Category: ভারত

  • ট্রেনেই পৌঁছতে পারবেন কেদারনাথ, বদ্রিনাথ! শীঘ্রই চারধাম যাত্রীদের সুখবর দিতে পারে রেল

    ট্রেনেই পৌঁছতে পারবেন কেদারনাথ, বদ্রিনাথ! শীঘ্রই চারধাম যাত্রীদের সুখবর দিতে পারে রেল

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে চারধাম (Char Dham Rail Project) যাত্রা 2026 এর অনলাইন রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া। আগামী 17 এপ্রিল থেকে শুরু হবে অফলাইন রেজিস্ট্রেশনের কাজ। উত্তরাখণ্ড সরকারের তরফে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, চারধাম যাত্রায় অংশ নিতে হলে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। এদিকে কেদারনাথ, বদ্রিনাথ, গঙ্গোত্রী এবং যমুনেত্রী অর্থাৎ এই চারটি ধামে পৌঁছতে যাতে দর্শনার্থীদের সমস্যা না হয় সেজন্যই পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে তৈরি হচ্ছে রেলপথ। ভারতীয় রেলের (Indian Railways) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চারধাম যাত্রীদের কষ্ট লাঘব করতে দ্রুত গতিতে চলছে রেল প্রকল্পের কাজ।

    কতদূর রেল প্রকল্পের কাজ?

    রেলমন্ত্রকের তরফে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, চারধাম যাত্রায় অংশ নিতে যাওয়া পুণ্যার্থীদের ভীরকে সামাল দিতে পাহাড়ের দুর্গম পরিবেশে 327 কিলোমিটার দীর্ঘ রেল পথ তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছিল। জানা যায়, উত্তরাখণ্ডের দেরাদুন এবং কর্ণপ্রয়াগ হয়ে গঙ্গোত্রী, যমুনেত্রী, বদ্রিনাথ এবং কেদারনাথের মধ্যে থেকে চলবে ট্রেন। সেই মর্মেই জোর কদমে চলছিল কাজ। এরই মাঝে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড জানিয়েছে, ঋষিকেশ থেকে কর্ণপ্রয়াগ পর্যন্ত 125 কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথের কাজ একপ্রকার শেষ।

    আরও পড়ুনঃ ‘আরও এক দফায় লড়াই, এবার জিতবেন …’ DA মামলা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী

    এদিকে রেলের বিভিন্ন টানেলগুলির কাজও সম্পন্ন হয়েছে। রেল সূত্রে খবর, 38টি অত্যাধুনিক টানেলের মধ্যে ইতিমধ্যেই 28টি টানেলের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। ভারতের দীর্ঘতম রেল টানেল T8 এর কাজও শেষ হয়েছে ইতিমধ্যেই। রেল সূত্রে যা খবর, এই বিশেষ রেল প্রকল্পের মোট বাজেট 26 হাজার 841 কোটি টাকা। এরমধ্যে প্রায় 60 থেকে 76 শতাংশ অর্থ খরচ হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে কয়েকটি রেল ব্রিজ, কাটিং এবং স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে।

    রেল সূত্রে খবর, শ্রীনগর গরহওয়াল, গোচর এবং কালেশ্বরের এলাকাগুলিকে সংযোগকারী মোটর টানেলগুলির কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। বলাই বাহুল্য, ভারতীয় রেলের এই বিশেষ প্রকল্পের অধীনে ঋষিকেশ থেকে কর্ণপ্রয়াগ পর্যন্ত 125 কিলোমিটার দীর্ঘ রেল লাইনের 105 কিলোমিটার লাইন 16টি টানেলের মধ্যে দিয়ে যাবে। শোনা যাচ্ছে, এইসব টানেল ছাড়াও 12টি নিষ্কাশন টানেল ও কিছু ক্রস পাস প্যাসেজও তৈরি করা হচ্ছে।

    অবশ্যই পড়ুন: প্রতিমাসে অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ৭০০০ টাকা! মহিলাদের ক্ষমতায়নে বড় প্ল্যান LIC-র

    ভারতীয় রেলের কয়েকজন আধিকারিক জানিয়েছেন, সব ঠিক থাকলে খুব শীঘ্রই ঋষিকেশ থেকে কর্ণপ্রয়াগ লাইনে আংশিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়ে যেতে পারে। তবে গোটা অংশে ট্রেন চলাচল শুরু হতে 2027 এর ডিসেম্বর অথবা 2028 সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। রেল আধিকারিকদের দাবি, পাহাড়ের বুক চিরে তৈরি রেল প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়ে গেলে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে দিয়ে উঁচুতে অবস্থিত কেদারনাথ, বদ্রিনাথ মন্দিরগুলি অর্থাৎ চারধাম দর্শন অনেকটাই সহজ হবে তীর্থযাত্রীদের পক্ষে।

  • বিশ্বের কঠিনতম রেল প্রকল্প ভারতের! ২৭০ কিমি সুড়ঙ্গ খুঁড়ে চিন সীমান্তে যাবে ট্রেন

    বিশ্বের কঠিনতম রেল প্রকল্প ভারতের! ২৭০ কিমি সুড়ঙ্গ খুঁড়ে চিন সীমান্তে যাবে ট্রেন

