Category: আন্তর্জাতিক

  • রমজানের প্রার্থনার অ্যালার্মেই বিপত্তি! সন্ত্রাসী হানা সন্দেহে জরুরি অবতরণ ফ্লাইট

    রমজানের প্রার্থনার অ্যালার্মেই বিপত্তি! সন্ত্রাসী হানা সন্দেহে জরুরি অবতরণ ফ্লাইট

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রমজানের নামাজের (Ramadan Prayers) সময় মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য মোবাইলে অ্যালার্ম সেট করেছিলেন এক যাত্রী। তবে সেই ঘটনাকে ঘিরেই হল বড় ভুল বোঝাবুঝি। নিরাপত্তার আশঙ্কায় মাঝ আকাশেই রুট বদলে জরুরি অবতরণ করতে হল একটি যাত্রীবাহী বিমানকে (US Flight News)। পরে তদন্ত করে জানা যায়, গোটা ঘটনাটাই ছিল একটা সাধারণ ভুল বোঝাবুঝির জের। ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। গত সপ্তাহে সাউথ-ওয়েস্ট এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট মাঝপথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। ন্যাশভিল থেকে ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেলের উদ্দেশ্যে উড়ে যাওয়া বিমানটিকে জরুরী ভিত্তিতেই মাঝপথে নামানো হয়। জানুন সবটা।

    ঘটনাটি কী?

    রিপোর্ট অনুযায়ী, ফ্লাইটটি ছেড়েছিল ন্যাশভিল আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট থেকে সন্ধ্যা ৭:১৫ মিনিটে। তবে উড়ান শুরু হওয়ার ৩০ মিনিট পরেই বিমানের ভিতরে হঠাৎ করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, এক যাত্রী রমজান মাসে নামাজের সময় মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য নিজের ফোনে একটি টাইমার সেট করে রেখেছিলেন। কিন্তু সেই অ্যালার্মটি ঘিরেই বিমানের ভেতরে তৈরি হয় ভুল বোঝাবুঝি, আর সেটাকে সম্ভাব্য নিরাপত্তার আশঙ্কা হিসেবে ধরা হয়।

    বিমানে চাপা বেশ কয়েকজন যাত্রী জানান যে, আচমকায় বিমান কর্মীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই মাইকে ঘোষণা করে বলা হয়, যাত্রীদের মাথা নিচু করে বসে থাকতে আর হাত উপরে তুলতে। এক যাত্রী জানান, হঠাৎ করে এই ঘোষণা শুনে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। প্রথমে কেউই বুঝতে পারছিলেন না যে, ঠিক কী ঘটেছে। অনেকেই ভাবছিলেন হয়তো যান্ত্রিক কোনও সমস্যা বা চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি অ্যালার্ট।

    আরও পড়ুন: “আমার জনগণকে রক্ষা করুন মা দুর্গা”, চলে যাওয়ার আগে রাজ্যবাসীকে খোলা চিঠি বোসের

    আটলান্টায় জরুরী অবতরণ

    এদিকে এই ঘটনার পর বিমানটি ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় আটলান্টায়। পরে রাত নটা নাগাদ বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছিল। তারপর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা বিমানে ওঠে আর সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে নামিয়ে নিয়ে যান। এমনকি পরে যাত্রীদের লাগেজ বিশেষভাবে পরীক্ষা করা হয়। আর কে-৯ ইউনিট দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। ঘটনার তদন্ত করেছিল ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন এবং ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। তবে তদন্তে জানা যায় যে, ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে কোনও রকম বাস্তব নিরাপত্তার হুমকির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি শুধুমাত্র ভুল বোঝাবুঝি ছিল। তাই ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

  • ইরানের হামলায় আনন্দ করে বাহারাইনে গ্রেফতার ৬ বাংলাদেশী, পাকিস্তানি

    ইরানের হামলায় আনন্দ করে বাহারাইনে গ্রেফতার ৬ বাংলাদেশী, পাকিস্তানি

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে এবার বিরাট পদক্ষেপ নিল বাহরাইন (Bahrain Administration)। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনাকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও তৈরি এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ এবার ৬ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর ওই ধৃতদের মধ্যে ৫ জন পাকিস্তানী এবং ১ জন বাংলাদেশী নাগরিক বলেই জানিয়েছে বাহরাইন প্রশাসন।

