Author: Krishanu Ghosh

  • India Hood Decode: রাষ্ট্রপতি vs মমতা! বাংলায় কেন শুরু হল এই নজিরবিহীন সংঘর্ষ?

    India Hood Decode: রাষ্ট্রপতি vs মমতা! বাংলায় কেন শুরু হল এই নজিরবিহীন সংঘর্ষ?

    একদিকে যখন ভোট যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল-বিজেপি-সিপিএম, ঠিক সেই মুহূর্তেই এক নতুন যুদ্ধ শুরু করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে, এই যুদ্ধ কিন্তু কোনও দল বা নির্বাচন কমিশনের সাথে নয়, এই যুদ্ধ ভারতের সাংবিধানিক প্রধান তথা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মূ-র সাথে (President VS Chief Minister)।

    এত বছর ধরে বাংলা দেখেছে, দেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে মুখ্যমন্ত্রীর লড়াই, রাজ্যপালের সাথে মুখ্যমন্ত্রীর লড়াই। আর এবার প্রথমবার বাংলা দেখছে রাষ্ট্রপতির সাথে মুখ্যমন্ত্রীর লড়াই।

    গত ১০ দিন কেটে গেলেও, এই যুদ্ধ যেন থামার নামই নিচ্ছে না। দুপক্ষই যেন বলছে – হাম ঝুঁকেগা নেহি! পরিস্থিতি এমন যে তৃনমূলের আচরণে ভয়ঙ্কর ক্ষুব্ধ ভারতের রাষ্ট্রপতি, এমনকি রাষ্ট্রপতি শাসনও জারি হতে পারে বাংলায়।

    কিন্তু, হঠাৎ কীভাবে শুরু হল এই যুদ্ধ? কেনই বা একে অপরের সাথে ঠাণ্ডা লড়াইয়ে নেমেছে ভারতের দুই ক্ষমতাধারী মহিলা? হঠাৎ কী এমন করল তৃণমূল যার জন্য তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেছেন স্বয়ং রাষ্ট্রপতি? কেন সারা ভারতের সামনে লজ্জার মুখে পড়তে হচ্ছে বাঙালীদেরকে?

    আজ India Hood ডিকোড-এ আমরা তুলে ধরবো এমন কিছু ঘটনা, যা আমার-আপনার ধারণারও বাইরে! তাই ধৈর্য ধরে লেখাটি শেষ পর্যন্ত প্ড়ুন।

    দ্বন্দের সূত্রপাত!

    দিনটা ছিল ৬ই মার্চ। রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রায় চার বছর পর প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে আসেন দ্রৌপদী মুর্মু। দুই দিনের সফর। প্রথম দিন তিনি পৌঁছান বাগডোগরা বিমানবন্দরে। সেখান থেকে যান লোকভবনে। সেখানে তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল – দার্জিলিং হিল ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন। সেই দিন রাত কাটান রাজভবনে।

    পরের দিন অর্থাৎ ৭ই মার্চ, রাষ্ট্রপতির যাওয়ার কথা ছিল বিধাননগরে। সেখানে আদিবাসী সম্প্রদায়ের একটি বড় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। প্রথমে বিধাননগরে এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে পরে সেই অনুষ্ঠান সরিয়ে আনা হয় গোঁসাইপুরে।

    আর এই দিন থেকেই শুরু হয় বিতর্ক।

    প্রথমে গোঁসাইপুরের মঞ্চ থেকেই রাষ্ট্রপতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরপর নিজেই চলে যান বিধাননগরে, খতিয়ে দেখেন – কেন বিধাননগরে তাঁকে অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হল না, কোন নিরাপত্তার কারণে তাঁর এই অনুষ্ঠান স্থানান্তর করা হল।

    কিন্তু কোনও কারণ না খুঁজে পেয়ে, এরপর সেখান থেকেই তিনি সমালোচনা করা শুরু করেন রাজ্য সরকারের। তিনি বলেন – “প্রশাসনের মনে কী চলছিল জানি না। আমি তো সহজেই এখানে চলে এলাম। ওরা বলেছিল জায়গা নেই। অথচ এখানে তো পাঁচ লক্ষ লোক হয়ে যাওয়ার কথা!”

    এরপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন – “আমিও বাংলার মেয়ে। আমাকে বাংলায় আসতেই দেওয়া হয় না। মমতাদি আমার ছোট বোন। জানি না আমার উপর কী রাগ।”

    এখানেই থামেননি ম্যাডাম প্রেসিডেন্ট। রাজ্যের আদিবাসী সমাজের অবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি বলেন, “দেখে মনে হচ্ছে না যে সাঁওতাল বা আদিবাসী সমাজের মানুষেরা সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা পান।“

    এছাড়াও, কোনও রাজ্যে রাষ্ট্রপতি এলে সাধারণ প্রোটোকল অনুযায়ী, রাজ্যের রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী, এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান বা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। কিন্তু, ঘটনাচক্রে এই সময়ে ধর্মতলায় SIR-এর প্রতিবাদে ধর্না দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই তিনি রাষ্ট্রপতির সাথে দেখাও করেননি। যা নিয়েও অনেকে মুখ্যমন্ত্রীকে খোঁচা দেন।

    রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। এই মন্তব্যের পরেই বিষয়টি রাজ্য রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতিতে পৌঁছে যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বিষয় নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, – “এটি লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী প্রত্যেক মানুষ এই ঘটনায় ব্যথিত। পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাষ্ট্রপতির প্রতি অসম্মান দেখিয়েছে। রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে। এই পদের মর্যাদা সর্বদা রক্ষা করা উচিত।“

    এরপর পাল্টা জবাব দেয় মুখ্যমন্ত্রী!

    এত কিছুর পর এবার পাল্টা জবাব দিতে মাঠে নামেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকেই তিনি বলেন – “মাননীয়া রাষ্ট্রপতি, আমি দুঃখিত। আপনার প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু আপনি বিজেপির নীতির ফাঁদে পড়ে গিয়েছেন।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, “রাষ্ট্রপতিকে বিজেপি তাদের রাজনৈতিক প্রচারের জন্য ব্যবহার করছে। কই মণিপুরে যখন আদিবাসী সমাজের উপর হামলা হচ্ছিল, তখন রাষ্ট্রপতি কোনও মন্তব্য করেননি কেন?“

    এছাড়া, SIR নিয়ে মমতা, রাষ্ট্রপতিকে বলেন, ‘‘SIR নিয়ে কই একটা কথাও বললেন না তো? কত আদিবাসীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেই খবর রেখেছেন? খোঁজ নিয়ে নিন, আমরা আদিবাসীদের জন্য কী কী করেছি। অন্য রাজ্য কী করেছে।‘’

    এরপর ওই দিনই, ধর্না মঞ্চ থেকে তৃণমূল কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নেয়, ‘’রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবে তাদের প্রতিনিধি দল। মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব দেন তৃণমূলের দুই শীর্ষ সাংসদ—ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁদের বলা হয় রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়ে জানাতে—পশ্চিমবঙ্গে আদিবাসী উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকার কী কী কাজ করেছে।

    এছাড়াও, মোদীর কটাক্ষের উত্তর দিতে গিয়ে একটি পুরনো ছবি দেখিয়ে তৃণমূলের তরফ থেকে দাবি করা হয়, রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করেছেন স্বয়ং মোদীও। যে ছবিতে দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী দাঁড়িয়ে লালকৃষ্ণ আদবানীকে ভারতরত্ন পুরষ্কার দিচ্ছেন। আর তাঁর সামনে একটি চেয়ারে বসে রয়েছেন মোদী। পাশাপাশি তৃণমূলের নেতারা বক্তৃতায় জুড়ে দেন রামমন্দির উদ্বোধনে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ না-জানানোর প্রসঙ্গও।

    কিন্তু, বিজেপিও এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা সোশ্যাল মিডিয়া এই ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে বলে – ভারতরত্ন পুরস্কার প্রদানের সময় সরকারী প্রোটোকল অনুসারে, উপস্থিত অন্যরা বসে থাকবেন। তাই এক্ষেত্রে কোনও ধরণের ভঙ্গিমা লঙ্ঘন করা হয়নি।“ পোস্টটিতে আরও বলা হয়, “এটা লজ্জাজনক যে তৃণমূল কংগ্রেস আবারও মাননীয়া রাষ্ট্রপতি শ্রীমতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ভারতরত্ন শ্রী লালকৃষ্ণ আদভানির সাথে জড়িত একটি মর্যাদাপূর্ণ মুহূর্তকে তুচ্ছ রাজনীতির জন্য বিকৃত করার চেষ্টা করছে।”

    এছাড়া রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা না করার ক্ষেত্রে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৭ই মার্চ রাতেই এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, “রাষ্ট্রপতির কর্মসূচির আয়োজক ‘আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিল’, যারা একটি বেসকরকারি সংস্থা। সেই কর্মসূচির বিষয়েও রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসন সমন্বয়ও রেখেছিল। সেখানেই বিধাননগরের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকার কথা জানানো হয়। এছাড়াও, শিলিগুড়ির মেয়র, দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক সকলেই রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য হাজির ছিলেন। সেখানে কোনও প্রোটোকল বিঘ্নিত হয়নি। শেষে তিনি লেখেন, ‘‘সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হল, বিজেপি নিজেদের দলীয় উদ্দেশ্যে দেশের সর্বোচ্চ পদকেও ব্যবহার করছে।‘’

    তবে, এই রাজনৈতিক সংঘর্ষ এখানেই থেমে থাকেনি।

    “মুখের ওপর না” বলে দেয় রাষ্ট্রপতি!

    এরপর দিনটা ৯ই মার্চ। রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করার জন্য তৃনমূলের তরফ থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনে চিঠিও পাঠানো হয়। ১২ থেকে ১৫ জন দলীয় প্রতিনিধি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন বলে চিঠিতে জানানো হয়েছিল। সেই প্রতিনিধি দলে থাকার কথা তৃণমূল সাংসদ এবং মন্ত্রীদের।

    কিন্তু, ১২ই মার্চ সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। এক প্রকার “মুখের ওপর তৃনমূলকে না বলে দেয়” রাষ্ট্রপতি। তৃণমূলের চিঠির জবাবে রাষ্ট্রপতি ভবন জানায়, তাদের অনুরোধটি বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের অভাবে আবেদন গ্রহণ করা যাচ্ছে না। এর পরেই আগামী সপ্তাহে ফের রাষ্ট্রপতির সময় চান তৃণমূল সাংসদেরা।

    এবার পাল্টা “না” বলে তৃণমূল!

    এবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে থাকে। ১৪ই মার্চ শুরু হয় নতুন বিতর্ক। কারণ, সেদিন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সমস্ত রাজনৈতিক দলের সাংসদদের ১৬ই মার্চ রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রাতরাশের আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু সেই আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্যসভার মুখ্যসচেতক নাদিমুল হক রাষ্ট্রপতি ভবনকে জানান, “তৃণমূলের সাংসদরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না।“

    কিন্তু কেন? কারণ হিসেবে বলা হয়—রমজান মাস চলছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা দিনভর উপবাস করেন। তাই সেই সময় প্রাতরাশ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া ঠিক হবে না।

    আর এই সিদ্ধান্তই নতুন করে বিতর্ক তৈরি করে। কারণ প্রশ্ন ওঠে, – যদি সকালে না যেতে চান, তাহলে কখন যাবেন তারা? কারণ বিকালে দেখা করতে বললে, – তখন তো আবার ইফতার চলে!

    বিরোধীরা বলছে—এটা আসলে রাজনৈতিক প্রতিবাদ। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি—বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থে রাষ্ট্রপতির পদ ব্যবহার করছে।

    যদিও পরে দেখা যায়, রাষ্ট্রপতি ভবনের ওই প্রাতরাশের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করেন তৃনমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়।

    এখন প্রশ্ন হচ্ছে – এই ঠাণ্ডা লড়াইয়ের কতটা প্রভাব পড়বে বাংলার ভোটে?

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে জঙ্গলমহল এলাকায়।

    কারণ, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলের সবকটি আসন জিতেছিল বিজেপি। কিন্তু ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেই অঞ্চল অনেকটাই পুনর্দখল করে তৃণমূল। আর ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে পশ্চিমাঞ্চলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসন—বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং মেদিনীপুর—দখল করে নেয় তৃণমূল।

    তাই আদিবাসী ভোট এখন দুই দলের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    পরিসংখ্যান বলছে – পশ্চিমবঙ্গে মোট ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৬টি আসন জনজাতিদের জন্য সংরক্ষিত। কিন্তু বাস্তবে প্রায় ৫২টি আসনে উল্লেখযোগ্য আদিবাসী ভোট রয়েছে। অর্থাৎ, এই বিতর্ক শুধু সংরক্ষিত আসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই এখন প্রশ্নটা শুধু একটি অনুষ্ঠান বা একটি বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

    এই সংঘর্ষ কি শেষ পর্যন্ত প্রভাব ফেলবে বাংলার ভোটে? আপনার কী মনে হয়? জানাতে ভুলবেন না আপনার মতামত কমেন্ট করে।

  • India Hood Decode: ধর্মতলার ধর্না ফ্লপ! এবার আরও বড়সড় চাপে পড়ল তৃনমূল

    India Hood Decode: ধর্মতলার ধর্না ফ্লপ! এবার আরও বড়সড় চাপে পড়ল তৃনমূল

    এবার এক প্রকার ফাঁদে পড়ে রণে ভঙ্গ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম নির্দেশে জয় নয়, বরং ধর্না মঞ্চে নিজের হার দেখে ধর্না তোলার  সিদ্ধান্ত নিলেন তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো। আর এই কথাগুলো আমরা বলছি না, এগুলো প্রকাশ পাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কাজে!

