Category: আন্তর্জাতিক

  • মেরেকেটে ৫ দিনের LPG, ৭ দিনের তেল বেঁচে! জ্বালানির দাম ২০০% বাড়াল পাকিস্তান

    মেরেকেটে ৫ দিনের LPG, ৭ দিনের তেল বেঁচে! জ্বালানির দাম ২০০% বাড়াল পাকিস্তান

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে একেবারে দেউলিয়া হওয়ার পথে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান (Pakistan Fuel Crisis)। একদিকে ইরান-ইজরায়েলের সংঘাতের (Iran-Israel War)  কারণে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ আটকে রয়েছে, অন্যদিকে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা পাকিস্তানের অর্থনীতি জ্বালানির অভাবে সম্পূর্ণরূপে ধুকছে। আর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য দেশের সরকার হাই অক্টেন তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রতি লিটারে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এক কথায় মধ্যবিত্তদের রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে সন্ত্রাসের দেশে।

    জ্বালানির বাজারে রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি

    প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্প্রতি এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী, বিলাসবহুল গাড়িতে ব্যবহৃত তেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এবার সরাসরি ৩০০ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি লিটারে ২০০ টাকা দাম বেড়েছে, যা শতাংশের হিসেবে প্রায় ২০০%। অন্যদিকে পেট্রোল-ডিজেলের দাম অনেকটাই ঊর্ধ্বগতিতে ঠেকেছে। এর আগেই সাধারণ পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৫৫ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা এখন দাঁড়িয়েছে ৩২১.১৭ টাকা প্রতি লিটার। আর ডিজেলের ৩৩৫.৮৬ টাকা প্রতি লিটার।

    এদিকে পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম সচিবের দেওয়া একটি তথ্য অনুযায়ী, দেশের জ্বালানি ভান্ডার এখন সম্পূর্ণ তলানিতে। যদি নতুন করে সরবরাহ না আসে, তাহলে পাকিস্তান বড়জোর আর হাতেগোনা কয়েকটা দিন চালাতে পারে। জানা যাচ্ছে, যে পরিমাণ এলপিজি মজুদ রয়েছে তা মাত্র ৫ দিনের মধ্যেই শেষ হবে। আর মজুদ অপরিশোধিত তেল আগামী ৭ দিন পর্যন্ত চলবে এবং জেট ফুয়েল অর্থাৎ বিমানের জ্বালানি ১০ দিনের জন্য মজুদ রয়েছে। আর পেট্রোল মজুদ রয়েছে ২০ থেকে ২২ দিনের মতো এবং ডিজেল মজুদ রয়েছে আনুমানিক ১৭ দিনের মতো। সেই কারণে জ্বালানি ফুরিয়ে আসার জেরে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা ব্ল্যাকআউটের আতঙ্কও দেখা যাচ্ছে।

    আরও পড়ুন: ভারতীয় রুপিতে ভারী পতন, সোমবার ডলারের বিপরীতে নতুন রেকর্ড গড়ল টাকা

    আকাশছোঁয়া বিমানের ভাড়া

    অন্যদিকে তেলের দাম বাড়ার কারণে সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিমান পরিষেবার উপরেও। গত ১০ মার্চ থেকে পাকিস্তানের ভিতরে ফ্লাইটের টিকিটের দাম ২৮০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আর আন্তর্জাতিক রুট বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য বা মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে যাওয়ার খরচ এবার ১০ হাজার টাকা থেকে ২৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয় করতে পাকিস্তান সরকার ইতিমধ্যে জরুরি অবস্থা জারি করেছে। অধিকাংশ সরকার এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আর ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা বাড়িতে থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি স্কুল, কলেজ বন্ধ করা হয়েছে। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, ঈদের ছুটির বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে রাস্তায় গাড়ি চলাচল কমিয়ে তেলের খরচ বাঁচানো যায়। এমনকি সম্প্রতি শুরু হতে চলা পাকিস্তান সুপার লিগে দর্শক ছাড়াই খেলা চলবে আর স্টেডিয়াম সংখ্যা কমানো হয়েছে।

  • দর্শক ছাড়াই হবে খেলা, স্টেডিয়াম মাত্র দুটো! তেল সংকটে বড় সিদ্ধান্ত PSL নিয়ে

    দর্শক ছাড়াই হবে খেলা, স্টেডিয়াম মাত্র দুটো! তেল সংকটে বড় সিদ্ধান্ত PSL নিয়ে

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় চলা যুদ্ধ পরিস্থিতির (Middle East War) আঁচ পড়ল এবার সন্ত্রাসের দেশ পাকিস্তানের ক্রিকেট মাঠে। হ্যাঁ, নিরাপত্তা আর জ্বালানি সংকটের কথা মাথায় রেখে পাকিস্তান সুপার লিগ ২০২৬ (Pakistan Super League) নিয়ে এবার একগুচ্ছ পরিবর্তনের ঘোষণা করল দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। রবিবার পিসিবির সভাপতি মহসিন নকভি সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছেন, আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হতে চলা এই টুর্নামেন্ট সম্পূর্ণ দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামেই হবে। এমনকি হবে না কোনও ওপেনিং সেরিমনি, আর স্টেডিয়ামের সংখ্যাও কমানো হচ্ছে।

    কেন নেওয়া হল এই সিদ্ধান্ত?

