Category: ব্যবসা

  • ২৫ হাজার কোটির মেগা চুক্তি! গ্রিন এনার্জি সেক্টরে বিরাট কৃতিত্ব রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের

    ২৫ হাজার কোটির মেগা চুক্তি! গ্রিন এনার্জি সেক্টরে বিরাট কৃতিত্ব রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশের সবুজ জ্বালানি ক্ষেত্রে এবার বিরাট সাফল্য পেল রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (Reliance Industries)। দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্থা Samsung C&T Corporation এর সঙ্গে এবার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এই সংস্থা। আর এই চুক্তির আওতায় আগামী ১৫ বছর ধরে গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহ করবে রিলায়েন্স, এমনটাই জানানো হয়েছে। জানা যাচ্ছে, এই চুক্তির মোট মূল্য প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা বিশ্বের সবথেকে বড় গ্রীন অ্যামোনিয়া সরবরাহ চুক্তি হিসেবেই মনে করা হচ্ছে।

    কী এই চুক্তির বিশেষত্ব?

    রিলায়েন্সের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই চুক্তি কার্যকর হবে ২০২৯ সালের দ্বিতীয় পর্যায়ে। আর এর মাধ্যমে ভারত থেকে উৎপাদিত গ্রিন অ্যামোনিয়া বিদেশে রফতানি করা হবে। জানা যাচ্ছে, এই চুক্তির আওতায় ভারত সবুজ জ্বালানি রফতানিকারক দেশ হিসেবে পাকাপোক্ত অবস্থান করবে। আর এটি সম্পূর্ণ এনার্জি ইকো সিস্টেম তৈরি করবে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তি স্টোরেজ, হাইড্রোজেন এবং রাসায়নিক উৎপাদন সবই এবার এক ছাতার তলায় আসবে।

    প্রসঙ্গত, এই গ্রিন অ্যামোনিয়া এমন এক ধরনের জ্বালানি, যেটি তৈরি হয় গ্রিন হাইড্রোজেন থেকে। আর এতে কার্বন নিঃসরণ খুবই কম হয়। এটি পরিষ্কার জ্বালানি হিসেবে, সার উৎপাদন এবং ভবিষ্যতের ফুয়েল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আর বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভবিষ্যতের ক্লিন ফুয়েল ইকোনমির সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এদিকে রিলায়েন্স জানিয়েছে যে, এই প্রকল্পটি দেশের ন্যাশনাল গ্রিন হাইড্রোজেন মিশনের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। যার ফলে দেশে ক্লিন এনার্জি ম্যানুফ্যাকচারিং আরও বাড়বে আর মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে। শুধু তাই নয়, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।

    আরও পড়ুন: LPG সঙ্কটের মাঝে গ্যাস নিয়ে নয়া নির্দেশনা, না মানলে মিলবে না সিলিন্ডার

    এ বিষয়ে রিলায়েন্সের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অনন্ত আম্বানি বলেছেন, এই চুক্তি ভারতের ক্লিন এনার্জি যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে চলেছে। রিলায়েন্সের মূল লক্ষ্য হবে সৌরশক্তি, ব্যাটারি স্টোরেজ, ইলেক্ট্রোলাইজার প্রযুক্তি। এই সমস্ত ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো আর বিশ্বমানের অবকাঠামো গড়ে তোলা। এমনকি এই চুক্তি শুধুমাত্র শুরু। কারণ রিলায়েন্সের তরফ থেকে এও জানানো হয়েছে, আরও একটি দীর্ঘমেয়াদী আন্তর্জাতিক চুক্তি করা হবে, যেটি গিগাফ্যাক্টরি আর গ্রিন হাইড্রোজেন ইকোসিস্টেম দ্রুত বাড়াবে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

  • ভারত থেকে আরও ৪৫ হাজার টন ডিজেল কিনবে বাংলাদেশ

    ভারত থেকে আরও ৪৫ হাজার টন ডিজেল কিনবে বাংলাদেশ

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সেই প্রতিবেশী দেশই ভরসা। সংকটের মুখে আবারো ভারত থেকে ডিজেল আমদানি করবে বাংলাদেশ (Bangladesh Import Diesel)। ইতিমধ্যেই ৫ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে পাঠিয়েছে ভারত (India-Bangladesh Trade)। আর এবার আরও ৪৫ হাজার টন ডিজেল আমদানি করার পথে ওপার বাংলা সরকার। সম্প্রতি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার মোহম্মদ মুরশিদ হোসেন আজাদ ফোনে সংবাদমাধ্যম এএনআইকে নিজেই এ কথা জানিয়েছেন। তাহলে আবারও উন্নত হচ্ছে দুই দেশের সম্পর্ক?

