সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মুক্তি পাওয়ার পরেই বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে রণবীর সিং অভিনীত ‘ধুরন্ধর ২’ (Dhurandhar: The Revenge)। তবে ছবিটির সাফল্যের সেই উন্মাদনার মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একেবারে দাবানলের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে যে, খুব শীঘ্রই নাকি ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় ব্লকবাস্টার ছবি ‘ধুরন্ধর ৩’ (Dhurandhar 3) আসতে চলেছে! এমনকি সেই ছবি মুক্তির তারিখও সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরা হচ্ছে। আদৌ কি সত্যি? এই দাবির সত্যতা কতটুকু? ডিকোড করল ইন্ডিয়া হুড বাংলা।
ভাইরাল পোস্ট এবং পোস্টার
আসলে সম্প্রতি রেডিট এবং এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টার ভাইরাল হচ্ছে। আর সেখানে দাবি করা হচ্ছে যে, ‘ধুরন্ধর ৩’ ছবিটির নাম হবে ‘মেহেম’ এবং এটি ২০২৬ সালের ৪ জুন মুক্তি পাবে। আবার অন্য একটি পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, ছবিটির নাম হবে ‘ধুরন্ধর: দ্য ফাইনাল চাপ্টার’ এবং সেই ছবিটি মুক্তি পাবে ২০২৬ সালের ১৪ জুন। এদিকে পোস্টগুলোতে আদিত্য ধর পরিচালিত এই সিরিজের পরবর্তী সিক্যুয়েলের লোগো আর কিছু কিছু ফুটেজও তুলে হচ্ছে। যদিও এর কোনোটির বাস্তব ভিত্তি নেই।
বেশ কিছু তথ্য ঘেঁটে দেখা গেল, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সমস্ত পোস্ট আর অ্যানাউন্সমেন্টগুলি সম্পূর্ণ ভুয়ো বা ফেক। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বা পরিচালক আদিত্য ধর অফিসিয়ালি এরকমভাবে কোনও ঘোষণা করেনি। তবে বিভ্রান্তির মূলে রয়েছে পরিচালক আদিত্য ধরের একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট। সেখানে তিনি দর্শকদের অনুরোধ করেছিলেন যে, এন্ড ক্রেডিট বা শেষ নামগুলি দেখানো শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ যেন আসন ছেড়ে না ওঠে। আর পরিচালকের এই বার্তার পরেই ভক্তরা ধরে নিয়েছিল যে, হয়তো ছবিটির শেষ পার্ট অর্থাৎ ‘ধুরন্ধর ৩’ এর কোনও টিজার বা ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে।
তবে যারা ইতিমধ্যেই ওই ছবিটি দেখেছেন, তারা জানেন যে ছবিটির শেষে দুটি পোস্ট ক্রেডিট সিন রয়েছে। আর সেই দৃশ্যগুলির কোনোটিতেই তৃতীয় কোনও ছবির ঘোষণাও করা হয়নি। মূলত গল্পের রেশ ধরে রাখা ও দর্শকদের জন্য বিশেষ কিছু চমক রাখার জন্যই হয়তো পরিচালক এই বার্তা দিয়েছেন। এমনটাই মত বলিউড বিশেষজ্ঞদের। যার ফলে, ২০২৬ সালের জুন মাসে নতুন ছবি আসার খবর শুধুমাত্র যে ফেক তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই অযথা কোনও গুজব থেকে দূরে থাকুন।
সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ সব্যসাচী-সুস্মিতার (Sabyasachi-Susmita) ব্যক্তিগত ঝামেলা এখন সবার চোখের সামনে। আজ কথা হচ্ছে সাংবাদিক সব্যসাচী চক্রবর্তী (Sabyasachi Chakraborty) এবং অভিনেত্রী, ভ্লগার সুস্মিতা রায় চক্রবর্তীকে (Susmita Roy Chakraborty) নিয়ে। বর্তমান সময়ে এই দুজনের সম্পর্ক নিয়ে কাঁটাছেড়া নেটিজেনদের অন্যতম প্রিয় বিষয় হয়ে উঠেছে। ফেসবুক, ইউটিউব খুললেই দুজনের রীতিমতো ‘কলতলার ঝগড়া’ চোখে পড়ছে। একদিকে যখন ভোটকে কেন্দ্র করে সমগ্র বাংলা গরম, তেমনই এই দুজনের সম্পর্কের টানাপড়েন নিয়ে উত্তপ্ত নেটপাড়া। একে অপরকে লক্ষ্য করে চলছে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ। সব্যসাচী যেমন সুস্মিতার ৫টা বিয়ে নিয়ে প্রসঙ্গে টেনেছেন, তেমনই অন্যদিকে সুস্মিতা সব্যসাচী চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে নানারকম অভিযোগ করেছেন।