    আসলে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলা উত্তেজনার জেরে পাকিস্তান আর্থিক দিক থেকে দুর্দশার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। সরকারের পরামর্শ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো রিপোর্টের ভিত্তিতেই এবার পিসিবি কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। এ বিষয়ে নকভি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, পিএসএল আমাদের একটি আন্তর্জাতিক ব্যান্ড। বিশ্বের বহু নামিদামি ক্রিকেটার এখানে খেলছেন। তাই টুর্নামেন্ট বাতিল করা কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। কিন্তু হাজার হাজার মানুষের সমাগম এই মুহূর্তে বিরাট ঝুঁকি তৈরি করতে পারত। সেই কারণেই এবার একাধিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। পরিবর্তনগুলির মধ্যে রয়েছে—

    ১) পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্টেডিয়ামে কোনও দর্শক প্রবেশ করতে পারবে না। দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামেই খেলা হবে।

    ২) আগে ছয়টি শহরের ছয়টি স্টেডিয়ামে খেলা হওয়ার কথা থাকলেও এখন শুধুমাত্র করাচি এবং লাহোরের স্টেডিয়াম দুটিতে সমস্ত ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

    ৩) টুর্নামেন্টে জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। সাধারণভাবেই টুর্নামেন্ট শুরু করা হবে।

    ৪) যারা ইতিমধ্যেই খেলা দেখার জন্য টিকিট কেটেছেন, তাদের আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই টাকা ফেরত দেওয়া শুরু হবে।

    আরও পড়ুন: মোদীর কোলে তাঁর ‘খুদে বন্ধু’, কে এই শিশু? সামনে এল পরিচয়

    প্রসঙ্গত, স্টেডিয়ামে দর্শক না থাকার কারণে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আয়ের সবথেকে বড় অংশই লোকসান হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু পিসিবি আশ্বস্ত করেছে যে, ক্ষতির সম্পূর্ণ টাকা বোর্ড নিজেই বহন করবে। আর প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের নির্দেশে বর্তমানে পাকিস্তানের স্কুল বন্ধ করা হয়েছে এবং ওয়ার্ক ফ্রম হোম চলছে। সেই কারণে নাগরিকদের চলাচল সীমিত করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত। বলে রাখা ভালো, আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে পাকিস্তানের জনপ্রিয় এই ক্রিকেট লিগ, যা চলবে আগামী ৩ মে পর্যন্ত। আর এবার মোট আটটি দল অংশ নিচ্ছে, যেখানে মোট ৪৪টি ম্যাচ হবে এবং ৩ মে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

  • খোলা ছিল রেলগেট, যাত্রীবোঝাই বাসে ধাক্কা ট্রেনের! ঘটনাস্থলেই নিহত ১২

    খোলা ছিল রেলগেট, যাত্রীবোঝাই বাসে ধাক্কা ট্রেনের! ঘটনাস্থলেই নিহত ১২

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভয়াবহ দুর্ঘটনা (Train Bus Accident)। দ্রুত গতিতে ছুটে আসা মেল ট্রেন জোরালো ধাক্কা মারে যাত্রী বোঝাই একটি বাসে। আর তারপরই ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হল 12 জনের। শনিবার এমন ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী থাকলো বাংলাদেশ (Bangladesh)। বাংলাদেশের কুমিল্লায় রেললাইন ক্রসিংয়ের সময় আচমকা ওই বাসটিতে ধাক্কা মারে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি ট্রেন। আর তারপরেই প্রাণ হারালেন এক ডজন মানুষ। এছাড়াও আহত হয়েছেন 10 জনেরও বেশি যাত্রী।

    কীভাবে ঘটলো এত বড় দুর্ঘটনা?

    বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো সূত্রে খবর, গতকাল অর্থাৎ শনিবার স্থানীয় সময় রাত 2টো বেজে 55 মিনিট নাগাদ ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় সড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে উঠে পড়া যাত্রী বোঝাই একটি বাসে ঢাকাগামী একটি ট্রেন ধাক্কা মারার পরই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

    রবিবার সকালে কুমিল্লা জেলার প্রশাসনের তরফে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দুর্ঘটনার খবর সংবাদ মাধ্যমকে জানানো হয়। এদিকে ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখেছেন বাংলাদেশের মন্ত্রী মহম্মদ আমিন উর রশিদ। কী কারণে এমন দুর্ঘটনা এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, “খুব সম্ভবত রেলগেট খোলা ছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ড্রাইভার ট্রেন লাইনের উপর উঠে পড়েছিলেন। এদিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাওয়া মেল ট্রেনটি দ্রুত গতিতে ওই বাসে ধাক্কা মারে।”

    এই ঘটনার পর রেল ক্রসিংয়ের কর্তব্যরত গেটম্যানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ওই রেল ক্রসিংয়ের দুই গ্রেটম্যান হেলাল উদ্দিন এবং মেহেদী হাসানকে কাজ থেকে বরখাস্ত করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ওই দুই গেটম্যানের কাজে গাফিলতির কারণেই এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

    অবশ্যই পড়ুন: নথি কী কী লাগবে, মোবাইল সহ ভোটের একগুচ্ছ নিয়ম চালু করল নির্বাচন কমিশন

    প্রসঙ্গত, শনিবার মধ্যরাতের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারগুলিকে রেলের তরফ 1 লাখ বাংলাদেশি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের তরফে নিহতদের পরিবারকে 25 হাজার টাকা এবং আহতদের 15 হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। এছাড়াও কুমিল্লা প্রশাসন গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করার আশ্বাস দিয়েছে।

  • ‘আমেরিকা পাকিস্তানে হামলা করলে দিল্লি-মুম্বাই উড়িয়ে দেব!’ উদ্ভট দাবি প্রাক্তন পাক রাষ্ট্রদূতের

    ‘আমেরিকা পাকিস্তানে হামলা করলে দিল্লি-মুম্বাই উড়িয়ে দেব!’ উদ্ভট দাবি প্রাক্তন পাক রাষ্ট্রদূতের

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারত আর পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝেই এবার উদ্ভট মন্তব্য করে বসলেন ভারতে নিযুক্ত পাকিস্তানের প্রাক্তন হাই কমিশনার আব্দুল বাসিত (Abdul Basit)। এক ভাইরাল ভিডিওতে তাঁকে সরাসরি ভারতের দিল্লি এবং মুম্বাইয়ের মতো মেট্রো শহরগুলিতে সামরিক হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিতে দেখা গেল (Pakistan on India)। তাঁর দাবি, যদি কখনো আমেরিকা বা ইজরায়েল পাকিস্তানের উপর আক্রমণ করে, তাহলে বদলা নিতে ভারতকেই লক্ষ্যবস্তু করা উচিত।

    ভারতকে লক্ষ্যবস্তু পাকিস্তানের

    প্রসঙ্গত, ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দিল্লিতে পাকিস্তানের রাস্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন আবদুল বাসিত। তবে সম্প্রতি এক লাইভ অনুষ্ঠানে এই বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন তিনি। তাঁর মতে, আমেরিকা বা ইজরায়েলের মতো দূরবর্তী শত্রুদের সরাসরি আঘাত করার ক্ষমতা যদি না থাকে, তাহলে পাকিস্তানের উচিত তাদের কাছে থাকা ভারতকেই টার্গেট বা লক্ষ্যবস্তু বানানো। ভিডিওতে তাঁকে সরাসরি বলতে শোনা যায়, “আমাদের জন্য কোনও রুট ভালো হবে? ভারত।” তিনি আরও যোগ করেছেন, মূল আক্রমণকারীদের নাগাল না পেলেও ভারতের উপর হামলা করার পরিকল্পনা কখনো ত্যাগ করা উচিত নয়।

    এদিকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মতে, বাসিদের এই মন্তব্য কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়,  বরং এটি পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষিত অভিজাত শ্রেণি এবং সেনাশাসিত ব্যবস্থার জিহাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, একজন প্রাক্তন উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক নেতা যখন এরকম কথা বলেন তখন বুঝতে হবে যে, এটি পাক সামরিক চিন্তাধারারই অংশ। আর দিল্লি এবং মুম্বাইয়ের নাম সুনির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ করে বাসিদ আসলে ২৬/১১ এর মতো ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনার স্মৃতিকেই উস্কে দিতে চাইছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

    আরও পড়ুন: পবিত্র করকে প্রার্থী করে চমক দিয়েছিল তৃণমূল, এবার নন্দীগ্রামে আরও বড় কাণ্ড ঘটালেন শুভেন্দু!