    একদিকে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে কখনও তিনি অপমান করে বসছেন দেশের রাষ্ট্রপতিকে, আবার কখনো তিনি ওপেন থ্রেট দিচ্ছেন একটি কমিউনিটিকে! আবার অন্যদিকে, সুপ্রিম নির্দেশ হোক কিংবা শিক্ষকদের বিক্ষোভ – SIR-এর ধর্না মঞ্চে প্রকাশ্যে এসেছে এমন কিছু ঘটনা, যা বলে দিচ্ছে এক প্রকার ব্যর্থ হয়েছে এই ধর্না।

    এমনকি যে মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুরের ঘটনার জন্য করেছিলেন ২৬ দিনের অনশন, যে মুখ্যমন্ত্রী নন্দীগ্রাম ঘটনার প্রতিবাদে দিয়েছিলেন ১৪ দিনের ধর্না, এমনকি নিজের পুলিশকে বাঁচাতে গিয়ে দিয়েছিলেন ৩ দিনের ধর্না – আজ সেই মুখ্যমন্ত্রী SIR-এর মতো ইস্যুতে মাত্র ৫ দিনেই কেন শেষ করে দিলেন ধর্না! আবার তাঁকে সেই ধর্না তোলার অনুরোধ করলেন তাঁরই ভাইপো অভিষেক! কেন?

    আজ India Hood ডিকোডে, আমরা তুলে ধরবো এমন কিছু তথ্য, এমন কিছু সত্য, যা প্রমাণ করে দেবে – ধর্মতলার এই ধর্না একটি ফ্লপ শো! প্রমাণ করে দেবে এই যে ধর্না মঞ্চেই এক প্রকার প্যাঁচে পড়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী! তাই ধৈর্য ধরে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

    দিনটা ছিল শুক্রবার, ৬ই মার্চ, ২০২৬। দুপুর থেকেই ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ধর্নার মূল ইস্যু ছিল SIR প্রক্রিয়ায়, অ্যাডজুডিকেশন তালিকায় যে ৬৩ লক্ষের নাম বাদ গিয়েছে, এরা কি আর ভোট দিতে পারবে?

    কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই দেখা গেল অন্য ছবি। ধর্না মঞ্চ থেকেই তৈরি হচ্ছে একের পর এক বিতর্ক, মানুষের অধিকার নিয়ে শুরু হওয়া ধর্না পাল্টে যাচ্ছে  রাজনীতিতে! এমনকি ধর্না মঞ্চের পাশেই প্রতিবাদ দেখাচ্ছেন বাংলার শিক্ষকরা।

    যার ফলে শেষ পর্যন্ত – আদালতের নির্দেশে বড় জয়, নতুন দরজা অনেকটা খুলে গেল – এই সব বলে এক প্রকার বাধ্য হয়ে নিজেই ধর্না শেষ করার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী!

    কিন্তু, আসলে এই ধর্না শেষ করার নেপথ্যে আসলে রয়েছে কী কারণ?

    প্রথম কারণ – প্রথম দিনেই হন অপদস্থ!

    দিনটা ৬ই মার্চ, অর্থাৎ ধর্নার প্রথম দিন। ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। কিন্তু, হঠাৎ সেখানে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন কয়েক জন পার্শ্বশিক্ষক। গত কয়েক দিন ধরেই বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সরব হয়েছিলেন তাঁরা। এ বার সেই প্রতিবাদের জন্য তাঁরা বেছে নিলেন মমতার ধর্না মঞ্চকে। সেখানে প্ল্যাকার্ড হাতে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। পাশাপাশি পুলিশ এসে তাঁদের আটক করে সরিয়ে নিয়ে যায়।

    মঞ্চে বসে মমতা বলেন, ‘‘শান্ত হয়ে থাকতে পারলে থাকবেন। রাজনীতি করবেন না। বিজেপির কথায় এ সব করবেন না। এই জায়গা খোলামেলা বলে ভাববেন না, যা কিছু করা যাবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ-কে দেখান। ভ্যানিশ কুমারকে দেখান।’’

    আর এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। রাজনৈতিকভাবে এই ঘটনাটি তৃণমূলের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।

    এই নিয়ে বিরোধীরা বলতে শুরু করে—যে মঞ্চ থেকে সরকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনের দাবি করছে, সেই মঞ্চের সামনেই সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হচ্ছে।

    এবার আসবো দ্বিতীয় কারণে, আর সেটা হল – রাষ্ট্রপতিকে অপমান!

    এরপর দিনটা ছিল ৭ই মার্চ। অর্থাৎ ধর্নার দ্বিতীয় দিন। পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দৌপ্রদী মুরমু। তাঁর শিলিগুড়িতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে তার স্থান বদল হয়। আর সেখান থেকেই হয় বিতর্কের সূত্রপাত।

    কারণ এই স্থান পরিবর্তন নিয়ে রাষ্ট্রপতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে তিনি নিজেই চলে যান সেখানে, যেখানে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে মুর্মু বলেন, ‘‘সাধারণত রাষ্ট্রপতি এলে মুখ্যমন্ত্রীরও আসা উচিত। মন্ত্রীর থাকা উচিত। মমতা আমার ছোট বোনের মতো। জানি না, হয়তো কোনও কারণে আমার উপর রাগ করেছেন।‘ জায়গা প্রসঙ্গে এর পর তিনি বলেন, ‘‘প্রশাসনের মনে কী চলছিল জানি না। আমি তো সহজে চলে এলাম। ওরা বলেছিল পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এখানে এত বড় জায়গা আছে। তা-ও কেন হল না, জানি না। এখানে হলে আরও অনেক মানুষ আসতে পারতেন।‘

    এরপর ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকেই এর জবাব দেন মমতা। বলেন, রাষ্ট্রপতি ‘বিজেপির নীতির ফাঁদে’ পড়েছেন। রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, ‘‘বিজেপির পরামর্শে বিধানসভা ভোটের সময় রাজনীতি করবেন না। এসআইআর নিয়ে একটাও কথা বললেন না তো? কত আদিবাসীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেই খবর রেখেছেন? খোঁজ নিয়ে নিন, আমরা আদিবাসীদের জন্য কী কী করেছি। অন্য রাজ্য কী করেছে।’

    আর মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা অভিযোগ তোলে যে ভারতের রাষ্ট্রপতি পদকে অসম্মান করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয় জাতীয় স্তরেও।

    প্রশ্ন ওঠে — যে আন্দোলনকে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন বলা হচ্ছে, সেই আন্দোলনের মঞ্চ থেকেই দেশের সাংবিধানিক পদ নিয়ে মন্তব্য কেন? এই ঘটনাটা ধর্না মঞ্চের প্রথম বড় বিতর্ক হয়ে ওঠে। অনেকেই এই ঘটনাকে ভালোভাবে নেন না। আদিবাসীরা এই ঘটনায় রেগে যান। আর এখানেই ফাঁস হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর এক দুমুখো রাজনীতির পরিচয় – একদিকে তিনি বলেন ভিনরাজ্যে বাঙালীদের হেনস্থার কথা, আর অন্যদিকে তিনি নিজের রাজ্যেই একজন বাঙালি রাষ্ট্রপতিকে হেনস্থা এবং অপমান করলেন। শুধু তাই নয়, তৃনমূলের তরফ থেকে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার দায়িত্বে কারা থাকবেন, কোন কনভয়ে যাবেন, সেই সংক্রান্ত গোপন নথিও প্রকাশ করা হয় তৃনমূলের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে। যা নিয়েও শুরু হয় বিতর্ক!

    তৃতীয় কারণ – হিন্দুদের ওপেন থ্রেট!

    এরপর দিনটা ছিল ৯ই মার্চ। অর্থাৎ, ধর্নার চতুর্থ দিন। ধর্নামঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেন,’আমরা আছি বলে আপনারা সবাই ভালো আছেন। যদি আমরা না থাকি, যদি তেমন দিন আসে তাহলে এক সেকেন্ড লাগবে। একটা কমিউনিটি যখন জোট বাঁধে না,ঘিরে ফেললে এক সেকেন্ডে দেবে একদম ১২টা বাজিয়ে। যদি নিজেদের ১৩টা বাজাতে না চান তাহলে বিজেপির অপ্রচারে কেউ দিন ভুল বুঝবেন না।’

    মমতার এই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, এবার মুসলিমরা আর মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের পাশে নেই। তারা রয়েছে হুমায়ুন কবীরের পাশে। তিনি আরও বলেন, হিন্দুরাও এবার জোট বাঁধতে শুরু করেছে।

    ফলে ধর্নার মূল ইস্যু থেকে আলোচনা সরে গিয়ে সেই যে ধর্মীয় বিষয়ে গিয়ে আটকে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ কখনো দুধেল গাই আবার কখনো হিংস্র কমিউনিটির মন্তব্য – লোকের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসল পর্দা ফাঁস করে দিয়েছে।

    এবার আমরা বলবো চতুর্থ কারণ, আর সেটা হল সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের অপদস্থ হওয়া

    ১০ই মার্চ, সুপ্রিম কোর্টে SIR মামলার শুনানিতে একদিকে তৃনমূলের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীকে চূড়ান্ত তিরস্কার করেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। আর অন্যদিকে পরিষ্কার করে দেন, SIR প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য, যা প্রথম থেকেই বারংবার বলে আসছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান বিচারপতি বলেন, যারা বৈধ ভোটার, তারা অবশ্যই তালিকায় থাকবেন, যারা অবৈধ, তাদের নাম বাদ যাবে। আর ভোটের একদিন আগেও যদি কোনও বৈধ ভোটারের নাম তালিকায় না থাকে, তাহলে সেটিকে স্পেশাল কেস হিসেবে দেখা হবে।

    কিন্তু, এখানেই উঠতে থাকে একাধিক প্রশ্ন – এখানে তৃনমূলের জয় কোথা থেকে হল? এছাড়া, কোর্টের নির্দেশ সবসময়ই মেনে এসেছে নির্বাচন কমিশন, সেটা আধার কার্ডকে মান্যতা দেওয়া হোক কিংবা SIR প্রক্রিয়ায় বিচার আধিকারিকদের অন্তর্ভুক্তি হোক – কিন্তু তৃনমূল কি কোর্টের কথা আদৌ শুনছে? তারা কোর্টের নির্দেশকেই বারংবার চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন!

    এমনকি বিরোধীরা প্রশ্ন তোলে —  যদি বিষয়টি আদালতেই নিষ্পত্তির পথে থাকে তাহলে ধর্নার রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তা কোথায়? এইভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করিয়ে কী লাভ?

    পঞ্চম কারণ – ধর্না শেষে মুখ্যমন্ত্রীর আক্ষেপ!

    ১০ই মার্চ, ধর্না শেষ করার সময় মুখ্যমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন— কিছু মানুষকে টাকা দিয়ে কিনে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

    এই বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে বড় দাবি হলেও বিরোধীরা পাল্টা প্রশ্ন তোলে— কারা টাকা দিচ্ছে? কোন প্রমাণ আছে?

    আবার অনেকের দাবী – আসলে সবাই তৃণমূলের অরাজকতা ছেড়ে দল ছাড়ছে, আর সেই ব্যর্থতা ঢাকতে মুখ্যমন্ত্রী টাকা দিয়ে কেনার অভিযোগ তুলছেন – এমনটা নয় তো?

    আবার অনেকেই দাবী করেছেন, এবারের ধর্নায় মানুষের উপস্থিতির হার ছিল অনেক কম। এছাড়া, ধর্নার ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও প্রচণ্ডভাবে প্রভাবিত হচ্ছিল।

    ফলত বেগতিক বুঝে তাড়াতাড়ি করে এই ধর্না তুলে নেন মুখ্যমন্ত্রী।

    অর্থাৎ একদিকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন— দরজা কিছুটা খুলেছে, তাই আপাতত কর্মসূচি শেষ করা হচ্ছে।

    আর অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে — আসলে রাজনৈতিকভাবে লাভ হচ্ছিল না। ধর্না মঞ্চে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হচ্ছিল, প্রতিবাদ হচ্ছিল, এবং জনসমর্থনের প্রশ্ন উঠছিল। ফলে সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতেই ধর্না শেষ করা হয়েছে।

    কিন্তু, আপনাদের কী মনে হয়? এই ধর্না হঠাৎ করেই কেন শেষ করা হল? এবারের ভোটে এই ধর্না কী কোনও প্রভাব ফেলতে পারবে? জানাতে ভুলবেন না আপনার মতামত কমেন্ট করে।

  • ইরান-ইজরায়েল নয়, যুদ্ধে সবচেয়ে বড় ক্ষতি ভারতের!

