Author: Prity Poddar

  • সপ্তাহান্তে দক্ষিণবঙ্গে ফের ঝড়বৃষ্টি! নামবে পারদ, কেমন থাকবে আগামীকালের আবহাওয়া?

    সপ্তাহান্তে দক্ষিণবঙ্গে ফের ঝড়বৃষ্টি! নামবে পারদ, কেমন থাকবে আগামীকালের আবহাওয়া?

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: চৈত্রের শুরু থেকে রাজ্য জুড়ে বৃষ্টি দুর্যোগ লেগেই রয়েছে। সঙ্গে আবার কালবৈশাখীর দাপটও রয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা এবং ঘূর্ণাবর্ত এর জেরে উত্তরবঙ্গের (North Bengal) পার্বত্য এলাকায় বৃষ্টি হয়েই চলেছে। যদিও এইমুহুর্তে দক্ষিণবঙ্গে (South Bengal) থেমেছে বৃষ্টি। আশঙ্কা করা হচ্ছে আগামী তিন দিনে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা বাড়তে পারে। যদিও শুক্রবার থেকে রবিবার আরও এক দফায় ঝড়বৃষ্টির (Weather Tomorrow) স্পেল চলবে।

    ঘূর্ণাবর্ত এবং অক্ষরেখার কারণে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে ক্রমাগত ঢুকেই চলেছে। সেই কারণেই উত্তর থেকে দক্ষিণে ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহবিদেরা। আর এই বৃষ্টি ঝড়ের জেরে গত কয়েক দিন সাগরও বেশ উত্তাল। যদিও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি কমায় আপাতত তার দাপটও কমেছে। মৎস্যজীবীদের উপর এই মুহূর্তে আর কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু সপ্তাহান্তে ফের দুর্যোগ নেমে আসতে চলেছে দক্ষিণে, এমনটাই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর৷ একনজরে জেনে নেওয়া যাক কেমন থাকবে আগামীকালের আবহাওয়া

    দক্ষিণবঙ্গে আগামীকালের আবহাওয়া

    আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী আগামীকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার, বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে। সকাল থেকেই রোদ ঝলমলে আকাশ এবং মনোরম পরিবেশ দেখা যাবে। তবে কোথাও কোথাও আবার আংশিক মেঘলা আকাশ থাকবে। জানা গিয়েছে, আগামীকাল বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে দু-এক জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে। তার সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে ঝড়ের সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলাতে। অন্যদিকে সপ্তাহান্তে ফের বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়তে পারে দক্ষিণের জেলাগুলিতে।

    আরও পড়ুন: কুণাল ঘোষের আসনে প্রতীক উর রহমান, প্রাক্তন বাম নেতাকে বড় দায়িত্ব দিল তৃণমূল

    উত্তরবঙ্গে আগামীকালের আবহাওয়া

    বৃষ্টি দুর্যোগের অশনি সংকেত এখনও কাটেনি উত্তরবঙ্গে। আগামীকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পঙে বৃষ্টি বাড়বে। এছাড়াও আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারেও বৃষ্টির পাশপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে এই জেলাগুলিতে। কোথাও কোথাও আবার শিলা বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জানা গিয়েছে আগামী শুক্রবার থেকে নতুন করে দুর্যোগের সম্ভাবনা তৈরি হতে চলেছে। বাড়তে পারে দুর্যোগ, তাই এখনই তাপমাত্রা পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই।

  • দলবদলেই ক্যানিং পূর্বে ISF প্রার্থী হলেন আরাবুল ইসলাম

    দলবদলেই ক্যানিং পূর্বে ISF প্রার্থী হলেন আরাবুল ইসলাম

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে। একের পর এক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই ভোটের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। আর এই অবস্থায় দলবদল করে কপাল খুলল ভাঙড়ের প্রাক্তন বিধায়ক তথা ‘তাজা নেতা’ আরাবুল ইসলাম (Arabul Islam)। নিজের পছন্দ মত আসনে প্রার্থী হলেন আরাবুল। জানা গিয়েছে শওকত মোল্লার বিপরীতে ভাঙড় থেকে দাঁড়াতে চলেছেন তিনি। তুমুল উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছে আরাবুল ইসলামের অনুগামীদের মধ্যে।

    ভাঙর থেকে প্রার্থী হলেন আরাবুল!

