিবৃদ্ধি বিজেপির, গেরুয়া শিবিরে যোগ কুড়মিদের প্রধান উপদেষ্টার

    প্রসঙ্গত, গতকাল অর্থাৎ রবিবার, পশ্চিম গড়বেতায় বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার সভার আয়োজন করা হয়েছিল। আর সেখানেই কুড়মি সমাজ, পশ্চিমবঙ্গের প্রধান উপদেষ্টা তথা শিক্ষক রাজেশ মাহাতো বিজেপিতে যোগদান করেন। শুরু হয় নানা রাজনৈতিক তরজা। রাজনৈতিক মহলের দাবি, রাজেশ মাহাতো দীর্ঘদিন ধরে কুড়মি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। আর তাঁর এই যোগদান তাৎপর্যপূর্ণ বলেই দেখছে বিজেপি নেতৃত্ব। কারণ এটি জঙ্গলমহল এলাকায় কুড়মি ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলবে।

  • জঙ্গল মহলে শক্তিবৃদ্ধি বিজেপির, গেরুয়া শিবিরে যোগ কুড়মিদের প্রধান উপদেষ্টার

    জঙ্গল মহলে শক্তিবৃদ্ধি বিজেপির, গেরুয়া শিবিরে যোগ কুড়মিদের প্রধান উপদেষ্টার

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: হাতে মাত্র আর কয়েকটা দিন বাকি, এরপরেই রাজ্য জুড়ে শুরু হতে চলেছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন। চারিদিকে শুরু হয়ে গিয়েছে বিজেপির প্রচার ব্যবস্থা। এদিকে বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে লড়াই জমজমাট জঙ্গলমহলে। কুড়মি সমাজে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রকট। এমতাবস্থায় কুড়মি সমাজ, পশ্চিমবঙ্গের প্রধান উপদেষ্টা তথা শিক্ষক রাজেশ মাহাতো (Rajesh Mahato) বিজেপিতে যোগদান করেছেন। আর তাতেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি। প্রার্থী করতেই নয়া পরিকল্পনার চাল বিজেপির।

    বিজেপিতে যোগদান করলেন রাজেশ মাহাতো

    রিপোর্ট মোতাবেক, রবিবার, বিজেপিতে যোগ দিলেন ঝাড়গ্রামের কুড়মি আন্দোলনের নেতা ও কুড়মি সংগঠনের রাজ্য সভাপতি রাজেশ মাহাতো। এদিন বিকেলে পশ্চিম গড়বেতায় বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প যাত্রার সভায় রাজেশের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন ঝাড়গ্রাম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তুফান মাহাতো সহ অন্যান্য কার্যকর্তারা। গেরুয়া শিবিরের দাবি, কুড়মি আন্দোলনের নেতা রাজেশ মাহাতো সহ কুড়মি সমাজের অনেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি বিজেপিতে যোগ দিয়েছি এবং দাবিপত্র জমা দিয়েছি। আশা করি দাবি পূরণ হবে।’ এছাড়াও এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন সিপিএমের আরেক নেতা সুদর্শন লোহার।

    দলে যোগ দিয়েই প্রার্থী রাজেশ!

    বিজেপিতে কুড়মি সমাজের নেতা রাজেশ মাহাতো যোগদানের পরেই জল্পনা বাড়ছে তিনি নাকি এবার বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হবেন। জঙ্গলমহলের বিভিন্ন কুড়মি সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্ভবত ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর থেকে ওই শিক্ষক রাজেশ মাহাতো বিজেপির প্রার্থী হবেন। তিনি আগে আদিবাসী কুড়মি সমাজে ছিলেন। সেখান থেকে বার হয়ে কুড়মি সমাজ, পশ্চিমবঙ্গ গঠন করেন। এই গোপীল্লভপুর বিধানসভায় প্রায় ৩৫ শতাংশ কুড়মি জনজাতির বসবাস। আর সেই ভোট টানতেই বিজেপি এই পরিকল্পনা করতে চলেছে। একইভাবে পুরুলিয়ার জয়পুর থেকেও এক কুড়মি আন্দোলনকারীকে বঙ্গ বিজেপি প্রার্থী করার চেষ্টা করছে বলে খবর। যদিও দলের তরফে এখনো কোনো কিছুই জানানো হয়নি।

    আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে ডুবল ৬ লক্ষ কোটি! বিরাট ধাক্কা ভারতের শেয়ারবাজারে