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ যত সময় এগোচ্ছে ততই পরিধি বাড়ছে ভারতীয় রেলের (Indian Railways)। একটা সময়ে যেখানে কোনওদিন রেললাইন হবে সেটা ভাবা যায়নি, আজ সেখানে অবধি রেল লাইন বসছে এবং ট্রেন পরিষেবা শুরু হয়েছে। সে আইফেল টাওয়ারের চেয়েও উঁচু চেনাব ব্রিজের ওপর দিয়ে ট্রেন পরিষেবা হোক কিংবা পাহাড় কেটে সেবক-রংপো রেল প্রকল্প হোক, সবই করছে রেল। যাইহোক, এখন রেল আরও এক অসাধ্য সাধন করতে চলেছে বলে খবর। শোনা যাচ্ছে, ভারতীয় রেল শীঘ্রই হিমালয় পর্বতমালার মধ্য দিয়ে চীন সীমান্ত পর্যন্ত রেল যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্য নিয়েছে।

    এবার চিন সীমান্ত অবধি যাবে রেল

    রিপোর্ট অনুযায়ী, রেলওয়ে বোর্ড বিলাসপুর-মানালি-লেহ রেল লাইন প্রকল্পের (Bilaspur-Manali-Leh railway) বিস্তারিত প্রকল্প ডিপিআর প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে নাকি ইতিমধ্যেই জমা দিয়েছে। প্রায় ১.৩১ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই রেললাইনটি কেবল দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি নয়, বরং বিশ্বের সর্বোচ্চ উচ্চতার রেল নেটওয়ার্কও হবে বলে মনে কয়রা হচ্ছে। পুরো রেললাইনটি ৪৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে বলে খবর। সবথেকে বড় কথা, ট্রেন ছুটতে পারে দীর্ঘ ২৭০ কিমি দীর্ঘ টানেলের মধ্যে দিয়ে।

    আরও পড়ুনঃ পরশুরাম ছেড়ে বিগ বস বাংলায় তৃণা সাহা? জল্পনার মাঝেই মুখ খুললেন অভিনেত্রী

    এদিকে প্রস্তাবিত বিলাসপুর-মানালি-লেহ রেলপথের মোট দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৪৮৯ কিলোমিটার। এই পুরো রুটে প্রায় ৪০টি রেলস্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৫,০০০ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় অবস্থিত এই রেলপথটিকে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলপথ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। উত্তর রেলওয়ে এই প্রকল্পের জন্য চূড়ান্ত স্থান জরিপও সম্পন্ন করেছে।

    থাকবে ২৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেল

    এই রেল প্রকল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল এর ইঞ্জিনিয়ারিং কাঠামো। সমগ্র রেললাইনের প্রায় ৫৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২৭০ কিলোমিটার, টানেলের মধ্য দিয়ে যাবে। এই প্রকল্পে মোট ৬২টি টানেল এবং ১১৬টি বৃহৎ সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই টানেল এবং সেতুগুলি পাহাড়ি অঞ্চলের কঠিন ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জগুলি কাটিয়ে উঠবে। এই লাইনে চলাচলকারী ট্রেনগুলির সর্বোচ্চ গতিবেগ হবে ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার। একবার চালু হলে, দিল্লি থেকে লেহ ভ্রমণের সময় ৪০ ঘন্টা থেকে কমে প্রায় ২০ ঘন্টা হবে। এর ফলে লাদাখে পৌঁছানো আগের তুলনায় আরও অনেক সহজ এবং দ্রুত হবে।

    আরও পড়ুনঃ বদলে গেল ভোল, অমৃত ভারত প্রকল্পের আওতায় অত্যাধুনিক হল সিউড়ি থেকে হলদিয়া স্টেশন 

    এই প্রকল্পটি কেবল পর্যটন এবং সাধারণ ভ্রমণের জন্যই নয়, জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। বর্তমানে, ভারী তুষারপাত এবং প্রতিকূল আবহাওয়া প্রায়শই লাদাখের সাথে যোগাযোগ ব্যাহত হয়ে যায়। একবার এই প্রস্তাবিত রেলপথটি সম্পন্ন হলে, সারা বছর সেনা এবং প্রয়োজনীয় সরবরাহের চলাচল সম্ভব হবে। সীমান্তে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সক্ষমতা আরও জোরদার করবে। অর্থাৎ ভ্রমণ এবং সুরক্ষা দুইই থাকবে। এখন শুধু প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সবুজ সিগন্যালের অপেক্ষা।

  • খুঁজে খুঁজে শত্রুদের নিকেশ করবে সুসাইড ড্রোন KAL! আরেক ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ ভারতের

    খুঁজে খুঁজে শত্রুদের নিকেশ করবে সুসাইড ড্রোন KAL! আরেক ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ ভারতের

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বিশালাকার কামান বা বৃহৎ মিসাইল নয়, বরং খুদে ড্রোনই আজকের দিনে বদলে দিতে পারে আধুনিক যুদ্ধের রঙ (KAL Drone Project)। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে গোটা বিশ্বে যে যুদ্ধ যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে আধুনিক যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতি সারছে ভারত (Indian Defence)। তবে অন্য পরাশক্তির উপর নির্ভর করে নয় বরং সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক সব ড্রোন। তেমনই একটি দূরপাল্লার আত্মঘাতী ড্রোন তৈরি করছে ভারতীয় সংস্থা আইজি ডিফেন্স। এই ভারতীয় সংস্থাটি কাল প্রকল্পের আওতায় যেসব আত্মঘাতী ড্রোন তৈরি করছে তা নিমেষে শত্রুর ঘুম উড়িয়ে দিতে সক্ষম।