    সাইবার অপরাধ দফতরের নজরে ঘটনা

    আসলে বাহরাইনের অ্যান্টি সাইবার ক্রাইম ডিরেক্টর এই ঘটনা তদন্ত শুরু করেছিল। তদন্তে দেখা যায় যে, অভিযুক্তরা হামলার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন রকম ভিডিও রেকর্ড করে তা একাধিকবার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছে। প্রশাসনের মতে, এই ধরনের ভিডিও এবং পোস্ট সাধারণ মানুষের মধ্যেই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং অযথা আতঙ্ক ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। পাশাপাশি ধৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে যে, তারা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে। যার ফলে বাহরাইনের সাধারণ নাগরিক আর সেখানে বসবাসকারী বিদেশীদের মধ্যেও ভয় এবং অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আর এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

    এই ঘটনার পর বাহরাইন সরকার দেশবাসী এবং সেখানে বসবাসকারী বিদেশীদেরকে সতর্ক থাকার জন্য পরামর্শ দিয়েছে। আর প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, কোনও রকম খবর বা ভিডিও শেয়ার করার আগে তা অবশ্যই যাচাই করে নিতে। আর সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা বা আইনশৃঙ্খলা নষ্ট করতে পারে এরকম কোনও তথ্য বা ভিডিও ছড়ালে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    আরও পড়ুন: ১ এপ্রিল থেকে বাড়ছে FasTag অ্যানুয়াল পাসের দাম! এবার কত হবে?

    বেশ কিছু বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দ্রুত খবর ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু অনেকেই সেই খবর আসল কি নকল বিশ্বাস করে না। ভুয়ো তথ্যের মাধ্যমে বিভ্রান্তি আরও ছড়ায়। তাই ভুল বা যাচাই না করা তথ্য শেয়ার করলে তা বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। সেই কারণেই প্রশাসনের এই বড়সড় পদক্ষেপ।

  • বন্ধ স্কুল, কলেজ! বেতনে ২৫% কাটছাঁট, জ্বালানী সঙ্কটে বড় সিদ্ধান্ত পাকিস্তান সরকারের

    বন্ধ স্কুল, কলেজ! বেতনে ২৫% কাটছাঁট, জ্বালানী সঙ্কটে বড় সিদ্ধান্ত পাকিস্তান সরকারের

    সহেলি মিত্র, কলকাতা: জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য। এরই মাঝে নতুন করে শিরোনামে উঠে এল পাকিস্তান (Pakistan)। সেখানকার সরকার এবার এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যার প্রভাব কয়েক কোটি মানুষের ওপর পড়বে। জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ খরচ কমানোর জন্য একগুচ্ছ ঘোষণা করেছেন। স্কুল, কলেজ বন্ধ থেকে শুরু করে বেতনে কাটছাঁট, কমিশন বন্ধ করা সহ একাধিক ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। চলুন আরও বিশদে জেনে নেওয়া যাক।

    বড় সিদ্ধান্ত পাক সরকারের

    সরকারের নতুন পরিকল্পনার আওতায়, সরকারি অফিসগুলি এখন সপ্তাহে মাত্র চার দিন খোলা থাকবে এবং অর্ধেক কর্মচারী বাড়ি থেকে কাজ (WFH) করবেন। স্কুলগুলিও দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। পাকিস্তান সরকার মন্ত্রী এবং উপদেষ্টাদের বিদেশ ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মন্ত্রীরা দুই মাস বেতন নেবেন না এবং সাংসদদের ২৫% বেতন কাটা হবে। আগামী দুই মাস সরকারি যানবাহনে ৫০% জ্বালানি কম থাকবে। ৬০% সরকারি যানবাহন বন্ধ থাকবে। সমস্ত সরকারি বিভাগকে তাদের ব্যয় ২০% কমাতে হবে।

    কী বলেছেন প্রধানমন্ত্রী?