    বিজেপির পুরুলিয়া জেলা সভাপতি শংকর মাহাতো বলেন, “কে কোন আসনে প্রার্থী হবেন, সেটি দলের উচ্চ নেতৃত্বের বিষয়।” এদিকে আদিবাসী কুড়মি সমাজের ঘোষিত কর্মসূচিতে সাড়া দিয়ে কুড়মি আন্দোলনকারীরা জঙ্গলমহলে বিজেপির কায়দাতেই ‘জয় গরাম’ রথ বার করছেন। সেখানে ঝুমুর গানের মধ্য দিয়ে ‘নো ভোট টু টিএমসি’ প্রচার চালাতে সমাজমাধ্যমে একটি গানের ট্রেলার প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, “ছোটনাগপুর কুড়মি দেশে আমরা ফুল ফুটালি মরা ঘাসে/ঘাসের বাড় দেখে দাদা মাথা ঘুরায় যাছে। এবার ঘাসফুল উজড়াবো দাদা হামদের কুড়মি দেশে।”

  • মমতার সংগ্রামের কাহিনী নিয়ে তথ্যচিত্র! ভোটের আগে আসছে ‘দ্য আনটোল্ড স্টোরি অফ ব্যানার্জি

    মমতার সংগ্রামের কাহিনী নিয়ে তথ্যচিত্র! ভোটের আগে আসছে ‘দ্য আনটোল্ড স্টোরি অফ ব্যানার্জি

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে উত্তাল পরিস্থিতি রাজ্য জুড়ে। মুখ্যমন্ত্রীর সিংহাসন কেড়ে নেওয়ার জন্য একদিকে যেমন বিজেপি শিবির উঠে পড়ে লেগেছে, ঠিক তেমনই চতুর্থবার সরকার গঠনের জন্য একাধিক পদক্ষেপ করে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এমতাবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সংগ্রাম নিয়ে তৈরি হতে চলেছে এক ডকু ফিচার। নাম দেওয়া হয়েছে ‘দ্য আনটোল্ড স্টোরি অফ ব্যানার্জি’ (The Untold Story Of Banerjee Documentary)। উদ্যোক্তাদের দাবি ভোটের আগে বিরোধীদের একহাত নিতেই নাকি নির্মিত এই তথ্যচিত্র।

    বিশেষ ডকু ফিচারটি লঞ্চ হবে আজই

    উল্লেখ্য, প্রতিবারই ভোটের আগে বাংলায় বিরোধীরা নানা ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে থাকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। এমনকি ভোটারদের মধ্যে তুমুল বিভ্রান্তিও ছড়িয়ে পড়ে। এবার সেই বিভ্রান্তি, অপপ্রচার এবং কুৎসা যাতে ছড়িয়ে না পরে তার জন্য একটি বিশেষ ডকু ফিচার ‘দ্য আনটোল্ড স্টোরি অফ ব্যানার্জি’ তৈরি হল। এবং এর সময়সীমা দেওয়া হল ২৫ মিনিট। রিপোর্ট মোতাবেক, তথ্যচিত্রটির টিজার লঞ্চ হতে চলেছে আজ, সোমবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে। বিকেল চারটের সময় লঞ্চ হবে। আর কে এন্টারটেনমেন্টের ব্যানারে প্রস্তুত ডকু ফিচারটির প্রযোজনা করেছেন জুনেইদ খান, তিনি অভিনয়ও করেছেন। পরিচালনায় রয়েছেন রাহুল সাহা।

    The Untold Story Of Banerjee Documentary The Untold Story Of Banerjee Documentary

    কী তথ্য তুলে ধরা হবে ফিচারে?

    ২৫ মিনিটের ডকু ফিচার ‘দ্য আনটোল্ড স্টোরি অফ ব্যানার্জি’ মূলত ১৯৯৩ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সময়কালকে দেখানো হয়েছে। ১৯৯৩ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলন, তাঁর অনশন-সহ ইতিহাসের বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও রাজ্য-রাজনীতিতে যুবনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান, দলের হয়ে তাঁর মাঠে নামা-এই সব কিছুই ছবিতে দেখানো হয়েছে। এই ডকুমেন্ট প্রসঙ্গে আর্টিস্ট ফোরামের সদস্য জুনেইদ খান জানালেন, “অনেকেই জানেন না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের সূচনা-পর্বের সময় থেকেই অভিষেক তাঁর ছায়াসঙ্গী। অনেক ছোটবেলা থেকেই একটা ছোট পতাকা হাতে নিয়ে অভিষেক ঘুরে বেড়াতেন আর আন্দোলন করতেন। মাত্র চার বছর বয়স থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আন্দোলন শুরু করেছিলেন। কাজেই আমি ছবিতে দেখাতে চাই, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেস বাংলার মানুষের পাশে কীভাবে আছে।”