    বাংলাদেশে ফের ৪৫ হাজার টন ডিজেল আমদানি

    ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী ১৮ বা ১৯ মার্চের মধ্যে ভারত থেকে ৫ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে যাবে এবং আরও অতিরিক্ত ৪০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব রয়েছে। অর্থাৎ সবমিলিয়ে মোট ৪৫ হাজার টন ডিজেল নেবে বাংলাদেশ। তবে তার জন্য কিছু প্রক্রিয়াগত কাজ রয়েছে। সেগুলো সম্পন্ন হলেই এই বিপুল পরিমাণ তেল এপ্রিল মাসের মধ্যে ওপার বাংলায় পৌঁছবে। এক্ষেত্রে জানিয়ে রাখি, দুই দেশের মধ্যে ডিজেল সরবরাহ উন্নত করার জন্য ২০২৩ সালের মার্চ মাসে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন উদ্বোধন করা হয়েছিল। আর সেই চুক্তির মাধ্যমেই এই ডিজেল সরবরাহ করা হয়।

    জানা যায়, ওপার বাংলার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যেই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, এবং ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকেই বাংলাদেশের পার্বতীপুর ডিপোতে নিয়মিত পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি করা হয়। কিন্তু ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর এই চুক্তিতে ভাটা পড়ে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে ডিজেল আমদানি নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল। তারপরে দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকে। কিন্তু নির্বাচনের পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পরেই গত কয়েকদিনে পাইপলাইনের মাধ্যমে আবারো ৫ হাজার টন ডিজেল আমদানি হয়েছে এবং আরও ৪৫ হাজার টন আমদানি হবে।

    আরও পড়ুন: মমতার ধরনা মঞ্চে ‘ভুয়ো সাধু’? ‘আমাদের কেউ না’ রামকৃষ্ণ মিশনের বিজ্ঞপ্তিতে নতুন বিতর্ক

    বলাই বাহুল্য, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের কারণে মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে অন্যান্য যানবাহনের জ্বালানি ভরার জন্য দিনের পর দিন পেট্রোল পাম্পে ভিড় জমাচ্ছে সাধারণ মানুষ। সেই বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্প্রতি জ্বালানি বিক্রির উপর রেশনিং সিস্টেমও আরোপ করেছিল। তবে এখন সরকার সেই বিধিনিষেধ তুলে দিয়েছে। আর যেহেতু সামনেই ঈদ, তাই বাংলাদেশের সবথেকে বড় উৎসবকে কেন্দ্র করে শহর থেকে গ্রাম সব জায়গায় জ্বালানি বিক্রি আরও বাড়বে বলেই অনুমান করা হচ্ছে। এমনকি কর্মকর্তারা বলছেন যে, দেশে এখনো পর্যন্ত পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। কিন্তু ঈদের সময় যাতে কোনও রকম সমস্যা না হয়, তার জন্যই তারেক রহমান সরকার ভারত থেকে আরও ৪৫ হাজার টন ডিজেল আমদানির পথে।

  • ২ লাখ টাকা দেবে কেন্দ্র, প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি কেন্দ্র খুলে শুরু করুন নিজের ব্যবসা

    ২ লাখ টাকা দেবে কেন্দ্র, প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি কেন্দ্র খুলে শুরু করুন নিজের ব্যবসা

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ব্যবসা (Business) শুরুর করবেন বলে ঠিক করছেন, কিন্তু পুঁজি সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে? তাহলে আপনার জন্য রইল দারুণ খবর। কারণ, এবার কেন্দ্রীয় সরকার এমন একটি সুবিধা নিয়ে এসেছে, যেখানে আপনি ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সাহায্য পাবেন ব্যবসার ক্ষেত্রে। আর এই ব্যবসায় প্রতিমাসে মোটা অংকের টাকা আয় করতে পারবেন। হ্যাঁ, আমরা বলছি প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি কেন্দ্র (Jan Aushadhi Yojana) খোলার কথা, যেখানে কেন্দ্রের সহায়তাতেই ব্যবসা করে মাস গেলে প্রচুর আয় করার সুযোগ থাকবে।

    দারুণ সুযোগ দিচ্ছে কেন্দ্র সরকার

    বলে রাখি, কেন্দ্র সরকার প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি পরিযোজনার আওতায় নিজের ব্যবসা করার সুযোগ দিচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল বা যে সমস্ত শহরে ওষুধের দোকানের অভাব, সেখানে এই ওষুধের দোকান খুলে আপনি নিজেই স্বাবলম্বী হতে পারবেন এবং সাধারন মানুষ এখান থেকে সস্তায় ওষুধ কিনতে পারবে। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, এই প্রকল্পে কেন্দ্র সরকারই সুবিধা দেবে। বর্তমান সময়ে চিকিৎসার খরচ সাধারণ মানুষের কাছে এমনিতেই হিমশিম খাওয়া ব্যাপার। সেই সমস্যা সমাধান করতেই এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ করতেই কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্প চালু করেছে।

    বলে দিই, জনঔষধি কেন্দ্র আসলে এমন ধরনের ওষুধের দোকান, যেখানে উচ্চমানের ওষুধ পাওয়া যায়। কিন্তু এই ওষুধের দাম অন্যান্য দোকানের তুলনায় অনেকটাই কম। হ্যাঁ, এই ওষুধগুলোর গুনগত মান আর কার্যকারিতা ব্র্যান্ডেড ওষুধের সমান হলেও দাম ৯০% পর্যন্ত কম হয়ে থাকে। সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ২০২৭ সালের মধ্যেই দেশে আরও ২৫ হাজার জনঔষধি কেন্দ্র গড়ে তোলা। তাই আপনার জন্য হতে পারে এটি সুবর্ণ সুযোগ।

    কারা এখানে আবেদন করতে পারবেন?

    এই জন ঔষধি কেন্দ্র খোলার জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোক্তা বা বেকার ফার্মাসিস্ট হতে হবে। তাহলেই আবেদন করা যাবে। পাশাপাশি রেজিস্টার্ড ডাক্তার বা মেডিকেল প্র্যাকটিশনার হতে হবে, কিংবা কোনও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট বা প্রাইভেট হাসপাতালের তরফ থেকেও এই ঔষধের দোকান খুলতে পারবেন। এছাড়া যে কোনও স্বীকৃত সংস্থাকেও এই ওষুধের দোকান খোলার অনুমতি দেওয়া হয়ে থাকে। তবে অবশ্যই নিজের কিংবা ভাড়া নেওয়া ১২০ বর্গফুট জায়গা থাকতে হবে। আর আবেদনকারীকে বি.ফার্মা বা ডি.ফার্মা ডিগ্রীধারী হতে হবে।

    কত টাকা সাহায্য পাবেন?

    প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি প্রকল্পের এই কেন্দ্রগুলি স্থাপনের জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ দেওয়া হয়। সাধারণত ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ইনসেন্টিভ মেলে আর বিশেষ সহায়তা হিসেবে আরও ২ লক্ষ টাকা পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে মহিলা উদ্যোক্তা, এসসি, এসটি বা প্রাক্তন সেনা কর্মীদের জন্য এই অতিরিক্ত টাকা দেওয়া হয়। আর দোকানের ফার্নিচার বা পরিকাঠামোর জন্য ১.৫০ লক্ষ টাকা সহায়তা করা হয়। এছাড়াও কম্পিউটার, প্রিন্টার বা ইন্টারনেটের জন্য আরও ৫০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা মেলে।

    আরও পড়ুন: ‘নোংরা ইশারা!’ মঞ্চ থেকে পুলিশের উপর চটলেন শিলাজিৎ, কী হয়েছিল গায়কের সঙ্গে?

    আবেদন করবেন কীভাবে?

    এখানে সম্পূর্ণ অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। এর জন্য আপনাকে নিম্নলিখিত ধাপগুলি অনুসরণ করতে হবে—

    • প্রথমে সংস্থার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট janaushadhi.gov.in-তে যান।
    • এরপর এপ্লাই অনলাইন অপশনটিতে ক্লিক করে নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।
    • তারপর নিজের প্রয়োজনীয় তথ্য আর দোকানের সমস্ত তথ্য দিয়ে আবেদন ফর্মটি পূরণ করুন।
    • তারপর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করে সাবমিট করে দিন। আবেদন জমা পড়লে বিচার বিভাগীয় যাচাইকরণ সম্পন্ন হলে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করে নেওয়া হবে।
  • শুধু গ্যাস-তেল নয়, যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে বাড়তে পারে বৈদ্যুতিক পণ্যের দাম

    শুধু গ্যাস-তেল নয়, যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে বাড়তে পারে বৈদ্যুতিক পণ্যের দাম

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় চলা যুদ্ধের (Iran-Israel War) প্রভাব ধীরে ধীরে অর্থনীতির উপর পড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই রান্নার গ্যাস এবং পেট্রোল ডিজেলের সরবরাহ নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। কিন্তু অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, সামনে আসতে বলেছে আরও বিরাট ধাক্কা। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক পণ্যের বাজারে। হ্যাঁ, বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে স্মার্টফোন থেকে শুরু করে ল্যাপটপ, ইন্ডাকশন কুকার, মাইক্রোওয়েভ সহ বিভিন্ন রকম বৈদ্যুতিক পণ্যের (Electronic Product) দাম হু হু করে বাড়তে পারে।

    হরমুজ প্রণালী নিয়েই উদ্বেগ

    প্রসঙ্গত, পশ্চিম এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী বর্তমানে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের সবথেকে প্রধান কেন্দ্র। আর এই পথ দিয়ে বিশ্বের বড় বড় অংশের তেল এবং গ্যাস পরিবহন হয়। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে এই রুটে জাহাজ চলাচল নিয়ে দিনের পর দিন অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। যার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ আর কাঁচামালের উপর চাপ পড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিল্প উৎপাদনের উপর।

    কেন বাড়তে পারে বৈদ্যুতিক পণ্যের দাম?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে মূলত দুটি কারণ কাজ করছে। প্রথমত, সালফিউরিক অ্যাসিডের সম্ভাব্য সংকট। সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরির ক্ষেত্রে সালফিউরিক অ্যাসিড সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কিন্তু এই অ্যাসিড তৈরির কাঁচামাল সালফার মূলত খনিজ তেল পরিশোধনের উপর নির্ভর করে থাকে। আর যদি তেল সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে উৎপাদনও কমে যেতে পারে। যার ফলে চিপ তৈরির কাঁচামালে ঘাটতি দেখা দেবে। আর দ্বিতীয়ত রয়েছে চিপ উৎপাদনে বাধা। কারণ, বিশ্বের সবথেকে বড় অংশের সেমিকন্ডাক্টর চিপ তৈরি হয় তাইওয়ানে। আর সেখানে চিপ কারখানাগুলি সচল রাখার জন্য বিপুল বিদ্যুৎ দরকার। কিন্তু ওই বিদ্যুতের একটি বিরাট অংশ উৎপাদিত হয় এলএনজি থেকে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহের সমস্যা দেখা দিলে চিপ উৎপাদনেও পড়তে পারে প্রভাব।

    এদিকে বাজার সূত্রে খবর, চলতি বছরের মার্চ মাসে ল্যাপটপ এবং ডেস্কটপ কম্পিউটারের দাম প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। আর বিশ্লেষকদের মতে, যদি পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে এরকম ভাবে চলতে থাকে, তাহলে আগামী অর্থবছরে এই বৃদ্ধি ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত গিয়ে ঠেকতে পারে। এমনকি শুধু স্মার্টফোন বা কম্পিউটার নয়, বরং এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে পারে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারেও। কারণ, আধুনিক ইলেকট্রিক গাড়িগুলি তৈরির ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্ট ব্যবহার করতে হয়।

    আরও পড়ুন: ১ এপ্রিল থেকেই বেড়ে যাচ্ছে বার্ষিক টোল পাসের দাম, কত খরচ হবে জানুন

    পোশাক শিল্পে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা

    প্রসঙ্গত, এই সংকটের প্রভাব পড়তে পারে বস্ত্রশিল্পের উপরেও। কারণ, অনেক পোশাক তৈরিতে ব্যবহৃত পলিয়েস্টার মূলত পেট্রো ক্যামিকেল থেকে তৈরি করা হয়। আর তেল ভিত্তিক কাঁচামালের দাম বাড়লে পোশাক শিল্পের উৎপাদন খরচে বাড়তে পারে। ইতিমধ্যেই পলিয়েস্টারের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ঊর্ধ্বগতিতে ঠেকেছে। আর তেলের সংকট তো রয়েছেই। এক কথায়, বৈশ্বিক পরিস্থিতি দিনের পর দিন অর্থনীতির উপর যে চাপ সৃষ্টি করছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

  • ভারতের থেকে আরও ডিজেল চাইছে বাংলাদেশ, কী বলছে দিল্লি?

    ভারতের থেকে আরও ডিজেল চাইছে বাংলাদেশ, কী বলছে দিল্লি?

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ (Middle East War) পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে দিনের পর দিন বাড়ছে অনিশ্চয়তা। আর এই পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশ আবারো ভারতের কাছে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের জন্য কাকুতিমিনতি জানালো (Bangladesh Import Diesel From India)। বিষয়টি বিবেচনা করছে ভারত সরকার এমনটাই খবর। শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজেই একথা জানিয়েছেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের রনধীর জয়সওয়াল।

    ভারতের কাছে অতিরিক্ত ডিজেল আমদানির অনুরোধ বাংলাদেশের

    বলে রাখি, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা নতুন কিছু নয়। বহু বছর ধরেই ভারতের বিভিন্ন শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে অসমের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে বাংলাদেশে নিয়মিত ডিজেল পাঠানো হয়। এমনকি ২০০৭ সাল থেকে এই সরবরাহ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সেই অনুযায়ী, মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে পাঠানোর কথা। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির মধ্যে ইতিমধ্যেই ৫ হাজার টন ডিজেল ওপার বাংলায় পাঠিয়েছে ভারত সরকার, যার সিংহভাগে গিয়েছে পাইপলাইনের মাধ্যমে।

    এছাড়াও দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা আরও মজবুত করার জন্য ২০১৭ সালে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তিতে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন একত্রিত হয়। আর এই চুক্তির ভিত্তিতেই বর্তমানে ডিজেল সরবরাহ চলছে। এমনকি সম্প্রতি ওপার বাংলার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠকে করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভর্মা।

    ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর দুই দেশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, বাংলাদেশে অতিরিক্ত জ্বালানির সরবরাহ করার অনুরোধ জানিয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত ভারত সরকারের তরফ থেকে কোনও সদুত্তর আসেনি। কিন্তু হ্যাঁ, ওপার বাংলার একাধিক হত্যাকাণ্ড যেমন শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুতে গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে কিনা বা তাদের সঙ্গে বাংলাদেশী কর্তাদের দেখা করার কোনও অনুমতি দেওয়া হবে কিনা সেই প্রশ্ন করা হলে এদিন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এড়িয়ে যান। এমনকি ডিজেল সরবরাহ নিয়েও কোনও রকম মন্তব্য করেননি। সবটাই নির্ভর করছে নয়াদিল্লির উপর।

    আরও পড়ুন: পুলিশের উপরেও চলবে নজরদারি? ভোটে নিরাপত্তা জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ কমিশনের

    অন্য দেশও জানিয়েছে অনুরোধ

    এদিকে রনধীর জয়সওয়াল এও জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের পাশাপাশি শ্রীলংকা এবং মালদ্বীপও ভারতের কাছে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের জন্য অনুরোধ করেছে। কিন্তু হ্যাঁ, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভারতের নিজস্ব জ্বালানির চাহিদা, শোধনাগরের উৎপাদন ক্ষমতা আর মজুদ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে বলেই জানানো হয়েছে মুখপাত্রের তরফ থেকে।

  • ৭ দিনে ৭০,০০০,০০০,০০০ টাকা হারাল LIC, আপনার টাকা সুরক্ষিত তো?

    ৭ দিনে ৭০,০০০,০০০,০০০ টাকা হারাল LIC, আপনার টাকা সুরক্ষিত তো?

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরান যুদ্ধে (Iran War) কমবেশি প্রভাব পড়েছে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই। একই সাথে পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির আঁচ পেয়েছে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিও। সেই তালিকায় নাম লিখিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বীমা সংস্থা বা লাইফ ইন্সুরেন্স কর্পোরেশনও (Life Insurance Corporation)। জানা যাচ্ছে, ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের কারণে বিরূপ প্রভাব পড়েছে LIC র পোর্টফোলিওতে। যার জেরে 70 হাজার কোটিরও বেশি বেশি টাকা খোয়া গেছে এই সংস্থার।

    70 হাজার কোটি টাকা হারিয়েছে LIC

    বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডস এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইজরায়েল এবং আমেরিকা গত 27 ফেব্রুয়ারি, ইরানে প্রথমবারের মতো যৌথ হামলা চালানোর আগে পর্যন্ত লাইফ ইন্সুরেন্স কর্পোরেশনের শেয়ার পোর্টফোলিও ছিল 14.88 ট্রিলিয়ন বা 14 লাখ কোটির বেশি। তবে গতকাল অর্থাৎ 9 মার্চ সোমবার দিন সেটা নেমে এসেছে মাত্র 14.17 ট্রিলিয়নে।

    রিপোর্ট অনুযায়ী, লাইফ ইন্সুরেন্স কর্পোরেশন গত এক বছরে নিজেদের শেয়ার পোর্টফোলিওতে বড় ধাক্কা খেয়েছে। এই সংস্থাটি গত 12 মাসে 1 ট্রিলিয়ন অর্থাৎ 10 হাজার কোটি টাকা হারিয়েছে। তবে শুধুমাত্র ইরানের যুদ্ধের জন্য মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে এই সংস্থার শেয়ার পোর্টফোলিও একেবারে নিম্নমুখী। মাত্র 7 দিনের মধ্যে সংস্থাটি 70 হাজার 105 কোটি টাকার হারিয়েছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংস্থাটি ধাক্কা খেলেও এর প্রভাব পড়বে না গ্রাহকদের খাতায়!

    অবশ্যই পড়ুন: Failed হতে শুরু করল যুবসাথীর পেমেন্ট! SMS ঢুকলেও মিলছে না টাকা

    কেন এত ক্ষতির মুখে পড়ল LIC?

    সাধারণত বিশ্বে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে টানটান অবস্থা তৈরি হয় শেয়ার বাজারে। তার উপর সেই যুদ্ধে আমেরিকার মতো শক্তিধর দেশ যুক্ত থাকলে শেয়ার মার্কেটের শিরে সংক্রান্তি অবস্থা হতে বেশি সময় লাগে না। তেমনটাই হয়েছে ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রেও। ইজরায়েল এবং আমেরিকা যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা প্রত্যাঘাত করে পশ্চিম এশিয়ার এই জনপ্রিয় দেশ। ফলে দুপক্ষের ভয়ঙ্কর লড়াইয়ের কারণে মার খেয়েছে শেয়ার বাজার। এদিকে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থা লাইফ ইন্সুরেন্স কর্পোরেশন বা LIC যে সংস্থা বা শেয়ারগুলিতে বিনিয়োগ করেছিল বেছে বেছে ঠিক সেই শেয়ার বা সংস্থাগুলি যুদ্ধের আবহে একেবারে ডুব দিয়েছিল। আর সেটাই LIC র ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াল।

  • বিশ্বের ২৫% আইফোনই তৈরি হচ্ছে ভারতেই, প্রকাশ্যে এল রিপোর্ট

    বিশ্বের ২৫% আইফোনই তৈরি হচ্ছে ভারতেই, প্রকাশ্যে এল রিপোর্ট

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: উৎপাদনে রেকর্ড গড়ল অ্যাপল (Apple inc.)। গত কয়েক বছর ধরেই উৎপাদনের দিক থেকে কৌশলগত পরিবর্তন আনছে বিশ্বের সবথেকে জনপ্রিয় স্মার্টফোন নির্মাতা সংস্থা। দীর্ঘদিন ধরেই চিনের উপর নির্ভরশীল থাকার পর এবার ধীরে ধীরে ভারতে আইফোন তৈরির পরিমাণ বাড়াচ্ছে সংস্থাটি (Apple India Production)। হ্যাঁ, সাম্প্রতিক ব্লুমবার্গের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া মোট আইফোনের ২৫ শতাংশই ভারতে তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং চিন বাণিজ্য উত্তেজনা আর শুল্কনীতির প্রভাবেই অ্যাপল তাদের উৎপাদন ভারতের দিকে বাড়াচ্ছে।

    এক বছরে ৫০ শতাংশের বেশি উৎপাদন বৃদ্ধি

    ব্লুমবার্গের ওই রিপোর্ট অনুযায়ী খবর, ২০২৫ সালে ভারতে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন আইফোন তৈরি হয়েছে। আর সেখানে ২০২৪ সালে তৈরি হয়েছিল মাত্র ৩৬ মিলিয়ন। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের মধ্যেই ভারতে আইফোন উৎপাদন ৫৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে অ্যাপল বছরে গড়ে ২২ থেকে ২৩ কোটি আইফোন বিক্রি করে থাকে, যার মধ্যে ভারতে উৎপাদনের হার দ্রুত ত্বরান্বিত হচ্ছে।

    কেন ভারতের দিকে ঝুঁকছে অ্যাপল?

    আসলে বিশেষজ্ঞরা এর পেছনে একাধিক কারণ উল্লেখ করেছে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র এবং চিনের মধ্যে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের ফলে চিনে তৈরি পণ্যের উপর বেশি পরিমাণে শুল্ক চাপানো হচ্ছে। আর সেই ঝুঁকি কমানোর জন্যই অ্যাপল এখন বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র খুঁজছে। দ্বিতীয়ত, ভারতে উৎপাদন বাড়াতে সরকার বিভিন্ন রকম প্রণোদনা চালিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে চালু হওয়া প্রোডাকশন লিংকড ইনসেনটিভ প্রকল্পের মাধ্যমে বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা এখন ভারতে তাদের কারখানা স্থাপন করতে আগ্রহী। সেই কারণেই উৎপাদনের কিছুটা বাড়তি খরচ সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে।

    আরও পড়ুন: অবশেষে বকেয়া DA দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার? ২০ মার্চের মধ্যে বিশেষ কাজ করার নির্দেশ নবান্নের

    এদিকে বলে রাখি, ভারতে আইফোন তৈরির কাজ মূলত অ্যাপলের বিভিন্ন পার্টনার কোম্পানির মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো Foxconn Technology Group, Tata Electronics, Pegatron Corp ইত্যাদি। আর এই সংস্থাগুলি শুধুমাত্র নতুন মডেল নয়, বরং পুরনো আইফোন মডেলগুলিও তৈরি করছে যেগুলি বাইরের দেশে রফতানি হচ্ছে। আর সূত্র মারফৎ খবর, বর্তমানে অ্যাপলের নতুন iPhone 17 সিরিজের সমস্ত মডেলই ভারতে তৈরি করা হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে Pro এবং Pro Max। এছাড়াও আগের প্রজন্মের iPhone 15 এবং iPhone 16 মডেলও ভারতে তৈরি করা হচ্ছে।

  • ব্যবসার জন্য ১০ লক্ষ দিচ্ছে বিহার সরকার! হাফ টাকা মুকুব, মাধ্যমিক পাসেই আবেদন

    ব্যবসার জন্য ১০ লক্ষ দিচ্ছে বিহার সরকার! হাফ টাকা মুকুব, মাধ্যমিক পাসেই আবেদন

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: যুব সমাজকে স্বনির্ভর করার জন্য এবং ছোট শিল্প গড়ে তুলে তুলতে উৎসাহ দেওয়ার জন্য বিরাট সিদ্ধান্ত নিল বিহার সরকার। মুখ্যমন্ত্রী উদ্যমী যোজনা (Mukhyamantri Udyami Yojana) প্রকল্পের আওতায় এবার নির্বাচিত আবেদনকারীদের শিল্প স্থাপনের জন্যই দেওয়া হবে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণদের ব্যবসার উদ্যোগের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য। ইতিমধ্যে এই প্রকল্পে আবেদন শুরু হয়েছে। বিস্তারিত জানুন এই প্রতিবেদনে।

    কতদিন চলবে আবেদন?

    জানা যাচ্ছে, এই প্রকল্পে আগ্রহী যুবকদের আগামী ১৫ মার্চের মধ্যেই আবেদন করে নিতে হবে। শিল্প দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আবেদন শুধুমাত্র অনলাইনের মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। আর এক্ষেত্রে উল্লেখ করার বিষয়, এই প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে বিহার সরকারের তরফ থেকে। জেলা শিল্প কেন্দ্রের মহাপরিচালক বিবেক কুমার জানিয়েছেন যে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের শুধুমাত্র আর্থিক সাহায্য নয়, বরং শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ আর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

    জানা যাচ্ছে, এই প্রকল্পের আওতায় সরকার নিজস্ব ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রথমে ১০ লক্ষ টাকা প্রদান করবে। তবে ৫ লক্ষ টাকা সেক্ষেত্রে মুকুব করে দেওয়া হবে। আর বাকি ৫ লক্ষ টাকা আপনাকে কিস্তি হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। আপনি এই টাকা ৮৪টি কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারবেন। আর এই প্রকল্পটি মহিলাদের জন্য আরও সুবিধাজনক। কারণ, তাদের ক্ষেত্রে ঋণের উপর কোনও রকম সুদ নেওয়া হবে না। পুরুষদের শুধুমাত্র ১ শতাংশ করে সুদ দিতে হবে।

    কারা পাবে এই সুবিধা?

    এই প্রকল্পটি বিহারের স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য, যারা ইতিমধ্যে সেখানে বসবাস করছে। আর বেকার যুবক-যুবতী, মহিলা, এসসি, এসটি এবং ওবিসি বিভাগগুলি মূলত এই প্রকল্পের জন্য বিশেষভাবে যোগ্য। তাই যদি আপনার কাছে কোনও ব্যবসায়ীক ধারণা থেকে থাকে, তাহলে আপনিও সরকারের কাছ থেকে এই প্রকল্পের মাধ্যমে লোন নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

    আরও পড়ুনঃ ‘ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেব’ বকেয়া DA কাণ্ডে বড় ঘোষণা, ঘুরে যাবে খেলা? জল্পনা তুঙ্গে

    কীভাবে আবেদন করবেন?

    এই প্রকল্পে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। এর জন্য আপনাকে নিম্নলিখিত ধাপগুলি অনুসরণ করতে হবে—

    • প্রথমে udyami.bihar.gov.in অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।
    • এরপর নিজের নাম, মোবাইল নম্বর এবং আধার নম্বর লিখে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন।
    • তারপর আপনার ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করে ব্যবসায়িক ধারণা নির্বাচন করুন।
    • তারপর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলি আপলোড করে দিন।
    • এরপর ফর্মটি ভালোভাবে পরীক্ষা করে জমা দিন এবং একটি কপি আপনার কাছে রেখে দিন।

    আরও পড়ুন: সিভিকের মতো এবার পথবন্ধু ভলান্টিয়ার নিয়োগ করতে চায় রাজ্য সরকার, কী কাজ করবে?

    কী কী ডকুমেন্ট দরকার হবে?

    এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য যে ডকুমেন্টগুলো দরকার হবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বিহারের আবাসিক সার্টিফিকেট, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট ও সার্টিফিকেট, কাস্ট সার্টিফিকেট, আধার কার্ড এবং প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবই, বাতিল চেকের কপি আর পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং স্বাক্ষর।

  • মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বিরাট ধাক্কা ভারতের শেয়ারবাজারে, ৫ সেকেন্ডে উধাও ৯ লক্ষ কোটি

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বিরাট ধাক্কা ভারতের শেয়ারবাজারে, ৫ সেকেন্ডে উধাও ৯ লক্ষ কোটি

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ পড়ছে এবার ভারতের শেয়ারবাজারে (Indian Stock Market)। সোমবার বাজার খুলতেই এক ধাক্কায় তলানিতে ঠেকল শেয়ার ইনডেক্স। সেন্সেক্স পড়ল প্রায় ২২০০ পয়েন্টের বেশি। মাত্র ৫ সেকেন্ডেই বিনিয়োগকারীদের উধাও হয়ে গেল ৯ লক্ষ কোটি টাকা। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই পতন, এমনটাই মত প্রকাশ করছে বিশেষজ্ঞরা। আর যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে (Iran-Israel War) অনিশ্চয়তা দিনের পর দিন বাড়ছে। এমনকি শুধু সেন্সেক্স নয়, বরং নিফটি৫০-ও কমেছে প্রায় ৩ শতাংশের বেশি।

    শেয়ারবাজারে বড়সড় পতন

    সোমবার বাজার খুলতেই দেখা যায়, ২৪৪১.৫১ পয়েন্ট তলানিতে ঠেকে ৭৬,৪৭৪.৩৯-এ নেমে এসেছে। আর নিফটি৫০ ৭৩৯.৯০ পয়েন্ট কমে ২৩৭২০.৫৫-তে দাড়িয়েছে। এমনকি নিফটিও প্রায় ৫০০ পয়েন্টের বেশি তলানিতে ঠেকেছে। ফলে বাজার খোলার শুরুতেই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লক্ষ কোটি টাকা। সেন্সেক্স এবং নিফটি৫০ এর ইনডেক্সে শুধুই রক্তক্ষরণ। বলার বিষয়, বাজারে এই ধস কিন্তু হঠাৎ করে নামেনি। এর আগের ট্রেডিং দিনেও বাজারের পরিস্থিতি খুব একটা ভালো ছিল না। কারণ, শুক্রবার সেন্সেক্স ১০৯৭ পয়েন্ট তলানিতে ঠেকেছিল আর নিফটি ৩১৫ পয়েন্ট পড়ে।

    বেশ কিছু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধসের প্রধান কারণ হল মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত। ইরান, আমেরিকা আর ইজরায়েলের সংঘাত এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে জ্বালানির দাম দিনের পর দিন বাড়ছে। পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের দামও দ্রুত হারে বাড়ছে। হ্যাঁ, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ১১৭ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়েছে। আর তেলের দাম বাড়ার কারণে মুদ্রাস্ফীতির উপরও প্রভাব পড়ছে। সেই কারণে শেয়ারবাজার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের উপরেও বাড়ছে খরচ। বলার বিষয়, ২০২০ সালের পর এই প্রথম একদিনে সবথেকে বেশি জ্বালানির দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২৭ শতাংশের বেশি ঊর্ধ্বগতিতে ঠেকেছে।

    উল্লেখ্য, ভারত বিশ্বের মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম তেল রফতানিকারক দেশ। কারণ, ৮৫ থেকে ৯০% তেল শুধুমাত্র আমদানির মাধ্যমেই দেশে আসে। সেই কারণে তেলের দাম বাড়লে আমদানি খরচ অনেকটাই বাড়ে। আর বিশেষজ্ঞরা বলছে, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম যদি ১ ডলার করে বাড়ে, তাহলে ভারতের তেল আমদানি খরচ প্রায় ১৬,০০০ কোটি টাকা বেড়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে স্টক মার্কেটে।

    আরও পড়ুন: ‘আমার অনুমতি ছাড়া টিকতে পারবে না!’ মোজতবা খামেনি নির্বাচিত হওয়াতে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    তলানিতে ঠেকেছে রুপি

    প্রসঙ্গত, তেলের দাম বাড়তেই ভারতীয় রুপিও অনেকটাই পতন হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপি সোমবার ৯২.৩৩ টাকাতে নেমে এসেছে। আর গত সপ্তাহ থেকেই দিনের পর দিন তলানিতে ঠেকছে রুপি। এমনকি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা বদল হলেও তেলের দামের বৃদ্ধি আবারো চিন্তায় ফেলেছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ কবে যে বন্ধ হবে সেরকম কোনও ইঙ্গিতও এখনো পর্যন্ত মিলছে না। দিনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিলতার দিকে এগোচ্ছে। এখন দেখার, দেশের শেয়ারবাজার আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে কিনা।

  • মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে ডুবল ৬ লক্ষ কোটি! বিরাট ধাক্কা ভারতের শেয়ারবাজারে

    মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে ডুবল ৬ লক্ষ কোটি! বিরাট ধাক্কা ভারতের শেয়ারবাজারে

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: যুদ্ধের আগুনে জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য। ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের মধ্যেই দেশের শেয়ারবাজার (Stock Market) বিরাট ধাক্কা খেল। হ্যাঁ, সপ্তাহের শুরুতেই কপাল পুড়ল ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের। সোমবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই একেবারে লাল রঙে ঢেকে দিয়েছে দালাল স্ট্রিট। সূচকের তীব্র পতনে বিনিয়োগকারীরা যে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কোন সূচক কতটা পড়ল? জানুন বিস্তারিত।

    শেয়ার সূচকে বিরাট পতন

    সপ্তাহের প্রথম ট্রেডিং সেশনেই NIFTY 50 প্রায় 519 পয়েন্ট পরে 24,659 পয়েন্টে খুলেছে বলে জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে BSE Sensex বাজার খোলার সময় দাঁড়িয়েছিল 78,512 পয়েন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় 2,775 পয়েন্ট তলানিতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি পড়েছে দেশীয় বাজারে। আর বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিক্রি এবং সতর্ক মনোভাবের জেরে বাজারে চাপ অনেকটাই পড়ছে।

    এদিকে সূচকের পতনের সঙ্গে সঙ্গে বাজার মূলধনেও লেগেছে বিরাট ধাক্কা। শুক্রবার বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলোর মোট বাজার মূলধন যেখানে ছিল 463.50 লক্ষ কোটি টাকা, সোমবার বাজার খোলার পর তা নেমে আসে মাত্র 447.50 লক্ষ কোটি টাকায়। অর্থাৎ একদিনের মধ্যেই 6 লক্ষ কোটি টাকা সম্পদ গায়েব হয়ে যায়। আর ক্ষতির মুখে পড়েছেন লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী।

    কেন নামল ধস?

    আসলে বিশ্ববাজারে এখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বিনিয়োগকারীরা তাই আগেভাগেই নিজেদের মূল্যায়ন গুটিয়ে নিচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে সম্ভাব্য উত্তেজনা তেলের সরবরাহে বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে এই আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে চলছে ডামাডোল। কিন্তু ইরানের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, তারা আপাতত হরমুজ প্রণালী অবরোধের পথে হাঁটবে না। আর আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চাইছে। কিন্তু পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখনও ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছে না সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

    আরও পড়ুন: রাওয়ালপিণ্ডির নূর খান বিমান ঘাঁটিতে হামলা আফগানিস্তানের! খতম ৩৫ পাকিস্তানি সেনা

    বলে রাখি, সোমবার NIFTY 50 এর একাধিক ভারী শেয়ারে লেগেছে বিরাট ধাক্কা। তালিকায় রয়েছে Larsen & Toubro (L&T), InterGlobe Aviation (IndiGo), Asian Paints, Adani Enterprises, Adani Ports & SEZ এর মতো সব নামিদামি শেয়ার। তবে হ্যাঁ, তীব্র পতনের মধ্যেও কয়েকটি শেয়ার সবুজ সংকেত দিয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল Bharat Electronics Limited (BEL), Hindalco Industries, Tata Steel। অর্থাৎ, ডিফেন্স এবং ধাতুখাতে কেনাকাটার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা লাভের মুখ দেখেছে।