    প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেছেন যে যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৬০ ডলার থেকে ১০০ ডলারেরও বেশি বেড়েছে, যার কারণে এই সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান পেট্রোল ও ডিজেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বাড়িয়েছে। পেট্রোল ও ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ৫৫ টাকা বেড়েছে। মূল্যবৃদ্ধির পর, পাকিস্তানে এখন পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ৩৩৫.৮৬ টাকা এবং ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ৩২১.১৭ টাকা।

    আরও পড়ুনঃ গ্যাস নিয়ে LPG কোম্পানিগুলোকে নয়া নির্দেশ কেন্দ্রের

    পাকিস্তান সৌদি আরবের কাছে বেশ কিছু দাবি জানিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিদ্যমান ৫ বিলিয়ন ডলারের আমানতকে ১০ বছরের সুবিধায় রূপান্তর করা এবং তেল সরবরাহের জন্য বিলম্বিত অর্থপ্রদানের সুবিধা ১.২ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫ বিলিয়ন ডলার করা।

  • ‘আমার অনুমতি ছাড়া টিকতে পারবে না!’ মোজতবা খামেনি নির্বাচিত হওয়াতে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    ‘আমার অনুমতি ছাড়া টিকতে পারবে না!’ মোজতবা খামেনি নির্বাচিত হওয়াতে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষ দিনের পর দিন তীব্র আকার ধারণ করছে (Iran-Israel War)। এরই মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রয়াণের পর নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মোজতবা খামেনি, যিনি আলি খামেনিরই মেজ ছেলে। আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পরই তাঁর নেতৃত্বের প্রশ্ন সামনে এসেছিল। আর সেই পরিস্থিতিতেই মোজতবা খামেনিকেই দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মত আন্তর্জাতিক মহলের।

    তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর অনুমতি ছাড়া ইরানে কোনও সর্বোচ্চ নেতা দীর্ঘদিন ধরে টিকতেই পারবে না। ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে আসতেই কূটনৈতিক মহলে পড়েছে শোরগোল।

    দিনের পর দিন বাড়ছে উত্তেজনা

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ইতিমধ্যেই দশম দিনে পৌঁছেছে। একদিকে আমেরিকার তরফ থেকে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে। যার ফলে সংঘাত দিনের পর দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। এদিকে ইরানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, প্রয়োজনে তারা এই যুদ্ধ ছয় মাস পর্যন্ত চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। অন্যদিকে ট্রাম স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আপাতত ইরানের সঙ্গে কোনও রকম সমঝোতার পথে হাঁটতে রাজি নয় আমেরিকা।

    ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেস্কিন প্রথমে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংঘাতের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে, ইরানের কোনও দেশের সঙ্গে শত্রুতা নেই। আর অন্য কোনও রাষ্ট্র দখল করার ইচ্ছাও নেই। কিন্তু পরবর্তীতে দেশের ভিতরে রাজনৈতিক চাপ বাড়ার কারণে তিনি নিজের বক্তব্য পরিবর্তন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, ইরানের উপর হামলা হলে দেশ আর নিশ্চুপ থাকবে না। উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

    আরও পড়ুন: ‘রাজ্য সরকার চাইলে বাংলায় কমবে গ্যাসের দাম’ কতটা?

    এদিকে ইরান বাহরিনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর সদর দফতরেও হামলা চালিয়েছে। আর এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে আমেরিকাও ইরানের বিভিন্ন তেলের ভাণ্ডারে হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র তাদের শক্তি বাড়াতে পশ্চিম এশিয়ায় অতিরিক্ত যুদ্ধ জাহাজ মোতায়ন করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন দাবি করা হচ্ছে, ইরানে মজুত ইউরেনিয়াম সুরক্ষিত রাখার জন্য বিশেষ বাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। আর এই খবর সামনে আসতেই গোটা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

  • “জঙ্গল রাজ চলবে না”, ইরান সংঘর্ষ নিয়ে আমেরিকাকে সরাসরি সতর্ক করল চিন!

    “জঙ্গল রাজ চলবে না”, ইরান সংঘর্ষ নিয়ে আমেরিকাকে সরাসরি সতর্ক করল চিন!

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরানের (Iran) সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর পশ্চিম এশিয়ার দেশটিতে ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। দুই শক্তিধর দেশের হামলার পাল্টা দিতে পিছুপা হচ্ছে না ইরানও। ঠিক সেই আবহে এবার মুখ খুলল ড্রাগন (China On Iran War)। চিন সরকারের তরফে একেবারে পরিষ্কার ভাবে জানানো হয়েছে, যাঁরা ইরানের সরকার পরিবর্তন করার চেষ্টা করছেন বা ষড়যন্ত্র করছেন তাদের সমর্থন করে না চিন। নাম না করে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের এমন সর্বগ্রাসী মনোভাবকে জঙ্গল রাজ বলে অভিহিত করেছে ড্রাগন।

    হুঙ্কার দিল চিন

    রিপোর্ট অনুযায়ী, চিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই রবিবার ভাষণ দেওয়ার সময় বলেছেন, “যাঁরা ক্রমাগত ষড়যন্ত্র করে আসছেন। ইরানের সরকারকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁদের সমর্থন করে না বেইজিং। এই ধরনের চেষ্টা করা হলে তারা সফল হবেন না। অন্য কোনও দেশের বিষয়ে কখনই হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। যা চলছে তা ইরানের সর্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে।”

    ওই বিবৃতিতে চিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই নাম না করে আমেরিকাকে সতর্ক করার পাশাপাশি এও বলেছেন, ইরান, আরব ও বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলির স্বাধীনতাকে সম্মান করা উচিত এবং অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করা উচিত। এই লড়াই এমন এক লড়াই যা কখনই কারও ভাল করবে না। অস্ত্রের শক্তির উপর লড়াই কেবল ঘৃণা বাড়িয়ে দেবে। পৃথিবীতে তৈরি হবে নতুন সংকট।

    এদিন ইজরায়েল এবং আমেরিকার প্রতি বার্তা দিতে গিয়ে চিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের মানুষজন তাদের ভূখণ্ডের প্রকৃত মালিক। এখানকার দেশগুলোকে নিজেদের মতো কাজ করার সিদ্ধান্ত নিতে দিন। মানুষ সিদ্ধান্ত নেবে তারা কী চায়। অন্য কেউ তাদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এমন পরিস্থিতিতে আমরা গোটা বিশ্বের কাছে আবেদন জানাবো কোনও দেশ যেন অন্য দেশের বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে।

     

    অবশ্যই পড়ুন: প্রতিমাসে অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ৭০০০ টাকা! মহিলাদের ক্ষমতায়নে বড় প্ল্যান LIC-র

    চিনের মন্ত্রী একেবারে নাম না করেই একপ্রকার আমেরিকা এবং ইজরায়েলি অপ শাসনের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “এ পৃথিবীতে জঙ্গল রাজ চলবে না। ক্ষমতাশালীরা যা চাইবেন তাই করতে পারেন না। আমরা সব পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মিটিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। চিন শান্তি স্থাপনের জন্য কাজ করে এসেছে, আগামীতেও করবে।”

  • আসতে পারে বড় সংকট! ইরানের তেল ভাণ্ডার লক্ষ্য করে প্রথম হামলা ইজরায়েলের

    আসতে পারে বড় সংকট! ইরানের তেল ভাণ্ডার লক্ষ্য করে প্রথম হামলা ইজরায়েলের

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরান-ইজরায়েল সংঘাত যেন থামছেই না (Israel Attacks Iran Oil Reserve)। গতকাল রাতে তেল আবিবের বুকে একাধিকবার মিসাইল ছুঁড়েছিল ইরান (Iran)। এবার তার পাল্টা প্রত্যাঘাত হিসেবে তেহরানের তেল মজুদ লক্ষ্য করে বড়সড় হামলা চালালো বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দেশ। একাধিক সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার ইরানের হামলার পরই তেহরানের অয়েল রিজার্ভকে টার্গেট করে ইজরায়েল। আর তারপরই চলে ভয়াবহ হামলা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমেরিকা এবং ইজরায়েল একেবারে যৌথভাবে ইরানকে শায়েস্তা করতে উঠে পড়ে লেগেছে। তাঁদের দাবি, ইরান যাতে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে নেয় সেজন্যেই নতুন নতুন ছক কষছে এই দুই দেশ।

    বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিতে পারে ইরানে

    সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইজরায়েলের নতুন হামলার পর ইরানে লজিস্টিক, ট্রাফিক এবং বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিতে পারে। ইরানের কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে দাবি করছে, তেহরানের একাধিক জায়গায় রিফাইনারি কমপ্লেক্সে বড় হামলা হয়েছে। এদিকে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একেবারে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান আত্মসমর্পণ না করলে আগামী দিনে আরও কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “তেহরানের তেল স্টোরেজে আগুন জ্বলছে।”

    BBC বলছে, ইতিমধ্যেই ইরানের তেল মজুদ লক্ষ্য করে হামলার খবর নিশ্চিত করেছে ইজরায়েলের সেনাবাহিনী। এদিকে বিশ্লেষক মহল দাবি করছেন, খুব সম্ভবত এই প্রথমবার ইজরায়েল ইরানের কোনও বেসামরিক শিল্প প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলা চালালো। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম উত্তরাঞ্চলের রাজধানী এবং প্রতিবেশী দেশগুলিতে হামলার জন্য আমেরিকা এবং ইহুদি শাসন ব্যবস্থাকে দায়ী করেছে।

    অবশ্যই পড়ুন: ভারত বনাম নিউজিল্যান্ডের ফাইনাল লন্ডভন্ড করবে বৃষ্টি? দেখুন ওয়েদার রিপোর্ট

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলিতে হামলা চালানোর জন্য তাদের কাছে একপ্রকার ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলি যদি আমেরিকা এবং ইজরায়েলকে ইরানে হামলা চালানোর মদত না দেয়, তবে ইরানও তাদের উপর হামলা করবে না। ইরানের সাথে প্রতিবেশী দেশগুলির কোনও রকম শত্রুতা নেই।” একই সাথে এদিন ট্রাম্পের দাবিকে নস্যাৎ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ চেয়েছেন। তাঁকে এই স্বপ্ন নিয়েই সমাধিস্থ হতে হবে।

  • ৫০ কিমি বেগে হাওয়া, বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গের ৫ জেলায়! আজকের আবহাওয়া

    ৫০ কিমি বেগে হাওয়া, বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গের ৫ জেলায়! আজকের আবহাওয়া

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল আলিপুর আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস (Weather Today)। আকাশ কালো করে ঝেঁপে বৃষ্টি নামল বাংলাজুড়ে। গতকাল শনিবার কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। আবার কিছু কিছু জেলায় ছিটেফোঁটা বৃষ্টিও হয়েছে। যাইহোক, গতকালের মতো আজ রবিবার ছুটির দিনেও বাংলার বেশ কিছু জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসঙ্গে বইবে দমকা হাওয়া। আজ সকাল থেকেই কালো মেঘে ঢেকে রয়েছে বাংলার আকাশ। যে কোনও মুহূর্তে বৃষ্টি নামবে বলে মনে হচ্ছে। যাইহোক, আপনিও যদি আজ ছুটির দিনে বাড়ি থেকে বেরনোর প্ল্যান করে থাকেন, তাহলে জেনে নেবেন আবহাওয়ার হাল হকিকত সম্পর্কে।

    দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া

    প্রথমেই আসা যাক দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া প্রসঙ্গে। একের পর এক ঘূর্ণাবর্ত এবং পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জোড়া ফলায় মুহূর্তে বদলে যাবে বাংলার আবহাওয়া। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক ঘন্টায় কলকাতা, হাওড়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামের কিছু কিছু অঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে খবর।

    এরপর আগামী ৯ ও ১০ মার্চ পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, নদীয়া এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি হতে পারে। এরপর বুধবার থেকে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি হতে পারে। আগামী ১২ থেকে ১৫ মার্চ পশ্চিমাঞ্চলের জেলায় বৃষ্টি হতে পারে বলে খবর।

    উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া

    এবার আসা যাক উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া প্রসঙ্গে। আলিপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রবিবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, উত্তর দিনাজপুর এবং জলপাইগুড়ি জেলায়। সোমবার এবং মঙ্গলবার দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ১৫ মার্চ অবধি বৃষ্টি চলবে বলে খবর।

  • পাকিস্তানে ৫৫ টাকা দাম বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের! জানুন নতুন রেট

    পাকিস্তানে ৫৫ টাকা দাম বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের! জানুন নতুন রেট

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ সাধারণ মানুষের মাথায় বাজ ভেঙে পড়ল। আশঙ্কা সত্যি করে এবার পেট্রোল এবং ডিজেল (Petrol Diesel Price)-রও দাম বাড়ল। এক ধাক্কায় ৫৫ টাকা অবধি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। তাহলে এখন এক লিটার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কত হল? চলুন সে বিষয়ে বিশদে জেনে নেওয়া যাক।

    দাম বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের

    আপনি কি ভাবছেন ভারতে? উত্তর হল না। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আবহে এখন জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে পাকিস্তানে (Pakistan Petrol Diesel Price)। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ইরান ও আমেরিকা-ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব প্রতিবেশী পাকিস্তানের অর্থনীতিতে পড়ছে। বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের দাম তীব্র বৃদ্ধির পর, পাকিস্তান সরকার পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ৫৫ টাকা অবধি বৃদ্ধি করেছে। এমনিতে নানা ঘটনাকে কেন্দ্র করে অশান্ত হয়ে রয়েছে পাকিস্তান। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সেখানে আকাশছোঁয়া। এহেন পরিস্থিতিতে এবার তেলের দাম বৃদ্ধি, আমজনতার কাছে রামধাক্কা সেটা বলাই বাহুল্য।

    কত হল নতুন রেট?

