Category: আন্তর্জাতিক

  • চাঁদেই বসবে সোলার প্যানেল! পৃথিবীকে আজীবন বিদ্যুৎ দিতে জাপানের মহা পরিকল্পনা

    চাঁদেই বসবে সোলার প্যানেল! পৃথিবীকে আজীবন বিদ্যুৎ দিতে জাপানের মহা পরিকল্পনা

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পরিষ্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানির সন্ধানে এবার নতুন দিশা দেখছে বিশ্ব। ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের (Electricity) চাহিদা মেটাতে পৃথিবীর বাইরের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর সেই সূত্রে জাপানের একটি সংস্থা এবার এমন এক পরিকল্পনা সামনে আনলো, যা বাস্তবায়িত হলে গোটা বিশ্বের বিদ্যুৎ সরবরাহের ধরন বদলে যেতে পারে। জানা যাচ্ছে, জাপানের নির্মাণ সংস্থা Shimizu Corporation এই প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে, যেটির নাম লুনা রিং (Luna Ring)। আর এই প্রকল্পে চাঁদের নিরক্ষরেখা ঘিরে বিশাল সৌর প্যানেলের একটি বলয় তৈরি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎ সরাসরি পৃথিবীতে পাঠানো হবে।

    কী এই লুনা রিং প্রকল্প?

    বলে রাখি, লুনা রিং প্রকল্প অনুযায়ী চাঁদের নিরক্ষরেখা বরাবর একটি বিশাল সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা করা হবে। আর সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, সৌর বলয়ের প্রস্থ হবে মোটামুটি ২৫০ মাইল এবং এটি চাঁদের চারদিকে প্রায় ৬৮০০ মাইল জুড়ে বিস্তৃত হবে। আর পুরো বলয়জুড়ে থাকবে অসংখ্য সৌর প্যানেল। এই সৌর প্যানেলগুলো মহাশূন্যে অবিরাম সূর্যালোক পাবে। যার ফলে পৃথিবীর মতো রাত, মেঘ বা আবহাওয়ার বাঁধা থাকবে না।

    প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই প্রকল্প থেকে আনুমানিক ১৩ হাজার টেরাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে। তুলনায় বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মোট বিদ্যুতের চাহিদা ঘরে ২০ টেরাওয়াট। অর্থাৎ যদি এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বর্তমান বৈশ্বিক চাহিদার বহুগুণ বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁদের পরিবেশ সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সুবিধাজনক। কারণ, চাঁদে কোনও রকম বায়ুমণ্ডল নেই। ফলে সূর্যালোক সরাসরি পৌঁছয় এবং মেঘ ও আবহাওয়ার কোনও বাধা নেই এখানে। পাশাপাশি চাঁদের ঘূর্ণন ধীর হওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যালোক পাওয়া যায়। আর কম মাধ্যাকর্ষণের কারণে বড় কাঠামো নির্মাণ করা আরও সহজ।

    কীভাবে তৈরি হবে এই বিশাল প্রকল্প?

    প্রসঙ্গত, মানুষের পক্ষে এত বড় নির্মাণ কাজ সরাসরি করা খুবই কঠিন এবং ব্যয়বহুল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই পরিকল্পনা করা হচ্ছে রোবট বা স্বয়ংক্রিয় কোনও যন্ত্রের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করা হবে। আর এই রোবটগুলিতে চাঁদে মাটি খনন করবে, সৌর প্যানেল বসাবে এবং রক্ষণাবেক্ষণ আর কাঠামো নির্মাণ করবে। পৃথিবীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যেই এই রোবটগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে। তবে শুধুমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেই তো হবে না, বরং সেটাকে পৃথিবীতে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করতে হবে। তার জন্য মাইক্রোওয়েভ ও লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে শক্তিকে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গে রূপান্তরিত করা হবে। তারপর পৃথিবীর নির্দিষ্ট রিসিভিং স্টেশনে পাঠানো হবে। সেখান থেকেই শক্তিকে বিদ্যুতের রূপান্তর করে বিদ্যুৎ গ্রিডে তা যুক্ত করা হবে।

