Category: অফবিট

  • হোলিতে প্রিয় মানুষদের এভাবে পাঠান শুভেচ্ছাবার্তা, আরও মুখরিত হবে রঙের উৎসব

    হোলিতে প্রিয় মানুষদের এভাবে পাঠান শুভেচ্ছাবার্তা, আরও মুখরিত হবে রঙের উৎসব

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আগামীকাল দেশজুড়ে পালিত হবে রঙের উৎসব হোলি। সারা ভারতের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও দোলযাত্রা বিশেষ উৎসাহ এবং আরম্ভরের মাধ্যমেই পালিত হবে। জানা যাচ্ছে, এ বছর পূর্ণিমা তিথি পড়ছে ২ মার্চ সোমবার সন্ধ্যাবেলা আর পূর্ণিমা তিথি আগামীকাল অর্থাৎ ৩ মার্চ বিকেলবেলা ছাড়াচ্ছে। সেই সূত্রে রংখেলা অনুষ্ঠিত হবে ৩ মার্চ এবং তারপর দিন হোলি। তবে এই বিশেষ দিনটিতে শুধুমাত্র রং খেলেই যে উদযাপন করা যায় এমনটা নয়। বরং, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয় স্বজন বা প্রিয়জনকে হোলির শুভেচ্ছা বার্তাও (Happy Holi Wishes in Bengali) পাঠাতে পারেন, যেগুলো শুনলে তাঁরা খুশিতে আত্মহারা হয়ে উঠবে। আজকের প্রতিবেদনে এমনই কিছু শুভেচ্ছাবার্তা তুলে ধরব।

    হোলিতে প্রিয়জনকে এভাবে পাঠান শুভেচ্ছাবার্তা

    ১) আসুন আমরা শান্তি এবং সম্প্রীতির সঙ্গেই এই রঙের উৎসব উদযাপন করি… শুভ হোলির অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল।

    ২) আমরা আমাদের সম্পর্কের মধ্যে ভালোবাসা, স্নেহ, সুখ এবং আনন্দের রং যোগ করেই রঙের উৎসবকে উদযাপন করব। চলুন…. সকলে মিলে একটি নতুন স্মৃতি তৈরি করি…. শুভ হোলি।

    ৩) হোলির রং সাগরের জীবনকে যেন আরও উজ্জ্বল করে তুলুক…. এটাই কামনা করি। হোলির অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল।

    ৪) রঙে রঙে ভরে উঠুক আপনার জীবন। আনন্দ এবং ভালবাসায় কাটুক প্রতিটি দিন… শুভ হোলি।

    ৫) হোলির রং আপনার জীবনে শান্তি, ভালোবাসা এবং সমৃদ্ধি নিয়ে আসুক এবং আপনি যেন অনেক সফলতা লাভ করেন….। শুভ হোলির শুভেচ্ছা।

    ৬) এই হোলির রং আপনার জীবনকে ভরিয়ে তুলুক এবং আপনিও হাসিতে ভরে উঠুন…. শুভ হোলির অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

    ৭) তোমার জীবন হোলি উৎসবের মতোই যেন রঙিন আর আনন্দময় হয়ে উঠুক…. এটাই কামনা করি। ২০২৬ এর হোলির অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

    ৮) ভালোবাসা, হাসি এবং অবিস্মরণীয় স্মৃতির সঙ্গেই এই হোলির দিনটি উদযাপন করো….। শুভ হোলির অনেক শুভেচ্ছা।

    ৯) এই হোলি তোমার জীবনে নতুন সূচনা, উজ্জ্বল রং এবং অফুরন্ত হাসি নিয়ে আসুক। শুভ হোলি।

    ১০) হোলির রং তোমার জীবনকে আনন্দ এবং সাফল্যে রাঙিয়ে তুলুক….। ২০২৬ সালের হোলির শুভেচ্ছা রইল।

    ১১) এই হোলির আনন্দে মেতে উঠুন এবং ইতিবাচকতা যেন আপনার চারপাশকে জড়িয়ে ধরে…। শুভ হোলির শুভেচ্ছা।

