Category: ভারত

  • ‘তিন মাসের সামগ্রী …’ যুদ্ধের আবহে রেশন নিয়ে রাজ্যগুলোকে বড় নির্দেশ কেন্দ্রের

    ‘তিন মাসের সামগ্রী …’ যুদ্ধের আবহে রেশন নিয়ে রাজ্যগুলোকে বড় নির্দেশ কেন্দ্রের

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ যত সময় এগোচ্ছে ততই ইরান-ইজরায়েল (Iran Israel War)-এর সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। সেইসঙ্গে দফায় দফায় অশান্ত হয়ে উঠছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলি। কখন, কোথা থেকে হামলা হতে পারে কেউ বলতে পারে না। একপ্রকার ভয়ে রীতিমতো কাঁটা হয়ে আছেন বিশ্ববাসী। এদিকে সমগ্র ঘটনার ওপর নজর রাখছে ভারত। ভারত শান্তির পথেই আছে বলে জানানো হয়েছে। যদিও কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়ে এবার দেশের রাজ্যগুলিকে বিশেষ নির্দেশ দিল কেন্দ্রের মোদী সরকার। আর এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে রেশন (Rationing) সংক্রান্ত। চলুন বিশদে জেনে নেওয়া যাক।

    রাজ্যগুলিকে ৩ মাসের রেশন মজুদ করার নির্দেশ কেন্দ্রের

    জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন রাজ্যগুলিকে আগামী ৩ মাসের রেশন মজুদ করার নির্দেশ দিয়েছে। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। ইতিমধ্যে বহু বিশেষজ্ঞ বলতে শুরু করেছেন, এই সংঘাতের আঁচ ভারতে পড়তে পারে। দাম বাড়তে পারে জিনিসের। সংকট দেখা দিতে পারে গ্যাস, খাদ্য, তেল থেকে শুরু করে বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের। ফলে কোনওরকম রিস্ক না নিয়ে আগাম সতর্ক থাকছে কেন্দ্র বলে মনে করা হচ্ছে।

    ভারতে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা?

    এহেন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, দেশে কি তবে শীঘ্রই খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে? ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে জিনিসপত্র? সেই বিষয়ে এখনই কিছু পরিষ্কার জানা না গেলেও, সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রক দেশের সব ক’টি রাজ্যের খাদ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে আগামী তিন মাসের চাল-গম আগাম তুলে নিয়ে রেশন ডিলারদের কাছে পৌঁছে দিতে বলেছে। নিয়ম অনুযায়ী, এক মাসের চাল–গম আগাম তুলে রাখা। তবে এখন যেহেতু পরিস্থিতি অন্য, তাই এক মাসের জায়গায় তিন মাসের চাল–গম তুলে রাখার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

    আরও পড়ুনঃ মধ্যবিত্তদের মুখে হাসি, অনেকটাই দরপতন সোনা, রুপোর! আজকের রেট

    সূত্রের খবর, সরকার মনে করছে পরিবহণ জ্বালানির সঙ্কট তৈরি হলে রেশনের চাল–গম ডিলারদের কাছে পৌঁছে দিতে সমস্যা হবে। তাই গণ–বণ্টন ব্যবস্থা যাতে ঠিকঠাক থাকে, সাধারণ মানুষের কোনও সমস্যা না হয় সেটার জন্য আগে থেকেই তৈরি থাকছে সরকার বলে মনে কয়রা হচ্ছে। যদিও আগামী দিনে কী হয় এখন সেটাই দেখার।

  • ‘আমি ক্লান্ত, আর চালাতে পারব না’, শিলিগুড়িগামী ট্রেন স্টেশনে রেখে চলে গেলেন চালক

    ‘আমি ক্লান্ত, আর চালাতে পারব না’, শিলিগুড়িগামী ট্রেন স্টেশনে রেখে চলে গেলেন চালক

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন রেল কর্মীরা। বিশেষ করে লোকো পাইলটরা (Loco Pilot)। তাঁদের অভিযোগ, অমানুষিক খাটনি খাটছেন তাঁরা। ডিউটি আওয়ারের কোনও সময় নেই। এহেন ঘটনার প্রতিবাদেই এবার থাকতে না পেরে বিরাট কাণ্ড ঘটালেন এক লোকো পাইলট। গত বুধবারের ঘটনা। বিহারের ঠাকুরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে রেলের নিয়ম লঙ্ঘন এবং যাত্রীদের অসহায়ত্বের এক অনন্য ঘটনা সামনে এসেছে।

    ৯ ঘন্টা ডিউটির পর আর ট্রেন চালাতে অস্বীকার চালকের

    মালদা থেকে শিলিগুড়িগামী ট্রেন নম্বর ৭৫৭১৯ ডেমু ট্রেন দুপুর ২:৫২ মিনিটে শুরু হয়ে প্রায় তিন ঘন্টা ধরে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিল। কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি বা দুর্ঘটনা নয়, বরং ট্রেনের লোকো পাইলট তার দায়িত্ব শেষ করার পরেও কাজ করতে অস্বীকার জানান। তিনি ক্লান্ত, কাজ করতে পারবেন না বলে জানান। এহেন ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র।

