Category: আন্তর্জাতিক

  • ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামবে পাকিস্তান! বিদেশমন্ত্রীর মন্তব্যে বড়সড় ইঙ্গিত

    ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামবে পাকিস্তান! বিদেশমন্ত্রীর মন্তব্যে বড়সড় ইঙ্গিত

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমের আকাশে যুদ্ধের কালো মেঘ দিনের পর দিন ঘন হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং ইজরায়েলের সংঘাত তুঙ্গে। হ্যাঁ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত যখন নতুন মাত্রা নিচ্ছে, তখনই সেই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের (Pakistan) সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন রকম প্রশ্ন। সম্প্রতি ইসলামাবাদের মন্তব্যে ইঙ্গিত মিলছে যে, সৌদি আরব আক্রান্ত হলে তারা চুপ করে বসে থাকবে না। বরং, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে।

    ইশাক দারের মন্তব্য ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে

    সম্প্রতি পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রী ইশাক দার প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের আলাদা সামরিক চুক্তি রয়েছে এবং সেই চুক্তির বাধ্যবাধকতা তারা মানবে। এমনকি তিনি স্পষ্ট বলেন, ইরানকে ইতিমধ্যেই সতর্ক করা হয়েছে, যাতে সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো না হয়। এই মন্তব্য নিয়েই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তাহলে কি পাকিস্তানি এবার সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে?

    এদিকে ইসলামাবাদ এবং রিয়াধের সম্পর্কে বহু পুরনো। আর সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তা তারও মজবুত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বিশেষ চুক্তি অনুযায়ী, যে কোনও এক দেশের উপর হামলা হলে অন্য দেশের উপরেও হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। জানা গিয়েছে, পাকিস্তান ইতিমধ্যেই সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা জোরদার করেছে। এমনকি অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি রিয়াধের হাতেও তুলে দেওয়া হয়েছে। আর পাকিস্তান বায়ুসেনার LY-80, FM-90 সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এমনকি প্রাক্তন পাক সেনাপ্রধান রাহেল শরীফ ৪৩টি দেশ নিয়ে গঠিত ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেরোরিজমেশনের দায়িত্ব রয়েছেন। যার ফলে সৌদি-পাক সামরিক সমন্বয় আরও সুসংগত হবে।

    অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নামার অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের বিরুদ্ধে। এই দুই দেশ মিলেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে নিকেশ করেছে বলে খবর। পাল্টা বদলা হিসাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলিকেও নিশানা করেছে তেহরান। আর এই সংঘাতের জেরে গোটা পশ্চিম এশিয়া এখন অস্থির হয়ে উঠেছে। কার্যত যুদ্ধের আগুনে জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য। আর সৌদি আরবেও বেছে বেছে হামলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি। পাকিস্তানের তরফ থেকে বলা হয়েছে, সৌদির সঙ্গে তাদের সামরিক চুক্তি থাকায় সেখানে বড়সড় আক্রমণ করা হয়নি।

    আরও পড়ুন: এক ডলার ৯২ টাকারও বেশি! মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে রেকর্ড পতন ভারতীয় মুদ্রায়

    আবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ সম্প্রতি সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সলমনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। আর সৌদিকে সমস্ত রকম ভাবে সহায়তা করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি। তাঁর এই যোগাযোগকে অনেকে সম্ভাব্য যৌথ সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছে। আর এই পরিস্থিতিতে ভারতের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। কারণ, দিল্লির সঙ্গে রিয়াধের সম্পর্ক বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তাই বর্তমান সংঘাতে ভারত এখনো পর্যন্ত স্পষ্ট কোনও পক্ষ নেয়নি। শান্তির পক্ষে বার্তা দিলেও সরাসরি কোনও দেশকে নিন্দা কিংবা সমর্থন করছে না নয়াদিল্লি।

  • “ইরানের সিংহাসনে যেই বসুক মরতে হবে!” বিরাট হুমকি ইজরায়েলের

    “ইরানের সিংহাসনে যেই বসুক মরতে হবে!” বিরাট হুমকি ইজরায়েলের

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি (Israel On Iran)। সুপ্রিম লিডারের মৃত্যুতে একেবারে ক্ষেপে গিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশের মরণ কামড় খেতে হচ্ছে আরব দেশগুলিকেও। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে কাকে বসানো হবে তা নিয়ে চলছে জোর জল্পনা। এর আগে শোনা গিয়েছিল খামেনি ঘনিষ্ঠ আলিরেজা আরাফিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদ দেওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলা হয়। এমতাবস্থায় শোনা যাচ্ছে, আর অন্য কেউ নয় বরং খামেনির পুত্র মোজতবাকেই বসানো হবে ইরানের সিংহাসনে। সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বড়সড় হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইজারায়েল। সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী একেবারে হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে যাকেই বসানো হবে তাঁকেই মৃত্যুবরণ করতে হবে।”