    ১২) উৎসাহের সঙ্গেই উদযাপন করুন হোলি আর আপনার আত্মাকে অনেক অনেক উদ্ভাসিত করে তুলুন….। শুভ হোলির শুভেচ্ছা।

    ১৩) হোলির উজ্জ্বল রং এর মতো আমরা যেন সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকি…. শুধুমাত্র এটাই কামনা করি। শুভ হোলি।

    ১৪) তুমি আমার জীবনের সবথেকে উজ্জলের রং…. শুভ হোলি আমার ভালোবাসা।

    ১৫) যে আমার জীবনকে রংধনুর আলোতে ভরিয়ে দেয় তাঁকে হোলির অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল।

    ১৬) হোলির অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল….। দলগত কাজ এবং ইতিবাচকতা আমাদের পেশাদার যাত্রাকে যেন আরও শক্তিশালী করে তোলে।

    ১৭) হোলিকা দহনের পবিত্র আগুন আপনার জীবন থেকে সমস্ত নেতিবাচকতা দূর করে দিক। এটাই কামনা করি….। শুভ হোলি।

    আরও পড়ুন: মূল বেতনের সঙ্গে মিশে যাবে ৫০% DA? সরকারি কর্মীদের জন্য বড় খবর

    ১৮) তোমার চিন্তা ভাবনাকে ইতিবাচকতার সঙ্গে রাঙিয়ে এগিয়ে চলো। জীবনে আরও অনেক অনেক উন্নতি লাভ করো…. এটাই চাই। শুভ হোলির শুভেচ্ছা রইল।

    ১৯) দোলযাত্রার রং তো শুধুমাত্র গায়ে নয়, বরং মনেও লাগে। আর মনের রং-ই আমাদের জীবনের প্রকৃত রং। শুভ দিনটির অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই তোমাকে। শুভ হোলি।

    ২০) তোমার জীবন আবিরের মতোই উজ্জ্বল এবং রঙিন হয়ে উঠুক…। শুভ হোলির দিন এটাই আমার কামনা। শুভ দোলযাত্রা।

  • আলু বীজের ব্যবসা করেই ৩০ লক্ষ টাকা আয়! হুগলির কৃষকের সাফল্য দেখলে ‘হাঁ’ হবেন

    আলু বীজের ব্যবসা করেই ৩০ লক্ষ টাকা আয়! হুগলির কৃষকের সাফল্য দেখলে ‘হাঁ’ হবেন

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় এক অনন্য নজির গড়লেন সাধারন কৃষক। হ্যাঁ, নিজস্ব উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন ৩০ লক্ষ টাকার আলু বীজের ব্যবসা (Potato Farming)। আর তিনি শুধুমাত্র এখানেই থেমে থাকেননি। বরং, তাঁর উদ্যোগে উপকৃত হচ্ছেন ১৫০ জন কৃষক। হ্যাঁ, আমরা বলছি হুগলির বেলেস্বর বাসনা গ্রামের কৃষক সুব্রত কর্মকারের কথা।

    জানা যায়, মাত্র ১১ বছর বয়সেই বাবার সঙ্গে মাঠে যেতেন সুব্রত। ৯ বিঘা জমিতেই আলু চাষ করতেন তাঁর বাবা। তখন তিনি বাবার মুখ থেকে শুনতেন যে, ভালো কৃষক নিজের বীজ নিজেই তৈরি করে। সেই সময় পাঞ্জাব থেকে আনা কুফরি জ্যোতি জাতের আলু চাষ করা হত। সুব্রত ছোটবেলা থেকেই লক্ষ্য করতেন যে, বীজের মানের উপর ফলন এবং লাভ নির্ভর করে। সেই অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই তাঁর পথচলা শুরু।