    আরও পড়ুনঃ নিচে মেট্রো, মাঝখানে ট্রেন, উপরে ছুটবে বুলেট ট্রেন! ভারতে তৈরি হচ্ছে ১৬ তলার স্টেশন

    ট্রেনটি নির্ধারিত সময়সূচী অনুসারে মালদা ছেড়ে যায়, কিন্তু ঠাকুরগঞ্জে পৌঁছানোর পর, ড্রাইভার স্টেশন মাস্টারকে জানায় যে তার নয় ঘন্টার ডিউটি ​শেষ হয়েছে। রেলওয়ে নিরাপত্তা বিধিমালার উল্লেখ করে লোকো পাইলট বলেন যে নির্ধারিত সময়ের বেশি ট্রেন চালানো হলে অপারেশনাল নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এদিকে স্টেশন মাস্টার ও অন্যান্য রেল আধিকারিকরা বারবার তাঁকে ট্রেনটি গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। সাফ জানিয়ে দেন, ‘আমি ক্লান্ত, আর কিছুতেই যাবো না।’

    রেলের নিয়ম কী?

    এমনিতে রেলের নিয়ম অনুযায়ী, অপারেশনাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য, লোকো পাইলটদের সর্বোচ্চ ৯ থেকে ১০ ঘন্টা একটানা ডিউটির পর বিশ্রাম নেওয়ার বাধ্যতামূলক অধিকার রয়েছে, যাতে ক্লান্তির কারণে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। সেই নিয়ম উল্লেখ করেই ওই লোকো পাইলট আর ট্রেন এগিয়ে নিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানান। এদিকে দুপুর ২:৫২ থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ট্রেনটি আটকে থাকায় যাত্রীদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। ট্রেনটি ব্যবসায়ী, দিনমজুর এবং ছোট বাচ্চাদের পরিবার নিয়ে শিলিগুড়ি এবং কিষাণগঞ্জ যাচ্ছিল। ঘন্টার পর ঘন্টা স্টেশনে আটকে থাকার জন্য যাত্রীরা রেল প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন।

  • নিচে মেট্রো, মাঝখানে ট্রেন, উপরে ছুটবে বুলেট ট্রেন! ভারতে তৈরি হচ্ছে ১৬ তলার স্টেশন

    নিচে মেট্রো, মাঝখানে ট্রেন, উপরে ছুটবে বুলেট ট্রেন! ভারতে তৈরি হচ্ছে ১৬ তলার স্টেশন

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ রেল যাত্রীদের জন্য বিরাট খবর। দেশে এমন এক রেল স্টেশন তৈরি হচ্ছে যেখানে নিচে চলবে মেট্রো, মাঝে চলবে ট্রেন এবং ওপরে দৌড়াবে বুলেট ট্রেন। ১৬ তলার স্টেশন তৈরি হচ্ছে। শুনে চমকে গেলেন তো? কিন্তু এটাই দিনের আলোর মতো সত্যি। আজ কথা হচ্ছে গুজরাটের আহমেদাবাদ রেলওয়ে স্টেশনকে (Ahmedabad Bullet Train Station) নিয়ে। এটি ভারতের সবচেয়ে উঁচু, ১৬ তলা বিশিষ্ট মাল্টি-মডেল পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে পার্কিং, অফিস এবং বিমানবন্দর থেকে শুরু করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে। চলুন আরও বিশদে জেনে নেওয়া যাক।

    কতটা কাজ হয়েছে?

    আহমেদাবাদ রেলওয়ে স্টেশনটি প্রায় ২৪,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। লক্ষ্য হল স্টেশনটিকে একটি মাল্টি-মডেল পরিবহন কেন্দ্রে রূপান্তরিত করা। এটি হবে দেশের সর্বোচ্চ স্টেশন, সমস্ত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সজ্জিত এবং ৩৫ হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। রেল সূত্রে খবর, ৫৮ শতাংশ কাজ নাকি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

    বিশ্বের বৃহত্তম ১৬ তলা বিশিষ্ট স্টেশন

    এই বিষয়ে পশ্চিম রেলওয়ের ডিআরএম বেদ প্রকাশ বলেন যে আহমেদাবাদ স্টেশনটি বিশ্বের বৃহত্তম স্টেশন উন্নয়নের অংশ হিসেবে নির্মাণ কয়রা হচ্ছে। এটিতে ১৬ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫ তলা নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। দুটি ভূগর্ভস্থ তলা এবং দুটি উপরের তলার জন্য পিলারও তৈরি করা হয়েছে। স্টেশনে যাওয়ার জন্য উঁচু রাস্তাটিও সম্পূর্ণ।

    আরও পড়ুনঃ দক্ষিণবঙ্গের ৩ জেলায় ধেয়ে আসছে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি, কেমন থাকবে আজকের আবহাওয়া?