    ইরান-ইজরায়েল নয়, যুদ্ধে সবচেয়ে বড় ক্ষতি ভারতের!

    একবার ভাবুন তো, যদি বলি – আমেরিকা, ইজরায়েল আর ইরানের যুদ্ধে সবথেকে বেশি ক্ষতি ভারতের (India) – বিশ্বাস করবেন?

    হয়তো না।

    কিন্তু সম্প্রতি, যুদ্ধের শুরুতেই উঠে এসেছে এমন কিছু তথ্য, যা শুনলে চোখ কপালে উঠবে আপনারও! অবস্থা এমন হয়েছে, যে যুদ্ধ না থামলে ভারতে পেট্রোল/ডিজেলের দাম লিটার পিছু বাড়তে পারে ১৫ থেকে ২০ টাকা করে! যার ফলে মূল্যবৃদ্ধি হতে পারে সব জিনিসের। চাকরি যেতে পারে প্রায় ১ কোটি মানুষের! শুধু তাই নয় মাত্র ১০ দিনে ক্ষতি হয়েছে ৩১ লক্ষ কোটি টাকা!

    কী অবাক হচ্ছেন? হয়তো হচ্ছেন! কিন্তু এই কথা আমরা বলছি না, বলছে রিপোর্ট!

    আমেরিকা, ইজরায়েল আর ইরানের যুদ্ধের যতটা ক্ষতি ওই দেশগুলোর হয়েছে, তার ১০ গুণ বেশি ক্ষতি ভারতের হয়েছে! কিন্তু, কীভাবে এই যুদ্ধ প্রভাব ফেলল ভারতের অর্থনীতিতে? কীভাবেই বা ক্ষতি হয়ে গেল প্রায় ৩১ লক্ষ কোটি টাকা? যদি ভারতের এই অবস্থা হয়, তাহলে আমেরিকা, ইজরায়েল আর ইরানের কতটা ক্ষতি হয়েছে?

    আজ India Hood ডিকোড-এ আমরা তুলে ধরবো এমন কিছু তথ্য, এমন কিছু সত্য যা জানা উচিত প্রতিটি ভারতবাসীর! তাই ধৈর্য ধরে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

    দিনটা ২৮শে ফেব্রুয়ারি। হঠাৎ করেই ইরানের ওপর আক্রমণ করে বসে আমেরিকা ও ইজরায়েল। খতম করে দেওয়া হয় ইরানের সর্বোচ্চ লিডার খামেইনিকে। আর তারপরেই শুর হয় আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণ। এমনকি এই সংঘর্ষের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে কুয়েত, সৌদি আরব থেকে বাহারিনে।

    আর যুদ্ধ হলে এক নয়, একাধিক ক্ষতি যে হবেই সে কথাও কারোর অজানা নয়। কিন্তু, এই যুদ্ধে কেবল জড়িত দেশ আমেরিকা, ইজরায়েল, এবং ইরানের হয়েছে – তা কিন্তু নয়। এই যুদ্ধে ক্ষতি হয়েছে বিশ্বের একাধিক দেশের। আর এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ভারতের। এবার আমরা আপনাদের সামনে এক এক করে তুলে ধরবো – কোন দেশের ঠিক কতটা ক্ষতি হয়েছে!

    আমেরিকা (America)

    প্রথমেই আসি আমেরিকায়। সারা বিশ্বের মধ্যে মার্কিন সেনাশক্তি যে ১ নম্বরে, সেটা কারও অজানা নয়। আমেরিকার সেনা খাতের বাজেট প্রায় ৯১ লক্ষ কোটি টাকা, যে টাকায় পাকিস্তানের মতো তিনটি দেশ কিনে ফেলা যায়।

    জানলে অবাক হবেন, ইরানের বিরুদ্ধে অপারেশন এপিক ফিউরি চালাতে আমেরিকা একদিনে খরচ করেছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা

    এর মধ্যে হামলায় খরচ ৭,২০০ কোটি,

    আর প্রস্তুতিতে ৫,৮০০ কোটি টাকা

    কিন্তু যুদ্ধ এখনও চলছে। রিপোর্ট বলছে, যুদ্ধের দ্বিতীয় দিন থেকে পরবর্তী ১০০ ঘণ্টায় আমেরিকা খরচ করেছে দৈনিক প্রায় হাজার কোটি টাকায়। আর এই খরচ ধীরে ধীরে পৌঁছাতে পারে ৮,৩০০ কোটি টাকায়

    পেন্টাগনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রথম সপ্তাহে খরচ হয়েছে প্রায় ৫৫,২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩৬,৮০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে ইরানের হামলা প্রতিহত করতে।

    এই যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত আমেরিকার জন সেনা নিহত হয়েছেন।

    কিন্তু এত খরচ হচ্ছে কেন?

    কারণ একটাই—সামরিক সরঞ্জাম। যেমন ধরুন, ইরানের বিরুদ্ধে এয়ারস্ট্রাইকে আমেরিকা ব্যবহার করছে B-2, B-52, B-1B, F-35-এর মতো আধুনিক ও ব্যয়বহুল বিমান। ব্যবহার করা হচ্ছে MQ-9 রিপারলুকাস ড্রোন, রকেট আর্টিলারি, হিমারস, এবং টমাহক ক্রুজ মিসাইল। একটি টমাহক মিসাইলের দামই প্রায় ১৮.কোটি টাকা

    ব্যবহার করা হয়েছে দুটি রণতরী—USS Gerald R Ford এবং USS Abraham Lincoln। একটি Aircraft Carrier Strike Group পরিচালনায় প্রতিদিন খরচ হয় প্রায় ৮৩ কোটি টাকা। এছাড়া আমেরিকা এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭,৩৬০ কোটি টাকা মূল্যের ৪০০টি মিসাইল লঞ্চ করেছে।

    তবে আমেরিকা শুধু আক্রমণই করেনি, নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কাতারের আল-উদেইদ বেসে ইরানের বড় হামলায় ধ্বংস হয়েছে একটি সতর্কতা রাডার, যার দাম প্রায় ১০,১১৮ কোটি টাকা

    এছাড়া UAE-তে থাকা একটি THAAD-2 রাডার ধ্বংস হয়েছে, ক্ষতি প্রায় ৪,৬০০ কোটি টাকা

    কুয়েতে ইরান ধ্বংস করেছে আমেরিকার তিনটি F-15 স্ট্রাইক ইগল জেট, যার মূল্য প্রায় ২,৭৬০ কোটি টাকা

    এরপর বাহরেনে থাকা একটি প্রধান মার্কিন স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল এবং একাধিক মার্কিন এয়ারবেসও ধ্বংস করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মোট প্রায় ১৮,৪০০ কোটি টাকার মার্কিন সামগ্রী নষ্ট হয়েছে।

    এই যুদ্ধে ইরান কিন্তু আমেরিকার বেশি ক্ষতি করাচ্ছে। কি বিশ্বাস হচ্ছে না? উদাহরণ দিলেই বুঝবেন। ইরানের একটি মিসাইলের দাম প্রায় ১৮.কোটি টাকা, কিন্তু সেটি আটকাতে আমেরিকাকে তিনটি প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স মিসাইল ছুঁড়তে হয়েছে, যার মোট খরচ প্রায় ১১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, একটি ইরানি মিসাইল আটকাতে আমেরিকার খরচ প্রায় গুণ বেশি

    এছাড়া ইরান হামলায় ব্যবহার করছে শাহিদ ড্রোন, যার দাম মাত্র ৩২ লক্ষ টাকা। আর সেগুলো ঠেকাতে ব্যবহার হচ্ছে হয় ১১৭ কোটি টাকার THAAD মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ৩২ কোটি টাকার প্যাট্রিয়ট মিসাইল। অর্থাৎ, অনেক ক্ষেত্রেই আমেরিকার খরচ হচ্ছে ১০০ থেকে ৩৬০ গুণ বেশি

    বিশ্লেষকদের অনুমান, যদি সপ্তাহ যুদ্ধ চলে, তাহলে আমেরিকার ক্ষতি হতে পারে প্রায় ৯২,০০০ কোটি থেকে লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকা। আর যদি মাস চলে, যেমনটা মার্কিন রাষ্ট্রপতি বলেছেন, তাহলে এই খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় সাড়ে লক্ষ কোটি টাকায়

    শুধু তাই নয়, যুদ্ধের প্রভাবে আমেরিকার শেয়ার মার্কেটেও বড় ধস নেমেছে, যেখানে ইতিমধ্যেই গায়েব হয়েছে প্রায় ৮৩ লক্ষ কোটি টাকা

    ইজরায়েল (Israel)

    এবার আসি ইজরায়েলে। ইজরায়েল সারা বিশ্বের মধ্যে সেনা শক্তির দিক থেকে এক নম্বরে না থাকলেও, যথেষ্ট ভালো স্থানে রয়েছে। তাদের সামরিক বাজেট প্রায় ৪ লক্ষ ৩২ হাজার কোটি টাকা, যা পাকিস্তানের চার গুণ। আপনি যদি ইজরায়েলের সেনা শক্তি সম্পর্কে জানতে চান, তাহলে ক্লিক করুন আই বাটনে আর দেখে নিন আমাদের ইজরায়েল স্পেশাল ডিকোড ভিডিওটি।

    ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে রোরিং লায়ন” নামের যে অভিযান শুরু করেছিল ইজরায়েল, সেই অভিযানের সাপ্তাহিক খরচ পৌঁছেছে প্রায় ২৭,৫০০ কোটি টাকায়। বর্তমানে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চালাতে প্রতিদিন প্রায় ৬,৬৫২ কোটি টাকা সামরিক খরচ করছে ইজরায়েল। অর্থাৎ এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬০,০০০ কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে। এই যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত ১১ থেকে ১৩ জন ইজরায়েলি নাগরিক সেনার মৃত্যু হয়েছে

    তবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ করছে ইজরায়েলে, মূলত রাজধানী তেল আভিভে। হামলায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল প্রতিহত করতে ইজরায়েলের কাছে রয়েছে উন্নত মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যার এক একটি ব্যবস্থার দাম কয়েক হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত।

    এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত আয়রন ডোম, যা রাডারের মাধ্যমে রকেট শনাক্ত করে আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। প্রতিটি ইন্টারসেপশনে খরচ হয় প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা। এছাড়া রয়েছে অ্যারো-থ্রি হাইপারসনিক ইন্টারসেপ্টর এবং ডেভিড’স্লিং ইন্টারসেপ্টর। পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে আয়রন বিম লেজার সিস্টেম, যা প্রায় ১০ কিমি দূরের মিসাইল ধ্বংস করতে পারে

    যুদ্ধের কারণে ইজরায়েল ব্যাপকভাবে রিজার্ভ সেনাদেরও ডেকে নিয়েছে। প্রায় থেকে লক্ষ রিজার্ভ সেনা সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। ফলে অনেক শিল্পকারখানা, প্রযুক্তি কোম্পানি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কর্মী সংকটে পড়েছে।

    এছাড়া যুদ্ধের ফলে দেশের অনেক জায়গায় ব্যবসা, স্কুল বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। উৎপাদন কমছে, পর্যটন বন্ধ হয়ে গেছে, আর বহু মানুষ বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়ায় শ্রমিক সংকট তৈরি হয়েছে। দেশের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, মাত্র এক সপ্তাহেই প্রায় ২৭,৫০০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে।

    বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে আবাসিক ভবন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা শিল্প অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো পুনর্গঠনের জন্য সরকারকে আরও কয়েক লক্ষ কোটি টাকা খরচ করতে হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলে, তাহলে ইজরায়েলের মোট অর্থনৈতিক ক্ষতি সাড়ে লক্ষ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।

    এছাড়া যুদ্ধের প্রভাবে ইজরায়েলের শেয়ার মার্কেট থেকেও প্রায় লক্ষ ২০ হাজার কোটি থেকে আড়াই লক্ষ কোটি টাকা উধাও হয়ে গেছে

    ইরান (Iran)

    এবার আসি ইরানে। হয়তো অনেকেরই মনে হচ্ছে এই যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে ইরানেরই। কিন্তু বিভিন্ন রিপোর্ট বলছে ভিন্ন কথা। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে তারা তাদের সুপ্রিম লিডার আলি খামেনিকে হারিয়েছে, কিন্তু আর্থিক দিক থেকে তাদের ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।

    যুদ্ধ শুরুর আগেই ইরানের অর্থনীতি বেশ চাপের মধ্যে ছিল। একদিকে দাম বৃদ্ধি, অন্যদিকে আমেরিকার কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। এর ওপর যুদ্ধের ফলে খাদ্য, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, ফলে মুদ্রাস্ফীতিও বাড়বে

    তবে রিপোর্ট বলছে, ইরানের সামরিক বাজেট প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা, যা ইজরায়েলের প্রায় অর্ধেক। তবুও তারা এই যুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে সমান তালে টেক্কা দিচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ—হেজবোল্লা, হামাস ও হুথিদের মতো প্রক্সি গ্রুপের সমর্থন, এবং রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে তুলনামূলক সস্তায় অস্ত্র সংগ্রহ

    যেমন ধরুন, ইরান এই যুদ্ধে ব্যবহার করছে বহুল পরিচিত Shahed-136 ড্রোন, যাকে আকাশপথের AK-47 বলা হয়। এর দাম মাত্র ৩২ লক্ষ টাকা। রয়েছে Fateh-110 ব্যালিস্টিক মিসাইল, যার দাম প্রায় ৪.৫ কোটি টাকা, রয়েছে Sejjil ব্যালিস্টিক মিসাইল, যার দাম প্রায় ১০ কোটি টাকা।

    বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি বড় হামলায় তারা প্রায় ৬০০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ১,০০০-এর বেশি ড্রোন ব্যবহার করেছে।

    ইরানের আধুনিক যুদ্ধ জাহাজ IRIS Dena ডুবে যাওয়ার ফলে ইরানের ক্ষতি শুধু জাহাজের দামে সীমাবদ্ধ নয়। এই জাহাজে ছিল: ঘাদের এবং নুর অ্যান্টি-শিপ মিসাইল, সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল, টর্পেডো লঞ্চার, র‍্যাডার ও সেন্সর সিস্টেম, হেলিকপ্টার অপারেশন ডেক, প্রশিক্ষিত ১৪০ জন ক্রু। সব মিলিয়ে এর বাস্তবে সামরিক মূল্য প্রায় ২৭৫৫ কোটি টাকা।

    এছাড়া আমেরিকার দাবি অনুযায়ী, তারা ইরানের ৩০টিরও বেশি জাহাজ ডুবিয়েছে

    আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলায় ইরানে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১,৩০০ জন সাধারণ মানুষ সৈন্য নিহত হয়েছেন এবং ১৫৩টি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে

    তবে ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা তাদের তেল রপ্তানি নির্ভর অর্থনীতি। যুদ্ধের আগে ইরান প্রতিদিন প্রায় ১৭ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদন করত। তখন তেলের দাম ছিল প্রায় ৮০ ডলার প্রতি ব্যারেল, অর্থাৎ দৈনিক আয় প্রায় ১,২৪০ কোটি টাকা

    কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অনেক তেলবাহী জাহাজ রুট পরিবর্তন করেছে, বীমা খরচ বেড়েছে, কিছু বন্দরে রপ্তানি কমেছে এবং কিছু তেল উত্তোলন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এখন দৈনিক উৎপাদন কমে প্রায় লক্ষ ব্যারেলে নেমে এসেছে। অর্থাৎ দৈনিক আয় কমে হয়েছে প্রায় ৭৩ কোটি টাকা। শুধু গত ১০ দিনেই তেল থেকে প্রায় ১১,৬০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

    সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩৬,০০০ কোটি টাকাঅর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে ইরানের

    এছাড়া যুদ্ধের ফলে তেল শোধনাগার, গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, সামরিক ঘাঁটি, ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো মেরামত ও পুনর্গঠনে বিশ্লেষকদের মতে প্রায় ৪৫,৯০০ কোটি টাকা লাগতে পারে।

    অন্যদিকে, এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে ইরানের শেয়ার বাজারেও, যেখানে প্রায় লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে

    এবার আপনাদের জানাবো ভারতের কথা। যারা যুদ্ধে অংশ নেয়নি, তা সত্ত্বেও বড়সড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

    ভারত (India)

    গত ১০ দিনে ভারতের শেয়ার মার্কেট থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছে প্রায় ৩১ লক্ষ কোটি টাকা। যার ফলে মাথায় হাত পড়েছে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের। আর শুধু ভারতেই নয়, এই যুদ্ধের আঁচে গা পুড়ছে অধিকাংশ দেশেরই।

    শুধুমাত্র, তেলের জন্যই অতিরিক্ত খরচ বাড়তে পারে দৈনিক ৪ লক্ষ ৯৬ হাজার কোটি টাকা! যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে, যেখান থেকে ভারত প্রতিদিন আড়াই থেকে ২.৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আনে। ইরানের IRGC বলেছে, বর্তমানে এক ব্যারেল তেলের দাম সারা বিশ্বে ৮১ ডলার। কিন্তু তারা সেটাকে ২০০ ডলারে নিয়ে যেতে চাইছে। তাদের মতো মূল্যবৃদ্ধি সব দেশে হোক তারা সেটার চাইছে। আর এর প্রভাব ইতিমধ্যেই দেখা গিয়েছে অনেক দেশে। কারণ যুদ্ধের কারণে তেলের দাম ইতিমধ্যেই ব্যারেল প্রতি ১১৪ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে পরিবহন খরচ, শিল্প উৎপাদন, বিমান পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন – সব ক্ষেত্রেই ব্যয় বাড়বে।তেলের দাম প্রতি ১ ডলার বাড়লে ভারতের অতিরিক্ত খরচ হয় প্রায় ১৬,০০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৩১ ডলার বেড়ে যাওয়া মানে এই অতিরিক্ত খরচের পরিমাণ কতটা বেড়ে যেতে পারে আশা করছি সেটা বুঝতেই পারছেন! আর তেলের দাম বাড়লে গাড়ি ভাড়া বাড়বে, ফলে বাড়বে জিনিসপত্রের দাম।

    যদিও, আপাতত রাশিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতকে তেল পাঠাচ্ছে এবং ভারতের কাছে যথেষ্ট তেল মজুদ রয়েছে তাই এখনই এই দুর্দিন আসছে না।

    ভারতের অন্যান্য শক্তিও ক্ষতির সম্মুখীন! এছাড়া, ভারতের ৬০ শতাংশ জ্বালানি শক্তি আসে ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত, UAE থেকে, আর এর মধ্যে সবগুলোতেই আক্রমণ করেছে ইরান। ফলত, ২০২৬ সালের ৭ মার্চ থেকে ভারতে ১৪.২ কেজি LPG সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এবং একই সঙ্গে ১৯ কেজি কমার্শিয়াল সিলিন্ডারের দাম ১১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। যার আঁচ পড়েছে সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটের ওপর।

    ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রপ্তানিও! এছাড়া, ভারত অনেক পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে যেগুলি বন্ধ হলে, ভারত আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভারত ২০২৫ সালে ২৩ বিলিয়ন ডলারের আইফোন UAE -তে রপ্তানি করেছিল। এছাড়াও, ভারত সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের বৈদ্যুতিক এবং প্রযুক্তিগত পণ্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে রপ্তানি করে, এবার সেটাও হরমুজের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সংক্ষেপে, ভারতের ১৭% রপ্তানি যায় ওই অঞ্চলে, প্রায় ১ কোটি ভারতীয় সেখানে কাজ করে। যদি যুদ্ধ দীর্ঘ হয় তাহলে ভারতের রেমিট্যান্স কমতে পারে, ভারতীয় কোম্পানির ব্যবসা কমতে পারে।

    তো এবার কী এই যুদ্ধ আমার আপনার পকেটে টান ফেলবে? জানাতে ভুলবেন না আপনাদের মতামত কমেন্ট করে।

  • India Hood Decode: কেন ৫৭টি মুসলিম দেশ ভয় পায় ইজরায়েলকে? কেনই বা তাদের হারানো অসম্ভব?

    India Hood Decode: কেন ৫৭টি মুসলিম দেশ ভয় পায় ইজরায়েলকে? কেনই বা তাদের হারানো অসম্ভব?

    দিনটা ২০২৬-এর ২৮শে ফেব্রুয়ারি। সকাল ঠিক ৬টা বেজে ৪৫ মিনিট। ইজরায়েল (Israel) থেকে টেকঅফ করে একটি ফাইটার জেট। এই জেটে ছিল এমন কিছু মিসাইল, যা ১০০০ কিমি দূরে থাকা টার্গেটকেও খতম করতে পারে নিমেষে।

    এরপর, এয়ারস্পেসের নজরদারি এড়িয়ে ইরানের গা ঘেঁষে বেশ কিছুক্ষণ উড়তে থাকে ওই ফাইটার জেট। তারপর ঠিক ৯টা ৫০ বাজতেই, হামলা চালায় ইরানের পাস্তার স্ট্রিটের এক বিল্ডিংয়ে। একটি নয়, দুটি নয়, লঞ্চ করা হয় একসাথে ৩০টি মিসাইল। আর সেখানে তখন মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়েতুল্লাহ খামেইনি সহ ইরানের বেশ কিছু তাবড় তাবড় নেতা। আর হামলার মুহূর্তের মধ্যেই খতম হয়ে যায় প্রায় প্রত্যেকে।

    তবে, আয়েতুল্লাহ খামেইনি কিন্তু ছোটখাটো কোনও নেতা ছিলেন না। তিনি ছিলেন ইরানের সর্বাধিনায়ক, সবথেকে সুরক্ষিত একজন ব্যাক্তি। এমনকি ইরানে যখনই কোনও বড় কিছু হত, খামেইনি মুহূর্তের মধ্যে গায়েব হয়ে যেত। অধিকাংশ সময়েই তিনি বিভিন্ন শেফ হাউস কিংবা বাঙ্কারে গা ঢাকা দিয়ে থাকতেন।

    তাহলে এত কিছুর পরেও তাঁকে কীভাবে খুঁজে পেল ইজরায়েল? কীভাবে ইরানের ডিফেন্সকে বোকা বানিয়ে চালানো হল এই নিখুঁত হামলা?

    জানলে অবাক হবেন, ভারতের স্বাধীনতার পর তৈরি হওয়া এই দেশের জনসংখ্যা এক কোটিরও কম, অথচ ক্ষমতার দিক দিয়ে কাবু করতে পারে বিশ্বের তাবড় তাবড় দেশগুলিকে।

    চারিদিকে শত্রু দিয়ে ঘেরা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে একাই রাজত্ব করে এই দেশ!

    না আছে তেল, না আছে কয়লা, না আছে চাষের জন্য কোনও উর্বর জমি – অথচ আর্থিক ও সামরিক – সব দিক দিয়েই উন্নত এই দেশ।

    এমনকি তাদের ডিফেন্স সিস্টেমকে ভয় পায়, সারা বিশ্বের ২০০ কোটি জনসংখ্যার ৫৭টি মুসলিম দেশ। জানলে অবাক হবেন, স্বয়ং আমেরিকাও ভয় পায় ইজরায়েলকে!

    কিন্তু ভাবুন তো, সম্পূর্ণ মরুভুমিতে ঢাকা এই দেশ, যেখানে কোনও প্রাকৃতিক সম্পদ নেই – সেখানে এত টাকা এল কোথা থেকে? মাত্র ৯৪ লক্ষের দেশ আর্থিকভাবে এতটা শক্তিশালী কীভাবে?

    গুগল হোক বা ফেসবুক – এগুলিকে আমেরিকান কোম্পানি মনে হলেও, এগুলির পেছনে রয়েছেন ইজরায়েলি নাগরিক। প্রযুক্তিগতভাবে এই দেশ এতটাই উন্নত যে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আপনি তাদের ওপরেই নির্ভরশীল!

    শুধু তাই নয়, সামরিক দিক দিয়ে এই দেশ এতটাই অ্যাডভান্স, যে এই দেশ থেকেই ফাইটার জেট থেকে শুরু করে মিসাইল কেনে ইউরোপ, আমেরিকা, ভারত সহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ! আর এই দেশের গোয়েন্দা সংস্থা সবার ধরা ছোঁয়ার বাইরে, তাদের এক একটা মিশন সম্পর্কে জানলে মাথা ঘুরে যাবে আপনার! তারা ছড়িয়ে রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে!

    আজ India Hood ডিকোড-এ আমরা তুলে ধরবো এমন কিছু তথ্য, যা পাল্টে দেবে ইজরায়েল সম্পর্কে আপনার সমস্ত ধারণা। তাই ধৈর্য ধরে লেখাটি শেষ পর্যন্ত দেখুন।

    টার্গেট খামেইনি!

    ইরান ও ইজরায়েলের এই দ্বন্দের সূত্রপাত কিন্তু আজকের নয়। এই দ্বন্দের সূত্রপাত হয় ইজরায়েলের জন্মের সময় থেকেই। আর এর পেছনের মূল কারণ ইজরায়েলের বাসিন্দা জিউশ অর্থাৎ ইহুদীরা। কারণ ইহুদীদের বেশ কিছু কারণে পছন্দ করতেন না মুসলিমরা। তাই ইহুদীদের রাষ্ট্র ইজরায়েলকে কখনোই মন থেকে মেনে নিতে পারেনি ইরান।

    তবে, কেবল এই একটি নয়, সময়ের সাথে সাথে এই দ্বন্দের আগুনে ঘিয়ের কাজ করেছে আরও একাধিক কারণ। যার মধ্যে অন্যতম হল – পরমাণু শক্তি।

    আপনি যদি ইরান আর ইজরায়েলের শত্রুতার ইতিহাস সম্পর্কে সবিস্তারে জানতে চান, তাহলে এই নিয়ে আমাদের একটি বিস্তারিত ভিডিও রয়েছে। আপনি আই বাটনে ক্লিক করে দেখে নিতে পারেন ইরান-ইজরায়েল ডিকোড ভিডিওটি!