    শুক্রবার পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক, উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার এবং অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব এক সাংবাদিক সম্মেলনে নতুন দাম ঘোষণা করেন। এগুলি ৭ মার্চ, ২০২৬ থেকে অর্থাৎ আজ থেকে কার্যকর হবে। আজ থেকে পাকিস্তানের পেট্রোল প্রতি লিটারে ২৬৬.১৭ টাকা থেকে বেড়ে ৩২১.১৭ টাকা হয়েছে। এছাড়া হাই স্পিড ডিজেল প্রতি লিটারে ২৮০.৮৬ টাকা থেকে বেড়ে ৩৩৫.৮৬ টাকা হয়েছে।

    আরও পড়ুনঃ শুধুমাত্র এদেরই বকেয়া DA দেবে নবান্ন? সুপ্রিম কোর্টে জমা রিপোর্ট ঘিরে চাঞ্চল্য

    তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে বড় তথ্য দিয়েছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত সমগ্র অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। আমেরিকা ও ইসরায়েলের ইরানের উপর আক্রমণ এবং ইরানের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ বিশ্ব তেল বাজারে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেল এবং WTI তেলের দাম ৬% থেকে ১০% অবধি বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • “আর হামলা হবে না” হঠাৎ ক্ষমা চাইল ইরান! ঘুরে গেল খেলা?

    “আর হামলা হবে না” হঠাৎ ক্ষমা চাইল ইরান! ঘুরে গেল খেলা?

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হারিয়েছে ইরান (Iran War Update)। সুপ্রিম লিডারের মৃত্যুর পরই কার্যত পাগল হয়ে গিয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ। খামেনির মৃত্যুর বদলা হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলিতে থাকা আমেরিকার একের পর এক সামরিক ঘাঁটিতে হাড় কাঁপানো হামলা চালায় ইরানের সেনাবাহিনী। হামলা চলে ইজরায়েলেও। তবে দুই শক্তি ধরের সাথে লড়াইয়ে ইরানের মরণ কামড় খেতে হয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, দোহার মতো প্রতিবেশীদের। যদিও সময় কিছুটা গড়াতেই হঠাৎ পড়শি দেশগুলির কাছে ক্ষমা চেয়ে নিল ইরান। ক্ষমা চেয়েছেন খোদ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian)।

    হঠাৎ ক্ষমা চেয়ে নিল ইরান

    গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া আমেরিকা-ইজরায়েল বনাম ইরানের ভয়াবহ সংঘাতের কোপে পড়ে ল্যাজে গোবরে অবস্থা হয়েছিল উপসাগরীয় দেশগুলির। রাতবিরেতে ছুটে আসছিল একের পর এক ইরানি মিসাইল। এক কথায়, সুপ্রিম লিডারকে হারানোর পর আমেরিকা ও ইজরায়েলের মতো দেশকে মদত দেওয়ার অভিযোগে নিজের প্রতিবেশী দেশগুলিকেও ছাড়েনি একসময় আমেরিকার বন্ধু দেশটি। এবার সেইসব প্রতিবেশী দেশের কাছেই ক্ষমা চেয়ে নিল ইরান।

    সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট খুব স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, “ইয়ানের উপর যদি হামলায় আমেরিকা বা ইজরায়েলকে মদত দেওয়া না হলে ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলিতে হামলা চালাবে না। উপসাগরীয় এলাকার দেশগুলির সাথে ইরানের কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই।” জানা গিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যুর পরই প্রাথমিকভাবে একটি অন্তর্বর্তী কাউন্সিল গঠন করা হয়েছিল। সেই কাউন্সিলর সদস্য ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট সহ মোট তিনজন। এবার সেই কাউন্সিলই প্রতিবেশী দেশগুলিতে হামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    ইরানের প্রেসিডেন্ট খুব সাফ ভাবে বুঝিয়েছেন, এবার থেকে উপসাগরীয় দেশগুলি যদি আমেরিকা এবং ইজরায়েলকে ইরানের উপর হামলা চালানোর জন্য মদত না যোগায় তবে ইরানের সেনাবাহিনীও এই দেশ গুলির উপর হামলা চালাবে না। এদিন মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশের তরফে প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি এও জানিয়ে দেওয়া হয়, আমেরিকা এবং ইজরায়েল প্রথমে হামলা চালানো শুরু করেছিল বলেই ইরান প্রত্যাঘাত করে।