    ডিআরএম বলেন যে এখানে দুই থেকে তিন লক্ষ মানুষ সহজেই আসা-যাওয়া করতে পারবেন। এটি একটি সম্পূর্ণ মডেল হবে, যার অর্থ আপনি মেট্রো, বাস বা বুলেট ট্রেনে ভ্রমণ করুন না কেন, আপনি সংযুক্ত থাকবেন। বিভিন্ন স্থানে এসকেলেটর, সিঁড়ি এবং লিফট স্থাপন করা হবে, যাতে কারও অসুবিধা না হয়। বুলেট ট্রেনের উঁচু স্টেশনের নিচে তিনটি নতুন রেলওয়ে প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ করা হবে। রেলওয়ের অনুযায়ী স্টেশনকে কালুপুর এবং সরসপুর উভয় দিক থেকে আধুনিক রূপে রূপান্তরিত কয়রা হচ্ছে। এটি বিশ্বমানের মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাবে উন্নয়ন করা হচ্ছে। স্টেশনের দক্ষিণ দিকের নিচের অংশের ৫৮.২ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, উপরের অংশের ২৪.০ শতাংশ কাজ চলমান রয়েছে।

    কবে শেষ হবে কাজ?

    এখন সকলের প্রশ্ন, কাজ কবে শেষ হবে? স্টেশনটির সংস্কার কাজ ২০২৭ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্টেশনটি একবার তৈরি হয়ে গেলে নিত্য যাত্রীরা বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা উপভোগ করবেন এবং এই মাল্টি-মডেল পরিবহন কেন্দ্রটি রেল, মেট্রো, বাস এবং বুলেট ট্রেনের নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত থাকবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর নকশা এবং কাঠামো নিউ ইয়র্কের হাডসন হাই লাইন দ্বারা অনুপ্রাণিত। এই স্টেশনে ৩,০০০ গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা থাকবে। এছাড়াও, অফিস, হোটেল, বাগান এবং একটি আধুনিক মল তৈরি করা হবে। এই স্টেশনের সবথেকে বড় ইউএসপি হল, মাটির তলা দিয়ে মেট্রো, মাঝখান দিয়ে ট্রেন এবং সর্বোচ্চ স্তরে ছুটবে বুলেট ট্রেন।

  • বাড়াতে হবে পেনশন, বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক সিনিয়র সিটিজেনদের

    বাড়াতে হবে পেনশন, বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক সিনিয়র সিটিজেনদের

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পিএফ-এর আওতায় থাকা ইপিএস-৯৫ পেনশনভোগীদের ন্যূনতম পেনশন (Pension) বৃদ্ধিতে কেন্দ্র সরকারের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই অনড়। তার প্রতিবাদেই আন্দোলনের পথে নামছে প্রবীণ নাগরিকরা। দীর্ঘদিন ধরেই পেনশন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা। তবে তাতে কোনও রকম কাজ না হওয়ায় বিরাট পদক্ষেপের পথে হাঁটছে প্রবীণ নাগরিকরা। একাধিক কমিটি সুপারিশ করলেও এখনো পর্যন্ত কোনও রকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ।

    আসলে সম্প্রতি বাজেট অধিবেশন চলাকালীন সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রকের বক্তব্যে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আপাতত নূন্যতম পেনশন বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার কোনও রকম চিন্তাভাবনা করছে না। এর পরেই আন্দোলনের ঝাঁজ বাড়ানোর জন্য দিল্লিতে বৃহত্তর বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পেনশনভোগীদের সংগঠন।

    তিনদিনের সমাবেশ দিল্লিতে

    ইপিএস-৯৫ এর আওতায় পেনশনভোগীদের ভারতীয় সংগঠন ন্যাশনাল অ্যাগিটেশন কমিটি আগামী ৯ থেকে ১১ মাস দিল্লি যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেছে। সংগঠন দাবি করছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৫০ হাজার প্রবীণ নাগরিক এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এমনকি সংগঠনের রাজ্য শাখার সভাপতি তপন দত্ত জানিয়েছেন, দিল্লির কেন্দ্রীয় সমাবেশ সফল করতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলায় ছোট ছোট সভার আয়োজন করা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই, পেনশনভোগীদের সচেতনতা বাড়ানো।

    এ বিষয় তিনি বলেছেন, আমরা কেন্দ্রীয় শাসকদলের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংসদদের কাছেও আমাদের দাবি বহুবারই জানিয়েছি। আর পিএফ-র কেন্দ্রীয় অছি পরিষদের সদস্যদের কাছে স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রবীণ নাগরিকদের পক্ষে টানা তিনদিন দিল্লিতে অবস্থান করা শারীরিকভাবে কষ্টকর হলেও অনেকেই এই আন্দোলনে যোগ দিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন সংগঠনের উচ্চ পদস্থ নেতারা।