    তবে দ্বন্দের কারণ যাই হোক না কেন, ইরানের সুপ্রিম লিডারকে মারাটা মোটেও সহজ ছিল না।

    কিন্তু এই অসম্ভবকে সম্ভব করার জন্য ইজরায়েলকে করতে হয়েছে বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা।

    জানলে অবাক হবেন, ইরানের রাজধানী তেহরানের ট্র্যাফিক ক্যামেরা গত ১০ বছর ধরে হ্যাক করে রেখেছিল ইজরায়েল। যা থেকে ইরানের রাস্তার প্রতিটি কোণায় নজরদারি চালিয়েছিল তারা। নজর রাখা হয়েছিল বিভিন্ন নেতৃত্বদের ওপরেও। এমনকি ইরানের নেতৃত্বের মধ্যেও এমন একজন ছিলেন যিনি এই সব তথ্যের নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন ইজরায়েলকে।

    ফলত কোন নেতা কার সাথে আসছে, কোন নেতার ডেলি রুটিন কি? কে কতগুলো গাড়ি নিয়ে আসে? কে কোথা দিয়ে কখন যায়? সব তথ্যই মজুদ ছিল ইজরায়েলের গোয়েন্দা বিভাগের কাছে। পাশাপাশি ছিল কলিং ডেটা থেকে শুরু করে কথোপকথনের ইতিহাস এমনকি লোকেশন সহ সবকিছুই।

    আর এই সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করার জন্য ইজরায়েল তৈরি করেছিল এমন একটি অ্যালগরিদম, যা সবকিছু বিশ্লেষণ করতো এবং নিয়মের বাইরে কিছু হলেই সেগুলোকে পয়েন্ট আউট করতো। সেই সবকিছু থেকেই জানা যায়, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ইরানের পাস্তার স্ট্রিটের কাছেই ওই বিল্ডিংয়ে ইরানের বেশিরভাগ নেতৃত্বরা একসাথে থাকবে। থাকবেন খামেইনি-ও। এই একই তথ্যের নিশ্চয়তা দিয়েছিল আমেরিকার গোয়েন্দা বিভাগ CIA-ও।

    আর তারপরেই, ঠিক সময়ে, নিখুঁতভাবে হামলা চালায় ইজরায়েলি এয়ারফোর্স। আর বাকিটা তো আপনাদের জানাই।

    অর্থাৎ, একদিকে প্রযুক্তিগত উন্নতি আর অন্যদিকে নিজেদের গোয়েন্দা বিভাগের সক্রিয়তা – এই দুইয়ে মিলেই এই মিশনকে সফল করেছে ইজরায়েল।

    কিন্তু, একদিনে কি এতটা শক্তিশালী, এতটা উন্নত হয়েছে ইজরায়েল?

    একদমই না। ১৯৪৮ সালের আগে ইজরায়েল নামের কোনও দেশই ছিল না। ১৯৩০ সালে হিটলার যখন ইহুদীদের বিভিন্নভাবে অত্যাচার এবং মারধর করছিল, তখন এই ইহুদিরা নিজেদের সুরক্ষার্থে ইউরোপ ছেড়ে পালাতে থাকে। এবং তারা প্যালেস্টাইনকে নিজেদের পূর্বপুরুষদের ভূমি হিসেবে মনে করতো তাই সেখানে অনুপ্রবেশ করা শুরু করে। কিন্তু, সেখানের আরব লোকেরা ইহুদীদের আগমনকে মেনে নেয়নি। ফলে তারাও ইহুদীদের ওপর শুরু করে অত্যাচার। আর ওই সময়ে ব্রিটিশরাও ইহুদীদের বিরুদ্ধে নানা রকম পদক্ষেপ নেয়, ফলত শুরু হয় এক বিশাল বড় দাঙ্গা।

    এরপর ১৯৪৭ সালে এই বিষয়টি জাতিসংঘে গিয়ে পৌঁছায়। আর ওই বছরের নভেম্বর মাসে প্যালেস্টাইন ভাগের প্রস্তাব পাশ হয়। পুরো ভুখন্ডকে হাফ হাফ করে ইজরায়েল আর প্যালেস্টাইন বানানো হয়।

    ১৯৪৮ সালের ১৪ই মে, ডেভিড বেন গুরিয়েন ইজরায়েলের প্রতিষ্ঠা করে। পশ্চিম এশিয়ার এই দেশ ভুমধ্যসাগরের সাথে অবস্থিত, যার উত্তরে রয়েছে লেবানন, পূর্বে জর্ডান, দক্ষিণে ইজিপ্ট সহ আরও একাধিক আরব দেশ।

    ইজরায়েলের দক্ষিণ পশ্চিমে রয়েছে গাজা আর পূর্বে রয়েছে ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক, যা নিয়ে প্যালেস্টাইন গঠিত। কিন্তু, ইজরায়েল দেশের মর্যাদা পেয়ে গেলেও, প্যালেস্টাইন এখনও দেশের মর্যাদা পায়নি।

    যদিও স্বাধীনতার পর থেকেই, ১৯৪৮, ১৯৬৭ আর ১৯৭৩ সালে আরব দেশ আর ইজরায়েলের মধ্যে বড় বড় তিনটি যুদ্ধ হয়। সবেতেই ইজরায়েল জয়লাভ করে। ১৯৭৩ সালের যুদ্ধের পর অধিকাংশ আরব দেশ ইজরায়েলের সাথে সমঝোতা করে নিলেও, প্যালেস্টাইন ও ইরানের মতন অন্যান্য চরমপন্থীরা এই শত্রুতা রেখে দেয়।

    তবে, এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমেরিকা প্রথম থেকেই ইজরায়েল এবং ইহুদীদের সমর্থন করে এসেছে। আর সেই সমর্থন এক সময়ে নিয়ন্ত্রণে পরিনত হয়েছে। না এটা ভাববেন না, আমেরিকা ইজরায়েলকে নিয়ন্ত্রণ করে, বরং ইজরায়েল আমেরিকাকে নিয়ন্ত্রণ করে।

    হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন।

    আর এর কারণ, ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা, শিক্ষা, জীবনযাত্রার মান, প্রযুক্তিগত উন্নতি, আবিষ্কার, প্রতিরক্ষা আর জাতীয়তাবাদী মনোভাব। ইজরায়েলের রয়েছে একাধিক উন্নতমানের গোয়েন্দা সংস্থা, যেমন – মোসাদ, শীন বেত, আমান।

    আর এই খামেইনিকে মারা হোক কিংবা ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা, কিংবা শত্রুকে বের করে খতম করা সব ক্ষেত্রেই রয়েছে মোসাদের ভূমিকা। এদেরকে সারা বিশ্বের মধ্যে সেরা গোয়েন্দা সংস্থা হিসাবে মনে করা হয়। এদের থেকে মাঝে মাঝে ট্রেনিং নিতে যায় স্বয়ং আমেরিকার গোয়েন্দা বিভাগ CIA।

    এখন যদি আপনি মোসাদ এবং মোসাদের বিভিন্ন মিশন সম্পর্কে একটি বিস্তারিত ভিডিও চান, তাহলে কমেন্টে লিখুন MOSSAD। যদি ৫০০ জন কমেন্টে MOSSAD লেখেন। তাহলে আমরা আপনাদের জন্য এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত ডিকোড ভিডিও করবো।

    এবার জানবো, ঠিক কী কী কারণে এতটা উন্নত হল ইজরায়েল?

    প্রথম কারণ – নেতৃত্ব

    ইজরায়েলের এত উন্নতি, এত প্রভাব-প্রতিপত্তি, এত অর্থ – এই সবের পেছনে রয়েছে ইজরায়েলের নেতৃত্ব।

    ১৯৮৪ সাল নাগাদ, এই দেশের মূল্যবৃদ্ধি যেখানে বেড়ে গিয়েছিল ৪৪৫ শতাংশে, এক বছর পরে অর্থাৎ ১৯৮৫ সালে সরকারের বেশ কিছু নীতির ফলে সেই মূল্যবৃদ্ধি নেমে আসে মাত্র ২০ শতাংশে। অর্থাৎ সুদক্ষ নেতৃত্ব দিয়েই এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পেরেছিল ইজরায়েল।

    দ্বিতীয় কারণ – প্রতিটি নাগরিকই সেনা

    দেশের প্রতিটি নাগরিকের মধ্যে জাতীয়তাবাদী ও দেশপ্রেম জাগানোর জন্য ইজরায়েলে রয়েছে একটি বিশেষ নিয়ম। সেখানে ১৮ বছরের পর প্রতিটি নাগরিকের মিলিটারি প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ ভাবুন, দেশের সব নাগরিকই সেনা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। বর্তমানে ইহুদিরা বিশ্বের যে প্রান্তেই থাকুক, তাদের শিকড়, তাদের আনুগত্যতা রয়েছে শুধুমাত্র নিজেদের লোকেদের জন্য।

    তৃতীয় কারণ – আত্মনির্ভর ইজরায়েল

    শুরুর দিকে ইজরায়েল সামরিকভাবে নির্ভরশীল ছিল ফ্রান্স এবং আমেরিকার ওপর। কিন্তু, তারা খুব শীঘ্রই বুঝে যায় তাদের নিজেদের সক্ষমতা দরকার। তাই সময়ের সাথে সাথে ইজরায়েল নিজেকে উন্নত করেছে। নিজেদের অস্ত্রশস্ত্রকেও আধুনিক করেছে। ইজরায়েল আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র উৎপাদনকারী দেশ।

    চতুর্থ কারণ – টাকার সৎ ব্যবহার

    সরকারের কাছে যে টাকা বাঁচতো, সেই টাকায় দুর্নীতি নয়, বরং দেশের কল্যাণে, যেমন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণায় ব্যবহার করা হত। জানলে আরও অবাক হবেন, বিশ্বের প্রধান ৫০০টি টেক-জায়েন্টের মধ্যে ৮০টির গবেষণাকেন্দ্র রয়েছে ইজরায়েলে। ইজরায়েলকে বলা হয় উদ্যোক্তাদের রাজধানী।

    পঞ্চম কারণ – উন্নত প্রযুক্তি

    ইজরায়েল মরুপ্রধান দেশ হলেও এরা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ধুধু বালু প্রান্তরকে উর্বর ভূমিতে রুপান্তর করেছে। এরা শুধু নিজের দেশের জন্য তাজা ফল ও সবজি উৎপাদন করেছে তা নয়, এরা সেই ফসল রপ্তানিও করছে। বিশ্বের মধ্যে জনপ্রিয় ড্রিপ সেচ পদ্ধতি এই ইজরায়েলই শুরু করেছে।

    ষষ্ঠ কারণ – ব্যবসা

    তারা শুধু উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে তাই নয়। তারা জানে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে কীভাবে টাকা কামানো যায়। তাই তারা ভারত, আমেরিকার মতো বড় বড় দেশকে নিজেদের বন্ধুর তালিকায় রেখেছে। একদিকে তারা বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে উৎপাদিত শস্য আবার অন্যদিকে রপ্তানি করে উন্নত সেরা সরঞ্জাম।

    জানলে অবাক হবেন, ইজরায়েল, আমেরিকা আর ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলিকে ১০ শতাংশ সেনা সরঞ্জাম দেয়। আধুনিক যুদ্ধের মূল হাতিয়ার ড্রোন, আর সারা বিশ্বের ড্রোনের ৬০ শতাংশ ইজরায়েলে তৈরি হয়।

    সপ্তম ও আসল কারণ – অস্তিত্বের লড়াই

    এতক্ষণ ধরে যেগুলি বললাম, সেগুলি ইজরায়েলের উন্নতির অন্যতম কারণ হলেও, ইজরায়েলের এত শক্তির আসল কারণ হল তাদের অস্তিত্বের লড়াই। হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন। ইহুদীদের কেবলমাত্র একটিই দেশ ইজরায়েল। তাদের কাছে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাটাই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইতিহাস তারা ভোলেনি। মুসলিম হোক বা ব্রিটিশ – বারবার অত্যাচার করেছে এই ইহুদীদের ওপর! বিশ্বে যেখানে মুসলিমদের জনসংখ্যা ২০০ কোটি, সেখানে মুসলিমদের চোখের বিষ তথা ইহুদীদের জনসংখ্যা মাত্র এক কোটি। তাই নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাটা তাদের উন্নতির মূল কারণ। একটা কথা নিশ্চয়ই আপনারা শুনেছেন – Necessity is the mother of invention. আর একথা প্রমাণ করেছে ইজরায়েল।

    আমেরিকা কেন ভয় পায় ইজরায়েলকে? | Why Israel Is So Powerful?

    আচ্ছা এতক্ষণ তো শুনলেন ইজরায়েল এত শক্তিশালী হল কীভাবে। কিন্তু আপনি কি জানেন কেন আমেরিকাও ভয় পায় ইজরায়েলকে?

    এর জন্য আপনাদের জানতে হবে বেশ কিছু তথ্য। বলা যায় – আপনি ইজরায়েলকে পছন্দ নাই করতে পারেন, কিন্তু আপনি তাদেরকে অবহেলা কিংবা অবজ্ঞা করতে পারবেন না।

    জানলে অবাক হবেন, আমেরিকায় যে সমস্ত কার্টুন দেখানো হয়, তার অধিকাংশই নিয়ন্ত্রণ করে ইহুদীরা। আর সেই সকল কার্টুনে ইজরায়েলকে সৎ এবং মহান হিসাবে দেখানো হয়। ফলত ছোট থেকেই আমেরিকানদের মনে ইজরায়েল নিয়ে একটি সফট কর্নার তৈরি করা হয়ে আসছে। এমন একটি কার্টুন হল দ্যা প্রিন্স অফ ইজিপ্ট।

    তবে, এখানেই শেষ নয়। জানলে অবাক হবেন, আমেরিকার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ২০ শতাংশ শিক্ষকই ইহুদী। এমনকি হলিউড সিনামের মাধ্যমে ছড়ানো হয় ইজরায়েল ভাবাবেগ। হলিউডের ৫৯ শতাংশ লেখক এবং পরিচালক সবাই ইহুদী। রিপোর্ট বলছে, আমেরিকার চারটি প্রধান ফিল্ম কোম্পানি ইহুদীদের। স্টিভেন স্পিলবার্গ – যিনি আমেরিকার অস্কারজয়ী পরিচালক, তিনিও ইহুদী ধর্মের লোক। শুধু তাই নয়, আমেরিকার একাধিক প্রধান সংবাদ সংস্থা ইজরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রিপোর্ট বলছে, প্রধান আমেরিকান সংবাদ সংস্থাগুলির ৬১ জন লেখক ইজরায়েলপন্থী। ৩টি প্রধান নিউজ মিডিয়া কোম্পানির সিইও ইহুদী, যেমন সিএনএন, এনবিসি, এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস। সুতরাং, সিনেমা থেকে সংবাদ – যারা শুধু আমেরিকার নয়, সারা বিশ্বের পার্সপেকটিভ তৈরি করে সেখানেই নিয়ন্ত্রন চলে ইহুদীদের। হিন্ডেনবার্গ থেকে ব্লুমবার্গ – সবারই মালিক ইহুদী।

    এছাড়া, ব্যাঙ্কিং সেক্টরের মধ্যে গোল্ডম্যান শ্যাক্স, জেপি মরগ্যান চেজ, ব্ল্যাক রক, ডিই শ, পে প্যাল সবই হয় প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ইহুদী নিয়ন্ত্রিত।

    এছাড়া ইন্টেল, যারা প্রসেসর তৈরি করে, এনভিডিয়া – যারা র‍্যাম এবং গ্রাফিক্স কার্ড তৈরি করে, এদের সবথেকে বড় হাব আছে ইজরায়েলে।

    ডেল কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেল, তিনিও একজন ইহুদী।

    ফেসবুকের মালিক মার্ক জাকারবার্গ একজন ইহুদী। তিনি বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম এবং ম্যাসেঞ্জারের মালিক।

    এমনকি জানলে হবেন, বর্তমানে এআই-এর পথিকৃৎ ওপেন এআই অর্থাৎ চ্যাটজিপিটি-র সিইও স্যাম অল্টম্যান একজন ইহুদী।

    এবার আসা যাক আরও বড় একটি চিত্রে। গুগল, অর্থাৎ যাকে ছাড়া আমাদের জীবন অসম্পূর্ণ। সেই গুগলের মালিক কারা? ল্যারি পেজ আর সারগেই ব্রিন। এরা দুজনেই ইহুদী। ইউটিউব থেকে শুরু করে গুগল প্লেস্টোর এবং গুগল পে সবকিছুই এদের অধীনে।

    এমনকি ফ্যাশন ব্র্যান্ড ক্যাল্ভিন ক্লেন থেকে পোলো, র‍্যালফ লড়েন সবার মালিক ইহুদী। হোটেল ব্যবসায় প্রসিদ্ধ নাম হায়াত রেজেন্সির মালিকও একজন ইহুদী।

    আশা করছি, পেগাসস মামলা আপনারা কেউই ভোলেননি। পৃথিবীর সবথেকে বড় হ্যাকিং সফটওয়্যার পেগাসস ইজরায়েলেরই তৈরি। যে সফটওয়্যারকে ব্যবহার করে বিশ্বের যে কোনও প্রান্তের, যে কোনও ব্যাক্তির কথোপকথন, মেল বা ম্যাএসজ হ্যাক করে নিতে পারে এই সফটওয়্যার। কয়েক বছর আগে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে এই সফটওয়্যার ব্যবহারের অভিযোগ এনেছিল মমতা-রাহুল-রা।

    অর্থাৎ, ব্যাঙ্কিং সফটওয়্যার থেকে আপনার সার্চ অপশন, ইমেল থেকে শুরু করে পেমেন্ট সবকিছুই কখনও প্রত্যক্ষ আবার কখনও পরোক্ষভাবে ইজরায়েলের অধীনে রয়েছে। ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ, অ্যাপল ডিভাইসের ফেস আইডি, ভিওআইপি কলিং থেকে শুরু করে বিশ্বের প্রথম ইনস্ট্যান্ট ম্যাসেজিং সার্ভিস, নেটওয়ার্ক ফায়ারওয়াল, এন্ডোস্কপির জন্য ব্যবহৃত ছোট ক্যামেরা, হাইব্রিড শশার বীজ, ড্রিপ সেচ পদ্ধতি থেকে প্রতিরক্ষা খাতের একাধিক অস্ত্র সামগ্রী সবই ইজরায়েলের।

    এদের কাছে রয়েছে অর্থ, রয়েছে বিস্তৃত প্রযুক্তি।

    অনেকেই আবার বলছেন জেফ্রে এপস্টিন নিজেও একজন মোসাদের স্পাই, কিংবা মোসাদের হয়ে কাজ করতেন। যদিও এর কোনও সত্যতা এখনও পাওয়া যায়নি। কিন্তু, অনেকেই বিশ্বাস করেন, এই কারণেই আজ ট্রাম্পের ওপর ইজরায়েলের এত কর্তৃত্ব।

    এবার আসি কেন ইজরায়েলকে হারানো অসম্ভব?

    কোনও দেশ কতটা শক্তিশালী সেটা বোঝা যায়, সেই দেশের সামরিক সরঞ্জাম, অস্ত্রশস্ত্র, সৈন্যবল, আর্থিক ক্ষমতা, এবং পারমাণবিক শক্তির ওপর ভিত্তি করে।

    মাত্র ১ কোটি জনসংখ্যার দেশ ইজরায়েলের এই সকল সামরিক সরঞ্জাম টেক্কা দিতে পারে পাকিস্তান, ইরানে, সৌদি আরবের মতো বহু দেশকে।

    ইজরায়েলের প্রকৃত সৈন্য সংখ্যা প্রায় ৬ লক্ষ। যা তাদের জনসংখ্যার ৬ শতাংশ। আবার একথা আপনাদের আগেই বলেছি যে তাদের প্রায় সব নাগরিকই সেনা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। তাহলে সংখ্যাটা কী দাঁড়াল? প্রায় ১ কোটি।

    এছাড়া, ইজরায়েলের রয়েছে নিজেদের তৈরি বিশ্বের অন্যতম উন্নত ট্যাঙ্ক Merkava ট্যাঙ্ক। আর তাদের মোট ট্যাঙ্কের পরিমাণ দেড় হাজারের বেশি। রয়েছে আধুনিক আর্টিলারি, ড্রোন ও সাইবার সাপোর্ট।

    এছাড়া রয়েছে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি আরমার্ড ভেহিকেল, ৭০০ আর্টিলারি এবং ৫০-এর বেশি MLRS রকেট সিস্টেম।

    এবার আসি জলপথ সম্পর্কে। ইজরায়েলের রয়েছে প্রায় ৭০টি নৌযান, ৫-৬টি সাবমেরিন, ৪০-এর বেশি মিসাইল করভেট এবং পেট্রোল বোট।

    আকাশপথের জন্য তাদের রয়েছে আমেরিকার তৈরি F-35I Adir, F-15, F-16-এর মতন উন্নত যুদ্ধবিমান। মোট সামরিক বিমানের সংখ্যা ৬০০, ফাইটার জেটের সংখ্যা ২৫০, এবং হেলিকপ্টারের সংখ্যা ১৫০।

    এছাড়াও, ইজরায়েলের কাছে রয়েছে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যেমন – স্বল্পপাল্লার রকেট ধ্বংসকারী Iron Dome। মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর জন্য David’s Sling। ব্যালিস্টিক মিসাইল আটকানোর জন্য রয়েছে Arrow system। যার মাধ্যমে যে কোনও রকেত বা যুদ্ধ বিমান কিংবা ড্রোণ হামলা থেকে তারা নিজেদের রক্ষা করতে পারে।

    এবার আসি তাদের সবথেকে বড় শক্তি সম্পর্কে অর্থাৎ পারমাণবিক শক্ত। ইজরায়েলের মতো এই ছোট্ট দেশের কাছে রয়েছে আনুমানিক ৯০টি অ্যাটমিক ওয়ারহেড। যেখানে ১৫০ কোটির দেশ ভারতের কাছে রয়েছে ১৮০টি এবং ২০ কোটির দেশ পাকিস্তানের কাছে রয়েছে ১৭০টি।

    আর এই দেশের সামরিক বাজেট জানলে মাথা ঘুরে যাবে আপনার। পাকিস্তানের সামরিক খাতে বাজেট যেখানে মাত্র ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার। সেখানে ইজরায়েলের এই সংখ্যাটা ২০ থেকে ২৪ বিলিয়ন ডলার। ভাবতে পারছেন?

    তাই যদি কেউ ইজরায়েলের ওপর পরমাণু হামলা করে, তাহলে ইজরায়েল সেই দেশের সাথে আরও ১০টি দেশকে খতম করার ক্ষমতা। তাই এই তথ্যগুলো সহজেই পরিষ্কার করে দেয় ইজরায়েলকে হারান একপ্রকার অসম্ভব।

    ইজরায়েলের এই উন্নতি নিয়ে আপনাদের কী মনে হয়? কীভাবে দেখবেন তাদের এই আগ্রাসনকে? ইজরায়েল কী ঠিক করছে? নাকি ভুল? জানাতে ভুলবেন না আপনাদের মতামত কমেন্ট করে।

  • India Hood Decode: মিশন বেঙ্গল! মমতার ঘুম উড়িয়ে দেবে বিজেপির এই ৭ মাস্টারস্ট্রোক

    India Hood Decode: মিশন বেঙ্গল! মমতার ঘুম উড়িয়ে দেবে বিজেপির এই ৭ মাস্টারস্ট্রোক

    “লক্ষীর ভাণ্ডার”-এর বদলে “লাখপতি দিদি”,
    “যুব সাথী”-র বদলে “উৎসাহ ভাতা”,
    “জয় শ্রী রাম”-এর বদলে “জয় মা কালী”

    এবার বাংলা জয় করতে এক বা দুই নয়, একেবারে ৭ দফা নীতি প্রয়োগ করল বিজেপি (BJP)। নেওয়া হল এমন সিদ্ধান্ত, যার ফলে পায়ের তলার মাটিই সরে যাবে তৃণমূল কংগ্রেসের। একদিকে মজবুত হবে বিজেপি-র জমি, বাড়বে ভোটব্যাঙ্ক, তেমনই অন্যদিকে নিঃশব্দে তিলে তিলে শেষ হবে TMC। একদিকে করা হবে বাংলার মা-বোনেদের বিশ্বাস অর্জন, তেমনই অন্যদিকে ভাতা দিয়ে নয়, যোগ্য করে কর্মসংস্থান দেওয়া হবে বাংলার প্রত্যেক

    চলুন, আজ India Hood ডিকোড-এ আমরা তুলে ধরবো এক এক করে BJP-র এমন সাতটি মাস্টারপ্ল্যান, যা আগে কোনোদিন বাংলায় প্রয়োগ করেনি বঙ্গ বিজেপি! তাই ধৈর্য ধরে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

    একদিকে SIR, তো অন্যদিকে হাইকোর্টের রায়!

    একদিকে SIR, তো অন্যদিকে CAA-র বিশেষ কমিটি, আবার ভোটের আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনী, তার ওপর হাইকোর্টে রায় – একপ্রকার নাজেহাল অবস্থাতেই রয়েছে বাংলার তৃণমূল সরকার। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই এক চুলও জমি ছাড়তে নারাজ বিজেপি। আর তাই এবার বাংলা জয় করতে সাতটি নয়া পদক্ষেপ নিল বিজেপি।

    প্রথম পদক্ষেপ – লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বিকল্প লাখপতি দিদি!

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটা বিশাল মাস্টারস্ট্রোক সে কথা মানতেই হবে। আর এবার ভোটের আগে সেই টাকা আরও ৫০০ করে বাড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যে বড় দাঁও মেরেছেন সেটাও অনস্বীকার্য।

    আর তাই এবার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালেই বাংলায় মাত দিতে চলেছে বিজেপি-র নেতৃত্বরা। এবার ভারতীয় জনতা পার্টি দাবি করেছে, তারা ক্ষমতায় এলে এই অনুদান বাড়িয়ে সরাসরি ৩ হাজার টাকা করা হবে। এই একই ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে সুকান্ত মজুমদাররা!

    অন্যদিকে, চালু করা হবে মোদী সরকারের একটি জনপ্রিয় এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প “লাখপতি দিদি”! যেখানে মেয়েদের স্বনির্ভর হওয়ার জন্য, নিজেদের ব্যবসা করার জন্য ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বাজেট ২০২৬-এ নারী ও লাখপতি দিদিদের জন্য C-Mart প্রকল্প শুরু করার কথা বলেছেন। যেখানে সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী লাখপতি দিদি প্রকল্পকে আরও সম্প্রসারণের ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, লাখপতি দিদিদের পণ্য বিক্রির জন্য দেশজুড়ে আরও রিটেল আউটলেট খোলা হবে। এর মাধ্যমে নারীরা সরাসরি বাজারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্থায়ী আয় বাড়াতে পারবেন।

    আর এই গেম যে বিজেপির জন্য বড়সড় গেমচেঞ্জার হতে পারে সে কথা বলাই বাহুল্য।

    দ্বিতীয় পদক্ষেপ – যুব সাথীর বিকল্প ‘উৎসাহ ভাতা’!

    এবার ভোটের আগে যুব সমাজকে নিজেদের দিকে টানার জন্য আর এক মাস্টারস্ট্রোক হিসাবে যুব সাথী প্রকল্প চালু করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের বেকার যুবক এবং যুবতীদের মাসে ১,৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। আর এর ফলে যে বেকার যুবক-যুবতীদের ভোট তৃনমূলের ঢুকবে এটাই স্বাভাবিক।

    কিন্তু, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো এবার যুব সাথীর বিকল্প নিয়েও তৈরি বিজেপি। নাম ‘উৎসাহ ভাতা’। বছরে দেওয়া হবে ২৫ হাজার টাকা করে! তবে, নামে ভাতা থাকলেও দান খয়রাতি কিংবা ভাতা হিসাবে এই টাকা দেওয়া হবে না। বরং ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকারদের দক্ষতা প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য এই টাকা দেওয়া হবে। তবে, প্রশিক্ষণ মাঝপথে ছেড়ে দিলেই বন্ধ হয়ে যাবে ভাতা। বিজেপির উদ্দেশ্য স্পষ্ট—“শুধু ভাতা নয়, চাই দক্ষতা… চাই কর্মসংস্থান।”তাই প্রশিক্ষিত যুবশক্তি তৈরি করে শিল্প ও বিনিয়োগ টানাই তাদের লক্ষ্য।

    তবে, শুধু তাই নয়, বাংলার যুব সমাজের জন্য পাঁচ বছরে এক কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতিও রয়েছে বিজেপির ইস্তেহারে।

    তৃতীয় পদক্ষেপ – ‘জয় শ্রী রাম’ শ্লোগান বদলে গেল ‘জয় মা কালী’-তে

    আমরা বিজেপি বলতেই বুঝি – “জয় শ্রী রাম”। কিন্তু, গত কয়েক বছরে এই শ্লোগানে যে শিকে ছেঁড়েনি তা দেখে নিয়েছে বিজেপি-র নেতৃত্বরা! আর তাই এবার পুরো ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে মা কালীতে ভরসা রাখলেন মোদী-শমীকরা।

    হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন। আর এই কথা আমরা বলছি না। এই কথা শোনা যাচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বদের মন্তব্যেই!

    দিনটা ১৭ই জানুয়ারি। ভোটের আগে মালদার বুকে দাঁড়িয়ে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। আর সেদিনই নিজের ভাষণের মাঝে উঠে আসে “জয় মা হ্যান্টা কালী” ধ্বনী।

    এরপরেই সম্প্রতি বাংলা বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের উদ্দেশে খোলা চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লেখেন “জয় মা কালী”!

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বিজেপির “জয় শ্রী রাম” মন্ত্র মূলত উত্তর ও পশ্চিম ভারতের রাজ্যগুলিতে বেশি সাড়া ফেলেছিল। আবার ওড়িশায় ভোটের আগে যেমন ‘জয় জগন্নাথ’ সাড়া ফেলেছিল। তাই এবার বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘জয় মা কালী’ দিয়ে নিজেদের নতুন করে মেলে ধরতে চাইছে বিজেপি।

    চতুর্থ পদক্ষেপ – উত্তরবঙ্গের জন্য একাধিক প্যাকেজ

    লোকসভা নির্বাচন হোক কিংবা বিধানসভা নির্বাচন, পশ্চিমবঙ্গে উত্তরবঙ্গ বরাবরই বিজেপি-র একটি শক্ত ঘাঁটি। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেখানে প্রচুর ভুয়ো ভোটার এবং অনুপ্রবেশকারীদের ঢুকিয়ে ভোটকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে তৃণমূল, এমন দাবী করা হচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বের তরফ থেকে।

    আর সে কথা যে ঠিক তা হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া গেল, SIR-এর খসড়া তালিকা প্রকাশ হতেই। কারণ সারা বাংলায় যেখানে SIR-এর খসড়া তালিকায় বাদ গিয়েছে প্রায় ৫৮ লক্ষের নাম, সেখানেই শুধুমাত্র উত্তর বঙ্গ থেকে বাদ গিয়েছে প্রায় ৯ লক্ষ ৩৪ হাজার ৭২২ জনের নাম। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ। এই সংখ্যা চূড়ান্ত তালিকা বেরোলে যে আরও বাড়বে তা বলাই বাহুল্য।

    তাই, একদিকে যেমন ভুয়ো ভোটার ছাঁটছে SIR, তেমনই অন্যদিকে এবার নিজেদের জমি শক্ত করার লক্ষ্যে – ৫০ লক্ষ পরিবারের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছে বিজেপি। শুরু করেছে গৃহ সম্পর্ক অভিযান। বের করতে চাইছে শিলিগুড়ি থেকে কোচবিহার পর্যন্ত রথযাত্রা।

    এছাড়াও,  উত্তরবঙ্গের জন্য একটি AIIMS, একটি IIT, একটি ম্যানেজমেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যানসার গবেষণা কেন্দ্র চালু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবারের ইস্তেহারে।

    পঞ্চম পদক্ষেপ – CPIM-এর ভোটব্যাঙ্ক কবজা!

    এবারের বিধানসভা নির্বাচন হবে হাড্ডাহাড্ডি! কারণ একদিকে সিপিআইএম ছেড়ে তৃনমূলে যোগ দিয়ে ইতিমধ্যেই বাংলা কাঁপাচ্ছেন প্রতীক উর রহমান, আবার অন্যদিকে হুমায়ুন কবীরের সাথে লুকিয়ে বৈঠক করছেন সিপিআইএম নেতা মহম্মদ সেলিম।

    তাই সিপিআইএম-এর জনপ্রিয়তা কমুক কিংবা বাড়ুক, কিন্তু তাদের ভোটব্যাঙ্ক যা বিজেপিতে এসেছে গত কয়েক বছর ধরে তা যেন হাতছাড়া না হয় – এবার জেলা সভাপতিদের উদ্দেশ্যে সেই ফরমানই জারি করেছে রাজ্য নেতৃত্ব! জানিয়েছে, সিপিএম থেকে আসা ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতেই হবে। তার জন্য নীচুতলায় নিবিড় যোগাযোগ বাড়াতে হবে। কোনও অবস্থাতেই সিপিএমের ভোটব্যাঙ্ক ফিরে যেন না যায়।

    কারণ তথ্য বলছে, ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে CPIM-এর ভোটের শেয়ার ছিল ১৯.৮ শতাংশ আর BJP-র মাত্র ১০.২ শতাংশ। আর ২০২১ সালে এই পরিমাণটা কত হয়েছে জানেন? CPIM পেয়েছে মাত্র ৪.৭৩ শতাংশ ভোট আর BJP ৩৮.১৩ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ, কেন এই ফরমান জারি করা হয়েছে তা এই সংখ্যা থেকেই স্পষ্ট তাই নয় কি?

    ষষ্ঠ পদক্ষেপ – মাঠে নামছে “মহিলা বিস্তারক”

    গত বারের ভুল ত্রুটি যাতে আর না হয়, এবার সেই লক্ষ্যে শুধু নেতাদের নয় নেত্রীদেরও  বাংলায় নামাচ্ছে বিজেপি। তাও আবার ভিনরাজ্য থেকে এনে। হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন, এবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং উত্তরপ্রদেশের মহিলা ব্রিগেড আনছে বিজেপি।

    শুধু আসছে তাই নয়, কৌশলগতভাবে যে সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে বিজেপি-র জেতার সম্ভাবনা রয়েছে সেই সমস্ত জায়গাগুলিতে ঘুরে ঘুরে কাজ করবে ও প্রচার চালাবেন এই মহিলারা। পাশাপাশি মেয়েদের নিরাপত্তা, বিজেপি শাসিত অন্যান্য রাজ্যের মেয়েরা কীভাবে উন্নতি করছে – সেই সবকিছুই তারা তুলে ধরবে। আর সেই লক্ষ্যে প্রতিটি বিধানসভা পিছু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিনজন করে নেত্রীকে। আর ইতিমধ্যেই তাঁরা নাকি ঘুরে ঘুরে কাজও শুরু করে দিয়েছেন।

    সপ্তম পদক্ষেপ – পরিবর্তন যাত্রা!

    সালটা ২০২১। বঙ্গে ক্ষমতায় আসার জন্য বিজেপি চালু করেছিল ‘যোগদান মেলা’। যেখানে তৃণমূল-বাম-কংগ্রেসের নেতাকর্মীদের বিজেপি-তে গণযোগদানের আয়োজন করা হয়েছিল। রাজ্যের নানা প্রান্তে সে ‘মেলা’ হয়েছিল।

    আর এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির হাতিয়ার ‘নেতার মেলা’। কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক নাম ‘পরিবর্তন যাত্রা’। আর সেই উপলক্ষে আগামী ১লা এবং ২রা মার্চ একসঙ্গে এত হেভিওয়েট বিজেপি নেতা-মন্ত্রীরা পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন, তেমনটা আগে কখনও দেখেনি বাংলা!

    যেমন ধরুন রায়দিঘি থেকে ১লা মার্চ ‘পরিবর্তন যাত্রা’-র সূচনা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা দলের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। ওইদিন নদিয়ার কৃষ্ণনগর থেকে ‘যাত্রা’-র উদ্বোধন করলেন আর এক প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎপ্রকাশ নড্ডা। ২রা মার্চ হাওড়ার আমতায় ‘যাত্রা’-র উদ্বোধন করলেন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ।

    বিজেপির বর্তমান সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনও ওই উদ্বোধন পর্বের দু’দিনই রাজ্যে ছিলেন। তবে দু’দিনই তিনি ছিলেন উত্তরবঙ্গে। প্রথম দিন তিনি কোচবিহার শহর থেকে একটি ‘যাত্রা’-র উদ্বোধন করেছেন। পরের দিন উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর থেকে আর একটির উদ্বোধন করলেন

    ১লা মার্চ পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা থেকে ‘যাত্রা’ উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। একই দিনে আসানসোলের কুলটি থেকে আর একটি ‘যাত্রা’র উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী। ২রা মার্চ বীরভূমে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র উদ্বোধনে ছিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস। আর গত কয়েক বছরে রাজ্য রাজনীতিতে বহুচর্চিত সন্দেশখালি থেকে ওই দিনই আর একটি ‘যাত্রা’-র উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান।

    অর্থাৎ এক নয়, দুই নয় – একসাথে সাতটি মাস্টারস্ট্রোক নিয়ে হাজির বিজেপি। আপনার কি মনে হয় এই প্ল্যানে কি বাংলা জয় করতে পারবে বিজেপি? জানাতে ভুলবেন না আপনার মতামত কমেন্ট করে।

  • India Hood Decode: এবার ধ্বংস হবে পাকিস্তান! সীমান্তে শুরু ভয়ংকর যুদ্ধ

    India Hood Decode: এবার ধ্বংস হবে পাকিস্তান! সীমান্তে শুরু ভয়ংকর যুদ্ধ

    দুই মুসলিম দেশ –আফগানিস্থান আর পাকিস্তানের মধ্যে শুরু হয়ে গেল ভয়ঙ্কর যুদ্ধ (Pakistan Afghanistan War)!

    পরিস্থিতি এমন যে পাকিস্তানে জারি করতে হয়েছে জরুরী অবস্থা! শুধু তাই নয়, আফগানিস্থানের কাছে মাথাও নত করেছে তারা, পাঠিয়েছে সংঘর্ষবিরতি, শান্তি, সমঝোতার প্রস্তাবও।

    অন্যদিকে পাকিস্তান শুরু করেছে আফগানিস্থানের ওপর ‘অপারেশন ঘাজ়াব লিল হক’!

    হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন!

    ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই, পাকিস্তানের মসজিদে বিস্ফোরণ, আর ফেব্রুয়ারির শেষে আফগানিস্থানের মাদ্রাসায় আক্রমণ দিয়ে যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল, এবার সেই সংঘর্ষ নিয়ে নিয়েছে রনং দেহি রূপ! রমজান মাসের তোয়াক্কা না করেই দুই দেশ উঠে পড়ে লেগেছে একে অপরের অস্তিত্ব মেটাতে! যা  ইতিমধ্যেই কেড়ে নিয়েছেদুই দেশের কয়েকশো সেনা এবং নাগরিকের প্রাণ!

    কিন্তু, হঠাৎ করেই কী নিয়ে আফগানিস্থান আর পাকিস্তানের মধ্যে ফের শুরু হয়ে গেল লড়াই? ঠিক কী কী আপডেট পাওয়া গিয়েছে এখনও অবধি এই যুদ্ধ নিয়ে? তবে কি এবার সত্যিই তালিবানদের কাছে মাথা নত করবে পকিস্তান? কেনই বা এই যুদ্ধের কারণে হঠাৎ করে ভারতের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলছে পাকিস্তান?

    জানলে অবাক হবেন – যে পাকিস্তান নিজেদের মুসলিম বিশ্বের এক অন্যতম নেতা হিসাবে দাবী করে, আজ তারাই রমজান মাস চলাকালীন আক্রমণ করল মুসলিম জনতার ওপর! হামলা চালাল মাদ্রাসার ওপর!

    যে পাকিস্তান আগে নিজেরাই, রমজান মাস চলাকালীন গাজার ওপর ইজরায়েলের আক্রমণ নিয়ে করেছিল নিন্দা, আজ তারাই করল সেই একই কাজ! যুদ্ধ ঘোষণা করে ডিল আর এক মুসলিম দেশ আফগানিস্থানের ওপর!

    আজ India Hood ডিকোড-এ আমরা তুলে ধরবো এমন কিছু তথ্য, যা পরিষ্কার করে দেবে পাকিস্তানের নীচ মনোভাব সম্পর্কে। পরিষ্কার করে দেবে, তারা আর কোনও রাষ্ট্র নেই, আমেরিকার গোলামে পরিণত হয়েছে। তাই ধৈর্য ধরে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

    রমজান মাসে আফগানিস্থানের মাদ্রাসায় বোমা হামলা!

    দিনটা ২১শে ফেব্ররুয়ারি, রমজান মাস চলাকালীন, গভীর রাতে হঠাৎ করেই আফগানিস্তানের পক্তিকা প্রদেশের বরমল জেলার এক মাদ্রাসায় বিমান হামলা চালানো হয়। আর হামলার অভিযোগ ওঠে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। জানা যায়, এই হামলার করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে F-16 এবং JF-17 বিমান থেকে। যার ফলে মৃত্যু হয় প্রায় ৭০ জন আফগান নাগরিকের।

    এরপর পাক সেনার তরফ থেকে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়,“আফগানিস্তানে জঙ্গিদের বেশ কয়েকটি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।“

    এরপর ২২শে ফেব্রুয়ারি, আফগানিস্তানের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই হামলা চালানো হয়েছে বসতি এলাকায়। যার ফলে নিরীহ মানুষদের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই আবার মহিলা এবং শিশু। এর পাশাপাশি আফগানিস্তানের তালিবান প্রশাসন এই হামলা বরদাস্ত করবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেয়।

    আর এরপর ২৫শে ফেব্রুয়ারি, কথা মতো কাজ করে দেখায় আফগানিস্থান সরকার। নিজেদের সরকারি এক্স হ্যান্ডলে আফাগনিস্তান দাবি করে, “পাকিস্তানে বিমানহামলা চালানো হয়েছে। সেই হামলায় অন্ততপক্ষে ৫০ পাক সেনা নিহত হয়েছেন। এই লড়াই থামবে না।“

    এরপর ২৬শে ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আফগান-পাক সীমান্ত। গোলাগুলি থেকে শুরু করে আকাশপথে হামলা সবই চলতে থাকে জোর কদমে। আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লা মুজাহিদ বলেন, ‘‘আমাদের সেনারা নাইট ভিশন এবং লেজ়ার নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এ বার পাকিস্তানি ফৌজদের নরকে পাঠাব।’’ তার পরেই পাল্টা জবাব দেয় পাকিস্তানও।

    আফগানিস্থানের দাবি – এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানের ৫৫ জন সেনার মৃত্যু হয়েছে। মার্কিন এফ-১৬ পাক যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে।

    পাকিস্তানের দাবি – এখনও পর্যন্ত দুই পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে। উল্টো দিকে মারা গিয়েছেন ৩৬ জন আফগান সেনা। যদিও যুদ্ধবিমান নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি পাকিস্তান।

    তবে, এই হামলা কি হঠাৎ করেই পাকিস্তান শুরু করল?

    না। এর পেছনে রয়েছে ৬ই ফেব্রুয়ারির একটি ঘটনা। যেদিন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের শেহজাদ টাউন এলাকার শিয়া টারলাই ইমামবাড়ার শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ হয়। ওই বিস্ফোরণের ফলে মৃত্যু হয় প্রায় ৩১ জনের। এর পর ৭ই ফেব্রুয়ারি, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু এলাকায় পাকিস্তানের এক সেনাকর্মী ও এক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিহত হন।

    এই নিয়ে পাকিস্তানের তরফ থেকে জানানো হয়, যে ভারতের মদতে আফগানিস্তানে বসে জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলার পরিকল্পনা করছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িতও হচ্ছে ভারতের মদতে। আর এই সমস্ত জঙ্গিরা আফগানিস্থানের কাবুলে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসছে। যদিও ভারতের তরফ থেকে দীর্ঘ দিন ধরে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হচ্ছে। আর পাকিস্তানও নিজেদের বক্তব্যের পক্ষে কোনও প্রমাণও দেখাতে পারেনি।

    আর সেই হামলার প্রতিশোধ নিতেই এবার পাকিস্তান এই হামলা চালিয়েছে।

    আর পাকিস্তান আর আফগানিস্থানের এই যুদ্ধ দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে আফগানিস্থান এবং পাকিস্তান সীমান্তে টানা ১০ দিন সংঘর্ষ চলে, যার ফলে দুই দেশেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানি হয়। তবে, সেই সংঘর্ষে পাকিস্তানের প্রচুর সেনাবাহিনী মারা গেলেও, কিন্তু পাকিস্তানের আক্রমণে বেশিরভাগ প্রাণহানি হতে থাকে আফগানিস্থানের সাধারণ জনগণের।

    এরপর ২০২৫-এর অক্টোবরেই পাকিস্তান ফের হামলা করে আফগানিস্থানে। যার ফলে মারা যায় আফগানিস্থানের তিন ক্রিকেটার সহ ৫ জন সাধারণ নাগরিক।

    এরপর ওই বছরের নভেম্বর মাসে, ফের আফগানিস্থানের ওপর পাকিস্তানের তরফ থেকে বিমান হামলা করা হয় যার ফলে ১০ জন সাধারণ আফগান নাগরিকের মৃত্যু হয়।

    অর্থাৎ, এই কথাগুলো বলার আমাদের একটাই উদ্দেশ্য, আর সেটি হল – যতবার পাকিস্তানের তরফ থেকে আফগানিস্থানে হামলা করা হয়েছে মৃত্যু হয়েছে সাধারণ মানুষের! জঙ্গি মৃত্যুর প্রমাণ খুবই কম পাওয়া গিয়েছে।

    তবে, অনেক জিওপলিটিক্স বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার বাগরাম এয়ারবেস পুন্রুদ্ধার করার জন্যই পাকিস্তানকে ব্যবহার করে আফগানিস্থানে এই হামলা চালানো হচ্ছে। যাতে আফগানিস্থান, আমেরিকার কথা মেনে নেয়।

    এবার আমরা আপনাদের জানাবো, পাকিস্তান এই জঙ্গি বলতে ঠিক কাদের কথা বোঝাতে চেয়েছে!

    আপনাদের জানিয়ে দিই, এখানে জঙ্গিঘাঁটি বলতে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান অর্থাৎ টিটিপি-কে বোঝানো হয়েছে, যাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। এই জঙ্গি গোষ্ঠী আদতে পাকিস্তানের হলেও, আদর্শগতভাবে এরা তালিবানপন্থী, এবং এরা পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করে। আর মজার বিষয় কি জানেন? যে পাকিস্তান একসময় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে কৌশলগত সম্পদ ভাবত, আজ তারাই পাকিস্তানের ভিতরে আগুন ধরাচ্ছে।

    কিন্তু এই তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান গোষ্ঠী কারা এবং পাকিস্তানের গোষ্ঠী হওয়া সত্ত্বেও এদের সাথে পাকিস্তানের কিসের শত্রুতা, এই সবকিছু নিয়ে আমাদের চ্যানেলে একটি বিস্তারিত ভিডিও রয়েছে। আপনি আই বাটনে ক্লিক করে দেখে নিতে পারেন সেই ডিকোড ভিডিওটি।

    এবার জানবো বারবার কেন ভারতকে এর মধ্যে টানা হচ্ছে? ভারত কি সত্যিই এই যুদ্ধে নাক গলাবে?

    দিনটা ১৩ই নভেম্বর, ২০২৫। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ, পাকিস্তানের হামলার জন্য আফগানিস্থানের পাশাপাশি ভারতকে তো দায়ী করেই, উল্টে দুজনের সাথেই একসাথে লড়ার হুমকি দেয়। জানিয়ে দেয়, পাকিস্তান তৈরি কাবুল এবং নিউ দিল্লির সাথে লড়ার জন্য। সাথে এও বলে, ভারতের সাথে যুদ্ধ সম্ভব।

    কিন্তু, এর কারণটা কি?

    এর কারণ ভারত আর আফগানিস্থানের সম্পর্ক। আফগানিস্থান ও ভারতের মধ্যে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের শিকড় আমরা লক্ষ্য করেছিলাম জখন ২০২৫ সালে আফগানিস্থানের বিদশ মন্ত্রী আমির মুত্তাকি ভারত সফরে এসেছিলেন। আমাদের চ্যানেলে ভারত ও তালেবানদের সম্পর্ক নিয়ে একটি বিস্তারিত ভিডিও রয়েছে। আপনি আই বাটনে ক্লিক করে দেখে নিতে পারেন সেই ডিকোড ভিডিওটি।

    তো এই সম্পর্কের জন্যই পাকিস্তান ভেবে নিয়েছে, হয়তো আফগানিস্থানে হামলা করলে, ভারত পাকিস্তানের ওপর হামলা করতে পারে। তাই পাকিস্তান আগে থেকেই এই সিগন্যাল দেয় ভারতকে।

    তবে, একটা বিষয় পরিষ্কার – ভারত কিন্তু আফগানিস্থান এবং পাকিস্তানের এই ঝামেলার মধ্যে নাক গলাবে না। তবেও ভারত কিন্তু চুপ করেও নেই। পাকিস্তানের তরফ থেকে আফগানিস্থানে যে হামলা করা হয়েছে তার কড়া নিন্দা জানিয়েছে ভারত।

    ২২শে ফেব্রুয়ারি, ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেন, ‘‘পবিত্র রমজান মাসে আফগান-ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে ভারত। এই হামলার ফলে মহিলা ও শিশু-সহ বহু প্রাণহানি হয়েছে। এই ঘটনায় গভীর ভাবে শোকাহত ভারত।” তিনি আরও লেখেন, “এই ঘটনাটি পাকিস্তান সরকারের ব্যর্থতাকে ফের প্রকাশ্যে এনেছে।” রণধীর জানান, আফগানিস্তানের পাশে আছে ভারত।

    তবে ভারত হাতে না মারলেও একরকমভাবে জলে মেরে দিয়েছে পাকিস্তানকে।

    একদিকে ইতিমধ্যেই স্থগিত রয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া Indus Waters Treaty।

    এবার অন্যদিকে পাকিস্তানে প্রবাহিত হওয়া বন্ধ হয়ে যাবে রবি নদীর উদ্বৃত্ত জল। কারণ, পাঞ্জাব–জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে শাহপুর কান্ডি বাঁধ প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে হচ্ছে। আর সেই বাঁধ চালু হলে রবি নদীর উদ্বৃত্ত জল পাকিস্তানে প্রবাহিত হওয়া বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন, জম্মু ও কাশ্মীরের মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ রানা।

    একই সঙ্গে ভারত চেনাব নদীর উপর একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে, যা ২০২৭–২৮ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    অর্থাৎ, ভারত সরাসরি লড়াইতে না নামলেও, আড়ালে যে পাকিস্তানের ওপর সারজিক্যাল স্ট্রাইক করে যাচ্ছে সে কথা কিন্তু বলাই বাহুল্য।

    ফলত, ফের একবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আফগানিস্থান – পাকিস্তান সীমান্ত! কী মনে হয়ে এর শেষ কোথায় গিয়ে হবে? কী হবে এর ভবিষ্যৎ? পাকিস্তান কি সত্যিই ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে?
    নাকি এটা আরও বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি? আফগানিস্তান–পাকিস্তান সীমান্তে কি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হবে?
    ভারত কি শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষ থাকবে? জানাতে ভুলবেন না আপনার মতামত কমেন্ট করে।