    আরও পড়ুন: ERO, AERO-র বদান্যতায় বিচারাধীন বিশ্বকাপজয়ী রিচা ঘোষের নাম, জানিয়ে দিল কমিশন

    এই ছবিতে অভিষেকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জুনেইদ খান। বাকিদের অডিশনের মাধ্যমে বেছে নেওয়া হয়েছে। এখনও বাকি শুটিং আসলে রমজানের জন্য কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। এর আগে জুনেইদ খান, অভিষেককে নিয়ে একটি ছবি তৈরি করেছেন, ‘আসছে বস’। জুনেইদ জানিয়েছেন, “মুখ্যমন্ত্রী আমার আবেগ, অভিষেক আমার আইডল। একবার গানের অ্যালবামের জন্য নিজের সোনার ব্রেসলেট বিক্রি করেছিলাম। এবার ডকু-ফিচার তৈরির জন্য পঞ্চান্ন গ্রামের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করে দিয়েছি। এত কিছু করার একটাই লক্ষ্য। আর সেটি হল, “আমি মুখ্যমন্ত্রীর ত্যাগকে সম্মান করতে চাই।”

  • ভোটের আগেই ঝটকা, বদলে গেল হুমায়ুন কবিরের দলের নাম! এবার কী হল?

    ভোটের আগেই ঝটকা, বদলে গেল হুমায়ুন কবিরের দলের নাম! এবার কী হল?

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই রাজনৈতিক দলগুলি একের পর এক চমক দিচ্ছে। তবে এবার বিরাট ধাক্কা খেল ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। নির্বাচন কমিশনের আপত্তির জেরে নবগঠিত রাজনৈতিক দল জনতা উন্নয়ন পার্টির নাম বদলাতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। কিন্তু নতুন নাম কী রাখা হল?

    কেন বদলাতে হল দলের নাম?

    রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর আগের দলের নাম জনতা উন্নয়ন পার্টি ইতিমধ্যেই অন্য আরেক রাজনৈতিক সংগঠন নির্বাচন কমিশনের কাছে নিবন্ধিত করে রেখেছে। তিনি বলেছেন, রুহুল আমিন নামের এক রাজনৈতিক নেতা একই নামে নির্বাচন কমিশনে দলের নাম জমা দিয়ে স্বীকৃতি পেয়েছেন। আর সম্প্রতি দিল্লি থেকে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে চিঠি এসেছিল। সেখানে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়। এরপর দিল্লিতে গিয়ে আলোচনা করে নাম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জনতা উন্নয়ন পার্টির পরিবর্তে এখন দলের নতুন নামকরণ করা হচ্ছে “আম জনতা উন্নয়ন পার্টি”।

    হুমায়ুনের দাবি, খুব শীঘ্রই নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে নতুন দলের লোগো এবং প্রতীক পাওয়া যাবে। তিনি জানিয়েছেন, তাঁরা তাঁদের নতুন দলের সঙ্গে কয়েকটি ছোট রাজনৈতিক দলের জোট গড়ানোর কথাবার্তা চলছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মিম, এসডিপিআই এবং আজাদ সমাজ পার্টি। এছাড়াও রুহুল আমিনের দলকেও জোটে শামিল দেওয়ার প্রস্তাব জানিয়েছেন তিনি এমনটাই খবর।

    আরও পড়ুন: মমতার বিরুদ্ধে হবে ভোটে লড়াই, ভবানীপুরে বিরাট কাজ করলেন শুভেন্দু

    জেনে রাখা ভাল, ধর্মের নামে রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে গত বছরের শেষ দিকে হুমায়ুন কবীরকে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁদের দল থেকে বহিষ্কৃত করেছিল। তারপর তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা করেন এবং জনতা উন্নয়ন পার্টি নামে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতীকের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু নাম নিয়ে জটিলতার কারণে এবার তা বদলাতে বাধ্য হলেন ভরতপুরের বিধায়ক।