    আরও পড়ুন: DA মামলায় জোড়া চাপে পশ্চিমবঙ্গ সরকার

    প্রসঙ্গত, সংগঠনের সচিব অমিয়কুমার দাস বানিয়েছেন, তাদের মূল দাবি হল ন্যূনতম মাসিক পেনশন ৭৫০০ হাজার টাকা করতে হবে। আর তার সঙ্গে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ যুক্ত করতে হবে, এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য পৃথক স্বাস্থ্য সুবিধা প্রকল্প চালু করতে হবে। বর্তমানে ইপিএস-৯৫ প্রকল্পের আওতায় অত্যন্ত কম অংকের পেনশন পেয়ে থাকেন প্রবীণরা। আর এতে সংসার চালানোর কার্যত কঠিন বলে দাবি তাদের।

  • মাসে ১০ হাজার আয় করা রিকশাচালকের অ্যাকাউন্টে ৩০০ কোটির লেনদেন

    মাসে ১০ হাজার আয় করা রিকশাচালকের অ্যাকাউন্টে ৩০০ কোটির লেনদেন

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গুজরাটের আহমেদাবাদে (Ahmedabad) অবৈধ ক্রিকেট সাট্টা এবং শেয়ারবাজারে কারসাজিতে এবার ৫৫০ কোটি টাকার বিশাল জালচক্রের পর্দা ফাঁস হল। তদন্ত নেমে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে ইডি। ইতিমধ্যেই আহমেদাবাদ ক্রাইম ব্রাঞ্চে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। সবথেকে চমক দেওয়া বিষয়, মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা আয় করা একটি রিকশাচালকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নাকি ৩০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে!

    রিকশাচালকের অ্যাকাউন্ট কিনে প্রতারণা

    তদন্তে জানা যায়, দীপ ওড নামের ওই রিকশাচালক নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়া দিয়েছিলেন। আর অভিযুক্ত করণ পরমার ওরফে লালা নামের এক ব্যক্তি ওই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেই জাল চক্র চালাত। প্রতিটি চেকে সই করার জন্য দীপকে আবার ৪০০ টাকা করে দেওয়া হত। এমনকি তাঁর প্যান এবং আধার কার্ড ব্যবহার করেই দীপ এন্টারপ্রাইজেস নামের একটি বহু সংস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল।

    তদন্তে আরও জানা যায়, কমলেশ ট্রেডিং এবং রোনক ট্রেডার্স নামের আরও দুই সংস্থা তৈরি করা হয়েছিল, যেগুলির কোনও বাস্তবে ব্যবসা ছিল না। এমনকি ২০২৪ সালে খোলা তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ৫৫০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। অথচ ওই সংস্থাগুলির কোনও রকম প্রকৃত ব্যবসায়ীক কার্যকলাপ ছিল না বলেই খবর। আর ইডি এও দাবি করছে, এই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে অনলাইন ক্রিকেট সাট্টার টাকা ঘুরিয়ে লেনদেন করা হত।

    ওদিকে তদন্তে শেয়ার বাজারে সার্কুলার ট্রেডিং এর প্রমাণ মিলেছে। কৃত্রিমভাবে টার্নওভার বাড়িয়ে নির্দিষ্ট শেয়ারের দামগুলিকে অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হত। এমনকি একটি সংস্থার শেয়ারের দাম মাত্র ১২ মাসেই ১০,০০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। আর বিষয়টি সামনে আসার পরেই সেবি ওই শেয়ারের লেনদেন বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি ইডি-র তদন্তে উঠে এসেছে, বিভিন্ন সংস্থায় ৮০.৫০ কোটি, ৫২.১১ কোটি এবং ২২.৮৬ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়েছিল। এছাড়াও ই-গুরু নামের একটি প্ল্যাটফর্মে অনুদান এবং পেনি স্টকে বিনিয়োগের আড়ালে টাকার লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে।

    আরও পড়ুন: ২ লাখ দিয়েও মেলেনি পদ, পার্টি অফিসে TMC নেতাকে পেটালেন দলীয় কর্মী! ভাইরাল ভিডিও

    ইতিমধ্যেই এই ঘটনার কারণ কারণে পরমার ওরফে লালা মলালা সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আর আহমেদাবাদ ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে ইডি আনুষ্ঠানিকভাবে নালিশে জানিয়েছে। তবে তদন্তকারীরা মনে করছে, গরীব মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়েই ভুয়ো সংস্থা করে কোটি কোটি টাকা লেনদেন চালানো হচ্ছিল। আর এই চক্রের পিছনে আরও কেউ জড়িত রয়েছ কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত চালানো হচ্ছে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ যুদ্ধের মাঝে গোপনে মারণ ড্রোন ‘শেষনাগ 150’ তৈরি করছে ভারত!

    মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ যুদ্ধের মাঝে গোপনে মারণ ড্রোন ‘শেষনাগ 150’ তৈরি করছে ভারত!