    ইরানকে বিরাট হুশিয়ারি ইজরায়েলের

    86 বছর বয়সে মৃত্যু হয়েছে ইরানের সুপ্রিম লিডার খামেনির। সেই শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি ইরানবাসী। দেশের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে এক প্রকার জীবন বাজি রেখে লড়ছে দেশটির সেনাবাহিনী। ঠিক সেই আবহে শোনা যাচ্ছিল, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসানো হতে পারে খামেনির পুত্র মোজতবাকে। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বুধবার একেবারে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেলেন, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিকল্প হিসেবে যে নেতাকেই সিংহাসনে বসাক না কেন ইরান, তাঁকে মেরে ফেলা হবে।”

    এর আগে ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সে দেশের গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তেহরানের এক অনুষ্ঠানে ইরানিরা খামেনিকে শেষ বিদায় জানাবেন। ইরানের ইসলামিক প্রপ্যাশন কাউন্সিলের প্রধান হোজ্জাতোলেসলাম মাহমুদি জানিয়েছেন, তিন দিনের জন্য বিদায় অনুষ্ঠান অব্যাহত থাকবে। এরপর অন্তষ্টিক্রিয়ার মিছিল ঘোষণা করা হবে। সেই সব পর্ব মিটিয়ে পঞ্চম দিনে পা দিতেই ইজারায়েল ইরান এবং লেবাননে নতুন করে হামলা চালায়। ইরানের গণমাধ্যম বলছে, লেবাননের একের পর এক আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইজরায়েলের ভয়াবহ হামলায়। এদিকে, নতুন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে খামেনির খেলেকে সিংহাসনে বসানোর আগেই ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এমন হুমকি চিন্তা বাড়িয়েছে, ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড থেকে শুরু করে সে দেশের নেতাদের।

     

    অবশ্যই পড়ুন: এক ধাক্কায় খরচ বাড়ল ৯০ হাজার কোটি, দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন নিয়ে দুঃসংবাদ!

    উল্লেখ্য, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যুর খবর সবার প্রথম জানিয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে সর্বপ্রথম আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ইরানের তরফে সে কথা অস্বীকার করা হলেও পরবর্তীতে সেই সত্যতা মেনে নেয় দেশটি। তবে সর্বোচ্চ নেতা মারা গেলেও যুদ্ধের ময়দান থেকে এক চুলও সরতে রাজি নয় আমেরিকার এক সময়কার বন্ধু।

  • ইরানে আটকে থাকা পড়ুয়াদের নিরাপদে সরাল ভারত, ফিরতে চায় না কিছুজন

    ইরানে আটকে থাকা পড়ুয়াদের নিরাপদে সরাল ভারত, ফিরতে চায় না কিছুজন

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বর্তমানে ইরান এবং ইজরায়েলের যুদ্ধে (Iran-Israel War) উত্তপ্ত গোটা মধ্যপ্রাচ্য। তবে এই পরিস্থিতিতে বহু ভারতীয় ইরানের মাটিতে আটকে রয়েছেন। আর তা নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করছে আন্তর্জাতিক মহল থেকে শুরু করে ভারতীয়রা। এমনকি এক রিপোর্ট বলছে, প্রায় ৯০০০ ভারতীয় বর্তমানে ইরানে আটকে। যাদের মধ্যে অধিকাংশ পড়ুয়া। আর এই পরিস্থিতিতে বিরাট স্বস্তির খবর জানালো ইরানের ভারতীয় দূতাবাস। হ্যাঁ, দূতাবাস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আটকে থাকা বেশিরভাগ পড়ুয়াকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে উদ্বেগও প্রকাশ করছে ওয়াকিবহাল মহল। কারণ, বেশ কিছু পড়ুয়া নিজেদের স্থান ছাড়তে চায়নি।

    ভারতীয়দের নিরাপদ স্থানের সরিয়ে ফেলেছে ইরান

    গতকাল ইরানের ভারতীয় দূতাবাসের তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যে সমস্ত ভারতীয়রা তেহরানে আটকে ছিল, তাদের বেশিরভাগকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা হয়েছে। তেহরানে প্রতিনিয়ত হামলার কারণেই তাদেরকে সরানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আর যারা সেই প্রস্তাব মেনে নিয়েছে, তাদেরকেই নিরাপদ নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এমনকি তাদের জন্য থাকা খাওয়ার বন্দোবস্ত করেছে ভারতীয় দূতাবাস।