সব্যসাচী-সুস্মিতার সংঘাত চরমে
এমনিতেই সম্প্রতি সুস্মিতা নতুন বিয়ে করেছেন যা সকলকে অবাক করে দিয়েছে। কারণ ২০২৫ সালে সব্যসাচী এবং সুস্মিতা দুজনেই বিবাহ বিচ্ছেদের বিষয়টি সকলকে জানান। সেখানে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে সুস্মিতা কীভাবে প্রেমে পড়লেন এবং বিয়ের মতো এত বড় সিদ্ধান্ত নিলেন তা সকলকে অবাক করে দিয়েছে। এদিকে অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী সুস্মিতার বিয়ে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন। সুস্মিতাকে সমাজমাধ্যমে কটাক্ষ করেন যেন এটাই সুস্মিতার শেষ বিয়ে হয়৷ এরপরেই নিজের আত্মপক্ষ সমর্থন করতে লাইভ করেন ‘নতুন বউ’ সুস্মিতা। লাইভ করে সব সত্যি জানানোর আগে সায়কের সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়৷ সেই কথোপকথন সুস্মিতা সমাজমাধ্যমে শেয়ার করেছেন৷
সুস্মিতাকে বলতে শোনা যায়, “আমি তোদের কোনও বিষয় কমেন্ট করি না। বহুবার বহু সাংবাদিক জানতে চাইলেও মুখ খুলিনি৷ কিন্তু তোরা যা শুরু করেছিস তার শেষ হওয়া দরকার৷ শেষ ভালভাবে করতে চাইছিস তাহলে ১১.১৫ এর মধ্যে চলে আয়।” অডিওতে সায়ক সাংবাদিকদের আসতে বারণ করতে বলে সুস্মিতাকে৷ কিন্তু সুস্মিতা জানায়, সায়ক লাইভ লোকেশন শেয়ার না করলে সুস্মিতাও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ রাখবেন না৷ তিনি বলেন, “শেষ সাত বছর আমি তোদের কথাই শুনে এসেছি। সাত বছর ধরে তো ব্ল্যাকমেল করছিস৷ এবার আমি নিজে সেটা জানাব।”
এরপর কাহানি মে আরও ট্যুইস্ট আসে। সুস্মিতা লাইভে এসে ভেঙে পড়েন। সব্যসাচীর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ আনেন। এমনকি তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধেও একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করতে শনা যায় অভিনেত্রীকে। অপরদিকে চুপ না থেকে সব্যসাচীও সুস্মিতার বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দেন। উঠে আসে আরও একটা নতুন দিক। সাংবাদিক লেখেন, ‘এসব অন্যের ক্ষেত্রে খবর হয় । আজ আমিই !! আমি আইনি পথেই যাব । ঠিক । তবু আমার চুপ থাকা, ভদ্রতা কেউ দুর্বলতা ভাবলে মুশকিল প্রথমত, সুস্মিতার এটা ৫ নম্বর বিয়ে আমার সাথে আলাপ, দ্বিতীয় বিয়ের সময় আমি একটু ধাক্কা খেলেও হজম করেছি কিন্তু ওর প্রবল সন্দেহবাতিকতা আমি সহ্য করেছি । আমি মার খেয়েছি আর আমার চরিত্র বা যৌনতা প্রশ্নে? এটি প্রত্যেকটা সুস্মিতার ফ্যান্টাসি । আমি আপত্তি তুললে অন্য সম্পর্কে জড়াতো । আমি আইনি ভাবে তার সব প্রমাণ দেবো। বিয়ের পর একাধিক সম্পর্ক ভাই বিয়ে করে না কেন জানেন? কেন তার ওরিয়েন্টশন নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় জানেন? কারণ ও সুস্মিতাকে দেখেছে, বিয়ে নিয়ে ভয় আর মৃত বাচ্চা ? সুস্মিতার সেই প্রশ্ন করা উচিত ওর জিম ট্রেনারকে আমি স্বীকার করছি ।’
সব্যসাচী আরও লেখেন, ‘আমি শারীরিক, মানসিক ভাবে দিনের পর দিন অত্যাচারিত হয়েছি । এসব শুধু মেয়েদের হয় না । আমরাও গিলতে থাকি । সুস্মিতার মারধর,অশান্তি, একাধিক সম্পর্ক বাড়াবাড়ি ছিলো। প্রশ্ন তুললে আমার ঘাড়ে ফেলা হত । আমার চরিত্রে একই ভাবে প্রশ্ন উঠত এভাবেই ও বেরিয়ে গিয়েছিল আরেক ব্যবসায়ীর সাথে । একটা ওয়েব সিরিজ করেছিল তার টাকায় । সুস্মিতা বরাবরই বড়লোক হতে চাইত বিয়ের পর সত্যি আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিলো না । ও এর সুযোগ নিয়ে দিনের পর দিন স্বেচ্ছাচারিতা করে গিয়েছে । বদলে আমাকে গিফট দেওয়ার ব্যবস্থা । আপত্তি প্রবল হলে আমাকে ডিভোর্স আবার ফিরে আসা । আমি এত খারাপ হলে আবার কেন ? কিন্তু না , ওর ইমেজ ঠিক করে দিতে হবে । ভাইয়ের কাছে আবদার । ফ্যামিলি ব্লগিং শুরু । আবার বিয়ে, বাচ্চার