    তৃণমূল ছেড়ে সম্প্রতি ISF-এ যোগ দিয়েছেন ভাঙড়ের প্রাক্তন বিধায়ক ‘তাজা নেতা’ আরাবুল ইসলাম। আর দলে যোগদান করতেই প্রত্যাশা মতোই তাঁকে ক্যানিং পূর্ব থেকে প্রার্থী করল ISF। আজ অর্থাৎ সোমবার ফুরফুরা শরিফ থেকে প্রথম দফা প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে ISF। প্রথম দফায় ২৩টি আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ISF-এর প্রার্থী তালিকায় ৩০ শতাংশেরও বেশি হিন্দু প্রার্থী রয়েছে। অন্যদিকে ISF বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়াই করার কথা বলেছিলেন। তবে চারটি আসন নিয়ে এখনও জটিলতা কাটেনি।

    ২৩ আসনের মধ্যে ISF এর হিন্দু প্রার্থী ঘোষণা

    আজ যে সমস্ত আসনে ISF প্রার্থী ঘোষণা করেছে সেগুলি হল- মালদার সুজাপুর, নদিয়ার পলাশিপাড়া ও চাপড়া, উত্তর ২৪ পরগনার বাদুরিয়া, অশোকনগর, আমডাঙ্গা, মধ্যমগ্রাম, দেগঙ্গা, হাড়োয়া ও বসিরহাট। এখনও পর্যন্ত ২৩ আসনের মধ্যে ISF এর হিন্দু প্রার্থী হলেন ৭ জন। এঁরা হলেন, অশোকনগরের প্রার্থী তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়, আমডাঙার বিশ্বজিৎ মাইতি, মধ্যমগ্রামের প্রাক্তন এসএফআই নেত্রী প্রিয়াঙ্কা বর্মন, ক্যানিং পশ্চিমে প্রবীর মণ্ডল, শালবনির পীযূষ হাঁসদা, বারাবনিতর বিশ্বজিৎ বাউড়ি এবং বোলপুরে অধ্যাপক বাপি সরেন।

    ভাঙরে শুধু হাড্ডাহাড্ডির লড়াই

    আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ক্যানিং পূর্বের বিদায়ী বিধায়ক শওকত মোল্লাকে ভাঙড় থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল তিনি ভাঙড়ে তৃণমূলের পর্যবেক্ষক থাকাকালীন বার বার আরাবুলের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়তেন, এখন সেই প্রতিপক্ষ হিসেবে নির্বাচনে লড়তে চলেছেন। অন্যদিকে ISF এর প্রার্থী হিসেবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপিতে আব্দুল মালেক মোল্লা, ক্যানিং পশ্চিমে প্রবীর মণ্ডল, ক্যানিং পূর্বে আরাবুল, মগরাহাট পশ্চিমে আব্দুল আজিজ আল হাসান এবং ভাঙড়ে নওশাদ দাঁড়াতে চলেছেন।

    আরও পড়ুন: শিয়ালদা-হাওড়া লাইনে সেতুর সংস্কার, ট্র্যাকে নতুন প্রযুক্তি, একগুচ্ছ পদক্ষেপ পূর্ব রেলের

    প্রসঙ্গত, ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে ISF এর সঙ্গেই জোট বাঁধল বাম। কিন্তু এখনও কাটেনি চারটি আসন নিয়ে জট! দীর্ঘদিন ধরেই বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট বাঁধার ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন নওশাদ। আজ শেষমুহূর্তে প্রার্থী তালিকা প্রকাশের কথা ছিল আইএসফের। কিন্তু নওশাদ জানালেন, একদিন সময় চেয়েছে বামেরা। সেই কারণেই আজ নয়, আগামিকাল তালিকা প্রকাশ করবেন তিনি। সাংবাদিকদের কাছে বিধায়ক জানিয়ে দেন, “সাত মাস বামেদের সঙ্গে জোট নিয়ে আলোচনা চলেছে। আজ একদিন অপেক্ষা করলাম। প্রার্থী তালিকা আজ ঘোষণা করলাম না।”

  • শিয়ালদা-হাওড়া লাইনে সেতুর সংস্কার, ট্র্যাকে নতুন প্রযুক্তি, একগুচ্ছ পদক্ষেপ পূর্ব রেলের

    শিয়ালদা-হাওড়া লাইনে সেতুর সংস্কার, ট্র্যাকে নতুন প্রযুক্তি, একগুচ্ছ পদক্ষেপ পূর্ব রেলের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ক্রমাগত একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে রেল (Indian Railways)। উন্নতমানের প্রযুক্তি রেল পরিষেবা এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় পূর্ব রেলের (Eastern Railway) ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ গত ফেব্রুয়ারি মাসে একগুচ্ছ উল্লেখযোগ্য পরিকাঠামোগত সাফল্যের কথা তুলে ধরেছে। যা উন্নত ট্রেন পরিচালন নিরাপত্তার ওপর যেমন জোর দেওয়া হয়েছে ঠিক তেমনই আধুনিক ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে।

    ম্যানড লেভেল ক্রসিং গেট প্রতিস্থাপন

    পূর্ব রেল বর্তমানে নিরাপত্তা বিধি নিয়ে যে ক্রমাগত অবাধ্যতা তৈরি হচ্ছে তার বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছে। পরিকাঠামোর ব্যাপক আধুনিকীকরণ এবং সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও, দ্রুত পারাপার করে রেললাইনকে দুর্ঘটনার করিডোরে পরিণত করেছে। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে লেভেল ক্রসিং বাদ দিয়ে এবং ওভারব্রিজের নিরাপত্তা এবং রেল চলাচলের গতি বাড়াতে পূর্ব রেলের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ১১টি ম্যানড লেভেল ক্রসিং গেট প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। জানা গিয়েছে সেখানে লিমিটেড হাইট সাবওয়ে এবং কৌশলগত ডাইভারশন তৈরি করা হয়েছে, যা রেল ও রাস্তার ট্রাফিক সংযোগস্থলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি দূর করবে।

    ১৩টি সেতুর সংস্কার

    পূর্ব রেলের পরিষেবা আরও বৃদ্ধি করতে ১৩টি সেতুর সংস্কার করা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদী থাকবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা উন্নত করতে এবং ট্রেনের গতি বজায় রাখতে ৯ টি সেতুর রিগ্রেডিং করা হয়েছে। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে ৯ টি নতুন সাইড পাথওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে এই সাইড পাথওয়ে রেলের গ্রাউন্ড স্টাফদের নিরাপদ চলাচল এবং নজরদারির কাজকে আরও সহজতর করে তুলবে। পাশাপাশি পূর্ব রেলের ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণের আধুনিকীকরণের জন্য ট্র্যাক নবীকরণ এবং ট্রাকের অবস্থার পর্যবেক্ষণের ওপর জোর দিয়েছে।

    ফোর্সড লেআউট প্রতিস্থাপন

    রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ৪১.৭৫ সমতুল্য সংখ্যার ‘থ্রু টার্নআউট রিনিউয়াল’ স্থাপন করা হয়েছে, যা পুরনো মেশিনগুলিকে সরিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করেছে। এবং ১,৩২০ কিমি রেলপথে ‘আল্ট্রা সনিক ফ্ল ডিটেকশন’ পরীক্ষা করা হয়েছে যাতে ট্র্যাকের ভিতরে কোনও ফাটল থাকলে তা শনাক্ত করা যায়। এছাড়াও ১০৬,২৭০ ঘনমিটার ব্যালাস্ট পাথর বিছানো হয়েছে, যা রেল চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি ৭টি ‘ফোর্সড লেআউট’ সফলভাবে সংশোধন করা হয়েছে।

    আরও পড়ুন: এবার বাড়িতে ED-কে ডাকলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়

    পূর্ব রেলের এই একগুচ্ছ নিরাপত্তা মূলক পদক্ষেপে আশার আলো দেখছে যাত্রীরা। এই প্রসঙ্গে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী শিবরাম মাঝি জানান, “এই উন্নয়নগুলি যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং পরিকাঠামো আধুনিকীকরণের প্রতি পূর্বরেলের একনিষ্ঠ দায়বদ্ধতাকে প্রতিফলিত করে। উন্নত পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা আমাদের যাত্রীদের জন্য আরও উন্নতমূলক এবং নির্ভরযোগ্য রেল পরিষেবা তৈরি করছি।”

  • বিজেপি কর্মীর মেয়ে যুবসাথীর টাকা পাওয়ায় হুমকি, গালিগালাজ TMC কাউন্সিলরের

    বিজেপি কর্মীর মেয়ে যুবসাথীর টাকা পাওয়ায় হুমকি, গালিগালাজ TMC কাউন্সিলরের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের বেকার যুবক যুবতীদের জন্য যুবসাথী প্রকল্পের (Yuba Sathi Scheme) সূচনা করেছে। যার মাধ্যমে রাজ্যের বিপুল সংখ্যক যুবক ও যুবতী প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্য পাচ্ছেন। কিন্তু এবার সেই প্রকল্প নিয়ে দুই দলের মধ্যে শুরু হল তুমুল ঝামেলা। অভিযোগ, যুবসাথী প্রকল্পের টাকা বিজেপি কর্মীর মেয়ে পাওয়ায় তাঁকে হুমকি-গালাগালির পাশাপাশি, বিজেপি কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠল নদীয়ার (Nadia) তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। তুমুল শোরগোল এলাকা জুড়ে।

    ঠিক কী ঘটেছিল?

    রিপোর্ট মোতাবেক, ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার হরিণঘাটা বড়জাগুলি এলাকায়। অভিযোগ বাবা বিজেপি করেন এদিকে মেয়ে পেয়েছেন তৃণমূল সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের ১৫০০ টাকা। আর সেই রাগেই বিজেপি কর্মীর মেয়েকে ফোন করে হুমকি-গালাগালি দেয় তৃণমূল কাউন্সিলর হারাধন ঘোষ। এখানেই শেষ নয়, বিজেপি কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠল ওই তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে ঘটনার ভিডিও, যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি India Hood Bangla। ঘটনাটিকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

    তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ

    স্থানীয় এক বিজেপি কর্মীর দাবি, যুবসাথীর জন্য আবেদন জানানোর পর সম্প্রতি তাঁর মেয়ের অ্যাকাউন্টে ঢোকে সরকারি যুবসাথী প্রকল্পের টাকা। অভিযোগ, আর সেই কথা জানতে পেরে মেয়েকে ফোন করে হুমকি দেন ও গালাগালি করেন, হরিণঘাটা পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর হারাধন ঘোষ। যা নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ ওই বিজেপি কর্মী। ভাইরাল ভিডিওতে শোনা যাচ্ছে, “আপনি আমার মেয়েকে ফোন করবেন কেন?-কে বলেছে, সবাইকে ফোন করা হচ্ছে।’- ‘আপনি আমার মেয়েকে ফোন করবেন কেন?’- ‘হান্ড্রেড পার্সেন্ট করব, হান্ড্রেড পার্সেন্ট করব।” শনিবার রাস্তায় পেয়ে বিজেপি কর্মীকে মারধর করার পাশাপাশি অপহরণের হুমকি দেন তৃণমূল কাউন্সিলর।

    আরও পড়ুন: ২৮ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণ আজ, প্রকাশিত হচ্ছে প্রথম তালিকা, কীভাবে দেখবেন নাম?

    লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন বিজেপি কর্মী

    হরিণঘাটার আক্রান্ত বিজেপিকর্মী জানান, ‘আমাকে ডাকল, রাস্তায় দাঁড় করাল, দাঁড় করিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, চড়, থাপ্পড়, লাথি মেরেছে। পুরভোটের সময় আমাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল, অপহরণ করেছিল এবারও আবার গায়ে হাত দিল।’ তবে এই অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ হরিণঘাটার ১৪নং ওয়ার্ডের অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলর হারাধন ঘোষ। ভোটের আবহে নদীয়ার এই ঘটনা অস্বস্তি বাড়িয়েছে শাসক শিবিরের অন্দরে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন, পুরসভার পুরপ্রধান দেবাশিস বসু। অন্যদিকে ঘটনায় হরিণঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন বিজেপিকর্মী।

  • এবার বাড়িতে ED-কে ডাকলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়

    এবার বাড়িতে ED-কে ডাকলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ভোটের প্রচারে যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে তার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে সকল রাজনৈতিক দলগুলি। একদিকে বিজেপি অন্যদিকে তৃণমূল দুই পক্ষই কম যাচ্ছে না। আর এবার ফের খবরের শিরোনামে উঠে এল SSC নিয়োগ দুর্নীতি মামলা। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর কাছে একাধিক বার ED-র নোটিস যাওয়ার পরও হাজিরা দিতে পারেন না। তাই এবার ED-কে চিঠি দিয়ে বাড়িতে এসে জিজ্ঞাসাবাদের আর্জি পাঠাল পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)।

    শিরোনামে SSC নিয়োগ দুর্নীতি মামলা

    ২০২২ সালের ২২ জুলাই দক্ষিণ কলকাতার নাকতলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে রাতভর তল্লাশি চালিয়েছিল ED আধিকারিকরা। এরপর ২৩ জুলাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর CBI পার্থকে গ্রেপ্তার করে। তিন বছরের বেশি সময় ধরে জেলবন্দি ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। একাধিকবার জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। পরে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় যে, শর্তসাপেক্ষে জামিন পেতে পারেন পার্থ। অবশেষে গত নভেম্বরে জামিন পান তিনি। তবে তদন্ত এখনও মেটেনি। আর এবার SSC নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বাড়িতে এসে জিজ্ঞাসাবাদের আর্জি জানালেন পার্থ।

    বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদের আর্জি পার্থর

    SSC নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে একাধিক বার ED নোটিস পাঠিয়েছিল সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেওয়ার জন্য। কিন্তু কোনোবারই সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেননি তিনি। ED সূত্রে খবর, প্রতিবারই পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাঁর আইনজীবী মারফত চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছেন, অসুস্থ থাকায় তিনি তলবে হাজির হতে পারছেন না। তাই এবার বাড়িতে এসে জিজ্ঞাসাবাদের আর্জি জানিয়ে ED-কে চিঠি দিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। যদিও প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর এই আবেদনে আমল না দিয়ে তাঁকে ফের পাঠানো হয়েছে হাজিরার নোটিস।

    আরও পড়ুন: শিয়ালদা ডিভিশনে একাধিক লোকাল ট্রেনের গন্তব্য বাড়াল রেল

    ED সূত্রে খবর, SSC নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় ইডি চার্জশিট দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু তদন্ত চলাকালীন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পার্থ ও অর্পিতার নাম উঠে আসায় ফের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। দিনকয়েক আগে SSC দুর্নীতি মামলায় ED-র দ্বিতীয় নোটিসে হাজিরা দেন অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। সকালে নথি নিয়ে CGO কমপ্লেক্সে হাজির হন তিনি। কীভাবে SSC-র চাকরি বিক্রি করা হয়েছিল? সবটাই জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

  • ‘গুলির আওয়াজে প্যান্ট ভিজবে!’ খড়গপুরের আইসিকে হুমকি দিলীপ ঘোষের

    ‘গুলির আওয়াজে প্যান্ট ভিজবে!’ খড়গপুরের আইসিকে হুমকি দিলীপ ঘোষের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই একে একে সকল রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে চলেছে। এবারের আসন্ন ভোটে খড়গপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। আর সেই পুরনো কেন্দ্রে ফিরেই আগ্রাসী ভঙ্গিতে প্রচার শুরু করেছেন তিনি। এমনকি খড়গপুর টাউনের আইসি-কে হুমকি দেয়। যার ফলে খড়গপুরের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়ে গিয়েছে।

    খড়গপুর আইসিকে হুমকি দিলীপের

    রিপোর্ট মোতাবেক, আজ অর্থাৎ সোমবার খড়গপুর টাউনে নির্বাচনী প্রচার সেরে এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। আর সেখানেই নিজের চেনা ঝাঁঝালো মেজাজ দেখালেন তিনি, শুধু তাই নয়, স্থানীয় থানার আইসি-র বিরুদ্ধে করলেন বিতর্কিত মন্তব্য। মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ”এখানকার আইসি আমাদের কর্মীদের উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছে। বলেছে, তৃণমূলের সঙ্গে কাজ করো, নাহলে চার তারিখের পরে গুলি মেরে দেব। শালা, তোর বাপের গুলি! কতগুলো গুলি আছে তোর কাছে? গুলি দেখেছ? এমন দেখাব যে আওয়াজে প্যান্ট ভিজে যাবে।”

    কী বলছেন দিলীপ ঘোষ?

    সোমবার খড়গপুর টাউনে প্রচারে গিয়ে দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন খড়গপুরের আইসি বিজেপি কর্মীদের হেনস্তা করছেন এবং তাঁদের তৃণমূলের সঙ্গে কাজ করতে চাপ দিচ্ছেন। তাঁর আরও হুঁশিয়ারি, ”আমি অনেক বড় বড় গুন্ডা দেখেছি। এই খড়গপুরে সব ডাকাতদের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলেছি। তৃণমূলের নেতারা এসব গুন্ডা, মাফিয়াদের চামচাগিরি করে জিতেছে। এখনও এদের সঙ্গে নিয়ে চলছে। দিলীপ ঘোষ এদের চোখে চোখ রেখে কথা বলেছে আগেও করব। বুক চওড়া করে থাকব, কতগুলি বন্দুক কাছে দেখব। এইসব দাদাগিরি আমাদের দেখাবে না। আগামী দিনেও এমন হিসাব করব হিসাব মেলাতে পারবে না। খড়গপুরে এসব চলবে না।”

    আরও পড়ুন: হাইকোর্টের রায়ে বিরাট স্বস্তি পেলেন শুভেন্দু

    প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে দিলীপ ঘোষ প্রথম বার ভোটে লড়েছিলেন খড়্গপুর সদর আসন থেকে। সেই আসনে কংগ্রেসের জ্ঞানসিং সোহনপালকে হারিয়ে জিতেছিলেন তিনি। এরপর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর আসন থেকে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। তবে গত লোকসভা নির্বাচনে হেরে গেলেও খড়্গপুরের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করেননি দিলীপ ঘোষ। তাই এবার ফের সেই একই কেন্দ্র থেকে পুনরায় দিলীপকে প্রার্থী করল দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

  • হাইকোর্টের রায়ে বিরাট স্বস্তি পেলেন শুভেন্দু

    হাইকোর্টের রায়ে বিরাট স্বস্তি পেলেন শুভেন্দু

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ছাব্বিশের রাজ্য বিধানসভা ভোটে (West Bengal Election 2026) আরও একবার মুখোমুখি হতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং শুভেন্দু অধিকারী। তবে এবার সেই লড়াই হতে চলেছে ভবানীপুরে। আর এই আবহে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে বড় স্বস্তি পেলেন নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একটি বিশেষ মামলায় ১২ সপ্তাহের জন্য অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে আদালত।

    অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের

    রিপোর্ট মোতাবেক, ২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর এক বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে খড়দহ থানার তরফে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আর সেই মামলাতেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর এবার সেই মামলায় বড় স্বস্তি পেলেন তিনি। জানা গিয়েছে, আজ, বিচারপতি অজয় কুমার মুখোপাধ্যায়ের একক বেঞ্চ আপাতত তদন্তে ১২ সপ্তাহের জন্য অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে । অর্থাৎ ভোটের মধ্যে এই মামলা নিয়ে আরও কোনও অস্বস্তির মধ্যে পড়তে হবে না শুভেন্দুকে। মামলার পরবর্তী শুনানি একেবারে ভোটপর্ব মিটলে হবে।

    স্বস্তিতে শুভেন্দু অধিকারী

    বিধানসভা নির্বাচনের আবহে সকলেই এখন বেশ ব্যস্ত, জেলায় জেলায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর সকলেই ময়দানে নেমেছে ভোটের প্রচারের জন্য। এই অবস্থায় শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে হওয়া মামলা নিয়ে বেশ চাপে ছিল দল। বিশেষ করে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই মামলার অগ্রগতি নিয়ে যথেষ্ট নজর ছিল বিভিন্ন মহলের। অবশেষে হাইকোর্টের নির্দেশে অনেকটাই স্বস্তি ফিরল। এখন দেখার, ১২ সপ্তাহ পর ভোটপর্ব মিটলে মামলার পরবর্তী শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট কী অবস্থান নেয় এবং তদন্ত প্রক্রিয়া কোন পথে এগোয়।

    আরও পড়ুন: মেরেকেটে ৫ দিনের LPG, ৭ দিনের তেল বেঁচে! জ্বালানির দাম ২০০% বাড়াল পাকিস্তান

    প্রসঙ্গত, ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম এই দুই গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে লড়াই করছেন শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই তিনি প্রচার শুরু করেছেন। অন্যদিকে ভবানীপুরে লড়ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নন্দীগ্রামে তৃণমূলের হয়ে লড়ছেন পবিত্র কর। এই অবস্থায় মনোনয়ন পত্র পূরণের জন্য এবং আইনি পথ সুরক্ষিত রাখতে নিজেই পুলিশের বিরোধিতায় সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। অভিযোগ নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা ও বিস্তারিত তথ্য না দিচ্ছে না পুলিশ। অন্যদিকে একই অভিযোগ জানিয়েছেন বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা।

  • ২৮ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণ আজ, প্রকাশিত হচ্ছে প্রথম তালিকা, কীভাবে দেখবেন নাম?

    ২৮ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণ আজ, প্রকাশিত হচ্ছে প্রথম তালিকা, কীভাবে দেখবেন নাম?

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দুই দফায় হতে চলেছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থী তালিকা। ভোট প্রচার পর্বও শুরু হয়েছে। এমতাবস্থায় আজ বিকেলেই প্রকাশিত হতে চলেছে SIR-র সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা (First Supplementary Voters List)। যারা এতদিন বিচারাধীন তালিকায় ছিলেন, তাঁদের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়াদের নাম ওই অতিরিক্ত তালিকায় থাকবে। আশঙ্কা করা হচ্ছে প্রথম পর্যায়ে সেই সংখ্যাটা ২৮ লক্ষের আশপাশে থাকবে।

    প্রকাশিত হবে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা

    রিপোর্ট মোতাবেক, রবিবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, আজ পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ায় ‘বিচারাধীন’ তালিকাভুক্ত ভোটারদের প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হতে চলেছে। আশা করা যাচ্ছে বিকেলেই ‘বিচারাধীন’ তালিকায় থাকা ভোটারদের প্রথম অতিরিক্ত তালিকা। জানা গিয়েছে তালিকাটি রাজ্যজুড়ে বুথ, জেলাশাসকের দফতর, মহকুমা শাসকের দফতর, বিডিওয়ের দফতরে টাঙানো হবে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজ্যে ২৮ লক্ষ ৬ হাজার বিবেচনাধীন ভোটারের তথ্যের নিষ্পত্তি হয়েছে। আগামী সপ্তাহে শুক্রবার দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।

    চিন্তিত ভোটারেরা

    সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে বিচারাধীন ভোটারদের জন্য গঠিত হয়েছে ট্রাইবুনাল। রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়ে ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে। ৭০০ জন বিচারককে দিয়ে নথি যাচাইয়ের কাজ করা হয়েছিল। অবশেষে আজ প্রথম তালিকা প্রকাশিত হবে। তাই স্বাভাবিকভাবেই চিন্তিত ভোটাররা, কারণ এই তালিকার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে তাঁদের ভোটাধিকারের ভবিষ্যৎ। কমিশনের মাধ্যমে জানা গিয়েছে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের মতোই এই তালিকা প্রকাশিত হবে। অনলাইনে কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে এই অতিরিক্ত তালিকা দেখা যাবে। কীভাবে ভোটার দেখতে পারবেন নীচে পদ্ধতি জানিয়ে দেওয়া হল

    অনলাইনে কীভাবে দেখবেন নাম?

    প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম রয়েছে কিনা তা জানার জন্য প্রথমে eci.voters.gov.in টাইপ করতে হবে। এরপর কমিশনের নির্দিষ্ট ওই সাইট খুললে তাতে মোবাইল নম্বর এবং ওটিপি দিয়ে লগইন করে নিতে হবে। এরপর এপিক নম্বর দিয়ে সার্চ করে নিতে হবে নিজের নাম। পাশাপাশি মোবাইলে ECI নেটে গিয়ে পরপর পদ্ধতি অনুযায়ী তালিকা দেখতে পারবেন ভোটাররা। এছাড়াও অফলাইনে বুথ, বিডিও, এসডিও অফিস, ডিএম অফিসে অতিরিক্ত তালিকা ঝোলানো হবে। সেক্ষেত্রে তালিকায় যাদের নাম বাদ পড়বে, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করে নাম তুলতে পারবেন। অন্যদিকে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের জন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে রাজ্যজুড়ে।

    আরও পড়ুন: ভবানীপুর নিয়ে কর্মীদের কড়া নির্দেশ অভিষেকের, লোডশেডিং প্রসঙ্গ টানলেন মমতা

    সংবেদনশীল অঞ্চলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    গতকাল অর্থাৎ রবিবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠক হয়েছিল CEO দফতরে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কমিশনের এক আধিকারিক বলেছেন যে ‘প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের প্রক্রিয়া যাতে শান্তিপূর্ণ হয়, সেজন্য যাবতীয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছি আমরা। সংবেদনশীল অঞ্চলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকবে। বাড়তি নজরদারিও চলবে।’ শনিবার রাজ্য সচিবালয় নবান্ন থেকে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। বলা হয়েছে, “সম্ভাব্য জমায়েতের স্থানগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য উপযুক্ত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে কঠোর নজরদারি চালানো হোক। আইন-শৃঙ্খলা যাতে বজায় থাকে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হোক।”

  • ভবানীপুর নিয়ে কর্মীদের কড়া নির্দেশ অভিষেকের, লোডশেডিং প্রসঙ্গ টানলেন মমতা

    ভবানীপুর নিয়ে কর্মীদের কড়া নির্দেশ অভিষেকের, লোডশেডিং প্রসঙ্গ টানলেন মমতা

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দোরগোড়ায় এসে গিয়েছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), তাই সকল প্রার্থী নাম ঘোষণার পর শুরু করে দিয়েছে ভোটের প্রচার। গতকাল অর্থাৎ রবিবার থেকেই নির্বাচনের প্রচার শুরু করে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ত্রুটি রাখছে না কোনো পরিকল্পনায়। এমতাবস্থায় ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রতি কড়া নির্দেশ দিল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে (Abhishek Banerjee)। অন্তত ৬০ হাজার ভোটে জেতানোর টার্গেট বেঁধে দিলেন অভিষেক।

    বৈঠকে মমতা অভিষেক

    রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ রবিবার সন্ধ্যায় চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে কর্মীদের নিয়ে ভবানীপুরের নির্বাচনী সভা ডেকেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বৈঠকে ছিলেন তৃণমূল কাউন্সিলর থেকে ব্লক স্তরের নেতানেত্রীরাও। সেখানে সকল কর্মীদের সতর্কবার্তা দিলেন মমতা-অভিষেক। এদিন অভিষেক দলীয় নেতাকর্মীদের শিথিলতা, নিষ্ক্রিয়তা, আত্মতুষ্টিতে না-ভুগে কাজ করার বার্তা দেন। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, “ কলকাতার মধ্যে ‘ফার্স্টবয়’ করতে হবে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে। অন্তত ৬০ হাজার ভোটে জেতাতে হবে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর সে ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে হবে কর্মীদেরই।”

    ভোট প্রচার কৌশল নিয়ে নির্দেশ অভিষেকের

    অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মীদের প্রচার প্রক্রিয়া নিয়ে জানান, “কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কথা মানুষের কাছে তুলে ধরুন। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছে ওরা সেটা বলুন। একবার নয় মানুষের কাছে তিনবার যান। দিদির ১০ প্রতিজ্ঞার কথা জানান। নিজেদের বুথ আগলাতে হবে অতন্দ্র প্রহরীর মতো। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ২৮৭টি বুথ রয়েছে। উপনির্বাচনে মমতা যখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তখন ২৩১টি বুথে তৃণমূল জয় পেয়েছিল। এ বার সেই সংখ্যাকে ছাপিয়ে যেতে হবে।” অন্যদিকে নিজের কেন্দ্রের ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃদু সমালোচনা করেছেন কাউন্সিলরদের। তাঁর অভিযোগ, কাউন্সিলদের সক্রিয়তা লোকসভা বা বিধানসভা ভোটে দেখা যায় না। কিন্তু এ বার এই ‘কর্মসংস্কৃতি’ বদলাতে হবে, একনিষ্ঠ হয়ে কাজ করতে হবে।

    লোডশেডিং নিয়ে সতর্ক মমতার

    গতবার নন্দীগ্রামে ১৯৫৬ ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেবার তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, গণনাকেন্দ্রে লোডশেডিং করে গরমিল করেছিল নাকি বিজেপি। তাই এবার তৃণমূল নেত্রীর মুখে সেই প্রসঙ্গ উঠে এল। এবারও নেত্রীর আশঙ্কা, তেমন কিছু ঘটানো হতে পারে। তাই বৈঠকে গতকাল সাবধানবাণী দেন তিনি। মমতা বলেন, ‘সতর্ক থাকুন। ভোট শেষ হলেই বাড়ি যাবেন না। লোডশেডিং করে দিতে পারে। স্ট্রংরুমে নজর রাখবেন।’ অর্থাৎ কে কী করছেন, কী করছেন না কোনও কিছুই দলীয় শীর্ষনেতৃত্বের নজরের বাইরে থাকবে না বলে জানিয়ে দিল শীর্ষ নেতৃত্ব।