    পড়াশোনা শেষ করে কৃষিতে প্রবেশ

    জানা যায়, ১৯৯৮ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর অন্য পেশায় না গিয়ে তিনি কৃষিকেই বেছে নিয়েছিলেন। তারপর ধান থেকে শুরু করে কুমড়ো, শসা, লাউসহ বিভিন্ন সবজির চাষ করতেন। কিন্তু বহুবার ব্যর্থতা আসলেও মিলেছে সফলতা। প্রতিটি মরসুম তাঁকে শিখিয়েছে নতুন কিছু। ২০১২ সালে তিনি জানতে পেরেছিলেন যে, রাজ্য সরকার উন্নতমানের আলুবীজে স্বনির্ভর হওয়ার পরিকল্পনা করছে। আর সেই সময় তাঁর পরিচিত হয় ARC প্রযুক্তির সঙ্গে, যা কিনা অন্যত্র এবং রোগমুক্ত বীজ উৎপাদনে কার্যকর একটি পদ্ধতি।

    ২০২৩ সালে নভেম্বর মাসের প্রথমবার এই পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেন তিনি। প্রথমদিকে তাঁর মাত্র ৪০ শতাংশ সফলতা এসেছিল। তবে তিনি হাল ছাড়েননি। পদ্ধতিগত ভুল বিশ্লেষণ করেই সংশোধন করেন। তারপর ধীরে ধীরে তাঁর সাফল্য বাড়তে থাকে। ২০২৪ সালে তিনি রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনা রাফতার প্রকল্পের আওতায় ভর্তুকি পেয়েছিলেন। তারপর ১৫ কাঠা জমির উপর ১০০০ বর্গমিটার গ্রিনহাউস নির্মাণ করেন। আর সেখানে তাপমাত্রা রাখা হয় ১৮ থেকে ২৪ ডিগ্রির মধ্যে।

    কীভাবে তৈরি হয় এই উন্নত আলু বীজ?

    জানা যাচ্ছে, কৃষ্ণনগরের জোনাল অ্যাডাপটিভ রিসার্চ স্টেশন থেকে মাইক্রো প্ল্যান্ট সংগ্রহ করতেন তিনি। তারপর সেগুলিকে নির্দিষ্ট দূরত্বে রোপন করতেন। আর তিন থেকে চার সপ্তাহ পরে গাছের উপরের অংশ কেটে রুটেক্স পাউডারের ডুবিয়ে পুনরায় সেগুলিকে রোপন করা হত। এমনকি তিনদিনের মধ্যে সেখান থেকে নতুন শিকড় গজায়। আর এক একটি গাছ থেকে প্রায় ২৫৬টি করে নতুন চারা গাছ উৎপাদন হয়। এই প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় জেনারেশন জিরো বীজ। আর প্রতিটি গাছ থেকেই ১২ থেকে ১৬টি করে চারা উৎপাদিত হয়।

    আরও পড়ুন: ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ নিয়ে বড় কথা বলে দিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি…

    সবথেকে বড় ব্যাপার, ২০২৫ সালে সুব্রত ৬৫০০টি মাইক্রো প্ল্যান্ট কেনেন। আর সেখান থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৮ হাজারটি মাদার প্ল্যান্ট তৈরি করেন। পরে ১৩,৫০০ প্ল্যান্টলেট থেকে ৬৭ হাজার বীজ উৎপাদন করেছিলেন। আর ২০১৪ সালে তিনি ২৫০ বস্তা আলু বীজ বিক্রি করেন। প্রতি বস্তার দাম ছিল মোটামুটি ১০০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে। সব মিলিয়ে তাঁর আলু ব্যবসায় টার্নওভার দাঁড়িয়েছে ৩০ লক্ষ টাকা। এমনকি সংশ্লিষ্ট প্রযোজক সংস্থার মোট টার্নওভার পৌঁছয় ১ কোটি টাকায়।

  • পুরুলিয়া নয়, আগুনরঙা পলাশ দেখতে দোলে ঘুরে আসুন এই পাহাড়ি গ্রামে

    পুরুলিয়া নয়, আগুনরঙা পলাশ দেখতে দোলে ঘুরে আসুন এই পাহাড়ি গ্রামে

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ এই দোলে কি আপনিও কোনও নিরিবিলি জায়গায় গিয়ে সময় কাটাতে চান? তাহলে কেমন হয় যদি পলাশ ফুল আপনার সঙ্গ দেয়? তাও আবার আগুনরঙা পলাশ, তাহলে আজকের এই প্রতিবেদনে আপনাদের একদম অফবিট জায়গার (Bengal Offbeat Place) সন্ধান দেব। যেখানে আপনি আপনার পরিবার কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে গিয়ে একান্তে সময় কাটাতে পারবেন। কেউ আপনাকে সেখানে বিরক্ত করবে না।