দোহাই দিয়ে ! এরপর কোন মানুষে বাচ্চার সাহস পায় আমার জানা নেই । আমার নেই মায়া মায়া! এই মায়া পুরুষ মানুষকে খর্ব করে । আমি বুঝিয়ে গেছি । বলেছি ১:৪ । তুই যদি ১আমার ক্ষতি করিস , আমি কিন্তু আরও ৪ নিজের ক্ষতি করব তাতেও লাভ হলো কই । নিজের ভিডিও তুলে আমাকে দেখতে বাধ্য করা হত । ফ্যান্টাসি উলটোটা, অ্যাস ইফ আমি ওকে জোর করব ভিডিও দে । কেউ দেয় !? কোনও মেয়ে পারে ? কীসের বাধ্যবাধকতা ওর থেকে আর্থিক দুর্বল একটা ছেলের কাছে ? এক্সপ্লয়েট হয়েছি আমি আমার লজ্জা লাগছে আমাকে এই জায়গায় নামাতে হলো ।’
তিনি লেখেন, ‘আমি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী ওর বিকৃতি একসাথে থেকে সম্ভব ছিলো না । তাই আমাকে আলাদা নিয়ে আসে । ফ্ল্যাটের ডাউন পেমেন্ট ওই করে । ইএমআই , লোন আমার । আমি ওকে সাথ দিয়েছি । মায়ায় । সম্পর্ক বাঁচানো আমার প্রায়রিটি ছিলো , ওর না ! আমার মনে আছে , কোভিডের সময় ওর মা কে বাড়িতে ঢুকতে দেবে না বলে ওর বাবা মেরে নাক ফাটিয়ে দিয়েছিলো । পুলিশ দিয়ে আমি ব্যবস্থা নিইয়েছিলাম । ইমেজ । ইমেজ । ভেতরে যাই হোক , টাকা আর ইমেজ । এবারও ভাইকে প্রেসার করছিল । নতুন বিয়ে । ইমেজ হোক কর । ভাই এই রাতেও রাস্তায় আমি জানি । ও কাঁদছে আমি জানি । সুস্মিতা ওকে বলেছিল আয় না এলে তোদের সম্মান সব নষ্ট করে দেবো । শাবাশ সুস্মিতা । আপনি জিতে গেছেন । আমরা হেরে গেছি । আমি হার মানলাম । সম্পর্ক ছিলো তো আমার । কিন্তু বিবাহিত জীবনে থাকাকালীন কখনও না । ভালোবাসা চেয়েছিলাম । একসাথে থাকতে চেয়েছিলাম । পারভার্সন পেয়েছি , হজম করার ফল আজকের এই অসম্মান । ছেলে , পুরুষ মানুষ , আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি । ছেলেদের চুপ করে থাকতে হয় তাই না ? মার খেতে হয় !? কাঁদতে নেই , এসব না করলে আমি মেয়েলি, গে, অক্ষম! ?’
যদিও নিজের ‘ভুল’ বুঝতে পেরে আজ শুক্রবার আরও একটি পোস্ট করেন সাংবাদিক। তিনি লেখেন, ‘নাহ, কাল নিজের চূড়ান্ত ব্যক্তিগত বিষয়গুলো নিয়ে হ্যাজ নামানো হয়তো উচিৎ হয়নি! কিন্তু অন্যের নোংরামির দায় কেন বা নেব !? কাজে আছি । কাজেই থাকব । ভোট আসছে । এসব নিয়ে আর না । যা করার প্রপার ভাবে করব । ফেসবুকে আর না । যারা গালি দিতে চান , কমেন্ট বক্স তো খোলা । স্বাগত, আর যারা আমাদের পরিবারকে ভালোবাসেন তাদের ভালোবাসা আরও বড়, জানি। ওটাই ভরসা ছিলো , আছে , থাকবে।’
সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: চলতি বছরের শুরু থেকে সানি দেওয়ালের ‘বর্ডার ২’ নিয়ে যেরকম উন্মাদনা দেখা গিয়েছিল, তাকেও যেন এক কথায় ছাপিয়ে গেল রণবীর সিং (Ranveer Singh) এর সাম্প্রতিক ব্লকবাস্টার ‘ধুরন্ধর ২’ (Dhurandhar 2)। মুক্তির প্রথম দিনেই বক্স অফিসে একেবারে সুনামি তুলে দিল ছবিটি। প্রথম দিনেই ১০০ কোটির ক্লাবে নাম লিখিয়েছে এই হিন্দি সিনেমা। আদিত্য ধর পরিচালিত এই ছবিটি শুধুমাত্র বছরের সফল ছবি নয়, বরং গত ১১৩ বছরের হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে সর্বকালের সেরা ওপেনিং এর তকমা ছিনিয়ে নিল।
প্রথম দিনেই ঐতিহাসিক জয়
জানিয়ে দিই, ১৯ মার্চ অর্থাৎ গতকাল প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ‘ধুরন্ধর ২’ সিনেমাটি। আর মুক্তির আগে থেকেই ছবিটিকে ঘিরে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা কাজ করছিল। তার প্রতিফলন দেখা গেল প্রথম দিনের কালেকশনেই। প্রথম দিনের মূল শো শুরু হওয়ার আগেই প্রিভিউ থেকে ছবিটি ৪৩ কোটি টাকা আয় করে ফেলেছিল। এরপর মূল মুক্তি দিন এটি আরও ১০২.৫৫ কোটি টাকা আয় করে। অর্থাৎ, প্রিভিউসহ প্রথম দিনের মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪৫.৫৫ কোটি টাকা।