    সবথেকে বড় ব্যাপার, এই প্রকল্প যদি চালু হয়, তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় কোনও রকম কার্বন নির্গমন হবে না। তার কারণে বায়ু দূষণ তো হবেই না, আর পারমাণবিক বর্জ্যও তৈরি হবে না। যার ফলে এটি দীর্ঘ মেয়াদে পরিবেশবান্ধব শক্তির সবথেকে বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু চাঁদের পরিবেশে এত বিরাট অবকাঠামো নির্মাণের প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে। এখন দেখার, আদৌ এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয় কিনা।

  • আফগানিস্তানের হাসপাতালে এয়ারস্ট্রাইক পাকিস্তানের, মৃত ৪০০

    আফগানিস্তানের হাসপাতালে এয়ারস্ট্রাইক পাকিস্তানের, মৃত ৪০০

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ভয়াবহ বিমান হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে (Pakistan Airstrike Afghanistan)। সোমবার গভীর রাতে চালানো এই হামলায় একটি হাসপাতাল সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আর বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ঘটনাটি ঘিরে প্রতিবাদ জানিয়েছে তালিবান প্রশাসন। অন্যদিকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দিয়েছে পাকিস্তান। তাদের দাবি, শুধুমাত্র সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। কোনও বেসামরিক স্থাপনা টার্গেট করা হয়নি।

    হাসপাতালে হামলার অভিযোগ

    আফগান প্রশাসনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, কাবুলের নেশামুক্তি চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত একটি হাসপাতালের উপর এই হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। আর হামলার জায়গায় ভবনের একটি বিরাট অংশ ভেঙে পড়ে আর সেখানে আগুন ধরে যায়। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী খবর, ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকে পড়েন এবং আঘাতে প্রাণহানি হয়। উদ্ধারকারী দল আগুন নেভানো আর ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে মানুষকে বের করার কাজ চালিয়েছে। পাশাপাশি আহতদেরকে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    এদিকে এই ঘটনার পর পাকিস্তান সরকার জানিয়ে দিয়েছে, তাদের বিমান হামলা মূলত সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের ঘাঁটি আর অস্ত্রভাণ্ডারগুলিকে লক্ষ্য করেই চালানো হয়েছিল। আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর অপশাসন ধ্বংস করায় তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল। কোনও হাসপাতাল বা সাধারণ মানুষের বসতি লক্ষ্য করা হয়নি বলেই দাবি করছে ইসলামাবাদ।

    আরও পড়ুন: কবে, কত দফায় মিলবে বকেয়া DA? বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের

    বলাই বাহুল্য, সোমবার সীমান্ত এলাকায় আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মধ্যে তীব্র গুলি বিনিময় হয়। তারপর এই হামলা ঘটে বলে অভিযোগ। আফগান প্রশাসন দাবি করছে যে, পাকিস্তান তাদের সার্বভৌম সীমা লঙ্ঘন করেছে। এর যথাযথ জবাব দেওয়া হবে। এমনকি হামলায় ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তালিবান। তাদের দাবি, চিকিৎসাধীন রোগীদের উপর হামলা নৃশংস কাজ। একইসঙ্গে ঘটনার পূর্ণ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

  • পাকিস্তানে হাহাকার! কর্মীদের ৩০% বেতন কাটল সরকার

    পাকিস্তানে হাহাকার! কর্মীদের ৩০% বেতন কাটল সরকার

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সংকটের মুখে কত কিছু যে করতে হবে কাঙাল পাকিস্তানের (Pakistan) তা হয়তো ভাবতেও পারবেন না আপনি। হ্যাঁ, টানাটানির মধ্যে পড়ে এবার দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিতে কর্মরত কর্মীদের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। চলমান যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল আর ইরান সংঘাতের (Middle East War) জেরে তৈরি হওয়া এই জ্বালানির সংকট মেটানোর জন্যই বড়সড় সিদ্ধান্তের পথে হাঁটল সন্ত্রাসের দেশের প্রশাসন।

    জ্বালানি সংকট মেটাতে বড় সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের

    প্রসঙ্গত, ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর ইজরায়েলের সংঘাত দিনের পর দিন বাড়ছে। যার কারণে শুধুমাত্র পাকিস্তান নয়, বরং বিশ্বের একাধিক দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। কারণ, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তৈলবাহী জাহাজগুলি আসতে পারছে না, যেহেতু ইরান সেখানে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আর সেই কারণেই বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। এমনকি সম্প্রতি পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। যার ফলে এখন ১ লিটার পেট্রোলের দামই পড়ছে ৩৪৫ টাকা। অন্যদিকে হাইস্পিড ডিজেলের দাম প্রায় ৩৫৫ টাকা প্রতি লিটার ছুঁয়েছে। সেই বৃদ্ধির ফলে সারা দেশে পরিবহন খরচ এবং খাদ্যের দামের উপর প্রভাব পড়েছে।

    এদিকে গ্যাসের শুল্কও দিনের পর দিন বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে এলএনজি আমদানির খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে গৃহস্থালির গ্যাসের দামও ২৫ শতাংশ বেড়েছে পাকিস্তানের। সেই কারণেই এবার জ্বালানি সংকট কাটানোর জন্য বড়সড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে পাকিস্তান। সম্প্রতি অর্থ দফতরের তরফ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, রাষ্ট্রায়ত্ত মালিকানধীন প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলির কর্মীদের বেতন এবার ৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হবে, যাতে ডুবে যাওয়া অর্থনীতিকে কিছুটা হলেও ত্বরান্বিত করা যায়।

    আরও পড়ুন: “বাড়িতে আঘাতের চিহ্ন নেই, পার্টি অফিসে ব্যান্ডেজ!” শশী পাঁজাকে একহাত নিলেন সজল ঘোষ

    তবে এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই কর্মকর্তারা নিজেদের মত প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, এই পদক্ষেপ সরকারের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। আর পাকিস্তানের সংকট এবং ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক জ্বালানির দামের ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবেলা করতে পারবে। তবে কেউ কেউ দাবি করছে, বিশ্বজুড়ে চলমান সংকটের প্রভাব শুধুমাত্র কর্মকর্তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক না। এদিকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন যে, জ্বালানি আর গ্যাসের ক্রমবর্ধমান দাম বৃদ্ধি পাকিস্তানের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলতে পারে আর মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। এখন দেখার দেশটির অর্থনীতি আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে কিনা।

  • মিসাইল ছুঁড়লেই শেষ! ভয়েই হরমুজ পেরোতে পারল না বাংলাদেশের জাহাজ

    মিসাইল ছুঁড়লেই শেষ! ভয়েই হরমুজ পেরোতে পারল না বাংলাদেশের জাহাজ

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরান যুদ্ধে হরমুজে (Strait of Hormuz) আটকে ছিল বিশ্বের একাধিক দেশের পণ্যবাহী তরী। তেহরানের তরফে নতুন ঘোষণা পাওয়া মাত্রই আমেরিকা, ইজরায়েল এবং তাদের মিত্র শক্তি ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলি একে একে নিজেদের জাহাজ নিয়ে ফিরতে শুরু করেছে। এরই মাঝে বেকায়দায় পড়েছে বাংলাদেশের (Bangladesh) জাহাজ। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে আটকে রয়েছে বাংলাদেশের শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। এই বুঝি মিসাইল ছুঁড়ে সব কিছু তছনছ করে দেয় সেই ভয়ে হরমুজ পেরোতে পারেনি জাহাজটি।

    জাহাজে আটকে 31 জন বাংলাদেশী নাবিক

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত 12 মার্চ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রবেশ করে 66 ন্যাটিক্যাল মাইল দূরে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল জাহাজটি। পরবর্তীতে ইরানের মিসাইল হামলার খবর পাওয়া মাত্রই সেখানেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকেন জাহাজের নাবিকরা। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর কোস্টগার্ডদের তরফে নিরাপত্তার কারণে ওই জাহাজটিকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর তারপর জাহাজটি পারস্য উপসাগর দিয়ে পুনরায় ফিরে যায়।

    প্রথম আলোর প্রতিবেদন বলছে, ওই জাহাজ বর্তমানে UAE র শারজা বন্দরের কাছাকাছি রয়েছে। সূত্রের খবর, জাহাজটি কাতার থেকে নতুন করে কিছু পণ্য তোলার পরিকল্পনা করছিল। জানা গিয়েছে, 11 মার্চ এই জাহাজের নাবিকদের জেবেল আলী বন্দরে পণ্য নামিয়ে কুয়েতের নতুন পণ্য তোলার পরিকল্পনা ছিল। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ মোড় মিলে তা সম্ভব হয়নি। এর মাঝে সদ্য ইরানের তরফে বিশ্বের একাধিক দেশের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার খবর পাওয়ার সত্ত্বেও জাহাজটি নতুন করে মিসাইল হামলার ভয়ে হরমুজ প্রণালী পেরোতে পারেনি। জানা গিয়েছে, ওই জাহাজে বর্তমানে 31 জন বাংলাদেশি নাবিক আটকে রয়েছেন।

    অবশ্যই পড়ুন: বিশ্বকাপ শেষ হতেই এবার পাকিস্তানের অধিনায়ককে শাস্তি দিল ICC

    প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যম দাবি করছে হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাংলাদেশের ওই জাহাজটিকে নিরাপদে ইরানের নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে তৎপর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যেই নাকি ওই জাহাজটিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে ওপার বাংলার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

  • এদের জন্য হরমুজ প্রণালীর দরজা খুলে দিল ইরান, তালিকায় ভারতও?

    এদের জন্য হরমুজ প্রণালীর দরজা খুলে দিল ইরান, তালিকায় ভারতও?

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মাঝেই মিলল স্বস্তির খবর। গোটা বিশ্বে তেল সরবরাহের যে পথ অর্থাৎ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) নিয়ে এবার বড়সড় সুখবর দিল ইরান (Iran)। কঠিন সময়ে ইরানের তরফে একেবারে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু দেশ বাদে বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশ হরমুজ দিয়ে তেল সহ LPG ও অন্যান্য জ্বালানি নিয়ে যেতে পারবে। ছাড়পত্র দেওয়া দেশগুলির জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালাবে না তেহরান।

    এই দেশগুলি হরমুজে ছাড়পত্র পেল না

    ইরানের মূল শত্রুতা আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সাথে। প্রথমে এই দুই দেশই যৌথভাবে তেহরানের উপর জোরালো হামলা চালিয়েছে। তাতেই মৃত্যু হয় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির। যে ঘটনার পর একেবারে পাগলের মতো প্রত্যাঘাত শুরু করে পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটি। বন্ধ করে দেওয়া হয় হরমুজ প্রণালী। ইরানের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, হরমুজ দিয়ে যদি কেউ তেল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তবে জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে।

    বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলির জন্য হরমুজে যাতায়াত বন্ধ করলেও প্রথমে রাশিয়া এবং চিনের জন্য সম্পূর্ণ খোলা ছিল হরমুজের দরজা। পরবর্তীতে সেই তালিকায় যুক্ত হয় ভারতও। নয়া দিল্লিকে বন্ধু সম্মোধন করে এদেশের জন্য হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করে দেয় তেহরান। তবে এবার ইরানের তরফে একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়া হলো, আমেরিকা। ইজরায়েল এবং তার মিত্র দেশগুলি ছাড়া বিশ্বের সমস্ত দেশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিজেদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানি এবং রপ্তানি করতে পারবে।

     

    অবশ্যই পড়ুন: “জঘন্য ফুটবল খেলছে ইস্টবেঙ্গল!” কোচের পদ হারাবেন অস্কার?

    সহজ ভাষায় বলতে গেলে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ নিয়ে তৈরি হয় ঘোর সংকট। সেটা বুঝতে পেরেই এবার আমেরিকা এবং ইজরায়েল ও তাদের মিত্রশক্তিগুলি ছাড়া বিশ্বের সমস্ত দেশের জন্য হরমুজের দরজা খুলে দিল ইরান। এর মধ্যে দিয়ে বোঝাই যাচ্ছে, যে দেশ আমেরিকা এবং ইজরায়েলকে সমর্থন করছে এবং আগামীতে করবে তাদের জন্য এই বিশেষ জলপথ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।

  • তালিবানদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ফের আফগানিস্তানে এয়ারস্ট্রাইক পাকিস্তানের

    তালিবানদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ফের আফগানিস্তানে এয়ারস্ট্রাইক পাকিস্তানের

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: একদিকে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, আরেক দিকে দক্ষিণ এশিয়ার (Pakistan-Afghanistan War)। হ্যাঁ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও চরমে পৌঁছেছে। সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার তো কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। আর তারই মধ্যে আফগানিস্তানের কান্দাহার অঞ্চলের তালিবান ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান (Pakistan Airstrike on Afghanistan)। এমনটাই দাবি আফগান প্রশাসনের। আর এই ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে আবারও নতুন করে সংঘর্ষ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। পাকিস্তানের দাবি, সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জবাবে হিসাবেই তাদের এই আক্রমণ।

    কান্দাহারে ফের বিমান হামলা

    পাকিস্তানের সূত্র মারফৎ খবর, আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহারের কাছে তালিবানদের একটি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। আর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তের কাছে পাকিস্তানের এলাকায় একাধিক ড্রোন দেখা গিয়েছিল। নিরাপত্তা বাহিনী ড্রোনগুলিকে প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ধ্বংসাবশেষ পড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে।

    এদিকে পাক সেনা কর্মকর্তাদের মতে, এই ড্রোনগুলোর লক্ষ্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলিকে গুঁড়িয়ে দেওয়া। কিন্তু অধিকাংশ ড্রোনই লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। আর কিছু জায়গায় ধ্বংসাবশেষ পড়ে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও তারা দাবি করেছে। পাকিস্তানের কোয়েটাতে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুই শিশু আহত হয়েছে বলেও খবর মিলেছে। এছাড়াও কোহাট এবং রাওয়ালপিন্ডি এলাকাতেও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর সামনে আসে।

    আরও পড়ুন: মেসেজ পেলেও ঢোকেনি যুবসাথীর টাকা? জানুন কী হবে এবার

    আফগানিস্তানকে দায়ী ইসলামাবাদের

    এদিকে এই ঘটনার জন্য সরাসরি আফগানিস্তানকে দায়ী করেছে পাকিস্তান। তাদের দাবি, এই ড্রোন হামলাগুলি আফগানিস্তানের কান্দাহার অঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটি থেকেই করা হয়েছে। সেনা ঘাঁটি আর সাধারণ মানুষের উপর হামলা চালিয়ে তালিবানরা রেড লাইন অতিক্রম করতে চাইছে। তারই জবাবে পাকিস্তান বিমান হামলা চালিয়েছে। এমনকি সংঘাত আরও বাড়তে পারে এরকম আশঙ্কায় পাকিস্তান সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসলামাবাদের আকাশ পথ সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দাবি, নিরাপত্তার স্বার্থেই তাদের এই পদক্ষেপ।

  • আটকে রেখেছে কিস্তির ১ বিলিয়ন ডলার! কাঙাল পাকিস্তানকে বড় ধাক্কা IMF-র

    আটকে রেখেছে কিস্তির ১ বিলিয়ন ডলার! কাঙাল পাকিস্তানকে বড় ধাক্কা IMF-র

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: যখনই পরিস্থিতি একটু বেগতিক হয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার বা IMF এর সামনে ঝুলি পেতে বসেছে পাকিস্তান (IMF Loan To Pakistan)। এর আগে গত মে মাসে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত চলাকালীন পাকিস্তানের 100 কোটির ঋণ মঞ্জুর করে দিয়েছিল আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল। পরবর্তীতে আবারও IMF এর শরণাপন্ন হয়েছে পাকিস্তান। তবে এবার আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার ইসলামাবাদকে কার্যত বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। জানা যাচ্ছে, IMF পাকিস্তানকে 7 বিলিয়ন ডলারের ঋণ দিতে রাজি হয়ে গেলেও সেই ঋণের 1 বিলিয়ন ডলারের কিস্তি দিতে অস্বীকার করেছে তারা কিন্তু কেন?

    পাকিস্তানকে ঋণ দিচ্ছে না IMF!

    দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের রিপোর্ট অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডারের তরফে 7 বিলিয়ন ডলার ঋণের আওতায় 1 বিলিয়ন ডলারের একটি কিস্তি নিয়ে পাকিস্তান সরকার এবং IMF এর মধ্যে দীর্ঘ কথোপকথন হলেও ঋণ নিয়ে কর্মী পর্যায়ের কোনও বৈঠক বা স্টাফ লেভেল চুক্তি হয়নি। মূলত সে কারণেই পাকিস্তানকে 1 বিলিয়ন ডলারের ঋণ দিচ্ছে না আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার।

    তবে IMF খুব পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে, এই মুহূর্তে 1 বিলিয়ন ডলারের ঋণ দেওয়া না হলেও পাকিস্তান সরকারের সাথে কথাবার্তা জারি থাকবে তাদের। আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের তরফে জানানো হয়েছে, কিস্তির অর্থ বিতরণ করার জন্য স্টাফ লেভেল চুক্তির বিষয়ে ঐক্যমত নিশ্চিত করতে আগামী দিনে নীতি নিয়ে পাকিস্তানের সাথে আলোচনা চলবে। তবে পাকিস্তানের আর্থিক ঘাটতি নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে IMF।

    এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের মিশন প্রধান ইভা পেট্রোভা সাফ জানিয়েছেন, “আলোচনায় অগ্রগতি হলে আগামী দিনে সেই আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আমারা পাকিস্তানের অর্থনীতি, বর্ধিত তহবিল সুবিধা ও IMF সমর্থিত কর্মসূচির উপর সাম্প্রতিক বৈশ্বিক উন্নয়নের প্রভাব সবটাই মূল্যায়ন করবে।

    অবশ্যই পড়ুন: রেশনে অর্ধেক খরচে কিনতে পারবেন কেরোসিন! বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

    পাকিস্তানে দেখা দিতে পারে চরম অর্থনৈতিক সংকট!

    আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার কিস্তির 1 বিলিয়ন ডলার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত এমন সময় নিল যখন পশ্চিম এশিয়ায় চলছে, ভয়াবহ যুদ্ধ। ইরান যুদ্ধের কারণে পাকিস্তানে লাফিয়ে বাড়ছে জ্বালানির দাম। সেই সাথে তেল এবং গ্যাস সরবরাহ বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় আরও বিপদে পড়েছে ইসলামাবাদ। বিশ্লেষক মহলের অনেকেই বলছেন, IMF যদি এখন তাদের 1 বিলিয়ন ডলার ঋণ না দেয় সেক্ষেত্রে পাকিস্তান বড়সড় অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।

    যদিও পাক সরকার বলছে, IMF এর কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য এখন না পেলেও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়বে না ইসলামাবাদ। ঠিক উল্টো দিকে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার আবার বলছে, পাকিস্তান এখনও উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সহ্য করার মতো ক্ষমতায় পৌঁছয়নি। এক কথায়, বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করার ক্ষমতা যে পাকিস্তানের এখন নেই তা ভাল মতোই বুঝছে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার।

  • গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে করাচি, কোয়েটা, ইসলামাবাদ! পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি তালিবানের

    গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে করাচি, কোয়েটা, ইসলামাবাদ! পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি তালিবানের

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইজরায়েল আর আমেরিকার সংঘাত, অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় আফগানিস্তান-পাকিস্তানের সংঘাত (2026 Afghanistan–Pakistan War)। এবার বিমান হামলার অভিযোগে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। সেই প্রেক্ষাপটে আফগান শাসকগোষ্ঠী তালিবান (Taliban) পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া সতর্কবার্তা জানিয়েছে। তালিবানের এক শীর্ষ কর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তান যদি এই ধরনের হামলা চালাতে থাকে, তাহলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোকেই এবার লক্ষ্যবস্তু করে হামলা করা হবে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক যে আরও তিক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    কোন শহরগুলিকে নিশানা করার হুমকি?

    এদিন তালিবানের মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানে হামলা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে দেশের বড় বড় শহরগুলিকে এবার গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। বিশেষ করে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে ইসলামাবাদ, করাচি এবং কোয়েটা। এই শহরগুলিকে লক্ষ্য করেই হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আর এতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়েছে।

    তালিবানদের দাবি, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সম্প্রতি আফগানিস্তানে বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, কাবুল এবং কান্দাহার প্রদেশকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এমনকি আফগানিস্তানের আরও বেশ কিছু এলাকাতে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। সেই সূত্রেই এবার হুঁশিয়ারি দিলেন তালিবান কর্মকর্তার মুখপাত্র হাজী জাহিদ। তিনি তালিবান নেতা হাজী ইউসুফের প্রতিনিধিত্ব করেন বলেই খবর। বিশেষজ্ঞদের মতে, তালিবানা শীর্ষ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার ঘনিষ্ঠ বলেই আফগানিস্তানের উত্তর অঞ্চলে এই গোষ্ঠীর প্রভাব যথেষ্ট শক্তিশালী।

    আরও পড়ুন: দেশে আকাল, বিদেশে রপ্তানি! এলপিজি সংকট নিয়ে কেন্দ্রের থেকে জবাব চাইল হাইকোর্ট

    এদিকে বলে রাখি, আফগানিস্তান আর পাকিস্তানের সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা তুঙ্গে। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ, জঙ্গি কার্যকলাপ আর পাল্টা অভিযানের অভিযোগ প্রায়শই সামনে আসে। বিশেষ করে ডুরান্ড লাইন ঘিরে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আর সামরিক বিরোধ দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই হুঁশিয়ারি দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে আরও ফাটল সৃষ্টি করছে। আর যদি এরকম ভাবে হামলা চলতে থাকে, তাহলে গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

  • ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলেও এই দেশগুলির তেল শেষ হবে না! তালিকায় আছে ভারত?

    ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলেও এই দেশগুলির তেল শেষ হবে না! তালিকায় আছে ভারত?

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: থেমে থেমে অশান্ত হয়ে পড়ছে মধ্যপ্রাচ্য। আমেরিকা এবং ইজরায়েলের তরফে যে সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল তা বর্তমানে বহন করছে ইরান (Iran)। পরিস্থিতি কিছুটা বদলালেও ফের চরমে পৌঁছেছে উত্তেজনা। এদিকে ইরান এবং ইজরায়েল যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন গোটা বিশ্ব। বিশ্লেষক মহলের অনেকেই বলছেন, আপাতদৃষ্টিতে মনে হলেও এই যুদ্ধ এখনই থামবার নয়। এদিকে যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালীতে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইরান। পশ্চিম এশিয়ার এই দেশ স্পষ্ট বলেছে হরমুজ থেকে যদি কোনও দেশ তেল (Oil Reserves) নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। যদিও ভারতীয় বিদেশমন্ত্রীর পদক্ষেপে হরমুজ থেকে ছাড়া হয়েছে ভারতীয় জাহাজ। কিন্তু তাও উদ্বেগ বাড়ছে পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম নিয়ে।

    গোটা বিশ্বে বাড়ছে তেলের দাম!

    একাধিক আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের আবহে বিশ্বের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম 30 শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় অপরিশোধিত তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি 100 ডলারে পৌঁছেছে। তবে গোটা বিশ্বে তেলের দাম বাড়লেও ভারতে এখনও তেলের বাজার স্থিতিশীল। দাম বাড়েনি পেট্রোল এবং ডিজেলের। যদিও LPG র ঘাটতির কারণে রান্নার গ্যাসের দাম 60 টাকা বেড়েছে। দাম বেড়েছে পরিবহন জ্বালানি অর্থাৎ অটো গ্যাসের দামও। এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পেট্রোল এবং ডিজেল নিয়ে বিশেষ সমস্যায় পড়বে না কোন দেশগুলি?