    বেশ কিছু বিশ্লেষকদের মতে, বাসিদ কৌশলে ভারতকে পশ্চিমী দেশগুলির সামরিক পদক্ষেপের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এমনকি তিনি বোঝাতে চাইছেন যে, বিশ্বজুড়ে মুসলিম দেশগুলোর উপর কোনও আক্রমণ হলে পাকিস্তান তার শোধ ভারতের উপরেই তুলবে। এটি মূলত দক্ষিণ এশিয়ার শান্ত পরিস্থিতিকে আরও অশান্ত করার প্রচেষ্টা। এদিকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি বাসিদের এহেন মন্তব্যকে হুমকির অংশ হিসেবেই দেখছে। আর শিক্ষিত আর হাই প্রোফাইল ব্যক্তিত্বদের নিয়ে এই ধরনের উগ্র মন্তব্য যে সাধারণ মানুষকে ছায়াযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করানো হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

  • ঈদের নামাজ শেষে পাকিস্তানে কুপিয়ে খুন লস্কর কমান্ডারকে! কে এই বিলাল আরিফ সালাফি?

    ঈদের নামাজ শেষে পাকিস্তানে কুপিয়ে খুন লস্কর কমান্ডারকে! কে এই বিলাল আরিফ সালাফি?

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ঈদের নামাজের পরেই খতম লস্কর কমান্ডার! হ্যাঁ, লস্কর-ই-তৈবার (Lashkar-e-Taiba) খাসতালুক পাকিস্তানের মুরিদকেতে আবারও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড। শনিবার ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষ হওয়ার ঠিক পরেই অজ্ঞাত পরিচয়ের আততায়ীদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন লস্কর কমান্ডার বিলাল আরিফ সালাফি। জানা যাচ্ছে, প্রকাশ্য দিবালোকে এই হামলার ধরন দেখে অনেকেই একে গত বছরের অপারেশন সিঁদুরের সেই ধুরন্ধর স্টাইলের সঙ্গে তুলনা করছেন। কিন্তু কে ছিল এই বিলাল আরিফ সালাফি (Bilal Arif Salafi)?

    প্রকাশ্যে আততায়ীদের হাতে খুন লস্কর কমান্ডার

    News24 এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, ঘটনাটি ঘটেছে লস্কর-ই-তৈবার প্রধান সদর দফতর মারকাজ তৈবা চত্বরে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, ঈদের নামাজ শেষ করে সালাফি যখন বের হচ্ছিলেন, ঠিক তখনই তাঁর উপর অজ্ঞাত পরিচয়ের একদল বন্দুকধারী চড়াও হয়। প্রথমে তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয় এবং পরে মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য একাধিকবার ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। জনসমক্ষে নৃশংস এই হামলার জেরে গোটা এলাকায় যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর ঘটনাস্থলেই ওই লস্কর নেতার মৃত্যু হয়।

    কে এই বিলাল আরিফ সালাফি?

    নিরাপত্তা সংস্থাগুলির দেওয়া বেশ কিছু তথ্য অনুযায়ী, বিলাল আরিফ সালাফি লস্কর-ই-তৈবার রিক্রুটমেন্ট নেটওয়ার্কের প্রধান স্তম্ভ। তাঁর প্রধান কাজগুলির মধ্যে ছিল তরুণদের মগজ ধোলাই করে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করে তোলা, নতুন সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া আর তথাকথিত কাশ্মীর জিহাদের নামে উস্কানি দেওয়া। এমনকি মুরিদকে কেন্দ্র করে লস্করের জন্য নতুন বাহিনী তৈরি করার গুরুদায়িত্ব ছিল এই সালাফির উপরেই।

    আরও পড়ুন: পার্ক সার্কাস নয়, শিয়ালদা ডিভিশনের সবথেকে নোংরা স্টেশন কোনটি জানলে অবাক হবেন

    এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে, রক্তাক্ত অবস্থায় সালাফি মাটিতে পড়ে রয়েছেন। আর তাঁর পোশাক ছিঁড়ে গিয়েছে এবং চারপাশের মানুষদের ভিড় ও আতঙ্কের পরিবেশ। কিন্তু এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা হয়নি ইন্ডিয়া হুডের তরফ থেকে। যদিও লস্করের খাস মহলে ঢুকে এইভাবে একজন কমান্ডারকে খতম করার ঘটনাটি নিয়েও যে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অনেকেই একে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর চালানো ঐতিহাসিক অপারেশন সিঁদুরের ধুরন্ধর স্টাইলের সঙ্গেই তুলনা করছে। কারণ, অপারেশন সিঁদুরে ভারতের লক্ষ্য ছিল লস্করের এই প্রধান ঘাঁটি।

  • ভারতে তো ৯৩৯, পাকিস্তানে LPG-র দাম কত জানেন? শুনলে আঁতকে উঠবেন

    ভারতে তো ৯৩৯, পাকিস্তানে LPG-র দাম কত জানেন? শুনলে আঁতকে উঠবেন

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এমনিতেই দেশে জ্বালানি সংকট (LPG Crisis)। ভারতে ডোমেস্টিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ইতিমধ্যেই ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। আর বাণিজ্যিক সিলিন্ডার তো পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে। পাশাপাশি ডোমেস্টিক সিলিন্ডারেরও আকাল পড়েছে। সাধারণত ভারতের বেশিরভাগ শহরেই ৯১২ টাকা থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে মিলছে গৃহস্থলীর গ্যাস সিলিন্ডার। তবে এবার প্রশ্ন উঠছে, আর্থিক দুর্দশায় জড়িত সন্ত্রাসের দেশ পাকিস্তানে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম কত (Pakistan LPG Price)? সেখানকার মানুষকে ঠিক কীরকম অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে? জানুন।

    পাকিস্তানে গ্যাসের দাম কত?