বলাবাহুল্য, হিন্দি ভার্সনটি ৮১ শতাংশ দর্শক উপস্থিতির মাধ্যমে একাই প্রায় ৯৯.১০ কোটি টাকা আয় করেছে। কিন্তু কিছু কারিগরি ত্রুটির কারণে দক্ষিণ ভারতে ছবিটি মুক্তিতে কিছুটা বিলম্ব ঘটে। তামিল এবং তেলেগু ভার্সন রাত ৯ টার আগে শুরু করা যায়নি। আর কন্নড় এবং মালায়ালাম ভার্সনটিও পিছিয়ে যায় বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত। কিন্তু তা সত্ত্বেও দক্ষিণী বাজার থেকেও কয়েক কোটি টাকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে রণবীর সিং পরিচালিত এই ছবি।
বলিউডের সেরা ওপেনারের তালিকায় শীর্ষস্থানে ‘ধুরন্ধর ২’
জানিয়ে রাখি, এখনও পর্যন্ত বলিউডে প্রথম দিনের আয়ের নিরিখে শাহরুখ খানের ‘জওয়ান’ এবং ‘পাঠান’ রাজত্ব করেছিল। তবে অতীতের সেই সব রেকর্ড অনায়াসেই গুঁড়িয়ে দিল ‘ধুরন্ধর ২’। প্রথম দিন আয় করা শীর্ষ পাঁচ ছবির তালিকায় রয়েছে—
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে মুক্তি পাওয়া ‘ধুরন্ধর’ এর সিক্যুয়েলটি শুধুমাত্র সিক্যুয়েল হিসেবে নয়, বরং স্বাধীন ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে। আর ট্রেন্ড অ্যানালিস্টরা বলছেন, যে গতিতে রণবীর সিং এবং আদিত্য ধরের এই ছবি ছুটছে, তাতে চলতে সপ্তাহের মধ্যেই ভারত থেকে এই ছবিটি ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা আয় করে ফেলবে।
সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ একদিন দেরিতে হলেও সামনে এল বাংলা সিরিয়ালগুলির টিআরপি তালিকা (TRP List)। প্রকাশ্যে এসেই গেল টিআরপি তালিকা। আর প্রতি সপ্তাহের মতো এই সপ্তাহেও একদম জমে ক্ষীর TRP-র খেলা। প্রতি সপ্তাহে কোন মেগা কাকে টেক্কা দিয়ে এগিয়ে গেল বা পিছিয়ে গেল সেটা জানার জন্য মুখিয়ে থাকেন দর্শকরা। কখনও তাঁদের ইচ্ছে পূরণ হয় তো আবার কখনও মন ভাঙে। এই সপ্তাহেও যার ব্যতিক্রম ঘটল না। আপনিও কি জানতে ইচ্ছুক এই সপ্তাহে কোন মেগা বেঙ্গল টপার হল? তাহলে বিশদে জানতে চোখ রাখুন আজকের এই প্রতিবেদনটির ওপর।
চলতি সপ্তাহে বেঙ্গল টপার কে?
এমনিতে সিরিয়াল প্রেমী থেকে শুরু করে একের পর এক বাংলা চ্যানেল কর্তৃপক্ষের বুকের ধুকপুকানি বেড়ে যাওয়া। কারণ লক্ষ্মীবারেই নির্ধারিত হয় কোন চ্যানেলের সিরিয়াল বেঙ্গল টপার হল এবং কোন সিরিয়াল টিআরপি লিস্টের একদম শেষে নেমে এল। তবে এই সপ্তাহে শুক্রবার টিআরপি তালিকা সামনে এসেছে। কিন্তু এই সপ্তাহে যেন এক কথায় তোলপাড় হয়ে গেল টিআরপি লিস্ট। টানা ২৮ বারের মতো টপার হল এক মেগা। নিশ্চয়ই ভাবছেন কোন মেগা?
তাহলে আর অপেক্ষা না করিয়ে জানিয়ে রাখি, এই সপ্তাহেও বেঙ্গল টপার হল জি বাংলার পরিণীতা। আর এই নিয়ে ২৮ বারের মতো বেঙ্গল টপারের তকমা ছিনিয়ে নিল মেগাটি। ফলে অভিনেতা, অভিনেত্রী থেকে সকলের মধ্যে এক আলাদাই আনন্দ রয়েছে। চলতি সপ্তাহে এই মেগার রেটিংস ৬.২। অন্যদিকে ৫.৮ রেটিংস পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছে জোয়ার ভাঁটা, পরশুরাম ।
এক নজরে সেরা ১০ সিরিয়ালের তালিকা
বেঙ্গল টপার- পরিণীতা 6.2
দ্বিতীয়- জোয়ার ভাঁটা, পরশুরাম 5.8
তৃতীয়- তারে ধরি ধরি মনে করি 5.7
চতুর্থ- রাঙামতি 5.5
পঞ্চম- ও মোর দরদিয়া, প্রোফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি 5.3
প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: টলিপাড়ায় ফের বাজল বিয়ের সানাই! ৩৬ বছর বয়সে দ্বিতীয়বার বিয়ে করলেন ছোটপর্দার পরিচিত মুখ সুস্মিতা রায় (Susmita Roy)। মঙ্গলবার রাতে সমাজমাধ্যমে সেই কথা শেয়ার করলেন অভিনেত্রী তথা ইনফ্লুয়েন্সার নিজেই। বিচ্ছেদের ৭ মাসের মাথায় সুস্মিতা রায়ের দ্বিতীয় বিয়ের এই সিদ্ধান্তে জোর সমালোচনা শুরু হয়েছে সমাজ মাধ্যমে। অন্যদিকে প্রাক্তন বউদিকে নতুন দাম্পত্যের শুভেচ্ছাতেও খোঁচা সায়কের!
দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে অভিনেত্রী
২০২৫ সালের জুলাইতে প্রকাশ্যে আসে অভিনেত্রী-ইনফ্লুয়েন্সার সুস্মিতা রায়ের সঙ্গে সব্যসাচী চক্রবর্তীর বিচ্ছেদের খবর। আর সেই নিয়ে কম কটাক্ষের শিকার হননি সুস্মিতা রায়। তবে এখন অবশ্য তিনি অভিনয় থেকে বিরতি নিয়েছেন। নিজের ব্যবসার পাশাপাশি ভ্লগার হিসেবেও বেশ জনপ্রিয় হয়েছেন তিনি। কিন্তু প্রায়শই তাঁকে নিয়ে বিতর্ক থাকতই। কিন্তু তিনি যে দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন তা কেউই আশঙ্কা করতে পারেনি। মঙ্গলবার রাতে সুস্মিতা রায় বিয়ের মণ্ডপে হাতে হাত রাখার একটি ছবি পোস্ট করেন৷ এবং লেখেন, “এই একটা ইচ্ছে কখনো মন থেকে মুছে যায়নি। একটা শব্দ শোনার আশা-‘মা’…আজ ছত্রিশ বছর বয়সে এসে সত্যিই আর কোনো ভনিতা করার সময় নেই… ৷ নিজেকে আর মিথ্যে সান্ত্বনা দেওয়ারও শক্তি নেই। বিয়ে করলাম….তোমরা সবাই আশীর্বাদ করো… ৷”
নানারকমের প্রতিক্রিয়া নেটপাড়ায়
সুস্মিতা শেয়ার করেচেন বধূর বেশ বিয়ের ছবিও। টুকটুকে লাল বেনারসী, খোলা চুল, হালকা সোনার গয়না এবং গলায় গোলাপের মালা ৷ পোস্টে লেখেন, “যখন আমরা দুজনেই নিজের নিজের লড়াইয়ে প্রায় ভেঙে পড়ছিলাম, তখনই একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে শক্তি হয়েছিলাম… সেখান থেকেই শুরু আমাদের নতুন পথচলা। আজ সেই মানুষটার হাত ধরেই জীবনের সবচেয়ে বড় বন্ধনে আবদ্ধ হলাম। লড়াইটা এখনও আছে… তবে এবার আমরা একসাথে।” নেটপাড়ায় নানারকমের প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। এক নেটিজেন লিখেছেন, “এটা সত্যি না প্রোমোশনের জন্য বুঝতে পারছি না, তবে সত্যি হলে অনেক শুভেচ্ছা ৷” আবার কেউ লিখেছেন, “এত বছরের একটা সম্পর্ক থেকে কীভাবে এত তাড়াতাড়ি বেরোনো সম্ভব ভাই? মানুষ দু বছরের প্রেম করে সেখান থেকে বেরিয়ে ভেঙ্গে পরছে,আর এ ছমাসে বিয়ে… ।”
অভিনেত্রী সুস্মিতা রায়ের পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পরেই প্রাক্তন দেওর অভিনেতা তথা ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তী ফেসবুকে তাঁর প্রাক্তন ‘কূটনী বৌদির’ ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন, “ভেবে ভালো লাগছে এই বরটাও আমারই খুঁজে দেওয়া । যদিও বর হবে জানতাম না । তবে এবার থামিস প্লিজ । এটাই যেন last বিয়ে হয়। এবার মা হলে আর নরমাল ডেলিভারির জন্য wait করিসনা..Btw Congratulations Mrs Dey..” তবে এখনও সুস্মিতা রায়ের প্রাক্তন স্বামীর তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফের বিতর্কে অভিনেতা জীতু কমল (Jeetu Kamal)! অভব্য আচরণ করার কারণে এবার সিনেমার মাঝপথেই বাদ দেওয়া হল জীতু কমলকে। প্রোডাকসন হাউস থেকে অভিযোগ জানানো হয় সিনেইন্ডাস্ট্রির অন্দরে ফিসফাস, সেটে কলাকুশলীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, একঘণ্টা অতিরিক্ত শুটিংয়ের জন্য চড়া পারিশ্রমিকের কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। কিছুদিন আগে ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর সেটে সহ-অভিনেত্রী দিতিপ্রিয়া রায় অভিযোগ তুলেছিল অভিনেতার বিরুদ্ধে। আর এবার পরিচালকের এহেন মন্তব্যে ইন্ডাস্ট্রিতে শুরু হয় গুঞ্জন। অবশেষে মুখ খোলেন অভিনেতা।
শ্যুটিং ফ্লোরে খারাপ আচরণ জীতুর
‘এরাও মানুষ দ্য সার্চ উইদিন’ ছবির পরিচালক সাইপ্রকাশ লাহিড়ী অভিযোগ জানিয়েছেন যে, “প্রথম দিন থেকেই অভিনেতা জীতু কমলের সঙ্গে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছিল। প্রায়ই দেখা যাচ্ছে সেখানকার স্পটবয় থেকে শুরু করে অনেক কলাকুশলীদের সঙ্গে শ্যুটিং ফ্লোরে খারাপ আচরণ করছিলেন তিনি।” এখানেই শেষ নয় শ্যুটিং এর সময় নিয়েও উঠছে একাধিক বিতর্ক। শিডিউল অনুযায়ী, শুটিং শেষ হতে যখন মাত্র দু’দিন বাকি, সেই সময় অভিনেতা নাকি প্রযোজনা সংস্থাকে জানান যে তিনি গত দু’দিনে ব্যক্তিগত কারণে ১০ ঘণ্টার বেশি শুটিং করতে পারবেন না। যদি ১০ ঘণ্টার অতিরিক্ত এক ঘণ্টা কাজ করতে হয়, তাহলে সেই সময়ের জন্য এক দিনের পারিশ্রমিক অতিরিক্ত দিতে হবে।
পায়ে হাত দিয়ে ক্ষমা চাওয়ার নিদান জীতুর
অভিযোগ মাত্র এক ঘণ্টার জন্য প্রায় দেড় লক্ষ টাকা দেওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। ফলে সেই দিনের শুটিং কার্যত ভেস্তে যায়। এমনকি মেকাপ নিয়েও হয় ঝামেলা। অন্যদিকে সেটে এসে মেকআপ করতেও আপত্তি জানান অভিনেতা জীতু কমল। তিনি শর্ত দেন সহ-অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় যতদিন আসবেন না, তিনি মেকআপে বসবেন না। ফলের শুটিং এর ক্ষেত্রে সেদিনও অসুবিধা মুখে পড়তে হয় সকলকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউনিটের একজন সহকারী পরিচালক অভিনেতার ভ্যানে গিয়ে কথা বলেন। অভিযোগ, সেই সময় জীতু নাকি হঠাৎ বলেন—প্রথমে তাঁর ‘পায়ে হাত দিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে’। পরিচালকের দাবি, এরপরই অভিনেতা নিজে থেকেই সেট ছেড়ে বেরিয়ে যান। সেকারণেই তাই ছবির মাঝপথে জীতুকে বাদ দিতে বাধ্য হন নির্মাতারা।