    বলাই বাহুল্য, গোটা বিশ্বে জ্বালানি তেল মজুদের নিরিখে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে আমেরিকা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার প্রায় 700 মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদ করে রেখেছে। যা বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে নিরাপদ রাষ্ট্রায়ত্ত তেল মজুদ। এছাড়াও জ্বালানি তেল মজুদ করে রাখার নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চিন। ড্রাগনের কাছে এই মুহূর্তে প্রায় 400 থেকে 500 মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদ রয়েছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে জাপান। এই দেশের কাছে সরকারি এবং বেসরকারি মজুদ মিলিয়ে 440 মিলিয়ন ব্যারেল তেল রয়েছে।

    অবশ্যই পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে FIR দায়ের বিশ্ব হিন্দু পরিষদের!

    তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এই দেশটির কাছে রয়েছে 200 মিলিয়ন ব্যারেল তেল। পঞ্চম স্থানে নাম লিখিয়েছে জার্মানি। এই দেশের কাছে প্রায় 170 মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদ রয়েছে। 6 নম্বরে নাম রয়েছে ফ্রান্সের। তাদের কাছে রয়েছে 120 মিলিয়ন ব্যারেল তেল। এর পাশাপাশি 76 মিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছে ইতালি, 60 থেকে 70 মিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে অষ্টম স্থানে রয়েছে ব্রিটেন এবং নবম স্থানে জায়গা হয়েছে ভারতের। নয়া দিল্লির হাতে রয়েছে 5.33 মিলিয়ন মেট্রিক টন তেল। এছাড়াও শেষ অর্থাৎ দশম স্থানে রয়েছে স্পেন। এই দেশের কাছে 30 থেকে 50 মিলিয়ন ব্যারেল তেল আছে। অনেকেই মনে করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘ দীর্ঘায়িত হলেও এই দেশগুলির পেট্রোল শেষ হবে না সহজে!

  • মার্কিন তৈলবাহী জাহাজে ইরানের হামলা, মৃত্যু এক ভারতীয় নাবিকের

    মার্কিন তৈলবাহী জাহাজে ইরানের হামলা, মৃত্যু এক ভারতীয় নাবিকের

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের (Iran-Israel War) মধ্যে আবারো উত্তেজনা ছড়াল এক বড়সড় হামলার ঘটনা। ইরাকের উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে আত্মঘাতী নৌকা হামলা চালানো হয়েছে (US Tanker Attack)। আর এই ঘটনা একজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। সূত্রের খবর অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল মার্কিন মালিকানাধীন তেল ট্যাঙ্কার সাফেসি বিষ্ণু। ঘটনাটি ঘটেছে ইরাকে জলসীমার মধ্যেই খোর আল-জুবায়ের বন্দরের কাছে।

    কীভাবে ঘটল এই হামলা?

    সূত্রের খবর অনুযায়ী, দ্রুতগামী কয়েকটি নৌকা ওই তেল ট্যাঙ্কার সহ মোট তিনটি জাহাজকে তাড়া করেছিল। যার মধ্যে একটি আত্মঘাতী নৌকা সরাসরি বিষ্ণুকে দেখে ধাক্কা মারে আর বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের পর জাহাজের একটি বৃহৎ অংশে আগুন ধরে যায় এবং আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি একেবারে গুরুতর হয়ে ওঠে।

    ইরাকের বন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর উদ্ধারকারী দল দ্রুত অভিযান চালিয়েছে এবং জাহাজে থাকা ২৭ জন ক্রু সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে একজন নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। আর তিনি ভারতীয় নাগরিক বলেই খবর। উদ্ধার হওয়া ক্রুদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তার জন্য বসরা শহরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

    আরও পড়ুন: এখনও ঢোকেনি লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা? জানুন দেরির কারণ ও কবে আসবে অ্যাকাউন্টে

    বেশ কিছু বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার জেরে সমুদ্র পথে জ্বালানি পরিবহন এখন সবথেকে ঝুঁকির মুখে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে তেলবাহী জাহাজগুলির উপর হামলার আশঙ্কা বাড়ছে। আর এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে তেল এবং গ্যাসের উপর বিরাট চাপ পড়তে পারে। এমনকি ইরান ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। আর এতে বিশ্ব অর্থনীতির উপরেও বিরাট প্রভাব পড়বে তা আঁচ করতে পারছে ওয়াকিবহাল মহল।