    বেশ কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, পাকিস্তানে একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ভারতের থেকে অনেকটাই বেশি এবং তা প্রায়শই ওঠানামা করে। মার্চ মাসের রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি ১১.৮ কেজি গার্হস্থ্য সিলিন্ডার পড়ছে প্রায় ২৬৬৪.৮৮ পাকিস্তানি রুপি যা ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ৮৮৮ টাকা। তবে ভারতের বাজারে গৃহস্থলীর গ্যাস সিলিন্ডারের ওজন ১৪.২ কেজি। যেটি পাওয়া যাচ্ছে ৯১২ টাকা থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের গ্যাস সিলিন্ডার ভারতে আনুমানিক দাম ৮০০ টাকার মধ্যে। যদিও আগে সিলিন্ডারের দাম ছিল ২৬৬৭.৪০ পাকিস্তানি রুপি।

    কী কারণে পাকিস্তানে গ্যাসের দামের ঊর্ধ্বগতি?

    প্রসঙ্গত, সন্ত্রাসের দেশ পাকিস্তানে গ্যাসের দামের এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ কাজ করছে। প্রথমত, পাকিস্তান তার এলপিজি সরবরাহের সিংহভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে। সেই কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি পেলে দেশের বাজারেও দাম বাড়ে। আর যেহেতু এখন পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে গ্যাসবাহী জাহাজগুলি আসতে পারছে না, সেই কারণে সম্প্রতি আরও দাম বেড়েছে। দ্বিতীয়ত, গ্যাসের দামের সঙ্গে উৎপাদন খরচ, পরিবহন, বিপণন ব্যয় আর ১৮% জিএসটি যুক্ত হচ্ছে, যা দামকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

    আরও পড়ুন: জাহান্নামে যাবে! রেড রোডে ঈদের মঞ্চে মোদিকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা মমতার

    আর সবথেকে বড় ব্যাপার, পাকিস্তানি রুপি বর্তমানে মার্কিন ডলারের বিপরীতে অনেকটাই দুর্বল। আর ডলারের মূল্যবৃদ্ধি গ্যাসের দাম বাড়ায়। এক কথায়, আর্থিক দুর্দশায় জর্জরিত পাকিস্তানে প্রতিনিয়িত গ্যাসের দাম ব্যাপকভাবে ওঠানামা করে, যা সাধারণ মানুষের বাজেটের উপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে গ্যাসের ঊর্ধ্বগতি দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের উপর আরও চাপ সৃষ্টি করে। আর অনেকেই সেই কারণে কাঠ বা কয়লাতে রান্না করে থাকে। সবথেকে বড় ব্যাপার, পাকিস্তানে গ্যাসের জন্য কোনও রকম ভর্তুকিও মেলেনা সরকারের তরফ থেকে। সেই কারণেই আরও বাড়তি চাপ।

  • করা যাবে না ভিডিও কল, ফেসবুক! ইরান যুদ্ধে বন্ধ হতে পারে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট পরিষেবা

    করা যাবে না ভিডিও কল, ফেসবুক! ইরান যুদ্ধে বন্ধ হতে পারে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট পরিষেবা

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা গোটা বিশ্বজুড়ে তেল এবং গ্যাসের সংকটে পরিণত হয়েছে (Iran War)। দেশের প্রতিটি প্রান্তে রান্নার গ্যাস বা LPG র জন্য তৈরি হয়েছে হাহাকার! এদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েল বনাম ইরানের যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে পা দিতেই তা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এমতাবস্থায়, জ্বালানির পাশাপাশি এবার চিন্তা বাড়ছে, গোটা বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট পরিষেবা (Global Internet Crisis) নিয়েও। এর অন্যতম কারণ হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে গোটা বিশ্বে ইন্টারনেট পরিষেবা চালানোর জন্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কেবল নেটওয়ার্ক। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সেই কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ জেরে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে।

    বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়বে গোটা বিশ্ব?