পাল্টা অভিযোগ অভিনেতার
নির্মাতাদের তরফে জানানো হয়েছে ছবির প্রচারের জন্য যে ১৫টি আলাদা তারিখ নির্ধারিত ছিল এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের যে চুক্তি করা হয়েছিল, সেগুলিও বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই জীতুকে প্রায় ১২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। ডাবিংয়ের জন্য আরও ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পাওয়ার কথা ছিল। চুক্তি বাতিলের নোটিসে সেই অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে এই অভিযোগের ভিত্তিতে পাল্টা হেনস্তার অভিযোগ তোলেন অভিনেতাও। জীতু কমলের মন্তব্য, প্রথম দিন থেকে ডেটের সমস্যা ছিল। ডেট দিয়েও প্রোডাকশনের তরফে বারবার ডেট চেঞ্জ করে দেওয়া হচ্ছিল। সেটাও একদিন কিংবা দু’দিন নয়। ৫-৬ দিন এমন হয়রানির শিকার হই। ঠিক সময় গাড়ি না দেওয়া নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন জীতু কমল।
পায়ে হাত দিয়ে ক্ষমা চাওয়ার অভিযোগ নিয়ে, অভিনেতা জীতু কমল বলেন, “আমার কাছেও ভিডিও ফুটেজ আছে। আমায় সবার সামনে বলা হয়েছে- ‘এটা কি হারামের টাকা? মেরে তোমায় ঠান্ডা করে দেব! তোমার গায়ে কেউ হাত দেয়নি বলে তুমি এসব করে বেড়াচ্ছ।’ আমি ভেবেছি ঠাট্টা করছে। তাই আমিও বলেছি, মারো মারো। এরপর আমার মুখের উপর জোরে দরজাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখনই আমি বেরিয়ে আসি।” অভিযোগ জমা পড়েছে ফোরামের কাছে। তদন্ত করা হচ্ছে।
প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বনগাঁ কাণ্ডে অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর কনসার্টকে ঘিরে বিতর্কের শেষ নেই। এখনও আইনি জটে আটকে মামলা। কিন্তু তবুও শিল্পীদের প্রতি অসম্মানের ঘটনা প্রায়শই শোনা যাচ্ছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন গায়ক শিলাজিৎ মজুমদার। গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার, সেন্ট্রাল পার্ক বইমেলা প্রাঙ্গনে শো করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হল গায়ককে (Silajit Majumder)। বাধ্য হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন শিলাজিৎ।
ভরা মঞ্চেই শিলাজিৎ-কে অপমান পুলিশের!
রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার সেন্ট্রাল পার্ক বইমেলা প্রাঙ্গনে একটি শো ছিল গায়ক শিলাজিৎ মজুমদারের। সেই শোয়ের সময় রাত ১১টা পর্যন্ত ছিল। কিন্তু ১০:৫৮ নাগাদ গান বন্ধ করে দেওয়ার ঠিক পরেই সেখানকার পুলিশ নোংরা ইশারা করে হাত দেখাতে শুরু করে শিলাজিৎ-কে। শুধু তাই নয় অপমানের ইঙ্গিতে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলা হয় আর তাতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন গায়ক। ভরা মঞ্চেই দর্শকদের সামনে পুলিশের উদ্দেশে শিলাজিৎ বলেন, “আপনি এভাবে আমাকে অসম্মান করতে পারেন না। এর থেকে অনেক বেশি আওয়াজ আপনি সহ্য করেন। আমাকে তো অর্গানাইজাররা ১১টা পর্যন্ত সময় দিয়েছে। এখন তো ১১টা বাজেওনি।”
View this post on Instagram
ক্ষোভ প্রকাশ করলেন গায়ক
শুক্রবার, সেন্ট্রাল পার্ক বইমেলা প্রাঙ্গনে পুলিশের সঙ্গে রীতিমত তর্ক বিতর্ক শুরু হয়ে যায় শিলাজিৎ মজুমদারের। তিনি ক্ষুব্ধ স্বরে মাইক হাতে নিয়ে বলেন, “আমি নেমে যাচ্ছি মঞ্চ থেকে। কিন্তু স্যার, এমনভাবে বাজে ইঙ্গিত করে শিল্পীকে নামিয়ে দেবেন না। ৩২ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে গান গাইছি, আপনি আমাকে না চিনতে পারেন, কিন্তু এখানে আসা অনেক লোকই আমাকে চেনেন। ৫টা মিনিট গান গাইলে এত লোক আনন্দ পাবে। তাতে আপনাদের এত ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে? ইলেকশনে রাজনৈতিক দলের বেলা কী করবেন সেটা দেখব।” এই বলেই মঞ্চ থেকে নেমে যান তিনি।
প্রসঙ্গত, এর আগে চলতি মাসে কৃষ্ণনগরে একটি কনসার্টেও গান গাইতে গিয়ে খারাপ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন শিলাজিৎ। পরে সেই নিয়ে ভিডিওতে তিনি বলেন, অনুষ্ঠান চলাকালীন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যাতে তিনি তাঁর অনেক জনপ্রিয় গান গাইতেই পারেননি। বিশেষ করে ভক্তদের অনুরোধ থাকা সত্ত্বেও ‘বসুন্ধরা’ কিংবা ‘সর্বনাশ’ গাওয়া সম্ভব হয়নি। শুধু গানই নয়, তিনি দর্শকদের সঙ্গে কিছুক্ষণ গল্প করতেও চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই সুযোগও নাকি তাঁকে দেওয়া হয়নি।
প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফেব্রুয়ারিতে আচমকাই শমীক অধিকারীর (Shamik Adhikary) গ্রেফতারির খবর শুনে চমকে উঠেছিল গোটা নেটপাড়া। তাঁর বিরুদ্ধে প্রেমিকাকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল, রুজু করা হয় ধর্ষণের মামলা। কয়েকদিন জুডিশিয়াল কাস্টডিতে ছিলেন তিনি। তবে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর অবশেষে আদালত তাঁকে জামিন মঞ্জুর করেছে (Shamik Adhikary Bail Granted)। বাড়ি ফিরলেন শমীক।
ঠিক কী ঘটেছিল?
