‘গুলির আওয়াজে প্যান্ট ভিজবে!’ খড়গপুরের আইসিকে হুমকি দিলীপ ঘোষের

Dilip Ghosh

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই একে একে সকল রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে চলেছে। এবারের আসন্ন ভোটে খড়গপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। আর সেই পুরনো কেন্দ্রে ফিরেই আগ্রাসী ভঙ্গিতে প্রচার শুরু করেছেন তিনি। এমনকি খড়গপুর টাউনের আইসি-কে হুমকি দেয়। যার ফলে খড়গপুরের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়ে গিয়েছে।

খড়গপুর আইসিকে হুমকি দিলীপের

রিপোর্ট মোতাবেক, আজ অর্থাৎ সোমবার খড়গপুর টাউনে নির্বাচনী প্রচার সেরে এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। আর সেখানেই নিজের চেনা ঝাঁঝালো মেজাজ দেখালেন তিনি, শুধু তাই নয়, স্থানীয় থানার আইসি-র বিরুদ্ধে করলেন বিতর্কিত মন্তব্য। মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ”এখানকার আইসি আমাদের কর্মীদের উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছে। বলেছে, তৃণমূলের সঙ্গে কাজ করো, নাহলে চার তারিখের পরে গুলি মেরে দেব। শালা, তোর বাপের গুলি! কতগুলো গুলি আছে তোর কাছে? গুলি দেখেছ? এমন দেখাব যে আওয়াজে প্যান্ট ভিজে যাবে।”

কী বলছেন দিলীপ ঘোষ?

সোমবার খড়গপুর টাউনে প্রচারে গিয়ে দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন খড়গপুরের আইসি বিজেপি কর্মীদের হেনস্তা করছেন এবং তাঁদের তৃণমূলের সঙ্গে কাজ করতে চাপ দিচ্ছেন। তাঁর আরও হুঁশিয়ারি, ”আমি অনেক বড় বড় গুন্ডা দেখেছি। এই খড়গপুরে সব ডাকাতদের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলেছি। তৃণমূলের নেতারা এসব গুন্ডা, মাফিয়াদের চামচাগিরি করে জিতেছে। এখনও এদের সঙ্গে নিয়ে চলছে। দিলীপ ঘোষ এদের চোখে চোখ রেখে কথা বলেছে আগেও করব। বুক চওড়া করে থাকব, কতগুলি বন্দুক কাছে দেখব। এইসব দাদাগিরি আমাদের দেখাবে না। আগামী দিনেও এমন হিসাব করব হিসাব মেলাতে পারবে না। খড়গপুরে এসব চলবে না।”

আরও পড়ুন: হাইকোর্টের রায়ে বিরাট স্বস্তি পেলেন শুভেন্দু

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে দিলীপ ঘোষ প্রথম বার ভোটে লড়েছিলেন খড়্গপুর সদর আসন থেকে। সেই আসনে কংগ্রেসের জ্ঞানসিং সোহনপালকে হারিয়ে জিতেছিলেন তিনি। এরপর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর আসন থেকে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। তবে গত লোকসভা নির্বাচনে হেরে গেলেও খড়্গপুরের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করেননি দিলীপ ঘোষ। তাই এবার ফের সেই একই কেন্দ্র থেকে পুনরায় দিলীপকে প্রার্থী করল দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।