     

    অবশ্যই পড়ুন: ভূমিহীন ক্ষেতমজুরদের অ্যাকাউন্টে কবে ঢুকবে টাকা? দিন ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    ট্রাম্পকে কড়া বার্তা মাসুদের

    সম্প্রতি ইরানের কাছ থেকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ চেয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলেছিলেন, তাঁর বেছে দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে পছন্দের একজনকে ইরানের সিংহাসনে বসানো হোক। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, “এসব আসলে ট্রাম্পের স্বপ্ন। এই স্বপ্ন নিয়েই তাঁকে সমাধিস্থ হতে হবে।” এক কথায় বলা যায়, প্রতিবেশী দেশগুলির উপর হামলা বন্ধ করলেও আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সাথে কোনও মতেই আপস করতে রাজি নয় ইরান। বরং হামলা হলে যে পাল্টা ভয়ঙ্কর প্রত্যাঘাত করা হবে সে কথাও বুঝিয়ে দিয়েছে তেহরান।

  • ‘পরমাণু ভাণ্ডার বাড়াবে দিল্লি!’ কানাডা-ভারতের ইউরোনিয়াম চুক্তিতে কান্নাকাটি পাকিস্তানের

    ‘পরমাণু ভাণ্ডার বাড়াবে দিল্লি!’ কানাডা-ভারতের ইউরোনিয়াম চুক্তিতে কান্নাকাটি পাকিস্তানের

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আন্তর্জাতিক কূটনীতির অঙ্গনে এবার নতুন চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে ভারত আর কানাডার সাম্প্রতিক ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি (India-Canada Agreement)। দুই দেশের মধ্যে ২.৬ বিলিয়ন ডলারের একটি দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে খবর। আর এই চুক্তির লক্ষ্য হল ভারতের বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির জন্য দীর্ঘ সময়ের জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। তবে সমস্যা হল এই নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করছে পাকিস্তান (Pakistan)। কারণ, দেশটির বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারত-কানাডা সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

    কী বলছে পাকিস্তান?

    পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মতে, এই চুক্তি পারমাণবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার মত পদক্ষেপ তা বলা যায়। কিন্তু তাদের স্পষ্ট দাবি, ভারতের সমস্ত বেসামরিক পারমাণবিক স্থাপনা এখনো পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের আওতায় নেই। আর যদি অতিরিক্ত ইউরোনিয়াম সরবরাহ করা হয়, তাহলে ভারত ভবিষ্যতে তার পারমাণবিক সক্ষমতা আরও দ্রুত বাড়াতে পারে। যার ফলে দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং সামরিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম বাধা বিঘ্নতা আসতে পারে।

    এদিকে ভারত এবং কানাডার এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হল ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করা। চুক্তি অনুযায়ী, কানাডার সংস্থা Cameco আগামী কয়েক বছর ভারতে ইউরেনিয়াম সরবরাহ করবে। পরিকল্পনামাফিক, ২০২৭ সাল থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত মোট ২২ মিলিয়ন পাউন্ড ইউরেনিয়াম ভারতে পাঠানো হবে। আর এই জ্বালানি মূলত বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

    আরও পড়ুন: ‘সংঘাতে সমস্যা মেটে না..’ পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে প্রথম বিবৃতি মোদির

    ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা

    বিশ্লেষকদের বক্তব্য অনুযায়ী ভারতের মূল লক্ষ্য হল, আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন আরও বাড়ানো। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৪৭ সালের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা নূন্যতম ১০০ গিগাওয়াটে উন্নীত করতে হবে। আর এই লক্ষ্য পূরণে স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে ইউরেনিয়াম আমদানির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ভারতের শক্তি নিরাপত্তার জন্য বিরাট পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমনকি শুধুমাত্র ইউরেনিয়াম সরবরাহ নয়, বরং ভবিষ্যতে ছোট মডেলকিউলার রিয়াক্টর এবং উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে বলে খবর। আর এই ধরনের আধুনিক রিয়াক্টর তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশেষ কার্যকর হবে বলে জানা যাচ্ছে।