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় মেতে উঠেছে কার্যত গোটা বিশ্ব। আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের সংঘাত যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তাতে স্বার্থ রক্ষার্থে এই ভয়াবহ সংঘাতে নেমে পড়তে পারে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলিও। ঠিক এমন আশঙ্কার মধ্যেই প্রতিরক্ষা খাতে বিশেষ নজর দিয়েছে ভারত। ভবিষ্যতে আধুনিক যুদ্ধে যাতে সেনাবাহিনীকে দ্বিতীয় চিন্তা করতে না হয় সেজন্যই গোপনে বিশেষ ড্রোন সিস্টেম (Sheshnag 150) তৈরি করছে নয়া দিল্লি। যা চোখের পলকে শত্রুকে পুড়িয়ে খাক করবে। হ্যাঁ, আকাশে ভারতের রক্ষাকবচ হবে এমন উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন মারণ ড্রোন সিস্টেম শেষনাগ 150 তৈরিতে কোমর বেঁধেছে ভারতীয় বিজ্ঞানীরা।

    শেষনাগ 150 এর ক্ষমতা সম্পর্কে জানুন

    মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতার মধ্যে নিজের আখের গোছাতে একটুও ভুল করছে না ভারত। ভারতীয় বিজ্ঞানীরা গোপনে যে শেষনাগ 150 নামক নতুন ড্রোন সিস্টেম তৈরি করছেন সেটি ভারতের আকাশে উড়ে শত্রুর গতিবিধির উপর নজরদারি চালাতে সক্ষম। বলাই বাহুল্য, পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী বহু পুরনো শক্তিশালী সাপ শেষনাগের বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি হচ্ছে এই বিশেষ ড্রোন সিস্টেমটি। তাই এর নামকরণও করা হয়েছে সেই শক্তিশালী সাপটির নামে। এক কথায়, শেষনাগের মতোই অপরাজেয় শক্তির প্রতীক হবে এই ড্রোন সিস্টেম।

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে যেসব যুদ্ধ হয়েছে তাতে বড় ভূমিকা ছিল ড্রোনের। শুধুমাত্র নজরদারি নয় বরং সরাসরি শত্রুর ঘাঁটিতে হামলা চালাতে সিদ্ধ অস্ত্র এই খুদে দস্যু। গত মে মাসে অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন তার প্রমাণ পেয়েছে ভারতও। তাছাড়াও ভবিষ্যতের আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের যে বিকল্প হবে না সে কথা ভাল ভাবেই বুঝেছে নয়া দিল্লি। তাই বর্তমান যুদ্ধ আবহে জোর কলমে চলছে শেষনাগের প্রস্তুতি।

     

    অবশ্যই পড়ুন: সেমিতে তৈরি হবে ইতিহাস, কপিল-হরভজনদের রেকর্ডে ভাগ বসাতে চলেছেন বুমরাহ

    না বললেই নয়, ভারতের হাতে তৈরি হতে যাওয়া নতুন শেষনাগ 150 ড্রোন সিস্টেমের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সেন্সর যুক্ত এবং এর সহনশীলতা। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই ড্রোন যেমন শত্রুদের উপর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি সেই তথ্য সেনাবাহিনীকে পাঠাতে পারবে তেমনই একসাথে 150 কেজি ওজন বহন করে শত্রুর ডেরায় হামলা চালাতে পারবে। সবচেয়ে বড় কথা, এই ড্রোন অধিক উচ্চতায় উড়তে পারার কারণে এটিকে বিভিন্ন দুর্গম অঞ্চল অর্থাৎ লাদাখ বা অরুনাচলের পাহাড়ি বা পার্বত্য এলাকায় কাজে লাগানো যেতে পারে।

    কমবেশি প্রায় সকলেই জানে, এই মুহূর্তে ইরান নিজেদের শক্তিশালী ড্রোন সিস্টেম ব্যবহার করে ইজরায়েল সহ আরব দেশগুলিতে থাকা আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলিতে জোরালো হামলা চালাচ্ছে। ফলে, সময়ের সাথে সাথে ড্রোন সিস্টেমের গুরুত্ব বাড়ছে লাফিয়ে। সেই সবটা বুঝেই আধুনিক যুদ্ধের জন্য নিজেদের পুরোপুরি তৈরি রাখতে চাইছে ভারতও। ভবিষ্যতে যাতে শত্রুর সামনে দুর্বল হয়ে না পড়তে হয়, সেজন্যেই আগে থেকে নিজেদের অস্ত্রাগারে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ভয়ানক সব ড্রোন সিস্টেম মোতায়েন করতে চায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

  • ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের মধ্যে শক্তি বাড়াচ্ছে ভারত, প্রতিরক্ষা খাতে ৫০৮৩ কোটির চুক্তি

    ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের মধ্যে শক্তি বাড়াচ্ছে ভারত, প্রতিরক্ষা খাতে ৫০৮৩ কোটির চুক্তি