    কমবেশি সকলেই জানেন, হরমুজ প্রণালী এবং লোহিত সাগরের নিচ থেকে গিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক কেবল। এগুলির মাধ্যমেই গোটা বিশ্বে অর্থাৎ ইউরোপ, এশিয়া এবং আফ্রিকার মধ্যে ইন্টারনেট সংযোগ পরিচালনা করা হয়। এই কেবলগুলির দৌলতেই করা যায় ভিডিও কল, ফেসবুক, ইমেল এমনকি ব্যাঙ্কিং লেনদেনও। রিপোর্ট বলছে, এই মুহূর্তে লোহিত সাগরের নিচে কম করে 17 বা তারও বেশি সাবমেরিন কেবল আছে। অন্যদিকে হরমুজে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেবল।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারস্য উপসাগরে এই মুহূর্তে সমুদ্র গর্ভস্থ কেবল গুলির মধ্যে রয়েছে FALCON, Gulf Bridge International Cable System, AAE 1 এবং TATA TGN Gulf। এই লাইনগুলি ভারতের বৈদেশিক ডেটা সংযোগকে সাহায্য করে থাকে। সবচেয়ে বড় কথা, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন এমনকি গুগলের মতো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলিও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে শুরু করে সৌদি আরবের মতো উপসাগরীয় দেশগুলিতে AI ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার জন্য প্রচুর পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে।

     

     

    View this post on Instagram

     

    অবশ্যই পড়ুন: “২০০০-৩০০০ রান করব!” IPL শুরুর আগেই গর্জন বৈভব সূর্যবংশীর

    বিশেষজ্ঞদের একটাই বক্তব্য, কোনও কারণে যুদ্ধের মধ্যে যদি হরমুজ এবং লোহিত সাগরের নিচে থাকা কেবলগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে গ্লোবাল কমিউনিকেশন ক্রাইসিস দেখা দেবে। তাছাড়াও এই বিশেষ জলপথে জোরালো হামলা হলে কিংবা বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটলে একবার যদি এই গুরুত্বপূর্ণ কেবলগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে তা মেরামত করা যথেষ্ট কষ্টসাধ্য হয়ে উঠবে। এর ফলে মাসের বড় মাস এইসব কেবল অচল হয়ে থাকতে পারে। তাতে বড়বড় বিপদের মুখে পড়বেন গোটা বিশ্ববাসী।

  • সন্ত্রাসী কার্যকলাপে শীর্ষে পাকিস্তান! ভারত, বাংলাদেশ কোথায়? প্রকাশ্যে রিপোর্ট

    সন্ত্রাসী কার্যকলাপে শীর্ষে পাকিস্তান! ভারত, বাংলাদেশ কোথায়? প্রকাশ্যে রিপোর্ট

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সন্ত্রাসের দেশের কথা উঠতেই প্রথমে কোন দেশটির কথা মাথায় আসে? নিশ্চয়ই পাকিস্তান (Pakistan)! হ্যাঁ, প্রতিবেশী পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি এই তকমাকে যেন আরও সত্যি করল। সম্প্রতি ‘ইনস্টিটিউট ফর ইকনোমিক অ্যান্ড পিস’ গ্লোবাল টেরোরিজম ইনডেক্স ২০২৬ (Global Terrorism Index 2026) এর রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। আর সেখানেই উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যাচ্ছে, সারা বিশ্বের মধ্যে সন্ত্রাসবাদের প্রভাবে সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে পাকিস্তান। কিন্তু সেই তালিকায় ভারত, বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়? জানুন।

    রেকর্ড ভাঙা সন্ত্রাসবাদ পাকিস্তানে

    প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক দশকের মধ্যে ২০২৫ সালটা ছিল পাকিস্তানের ইতিহাসের সবথেকে রক্তক্ষয়ী বছর। কারণ, পশ্চিম এশিয়ার বুরকিনা ফাসোকে পেছনে ফেলে পাকিস্তান এখন বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসবাদী দেশ। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালে পাকিস্তানে মোট ১০৪৫টি জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। আর সেক্ষেত্রে মোট ১১৩৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে। সবথেকে বড় ব্যাপার, ২০২০ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে পাকিস্তানের জঙ্গি তৎপরতা প্রায় ৬ গুণ বেড়েছে। আর এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করা হচ্ছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানকে। তাদের হামলা এক বছরে প্রায় ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি বালুচ লিবারেশন আর্মিও পাকিস্তানে যথেষ্ট সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বিস্তার করেছে, যা এই রেকর্ডকে আরও বাড়িয়েছে।

    তবে হ্যাঁ, পাকিস্তানের ঠিক বিপরীত চিত্র ভারতে। কারণ, ওই রিপোর্টে ভারতের অবস্থান বর্তমানে ১৩ নম্বরে এবং ভারতের স্কোর ৬.৪২৮। রিপোর্টে ভারতের ভূয়সী প্রশংসা করা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, ২০২৫ সালে ভারতে সন্ত্রাসবাদের ঘটনা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ তলানিতে ঠেকেছে। আর গত এক দশকে ভারতের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতটাই শক্তিশালী করা হয়েছে যে, বড়সড় কোনও নাশকতামূলক চক্র বিস্তার লাভ করতে পারেনি। এমনকি রিপোর্টে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলির সন্ত্রাস মোকাবিলার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে ২০২৫ সালে সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনা ১০০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আর নেপালে গত তিন বছরে কোনও রকম বড় জঙ্গি হামলার খবর পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি আফগানিস্তানের তালিবান ক্ষমতায় আসার পর সেখানে হামলার সংখ্যা অনেকটাই কমেছে। বিশ্ব র‍্যাকিং-এ আফগানিস্তান এখন ১১ নম্বরে।

    আরও পড়ুন: লিটারে ২ টাকা বাড়ল পেট্রোলের দাম! আজ থেকেই কার্যকর নয়া রেট

    তবে ওই রিপোর্টে সতর্ক করা হয়েছে যে, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের সীমান্তে যে চলমান সামরিক উত্তেজনা, তার জন্য বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারেন। আর সীমান্ত নিরাপত্তা এবং টিটিপির মতো সংগঠনের বিস্তার রোধ না করতে পারলে দক্ষিণ এশিয়ায় এই পরিস্থিতি আগামী দিনে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সেক্ষেত্রে পাকিস্তান আর আফগানিস্তানের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ আরও বাড়তে পারে বলেই অনুমান করা হচ্ছে।

  • কাতারের রাস লাফানে ইরানের হামলা, সম্পূর্ণ বন্ধ গ্যাস সরবরাহ! ফের LPG সঙ্কটে ভারত?

    কাতারের রাস লাফানে ইরানের হামলা, সম্পূর্ণ বন্ধ গ্যাস সরবরাহ! ফের LPG সঙ্কটে ভারত?

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আবারও এলপিজি নিয়ে খারাপ খবর (LPG Crisis)। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা (Middle East War) ফের নতুন রূপ ধারণ করল। ইরানের গ্যাস ফিল্ডে হামলা করল ইজরায়েল। পাল্টা কাতারের তরল প্রাকৃতিক গ্যাস কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে বদলা নিল তেহরান (Iran Attack on Qatar)। ভারতে এলএনজি গ্যাস মূলত কাতার থেকেই আসে। আর বিশ্বের সবথেকে বড় এলএনজি হাব ছিল কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি (Ras Laffan Industrial City)। সেখানেই মিসাইল ইরানের। তাহলে ফের এলপিজির সংকট?

    এলপিজি নিয়ে ফের উদ্বেগ

    জানিয়ে রাখি, হরমুজ প্রণালীর আশেপাশে এখনো পর্যন্ত ভারতের একটি এলএনজি ভর্তি জাহাজ আর ছয়টি এলপিজি জাহাজ আটকে রয়েছে। তবে সেগুলি ভারতে আসার পরেও দুর্ভোগ কমবে না। কারণ, বিশ্বের সবথেকে বড় এলএনজি হাবেই অ্যাটাক করেছে ইরান। একেবারে মিসাইল মেড়ে উড়িয়ে দিয়েছে রাস লাফান। এমনিতেই এতদিন ধরে এলএনজি প্রোডাকশন বন্ধ রেখেছিল কাতার। এবার পুরোপুরি তা ভেস্তে গেল। আগেই ঘোষণা দিয়েছিল ইরান। তেহরানের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, গালফ অঞ্চলের বিভিন্ন জ্বালানি পরিকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালানো হবে। সে মতোই রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে খামেনির দেশ।

    এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো, বর্তমানে কাতারে ১৯.২ কেজি এলএনজির দাম ৮৫০ টাকা। আর ওই একই এলএনজি আমেরিকায় ২২০০ টাকা। পাশাপাশি ১৪.২ কেজি এলপিজি গ্যাসের দাম কাতারে ৯১০ টাকা হলে আমেরিকা সেখানে নেয় ১২০০ টাকা। আর দিনের পর দিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রা একেবারে তলানিতে ঠেকছে। তাই আমদানি খরচ যে বাড়ছে তা বলার জো নেই। সবথেকে বড় ব্যাপার, প্রতি ইউনিট গ্যাস আনতে ভারতের এখন ১১০০ টাকা করে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। আর মোট হিসাব করলে গ্যাস আমদানিতে প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে নয়া দিল্লিকে।