    কাল ড্রোন প্রকল্প সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

    প্রথমেই বলে রাখি, আইজি ডিফেন্সের হাত ধরে কাল ড্রোন প্রকল্পের আওতায় তৈরি হচ্ছে লং রেঞ্জ কামিকাজে ড্রোন। এই ড্রোন আসলে আত্মঘাতী। অর্থাৎ নিজের সাথে সাথে শত্রুকে নিয়ে শেষ হবে এটি। বলাই বাহুল্য, এই ড্রোন 1000 কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে সজোরে আঘাত হানতে সক্ষম। এটি আত্মঘাতী হওয়ায় শত্রুর উপর আঘাত হানার সাথে সাথে নিজেও ধ্বংস হয়ে যায়।

    কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় সংস্থা কাল ড্রোন প্রকল্পের আওতায় যে অস্ত্রগুলি তৈরি করা হচ্ছে সেই সব ড্রোন একবারে টানা 3 থেকে 5 ঘন্টা আকাশে উড়তে পারবে। শুধু তাই নয়, প্রয়োজন হলে ভারতীয় সেনাবাহিনী মাঝ আকাশে এই ড্রোনের গতিপথ পরিবর্তন করে দিতে পারবেন। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ড্রোন দিয়ে বিভিন্ন কারখানা, রাডার, ছোট মিসাইল প্ল্যান্ট, লজিস্টিক হাব এমনকি সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে জোরালো আক্রমণ করা যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ড্রোন একদিক থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জীবন বাঁচাবে। তার অন্যতম কারণ, এই ড্রোন থাকলে বিভিন্ন প্রতিকূল এবং বিপদজনক এলাকায় সশরীরে যেতে হবে না সেনা জাওয়ানদের। সেই কাজ করে দেবে এই ড্রোন।

    যদিও এই মুহূর্তে ভারতীয় সংস্থার কাল ড্রোন প্রকল্পটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সংস্থাটির তরফে এই ড্রোন প্রকল্পের প্রথম ঝলক প্রকাশ্যে এসেছে। তবে আগামী কিছু মাসের মধ্যে ধীরে ধীরে আইজি ডিফেন্স একের পর এক তথ্য সামনে আনবে। সবচেয়ে বড় কথা, এই ড্রোন প্রকল্পের মধ্যে দিয়ে ভারত সেইসব দেশের তালিকায় নাম লিখিয়ে ফেলেছে যারা ইতিমধ্যেই দূরপাল্লার সব ভয়ংকর ড্রোন তৈরি করে।

    অবশ্যই পড়ুন: সাবধান করেছিল সুপ্রিম কোর্ট, এবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে যা বলল SBI

    এই প্রকল্প নিয়ে অবশ্য আইজি ডিফেন্সের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল আরসি পাধি জানিয়েছেন, “পাইলটহীন ড্রোন ব্যবস্থা মুহূর্তের মধ্যে যুদ্ধের প্রকৃতি পরিবর্তন করে দিতে পারে। ইরান-ইজরায়েলে-আমেরিকার যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে ছোট্ট ড্রোন কতটা কার্যকর হয়ে উঠতে পারে। ভারতেও এই ধরনের ড্রোন তৈরি করা উচিত। প্রকল্প কালের হাত ধরে আমরা দেশীয় সক্ষমতা বাড়াচ্ছি। এই প্রকল্প স্বনির্ভর ভারতের স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”

  • বিমানের মতো সুবিধা, স্পিড ২০০ কিমি! তেজস এক্সপ্রেস থেকে কেমন আয় রেলের?

    বিমানের মতো সুবিধা, স্পিড ২০০ কিমি! তেজস এক্সপ্রেস থেকে কেমন আয় রেলের?

    সহেলি মিত্র, কলকাতা: যত সময় এগোচ্ছে ততই ভারতে হাইস্পিড ট্রেন, হাইস্পিড রেল করিডরের দাবি বাড়ছে। ইতিমধ্যেই দেশে বন্দে ভারত, শতাব্দী এক্সপ্রেস,গতিমান এক্সপ্রেসের মতো কিছু সেমি হাইস্পিড এবং প্রিমিয়াম ট্রেন চলছে। তবে, খুব কম লোকই জানেন যে গতির দিক থেকে দেশের দ্রুততম ট্রেন হল তেজস এক্সপ্রেস (Tejas Express)। ভারতের প্রথম কর্পোরেট-ধাঁচের যাত্রীবাহী ট্রেন হিসাবে বিবেচিত, এটি আইআরসিটিসি তরফে পরিচালিত হয়। এই ট্রেনে উঠলে একদম রয়্যাল অনুভূতি পাবেন। মনে হবে বিমানে উঠেছেন।

    ভারতের দ্রুতগামী ট্রেন হল এটি

    ২০১৯ সালে এটি নয়াদিল্লি-লখনউ রুটে চালু হয় তেজস এক্সপ্রেস। পরবর্তীতে ২০২০ সালে আহমেদাবাদ-মুম্বাই রুটে দ্বিতীয় পরিষেবা চালু করা হয়। ট্রেনটি প্রিমিয়াম বিভাগে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যাত্রীদের একদম বিমানের মতো অভিজ্ঞতা প্রদান করছে। প্রযুক্তিগতভাবে, তেজস এক্সপ্রেস ২০০ কিমি/ঘন্টা গতিতে পৌঁছাতে সক্ষম। তবে, বিদ্যমান ট্র্যাক সীমাবদ্ধতার কারণে, এটি কেবল ১৬০ কিমি/ঘন্টা পর্যন্ত চলতে পারে, অর্থাৎ বন্দে ভারতের সমান।

    সুযোগ-সুবিধা মিলবে একদম বিমানের মতো

    তেজস এক্সপ্রেসের বৈশিষ্ট্য কেবল এর গতি নয়, এর প্রিমিয়াম সুযোগ-সুবিধাও। যাত্রীরা ট্রেনে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পানীয় জল,  অনলাইন খাবার নির্বাচন, সংবাদপত্র, প্রতিটি আসনে LED স্ক্রিন, ওয়াই-ফাই এবং চার্জিং পয়েন্টের মতো সুযোগ-সুবিধা উপভোগ করেন। অটোমেটিক দরজা, বায়ো -ভ্যাকুয়াম টয়লেট এবং সিসিটিভি নজরদারি এই তেজস এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে আধুনিক করে তোলে। ট্রেনটি একটি ভ্রমণ বীমা প্ল্যানও অফার করে। ট্রেন দেরির ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ প্রদান করে।

    তেজস এক্সপ্রেসের আয়

    তেজস এক্সপ্রেস বেসরকারি অংশগ্রহণের একটি সফল মডেল হিসেবেও আবির্ভূত হয়েছে। রেলের রিপোর্ট অনুসারে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এটি প্রায় ৫০ কোটি টাকা আয় করেছে। দিল্লি-লখনউ রুটে আসন দখল ছিল ৬৯% এবং আহমেদাবাদ-মুম্বাই রুটে এটি ১০০% এরও বেশি, যা এর জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে।

    আরও পড়ুনঃ সাবধান করেছিল সুপ্রিম কোর্ট, এবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে যা বলল SBI

    আর কী কী হাইস্পিড ট্রেন রয়েছে?

    ভারতে অনেক ট্রেন উচ্চ গতির জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, কিন্তু ট্র্যাক এবং সিগন্যালিং সীমাবদ্ধতার কারণে, তারা নিয়মিতভাবে তাদের সর্বোচ্চ নকশা গতিতে চলে না। উদাহরণস্বরূপ, বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের এমনি গতি ১৮০ কিমি/ঘন্টা, যেখানে এর পরিচালনা গতি ১৬০ কিমি/ঘন্টা। গতিমান এক্সপ্রেসের এমনি এবং পরিচালনা গতি উভয়ই ১৬০ কিমি/ঘন্টা। রাজধানী এক্সপ্রেসের সর্বোচ্চ গতি ১৩০-১৪০ কিমি/ঘন্টা এবং পরিচালনা গতি প্রায় ১৩০ কিমি/ঘন্টা, যেখানে শতাব্দী এক্সপ্রেস ১৫০ কিমি/ঘন্টা এবং পরিচালনা গতি ১৩০-১৫০ কিমি/ঘন্টা। অর্থাৎ ইচ্ছা থাকলেও জোরে চালানোর অনুমতি নেই ট্রেনগুলির।

  • ভারতের প্রথম প্রাইভেট অরবিটাল রকেট বিক্রম-১ কে মহাকাশে পাঠাচ্ছে Skyroot

    ভারতের প্রথম প্রাইভেট অরবিটাল রকেট বিক্রম-১ কে মহাকাশে পাঠাচ্ছে Skyroot

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পে এবার নতুন অধ্যায়। হায়দ্রাবাদ ভিত্তিক মহাকাশ স্টার্টআপ Skyroot Aerospace তাদের তৈরি বিক্রম-১ রকেট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর এটি সফল হলে এটিই হবে ভারতের প্রথম বেসরকারি সংস্থার তৈরি অরবিটাল রকেট (Orbital Rocket)। হ্যাঁ, এই মিশনকে দেশের বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতের জন্য বিরাট মাইলফলক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী এবং দ্রুত পরিষেবা দিতে পারবে এটি, এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

    কীভাবে পথ চলা শুরু হয় সংস্থার?

    বেশ কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী খবর, ২০১৮ সালে প্রাক্তন ইসরোর দুই প্রকৌশলী পবন কুমার চন্দনা এবং নাগা ভরত ডাকা মিলে প্রতিষ্ঠা করেন Skyroot Aerospace। শুরুতে এই সংস্থাটির লক্ষ্য ছিল ছোট স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য বিশেষভাবে বিভিন্ন রকম রকেট তৈরি করা। আর এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান ক্ষুদ্র স্যাটেলাইট বাজারে নিজেদের জায়গা করে নিতে চাইছিল তারা।

    তবে বিক্রম-১ রকেটটি প্রায় ৭৫ ফুট উঁচু এবং এটি প্রায় ৩০০ কেজি পর্যন্ত ওজনের স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠাতে পারে বলেই জানা যাচ্ছে। এমনকি এটি বিক্রম সিরিজের প্রথম অরবিট্যাল লঞ্চ ভেইকেল। এদিকে রকেটটি নামকরণ করা হয়েছে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জনক বিক্রম সারাভাইয়ের নাম অনুসারেই। আর রকেটটির তিনটি প্রধান ধাপ রয়েছে। সেগুলি হল Kalam-1200, Kalam-250 এবং Kalam-125। এই ধাপগুলিতে শক্ত জ্বালানি ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি কক্ষপথে স্যাটেলাইট স্থাপন করার জন্য একটি বিশেষ মডিউলার রয়েছে। আর সেখানে ৩-ডি প্রিন্টেড তরল ইঞ্জিন Raman-2 ব্যবহার করা হয়েছে।

    কোথা থেকে হচ্ছে উৎক্ষেপণ?

    জানিয়ে রাখি, এই রকেটের বিভিন্ন অংশ বর্তমানে হায়দ্রাবাদের ম্যাক্সকিউ সদর দফতরে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আর পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম উৎক্ষেপণ হতে পারে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রী হরিকোটায় অবস্থিত স্পেস সেন্টার থেকেই। বিশ্বজুড়ে ছোট স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের চাহিদা এমনিতেই দিনের পর দিন বাড়ছে। আর সেই বাজারেই এবার নিজেদের জায়গা পাকাপোক্ত করতে চলেছে স্কাইরুট অ্যারোস্পেস। এমনকি সংস্থার পরিকল্পনা, নির্দিষ্ট স্যাটেলাইটের জন্য আলাদা লঞ্চ পরিষেবা দেওয়া। অর্থাৎ, একাধিক স্যাটেলাইট একসঙ্গে পাঠানোর বদলে এবার নির্দিষ্ট গ্রাহকের জন্যই কাস্টমাইজ ভাবে উৎক্ষেপণ করতে চলেছে তারা।

    আরও পড়ুন: লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মত মহিলাদের প্রকল্পেই কি বেড়েছে মহিলা ভোট? রিপোর্টে বড় দাবি SBI-র

    এদিকে রকেট তৈরিতে উন্নত কার্বন ফাইবার কাঠামো এবং আধুনিক ৩-ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে সংস্থাটি, এমনটাই খবর। আর এতে খরচ কমানো এবং উৎপাদন গতি বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি হায়দ্রাবাদে তৈরি করা হয়েছে সংস্থাটির ইনফিনিটি ক্যাম্পাস, যেখানে ভবিষ্যতে প্রতি মাসে একটি করে বিক্রম শ্রেণীর রকেট তৈরি করার লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় একাধিক মহাকাশ সংস্থার সঙ্গে চুক্তি রয়েছে তাদের।

  • বাচ্চার ভুলে মুসলিম মহিলার গায়ে লাগে রং! ক্ষোভে দিল্লির উত্তম নগরে পিটিয়ে খুন হিন্দু যুবককে

    বাচ্চার ভুলে মুসলিম মহিলার গায়ে লাগে রং! ক্ষোভে দিল্লির উত্তম নগরে পিটিয়ে খুন হিন্দু যুবককে

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দিল্লির (Delhi) উত্তমনগর এলাকায় হোলির (Holi Festival) দিন শুরু হওয়া সামান্য বিবাদ শেষ পর্যন্ত তরুণ কুমার নামের (Tarun Kumar) এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় পরিণত হয়। ২৬ বছর বয়সী তরুণ কুমারের হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে ওই এলাকায় এখনও পর্যন্ত উত্তেজনা বজায় রয়েছে। তদন্ত নেমে পুলিশ ইতিমধ্যে ৮ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে এবং এক নাবালককেও আটক করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার দিল্লির উত্তমনগর এলাকার জেজে কলোনিতে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠে, একটি হোলির বেলুন ঘিরে শুরু হয় বচসা। আর তা ধীরে ধীরে মারাত্মক সংঘর্ষে রূপ নেয়।

    কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত হয়?

    স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী খবর, এক হিন্দু পরিবারের ১১ বছর বয়সী একটি মেয়ে বাড়ির ছাদ থেকে হোলি খেলছিল। আর সেই সময় ছোড়া একটি জল ভর্তি বেলুন নীচ দিয়ে যাওয়া এক মুসলিম মহিলার গায়ে লাগে। মেয়েটির পরিবারের দাবি, সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা ক্ষমা চেয়েছিল। তবে এরপরও দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক বিতর্ক শুরু হয় এবং তা খুব দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়। অভিযোগ ওঠে, এরপর কয়েকজন মিলে ২৬ বছর বয়সী ওই তরুণ কুমারকে ঘিরে ধরে ক্রিকেট ব্যাট, লাঠি এবং পাথর দিয়েই মারধর শুরু করে। গুরুতর জখম অবস্থায় এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে বৃহস্পতিবার সকালেই তাঁর মৃত্যু হয়।

    এদিকে তাঁর মৃত্যুর পর শুক্রবার থেকে ওই এলাকায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এক হিন্দু রাজনৈতিক সংগঠনের সমর্থকেরাও বিক্ষোভে নামে। এমনকি বিক্ষোভের সময় একটি গাড়ি এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন লাগানোর অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি কয়েকটি গাড়ির কাঁচও ভাঙচুর করা হয়। উত্তমনগর মেট্রো স্টেশন, স্থানীয় থানা এবং কলোনি সংলগ্ন এলাকায় টানা দুই দিন ধরে বিক্ষোভ চলতে থাকে। আর বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করে এলাকার যানবাহনও বন্ধ করে দেয়। উত্তেজনার জেরে অনেক দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সেখানে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