    তবে এক্ষেত্রে রয়েছে বিভ্রান্তি। কারণ, বেশ কিছু পড়ুয়া সরকারের দেওয়া নিরাপদ আশ্রয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে। কারণ, তারা নিজেদের বাসস্থান ছাড়তে চায়নি। হ্যাঁ, তারা এখনো পর্যন্ত তেহরানেই আটকে রয়েছে। যদিও সেই সংখ্যা সীমিত। তবে তাদের আগের মতো নিরাপদে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর ইরানে আটকে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে গত রবিবার নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, যে যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন। যতটা সম্ভব বাড়িতেই থাকুন। বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করবেন না। আর জানালার ধারে থাকবেন না। এমনকি একাধিক হেল্পলাইন নম্বরও দেওয়া হয়।

    আরও পড়ুন: খামেনির মৃত্যুর ৪ দিন পরও নীরব মোদি, নিন্দা করেনি ভারত! নেপথ্যে কী কারণ?

    বলে রাকি, শুধুমাত্র ইরান নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে প্রচুর ভারতীয়রা আটকে রয়েছে। যেমন সৌদি আরব, দুবাই, বাহরাইন ইত্যাদি। আর তাদেরকেও দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। এমনকি ইতিমধ্যে দুবাই বিমানবন্দরে তিনটি এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাতে আটকে থাকা সমস্ত ভারতীয়দের দেশে ফেরানো হবে বলেই জানানো হয়েছে।

  • ডুরান্ড লাইন পেড়িয়ে পাকিস্তানে হামলা, দখল সেনা ছাউনি! বিরাট অ্যাকশন আফগানিস্তানের

    ডুরান্ড লাইন পেড়িয়ে পাকিস্তানে হামলা, দখল সেনা ছাউনি! বিরাট অ্যাকশন আফগানিস্তানের

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ইরান-ইজরায়েলের উত্তেজনার মাঝে দক্ষিণ এশিয়ায় বাড়ছে অস্থিরতা। হ্যাঁ, মুখোমুখি অবস্থানে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান (2026 Afghanistan–Pakistan War)। একে অপরের উপর হামলা চালিয়েই যাচ্ছে তারা। মূলত বিতর্কিত ডুরান্ড লাইন ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় সীমান্তে যে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনকি দুই দেশের সাধারণ মানুষ এ নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

    ডুরান্ড লাইন ঘিরে নতুন করে সংঘর্ষ

    আফগান তালিবান বাহিনী দাবি করছে, তারা পাকিস্তানের কয়েকটি সীমান্ত পোস্টে হামলা চালিয়ে নিয়ন্ত্রনে এনেছে। এমনকি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পিন বোলদাক ও শোরাবাক এলাকার কাছে পাকিস্তানের দুটি পোস্ট তালিবান বাহিনী দখল করে ফেলেছে। বলে রাখি, ১৮৯৩ সালে ব্রিটিশ ভারতের আমলে এই ডুরান্ড লাইনকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজও আফগানিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে তা স্বীকৃতি দেয় না। সেই কাল্পনিক সীমান্ত নিয়েই বহুবার দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।

    জানা যাচ্ছে, ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যাবেলা তালেবান বাহিনী পাকিস্তানের একাধিক সীমান্ত পোস্ট এবং সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। এ বিষয়ে তালেবান মুখপাত্র জাবিবুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাব হিসেবেই তাদের এই হামলা। এমনকি পাকিস্তান দাবি করেছিল যে, তারা আফগান ভূখণ্ডের সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু পরে জাতিসংঘ জানায় যে, ওই হামলায় প্রচুর সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে। এমনকি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আফগানিস্তানে ক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়ে।

    অন্যদিকে ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে পাকিস্তান আরও বড় আকারের বিমান হামলা চালায় আফগানিস্তানের ভিতরে। কাবুল থেকে কান্দাহার পর্যন্ত একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণে শব্দ শোনা যায় বলে দাবি স্থানীয়দের। বিশেষ করে কাবুলের পশ্চিমাঞ্চল তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠ। উল্লেখ্য, পাকিস্তান তাদের এই পাল্টা অভিযানের নাম দিয়েছে গজব লিল হক। এমনকি দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজাক মোহম্মদ আসিফ একে তালিবানের বিরুদ্ধে খোলা যুদ্ধ বলেই অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তালেবানরা নাকি ভারতের মদতে কাজ করছে। কিন্তু ভারত এবং আফগানিস্তান উভয়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    আরও পড়ুন: খামেনিকে কটূক্তি! ইউটিউবার বিষাক্ত ছেলের শাস্তির দাবিতে বসিরহাট থানায় তুলকালাম