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং ইজরায়েলের সংঘাত আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দিনের পর দিন বাড়াচ্ছে। আর ঠিক সেই সময় নিজেদের সামুদ্রিক এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য বিরাট পদক্ষেপ নিল ভারত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবার মোট ৫,০৮৩ কোটি টাকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে (Indian Defence Force)। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতার সময় সমুদ্রসীমা এবং কৌশলগত সার্থ রক্ষার জন্য এই চুক্তি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    কোস্ট গার্ডের জন্য আধুনিক হেলিকপ্টার

    জানিয়ে রাখি, প্রথম যে চুক্তিটি হয়েছে সেটি ২৯০১ কোটি টাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনেটিক্স লিমিটেডের সঙ্গে। জানা যাচ্ছে, এই চুক্তির আওতায় উপকূলরক্ষী বাহিনী মোট ছয়টি অ্যাডভান্সড ফ্লাইট হেলিকপ্টার লাইট হেলিকপ্টার (ALH) Mk-III মেরিটাইম রোল পাবে। এই হেলিকপ্টারের মূল বৈশিষ্ট্য হল এতে দুটি ইঞ্জিন রয়েছে এবং উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি স্থলভিত্তিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের সক্ষমতা রয়েছে। আর সমুদ্রে চলন্ত জাহাজ থেকেও অপারেশন পরিচালনার ক্ষমতা রয়েছে। এগুলোকে মূলত সমুদ্রসীমায় নজরদারি, সন্দেহজনক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, জেলেদের সুরক্ষা আর কৃত্রিম দ্বীপ বা সামুদ্রিক স্থাপনার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে।

    আরও পড়ুন: ইরানে আটকে থাকা পড়ুয়াদের নিরাপদে সরাল ভারত, ফিরতে চায় না কিছুজন

    নৌ-সেনার জন্য আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা

    অন্যদিকে দ্বিতীয় চুক্তিটি হয়েছে ২১৮২ কোটি টাকার, যেটি Surface-to-Air Vertical Launch Shtil ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের জন্যই। আর এই চুক্তিটি রাশিয়ার সরকারি প্রতিরক্ষা রফতানি সংস্থা JSC Rosoboronexport এর সঙ্গে হয়েছে। এই আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ভারতের নৌ বাহিনীর সামনে যুদ্ধ জাহাজগুলোকে আরও উন্নত করবে এবং আকাশপথে আসা হুমকি থেকে সুরক্ষা দেবে। অন্যদিকে এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলি হল, সমস্ত ধরনের আবহাওয়ায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেওয়া, শত্রু বিমান, ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবেলায় সক্ষমতা, নৌ বাহিনীর বহুতলীয় আকাশের ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তোলা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, এই যুক্তি ভারত এবং রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও দীর্ঘ করবে।

  • এক ধাক্কায় খরচ বাড়ল ৯০ হাজার কোটি, দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন নিয়ে দুঃসংবাদ!

    এক ধাক্কায় খরচ বাড়ল ৯০ হাজার কোটি, দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন নিয়ে দুঃসংবাদ!

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন (India’s First Bullet Train) নিয়ে অপেক্ষা বেড়েই চলেছে। কার্যত প্রতিবারই সম্ভাব্য দিনক্ষণ ঠিক করেও পিছিয়ে যেতে হচ্ছে রেলমন্ত্রককে। মুম্বই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে বিলম্ব এবং নির্মাণ কাজে দেরি হওয়ার কারণে লাফিয়ে বাড়ছে রেলের ব্যয়। একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ইতিমধ্যেই 83 শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় রাখা হয়েছিল প্রায় 1.08 লাখ কোটি টাকা। এবার তা বেড়ে হয়েছে 1.98 লাখ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক ধাক্কায় খরচ বেড়েছে, 90 হাজার কোটি টাকা। যা দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্প নিয়ে আদতেই দুঃসংবাদ! যদিও বুলেট ট্রেন প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি কমাতে বড় পদক্ষেপ নিতে পারে ভারতীয় রেল।

    অতিরিক্ত খরচ এড়াতে বড় পরিকল্পনা ভারতীয় রেলের!

    ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুম্বই থেকে আহমেদাবাদ রুটে দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ সহ অন্যান্য নির্মাণ কাজে অত্যাধিক দেরি হওয়ার কারণে বেড়েই চলেছে রেলের খরচ। এবার সেই অতিরিক্ত খরচ বৃদ্ধি এড়াতে নতুন কিছু পরিকল্পনা করছে রেলওয়ে। এ প্রসঙ্গে ভারতীয় রেলের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, রেলের ব্যয় বৃদ্ধি কমাতে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো অপারেশন এজেন্সি অথবা অন্য কোনও বহুাপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে না।

    সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় রেলের ওই কর্মকর্তা বলেন, “মুম্বই-আহমেদাবাদ হাই স্পিড রেল করিডোরের জন্য আর কোনও বাহ্যিক তহবিলের প্রয়োজন হবে না। জমি কিনতে দেরি হওয়ার কারণে আমাদের এই প্রকল্পের ব্যয় 83 শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু তাতে সমস্যা হবে না। রেল আগে থেকেই এই প্রকল্পে অতিরিক্ত বাজেট ধরে রেখেছিল। তাছাড়াও 2027 আর্থিক বছরের বাজেটে জাতীয় হাই স্পিড রেল কর্পোরেশনের জন্য 15 হাজার 500 কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। এ বছর এই অর্থ এই প্রকল্পে ব্যয়ের জন্য নেহাত কম নয়।”

    অবশ্যই পড়ুন: নির্বাচিত হলেন মুস্তাফিজুর রহমান, বড় সিদ্ধান্ত IPL মালিকদের!