    আরও পড়ুন: ভূমিহীন ক্ষেতমজুরদের অ্যাকাউন্টে কবে ঢুকবে টাকা? দিন ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    বুলডোজার অভিযানের দাবি ওই পরিবারের

    তরুণের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি তোলা হয়েছে। তরুণের কাকা রমেশ যিনি নিজেই এই ঘটনায় আহত হয়ে তাঁর আটটি সেলাই পড়েছে, তিনি জানিয়েছেন যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বুলডোজার অভিযান চালানো উচিত। এমনকি পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের এর আগেও একাধিকবার বিবাদ হয়েছে এবং হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে যে, দুই পরিবারই রাজস্থানের বাসিন্দা। আর বহু বছর ধরেই একে অপরকে চেনেন। পুলিশের দাবি, এই ঘটনা সম্পূর্ণ সম্প্রদায়িক নয়, বরং দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনা ফেলা, জল ব্যবহার বা পার্কিং নিয়ে বিবাদ চলছিল। সেখান থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

  • সাবধান করেছিল সুপ্রিম কোর্ট, এবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে যা বলল SBI

    সাবধান করেছিল সুপ্রিম কোর্ট, এবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে যা বলল SBI

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এইমুহুর্তে সাধারণ নাগরিকদের কাছে রাজ্যের সবথেকে জনপ্রিয় প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি হল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প (Lakshmir Bhandar)। এই প্রকল্প মূলত মহিলাদের জন্য নিতে এসেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তবে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, নির্বাচনে ভোটারদের আকৃষ্ট করার জন্য একাধিক রাজ্য একের পর এক প্রকল্প নিয়ে এসেছে জনসাধারণের জন্য। কিন্তু এই প্রকল্পগুলিতে রাজনৈতিক লাভ হলেও সরকারের কোষাগারে বিপুল চাপ পড়ে, আর এবার তাই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের ব্যয়ের সীমা সীমাবদ্ধ করার সুপারিশ দিল স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (State Bank Of India)। মহিলা ভোটার নিয়েও দিল বড় আপডেট।

    জনসংযোগ বাড়াতে প্রকল্প নীতি

    নির্বাচন আসলেই রাজনীতিবিদরা সাধারণ জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য একের পর এক জনদরদী প্রকল্প নিয়ে আসে। আর এই সব প্রকল্পে বরাদ্দ করা হয় কয়েক কোটি টাকা। উপভোক্তাদের সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নগদ অর্থ পাঠানো হয়, তাতে সরকারের কোষাগারে বেশ চাপ পড়ে। এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সমালোচনা করে শীর্ষ আদালত বলেছিল যে জনগণকে বিনামূল্যে প্রকল্পের মাধ্যমে নগদ দেওয়ার পরিবর্তে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা উচিত যাতে তারা তাদের মর্যাদা এবং আত্মসম্মান অর্জন করতে পারে। কিন্তু তবুও বন্ধ হয়নি প্রকল্প। তাই এবার বিনামূল্যের এই সব সুবিধা এবং নগদ অর্থের মতো প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের ব্যয়ের সীমা GSDP-র একটি শতাংশে সীমাবদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে সরকারের প্রয়োজনীয় এবং কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি প্রভাবিত না হয়।

    কী বলছে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া?

    সম্প্রতি স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ এসেছে। যেখানে বলা হয়েছে, “বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি পৃথক রাজ্যগুলির জন্য GSDP-র ০.১ থেকে ২.৭ শতাংশ, যা রাজ্যগুলির নিজস্ব মোট রাজস্ব সংগ্রহের প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ। তবে এইমুহুর্তে এই খাতে ব্যয়ের জন্য মোট রাজস্বের এক শতাংশের সীমা নির্ধারণ করতে হবে।” এছাড়াও SBI এর রিপোর্ট অনুযায়ী, যে সব রাজ্যে মহিলাকেন্দ্রিক প্রকল্প রয়েছে, সেখানে মহিলারা ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন। অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড, বিহারের মতো রাজ্য এই তালিকায় রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে SBI জানিয়েছে, ২০২১ সালে বাংলার বিধানসভা ভোটে অতিরিক্ত ২৯ লক্ষ ১০ হাজার মহিলা বুথমুখী হয়েছেন। যার নেপথ্য রয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প।

    আরও পড়ুন: আহমেদাবাদে মেগা ফাইনাল ভারত-নিউজিল্যান্ডের, মাঠে থাকবেন নরেন্দ্র মোদী?

