বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: একটা সময় তৃণমূল সরকার ভেঙে দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন তিনি (Pratik Ur Rahman)। লাল পতাকা হাতে নিয়ে শাসক দলের একের পর এক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে গিয়েছিলেন। সেই প্রাক্তন বাম নেতা প্রতীক উর রহমানকেই এবার মুখপাত্রের আসনে বসালো তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। এক কথায়, যে ছেলেটা সিপিআইএমের হাত মাথায় নিয়ে তৃণমূলকে এক হাত নিয়েছিলেন, সেই ছেলের কাঁধেই এবার তৃণমূল কংগ্রেসের উন্নয়নের পাঁচালী শোনানোর দায়িত্ব।
কুণাল ঘোষের আসনে প্রতীক উর
বাম জমানায় রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন প্রতীক উর রহমান। বছরের পর বছর লাল পতাকা গায়ে জড়িয়ে সিপিআইএমের একাধিক মিটিং মিছিলে নিজের ছাপ রেখেছেন তিনি। দলের অন্যান্য সহকর্মীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজ্যবাসীকে নিজের দলের কথা তুলে ধরেছিলেন এই প্রতীক উরই। এমনকি তৃণমূল কংগ্রেসের তৎকালীন মুখপাত্র কুণাল ঘোষকে নিয়েও বেশ কয়েকবার মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এবার সেই কুণালের আসনেই বসানো হল প্রাক্তন বাম নেতাকে।
হ্যাঁ, 2008 সালে রাজনীতিতে আসা ছেলেটা আজ তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র। এবার ঘাসফুলের হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের উন্নয়নের প্রচার করবেন তিনি। একই সাথে দল বিরোধী কোনও মন্তব্য হলে তারও জবাব দেওয়ার দায়িত্ব থাকবে লাল জামানার প্রাক্তন নেতার হাতে। এখন দেখার, কুণাল ঘোষের আসনে বসে রাজনীতির প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে ময়দানের লড়াইয়ে ঠিক কতটা নিজেকে মেলে ধরতে পারেন তিনি।
অবশ্যই পড়ুন: শিয়ালদা ডিভিশনে একাধিক লোকাল ট্রেনের গন্তব্য বাড়াল রেল
উল্লেখ্য, হাজারো জল্পনার মাঝে কিছুদিন আগেই লালেদের দল ছেড়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করেন প্রতীক উর। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, টিকিট পাওয়ার জন্য তৃণমূলে আসেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত শাসকদলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরও দেখা গিয়েছে টিকিট পাননি তিনি। তবে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করা না হলেও প্রাক্তন বাম নেতাকে অন্য পদে বসালো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।