    এও শোনা যাচ্ছে, দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অতিরিক্ত তহবিল চাইতে পারে ভারতীয় রেল। 2017 সাল থেকে এই প্রকল্পের জন্য 59 হাজার 396 কোটি টাকা মূল্যের ঋণ দিয়েছে জিআইসিএ। পরবর্তীতে এই অর্থ দিয়ে 508 কিলোমিটার রেল প্রকল্প নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ইতিমধ্যেই 8টি করিডোর স্টেশনে ফাউন্ডেশনের কাজ শেষ হয়েছে। এদিকে গত নভেম্বরেই কেন্দ্রের তরফে 2027 সালের মধ্যে বুলেট ট্রেন প্রকল্পের আওতায় 100 কিলোমিটার পর্যন্ত ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়।

    আরও পড়ুনঃ ৪০০০ কিমি লাইন, ১৬ লাখ কোটি খরচে দেশে ৭ হাইস্পিড রেল করিডর, তালিকায় বাংলাও

    আশা করা হচ্ছে, এমএএএইচএসআর ছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকার যে 4 হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত সাতটি নতুন বুলেট ট্রেন করিডোর ঘোষণা করেছে সেখানে প্রায় 16 লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হতে পারে। এই প্রস্তাবিত করিডোর গুলির মধ্যে রয়েছে মুম্বই থেকে পুনে, পুনে-হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ-বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ-চেন্নাই, চেন্নাই-বেঙ্গালুরু, দিল্লি-বারাণসী এমনকি বারাণসী-শিলিগুড়িও।

  • ৪০০০ কিমি লাইন, ১৬ লাখ কোটি খরচে দেশে ৭ হাইস্পিড রেল করিডর, তালিকায় বাংলাও

    ৪০০০ কিমি লাইন, ১৬ লাখ কোটি খরচে দেশে ৭ হাইস্পিড রেল করিডর, তালিকায় বাংলাও

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের রেলের নকশা একপ্রকার অনেকটাই বদলে যাবে। গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়ে ৭টি হাইস্পিড রেল করিডরের (High-Speed Rail Corridor) ঘোষণা করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। ইতিমধ্যে রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন যে যদি দ্রুত কাজ শুরু হয় তাহলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে এই ৭টি রেল করিডরের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। আগামী ২০৪০ সাল অবধি কাজ শেষ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট ৪০০০ কিমি রেলপথ তৈরি করা হবে নতুন।

    ৭টি হাইস্পিড রেল করিডর নিয়ে বিরাট তথ্য

    রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৭টি নতুন বুলেট ট্রেন করিডর, হাইস্পিড করিডর, যাত্রী করিডর অনুমোদন করেছেন। এগুলি প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার অবধি বিস্তৃত হবে। যেখানে বিনিয়োগ প্রায় ১৬ লাখ কোটি টাকা হবে। এটি একটি অত্যন্ত বড় বিনিয়োগ এবং আমাদের এটি পরবর্তী ১০ বছরে সম্পন্ন করতে হবে। যার অর্থ কাজ শুরু হলে, আমাদের প্রতি বছরে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার কমিশন করতে হবে, যা প্রতি বছরে সমগ্র মুম্বাই আহমদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্প কমিশনের সমান।’

    রেলমন্ত্রী আরও জানান, ‘আসন্ন বছরে আমাদের প্রতি স্তর ধরে ধরে কাজ করতে হবে এবং আমরা এগিয়ে গেলে, আরও ৩,০০০ উচ্চ-গতির করিডর অনুমোদনও দেব, যার অর্থ ২০৩৯ বা ২০৪০ সালের মধ্যে আমাদের প্রায় ৭,০০০ কিলোমিটার থাকবে এবং তারপর আমাদের ১৫,০০০ এবং তারপর ২১,০০০ কিলোমিটার উচ্চ-গতির রেল নেটওয়ার্কের দিকে এগোতে হবে।’

    আরও পড়ুনঃ ৮ মার্চ অবধি বহু ট্রেন বাতিল করল দক্ষিণ পূর্ব রেল, যাত্রার আগে দেখুন তালিকা

    কোন কোন রুটে কাজ হবে?