    সেই সূত্রে গৃহস্থালীর এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১২০০ টাকা হওয়া উচিত। কিন্তু প্রতি সিলিন্ডারে ৩০০ টাকা করে লসে বিক্রি করছে ভারত সরকার। এমনকি বাকি আরও ৩০০ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। এমতাবস্থায় যদি সাপ্লাই চেইন ঠিক না থাকে এবং গ্যাসের উৎপাদন ভারত না বাড়াতে পারে, তাহলে যে আগামী দিনে আবারও তীব্র গ্যাস সংকটে পড়বে দেশ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনকি এই যুদ্ধ কতদিন চলবে তাও অনিশ্চিত। আর তার উপর পেট্রো কোম্পানিগুলি দিনের পর দিন ক্ষতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

    আরও পড়ুন: বর্ধমান লাইনে বিরাট কাজ করে ফেলল পূর্ব রেল, হাওড়া-দিল্লি রুট এখন আরও নিরাপদ

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা হুঁশিয়ারি

    এদিকে ইরান কাতারের গ্যাস ফিল্ডে হামলা করাতে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তেহরানকে সতর্ক করে ট্রাম্প বলেছেন, কাতারের জ্বালানি পরিকাঠামোতে হামলা করলে কঠোর পরিণতি হতে পারে। ইজরায়েল রাগের বশে সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডের ছোট্ট একটি অংশে হামলা চালিয়েছে। এই হামলার সঙ্গে আমেরিকার কোনও যোগ নেই। ইরান পরিস্থিতি না বুঝেই অন্যায় ভাবে কাতারের গ্যাস কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। যদি ইরান কাতারের উপর আবারও হামলা চালায়, তাহলে আমেরিকা ইজরায়েলের সহযোগিতা না পেলেও সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ড সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেবে।

  • তেল সঙ্কটের জের! পাকিস্তান দিবসে সামরিক কুচকাওয়াজ করবে না শেহবাজ সরকার

    তেল সঙ্কটের জের! পাকিস্তান দিবসে সামরিক কুচকাওয়াজ করবে না শেহবাজ সরকার

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তি ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এর জেরে জ্বালানি সংকটে ভুগছে বিশ্বের বহু দেশ। সেই তালিকায় একেবারে প্রথম দিকে নাম রয়েছে পাকিস্তানের (Pakistan)। ইরান যুদ্ধের কারণে রান্নার গ্যাস, তেলের সংকট দেখা দিয়েছে সে দেশে। ঠিক সেই পরিস্থিতিতে 23 মার্চ, পাকিস্তান দিবসের দিন সামরিক কুচকাওয়াজ (Pakistan Day Military Parade) কর্মসূচি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল শেহবাজ শরীফের সরকার। সেই মর্মেই বিবৃতি জারি করেছে ইসলামাবাদ।

    বিবৃতি জারি করে কী জানাল পাকিস্তান সরকার?

    প্রত্যেক বছর 23 মার্চ মুসলিম লিগের মুসলিমদের জন্য আলাদা দেশ গঠনের প্রস্তাবকে স্মরণ করে দিনটিকে পাকিস্তান দিবস হিসেবে পালন করা হয় পশ্চিমের দেশে। এই দিনই আয়োজন করা হয় সামরিক কুচকাওয়াজের। তবে এবছর সেই পরিস্থিতি নেই পাকিস্তানে। মঙ্গলবার বিবৃতি জারি করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের পরিস্থিতিতে খরচ কমানোর পথে হাঁটছে দেশ। তাই দেশের বিভিন্ন জায়গায় পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি চললেও সামরিক কুচকাওয়াজ আপাতত বন্ধ রাখা হচ্ছে।

    বলাই বাহুল্য, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত তীব্রতর হলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান। পরবর্তীতে তেহরানের তরফে জানানো হয় ইরানের অনুমতি ছাড়া এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের চেষ্টা করলে জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। আর এমন ঘটনার পরই হরমুজে আটকে যায় একের পর এক জাহাজ। সেই তালিকায় ছিল পাকিস্তানের জাহাজও। এর ফলে সে দেশে দেখা যায় জ্বালানির তীব্র সংকট। সে কারণেই কঠিন সময় জ্বালানি বাঁচাতে সামরিক কুচকাওয়াজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাক সরকার।

     

    অবশ্যই পড়ুন: জোয়ার আসবে বাণিজ্য থেকে পর্যটন শিল্পে! বাংলার নতুন রেলপথ নিয়ে বড় সুখবর

    উল্লেখ্য, তেল আমদানির জন্য পুরোপুরি পশ্চিম এশিয়ার উপর নির্ভরশীল পাকিস্তান। এখানকার দেশগুলি থেকেই তেল আমদানি করে থাকে ইসলামাবাদ। গত 15 মার্চ ইরানের অনুমতি পাওয়ার পরেই পাকিস্তানের একটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ পেরিয়ে এসেছে। বুধবারের মধ্যে ওই জাহাজটি করাচিতে পৌঁছে যাওয়ার কথা।