    গোটা সীমান্তে পাল্টাপাল্টি দখলের দাবি

    তালেবান মুখপাত্র বলেন, পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে একাধিক বোমা বিস্ফোরণ করেছে। আর এর জবাবেই তালিবান বাহিনী হেলমান্দ এবং পূর্ব সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালিয়েছে। এমনকি ২৬ ফেব্রুয়ারি খোস্ত, নাঙ্গারহাড়, পাকতিকা এবং কুনার প্রদেশে সংঘর্ষ আরও বাড়ে। আর খোস্তের জাজি ময়দান, আলি শের ও তেরেজাই জেলায় একাধিক পাকিস্তানি চেকপোস্ট দখল এবং ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি করছে তালেবানরা। আবার অন্যদিকে পাকিস্তান জানিয়েছে যে, তারা তালেবানদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে ফেলেছে। কিন্তু কোনও স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ সূত্র এগুলি যাচাই করেনি। যদিও ডুরান্ড লাইন নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। কিন্তু সেই সংঘর্ষ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটাই দেখার।

  • যুদ্ধের আবহে পাকিস্তানে অভিযান মোসাদের? ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর অভিযোগ

    যুদ্ধের আবহে পাকিস্তানে অভিযান মোসাদের? ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর অভিযোগ

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: গত শনিবার আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হামলায় প্রাণ গিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির। আর তাঁর মৃত্যুর বদলা নিতে আহত বাঘের মতো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের 8 দেশে থাকা 27 টি মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে জোরালো হামলা চালিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। এরই মাঝে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তাঁকে হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ।

    পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমও ইরানের আম জনতাকে সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে একপ্রকার রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিল। আর তারপরই নাকি হ্যাক করে নেওয়া হয় পাকিস্তানের বিভিন্ন টিভি চ্যানেল (Pakistan Tv Channels Hacked)। তাতে আঙুল উঠছে ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের দিকে।

    পাকিস্তানের একাধিক টিভি চ্যানেল হ্যাক করে নেওয়ার অভিযোগ

    গতকাল অর্থাৎ রবিবার পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বারবার ব্যাহত হয়েছিল। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার অনুমান, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের উপর হওয়া হামলা এবং খামেনির মৃত্যু সংবাদ সম্প্রচার করার কারণেই একেবারে ছক করে তাদের টিভি চ্যানেলগুলিকে হ্যাক করা হয়েছিল। পাক সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বলেছ, গতকাল পাকিস্তানের জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল জিও নিউজ থেকে শুরু করে এ আর আই নিউজ এমনকি সামা টিভিও হ্যাক করার চেষ্টা হয়েছিল। যেই ঘটনায় প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে দায়ী করা হচ্ছে ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মেসাদকে।

    এক বিবৃতিতে জিও নিউজ ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, গত 24 ঘন্টা ধরে কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট প্যাকসেটে থাকার পরেও টিভি চ্যানেলটিকে বারবার হ্যাক করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর ফলে এর সম্প্রচার ব্যাহত হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, জিও নিউজের সম্প্রচার বারবার ব্যাহত হয়েছিল হ্যাকারদের কারণেই। এ বিষয়ে জিও নিউজের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আজহার আব্বাস উর্দুতে একটি পোস্ট লিখেছেন, “জিও নিউজের স্ক্রিন হ্যাক করে সেখানে একটি অনুপযুক্ত বার্তা প্রচার করা হচ্ছিল। এই ধরনের বার্তার সাথে জিও নিউজের কোনও সম্পর্ক নেই। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি।”

    পাকিস্তানের কয়েকটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেসাদের সমর্থনকারীরা গুগলে বিজ্ঞাপন চালানোর জন্য বেশ কয়েকটি নিউজ ওয়েবসাইটকে ব্যবহার করেছিল। কম করে 19টি দেশে বিভিন্ন ওয়েবসাইট গুলিতে এই ধরনের বিজ্ঞাপন চালানো হয়। যদিও পাকিস্তানের টিভি চ্যানেলগুলি হ্যাক হওয়া নিয়ে এখনও পর্যন্ত বিবৃতি দেয়নি পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

    অবশ্যই পড়ুন: ক্রিকেট বোর্ডের নাম থেকে মুছতে হবে ভারত বা ভারতীয় শব্দ, কঠোর পদক্ষেপ কেন্দ্রের

    উল্লেখ্য, গত রবিবার ইজারায়েল এবং আমেরিকা যৌথভাবে ইরানে ভয়াবহ হামলা চালালে মৃত্যু হয় সর্বোচ্চ নেতা খামেনির। সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাস্তায় নেমে পড়েন ইরানের মানুষজন। চোখ থেকে জল গড়ায় খামেনির অনুগামীদের। এদিকে খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানের করাচির মার্কিন দূতাবাসে জোরালো হামলা চালান বিক্ষোভকারীরা। ভেঙে দেওয়া হয় দূতাবাসের জানালার কাছ থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রয়োজনীয় আসবাব।

  • ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে বাড়তে পারে সোনা ও তেলের দাম

    ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে বাড়তে পারে সোনা ও তেলের দাম

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আর ইজরায়েলের সংঘাত (Iran-Israel War) ঘিরে সামরিক উত্তেজনা তীব্র হওয়ার কারণে বিশ্ববাজারে বাড়ছে অস্থিরতা। যুক্তরাষ্ট্র আর ইজরায়েলের যৌথ পদক্ষেপে পরিস্থিতি এখন বদলাতে শুরু করেছে। আর এই প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ঝুঁকছে। যার ফলে সোনা এবং কাঁচা তেলের দামে এবার দেখা যাচ্ছে উত্থানের সম্ভাবনা ।

    বাজারে রিস্ক প্রিমিয়াম ঠিক কতটা বাড়তে পারে?