    এই দোলে ঘুরে আসুন শিউলিবনায়

    এমনিতে বসন্তকাল পড়ে গিয়েছে। হাতেগোনা কয়েকদিন পরেই রয়েছে দোল বা হোলি। এহেন পরিস্থিতিতে কমবেশি অনেকেই চাইছেন ছুটি নিয়ে কোনও ভালো জায়গায় ঘুরে এলে কেমন হয়। এমনিতে পলাশ ফুলের নাম শুনলেই সবার প্রথমে মাথায় আসে পুরুলিয়ার নাম। তবে আজ পুরুলিয়া নয়, বাংলার বুকে লুকিয়ে থাকা এমন এক জায়গার সন্ধান দেব যেখানে গেলে আপনার মন, প্রাণ এক কথায় জুড়িয়ে যাবে। আজ কথা হচ্ছে শিউলিবনা (Siulibona) নিয়ে। পাহাড়ের কোলে লুকিয়ে থাকা ছোট্ট একটা জনপদ যেখানে গেলে আপনি কোনওরকমের কোলাহল পাবেন, পাবেন শুধু সুন্দর প্রকৃতি, পাখিদের কিচিরমিচির এবং পলাশ ফুল তাও আবার আগুনরঙা।

    আরও পড়ুনঃ দোলের আগে অনেকটাই দাম বাড়ল LPG সিলিন্ডারের, জানুন নতুন রেট

    এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন যে এই শিউলিবনা আবার কোথায়? এটি হল বাঁকুড়া জেলার শুশুনিয়া পাহাড়ের কোলে থাকা ছোট্ট একটা গ্রামে। নামে শিউলিবনা হলেও এখানে শিউলি নয়, পাবেন শাল-পলাশের বন। এখানেই রয়েছে বাংলার প্রাচীন গুহালিপি। ইতিহাস আর প্রকৃতির একসাথে মেলবন্ধন আপনি এখানে দেখতে পাবেন। এই শিউলিবনায় দোলের সময়ে গেলে আপনি অজস্র পলাশ ফুলের গাছ দেখতে পারবেন। এক কথায় আপনার এছাড়াও আপনি ঘুরে আসতে পারেন দূরের গাংদুয়া জলাধারেও। এছাড়াও ঘুরে আসতে পারেন শিল্পীদের গ্রাম ভরতপুর থেকে। আপনি যদি শিল্পীপ্রেমী হয়ে থাকেন তাহলে এই জায়গায় গেলে আপনার ভালো লাগবেই লাগবে।

    আরও পড়ুনঃ ছুটির দিনে বৃষ্টিতে ভিজতে পারে ৫ জেলা, কেমন থাকবে দক্ষিণবঙ্গের আজকের আবহাওয়া?

    কীভাবে যাবেন?

    এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন এত সুন্দর জায়গায় আপনি যাবেন কীভাবে? আপনি যদি ট্রেনপথে যেতে পছন্দ করে থাকেন তাহলে আপনাকে ছাতনা কিংবা বাঁকুড়া স্টেশনে নামতে হবে। এরপর সেখান থেকে প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে স্টেশন থেকে ২১ কিমি দূরে শিউলিবনা পৌঁছে যেতে পারবেন। এছাড়াও আপনার যদি নিজস্ব গাড়ি থেকে থাকে তাহলে কলকাতা – বর্ধমান – দুর্গাপুর – গঙ্গাজলঘাঁটি হয়ে প্রায় ২২০ কিমি পথ অতিক্রম করে পৌঁছে যেতে পারেন এই শিউলিবনায়। এখানে থাকার জন্য আপনি বেশ কিছু রিসোর্টও পেয়ে যাবেন।