    প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে বেশ প্রশংসা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। যেখানে বলা হয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতে প্রকল্পের জন্য পশ্চিমবঙ্গে ভোগ্যপণ্যের বিক্রি বেড়েছে। কিছুদিন আগেই অন্তর্বতী বাজেট পেশ করেছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সেখানেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকার অঙ্ক বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে এই প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মহিলারা মাসে ১৫০০ টাকা ও পিছিয়ে পড়া মহিলাদের মাসে ১৭০০ টাকা করে দেওয়া হয়।

  • বাংলা ও বিহার হচ্ছে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল? স্পষ্ট জানিয়ে দিল সরকার

    বাংলা ও বিহার হচ্ছে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল? স্পষ্ট জানিয়ে দিল সরকার

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সামনেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তবে তার আগে পশ্চিমবঙ্গকে (West Bengal) ঘিরে নতুন করে বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হচ্ছিল যে, পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি সংলগ্ন বেশ কিছু এলাকা এবং বিহারের কয়েকটি জেলা নিয়ে নাকি নতুন একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (Union Territory) গঠনের পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র সরকার। কিন্তু সেই জল্পনার ইতি টানল কেন্দ্র। হ্যাঁ, দেশের তথ্য যাচাই সংস্থা জানিয়ে দিল, কোনও পরিকল্পনা বা প্রস্তাব সরকারের কাছে নেই। আর এই দাবি সম্পূর্ণ ভুয়ো আর বিভ্রান্তিকর।

    কী দাবি উঠেছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়?

    আসলে সাম্প্রতিক সময় বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করা হচ্ছিল যে, বিহারের পূর্ণিয়া, আরারিয়া, কিষাণগঞ্জ, কাটিহারসহ কয়েকটি জেলা এবং পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি বেশ কিছু এলাকা নিয়ে একটি নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠিত হবে। এমনকি কিছু পোস্টে বলা হচ্ছিল, সীমান্ত এলাকায় জনসংখ্যা পরিবর্তন আর অনুপ্রবেশের কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। আর এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনাও লক্ষ্য করা যায়।

    তবে এই জল্পনার মধ্যেই পিআইবি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতি জারি করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কেন্দ্র সরকার এরকম কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কোনও রকম তথ্য প্রকাশের আগে অবশ্যই সরকারি সূত্র থেকে তা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    রাজ্যপাল বদল নিয়ে জল্পনা

    বলাবাহুল্য, সম্প্রতি একাধিক রাজ্যের রাজ্যপাল বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সিভি আনন্দ বোস, এবং তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আরএন রবিকে। একইসঙ্গে বিহারের রাজ্যপাল পদ থেকেও আরিফ মহম্মদ খানকে সরানো হয়েছে। অন্যদিকে আমেরিকায় ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত তরনজিৎ সিংহ সাঁধুকে দিল্লির নতুন রাজ্যপাল হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও তেলেঙ্গানা থেকে শুরু করে মহারাষ্ট্র, নাগাল্যান্ড এবং হিমাচল প্রদেশ সহ একাধিক রাজ্যের রাজ্যপাল বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবং লাদাখেও নতুন লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিয়োগ করা হয়েছে।

    আরও পড়ুন: গ্যাসের দাম বাড়তেই ক্ষুব্ধ মমতা, নারী দিবসে হাঁড়ি-কড়াই নিয়ে প্রতিবাদের ডাক মুখ্যমন্ত্রীর

    এদিকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের জল্পনা ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকেই তিনি বলেছেন যে, দিল্লির বাবুরা নাকি বাংলা আর বিহারকে ভাগ করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করতে চাইছে। বাংলায় হাত দিয়ে দেখাক। তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসছেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

  • গ্যাসের সংকট দেখা দিতেই গুজরাটে ১০০ কারখানায় কাজ বন্ধ, ঝুঁকির মুখে আরও ৪০০

    গ্যাসের সংকট দেখা দিতেই গুজরাটে ১০০ কারখানায় কাজ বন্ধ, ঝুঁকির মুখে আরও ৪০০

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে জ্বলছে যুদ্ধের আগুন। তবে ইরান এবং ইজরায়েলের যুদ্ধের প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে ভারতে, বিশেষ করে গ্যাসের বাজারে (Gas Crisis)। ইতিমধ্যেই গতকাল ডোমেস্টিক সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে এবং বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দামও বেড়েছে ১১৪ টাকা করে। ফলে দেশে খুব তাড়াতাড়ি যে গ্যাসের সংকট দেখা দেবে তা আঁচ করতে পারছে অনেকে। কারণ, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইতিমধ্যেই কাতার থেকে গ্যাস আমদানি বন্ধ হয়েছে। আর গ্যাসের সংকট সামনে আসতেই বড় দুঃসংবাদ আসলো গুজরাট (Gujarat) থেকে। জানা যাচ্ছে, এই রাজ্যের মোরবি শহরে প্রায় ১০০টি কারখানা বন্ধ হয়েছে গ্যাসে অভাবে।

    গ্যাস সংকটে বন্ধ ১০০ কারখানা

    প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, মোরবি বিশ্বের বৃহত্তম সিরামিক উৎপাদন কেন্দ্রগুলির মধ্যে একটি। আর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে শিল্প প্রতিনিধিরা স্পষ্ট বলেছেন যে, যদি শীঘ্রই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হয়, তাহলে আগামী দিনে আরও ৪০০টি ইউনিট বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কারণ, এই কারখানা সম্পূর্ণ গ্যাসের উপরেই নির্ভরশীল। রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণেই সম্পূর্ণ কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই ১০০টি কারখানায় তালা পড়েছে।

    এ বিষয়ে মোরবি সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোজ আরাভাদিয়া জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণেই গত দুইদিন ধরে প্রোপেন গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। আর আগামী দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এগুলি সম্পূর্ণ গ্যাস নির্ভর ইউনিট হওয়ায় আমাদেরকে উৎপাদন স্থগিত রাখতে হচ্ছে। তবে সবথেকে বড় ব্যাপার, কারখানা বন্ধ হলে হাজার হাজার শ্রমিকের উপরে প্রভাব পড়বে। বর্তমানে কারখানাগুলো তাদের কর্মীদের ধরে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে যদি উৎপাদন বন্ধ থাকে, তাহলে কর্মসংস্থান যে ঝুঁকির মুখে পড়বে তাও বলার অপেক্ষা রাখে না।

    আরও পড়ুন: ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার MA ফিল করলেও …’ বকেয়া DA মামলায় নাটকীয় মোড়? এল বড় খবর

    বলে রাখি, ভারত তার তেল এবং গ্যাসের প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানি করে থাকে। তার মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ গ্যাস আমদানি করে কাতার থেকে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যে গ্যাসবাহী জাহাজ আসে, সেই প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। সেই কারণেই ভারতে এখনো পর্যন্ত কোনও রকম জাহাজ আসতে পারছে না। এমনকি প্রায় ৩০০ জন নাবিকও আটকে রয়েছে। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, ইরানের ড্রোন হামলার পর বিশ্বের বৃহত্তম এলপিজি টার্মিনাল কাতারের রাস লাফানে বন্ধ হয়েছে। সেই কারণেই এখন জ্বালানির সংকটের মুখে ভারত। বর্তমানে ভারত বিকল্প রাস্তার দিকেই তাকিয়ে।

  • কিশোরদের জন্য ব্যান হবে সোশ্যাল মিডিয়া! বড় সিদ্ধান্তের পথে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার

    কিশোরদের জন্য ব্যান হবে সোশ্যাল মিডিয়া! বড় সিদ্ধান্তের পথে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আজকাল বাচ্চা বয়সেই ছেলেমেয়ের হাতে ফোন দিয়ে দিচ্ছে বাবা-মায়েরা। সেই কারণে সোশ্যাল মিডিয়ার (Social Media) প্রতি আকর্ষণও বাড়ছে তাদের। হ্যাঁ, করোনার পর থেকে যেন এই প্রবণতা আরও বেড়েছে। তবে এই বাড়বাড়ন্ত রুখতে এবার বিরাট সিদ্ধান্ত নিল অন্ধ্রপ্রদেশের (Government of Andhra Pradesh) মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে। এমনকি আগামী ৯০ দিনের মধ্যেই এই বিষয়ে আইন প্রণয়ন করা হবে। সম্প্রতি কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার ঘোষণা করেন। আর এবার একই পথে হাঁটলেন চন্দ্রবাবু নাইডু।

    শিশুদের ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ

    রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেছেন, খুব শীঘ্রই সরকার ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্সেস নিষিদ্ধ করার জন্য একটি কর্মসূচি চালু করবে। তাও আগামী ৯০ দিনের মধ্যে। রাজ্য ইতিমধ্যেই ১৩ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের জন্য সম্ভাব্য নিয়মকানুন নিয়ে আলোচনা করছে। আর সকলের মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেছেন, তাঁর ছেলে এবং রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী নারা লোকেশের পরামর্শের ভিত্তিতেই সরকার এই বিধিনিষেধগুলি প্রণয়ন করার কথা ভাবছে। তাঁর মতে, শিশুরা যাতে সোশ্যাল মিডিয়া দ্বারা নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত না হয় এবং তাদের পড়াশোনার ঘাটতি না হয়, তার জন্যই এই পদক্ষেপ।

    এ বিষয়ে রাজ্যের তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী বলেছেন, কর্ণাটকের প্রস্তাবটি অন্ধ্রপ্রদেশের আগেই নেওয়া হয়েছে। কর্ণাটক ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার উপর বিধিনিষেধ আরোপ করার কথা বিবেচনা করছে। এতে অন্ধকার জগত থেকে তরুণ প্রজন্ম বেরিয়ে আসতে পারবে। সেই সূত্রেই অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের তরফ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এমনকি এই কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা বদ্ধপরিকর। তিনি এখানেই থামেননি। তিনি এও বলেছেন, আমরা অস্ট্রেলিয়ায় অনূর্ধ্ব ১৬ আইন দেখেছি। আর আমি বিশ্বাস করি, আমাদের শক্তিশালী আইন প্রণয়ন করা দরকার, যাতে বাচ্চাদের উপর কোনও রকম নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

    আরও পড়ুন: ভোটের আগে রদবদল, ৭ IAS অফিসার সহ KMC-র কমিশনারকেও সরাল নবান্ন

    প্রসঙ্গত, যদি এই নিয়ম বাস্তবায়িত হয়, তাহলে কর্ণাটক এবং অন্ধ্রপ্রদেশ দেশের মধ্যে প্রথম রাজ্য হবে, যেখানে শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। আর এই নিয়ম বিশ্বব্যাপী সরকারগুলির চিন্তাধারার উপরেও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল। আর কিছু ইউরোপীয় কিছু দেশ একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এমনকি এই মাসে ব্রিটেন ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করে এবং গেমিং প্ল্যাটফর্ম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। এখন দেখার, অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার এই নিয়ম কবে লাগু করে।