    বেশ কিছু বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ট্রেডিং পুনরায় শুরু হলে তেল এবং সোনার গ্যাপ-আপ খেলার সম্ভাবনাও রয়েছে। হ্যাঁ, বিশ্বের বৃহত্তর ভোক্তা দেশ আমেরিকা এবং ওপেকের গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদক ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার কারণে দামে ভূ-রাজনৈতিক চাপ পড়তে পারে। আর হামলার আগে ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেল প্রতি ৭২.৪৮ ডলার এবং WTI ৬৭.০২ ডলারে বন্ধ হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, সরবরাহের বড় ব্যাঘাতের আশঙ্কা তৈরি হলে ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ৮৫ থেকে ৯৫ ডলার এমনকি তার উপরে চড়তে পারে। আর চরম পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ ডলার পর্যন্ত রিস্ক প্রিমিয়াম যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    এদিকে তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী। আর এখানে যে কোনও রকম বাধা বৈশ্বিক সরবরাহে বিরাট ধাক্কা দিতে পারে বলেই অনুমান। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কাঁচাতেল এবং জ্বালানি এই প্রণালী দিয়েই আসে যা বৈশ্বিক তরল জ্বালানি ব্যবহারের সবথেকে বড় অংশ। আর সম্পূর্ণ অবরোধের সম্ভাবনা না থাকলেও আংশিক দামে অনেকটাই উত্থান দেখতে পারে।

    আরও পড়ুন: টানা ৩ মাস বাতিল একাধিক ট্রেন, যাত্রা সংক্ষিপ্ত ৩০ এক্সপ্রেসের! তালিকা দিল রেল

    সোনার ক্ষেত্রে কী হতে পারে?

    অন্যদিকে উত্তেজনার আবহে ঐতিহ্যগতভাবে নিরাপদ বিনিয়োগের বিকল্প হিসেবে চাহিদা পায় সোনা। আর বাজার বন্ধের আগে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে সোনার দাম ছিল মোটামুটি ৫২৭৮ ডলার। তবে নতুন সপ্তাহের ট্রেডিং শুরু হলে দামে ৩ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত উত্থান দেখা যেতে পারে বলেই অনুমান করা হচ্ছে। এমনকি বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয় বা ইরান কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেয়, তাহলে সোনা সর্বকালের রেকর্ড দাম ছুঁতে পারে। কিন্তু কূটনৈতিক উদ্বেগের উত্তেজনা কমলে প্রাথমিক উত্থানের পর আবারও মুনাফা বুকিং দেখা যেতে পারে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।

  • খামেনির উত্তরসূরী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই মৃত্যু আরাফির! দাবি রিপোর্টে

    খামেনির উত্তরসূরী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই মৃত্যু আরাফির! দাবি রিপোর্টে

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইজরায়েল এবং আমেরিকার যৌথ হামলায় প্রাণ গিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির। সেই খবর নিজেই জানিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশের সুপ্রিম লিডারের মৃত্যুতে শোকে ভেসেছিলেন ইরানের বাসিন্দারা। খামেনির যোগ্য মুখ খুঁজতে একেবারে হিমশিম খেতে হচ্ছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিকে। তার মধ্যেও ইরানের ভবিষ্যৎ মুখ হিসেবে উঠে এসেছিল বেশ কয়েকজনের নাম। সেই তালিকায় ছিলেন খামেনি ঘনিষ্ঠ ধর্মগুরু আলিরেজা আরাফি (Alireza Arafi Death)। তাঁকেই বসানো হয়েছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে। এবার শোনা যাচ্ছে, এক বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন তিনিও।

    খামেনির উত্তরসূরিকেও মারল আমেরিকা?

    গত শনিবার, ইরানে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করে সেই দায় নেয় আমেরিকা। প্রাথমিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি এমন দাবি অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে জানা যায় আদতেই মৃত্যু হয়েছে খামেনির। এরপরই তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি খোঁজার কাজ শুরু হয়। সেই সূত্রেই উঠে আসে প্রতিষ্ঠিত আলেম আরাফির নাম। শোনা যাচ্ছিল, তাঁকেও নাকি খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে জায়গা দিয়েছিল ইরানের নেতৃত্ব। তবে একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, 2 মার্চ এক বিমান হামলায় মৃত্যু হয়েছে সেই আরাফিরও।

    এক্স হ্যান্ডেলে ভেসে আসা একের পর এক রিপোর্ট দাবি করছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে 67 বছরের আরাফিকে বসানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে ছক মারা হয়েছে। যদিও প্রতিবেদনটি লেখার আগে পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর দায়ভার নেয়নি ইজরায়েল বা আমেরিকা। ফলে কীভাবে আরাফির মৃত্যু হল তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।

     

    অবশ্যই পড়ুন: T20 বিশ্বকাপের সেমিতে কবে, কখন, কাদের বিরুদ্ধে খেলবে ভারত? দেখে নিন

    উল্লেখ্য, তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত হলেও ইরানের সদ্য প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা খামেনির অত্যন্ত কাছের লোক ছিলেন আরাফি। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত আরাফি অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের ডেপুটি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে তিনি প্রভাবশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। তাছাড়াও ইরান সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করার গাঢ় অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর।

  • রাওয়ালপিণ্ডির নূর খান বিমান ঘাঁটিতে হামলা আফগানিস্তানের! খতম ৩৫ পাকিস্তানি সেনা

    রাওয়ালপিণ্ডির নূর খান বিমান ঘাঁটিতে হামলা আফগানিস্তানের! খতম ৩৫ পাকিস্তানি সেনা

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: একদিকে ইরান-ইজরায়েল সংঘাত, অন্যদিকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান (Afghanistan–Pakistan Conflict)। দিনের পর দিন বাড়ছে উত্তেজনা। গত চারদিন পাক-আফগান উভয় দেশের সেনাবাহিনী একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে। তবে সোমবার আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, আফগান বিমান বাহিনী বেশ কয়েকটি পাকিস্তান সামরিক ঘাঁটিতে নির্ভুলভাবেই হামলা চালিয়ে ৩৫ জন পাকিস্তানি সেনাকে খতম করেছে। এমনকি অপারেশন সিঁদুরে ধ্বংসপ্রাপ্ত নূর খান ঘাঁটিতেও চালানো হয়েছে হামলা।

    পাকিস্তান জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা আফগানিস্তানের

    সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, রাওয়ালপিণ্ডির নূর খান বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। এমনকি বেলুচিস্তানের কোয়েটায় ১২ তম ডিভিশনের সদর দফতর এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার মোহাম্মদ এজেন্সি খোয়াজাই ক্যাম্পেও বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এমনকি পাকিস্তানের আরও বেশ কয়েকটি সামরিক ক্যাডার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যাতে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, তাদের এই অভিযান পাকিস্তান বাহিনীর সাম্প্রতিক অনুপ্রবেশেরই প্রতিশোধ। কারণ, পাকিস্তান সম্প্রতি আফগানিস্তানের কাবুল আর বাগরাম বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। এমনকি আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট বলেছে, যদি পাকিস্তান আবারও আকাশসীমা লঙ্ঘন করে তাহলে বড়সড় হামলা চালানো হবে।

    এদিকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করে পাকিস্তান। তাতে আরও উত্তেজনা বাড়ে। এমনকি শুক্রবার পাকিস্তান কাবুল এবং কান্দাহারেও বিমান হামলা চালিয়েছিল। আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আফগান সেনাবাহিনী পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের করা অপারেশন সিঁদুরে নূর খান বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ধরা হয়েছিল। সেই আক্রমণে ওই ঘাঁটির অবকাঠামো পুরো ভেঙে পড়ে। আর সেখানেই এবার হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান।

    আরও পড়ুন: ERO, AERO-র বদান্যতায় বিচারাধীন বিশ্বকাপজয়ী রিচা ঘোষের নাম, জানিয়ে দিল কমিশন

    টোলো নিউজ দাবি করছে, তালেবানদের হামলায় ৩২ জন পাকিস্তানি সেনা খতম হয়েছে। এমনকি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তাদের ২০৩ মানসুরি, ২০১ সিলাব এবং ২০৫ আল-বদর কর্পস এই অভিযান চালিয়েছে। তাতে ১০ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছে। পাশাপাশি চারটি সামরিক পোস্ট পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। আর আফগান সেনাবাহিনী দুটি পাকিস্তানি ড্রোনও নিচে নামিয়ে আনে। এখন দেখার দুই দেশের পরিস্থিতি ঠিক কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।

  • ব্যবহার হয়নি আগে, এই সস্তার ড্রোন দিয়েই ইরানে ধ্বংসযজ্ঞ চালাল আমেরিকা

    ব্যবহার হয়নি আগে, এই সস্তার ড্রোন দিয়েই ইরানে ধ্বংসযজ্ঞ চালাল আমেরিকা

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: আশঙ্কাই সত্যিতে পরিণত হয়েছে (Iran-US War)। গত শনিবার থেকে ইরানের উপর জোরালো হামলা চালানো শুরু করে আমেরিকা। সবচেয়ে বড় কথা, যা দিয়ে ইরানে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে সেই, ড্রোন প্রযুক্তি এর আগে কোনও অভিযানে ব্যবহার করেনি ওয়াশিংটন ডিসি। রিপোর্ট অনুযায়ী, এপিক ফিউরিতে ইজরায়েলের সাথে হাত মিলিয়ে ইরানে হামলা চালানোর সময় প্রথমবারের মতো এই বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সব একেবারে ধুলিস্যাৎ করে দিল আমেরিকা।

    এই ড্রোন ব্যবস্থাই ইরানে ধ্বংসযজ্ঞের কারণ

    একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইজরায়েলের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে ইরানের হামলা চালানোর সময় LUCAS আক্রমণাত্মক ড্রোনটি ব্যবহার করা হয়। বলাই বাহুল্য, এই ড্রোনগুলি ইরানের সস্তা কিন্তু শক্তিশালী ড্রোনগুলির অনুলিপি। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া ক্রমাগত হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করার দাবি করেছে আমেরিকা।

    দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতার মৃত্যুর পাশাপাশি ইরানের বুকে কম্পন ধরাতে ইরানেরই ড্রোন কৌশল অবলম্বন করেছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পাশাপাশি কয়েক ডজন সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

    বলে রাখা ভালো, যৌথভাবে ইরানের উপর হামলা চালাতে সস্তার LUCAS ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সহ অন্যান্য সমরাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল ল। যার ধার কার্যত ইরানের বুক চিরে দিয়েছে।

    LUCAS ড্রোনের বিশেষত্ব

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমেরিকার তরফে ইরানে ছোরা সস্তার ড্রোনগুলি একটা দীর্ঘ সময় ব্যবহার করার পর দ্বিতীয় বার আর ব্যবহার করা যায় না। তবে দামে অনেকটাই কম হয় অর্থাৎ খরচ কম হয় একসাথে অধিক সংখ্যক ড্রোন নিক্ষেপ করা যায় শত্রুর ডেরায়।

    অবশ্যই পড়ুন: খামেনির মৃত্যুর প্রতিবাদে করাচিতে মার্কিন দূতাবাসে হামলা, পাল্টা প্রতিরোধে নিহত ১০

    না বললেই নয়, আমেরিকার LUCAS হল ইরানি শাহেদ-136 এর উপর ভিত্তি করে তৈরি একটি কম খরচের আক্রমণাত্মক ড্রোন। এমন ড্রোন দিয়ে ইরানে হামলা প্রসঙ্গে CENTCOM স্পষ্ট জানিয়েছে, আমেরিকা এবং ইসরাইলের যৌথ উদ্যোগে এপিক ফিউরির সময় প্রথমবারের মতো ইরানের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করল কোনও দেশ। কয়েকজন সামরিক বিশেষজ্ঞ বলছেন, ইরানের সামরিক কৌশল এবং ড্রোন কৌশল রপ্ত করেই শাহেদ 136 এর অনুকরণ করে সস্তার LUCAS ড্রোন তৈরি করা হয়েছিল। এবার সেটাই ইরানের বুকে বিরাট ধ্বংসযজ্ঞ চালাল।

  • ইরানের রোষানলে দুবাই, শাহরুখ-আদানি-ঐশ্বর্য সহ আর কোন ভারতীয়র সম্পত্তি আছে সেখানে?

    ইরানের রোষানলে দুবাই, শাহরুখ-আদানি-ঐশ্বর্য সহ আর কোন ভারতীয়র সম্পত্তি আছে সেখানে?

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরানে হাড় কাঁপানো হামলা চালিয়েছে আমেরিকা-ইজরায়েল। এরই মাঝে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশের তরফে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি মার্কিন হামলায় মারা গিয়েছেন। যেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই ইরানের রাস্তায় নেমে পড়েছেন খামেনির অনুগামীরা। এদিকে প্রত্যাঘাত হিসেবে পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান বাহিনী। হামলা চালানো হয় দুবাই, দোহা সহ সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর একাধিক এলাকায়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, দুবাইয়ে আমেরিকান সেনার কোনও ঘাঁটি নেই। কিন্তু তাও কেন এই অঞ্চলে হামলা চালালো ইরান? উঠছে প্রশ্ন। তার উপর দুবাই ভারতীয় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বলিউড অভিনেতা অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে আর্থিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ (Celebrity Properties In Dubai)। এখানেই বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে ভারতীয় তারকাদের।

    দুবাইয়ে বিপুল সম্পত্তি রয়েছে ভারতীয় তারকাদের

    ইরানের রোষানালে থাকা দুবাই ভারতীয় তারকাদের জন্য আর্থিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। আসলে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর এই শহর বিলাসবহুল জীবন যাপনের জন্য বিশ্বের অন্যতম সেরা ঠিকানা। তাই তো বিনিয়োগের জন্য দুবাইকেই বেছে নিয়েছেন ভারতের বলিউড তারকা থেকে শুরু করে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। না বললেই নয়, বিলাসবহুল বাড়ি, সুউচ্চ ভিলা থেকে শুরু করে বহু মূল্যের অ্যাপার্টমেন্ট সবই রয়েছে ভারতীয়দের।

    অনেকেই হয়তো জানেন, বলিউড অভিনেতা অভিষেক বচ্চন এবং অভিনেত্রী ঐশ্বর্য রাই 2015 সালে দুবাইয়ে জুমেইরাহ গলফ স্টেটের স্যাঙ্ক চুয়ারি ফলস এ একটি দারুণ ভিলা কিনেছিলেন। চোখ ধাঁধানো ডিজাইন দ্বারা সুগঠিত এই ভিলার আনুমানিক বাজার মূল্য 16 কোটি টাকা। এখানেই রয়েছে সুইমিং পুল থেকে শুরু করে বিরাট গার্ডেন, পার্ক এমনকি পিকনিক স্পটও। এছাড়াও এমিরেটস হিল এ বিলাসবহুল বাংলো রয়েছে বচ্চন পরিবারের।

    দুবাইয়ে বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের জনপ্রিয়তা কতটা তা আলাদা করে বলার প্রয়োজন পড়ে না। বলিউড কিং শাহরুখের নামে দুবাইয়ের জুমেইরাহতে রয়েছে একটি চোখধাঁধানো বিচ ফ্রন্ট ভিলা। এই বিলাস বহুল ভিলাটি ভারতীয় তারকা শাহরুখের জীবনযাত্রাকে নির্দেশ করে থাকে। অত্যাধুনিক সাজসজ্জার সাথে সাথে সি ফেসিং এই বাড়ি দুবাইয়ের সেলিব্রিটি হোমগুলির মধ্যে অন্যতম।

    দুবাইয়ের জনপ্রিয় শহরে নিজস্ব সম্পত্তি রয়েছে বলিউড অভিনেতা তথা ভাইজান সলমান খানেরও। একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, দুবাইতে বলা ভাল সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে ছবির শুটিংয়ের সময় গেলে প্রায়শই নিজের সম্পত্তিতে একবার ঢু মেরে আসেন সলমান। বলিউডের এই দুই নামজাদা অভিনেতা ছাড়াও দুবাইয়ে বিনিয়োগ করেছেন বলিউডের অতি পরিচিত এবং অভিজ্ঞ অভিনেতা অনিল কাপুরও। বিভিন্ন ছবির শুটিং সহ ছুটির সময় দুবাইয়ে ঘুরতে আসেন তিনি।

    এখানেই শেষ নয়, দুবাইয়ের বুর্জ প্যাসিফিক প্রজেক্টে বিনিয়োগ করেছেন সলমান খানের ভাই সোহেল খানও। মাঝেমধ্যেই কাজের সূত্রে কিংবা ঘুরতে পরিবার নিয়ে দুবাইতে গেলে নিজের সব ব্যক্তিগত সম্পত্তি অর্থাৎ এই ফ্লাট গুলিতে থাকেন সোহেল খান সহ তাঁর আত্মীয়রা। দুবাইতে বুর্জ খালিফায় 50 কোটি মূল্যের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে এ বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেট্টির। 2010 এ বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্বামী রাজ কুন্দ্রার কাছ থেকে এই ফ্ল্যাটটি উপহার পেয়েছিলেন তিনি।

    অবশ্যই পড়ুন: ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ নিয়ে বড় কথা বলে দিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি…

    এদিকে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ধনকুবের মুকেশ আম্বানি থেকে শুরু করে ভারতীয় বংশোদ্ভুত বিনোদ আদানি সহ রেনুকা জগতিয়ানি এমনকি ইউসুফ আলিরও বিপুল সম্পত্তি রয়েছে দুবাইতে। এরমধ্যে রেনুকা জাগতিয়ানি ল্যান্ডমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যানের মোট সম্পত্তির পরিমাণ 5.6 বিলিয়ন ডলার। ( 2025 এর হিসেব অনুযায়ী।) ওদিকে গৌতম আদানির ভাই বিনোদের দুবাইয়ের সম্পত্তির বাজার মূল্য 53.4 বিলিয়ন ডলার। (2024 এর হিসেব)