রিপোর্ট মোতাবেক, নির্যাতিতা ছিলেন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর শমীক অধিকারীর বন্ধু তথা প্রেমিকা। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, শমীক ফ্ল্যাট শিফটিং করার সময় তরুণীকে বাড়িতে ডেকেছিল। তখনই শুরু হয়েছিল সমস্যা, হাতাহাতি এবং ধস্তাধস্তির পর ওই তরুণীর মোবাইল কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি ঘরে আটকে রেখে মানসিক এবং ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এরপরেই শমীকের বিরুদ্ধে ন্যায় সঙ্গীতার ১২৭ (২), ১১৫ (২), ৩৫১ (২) ধারায় মামলার রুজু করা হয়। যদিও জেলে থাকাকালীন যতবার তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন, ততবার তিনি বলেছিলেন যে তাঁকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে, তিনি কোনও অপরাধ করেননি। অবশেষে বৃহস্পতিবার তাঁর জামিন হয়েছে।
জামিন পেলেন শমীক
আদালতে শমীক অধিকারীকে প্রথমে জামিন দেয়নি বিচারপতি, অবশেষে ৪৫ দিন পর জামিনে মুক্ত হয়ে বাইরে এলেন তিনি। একই সঙ্গে খারিজ হল তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণের অভিযোগ। এদিন জেল থেকে বেরিয়েই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন শমীক। আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি বলেন, “আমি জানতাম সময় লাগবে, সত্যিটা বাইরে আসতে। কিন্তু…। সত্যি বলতে একটাই চিন্তা ছিল, বাবা মা কী দিয়ে যাচ্ছে। এই চিন্তাতেই আমি ভেঙে পড়েছিলাম। আমি বাড়ি ফিরছি, সেটা এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না।” তিনি আরও বলেন, “আমায় ফাঁসানো হয়েছিল। সময় সেটার উত্তর দিয়েছে। সত্যের জয় হয়েছে। আমায় যে টেনে নামানোর চেষ্টা করা হল…. আমার বাবা মা, দাদা, আমার উকিলরা আমার পাশে থাকলে আমি এর দশ গুণ উপরে উঠব।”
জামিনে মুক্ত হলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় আবারও কন্টেন্ট বানাতে পারবেন কিনা ননসেন ওরফে শমীক সেই নিয়ে উঠছে নানাবিধ প্রশ্ন। সেই নিয়ে তাঁর আইনজীবী জানান “হ্যাঁ, ভিডিও বানাতে পারবেন। তবে বেশ কিছু শর্ত মানতে হবে তাঁকে। ৩ মাস ওকে রেস্ট্রিকশন মেনে থাকতে হবে।” যদিও আইনগত লড়াই এখনও শেষ হয়নি। জামিন পেলেও মামলার তদন্ত চলবে এবং আদালতেই নির্ধারিত হবে অভিযোগের সত্যতা।
প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: যত দিন যাচ্ছে ততই যেন সব ধারাবাহিকের টিআরপি (TRP) ক্রমশ জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। কয়েক বছর আগেও যেখানে ধারাবাহিকের কাহিনী অভিনয় দর্শকদের মন ছুঁয়ে যেত, তবে এখন বেশিরভাগের টার্গেট থাকে ধারাবাহিকের টিআরপি আরও বাড়াতে। ফলস্বরূপ ধারাবাহিকের মান ক্রমেই কমছে। আর এই অবস্থায় জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় আসছে এক নতুন ধারাবাহিক সাত পাকে বাঁধা (Saat Pake Bandha)। কিন্তু ধারাবাহিক শুরু হওয়ার আগেই দ্বিতীয়বার বদলে গেল স্লট।
দ্বিতীয়বার স্লট চেঞ্জ নয়া ধারাবাহিকের
আগামী ১৯ মার্চ থেকে জি বাংলায় আসতে চলেছে নয়া ধারাবাহিক ‘সাত পাকে বাঁধা’। ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে ধারাবাহিকের প্রোমো। গল্পে নায়ক শুভর চরিত্রে দেখা যাবে রাহুল মজুমদারকে, এবং নায়িকা শাওনের চরিত্রে অভিনয় করছেন নবাগতা সম্পূর্ণা রক্ষিত। এছাড়াও থাকবে দেবদূত ঘোষ এবং চান্দ্রেয়ী ঘোষ। এর আগে চ্যানেলের তরফ থেকে প্রথম প্রোমো দিয়ে জানানো হয়েছিল যে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রাত ৯টার স্লটে আসবে এই মেগা। কিন্তু ঘোষণা হওয়ার পরেও, ধারাবাহিক শুরু হয়নি দেখে অনেকেই হতবাক হয়েছিলেন। এরপর দ্বিতীয় স্লট ঘোষণা করা হল। জানা গিয়েছে, আগামী ১৯ মার্চ থেকে বিকেল ৫.৩০-এ আসছে ধারাবাহিকটি। ইতিমধ্যেই দ্বিতীয়বার প্রকাশ্যে এসেছে প্রোমো।
View this post on Instagram
ধারাবাহিকের কাহিনী মন ছুঁয়েছে দর্শকদের
প্রথমে, চ্যানেলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাত ৯টায় নতুন ধারাবাহিক ‘সাত পাকে বাঁধা’র সম্প্রচার হবে ঠিক হয়েছিল। আর এই রাত ৯টা ধারাবাহিকের টেলিকাস্টের ক্ষেত্রে প্রাইম টাইম বলা যায়। সেই সময় ‘জোয়ার ভাঁটা’র সম্প্রচার হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিল তাহলে ঐ ধারাবাহিকের টাইম স্লট কখন হবে। শেষে দেখা গেল রাত ৯টা নয়, ১৯ মার্চ থেকে বিকেল ৫.৩০-এ আসছে ধারাবাহিকটি। গল্পের নায়িকা, শাওনের বাবা শিক্ষামন্ত্রী, কিন্তু মেয়ের ব্যাপারে বড্ড উদাসীন। আর শাওনের বাবা সেক্রেটারি হল নায়ক শুভ। সে এক নিম্ন মধ্যবিত্ত বাড়ির ছেলে, সেখানে অর্থের অভাব থাকলেও, ভালোবাসা আছে ভরে ভরে। এদিকে শাওনের বাড়িতে উল্টোটা, অর্থের অভাব না থাকলেও ভালবাসা নেই একদমই। কিভাবে এই সম্পর্কের সমীকরণ বদলাবে তাই দেখা যাবে ধারাবাহিকে।
প্রসঙ্গত, জি বাংলায় দর্শকদের ভালোবাসায় আরও এক নয়া ধারাবাহিক আসতে চলেছে, অভিনেত্রী সোহিনী সেনগুপ্ত এবং অভিনেতা দেবশংকর হালদারের ‘কমলা নিবাস’। নতুন ধারাবাহিকের অপেক্ষায় দর্শকও। ‘কমলা নিবাস’-র গল্প আবর্তিত হবে শ্রীনিবাস গুহ ও তার স্ত্রী কমলাকে কেন্দ্র করে। মধ্যবয়সী দম্পতির সম্পর্কের স্নিগ্ধতা, তাদের ইচ্ছেপূরণের বাসনা এবং সর্বপরি, মধ্যবিত্ত বাড়ির সংসারের এক সহজ সরল প্রতিচ্ছবি তুলে ধরবে এই মেগা।
সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ অবশেষে আরও একবার অপেক্ষার অবসান ঘটল। প্রত্যাশা মতো আজ বৃহস্পতিবার অর্থাৎ লক্ষ্মীবারে প্রকাশ্যে এল বাংলা সিরিয়ালগুলির টিআরপি (TRP List) তালিকা। আর যথারীতি এবারেও তালিকায় রয়েছে চমক। প্রতি সপ্তাহের মতো এই সপ্তাহেই জমজমাট হয়ে উঠেছে বাংলার মেগা ধারাবাহিকগুলির লড়াই। কে কাকে টেক্কা দিয়ে এগিয়ে যাবে, সেই লড়াই যেন দিনে দিনে আরও তীব্র হয়ে উঠছে। তবে সপ্তাহ শেষে টিআরপিই শেষ কথা বলে। আপনিও কি জানতে ইচ্ছুক এই সপ্তাহে কোন মেগা বেঙ্গল টপার হয়েছে কিংবা কোন মেগা কেমন কী ফল করেছে? জানতে চোখ রাখুন আজকের এই প্রতিবেদনটির ওপর।
চলতি সপ্তাহে বেঙ্গল টপার কে?
সম্প্রতি শেষ হয়েছে টি ২০ বিশ্বকাপ। একদিকে যখন বেশিরভাগ মানুষ বিশ্বকাপ নিয়ে বুঁদ ছিলেন তো কিছু মানুষ বাংলা সিরিয়াল নিয়ে মেতে ছিলেন। যার ফলও মিলেছে টিআরপি রেটিংস-এ। নানা ইভেন্ট থাকার কারণে টিআরপি রেটিংস-এ ভালো মতো প্রভাব পড়েছে। এক ধাক্কায় অনেকটাই নম্বর কমেছে মেগাগুলির। যাইহোক, তারপরেও সামনে এসেছে কোন সিরিয়াল কেমন কী ফলাফল করেছে সেটা। জানেন কি কোন সিরিয়াল চলতি সপ্তাহে বেঙ্গল টপারের তকমা পেয়ে বাজিমাত করল? তাহলে জেনে নিন বিশদে।
চলতি সপ্তাহেও কিন্তু বেঙ্গল টপারের তকমা ছিনিয়ে নিল জি বাংলার পরিণীতা। আর এই নিয়ে ব্যাক টু ব্যাক নিজের রেকর্ড ধরে রাখল পারুল ও রায়ানের জুটি। চলতি সপ্তাহে 6.0 রেটিংস পেয়ে প্রথম হল জি বাংলার এই মেগা ধারাবাহিকটি। অপরদিকে 5.9 রেটিংস পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছে জোয়ার ভাঁটা। কী পরিস্থিতি পরশুরামের, চলুন জেনে নেওয়া যাক।