    আরও পড়ুন: স্ট্রেচার না পেয়ে হাঁটতে গিয়ে মৃত্যু! ফের আরজি করের ট্রমা কেয়ার নিয়ে চরম অভিযোগ

    প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী ভবানীপুরের প্রিয়নাথ মল্লিক রোডের কার্যালয়ে তৃণমূল কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। সেখানে ভোটের প্রচারের রণনীতি ঠিক করে দেওয়ার পাশাপাশি, নতুন একটি স্লোগান ব্যবহার করতে নির্দেশ দেন রাজ্য সভাপতি। আর সেটি হল ‘বাংলার উন্নয়ন ঘরে ঘরে, ঘরের মেয়ে ভবানীপুরে’। এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন। আগামীকাল সেখানে তাঁর তিনটি জনসভা করার কথা। অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও আগামীকাল থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রচারে নামছেন।

  • স্ট্রেচার না পেয়ে হাঁটতে গিয়ে মৃত্যু! ফের আরজি করের ট্রমা কেয়ার নিয়ে চরম অভিযোগ

    স্ট্রেচার না পেয়ে হাঁটতে গিয়ে মৃত্যু! ফের আরজি করের ট্রমা কেয়ার নিয়ে চরম অভিযোগ

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: লিফট ঘটনার পর ফের বিতর্কের শিরোনামে উঠে এল আরজি কর হাসপাতাল। সেখানকার ট্রমা কেয়ারে (RG Kar Hospital Trauma Care Centre) ফের অব্যবস্থার অভিযোগ উঠে এল। জানা গিয়েছে, চিকিৎসা করাতে এসে হাসপাতালের অব্যবস্থার কারণে মৃত্যু হয় এক প্রৌঢ়ের। শৌচালয়ে যাওয়ার জন্য পাওয়া যায়নি কোনো স্ট্রেচার। হাঁটতে গিয়ে শ্বাসকষ্ট হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বিশ্বজিৎ সামন্ত নামের ওই প্রৌঢ়। তার পরেই মৃত্যু হয় তাঁর।

    স্ট্রেচার না পেয়ে হাঁটতে গিয়ে মৃত্যু!

    রিপোর্ট মোতাবেক, শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে আরজি কর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৬০ বছরের এক প্রৌঢ় বিশ্বজিৎ সামন্ত। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় তাঁর নাক থেকে রক্তও পড়ছিল। ট্রমা কেয়ারে চিকিৎসা চলছিল তাঁর। যদিও প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাতে রক্ত বন্ধ হয়ে যায়। কিছুটা সুস্থ বোধ করেন কিন্তু শৌচালয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় তাঁর। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালের যেখানে প্রৌঢ়ের চিকিৎসা চলছিল, সেখানে কাছাকাছি কোনও শৌচালয় ছিল না। এমনকি দোতলায় ওঠার জন্য স্ট্রেচারের ব্যবস্থাও ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে রোগী অসুস্থ অবস্থায় হেঁটে হেঁটে দোতলার শৌচালয়ে যেতে গিয়েই মৃত্যু হয় তাঁর। যদিও এখনও এবিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

    ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে দেহ

    মৃত বিশ্বজিৎ সামন্তের ছেলে বিশাল সামন্ত বলেন, ‘‘অনেক আশা নিয়ে আমরা আরজি কর হাসপাতালে এসেছিলাম। কিন্তু এখানে তো সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছেন!’’ অন্যদিকে হাসপাতাল সূত্রে দাবি, ট্রমা কেয়ার সেন্টারে শৌচালয় রয়েছে। তাহলে কেন তা সত্ত্বেও রোগীকে নিয়ে বাইরে যেতে বলা হয়? তবে এই সকল প্রশ্নের জবাবের জন্য মৃতের দেহ আপাতত ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক অনুমান, হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে প্রৌঢ়ের। আপাতত এই ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে টালা থানার পুলিশ।

    আরও পড়ুন: ৫ জেলায় দুর্যোগের ভ্রূকুটি, কেমন থাকবে আজকের আবহাওয়া

    উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ভোরে আরজি করের ট্রমা কেয়ার ভবনের লিফ্‌টে আটকে মৃত্যু হয়েছিল দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেখানেও বিতর্কের কেন্দ্র ছিল শৌচালয়। তিন বছরের ছেলের চিকিৎসা করানোর জন্য আরজি করে এসেছিলেন তিনি। শিশুকে শৌচালয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য লিফ্‌টে উঠতে হয় তাঁদের। কিন্তু, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সেই লিফ্‌টের বেসমেন্টে দীর্ঘ ক্ষণ আটকে থাকেন অরূপেরা। সেখানেই এক ঘণ্টা আটকে থাকার পর স্ত্রী সন্তানের চোখের সামনেই মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। হাসপাতালের অব্যবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নজরদারির অভাবকেই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়েছে। শেষ আপডেট বলছে, এই ঘটনায় ৩ জন লিফটম্যান-সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।