    ভারত ইতিমধ্যেই মুম্বাই – আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পে কাজ করছে। এখন, নতুন করিডোর এবং বন্দে ভারত স্লিপার এবং অমৃত ভারত ট্রেনের মাধ্যমে, রেলওয়ে যাত্রী পরিষেবাগুলিকে সম্পূর্ণরূপে রূপান্তর করতে চায়। ইতিমধ্যে যে যে ৭টি রুটে হাইস্পিড রেল প্রকল্পের কাজ করা হবে সেই জায়গাগুলির নাম সামনে এসেছে।

    • ১) মুম্বাই – পুনে
    • ২) পুনে-হায়দরাবাদ
    • ৩) হায়দরাবাদ-বেঙ্গালুরু
    • ৪) হায়দরাবাদ-চেন্নাই
    • ৫) চেন্নাই-বেঙ্গালুরু
    • ৬) দিল্লি-বারাণসী
    • ৭) বারাণসী-শিলিগুড়ি

    এখানে একটি তথ্য জানিয়ে রাখি, বুলেট ট্রেন এবং হাইস্পিড রেল করিডরের মধ্যে কিন্তু আকাশ পাতাল তফাৎ রয়েছে। যেমন বুলেট ট্রেন হচ্ছে ৩০০ কিমি/ঘন্টায় চলবে। এই কাজ চলছে যেমন মুম্বাই – আহমেদাবাদ রুটে। অপরদিকে উচ্চ-গতির রেল বা হাইস্পিড রেল করিডরের মানে হচ্ছে ট্রেনের গতি ২২০ – ২৫০ কিমি/ঘন্টা হবে।

  • খামেনির মৃত্যুর ৪ দিন পরও নীরব মোদি, নিন্দা করেনি ভারত! নেপথ্যে কী কারণ?

    খামেনির মৃত্যুর ৪ দিন পরও নীরব মোদি, নিন্দা করেনি ভারত! নেপথ্যে কী কারণ?

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ভয়ংকর যুদ্ধ যেন কিছুতেই থামতে চাইছে না। গতকালও নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে গত শনিবার, মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-র (Ayatollah Ali Khamenei Death) মৃত্যু হয়েছিল। যা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছিল, ভারতেও সেই ঘটনার ছায়া পড়েছে। বিরোধীরা সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতির দাবি করে চলেছে। কিন্তু এদিকে খামেনির মৃত্যুর ৪ দিন কেটে গেলেও এখনও নীরব মোদি সরকার। দেওয়া হয়নি কোনো বিবৃতি।

    খামেনির মৃত্যু নিয়ে নীরব মোদি

    গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন যে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। এমনকি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে যৌথ সংবাদিক বৈঠকেও তিনি জানিয়েছেন, “ভারত শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। ভারত সর্বদা এই ধরনের বিরোধের সমাধান খুঁজে বের করার জন্য সংলাপ এবং কূটনীতির আহ্বান জানিয়েছে।” অর্থাৎ মধ্য এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সংযম এবং উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু একবারের জন্যও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-র মৃত্যু নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। আর তাতেই অবাক সকলে। আসলে নয়াদিল্লি আগ বাড়িয়ে দুনিয়ার বৃহৎ শক্তিকে চটাতে চাইছে না বলেই মনে করছেন কূটনীতিবিদরা।

    চুপ উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলিও

    ইরান ইজরায়েলের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে এই মুহূর্তে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় আটকে রয়েছে, তাই তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে এখন বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছে ভারত সরকার। ইতিমধ্যেই এই বিষয়টি নিয়ে উপকূলীয় দেশগুলির রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। কারণ ইরান যে ভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের জনবহুল এলাকাগুলিতেও হামলা চালাচ্ছে, তাতে সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দেরও জীবন সংকটের মুখে পড়েছে। এদিকে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলিও বেশিরভাগই পশ্চিমী শক্তির পক্ষে, তাই আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-র মৃত্যু নিয়ে নীরব আছে। জাপান এবং জার্মানি স্থিতিশীলতা এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, কিন্তু কোনও শোক বিবৃতি দেয়নি।

    আরও পড়ুন: নির্বাচিত হলেন মুস্তাফিজুর রহমান, বড় সিদ্ধান্ত IPL মালিকদের!

    কেন্দ্রের তরফে কিছু না জানানো হলেও মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের আবহে ভারত একটি পক্ষকে যে সমর্থন করে সেই নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনও লিখেছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধি। যা নিয়ে দেশে বেশ শোরগোল পরে গিয়েছিল। এদিকে খানিক পিছনের দিকে গেলে দেখা যাবে ভারতের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে অনভিপ্রেত মন্তব্য করেছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি কখনও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপ, কখনও CAA আবার কখনও দিল্লির হিংসা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল, যা কেন্দ্রীয় সরকারের বিপক্ষে ছিল, আর সকলের ধারণা সেই কারণের জন্যই খামেনি-র মৃত্যু নিয়ে নীরব নরেন্দ্র মোদি। যদিও সবটাই অনুমান, এখনও এই নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে।