Category: ভারত

  • দৈনিক লেনদেনের নিরিখে ভিসা, মাস্টারকার্ডকে পিছনে ফেলল ভারতের UPI

    দৈনিক লেনদেনের নিরিখে ভিসা, মাস্টারকার্ডকে পিছনে ফেলল ভারতের UPI

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশে দিনের পর দিন ডিজিটাল লেনদেনের (Digital Payment) জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এক দশক আগেও যা অসম্ভব বলে মনে হত, আজ তা সত্যি ধ্রুব সত্য। ভারতের নিজস্ব পেমেন্ট সিস্টেম ইউপিআই (Unified Payments Interface) গোটা বিশ্বমঞ্চে খেল দেখাচ্ছে। এবার এই ইউনিফায়েড পেমেন্ট ইন্টারফেস প্রতিদিনের লেনদেনের পরিসংখ্যানে বিশ্বের খ্যাতনামা পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ভিসা এবং মাস্টারকার্ডকেও (Visa And Mastercard) টপকে গেল। ভারতের এই ডিজিটাল বিপ্লব এখন আর শুধুমাত্র দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির মানচিত্রকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।

    কার্ডের দিন কি তাহলে শেষ?

    সম্প্রতি ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার একটি তথ্য অনুযায়ী, সারা বিশ্বে ভিসা এবং মাস্টারকার্ড মিলিয়ে প্রতিদিন যত সংখ্যক লেনদেন হয়, ভারতের ইউপিআই একা তার থেকেও বেশি ট্রানজেকশন প্রসেস করছে। হ্যাঁ, ভিসা এবং মাস্টারকার্ড বিশ্বের ২০০টির বেশি দেশে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রাজত্ব করার পর তাদের দৈনিক লেনদেন এখন মাত্র কোটির ঘরে। আর ইউপিআই মাত্র কয়েক বছরে একটি দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা হিসেবে যাত্রা শুরু করে আজ বিশ্বের সেরা মুকুট অর্জন করেছে।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউপিআই এর এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, রাস্তার ধারের ফুচকা বিক্রেতা থেকে শুরু করে অটোচালক, কারোর জন্যই ইউপিআই ব্যবহার করতে কোনওরকম ফি দিতে হয় না। অর্থাৎ, এর কোনও মাসিক ভাড়া নেই বললেই চলে। শুধুমাত্র কিউআর কোড থাকলেই চলে। দ্বিতীয়ত, এটি কোনও বেসরকারি সংস্থার ব্যবসা নয়, বরং সরকার এটি ডিজিটালভাবে তৈরি করেছে। যার উপর ফোনপে, গুগলপে-র মতো অ্যাপগুলি প্রতিযোগিতা করছে। তৃতীয়ত, ব্যাঙ্ক থেকে সরাসরি ব্যাঙ্কে মুহুর্তের মধ্যেই টাকা পৌঁছে দেওয়ার কারণে ইউপিআই-র উপরে সাধারণ মানুষের ভরসা আরও বেড়েছে।

    এদিকে ভারত এখন তার এই সফল মডেলটি বিশ্বের অন্যান্য দেশেও রফতানি করছে। হ্যাঁ, সিঙ্গাপুর থেকে শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, জাপান সহ বেশ কিছু দেশে ইতিমধ্যেই এই ইউপিআই পরিষেবা চালু হয়েছে। এমনকি সম্প্রতি ইজরায়েলেও এই পরিষেবা চালু হবে বলে শোনা যাচ্ছে। সেই কারণে ভারতীয় পর্যটকরা এখন বিদেশের মাটিতেও নিজের ফোনের ইউপিআই অ্যাপ দিয়ে পেমেন্ট করতে পারছে। আর এই সাফল্য দেখেই ব্রাজিল, নাইজেরিয়া থেকে শুরু করে ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলি ভারতের পথ অনুসরণ করছে।

    আরও পড়ুন: ৫৩২ থেকে বেড়ে ৮১৬ হবে লোকসভার আসন, মহিলাদের জন্য থাকবে ২৭৩টি! বড় খবর

    ভিসা, মাস্টারকার্ডের পাল্টা চাল

    অন্যদিকে ইউপিআই-র এই ঊর্ধ্বগতিতে ভিসা, মাস্টারকার্ডের মতো প্ল্যাটফর্মগুলিও ব্যবসা গুটিয়ে বসে নেই। তারা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত পেমেন্ট এবং স্টেবলকয়েনের মতো ক্রিপ্টো প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। তাদের মূল লক্ষ্য হল বড় অংকের আন্তর্জাতিক লেনদেনে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখা। তবে হ্যাঁ, এটা মানতে হবে যে লেনদেনের সংখ্যা দিক থেকে ইউপিআই এগিয়ে থাকলেও লেনদেনের পরিমাণ বা মুল্যের দিক থেকে ক্রেডিট কার্ডের গুরুত্ব এমনিতেই বেশি। এছাড়াও ইউপিআই মূলত জমানো টাকা খরচ করতে সাহায্য করে। আর ক্রেডিট কার্ড সেখানে ঋণ নেওয়ার সুবিধা দিয়ে থাকে।

  • ৫৩২ থেকে বেড়ে ৮১৬ হবে লোকসভার আসন, মহিলাদের জন্য থাকবে ২৭৩টি! বড় খবর

    ৫৩২ থেকে বেড়ে ৮১৬ হবে লোকসভার আসন, মহিলাদের জন্য থাকবে ২৭৩টি! বড় খবর

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নারী শক্তি বন্দন অধীনিয়ম বা নারী সংরক্ষণের আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে এবার এক মাস্টার প্ল্যান তৈরি করল কেন্দ্র। সমস্ত জল্পনা সত্যি করে এবার লোকসভা কেন্দ্রগুলির আসন (Lok Sabha Seat) সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে এই সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু করতে চাইছে নরেন্দ্র মোদী সরকার (Government of India)। এমনকি নারীদের জন্য থাকবে আলাদা সংরক্ষিত আসন। সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একটি সর্বদলীয় বৈঠকে খসড়া প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে বলেই সূত্র মারফৎ খবর।

    এবার আসন সংখ্যার টার্গেট ৮১৬

    উক্ত বৈঠকে জানা গিয়েছে, ২০১১ সালের জনগণনার উপর ভিত্তি করে লোকসভার বর্তমান ৫৩২টি আসন বাড়িয়ে এবার ৮১৬টি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, আসন সংখ্যা এবার ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। আর এই বর্ধিত আসন সংখ্যার মধ্যে আনুমানিক এক তৃতীয়াংশ বা ২৭৩টি আসন নারীদের জন্যই সংরক্ষিত থাকবে।

    তবে এক্ষেত্রে বলে রাখি, সাধারণত নতুন জনগণনা এবং তার পরবর্তী সীমানা পুনঃনির্ধারণ প্রক্রিয়ার পরেই নারী সংরক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে ২০২৯ সালের আগে নতুন করে জনগণনা সম্পন্ন হওয়া একেবারে অনিশ্চিত, এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের। সেই কারণে সরকার চাইছে ২০১১ সালের ডেটা ব্যবহার করেই এখনই আসন সংখ্যা বাড়াতে। তবে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির দীর্ঘদিনের ভয় ছিল যে জনসংখ্যা কম থাকার কারণে তাদের আসন কমে যাবে। কিন্তু সরকারের নতুন প্রস্তাবে প্রতিটি রাজ্যের বর্তমান আসনের অনুপাত এবার একই রাখা হবে।

    উত্তরপ্রদেশে বাড়বে আসন

    এদিকে নতুন ফর্মুলা কার্যকর হলে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলির আসন সংখ্যা অনেকটাই বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ বলতে পারি, উত্তরপ্রদেশে লোকসভা আসন ৮০ থেকে বেড়ে এবার ১২০ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে বৈঠকে উপস্থিত এক সাংসদ জানিয়েছেন যে, কোন আসনটি নারীদের জন্য সংরক্ষিত হবে তা লটারি পদ্ধতির মাধ্যমে ঠিক করা হবে। আর প্রতি তিনটি আসনের মধ্যে একটি আসন মহিলাদের জন্য বরাদ্দ থাকতে পারে। কিন্তু হ্যাঁ, এই আসনগুলি স্থায়ীভাবে নাকি রোটেশন ভাবে পরিবর্তিত হবে সে বিষয়ে এখনো পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

    আরও পড়ুন: পাকিস্তানে গুপ্তচরবৃত্তির জন্য গ্রেফতার ভারতীয় বায়ুসেনার এক বেসামরিক কর্মী

    এমনকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইতিমধ্যে বিজেডি, এনসিপি বা শারদ পাওয়ার, শিবসেনার মতো বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আর খুব শীঘ্রই কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস সহ অন্যান্য দলের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। মনে করা হচ্ছে, এই ঐতিহাসিক সংশোধনের বিলটি যদি পাস করা হয়, তাহলে সংসদদের বর্তমান অধিবেশনের মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে।

  • পাকিস্তানে গুপ্তচরবৃত্তির জন্য গ্রেফতার ভারতীয় বায়ুসেনার এক বেসামরিক কর্মী

    পাকিস্তানে গুপ্তচরবৃত্তির জন্য গ্রেফতার ভারতীয় বায়ুসেনার এক বেসামরিক কর্মী

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিরাট সাফল্য পেল রাজস্থান পুলিশ। অসমের চাবুয়া বায়ুসেনা ঘাঁটির এক বেসামরিক কর্মীকে (Indian Air Force Staff) এবার গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ গ্রেফতার করা হল। অভিযোগ উঠছে, ওই ব্যক্তি ভারতীয় বায়ুসেনার সংবেদনশীল আর গোপনীয় তথ্য পাকিস্তানের (Pakistan) গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সঙ্গে প্রচার করছিলেন, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারত।

    এএনআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজস্থান পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রফুল্ল কুমারের বক্তব্য, ঘটনার সূত্রপাত হয় গত জানুয়ারি মাসে। জয়সলমের বাসিন্দা ঝাবরারাম এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর জেরা চলাকালীন সুমিত কুমার নামের ওই অভিযুক্তের নাম সামনে আসে। তাঁর আনুমানিক বয়স ৩৬ বছর। তদন্তে জানা যায়, সমিক নিয়মিত পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং দেশের সমস্ত তথ্য শেয়ার করছিলেন।

    কে এই অভিযুক্ত এবং কী তাঁর পরিচয়?

    রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, সুমিত কুমার অসময়ের ডিব্রুগড় জেলার চাবুয়া বায়ুসেনা ঘাঁটিতে মাল্টি টাস্কিং স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিজের পদের অপব্যবহার করেই তিনি যে সমস্ত তথ্য পাচার করেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল যুদ্ধবিমানের অবস্থান। হ্যাঁ, চাবুয়া এবং বিকানেরের নাল এয়ারবেসে মোতায়েন থাকা যুদ্ধবিমান সংক্রান্ত তথ্য তিনি গুপ্তচরীর মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। এমনকি ভারতের মিসাইল সিস্টেমের গোপনীয় অবস্থান ও ডেটা, আর বায়ুসেনার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম, পরিচয় এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত ছবি পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠনের কাছে পাঠিয়েছিলেন তিনি। আর তদন্তে আরও জানা যায়, সুমিত নিজের নামে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেই পাকিস্তানী হ্যান্ডলারদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে সাহায্য করেছিলেন।

    আরও পড়ুন: পেনশন পাওয়া আরও সহজ, GISS সমস্যা মেটাতে নয়া মেমোরেন্ডাম জারি নবান্নর

    সূত্রের খবর, দিল্লির বায়ুসেনা, গোয়েন্দা বিভাগ এবং রাজস্থানের ইন্টেলিজেন্সের একটি দল যৌথ অভিযান চালিয়ে সুমিতকে চাবুয়া থেকে আটক করে জয়পুরে নিয়ে আসে। আর সেখানে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জেরা চলাকালীন সুমিত স্বীকার করে নেন যে, ২০২৩ সাল থেকেই তিনি অর্থের বিনিময়ে পাকিস্তানের হয়ে এরকম গুপ্তচরবৃত্তি কাজ করছিলেন। রবিবার অর্থাৎ ২২ মার্চ জয়পুরের বিশেষ পুলিশ স্টেশন সুমিত কুমারের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেট অ্যাক্ট ১৯২৩ এবং ভারতীয় ন্যয় সংহিতার ২০২৩ এর বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর রাজস্থান পুলিশের স্পষ্ট দাবি, এই গ্রেফতারের ফলে পাকিস্তান সমর্থিত একটি বড় স্পাই নেটওয়ার্কের মুখোশ খুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

  • ধসে পড়তে পারে গোটা হিমবাহ! জরুরি সতর্কতা জারি সিকিমে

    ধসে পড়তে পারে গোটা হিমবাহ! জরুরি সতর্কতা জারি সিকিমে

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ২০২৬ মানেই যেন বিপর্যয়ের বছর! চারিদিকে যুদ্ধ তো লেগেই রয়েছে, তার উপর আবার শোনা যাচ্ছে, সিকিমে হিমবাহ ধরে পড়তে পারে (Glacier Avalanche Forecast)। ২০২৩ সালে দক্ষিণ লোনাক লেকের সেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মনে গেঁথে রয়েছে। তারই মধ্যে উত্তর ও পূর্ব সিকিমে এবার বিপর্যয়ের আশঙ্কা। সম্প্রতি প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও এবং সিকিম বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর যৌথভাবে পূর্ব সিকিমে (Sikkim) হিমবাহ ধস নিয়ে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে। আর আগামী ২৪ ঘণ্টা সিকিমের পার্বত্য এলাকার জন্য অত্যন্ত সংকটজনক বলেই দাবি করা হয়েছে।

    কোন কোন জায়গায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে?

    প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পূর্ব সিকিমের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলগুলিতে বিশেষ করে নাথুলা, জুলুক এবং নাথাং ভ্যালি এলাকায় হিমবাহে ধসের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আর গ্যাংটক এবং পাকিয়ং জেলা প্রশাসনকে যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নাথুলায় সেনা ছাউনি আর নাথাং ভ্যালিতে ছোট পাহাড়ি গ্রাম থাকার কারণে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন।

    আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, বঙ্গোপসাগরে বিপরীত ঘূর্ণাবর্ত এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতের পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জেরেই হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আর ভারী বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি এবং তুষারপাত এই তিনের দাপটে একেবারে সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত। পাশাপাশি গত শুক্রবার থেকে উত্তর সিকিমের লাচুং, লাচেন এবং পূর্ব সিকিমের ছাঙ্গু ও নাথুলা তো পুরু বরফে ঢেকে গিয়েছে। তারপর আবার হিমবাহ ধসের আশঙ্কা।

    সান্দাকফুতে আটকে বহু পর্যটক

    বেশ কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, সিকিমের পাশাপাশি দার্জিলিংয়ের পাহাড়ের অবস্থাও বেশ উদ্বেগজনক। কারণ, তুষারপাতে সান্দাকফু ও ফালুট চত্বরে মানেভঞ্জন থেকে যাতায়াতের রাস্তা এখন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আর জানা যাচ্ছে, সান্দাকফুতে বর্তমানে প্রায় ৫০ জন পর্যটক আটকা পড়েছেন। তারা কোনও মতেই আসতে পারছেন না। তারা সুরক্ষিত থাকলেও বরফ গলে রাস্তা পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না।

    আরও পড়ুন: খোলা ছিল রেলগেট, যাত্রীবোঝাই বাসে ধাক্কা ট্রেনের! ঘটনাস্থলেই নিহত ১২

    এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের গ্যাংটক শাখার আধিকারিক গোপীনাথ রায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, শনিবার রাত্রিবেলাও এই এলাকাতে ভারী বৃষ্টি এবং তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু আশা করা যাচ্ছে যে, রবিবার দুপুরের পর থেকে আবহাওয়া আবার স্বাভাবিক হতে পারে। সোমবার থেকে আটকে পড়া পর্যটকদের আবারো ফেরানোর কাজ শুরু হতে পারে। আর সিকিম সরকার ইতিমধ্যেই বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে দ্রুত ওই এলাকাগুলোতে মোতায়েন রাখতে বলেছে। এখন দেখার পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হয়।

  • ১৪ কেজি নয়, এবার সিলিন্ডারে মিলবে অর্ধেক গ্যাস? বুকিং নিয়ম বদলাতে পারে সরকার

    ১৪ কেজি নয়, এবার সিলিন্ডারে মিলবে অর্ধেক গ্যাস? বুকিং নিয়ম বদলাতে পারে সরকার

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে এখনও যুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধ কবে থামবে? উত্তর জানা নেই কারোর। এদিকে এই যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বের অন্যান্য দেশ, বিশেষ করে ভারতের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর পড়ছে। LPG থেকে শুরু করে নানা জিনিসের দাম বাড়ছে। এবার এই ১৪ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের (Gas Cylinder) ওজন নিয়ে প্রকাশ্যে এল বড় আপডেট। এবার হয়তো বুকিং করলে অর্ধেক ভর্তি গ্যাসই আপনার বাড়িতে পৌঁছাতে পারে। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন।

    এবার LPG-তে থাকবে অর্ধেক গ্যাস?

    হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্য কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, যা গ্যাস সরবরাহকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ভারত তার অভ্যন্তরীণ এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০% আমদানি করে এবং এই সরবরাহের প্রায় ৯০% আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এই অবনতিশীল পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের পকেটের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তবে এখন গ্যাসের ওজন নিয়ে নয়া বিতর্ক শুরু হয়েছে। এমনিতে একটি ঘরোয়া গ্যাস সিলিন্ডারে ১৪.২ কেজি গ্যাস থাকে। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হতে থাকলে সিলিন্ডারগুলিতে ৭ বা ১০ কেজি গ্যাস ভরা হবে। এই বিষয়ে সরকার চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত না নিলেও আশঙ্কা এমনটাই তৈরি হচ্ছে।

    সিলিন্ডারে গ্যাসের পরিমাণ কমানো হলেও কেন্দ্র বুকিংয়ের নিয়ম অপরিবর্তিত রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। সহজ ভাষায় বললে, ১০ কেজির প্লাস্টিক সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে ১৫ দিন, ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে শহরাঞ্চলে ২৫ দিন এবং গ্রামাঞ্চলে ৪৫ দিনের যে সীমারেখা রয়েছে, তাতে কোনো বদল আসছে না। এদিকে সরকার যতই বলুক পর্যাপ্ত গ্যাস মজুত রয়েছে, জায়গায় জায়গায় গ্যাস নিয়ে হাহাকার পড়ে গিয়েছে। বুকিং করলেও দীর্ঘদিন পর মিলছে গ্যাস। যাইহোক, কবে এই পরিস্থিতি ঠিক হবে সেদিকে নজর রাখছেন সাধারণ মানুষ।

    কোথায় কত টাকায় মিলছে ঘরোয়া, বাণিজ্যিক সিলিন্ডার?

    নয়াদিল্লিতে ঘরোয়া গ্যাসের দাম ৯১৩ এবং বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১,৮৮৪.৫০ টাকা। মুম্বাইতে ঘরোয়া এবং বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম যথাক্রমে ৯১২ এবং ১৮৩৬ টাকা। কলকাতা ঘরোয়া গ্যাস সিলিন্ডার বিকোচ্ছে ৯৩৯ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ১,৯৮৮.৫০ টাকা। এর পাশাপাশি চেন্নাইতে ঘরোয়া এবং বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম যথাক্রমে ৯২৮.৫০ ও ২,০৪৩.৫০ টাকা।

    আরও পড়ুনঃ মিলতে পারে ১৫ লক্ষ টাকা! ৩১ মার্চের পর বকেয়া DA নিয়ে সুখবর শোনাবে সরকার?

    ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের ওপর যৌথ হামলা চালানোর পর উত্তেজনা শুরু হয়। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত তীব্রতর হয়েছে এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে তেল ও গ্যাস ট্যাংকারগুলো এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। জাহাজে হামলার হুমকির কারণে কোম্পানিগুলো এই পথ এড়িয়ে চলছে, যার ফলে সরবরাহে গুরুতর ব্যাঘাত ঘটছে। এই সংকটের কারণে ভারতে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে। মার্চের শুরুতে, ১৪.২ কেজি গার্হস্থ্য সিলিন্ডারের দাম ৫০ টাকা এবং ১৯ কেজি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১৪৪ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তবে, এরপর থেকে আর কোনো মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়নি। সরকারের দাবি, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

  • মোদীর কোলে তাঁর ‘খুদে বন্ধু’, কে এই শিশু? সামনে এল পরিচয় ..

    মোদীর কোলে তাঁর ‘খুদে বন্ধু’, কে এই শিশু? সামনে এল পরিচয় ..

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গতকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি শেয়ার করেছিলেন যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইন্টারনেটে ঝড়ের গঠিত ভাইরাল (Social Media Viral) হয়েছে। এই ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর দিল্লির বাসভবন ৭ লোক কল্যাণ মার্গে একটি ফুটফুটে শিশুকে কোলে নিয়ে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। এমনকি চমক দেওয়ার বিষয় হল, ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “এক ক্ষুদে বন্ধুর সঙ্গে যে গতকাল ৭ লোক কল্যাণ মার্গে এসেছিল।” পোস্টটি শেয়ার করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ১৭ লক্ষেরও বেশি লাইক পড়ে। কিন্তু নেটিজেনদের মনে একটাই প্রশ্ন, কে এই খুদে?

    পরিচয় পাওয়া গেল প্রধানমন্ত্রীর আসল খুদে বন্ধুর

    বেশ কয়েকটি তথ্য ঘেঁটে ভাইরাল হওয়া ওই শিশুটির পরিচয় অবশেষে জানা গিয়েছে। মানি কন্ট্রোলের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুটির নাম অশ্বিন কৃষ্ণা যাকে আদর করে সবাই ‘ওমি’ বলে ডাকে। সে আসলে কেরলের জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার দিয়া কৃষ্ণার ছেলে তথা দক্ষিণী অভিনেতা ও বিজেপি ঘনিষ্ঠ নেতা কৃষ্ণ কুমারের নাতি। সম্প্রতি কৃষ্ণ কুমারের গোটা পরিবার প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। আর সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা সময় তাঁরা মোদীর সঙ্গে কাটান। এই পারিবারিক সাক্ষাৎকারে উপস্থিত ছিলেন কৃষ্ণকুমারের স্ত্রী সিন্ধু কৃষ্ণ কুমার এবং তাঁদের চার কন্যা। সেই আড্ডার মাঝেই খুদে ওমিকে কোলে তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ছবি তোলেন।

    আরও পড়ুন: যুবসাথীর ১৫০০ টাকা এখনও পাননি? জানুন কী করতে হবে এবার

    এদিকে নিজের প্রিয় তারকার সঙ্গে দেখা করার অভিজ্ঞতাকে ‘ফ্যান মোমেন্ট’ বলেই বর্ণনা করেছেন দিয়া কৃষ্ণা। তিনি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে লিখেছেন যে, সবথেকে বড় ফ্যান মোমেন্ট এটা আমার। আমাদের প্রিয় নরেন্দ্র মোদিজীর সঙ্গে কাটানো সেই এক ঘণ্টা যেন আমার কাছে স্বপ্নের মতো। আজও মনে হচ্ছে যেন কেউ আমাকে ঘুম থেকে ডেকে বলবে যে ওটা স্বপ্ন ছিল। এদিকে অভিনেত্রী তথা ইনফ্লুয়েন্সার আহানা কৃষ্ণাও তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করে লিখেছেন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিত্ব দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ। এত বড় মাপের একজন মানুষ আমাদেরকে যেভাবে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন আর আমাদের ছোট ছোট সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তা কখনোই ভোলা সম্ভব নয়। এক মুহূর্তের জন্য আমরা ভুলেই গিয়েছিলাম যে আমরা বিশ্বের সবথেকে প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে বসে রয়েছি।

     

    View this post on Instagram

     

    A post shared by Ahaana Krishna (@ahaana_krishna)

  • কাটবে LPG সংকট, রাজ্যগুলিতে ২০% গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণা কেন্দ্রের

    কাটবে LPG সংকট, রাজ্যগুলিতে ২০% গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণা কেন্দ্রের

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশজুড়ে দিনের পর দিন এলপিজি সংকট (LPG Crisis) বাড়ছে। আর সেই হাহাকার মেটাতে অবশেষে ময়দানে নামল কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী সোমবার অর্থাৎ ২৩ মার্চ থেকে রাজ্যগুলির জন্য গ্যাসের সরবরাহ একধাক্কায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার (Government of India)। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের এই পদক্ষেপে যে সাধারণ মানুষ আগামী দিনে বিরাট স্বস্তি পাবে এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

    ২৩ মার্চ থেকেই বাড়তি যোগান

    প্রসঙ্গত, শনিবার কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম সচিব নীরজ মিত্তল দেশের সমস্ত রাজ্যে চিঠি দিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, সোমবার থেকেই প্রতিটি রাজ্যে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ এলবিজি সরবরাহ করা হবে। আর সরকার আশাবাদী যে, এই বাড়তি যোগান শুরু হলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই হয়তো গোটা দেশের বাজারের অস্থিরতা কাটবে এবং এলপিজি সংকট দূর হবে। পাশাপাশি লাইনে দাড়িয়ে গ্যাস নেওয়ার সমস্যাও অনেকটাই মুকুব হবে।

    এদিকে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের অভাবে গত কয়েকদিন ধরেই দেশের বেশ কিছু শহরের হোটেল, রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। আর কেন্দ্র সরকার স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে যে, রেস্তোরাঁ এবং ছোট খাবারের দোকানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ করতে হবে। এমনকি ছোট ছোট হোটেল বা ফুটপাথের দোকানগুলো যাতে জ্বালানির অভাবে বন্ধ না হয়ে যায়, সেদিকেও বিশেষ নজরদারি করতে হবে আর গ্যাস সরবরাহ চালু রাখতে হবে।

    আরও পড়ুন: ভারতের দীর্ঘমেয়াদি সরকার প্রধান হিসাবে ইতিহাস মোদীর, টপকালেন সিকিমের পবন চামলিংকে

    অন্যদিকে বড় সিলিন্ডার কেনা বা বহন করা অনেক সময় শ্রমিকদের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সেক্ষেত্রে পরিযায়ী শ্রমিকদের সুবিধার্থে ৫ কেজি ছোট সিলিন্ডারের যোগান বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক। এর ফলে শ্রমজীবী মানুষদের রান্নার সমস্যা অনেকটাই মুকুব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের এই জ্বালানি ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে যাতে কোনও কালোবাজারি না হয়, সেদিকেও নজরদারি করবে কেন্দ্র, এমনটাই রাজ্য সরকারগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • বাড়ছে জ্বালানির দাম! এপ্রিল থেকে মহার্ঘ হচ্ছে বিমান ভাড়া? ইঙ্গিত কেন্দ্রের

    বাড়ছে জ্বালানির দাম! এপ্রিল থেকে মহার্ঘ হচ্ছে বিমান ভাড়া? ইঙ্গিত কেন্দ্রের

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ নতুন মাস অর্থাৎ এপ্রিল থেকে আরও আর্থিক বোঝা চাপতে চলেছে সাধারণ মানুষের ওপর। এমনিতেই দিনে দিনে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে। এলপিজি কিনতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে সাধারণ আমজনতার। এদিকে বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এখন ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোকে প্রভাবিত করছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আগামী এপ্রিল মাস থেকে বিমানে সফর আরও মহার্ঘ্য (Flight Fare) হতে পারে। সরকার তো অন্তত তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছে।

    এপ্রিল থেকে বাড়ছে বিমান ভাড়া?

    সরকার ইঙ্গিত দিয়েছে যে ১ এপ্রিল থেকে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর দাম বাড়তে পারে। তবে, কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে যে এই বোঝা অবিলম্বে যাত্রীদের উপর চাপানো হবে না এবং এ বিষয়ে কাজ চলছে। এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু। তিনি জানিয়েছেন যে, প্রতি মাসের ১ তারিখে এটিএফ-এর মূল্য নির্ধারণ করা হয় এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব ১ এপ্রিলের মধ্যেই দেখা যেতে পারে।

    আরও পড়ুনঃ পার্ক সার্কাস নয়, শিয়ালদা ডিভিশনের সবথেকে নোংরা স্টেশন কোনটি জানলে অবাক হবেন

    তিনি বলেন, এই বিষয়ে বিমান সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা চলছে। মন্ত্রী স্বীকার করেন যে বিমান সংস্থাগুলি আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে, কিন্তু সরকারের অগ্রাধিকার হলো নিরাপদ ও নিয়মিত পরিষেবা নিশ্চিত করা। ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর দিয়ে বিমান চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। তেলের দাম বাড়লে তা সরাসরি এটিএফ (ATF)-এর দামকে প্রভাবিত করবে। তবে, সরকার স্পষ্ট করেছে যে তাদের অগ্রাধিকার হলো যাত্রীদের যেন অবিলম্বে ভাড়া বৃদ্ধির সম্মুখীন হতে না হয় তা নিশ্চিত করা।

    তেলের দাম বাড়বেই

    মন্ত্রী বলেছেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও এটিএফ-এর মূল্যবৃদ্ধি প্রায় অনিবার্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এর ফলে যেন টিকিটের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি না ঘটে, তা নিশ্চিত করাই হবে মন্ত্রকের প্রধান লক্ষ্য। সরকার ভ্রমণকারীদের স্বার্থে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও এটিএফ-এর মূল্যবৃদ্ধি প্রায় অনিবার্য। রাম মোহন নাইডু জোর দিয়ে বলেন যে, এর ফলে যেন টিকিটের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি না ঘটে, তা নিশ্চিত করাই হবে মন্ত্রকের প্রধান লক্ষ্য।

     

  • ২৫০ কিমি গতিতে ছুটবে স্বদেশী বুলেট ট্রেন, ১৬টি হাই-স্পিড ট্রেন সেটের অর্ডার

    ২৫০ কিমি গতিতে ছুটবে স্বদেশী বুলেট ট্রেন, ১৬টি হাই-স্পিড ট্রেন সেটের অর্ডার

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ কবে চালু হবে দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন (Bullet Train)? এই প্রশ্ন এখন সকলের। রেল সূত্রে খবর, বিভিন্ন ধাপে এই ট্রেনের পথচলা শুরু হবে। এরই মাঝে উচ্চাকাঙ্খী এই বুলেট ট্রেন প্রকল্প নিয়ে সামনে এল বড় আপডেট। জানা গিয়েছে, মুম্বাই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন করিডোরের একটি বড় ক্রয় প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিইএমএল (BEML) ভারতের দ্রুতগতির রেল নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। সংস্থাটি মেধা সার্ভো ড্রাইভসের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে এবং এই প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত ট্রেনসেট সরবরাহ করতে একটি দরপত্র জমা দিয়েছে।

    বুলেট ট্রেন নিয়ে বড় আপডেট

    BEML মেধা কনসোর্টিয়াম ন্যাশনাল হাই-স্পিড রেল কর্পোরেশনকে ১৬টি দ্রুতগতির ট্রেনসেট সরবরাহ করার জন্য একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে ৮৬৬ কোটি টাকা মূল্যের দুটি প্রোটোটাইপ ট্রেনসেটের জন্য একটি চুক্তি হয়েছিল। দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ খরচ সহ প্রস্তাবিত নতুন ট্রেনসেটগুলির প্রতিটির আনুমানিক ব্যয় প্রায় ২৫০ কোটি টাকা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই কাঠামোর অধীনে, বিইএমএল মূল কাঠামোগত এবং অভ্যন্তরীণ উপাদানগুলির দায়িত্ব নেবে, আর মেধা (Medha) প্রোপালশন সিস্টেম, বগি এবং ট্রেন নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির জন্য দায়ী থাকবে। চূড়ান্ত মূল্য আরও আলোচনার সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে।

    ঘণ্টায় ২৫০ কিমি গতিতে ছুটবে ট্রেন!

    সূত্রের খবর, এই ট্রেনগুলো ঘণ্টায় ২৫০ কিমি পর্যন্ত গতিতে চলার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ঘণ্টায় ২৮০ কিমি। আশা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত ট্রেনসেটগুলোও প্রোটোটাইপের মতোই একই ডিজাইন প্ল্যাটফর্ম অনুসরণ করবে এবং সময়ের সাথে সাথে এতে আরও উন্নতি ঘটানো হবে। প্রকল্পটির একটি প্রধান লক্ষ্য হলো দেশীয় উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি করা। প্রাথমিক ট্রেনসেটগুলিতে প্রায় ৫০% স্থানীয় যন্ত্রাংশ থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা পরিপক্ক হওয়ার সাথে সাথে এই অনুপাত আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    আরও পড়ুনঃ নিম্নচাপের কাঁটায় দক্ষিণবঙ্গের ৬ জেলায় ভারী বৃষ্টির ভ্রূকুটি! আজকের আবহাওয়া

    প্রথম প্রোটোটাইপ ট্রেনসেটগুলির পথচলা আগামী ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৭ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে, যার সূচনা হবে সুরাট-বিলিমোরা অংশ দিয়ে। এই সুবিশাল করিডোরটি মহারাষ্ট্র ও গুজরাট জুড়ে ৫০৮ কিলোমিটার বিস্তৃত এবং ১২টি স্টেশনের একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রধান শহরগুলোকে সংযুক্ত করেছে।

     

  • LPG সংকটের মাঝে ৫০০ টাকার ফ্রি গ্যাস, ৩১ মার্চের আগে করতে হবে এই কাজ

    LPG সংকটের মাঝে ৫০০ টাকার ফ্রি গ্যাস, ৩১ মার্চের আগে করতে হবে এই কাজ

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে গোটা দেশ জুড়ে গ্যাস সিলিন্ডার (LPG Crisis ) সরবরাহ নিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এদিকে আবার গ্যাস সংকটের আতঙ্কের মাঝেই বাড়ছে দাম। এমতাবস্থায় মাথায় হাত পড়েছে সকলের। তাই সেই সংকট থেকে মুক্তি পেতে সকলেই বর্তমানে PNG সংযোগের ওপর জোর দিচ্ছে। এবার এই PNG সংযোগের জন্য বড় অফার আনল সরকার। গ্রাহকদের দেওয়া হবে ৫০০ টাকার বিনামূল্যে গ্যাস।

    সবচেয়ে নিরাপদ PNG সংযোগ

    PNG অর্থাৎ পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস, এতে গ্যাস সিলিন্ডারের মতো বাড়িতে সরবরাহ করা হয় না, বরং পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি রান্নাঘরে পৌঁছায়। আর এই সংযোগের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল সিলিন্ডার শেষ হওয়ার চিন্তা থাকে না এবং গ্যাস একটানা পাওয়া যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এই PNG সংযোগ অত্যন্ত নিরাপদ এবং সুবিধাজনক। অনেক গ্রাহক ভাবেন যে এই সংযোগ করা অত্যন্ত কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ। কিন্তু না তা একদমই কঠিন হয়ে, শুধু মানতে হবে কয়েকটি সহজ প্রসেস। আর এইসবের মাঝেই সরকার PNG সংযোগের জন্য দিচ্ছে বড় ছাড়।

    মিলবে ৫০০ টাকার বিনামূল্যে গ্যাস

    বরাবরই সরকার LPG গ্যাস সংযোগের নির্ভরতা কমানোর জন্য PNG সংযোগ বৃদ্ধির প্রচার করে চলেছে। এই কারণে, ইন্দ্রপ্রস্থ গ্যাস লিমিটেড, GAIL এবং ভারত পেট্রোলিয়ামের মতো সংস্থাগুলি PNG সংক্রান্ত বিভিন্ন অফার নিয়ে এসেছে। যেখানে বলা হয়েছে কোনো গ্রাহক যদি ৩১ মার্চের আগে PNG সংযোগের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেন, তাহলে সে PNG ইনস্টলেশনের ক্ষেত্রে বড় অফার পাবেন, রেজিস্ট্রশন ফি মকুব করা হবে। শুধু তাই নয়, সহজ কিস্তিতে অর্থ প্রদানের সুবিধা সহ গার্হস্থ্য গ্রাহকদের জন্য ৫০০ টাকার বিনামূল্যে গ্যাস অফার করছে। তবে এই সুযোগ দিল্লি এবং তার আশেপাশের এলাকার বাসিন্দাদের জন্য আনা হয়েছে। এখন প্রশ্ন কীভাবে এই PNG সংযোগের জন্য আবেদন করতে হবে, আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে সম্পূর্ণটা জেনে নিন বিস্তারিত।

    আরও পড়ুন: সত্যিই কপাল খারাপ KKR-র! এবার IPL থেকে ছিটকে গেলেন আকাশদীপও

    PNG সংযোগ করার জন্য অফিসে যেতে হবে না, ঘরে বসেই অনলাইনে এর মাধ্যমে সহজেই আবেদন করে নিতে পারবেন যে কেউ। তারজন্য প্রথমে, এলাকায় PNG পরিষেবা উপলব্ধ আছে কিনা তা যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট গ্যাস কোম্পানির ওয়েবসাইটে গিয়ে পিনকোড দিয়ে চেক করে নিতে হবে। যদি পরিষেবা উপলব্ধ থাকে, তাহলে অনলাইনে একটি ফর্মে গ্রাহকের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ইমেল ঠিকানা এবং পরিচয়পত্র দিয়ে সাবমিট করে দিতে হবে। এরপর তথ্য যাচাইয়ের পর গ্রাহকের বাড়িতে লোক আসবে ইনস্টলেশনের জন্য। তাই দেরি না করে এখনই রেজিস্টার করে নিন।